পদার্থবিজ্ঞান মানেই সকল কাজের কাজী নয়। প্রকৃতির রহস্য সমাধান করাই পদার্থবিজ্ঞানের প্রধান কাজ। সেই কাজ করতে গিয়েই কখনাে কখনাে অদ্ভুত সব সমস্যার মুখােমুখি হতে হয় পদার্থবিজ্ঞানকে। জন্ম হয় প্যারাডক্স অর্থাৎ স্ববিরােধের । বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় বড় হেঁয়ালিগুলাে - লুকিয়ে আছে পদার্থবিদ্যার প্যারাডক্সে । সেসব হেঁয়ালি সমাধান করতে গিয়ে যুগে যুগে বিজ্ঞানীদের কালঘাম ছুটে গেছে। নাকাল হয়েছেনে মহাবিজ্ঞানীরাও। তবু বিজ্ঞান পিছু হটে না। প্রকৃতির পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা হেঁয়ালিকে তত্ত্ব আর গাণিতিক যুক্তির সাহায্যে সমাধান করেন পদার্থবিজ্ঞানীরা। কিছু কিছু প্যারাডক্সের কফিনে একেবারে শেষ পেরেক ঠুকে দেন বিজ্ঞানীরা । কিছু কিছু প্যারাডক্স আবার হিন্দু পুরানের ‘রক্তবীজ’-এর মতাে জন্ম দেয় নতুন নতুন প্যারাডক্সের। আরেকদল বিজ্ঞানী এসে সেগুলাে সমাধানের চেষ্টা করেন। কিছু কিছুর সমাধান হয়, কিছু কিছু আবার, অমীমাংসিতই রয়ে যায়। চিরকাল। পদার্থবিজ্ঞানের মীমাংসিতঅমীমাংসিত একগুচ্ছ প্যারাডক্স দিয়ে সাজানাে হয়েছে এই বই। একবার পড়তে শুরু করলে এই বই পাঠককে একটানে নিয়ে যাবে পদার্থবিদ্যার আশ্চর্য জগতে।
৩.৫/৫ প্যারাডক্স এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো স্ববিরোধ। প্যারাডক্স অব ফিজিক্সের মানে হল পদার্থবিদ্যার যে নীতিগুলো নিজেই নিজের বিরোধিতা করে। সতেরোটা টপিকের আলোচনা আছে বইতে।
আমার সবচেয়ে পছন্দের প্যারাডক্স লেগেছে "গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স"। ব্যাপার অনেকটা এরকম ধরুন, ট্রাইম ট্রাভেল সম্ভব এবং আপনি টাইম ট্রাভেল করে অতীতে গিয়ে আপনার দাদাকে খুন করে ফেললেন। এমন বয়সে হত্যা করলেন যখন আপনার দাদা বিয়ে করেননি। তাহলে কি হবে? আপনার দাদা যদি বিয়ের আগেই মারা যান তাহলে আপনার বাবা কিংবা আপনার অস্তিত্ব থাকবেনা। আবার আপনার অস্তিত্ব না থাকলে আপনার দাদাও বেচে থাকছেন। বেচে থাকলে আবার আপনার বাবা অতঃপর আপনি জন্ম নিচ্ছেন। এভাবে তৈরী হয় একটা স্ববিরোধ!
বইয়ের সতেরোটা টপিকের বেশিরভাগই কসমোলজি এবং আপেক্ষিকতা নিয়ে লিখা। সবগুলো টপিকে আমি প্যারাডক্স বলতে যা বোঝায় তা ঠিকঠাক খুজে পাইনি। তাই মোটাদাগে আমি এটাকে প্যারাডক্সের বই না বলে কতগুলো সায়েন্স আর্টিকেলের সংকলন বলাই উপযুক্ত মনে করবো। কিছু কিছু লিখার ভাষা কাঠখোট্টা লেগেছে। এগুলো আরেকটু সহজ করে বর্ণনা করা যেতো।