নেপাল থেকে পাচার হয়ে ভারতে আসছে রাশি রাশি নাবালিকা তাদের বেশ কিছুজন হারিয়ে যাচ্ছে। না যৌনপল্লির অন্ধকারে নয়, তাদের হদিশ পাচ্ছে না কেউই৷ কোথায় আছে তারা? এই সত্য উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা দপ্তরের দরকার পড়ে স্বেচ্ছা-অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার রুদ্রনারায়ণ চৌধুরীকে৷ এক আন্তর্জাতিক ‘হিউম্যান স্কিন ট্রাফিকিং' এর অপরাধ চক্রের শিকার এই মেয়েরা৷ কী হচ্ছে এরপর? একদা পুলিশ অফিসার রুদ্র কি খুঁজে পাবে তাঁদের? এ এক স্বল্পজ্ঞাত অথচ রোমহর্ষক আন্তর্জাতিক অপরাধ আখ্যান৷
সুপ্রিয় চৌধুরীর জন্ম উত্তর কলকাতার সাবেকি পাড়ায়। কৈশোরের অনেকটাই কেটেছে রেললাইন আর উদ্বাস্তু কলোনি ঘেঁষা শহরতলিতে। যৌবন, প্রৌঢ়ত্বের ঠিকানা মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতার সীমান্তবর্তী সংখ্যালঘু মহল্লা। পুঁথিগত শিক্ষার গণ্ডি পেরোলেও নানাধরনের পাঠে প্রবল আগ্রহ। শখ: ফুটবল, ফিল্ম আর পশুপাখি পোষা।
"শীতের মরসুম ফুরিয়ে আসছে দ্রুত । তবু শেষ মাঘের ঠান্ডা তার জায়গা ছাড়তে নারাজ এখনও । নোনাবাদার এই জঙ্গুলে গাঁয়ে অন্ধকার নামছে ধীরে ধীরে । গাছের ডালে , নদীর পাড়ে , গরান-শুলো-সুন্দরী-বাইনের জঙ্গলে , টিমটিমে পিদিম-জ্বলা ছোট ছোট কুঁড়েঘরের চালে থুপথুপে ঘন ধূসর কুয়াশার ঘেরাটোপ । দূরে কোথাও মাছধরা নৌকো থেকে কোনও মতে ছিটকে বেরোনো ক্ষীণ এক চিলতে ডিবড়ি লম্ফের আলো । কুয়াশা আর আলো- আঁধারিতে নোনাখালের ঘাটলায় দাঁড়ানো আবছায়া সেই অলৌকিক রমণী !"
সব কিছু ছেড়েছুড়ে এরকম কোথাও চলে যেতে পারতাম! হয়ত অনেক হারানোর পর একদিন পারব!!
নেপাল থেকে পাচার হয়ে ভারতে আসছে রাশি রাশি নাবালিকা । তাদের বেশ কিছুজন হারিয়ে যাচ্ছে । না যৌনপল্লির অন্ধকারে নয় , তাদের হদিশ পাচ্ছে না কেউই । কোথায় আছে তারা ? এই সত্য উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা দপ্তরের দরকার পড়ে স্বেচ্ছা - অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার রুদ্রনারায়ণ চৌধুরীকে । এক আন্তর্জাতিক ‘ হিউম্যান স্কিন ট্রাফিকিং ' - এর অপরাধ চক্রের শিকার এই মেয়েরা । কী হচ্ছে এরপর ? একদা পুলিশ অফিসার রুদ্র কি খুঁজে পাবে তাঁদের ? এ এক স্বল্পজ্ঞাত অথচ রোমহর্ষক আন্তর্জাতিক অপরাধ আখ্যান ।
বাংলা সাহিত্যে রহস্য সমাধানের ক্ষেত্রে গোয়েন্দাদের পাশাপাশি পুলিশ অফিসারদের দাপটও কিছু কম নয়। কিন্তু পুলিশ অফিসারকে মুখ্য চরিত্রে উপস্থাপন করে কাহিনী কমই লেখা হয়েছে। এই 'বৃশ্চিকবৃত্ত' উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে লেখক সুপ্রিয় চৌধুরী উপস্থাপন করেছেন নতুন এক পুলিশ চরিত্র, রুদ্রনারায়ণ ব্যানার্জী। দপ্তর থেকে স্বেচ্ছাঅবসর নেওয়া রুদ্রকে ফিরিয়ে আনা হল এমন একটি কেসের দায়িত্ব দিয়ে, যার সমাধান করতে কার্যত রাতের ঘুম উড়ে যেতে বসেছিল সকলের। কেসের দায়িত্ব রুদ্রনারায়ণের হাতে আসার পর থেকেই কাহিনীতে ভিড় করতে থাকে বেশ কিছু নতুন চরিত্র। মনুভাই, উসমান, ভিকি আর কৌশল্যা সিংহের মত বুনো ওলদের সামলানোর জন্য রুদ্র ফিরিয়ে আনে তারক, সুনীল, সন্তোষী আর মজিদসাহেবের মত বাঘা তেঁতুলদের। কাহিনী যতই এগোতে থাকে, রহস্য ততই গভীরে যেতে থাকে। সহকর্মীদের উৎসাহ আর স্ত্রী শ্রীপর্ণার বিশ্বাসের ওপর ভর করে রহস্য সমাধানের ক্রমশ কাছে এগোতে থাকে রুদ্র। তবে এই উপন্যাস কিন্তু কখনওই শুধুমাত্র রহস্য সমাধানের কথা বলে না। তার পাশাপাশি উঠে আসে পারস্পারিক সম্পর্কের কথাও; সেই সম্পর্কের সামাজিক কোনো নাম থাকুক আর না থাকুক। তাই জীবনের প্রতি এক অন্যরকম ভাবনা ও তার বহিঃপ্রকাশ লেখকের এই 'বৃশ্চিকবৃত্ত' উপন্যাসকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।