বাংলা সাহিত্যে রহস্য সমাধানের ক্ষেত্রে গোয়েন্দাদের পাশাপাশি পুলিশ অফিসারদের দাপটও কিছু কম নয়। কিন্তু পুলিশ অফিসারকে মুখ্য চরিত্রে উপস্থাপন করে কাহিনী কমই লেখা হয়েছে। এই 'বৃশ্চিকবৃত্ত' উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে লেখক সুপ্রিয় চৌধুরী উপস্থাপন করেছেন নতুন এক পুলিশ চরিত্র, রুদ্রনারায়ণ ব্যানার্জী। দপ্তর থেকে স্বেচ্ছাঅবসর নেওয়া রুদ্রকে ফিরিয়ে আনা হল এমন একটি কেসের দায়িত্ব দিয়ে, যার সমাধান করতে কার্যত রাতের ঘুম উড়ে যেতে বসেছিল সকলের। কেসের দায়িত্ব রুদ্রনারায়ণের হাতে আসার পর থেকেই কাহিনীতে ভিড় করতে থাকে বেশ কিছু নতুন চরিত্র। মনুভাই, উসমান, ভিকি আর কৌশল্যা সিংহের মত বুনো ওলদের সামলানোর জন্য রুদ্র ফিরিয়ে আনে তারক, সুনীল, সন্তোষী আর মজিদসাহেবের মত বাঘা তেঁতুলদের। কাহিনী যতই এগোতে থাকে, রহস্য ততই গভীরে যেতে থাকে। সহকর্মীদের উৎসাহ আর স্ত্রী শ্রীপর্ণার বিশ্বাসের ওপর ভর করে রহস্য সমাধানের ক্রমশ কাছে এগোতে থাকে রুদ্র। তবে এই উপন্যাস কিন্তু কখনওই শুধুমাত্র রহস্য সমাধানের কথা বলে না। তার পাশাপাশি উঠে আসে পারস্পারিক সম্পর্কের কথাও; সেই সম্পর্কের সামাজিক কোনো নাম থাকুক আর না থাকুক। তাই জীবনের প্রতি এক অন্যরকম ভাবনা ও তার বহিঃপ্রকাশ লেখকের এই 'বৃশ্চিকবৃত্ত' উপন্যাসকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।