আমি অনুপম রায়ের লিরিক্সের ভক্ত, সে যে যাই বলুক না কেন! এখন যদিও লেখাগুলো সে ভাবে থমকে দেয় না ঠিকই কিন্তু কয়েক বছর আগে দিত। এই বইটা বলতে প্রথমেই অনুপমের এই দু'টো লাইনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে...
শোন অভ্যেস বলে কিছু হয় না এ পৃথিবীতে পাল্টে ফেলাই বেঁচে থাকা আর একশ বছর আমি বাঁচবই জেনে রাখ হোক না এ পথঘাট ফাঁকা
তিন ছক্কা পুট সেই অভ্যেস বদলের কাহিনী।
খুব বিজ্ঞ ভাবে বইয়ের মনোজ্ঞ আলোচনা করতে পারলে কয়েকজন বেশ তারিফ করে ঠিকই, হয়তো দু চার কপি বই বিক্রিও হতে পারে। কিন্তু সেটা ঠিক কতটা সেই লেখার মেজাজটা ধরতে পারে কে জানে? একাডেমিক আলোচনা আর ভাষা-ফর্ম-ট্রিটমেন্ট নিয়ে লেখা বুদ্ধিদীপ্ত লেখা লিখে কী লাভ যদি 'এসেন্স'টাই অধরা থেকে যায়। কিছু কিছু বই মনে হয় সেই মনোজ্ঞ আলোচনার অপেক্ষায় থাকে না। তারা পথ চেয়ে থাকে এমন পথিকের/পাঠকের যারা কোনো কথা না বলে বুকে জড়িয়ে ধরবে লেখাটাকে, রকে বসে সিগারেট শেয়ার করবে, নস্টালজিয়া ভাগাভাগি করে নেবে একসময় প্রিয় থাকা গানের কথা বেসুরে আউড়ে। আমিও সে চেষ্টাই করব, এলোমেলো আর অবান্তর কথা বলে যাব স্রেফ। রিভিউ ফিভিউ করার বই এটা নয়।
লেখক সব্যসাচী সেনগুপ্তের সঙ্গে আমার পরিচয়-পর্ব সর্বসাকুল্যে সাড়ে এগারো মিনিটের, তার মধ্যে আট মিনিট কথা হয়েছে ফেসবুকের কমেন্ট বা মেসেঞ্জরে। অপচ্ছায়া পড়ার পর আরো দু'টো একটা বই ইবুকে পড়েছি, বুঝেছি এই কলমের ধার অন্য। কিছু কিছু মানুষ থাকে না, যাদের সঙ্গে দেখা না হলেও, কথা না বলেও এক ধরনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, ইনি সেই ব্র্যান্ডের মানুষ। আলোচনাধর্মী লেখা, ধারালো লেখা, চুটকি লেখা, গভীর লেখা সবই লেখেন, আর লিখতে তাকে বিশেষ চেষ্টাচরিত্র করতে হয় বলে মনে হয় না। তার ভাষা বা লেখার ধার নিয়ে একটাও কথা বলব না, কারণ ওইসব বলার কোনো মানেই হয় না। কয়েক পাতা পড়লে নিজেই বুঝতে পারবেন, বিশেষ করে এই লেখাটার ক্ষেত্রে! কিন্ত লেখা ফেখা চুলোয় যাক, তিন ছক্কা পুট পড়ে মানুষ সব্যসাচীর সঙ্গে আমার একটা নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠল (বা বলা উচিত সম্পর্ক গভীর হল)। তার পছন্দ অপছন্দ বা জীবনের নানান পর্বের টুকরো টুকরো স্মৃতিচারণ পড়ে আমি নিজের জীবনের ভুলে যাওয়া সে মুহুর্তগুলোর সন্ধান পেলাম যা অযত্নে পড়েছিল স্মৃতির মণিকোঠায়। সে সব স্মৃতি একেবারেই অকাজের, অকিঞ্চিকর কিছু কথা! এতটাই ভুলভাল কথা যে ফেসবুকে লিখতেও সংকোচ হয়। ( পাতা ৭৯, পাতা ৯৫-এর শেষ লাইন 😀 এইগুলো আমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা।)
আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন এইসব ভ্যান্তারা তো সব স্মৃতিচারণেই থাকে, ছোটবেলার কথা মনে পড়লে তো হাড় হারামিরাও কেঁদে ভাসিয়ে দেয়। অত ইমোশনাল হওয়ার কী আছে রে ভাই? রিভিউ লেখ বাড়ি যা! ঠিকই! আত্মজৈবনিক লেখাগুলোতে নস্টালজিয়া চিনির গুঁড়োর মতো মাখামাখি হয়ে থাকে। হাসিকান্নার স্মৃতি, স্কুলজীবনের নির্বোধ শয়তানি বা কৈশোর- যৌবনের ফিচেল হাসি আর বন্ধুসর্বস্ব জীবন নিয়েই এঁকেবেঁকে লেখা এগোয়, মাঝেমধ্যে সেইগুলো হাপিত্যেশ আর দীর্ঘশ্বাসের শব্দ ভেসে আসে! কিন্তু না, সেকেন্ড জিনিসটা এই লেখায় বিশেষ নেই। লেখক প্রথমেই নিজের কাছে স্বীকার করে নিয়েছেন সম্ভবত— পাল্টে ফেলাই বেঁচে থাকা! সুতরাং স্মৃতিমেদুরতা আছে, নাকিকান্না নেই। 'আমাদের ছোটবেলায় সে সব ছিল' আছে, 'আজকালকার বাচ্চারা তো কিছুই বুঝবে না' নেই। প্রচুর পরিমাণে বাওয়ালি আর ক্যাওড়ামো আছে, বিষাদজর্জরিত লেখার একটানা অশ্রুবিসর্জন নেই। আছে ভালো লাগা ছোটবেলা আর উষ্ণ নরম অনুভূতির কথা!
এই লেখা সাহিত্যের মানে উতরেছে কি না সে কথা গোল্লায় যাক, আমার কাছে বইটা একান্ত আপন হয়ে রইল। সব্য ও পার্থের কাছেও এ লেখা স্বপ্নপূরণ-এর দলিল হয়ে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। অবশ্য পাঠক ফাঠক পাবে কি না সে বলতে পারছি না। পেলেও ভালো, না পেলেও ক্ষতি নেই। আমি বরং বলি আমার কী কী ভালো লাগল --
১) 'ডায়েরি অফ আ নাইন্টিজ কিড' বলে একটা কথা আছে। নয়ের দশকে যারা বড় হয়েছে তারা সম্ভবত এখনও বিশেষ স্মৃতিকাতর হয়ে ওঠেনি, হলেও ততটা লেখালিখি করেনি সে নিয়ে। ফলে এই সময়ের অনেক কিছুই অধরা থেকে গেছে। 'বড়ে বড়ে দেশো মে অ্যায়সি ছোটি ছোটি বাতে হোতি রেহতি হ্যায়' বা 'মেরে করন অর্জুন আয়েঙ্গে' আমাদের জীবনে সে সময় কী প্রভাব ফেলেছিল সে বিয়ে একাডেমিক গবেষণা করা যায় না যে! একাংশ আবার বাংলা সাহিত্যে হিন্দির আগ্রাসন বা অপসংস্কৃতি বলে ধেয়ে আসেন এ সব দেখে, বেচারাদের উপর বড্ড মায়া হয়। যাকগে যাক, অবোধের দল! ভালো থাক! কথা হল সব্যবাবু চুটিয়ে হিন্দি সিনেমা দেখেছেন, মায়ামেদুর বাংলায় মফস্বলনামা লিখতে গিয়ে যে তিনি অনায়াসে ক্যাওড়া চটুল গানের মাহাত্ম্য লিখে ফেলতে দু' বার ভাবেননি, তাতেই আমার মন 'চুরাকে দিল মেরা গোরিয়া চলি' হয়ে গেছে। হিন্দি ডাব সিনেমা দেখে আমার মতো যারা বড় হয়েচে তারা 'জুমানজি', 'গডজিলা' বা 'টাইটেনিক'-এর কথা শুনে আনন্দাশ্রু বিসর্জন করবে।
২) সব্যসাচী সেনগুপ্তের একটা নিজস্ব ভাষা আছে, ম্যাগি মসালা টাইপ কিছু টার্মিনোলজিও আছে। লিখতে গেলে সেটা যথাস্থানে ব্যবহার করে এইসা রান্না করেন যে মনে হয় কাঁচা আম মশলা মাখিয়ে টাকরা দিয়ে খাচ্ছি। খ্যাক খ্যাক করে হাসি, তারপর হুট করে এক লাইনে হাসি থেমে যায়। ঠোঁট চেপে চোখের ভিজে কোণ সামলাতে মন দিই একাগ্রভাবে। সকলের সব জায়গায় হবে, জরুরি নয়। কিন্তু, কোনো না কোনো জায়গায় এই অনুভূতি হবে, হবেই।
"এইসব নীতিকথা। আপ্তবাক্য। এইসব আমরা মেনে চলি খুব। কেত আছে এ সব করে। পার্টনারের গ্লাসে পেগ ঢালার আগে জ্যাঠামশাইয়ের টোনে সাবধান করে দেওয়া, আউট হচ্ছিস কিন্তু ... এটাই লাস্ট। ইয়াব্বড় একটা কালচে ছুরি নিয়ে, শিবু কাঠের পাটাতনের উপর পেঁয়াজ কাটছে ঘচঘচ। ছুরি ধরা হাতের উল্টো পিঠটা দিয়ে। জল মুছে মুছে নিচ্ছে চোখ থেকে। আকাশ এখন তালশাঁসের মতো ফর্সা। কিংবা ছাল ছাড়ানো লিচু। কাক ডাকতে শুরু করেছে কা কা করে। ঝাড়ু মারছে ফুটপাথে কর্পোরেশণের স্যুইপার। প্রথম বাসটা চলে গেল ঘঙ ঘঙ করতে করতে। পাদানিতে খালাসি। হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে আছে বাইরে। হাওয়ায় চুল উড়ছে শনশন।
অভিষেক তাগাদা লাগাল, "ঘুগনি হল? দ্যাখো না উঠে।" শিবু হাসল দাঁত কেলিয়ে, "লাবাই। দাঁড়ান, টোসটা বানিয়ে লিই। কালো ড্রামের ভিতর চায়ের ভাঁড় ছুঁড়ে মারলাম আমরা। সিগারেট ছুঁড়লাম ক্যারামের টুসকি মেরে ড্রেনে। ছ্যাঁৎ। মাথার মধ্যে গিজগিজ করছে সার্জারির চ্যাপ্টার। ক্লাসিফিকেশনস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অফ ব্রেস্ট ক্যান্সার। অথচ এসব নিয়ে আলোচনা করছি না আমরা কেউ। করলেই যেন সবটা মাটি। এখন এই যে, এই সময়টা, এইটা আমাদের রিল্যাক্স করবার সময়। শিবুর রেডিওতে খড়খড়িয়ে বাজছে, হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে, হামসে কুছ না বোলিয়ে। দুই হাঁটুতে তালু ঘষতে ঘষতে শিস মেলাচ্ছি আমি দেবানন্দের সঙ্গে। উরুতে চাপড় মেরে বলছি, শাল্লা, আর তেইশ দিন, দ্যাখ, দ্যাখ শালা তার পর উদুম মস্তি করব ফাটিয়ে। ল্যাংটো হয়ে নাচব শালা। দেখে নিস।
কেউই জানি না তখন, এই তো আমাদের শেষের শুরু। ফাইনাল 'এম বি' দিয়েই চলে যাব যে যার বাড়ি। ফিরে আসব যখন রেজাল্ট বেরুলে, তখন এক এক জনের এক এক রকম ইন্টার্নশিপ ডিউটি। আমি হিমাটোলজি তো অভিষেক গাইনি। অভিষেক গাইনি তো সৌগ��� সার্জারি। দেখাই হবে না আর ভাল করে। পেরিয়ে যাব ইন্টার্নশিপ। পেরিয়ে আসব হাউসস্টাফশিপ পিরিয়ড। ছড়িয়ে যাব এখানে ওখানে সেখানে। এক সঙ্গে ল্যাংটো হয়ে চিৎকার করে স্নান করতেও থমকাত না তিন ইয়ার , থমকাত না 'লাভ ইউ রে হারামি' বলে জড়িয়ে ধরতে, তাদের শেষের শুরু হল এই।"
গল্প এক থাকে, চরিত্র আর পরিবেশ বদলে যায়। আমরা এগিয়ে যাই। পাল্টে ফেলাই বেঁচে থাকা!
৩) আমার জীবনের প্রথম টিনটিন হল বিপ্লবীদের দঙ্গলে। প্রচ্ছদ দেখেই কিনে ফেলেছিলাম আসলে। ভালো লাগেনি সে সময়ে, ওই ল্যান্ডস্কেপ বোঝার মতো বয়স বা বুদ্ধি হয়নি। কমিক্স নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতাম না, টিনটিন নিয়েও আর বিশেষ মাথা ঘামাইনি। কিন্তু পরের বছর আমার পিসি আমাকে 'লোহিত সাগরের হাঙ্গর' কিনে দিল ( অবশ্যই বাংলায়) আর সেটা পড়ে আমি নক আউট হয়ে গেলাম। এর পর যদি বই পড়তে গিয়ে কেউ নীচের লাইনগুলো পড়ে তার মনের কী অবস্থা হবে কল্পনা করে দেখুন--
"টিনটিন প্রথম পড়ি ক্লাস ফোরে। কিনে দিয়েছিল পিসিমণি... ফটাস শব্দ করে কাউন্টার টপের উপর ফেলে দেওয়া হয়েছিল গণ্ডাখানেক টিনটিন। আর তারই মধ্যে থেকে, স্রেফ প্রচ্ছদ বেছেবুছে আমি ঘোষণা করেছিলাম, বিপ্লবীদের দঙ্গলে নেব। একটাও সম্পূর্ণ টিনটিন এর আগে পড়িনি আমি। শিখিনি হার্জকে আর্জে বলে ডাকতে হয়। জানি কেবল পাক্ষিক আনন্দমেলায় বের হয় চারপাতা জোড়া রঙিন কমিক্স। জানি, টিনটিন বাদ দিলেও 'জো জেট আর জোকো' হার্জের অমর সৃষ্টি।
অথচ বাবা কিনে দিত না। কিংবা পারত না কিনে দিতে প্রতিটা পাক্ষিক। জোয়াল টানতে অপারগ তখন 'দশটা পাঁচটা' বাবা আমার। পিসিমণিদের সামনে ভিখারি এবং বিরক্তিকর তখন বাবা আমার। সেই বিরক্তিকর বাবার 'হ্যাংলামি কোরো না' ভ্রু কুঞ্চনকে তখন পাত্তাই দিতাম না আমি। লাফিয়ে লাফিয়ে যেতাম শিফন বড়পিসির আঁচল ধরে। ওইভাবেই তো কেনা প্রথম টিনটিন। বিপ্লবীদের দঙ্গলে। মায়ান পিরামিডের সামনে দৌড়চ্ছে চারমূর্তি। টিনটিন, হ্যাডক, ক্যাথবার্ট ক্যালকুলাস এবং কুট্টুস।
ভালো লাগেনি বইটা। এর চাইতে ঢের ঢের ভালো লেগেছিল পরের বছর জন্মদিনে পাওয়া 'লোহিত সাগরের হাঙ্গর'।"
8) এই লেখার পরতে পরতে সে সব ভুলে যাওয়া অভ্যেস আছে, যা একসময় আমাদের প্রতিদিনের কথাবার্তার অংশ ছিল। কোনটা ছেড়ে কোনটার কথা বলি? আচ্ছা, এই জায়গাটা দেখা যাক!
"টিভিটা কেনার পর পরেই খারাপ হয়ে গিয়েছিল হঠাৎ। পর্দার ছবি ছোট হতে হতে একটা লম্বা মতো দাগে এসে ঠেকত খানিক বাদেই, তখন টিভির মাথায় চাপড় মারতে হত দমাস, ছবি বড় হয়ে যেত আবার। কিন্তু মিনিটখানেক বাদেই আবার যেই কে সেই। দোকানে বলল, পিকচার টিউব খারাপ হয়ে গেছে। সে সময় টিভির কেবলমাত্র পিকচার টিউবই খারাপ হত। আর টিউব লাইটের চোখ খারাপ হত। সাইকেল চাকার 'ভোল্টু' খারাপ হত , স্টেবলাইজারের কর্ড খারাপ হত। রতন কাকু এসে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে টিউব সারাত সন্ধেতে। টিউবলাইটের গায়ে দু' হাত রেখে, প্যাঁচে প্যাঁচে পাকালেই জ্বলে উঠত দপদপিয়ে। শব্দ হত ক্যাঁঅ্যাঅ্যাঅ্যা। রতন কাকু টুল থেকে নামতে নামতে বলত, "চোখটা গেছে বউদি। কাজ চালানো করে গেলাম, লাস্টিং করবে না বেশি দিন। পাল্টায়ে নিয়েন।"
এই সব কথা। অবান্তর, ভুলে যাওয়া স্মৃতির বয়ান। ঠাকুমার কোলে ঢুকে গল্প শোনা, চায়ের বাগান থেকে পাতা তুলে এনে চা ফোটানোর শিশুতোষ কৌতূহল। তুচ্ছ কারণে আত্মীয়স্বজনের উপর থেকে যাওয়া রাগ, যা ক্রমেই দূরে ঠেলে দেয় পরস্পরকে। হাসিঠাট্টা, ঝগড়াঝাঁটি, কান্না বা কৌতূহল! মায়ের হাতের পিটুনি বা ঠাকুমার আদর! ফেলে আসা বাড়ির খুঁটিনাটি সে সব জিনিস, যা যত্ন করে সামলেসুমলে রেখেছিলাম, তখন সে সব ছাড়তে হলে ডাক ছেঁড়ে কান্না পেত, সে সব মুছে যাওয়ার নিয়মমাফিক জীবন। কিছুই নতুনত্ব নেই, কিছুই অভিনব নেই। সেই থোড়-বড়ি-খাড়া বা খাড়া-বড়ি-থোড়। কিন্তু তাও চোখের কোণ ভিজে ওঠে, খিক খিক করে হেসে উঠি, পুরোনো কিছু মানুষের চেহারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে অনেকদিন পর। বাকিটা লেখক নিজেই লিখে দিয়েছেন...