প্রথমেই বলি, বইটি আমার কাছে খানিকটা দুর্বোধ্য লেগেছে। অমর্ত্য সেনের অন্যান্য বই, খোদ অর্থনীতির জটিল বই ও প্রবন্ধগুলোও আমি খেটেখুটে গুগল করে অন্তত নিজের কাছে সন্তোষজনক বিচারে বুঝতে পেরেছি। কিন্তু সে তুলনায় এ বইটির পিছনে আমার শ্রম ও সময় অনেক বেশি লেগেছে। এ আমার নিজস্ব সীমাবদ্ধতাও হতে পারে।
‘কার্যকারণ ও স্বাধীনতা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত’- আমার বিচারে, প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার এই বইটির মূলসুর এটিই। স্বাধীনতা যদি ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা হয়, তবে সেই আকাঙ্ক্ষার পিছনে কার্যকারণও থাকবে। যুক্তি নয়, কার্যকারণ- কেননা, অধ্যাপক সেন Logic নয় Reason কথাটি ব্যবহার করেছেন। আবার কার্যকারণের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন এটা freedom of choices এর ওপর নির্ভর করে। আমি ইংরেজিটাই লিখলাম কারণ বইয়ের বিষয় বিবেচনায় এর সঠিক বঙ্গানুবাদের সাহস আমার হয়নি। তবে দু ক্ষেত্রেই তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এ ধারণাগুলো অর্থনীতিতে যেভাবে ব্যবহৃত হয়, তা থেকে একেবারেই ভিন্ন। আর এখানে এসেই বইটি জটিল হয়েছে বলে আমি মনে করি।
অধ্যাপক সেন তাঁর সকল বইয়েই এমনকি কিছু কিছু প্রবন্ধেও বিষয়ের প্রয়োজনে অর্থনীতিশাস্ত্র থেকে দর্শনশাস্ত্রে মোড় নেন; কিন্তু এ বইটির ক্ষেত্রে তিনি নৌকো বেঁধেছেন অর্থনীতির ঘাটে কিন্তু ডুব দিয়েছেন দর্শনের নদীতে।
কষ্ট করে পড়ে ফেলতে পারলে আখেরে দুটো লাভ হবে। এক, এই বইয়ে অমর্ত্য সেন যে ধারণোগুলোর বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তির উপরে দাঁড়ানো এবং ড. সেনের অন্যান্য বই বা বক্তৃতার তুলনায় ভিন্ন। দুই, স্বভাবজাত একাডেমিক ভাষার বাইরে এসে প্রবীণ অধ্যাপক এ বইয়ে তাঁর নিজস্ব একটি ভাষা তৈরি করেছেন। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয়েছে, ভাষাটির সাহিত্যশৈলী ও বাক-বিভূতি অনন্য।