Set in rural Bengal a generation before Independence, this first novel of the trilogy is nominally centered on the lives of an ordinary Hindu family. But its true subject is the troubled relationship between Hindus and Muslims. Contrary to common political rhetoric, the reality of intercommunal relations in society's lower echelons during this period was not altogether harmonious. Chittaranjan Das was the only leader of stature working to create a true atmosphere of fellowship. After some early glimmers of success, even that effort ground to a halt when Das died in 1925. Jal Pare, Pata Nare gives an honest account of the complicated and fraught relationship between two communities, and ends with the death of Chittaranjan Das, leaving that relationship to face an uncertain future. It covers the period between 1922-1925.
৫ আষাঢ় ১৩৩০, ২২ জুন ১৯২৩, বাংলাদেশের যশোর জেলার হাট গোপালপুর গ্রামে জন্ম। প্রাথমিক পড়াশোনা শ্রীহট্ট জেলার এক চা-বাগানে। স্কুলের দরজা পার হন নবদ্বীপে। ১৯৪৫ সালে আই এস-সি পাশ করেন। ১৯৪১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি ক্রমাগত পেশা বদলেছেন। প্রাইভেট টিউটর, ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, খালাসি, রেস্তরাঁয় বয়, ট্রেড ইউনিয়ন অর্গানাইজার, ইস্কুল মাস্টার থেকে ভ্রম্যমান নৃত্য-সম্প্রদায়ের ম্যানেজার,ল্যান্ডকাস্টমস ক্লিয়ারিং কেরানি, প্রুফ রিডার। ১৯৭৫ সালের মিসা (MISA) অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ জন-নিরাপত্তা আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাংবাদিকদের অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বহু নির্যাতন সহ্য করেও নিরন্তর সংগ্রামের ব্রতী ছিলেন। এই মানবতাবাদী লেখক ও সাংবাদিক সম্মানিত হয়েছেন বহু পুরস্কারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আনন্দ পুরস্কার (১৯৭০), কো জয় উক স্মৃতি-পুরস্কার (১৯৭৬), খো যাই স্মৃতি-পুরস্কার (১৯৭৮), ম্যাগসাইসাই পুরস্কার (১৯৮১), এবং বঙ্কিম পুরস্কার (১৯৮২)। মৃত্যু : ১৫ ডিসেম্বর ২০০০।
গৌরকিশোর ঘোষ রচিত 'দেশ মাটি মানুষ' ট্রিলজির প্রথম বই 'জল পড়ে পাতা নড়ে'। এই উপন্যাসের ভিত প্রোথিত রয়েছে তৎকালীন সময়ের বাংলার গ্রামীণ সমাজিক জীবনের মধ্যে। এই উপন্যাসের সময়কালটা হলো সেই সময়, যে সময়টাতে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ঘোষণা করেছিলেন, 'আমরা কাউন্সিলে ঢুকছি ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবার জন্য নয়, ভিতর থেকে গুঁতো মেরে ওদের শাসনতন্ত্র ভেঙে দেবার জন্য।' তৎকালীন কলকাতা তখন প্রস্তুত হচ্ছে নতুন সময়ের জন্য, এর মধ্যে সে অনেক আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছে এবং আরো অনেক আন্দোলন তার বুকে ঘটে চলেছে। তবুও এই উপন্যাসের ভিত্তি কলকাতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি। গড়ে ওঠে কলকাতা থেকে বহুদূরে গ্রাম বাংলার একান্নবর্তী পরিবারকে কেন্দ্র করে। সেই পরিবারগুলোর নানান অনুভূতি উপন্যাসের অন্তরালে লুকিয়ে আছে। এইখানে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠেছে হিন্দু মুসলমানের দ্বন্দ্বের ঘনঘটা। চিত্তরঞ্জন দাশ কতৃক সম্পাদিত বেঙ্গল প্যাক্টের যে বিষ তা ছড়িয়ে পরেছিলো বাংলার গ্রামের লতাপাতায়। যেখানে মানুষে মানুষে সম্প্রীতির সদ্ভাব বজায় ছিলো তার মাঝখানে এসে গিয়েছিলো এক ধর্মের মানুষের সাথে অন্য ধর্মের মানুষের সংঘাত। এসব ছাড়াও লেখক গৌরকিশোর ঘোষ একটি প্রশ্ন উত্থান করে দিয়ে যান আমাদের মনে। "রাজনীতিক চেতনা আমাদের যতদূর বিকশিত হবার তা তো হয়েছে। সামাজিক চেতনা আমাদের সেই তুলনায় এগিয়েছে কি?" সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আবার তিনি নিজেই বলছেন, "রাজনৈতিক পরিবর্তনে দেশ খানিকটা এগোয়, মানুষ এগোয় সামাজিক পরিবর্তনে।" যেসময়কে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস নির্মাণ করা হয়েছে তখন বাংলার সাধারণ পরিবারগুলো ছিলো একান্নবর্তী । সুবিশাল সেই পরিবারগুলোর সদস্য সংখ্যা অনেক। কিন্তু সেই পরিবারগুলো ততদিনে তাদের জৌলুস হারাতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে শহর অভিমুখে গমন করছে পরিবারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগুলো। যেগুলোকে একক পরিবার বলা হয়ে থাকে বর্তমানে। লেখক গৌরকিশোর ঘোষের এই ট্রিলজির মধ্যে সম্ভবত প্রেম নেই সর্বাধিক জনপ্রিয়। প্রথম 'বই জল পড়ে পাতা নড়ে' কিংবা তৃতীয় বই 'প্রতিবেশী' নিয়ে তেমন আলোচনা গুডরিডসে চোখে পড়ে না। যা আছে বেশিরভাগই 'প্রেম নেই' উপন্যাসকে কেন্দ্র করে। 'প্রতিবেশী' ছাড়া ট্রিলজির বাকি দুটো উপন্যাস পড়া হয়েছে। তার মধ্যে 'প্রেম নেই' বেশি ভালো লেগেছে। 'জল পড়ে পাতা নড়ে' উপন্যাসেও গৌরকিশোর ঘোষের সহজ স্বাভাবিক এবং নির্বিকার লেখক সত্বার টের পাই। তবে কেন যেন মনে হয়েছে দুয়েকটা ক্ষেত্রে তিনি ঘটনাগুলোকে উত্থাপন করে তার সমস্যাগুলোকে কেবল ছুঁয়ে গিয়েছেন। তার ভেতরে প্রবেশ করবার আগ্রহ দেখাননি। তবুও গৌরকিশোর ঘোষের এই বই নানা আঙ্গিকে বেশ ভালো। পাঠককে টেনে নিয়ে যাবে শেষ পাতা পর্যন্ত। সেই সাথে তৎকালীন গ্রাম্যজীবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়ে পাঠকের চোখের সামনে ফুটিয়ে তোলেন সমাজের নানা চিত্র।
১৯২০ এর কাছাকাছি কালের বাংলা নিয়ে লেখা এই ঐতিহাসিক উপন্যাসে গৌরকিশোর ঘোষ ধরতে চেয়েছেন তৎকালীন সময়ের মানুষের মধ্যকার পরিবর্তনগুলোকে, যেখানে ধর্মের প্রভাব ছিল অত্যন্ত বেশি। উঠে এসেছে রাজনীতি এবং একটু বেশি করে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।
দুইটি আলাদা জায়গাকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে লেখা উপন্যাসে নির্দিষ্ট কোনো প্রধান চরিত্র নেই। বরং, স্ব স্ব গুণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অনেককে।