Selina Hossain (Bangla: সেলিনা হোসেন) is a famous novelist in Bangladesh. She was honored with Bangla Academy Award in 1980. she was the director of Bangla Academy from 1997 to 2004.
সেলিনা হোসেন (জন্ম: ১৯৪৭) বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিকদের অন্যতম। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বি এ অনার্স পাশ করলেন ১৯৬৭ সালে। এম এ পাশ করেন ১৯৬৮ সালে। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমীর গবেষণা সহকারী হিসেবে। তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমীর প্রথম মহিলা পরিচালক হন। ২০০৪ সালের ১৪ জুন চাকুরি থেকে অবসর নেন।
গল্প ও উপন্যাসে সিদ্ধহস্ত। এ পর্যন্ত ৭টি গল্প সংকলন, ২০টি উপন্যাস, ৫টি শিশুতোষ গল্প, ৫টি প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনা করেছেন বেশ কিছু বই। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯); বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮০); আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১); কমর মুশতরী স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৭); ফিলিপস্ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮); অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪)। তাঁর গল্প উপন্যাস ইংরেজি, রুশ, মেলে এবং কানাড়ী ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
এ উপন্যাসটি এখন নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে তাই আমিও পড়েছি। বেচারির দোষ দিয়ে লাভ নাই। পড়াতে গিয়ে আমারই বিরক্তিতে ঘুম পেয়েছে। একটার পর একটা চরিত্র আসছে-যাচ্ছে, তাদের মধ্যে কোন পারস্পারিক সম্পর্ক নাই! কাহিনীর কোন গভীরতা নাই, ধারাবাহিকতা নাই, যৌক্তিকতাও নাই। বুধা একাই বাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে, কেউ বুঝতেই পারছে না, সরাসরি শান্তি কমিটির লোকজনকে এত কথা বলার পরেও! কেউ তার থাকার জায়গাটা দেখছেও না! দেখলেই বুঝে যেত! অদ্ভুত! এমনিই খাপছাড়া গল্প যে, কোন চরিত্রের প্রতিই তেমন কোন আবেগ তৈরি হয়না। বুধাকে সকল দিক থেকে ব্যাপক দুঃখী দেখানোর পরেও তার প্রতি তেমন কোন মমত্ববোধ জাগে না! অথচ ঠিক তার বিপরীত হবার কথা ছিল! এখনকার কিশোর-কিশোরীর একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা, বিস্ময়, ভালোবাসা জাগার জন্যই তো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস পাঠ্যসূচিতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ উপন্যাস পড়ে বাচ্চাদের উপন্যাস পড়ার আগ্রহই চলে গেলেও আমি অবাক হব না!
বিঃদ্রঃ হাজার বছর ধরে উপন্যাসটা বাদ দেয়া হল কেন? টুনি মন্তুর প্রেমের জন্য? তা বাদ দিয়ে টিনেজ প্রেম শতকরা কত ভাগ কমল শুনি? 😑
প্রথমে হতাশ লাগলেও পরে মনে হলো, বর্ণনার যে ভাষা আর ঘটনার যে ধরনের জন্য বইটা বিট্রে করছে, সেই ভাষা আর ধরনটাই যেন পরে স্টাইল হয়ে উঠল। পুতুলে অপটু হাতের নাক মুখ চোখ যখন সমস্ত পুতুলেরই সৌষ্ঠবের অংশ, তখন তাকে শিল্পীর শৈলী হিসেবে স্বীকার করতেই হয়। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের অন্যরকম চরিত্র চিত্রিত নভেলা কাকতাড়ুয়া। এমন গল্পের প্রয়োজন ছিল।
আমার জীবনে হয়তো সবচে' বেশিবার পড়া উপন্যাস এটিই(পাঠ্যসূচিতে ছিল তাই বেশ কয়েকবার পড়া লেগেছিল)। কিন্তু যতোবার পড়েছি ততবারই লেগেছে এই বই ঠিক নবম দশম শ্রেণীর ছেলে মেয়েদের জন্য নয়। এরা অনেক আগেই হুমায়ূন আহমেদ আর জাফর ইকবালের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অনেক অসাধারণ বই পড়ে ফেলে। তাই এই উপন্যাস তাদের মনে খুব একটা দাগ কাটার কথা নয়। ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণির বাচ্চাদের দিতে পারেন। মুক্তিযুদ্ধকে বুঝতে হলে বইটা তাদের সাহায্য করবে।
Here to scream about the the stuff I can't say in my bengali class.
All the characters are awfully one dimensional. Everyone seems like a caricature and stereotype. The dialogues are awkward at best. 15 to 18 year olds are a bit too old for this book. Throughout our whole student life we've been fed things like 'Pakistani soldiers bad, Pakistan bad'. Like we get it. But at least make them more complex. Pretty sure not every Pakistani enjoyed killing in the liberation war nor was every liberation warrior a saint. Because that's realistic. This book was totally unnecessary. Didn't have anything to say or portray that haven't been done before.
The metaphors was so on nose. What's subtlety? Who is she? There was so many opportunities to explore. But it was so bare bones. The only thing this book subverted was the much expected ending.
This kinda books come off as propaganda at this point.
পিচ্চি ছেলে বুধা, একটা পাগল পাগল বোকা ভাব আছে ওর আচরণে, বাবা-মা বেঁচে নেই- তাই বুধা যে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, কেউ সন্দেহ করতে পারে না।
এই শিশুতোষ উপন্যাস "কাকতাড়ুয়া" এতদিন অন্তর্ভুক্ত ছিল নবম-দশম শ্রেণীর কারিকুলামে। এটা ফাইভ বা সিক্স ক্লাসের শিশুরা পড়ে আনন্দ পেতে পারে। নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের রক্ত গরম, তাদের জন্য আরও কড়া কিছু প্রয়োজন ছিল।
আগস্টে মহাপ্রতাপশালী একনায়কের পতন ঘটেছে। তাই কারিকুলামে আসবে অনেক পরিবর্তন। জানতে পারলাম কাকতাড়ুয়াকে রিপ্লেস করবে হুমায়ূন আহমেদের "১৯৭১"। অনেক বেটার চয়েস। কাকতাড়ুয়ার মেলোড্রামা ১৯৭১-এ নেই; আছে মুক্তিযুদ্ধের প্রপার ইনটেনসিটি, সাসপেন্স, টুইস্ট।
এইসব বালছাল জোর করে পড়তে হইছে জহির রায়হানের উপন্যাস বাদ দিয়া–বড় ভাইয়ের কল্যাণে 'হাজার বছর ধরে' হালকাপাতলা পড়া হইছিল অবশ্য। শহিদ বুদ্ধিজীবীর উপন্যাস বাদ দিয়া মুক্তিযুদ্ধ-ব্যবসায়ীর অপন্যাস ঢুকায়ে খুব সাওয়াবের কাজ করছে। অবশ্য লেখিকা যে পরিমাণ তেল মারেন, তাতে না ঢোকানোটাই বিস্ময়-জাগানিয়া। এইটা আসলে বাচ্চাদের জন্যও লেখা না। লীলা মজুমদার বাচ্চাদের জন্য এরকম ন্যাকামিপানা রাইখা যান নাই। তার ওপর এইটা আবার দিছে নয়-দশ ক্লাসে! এগুলা ঢুকাইতে থাকলে টিকটক-টিকটিকি বহুত কিছুতেই পায়া বসবে।
একাডেমিক পড়ার অংশ হওয়ার কারণে বহুবার পড়েছি। শেষবার সম্ভবত ৭ বছর আগে পড়েছি। প্রথমবার পড়ে খুশিতে কান্না করেছিলাম। যতবারই পড়ি আবেগ ঘিরে ধরে। সুন্দর একটা কাহিনী। যুদ্ধ বাচ্চাকেও বড় করে তোলে। দায়িত্ব নিতে হবে যে! বুধারা যুগে যুগে জন্ম নিবে, বারবার মনে করিয়ে দিবে অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে নেই।
শিশু-কিশোরদের জন্য উপযোগী ভাষায় লেখা। কোথাও তেমন গভীরতার আয়োজন করা হয় নি। দেশকে সাহায্য করার জন্য একটা কিশোরের প্রচেষ্টাও কাজে লেগেছে, নাইবা বুঝে থাক যুদ্ধের গভীরতা, জাতীয়তা কী? স্বার্থ কী? শুধু নিজের আশপাশটাকে আপন ভেবে নিলেই ভেতর থেকে কিছু একটা সময়ের দাবিকে চিনিয়ে দেয়।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোট উপন্যাস৷ তবে উপন্যাস হওয়ার অনেকগুলি শর্তই পূরন করতে ব্যর্থ। অত্যন্ত অগভীর ধাচের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা। তবে শিশু-কিশোরদের জন্য খারাপ নয়। মুক্তিযুদ্ধের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এই বই হাতেখড়ি হতে পারে।
উপন্যাসটি নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে পাঠ্যক্রমভুক্ত করা হয়েছে।
তবে কেউ সাগ্রহে পড়তে চাইলে অষ্টম শ্রেণীর উপরের কাউকে এটি না পড়ার সাজেশন ই থাকবে৷
পাঠ্য বইতে থাকার সুবাদে কতবার যে পড়েছি তার হিসাব নেই। বার বার পড়ার ফলেই বোধহয় একটু মনে ধরেছিল। তবে এটা কেন যে ৯ম-১০ম শ্রেণীতে দেয়া হল বুঝলাম না। ৬ষ্ঠ বা ৭ম শ্রেণীতে বেশ মানাতো।
"বাংলা স্যার তো ক্লাসে পড়ানোর সময় খুব আফসোস করতেন। স্যার বলতেন তোমাদের যে কি কপাল! তোমরা তো নিজের থেকে সাহিত্যে আগ্রহী হবা না! যেসব উপন্যাস আগ্রহী করাতো তাও বাদ দিয়ে দিছে। হাজার বছর ধরে কত সুন্দর ছিল! কারোর ইচ্ছা হলে পড়ে দেইখো।"
৯ম-১০ম শ্রেণীতে "হাজার বছর ধরে" বাদ দিয়ে কাকতাড়ুয়া পড়ানোর কোনো যৌক্তিকতাই তো দেখি না ।
নতুন কারিকুলামে শুনছি কাকতাড়ুয়া বাদ দেয়া হচ্ছে,কেন বুঝলাম না। রচনাটি স্কুলে থাকতেও যেমন ভালো লেগেছিলো,বহুবছর পর স্কুলপড়ুয়া বোনকে পড়াতে গিয়ে আরো ভালো লেগেছে। সেলিনা হোসেনের এই লেখায় স্পুনফিডিং কিছু ছিলো না,লেখনশৈলী এমন ছিলো যে ভাবনার খোরাক যোগায়।জানিনে বাপু,এখনকার বাচ্চাদের অত গভীরে ঢুকে পড়ার ধৈর্য্য হয়তো নাই,তার মধ্যে পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত বলে বোধহয় স্বাভাবিকভাবেই genZ দের বোরিং লাগবে। তবে "লোহার টুপি কি মগজ খায়" কিন্তু এই জুলাই-আগস্ট লড়াইয়েও বেশ শক্তিশালী একটা লাইন ছিলো!
মোটামুটি লেগেছে। অগভীর উপন্যাস৷ পড়তে যেয়ে বারবারই মনে হয়েছে কাঁচা হাতের লেখা। ছোটদের জন্যও ঠিক আছে বলে মনে হয় না। ক্লাস টেনের পাঠ্য। আমার কাছে মনে হয়েছে ক্লাস টেনের ছেলেমেয়েরও বিরক্তি ধরবে কিছু কিছু জায়গায় পড়তে যেয়ে। যাই হোক জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে উপন্যাসের রিপ্লেসমেন্টে এই উপন্যাসটি এসছে। কিন্তু আমার মতে ঐ ক্লাসিক উপন্যাসের রিপ্লেসমেন্ট কোনোভাবেই এই উপন্যাস না।
নবম-দশম শ্রেনীতে থাকতে পড়েছিলাম... মনে এক অন্যরকম দর্শনানুভূতি জাগিয়েছিল... তখন অতো বই পড়তাম না... হয়তো সেজন্যই হোক বা অন্য কোনো কারণেই হোক.. বইটা প্রচুর মনে ধরেছিলো... সেই বুধার কথা এখনও মনে আছে... ও বলেছিলো ওকে মুক্তিযুদ্ধ বলে ডাকতে....❤🖤
২০২২ এসএসসি পরীক্ষা,নরমাল দিন হইলে এই ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা....আর এই উপন্যাস কিনা আমি এতদিনে একবার পরে শেষ করলাম মাত্র😅 যাই হোক নরমাল দিনে পড়লে,পড়ার মজাটা হয়তো থাকতো না..বুজতেই পারতেসেন আমাদের অবস্থা ভালো না😅 তবে পড়ে খুব একটা যে ভালো লাগসে তা না।গল্পের চরিত্র গুলো কেমন যেন..বিশেষ করে বুধাকে যেইভাবে পাগল পাগল ভাবে দেখানো হইছে সেটা একটু বাড়াবাড়িই হয়ে গেসে,সেই তো নায়ক নাকি? আর এমনেতে মনে হয়তেছিলো সে হিমু টাইপ কাজ কারবার করতেসে। তবে খারাপ লাগতেসে আগে নাকি "হাজার বছর ধরে" উপন্যাস ছিল,সেটা বাদ দিয়ে এটা দেওয়া নাকি ঠিক হয়নাই... এখন এটা পড়ার অপেক্ষায়..
প্লটহ্যোলগুলা যেকোনো নিয়মিত পাঠকের চোখে পড়বে সহজেই। লেখিকা আরেকটু ভালো করলে পারতেন যেহেতু উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে আবর্তিত। উপন্যাসটির সবচেয়ে বড় দূর্বলতা আমার মতে, এর প্রধান চরিত্র বুধাকে পাঠকের সাথে কানেক্ট করতে না পারা।
বইয়ের নামঃ কাকতাড়ুয়া লেখকঃ সেলিনা হোসেন বইয়ের ধরণঃ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস প্রকাশনাঃ ঐতিহ্য প্রথম প্রকাশঃ অমর একুশে বইমেলা, ২০০৬ গায়ের মূল্যঃ ১২৫ টাকা
প্রতিটি স্বাধীন জাতির ন্যায় বাঙালি জাতির-ও রয়েছে এক নিজস্ব স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। রয়েছে ব্যক্তি স্বার্থ ভুলে গিয়ে জাতির স্বার্থে অকাতরে রক্তদানের ইতিহাস। স্থান-কাল-পাত্রভেদে আবালবৃদ্ধবনিতার সক্রিয় অংশগ্রহণে সাড়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বাঙালি পেয়েছিল বহুল আকাঙ্ক্ষিত মুক্তির স্বাদ। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সাড়ে নয়মাস স্থায়ী হলেও এ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাতে বাঙালিকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে; কখনো শকুনিদের অমানুষিক নির্যাতন দাঁতে দাঁত চেপে সইতে হয়েছে, আবার কখনো বুকের তাজা রক্ত ঢেলে উত্তপ্ত করতে হয়েছে পিচঢালা রাজপথ। এসব দ্রোহে কিংবা যুদ্ধে তরুণদের অবদান মুখ্য হলেও অল্পবয়সী কিশোরেরাও পিছিয়ে ছিল না কোনো অংশে।
এমনই এক হার-না-মানা অদম্য সাহসী কিশোরের সাহসিকতার গল্প নিয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন লিখেছেন তার "কাকতাড়ুয়া" উপন্যাসটি। মূলত কৈশোরে পা দেওয়া পাঠক-পাঠিকার কথা মাথায় রেখে এ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। যারা জীবনে মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধে কিশোরদের অবদান সম্পর্কে জানানো-ই এ উপন্যাসের মুখ্য উদ্দেশ্য। "কাকতাড়ুয়া" বলতে আমরা সাধারণত বুঝি, গ্রামবাংলার ফসলের মাঠে মাটির হাড়িতে কালো রঙ করবার পরে তা উল্টো করে বাঁশের মাথায় ঝুলিয়ে দেওয়া। উদ্দেশ্য, মাঠের ফসলকে কাকের হাত থেকে রক্ষা করা। প্রধান চরিত্র নির্ভর এ উপন্যাসে কাকতাড়ুয়া শব্দটি রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। মাঠের ফসলরূপী দেশমাতাকে কাকরূপী শত্রুসেনাদের হাত থেকে রক্ষা করতে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল, তাদেরকে বুঝাতে এ শব্দটা ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ কাকতাড়ুয়া শব্দটি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বোঝানো হয়েছে এ উপন্যাসে।
উপন্যাসের গল্পের সূচনা হয় বুধা নামক এক এতিম কিশোরের গল্প দিয়ে। প্রাণনাশক কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে পরিবারের সবাই একরাতের মধ্যে পরপারে পাড়ি জমালেও কেন জানি তার উপরে যমের শ্যেনদৃষ্টি পড়েনি সেদিন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় সে সেদিন। এ বেঁচে যাওয়াটাকে সে সৌভাগ্য বলে মানতে নারাজ। বরং তার কাছে এটা দুর্ভাগ্যেরই নামান্তর। কেননা, সে ভাবে, বাকি সকলের মত সে-ও মারা গেলে বেঁচে যেত সেদিন সে। পরিবারের কেউ নেই বলে তাকে শাসন করবার-ও কেউ নেই। পথেঘাটে ঘুরে বেড়ায় সে। ঘটনাক্রমে তার পরিচয় হয় মুক্তিবাহিনীর দুই সদস্যের সাথে। এভাবেই এগিয়ে চলে উপন্যাসের গল্প।
এবার আসি চরিত্রগত বিশ্লেষণে। কেন্দ্রীয় চরিত্র নির্ভর এ উপন্যাসের গল্পে প্রধান চরিত্রে রাখা হয়েছে বুধা নামক এক দুঃসাহসী কিশোরকে। ভয় তাকে কখনো স্পর্শ করতে পারে না। ঔপন্যাসিকের ভাষ্য��তে, ছোটবেলায় কেউ তাকে কখনো ভূতের গল্প শোনায়নি বলে ভয় তাকে ছুঁতে পারেনা কখনোই। সেলিনা হোসেনের ভাষায়, "যে ছেলে নিজের নিয়মে বড় হয়, ভয়ের সঙ্গে তার দেখা হয়না।" প্রাণঘাতী কলেরা কেড়ে নেয় তার চার ভাইবোন ও মা-বাবার প্রাণ। চোখের সামনে সে তিলে তিলে জমে যেতে দেখেছে নিজের আপনজনদেরকে। এ মৃত্যুর দৃশ্য অবলোকনের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে শক্ত হতে থাকে তার পায়ের তলার পৃথিবী। প্রথম দিকে চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিলেও একসময় আত্মনির্ভরশীল হবার লক্ষ্য নিয়ে বেরিয়ে আসে সে বাড়ি থেকে। তার আচরণ আপাতদৃষ্টিতে তাকে পাগল বলে আখ্যা দিলেও সে মোটেও তেমন কেউ ছিল না। সময়ের আহ্বানে সাড়া দেয় সেও এক সময় জড়িয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। অংশ নেয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে। এরপর কী হয়? সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে উপন্যাসের পাতায়।
উপরোক্ত চরিত্রের পরে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রাখা হয়েছে আহাদ মুন্সিকে। এলাকার চেয়ারম্যান হিসেবে বেশ নামডাক পাওয়া এ লোকটি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকবাহিনীর সঙ্গে গোপনে হাত মেলায়। শান্তিবাহিনী গঠন করা হলে সে হয় তার এলাকার শান্তিবাহিনী কমিটির সভাপতি। বুধার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সে সন্দেহ পোষণ করত। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবার জন্য কৌশলের অংশ হিসেবে বুধা তাকে সাহায্য করতে চাইলে এ সন্দেহ দূর হয়। এলাকাবাসীর মত সেও বুধাকে পাগল ভাবতে শুরু করে। মুখে সাহসী ভাব দেখালেও বস্তুত সে নিজেও একজন ভীতু লোক ছিল।
এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছে চাচি, কুন্তি, রানি, হরিকাকু, বিনু, মতিউর, শাহাবুদ্দিন, আলি, ফুলকলি, নোলক বুয়া, মিঠু প্রমুখ। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বুধা হলেও উপন্যাসের গল্পের প্রয়োজনে ঔপন্যাসিক এসব গৌণ চরিত্রের সৃষ্টি করেছেন। উপন্যাসে এসব চরিত্র গৌণ ভূমিকা পালন করলেও গল্পের স্বার্থে এরাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এসব চরিত্র চিত্রণের ফলে গল্পে এক নতুন মাত্রা সংযোজিত হয়েছে, যা উপন্যাসের গল্পে দান করেছে আলাদা এক গতি।
এবার ভাষাগত বিশ্লেষণের পালা। উপন্যাসটি যেহেতু কিশোর বয়সী পাঠক-পাঠিকার কথা মাথায় রেখে রচিত হয়েছে, তাই এখানে সহজ ভাষারীতির প্রতি বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। কোনো পাঠক/পাঠিকা এ লেখা পড়ামাত্রই যেন বুঝতে পারে, সে ব্যাপারে ঔপন্যাসিক যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। কোথাও দুর্বোধ্য কোনো শব্দ বা ভাষারীতির কোনো প্রয়োগ চোখে পড়েনি আমার। ক্ষেত্র বিশেষে কিছু উপমার প্রয়োগ থাকলেও তা অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় উপস্থাপন করেছেন সেলিনা হোসেন। উপমার এ সঠিক প্রয়োগ উপন্যাসে দান করেছে এক ভিন্ন ব্যঞ্জনা। এ কাজে তার পারদর্শিতা সত্যিই প্রশংসার যথার্থ দাবিদার। সার্বিক বিবেচনায় বলতে গেলে, পাঠক হিসেবে পুরো বইয়ের ভাষারীতি ও গঠনশৈলীতে কোনো প্রকার কোনো অসঙ্গতি চোখে পড়েনি।
এতক্ষণ তো উপন্যাসের বিশ্লেষণ ও ভালো লাগা নিয়ে বলা হলো। এবার কিছু মন্দলাগা নিয়েও কথা বলা যাক। প্রথমত, ব্যক্তিগতভাবে সেলিনা হোসেনের লেখা আমার ভালো লাগে। এর আগে তার লেখা "যাপিত জীবন" ও "নীল ময়ূরের যৌবন" শীর্ষক উপন্যাস দুইটি পড়া হয়েছে আমার। সেগুলো বেশ ভালোই লেগেছিল। তবে এটা তেমন মন্দ লাগেনি। মনে হয়েছে, উপন্যাসটির ভাষারীতি ও গঠনশৈলীর উৎকৃষ্টতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এটা একটু বেশিই সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে আকারে। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস হলেও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার গল্প এখানে কম রয়েছে। বরং কেন্দ্রীয় চরিত্র বুধার দুরন্তপনার গল্পই বেশি চোখে পড়েছে। এ ব্যাপারটাও তেমন ভালো লাগেনি আমার। এছাড়া গল্প শেষ করবার ক্ষেত্রে আরেকটু মনোযোগী হলে তা আরো কাব্যিক ও আকর্ষণীয় হতে পারত।
সর্বোপরি বলতে চাই, উপরোক্ত বিষয়গুলো বাদ দিলে সবমিলিয়ে খারাপ লাগেনি উপন্যাসটা আমার। এ কথাও ঠিক যে, উপরোক্ত খারাপ লাগাগুলোর কথা লিখতে গিয়ে বারবার অনুভূত হচ্ছিল যে, কিশোর বয়সটা বুঝি সত্যিই পেরিয়ে এসেছি! সে দুরন্তপনার দিনগুলো যদি আবার ফিরে পেতাম! এ কথা অনস্বীকার্য যে, কিশোর বয়সে এ লেখা লিখলে উপরোক্ত ত্রুটিগুলো কখনোই পড়ত না চোখে। তখন আর রবীন্দ্রনাথের সাথে গলা মিলিয়ে গাইতে হত নাঃ "দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইলো না, আর রইলো না, হায়রে আমার নানা রঙের দিনগুলি!"
আমাদের পাঠ্যবই এ ছিলো, সেই সুবাদে অনেকবার পড়া হয়েছে, উপন্যাস হিসেবে চলোনসইও না, একেবাড়ে বাচ্চাদের গল্পের মতো হয়ে গেছে, এখনো ভেবে পাইনা এটা ক্লাস নাইন টেনের পাঠ্যবই য়ে কেন উপন্যাস হিসেবে দেয়া হলো।
This was a mandatory read for ssc in Bangladesh. I hate how I had to read this so thoroughly. This story is so one dimensional and some dialogue is so cringe worthy. I am just glad it's over after 15th February
অসাধারণ লেখার গঠনশৈলী। মনে হয়, বুকের ভিতর ঢিব ঢিব করা শব্দ গূলো ও তিনি কলমে তুলে ধরেন সুনিপুণ ভাবে । উনার লেখার সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য দিক হল পার্শ্ব চরিত্রের বাড়াবাড়ি একদমই নেই ।
Ok I didn't have হাজার বছর ধরে in my curriculum so PERHAPS that is better in comparison, I don't have a way of knowing until I read it, which I plan to in the future. But this book really, truly does not deserve its low average rating.
I'm gonna tell you why, through nearly 10 years of reading more or less the same story (because the '71 liberation war based short stories featuring a teen is a specific genre you're subjected to if you go to school in Bangladesh), I liked this one best.
First of all, the writing style flows really well. The prose is GOOD. I had to read this nearly 30-40 times in 2 years and I never minded doing it a single time, and that tells you things. I will confess that I do not have the best attention span, so that kind of *is* a big deal.
Let's talk about characterization next. People on here have been calling Budha generic and boring and all the other variations of the same adjective, but as someone who's been reading this type of story for 10 years, the reason why Budha stands out from the countless teens in this landscape is that he gets to live. I personally really like that Budha's depicted as eccentric, because the usual protagonist for this genre is, when helpless (and they HAVE to be), staggering back, sacrificing themselves at inopportune moments and DO have a deer lost in the headlights quality to them. Budha was created as the antithesis to it because Budha is a child who has nothing to lose at the beginning of the story--and it is the thing that makes him so dangerous. His patriotism isn't something that's forced out of him as he's striving to survive, no. He's someone the village has taken care of when he had nothing, and in its turbulent times he pays back everything he's ever received. The source of his anger (not the slightest amount of fear, and this is important) towards the Military is rooted in how they have destroyed the place he called home. He's not a child that gets used by the Freedom Fighters as a tool, as the teens in this genre often do. He has agency in the missions he picks. He's allowed to take in the consequences of his actions when it may have helped his comrades but hurt other innocent people, and that is. A Huge Deal. His characterization is given care in a way most of these lambs set for slaughter do not get in the mainstream genre pieces. He is allowed insolence, he is allowed to rage and he is allowed to be scared the day before he thinks he will walk to his death. The picture of his that the artist Freedom Fighter wishes to capture in a canvas isn't of him fighting in various poses with a weapon, it's of him laughing in their boat. And that is important. That is so so important. And you can always feel that he's loved. On every instance of his hell raising, questioning the insidious status quo of the Peace Committee, his little, little acts of defiance, you can feel it.
And another thing is that I wasn't really interested in reading it when we started because of how SURE I'd been that Budha was dead meat. I'd read the same variation of this for ages, so I even neglected the readings in class in the beginning. And I have to say that I was pleasantly surprised by it when I did force myself to start it lmao.
Also would like the point out that the scarecrow theme this novel operates on is so so CLEVER, because early on there's an allusion to classism in the village using a metaphor of how the poorest villagers are the scarecrows that remain stock still while the powerful ones, who are compared to vultures, stalk over their scraps they can barely protect. Budha's hobby of playing the scarecrow, and that time when the Rajakar Rashid (I think? It's been a year since I last read it so the names aren't that clear anymore) comes to interrogate him the first time he commits arson and he escapes into a lake, there's this really quiet paragraph in between that highlights how the scarecrow Budha is no longer still and the first time I noticed it I went APE-SHIT over that one detail. It's a pity no one ever gave us that to analyze in our creative questions lol.
Anyways, I loved this a lot in spite of initially thinking that this was gonna be a snooze fest, which is mostly to the prose's credit. People keep recommending this for 8th grade and below, which sort of feels like an insult, but I don't really see why they can't read it. I too would've liked this better than the required reading I had back then, but also: why ruin the genre-ical plot twist for them that after years and years of annually being convinced that no one, not even once, escaped unscathed and you had to force yourself to feel sad for that one kid your age who got martyred heroically, that there might be triumph, that there might be hope, instead? Food for thought, y'all.
Had to read this shit for exams and now wish that no one has to go through the same fate in the future. Not a single character felt connected. The way Pakistani soldiers are portrayed just sounds misleading in itself. Pretty sure not all of em were homiciders. It gives off an idea like, "Hating Pakistani soldiers gives you merits? so let's write about them being bad" If one is to learn something from this story, what's he supposed to learn exactly? Racism? Parts of this story are so poorly written that it brings blood to ones eyes. So a freedom fighter entrusted this young boy with a mine which is supposed to destroy a whole bunker? Just how strong is the mine? All right, doesn't matter, perhaps the mine is something very strong made with uranium or something. How in the heaven didn't one realise that the kid was hiding it in his t-shirt? No one expected him to? Okay but does that explain a mine to be so small that it can be hidden within ones t-shirt? Doesn't make sense to me really. Also, overly glorifying Mujib is so easily noticeable. That might've played the biggest part in getting it to the academic books.