আলী আকবর কোরেশী ১৯৬০ সালে বন বিভাগে ফরেস্ট রেঞ্জার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। পেশাগত কারণে চট্টগ্রাম,কক্সবাজার, সুন্দরবন, রাঙ্গামাটি,কাপ্তাই সহ নানান জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। তখনকার কিছু টুকরো টুকরো অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণই আলী আকবর কোরেশীর -'বনের স্মৃতি'।
কিছু স্মৃতি যেমন চমকে দেওয়ার মতো,ঠিক তেমনি কিছু স্মৃতি আবার বেদনাদায়ক। এই যেমন তিনি লিখেছেন -“সেই সময় আমাদের গ্রামের গাছে গাছে,বাঁশঝাড় ও খালে-বিলে হরেকরকম পাখপাখালি দেখেছি আর নির্বিচারে শিকার ও করেছি। শিকার করা এসব পাখির মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য ছিল হরিয়াল,বক,ঘুঘু,ওয়াক,কাচিচোরা,শামুকভাঙ্গা, শরাইল,পানকৌড়ি, ডাহুক,কোড়া,কায়িম,স্নাইফ,কবুতর, গাং কবুতর, হাট টিমা টিম ইত্যাদি। কোথায় গেল সেসব পাখি? আজকাল এসব পাখি ছেলেমেয়েদের দেখাতে হলে চিড়িয়াখানায় যেতে হয়। তাও সবরকমের পাখি সেখানে এখন দেখা যায়না’’।
আবার সাঙ্গু মাতামুহুরীর বনের অভিজ্ঞতায় লিখেছেন নানা রকমের বানর,বড় ধনেশ পাখি,ধুমকল,হরিয়াল,বনমোরগ, মথুরা,কাটময়ূর,মায়া হরিণ, কালো হুল্লুক,বন্য শুকর,খরগোশ,গুইসাপ,বেজি,মোষ আর গয়ালের কথা। বর্তমানে উপরোক্ত প্রায় সবকটি প্রাণীই বিলুপ্তপ্রায় জেনে, দীর্ঘশ্বাস লুকাতে পারিনি।
এছাড়াও সুন্দরবনের কিংবদন্তি শিকারি পশ্চাব্দী গাজী ছিলেন লেখকের অধিনস্ত কর্মচারী। উনার সাথে একটা শিকারের ঘটনাও উল্লেখ আছে। শিকারের পাশাপাশি 'বনের স্মৃতি’-তে রক্ষীবাহিনী এবং সর্বহারা বাহিনীর একটা দুর্ধর্ষ ঘটনার বিবরণ ও শিহরিত করার মতো।
আলী আকবর কোরেশী একজন শখের লেখক। সুতরাং তার কাছে সাহিত্যের রুপরস আশা করাও উচিৎ নয়। তবুও ভদ্রলোক যথেষ্ট সাজিয়ে,গুছিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা বলে গেছেন। ঠিক সাহিত্যরস না পেলেও,কোথাও আটকানোর মতোও নয়।
শিকার,বন সংক্রান্ত ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতি এবং রোমাঞ্চকর কিছু ঘটনার একটা জমজমাট প্যাকেজ এই বই। যারা বন এবং বনের ঘটনা ভালোবাসেন,তারা নির্দ্বিধায় হাতে তুলে নিতে পারেন -“বনের স্মৃতি’’। আলী আকবর কোরেশী তার নামান রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে আপনার জন্যেই অপেক্ষা করছেন।