জ্ঞান-বিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ না হয়েও শুধুমাত্র ধর্মীয় চেতনার কারণে কিভাবে হিব্রুরা এক সময়কার শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছিল? প্রযুক্তির জ্ঞান না থাকার পরেও কীভাবে তারা শুধুমাত্র উচ্চমাত্রার শব্দ ব্যবহার করে একটি বিশাল নগরীর দেয়াল ধ্বংস করে দিতে পেরেছিল? কেনই বা সৃষ্টিকর্তার এতো অনুগ্রহ পাওয়া সত্ত্বেও হিব্রু জাতির পতন হলো? প্রাচীন ইহুদি ধর্ম কিভাবে পরিবর্তিত হয়ে জুদাইজমে পরিণত হলো? কী তাদের বিশ্বাস ও আইন? দীর্ঘ ২০০০ বছর পর কেন হিব্রুরা আবার প্যালেস্টাইনের ভূমিতে পদার্পণ করলো? কিসের জন্য এতো রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, যুদ্ধ? বিশ্বকে ওরা নিয়ন্ত্রণ নিলো কী করে? কেন, কীসের জন্য ওদের অপেক্ষা? কে এই মেসিয়াহ? মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ওরা কীভাবে দেখে বিস্তারিত এসব জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ৪০০০ বছর আগের মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে। সেই সাথে জানতে হবে ওদের ইতিহাস, তাদের ধর্মগ্রন্থ, বিশ্বাস, দর্শন, চেতনা আর আইনের সাথে। জানতে হবে তাদের এস্কেটোলজি, মেসিয়াহ, জায়োনিজম এসব নিয়ে। এ বইটি আপনাদের ঘুরিয়ে আনবে ইহুদিদের জগৎ থেকে। উত্তর মিলবে সকল প্রশ্নের।
জুদা মানে 'আলাদা' বা 'ভিন্ন'। হিন্দি গান শোনার অভ্যাস থাকলে অনেক বিরহের গানেই পাবেন এই শব্দ যেখানে প্রেমিক প্রেমিকার প্রেম ভাঙার দুঃখে জুদাই নিয়া বেশ করুণ সব গান আছে৷ আজকাল এতো কান্দাকাটি নাই বরং ব্রেকাপ-পজিটিভিটি নিয়া লোকে বড় বড় ইস্টেটাস মারায় আর সেইসব দেখে আমি ভাবছিলাম বফ গফকে জুদা করার এই ইজম নিয়া একটা বই লিখব, কিন্তু তার আগেই দেখি এক পোলা 'জুদাইজম' লেইখা বইসাছে!! এইটা কোন কথা!
Jew, হিব্রু, জুদাহ্; কথাগুলোর সাথে আমাদের কমবেশি পরিচয় আছে। অনেকে মনে করে শব্দগুলো সমার্থক। কিন্তু ইহুদি, হিব্রু, জুড়াইজম প্রতিটি বিষয় যে আলাদা সেটা জানতে হলে এগুলো নিয়ে বিস্তারে জানা থাকা দরকার। আমার ফ্রেন্ডলিস্টে অনেকেই আছেন যারা এসব বিষয়ে সবজান্তা পর্যায়ের কিন্তু দুঃখের বিষয়, এক হপ্তা আগেও আমি এই বিষয়ে অ অক্ষর গোমাংস ছিলাম। সেদিক দিয়ে ইশরাকের বইটা আমার জন্য ভালোই হইছে। কেননা এই বইতে সে ইহুদিদের ইতিহাস থেকে শুরু করে তাদের ধর্ম, সমাজ, নীতি ইত্যাদি তুলে আনছে। ইহুদিবাদের কথা বলতে গিয়ে সেমেটিক ধর্মগুলোর সূচনার অনেক কথাও আসছে যেটা সচেতন পাঠক ধরতে পারবে এবং উপভোগ করবে।
মাসরুর ইশরাকের বইয়ের বিশেষত্ব হলো বইটা পড়লে মনে হবে এটার লেখক একজন ইহুদি কেননা বর্ণনার ধরনই এরকম। মাসরুর সেইসব শব্দ ব্যবহার করেছেন যা ইহুদিরা করে থাকে। তিনি ইবরাহীম, মূসা না লিখে আভরাহাম, মোশে, ইয়াহওয়েহ প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করেছেন। এতে আমার মতো নতুন পাঠকের (এই বিষয়ে) কিছু সমস্যা হলেও পুরাতন এবং আগ্রহী পাঠকের ভালো লাগার কথা। আরেকটি বিষয় হলো ইহুদিদের ইতিহাস, নীতির পাশাপাশি 'এস্কেটোলজি' অংশটা আনায় বইটা আরও ভালো লাগলো। বলা যায় আমি এই পার্টটা বেশি পছন্দ করছি কেননা তিন অধ্যায়ে ভাগ করা বইয়ের প্রথম দুই পার্ট বর্ণনা ছিল যা এখানে এসে খানিক বিশ্লেষণের দিকে গেছে।
যারা হিব্রু, ইহুদি, জুদাইজম, জায়োনিজম নিয়ে হালকা পাতলা জানেন তারা প্রাথমিক পাঠ হিসেবে এই বইটা নিতে পারেন। আগাগোড়ক একটা জার্নি পাবেন যেখান থেকে আরও জানার আগ্রহ হবে৷ লেখকের রেফারেন্স থেকে কিছু বই খুঁজে নিতে পারবেন। আরেকটা কারণে নেওয়া উচিত এবং আমি বইটা নিয়ে লিখলাম কারণ লেখকের বয়স আমার চেয়েও পাঁচ বছর কম। মানে আমরা পোলাপান যে কিছু সিরিয়াস কামকাজ করার চেষ্টা করতেছি, এইটা এপ্রিসিয়েবল।
অনুবাদ ও উচ্চারণের বানান লেখার ক্ষেত্রে কিছু ভুল আছে। কিন্তু মোটের ওপর বইটি বেশ তথ্যবহুল। এত অল্পবয়সে এরকম গুরুগম্ভীর এবং আপাতদৃষ্টিতে বোরিং প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার জন্য লেখককে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ।