"That girl is something! She's Brave, Smart, Stubborn, Reckless!" আমাদের চারপাশে প্রতিদিন কতশত মানুষকে দেখতে পাই। প্রায়ই ধরে নি এরা সবাই আমার মতই সাধারণ। কিন্তু সত্যিই কি তাই? সাধারণের ভিড়ে মিশে থাকে অনেক অসাধারণ মুখ! যেমন- ইভা সেন! ইভা সেন! কে সে? নাহ্ সে কোনো কেউকেটা নয়, সাধারণ পাশের বাড়ির মেয়ে যেন, অন্তর্মুখী, লাজুক প্রকৃতির। কিন্তু আসলে কে এই ইভা? গত দশ বছর সে ছিল কোথায়? তার মা-বাবাই বা কোথায়? কেউই জানে না! ঠিক যেন বলতে গেলে 'ভূত'! বাইরের পরিচয় অবশ্য একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর! তবে তার অপর পরিচয়? ইভা সেন কোনো সাধারণ মেয়ে নয়,যতই দেখতে হোক। কলকাতা পুলিশের এক গোপনীয় আনঅফিসিয়াল কর্মী, মুয়ে থাই নামক মার্শাল আর্টে স্পেশালিস্ট ইভার কাছে সর্বদা থাকে তার প্রিয় সিগ সয়্যাঁর পিস্তল আর কোল্ড স্টিল ট্যাকটিক্যাল ছুরি! **************** সি আই এ এবং র'র এক যৌথ ক্ল্যানডেস্টাইন অপারেশনে ধ্বংস হয়ে যায় এক শিশু পাচারকারী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। কিন্তু বেঁচে যায় সংগঠনের মাথা! পায়ের তলার মাটি খোঁজার জন্য মরিয়া হয়ে তারা হাত মেলায় অপর এক পাচারকারী চক্রের সাথে! কাজের জন্য বেছে নেয় বাংলা সহ ভারতবর্ষের উত্তর পূর্ব অংশ। এরকমই এক কেসের দায়িত্ব পায় ইভা সেন। তারপর? ইভা কি পারবে তার কাজে সফল হতে? নাকি সেও হারিয়ে যাবে তার এক অন্ধকারময় অতীতের কালো অতল গহ্বরে?
হাই..হ্যালো..নমস্কার সবাইকে! সবে মাত্র যাত্রা শুরু হল! বায়োগ্রাফি সেভাবে এখনও বলার মত কিছু নেই। আপনাদের আশীর্বাদ আর শুভেচ্ছা পেলে ভবিষ্যতে লিখব খন! "হিডেন আই" দিয়ে যাত্রা শুরু করলাম,দেখা যাক কতদূর যেতে পারি। যারা আমার লেখা পড়েছেন,অনুরোধ করব রেটিং সহ একটি ছোটো হোক কিংবা বড় হোক রিভিউ লিখে যাবেন! আলোচনা এবং সমালোচনা দুটোই কাম্য। ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন!
বিদেশি সাহিত্যে আমরা প্রায়ই এমন নারীচরিত্রের সম্মুখীন হই, যে নিজের যন্ত্রণা আর ক্রোধের লোহাকে প্রতিহিংসার আগুনে গলিয়ে ইস্পাতের আকার দেয়। বাংলা সাহিত্যে এমন চরিত্র খুঁজে পাওয়া শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব বললেই চলে। এই আকালে তরুণ লেখক সায়ন আমাদের সামনে আনলেন ইভা সেন-কে। এই চরিত্রের ছিন্নভিন্ন, সব হারিয়ে ফেলা অতীতের কথা আমরা পরে জানতে পারি। কিন্তু তার আগে আসে বর্তমান। কী ঘটে সেখানে? ডিটেকটিভ এজেন্সি 'হিডেন আই'-এর মাধ্যমে নজরদারি ও অনুসন্ধান চালানোই ইভা'র পেশা। তার পাশাপাশি সে কলকাতা পুলিশের এক অঘোষিত ও গোপন ট্রাবলশুটারও বটে। সেই কাজে তার হ্যান্ডলার হলেন অফিসার দেবোত্তম। সব সামলে, কুকুর রেক্স আর পিতৃতুল্য শিল্পী ম্যাট-এর সঙ্গে ঠিকঠাকই চলছিল ইভা'র দিনগুলো। কিন্তু একটা অদ্ভুত কেস এল তার কাছে। এক পুলিশ কনস্টেবল নিজের হারিয়ে যাওয়া ভাইপো'র ব্যাপারে দারোগার কাছে কোনোরকম সাহায্য না পেয়ে ইভা'র দ্বারস্থ হলেন। ধীরে-ধীরে উন্মোচিত হল এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র— যার জাল ছড়িয়ে আছে এ-দেশ থেকে অন্য দেশে, সমাজের সবচেয়ে নিচু থেকে উঁচু তলাতে। ইভা পিছিয়ে এল না। বরং একটু-একটু করে সে এগিয়ে গেল লক্ষ্যে। পথে তাকে অনেক কিছু সহ্য করতে হল। হারাতেও হল অনেক। কিন্তু সে হার মানল না। আর তারপর...?
এই শ্বাসরুদ্ধকর অ্যাকশন থ্রিলারটি পড়া শুরু করে মাঝপথে থামার কোনো উপায় থাকে না। এমনকি এই কাহিনির "শেষ হয়ে হইল না শেষ" সমাপ্তির পরেও পাতা উল্টে পরের কাহিনি খুঁজতে হয়। দীর্ঘ ট্রেনজার্নির পর স্টেশনে নেমেও যেমন মনে হয় যে শরীরটা দুলছে, ছোটো-ছোটো অধ্যায়ে বিভক্ত এই নির্মম, নিষ্করুণ এবং নির্মেদ উপন্যাস শেষ হওয়ার পরেও প্রায় তেমনই মনে হয়। যেন পাতা ওল্টালেই আমরা আবার দেখতে পাব ইভা সেন-কে— জিন্সের বেল্টের একপাশে সিগ সয়্যাঁর, হাঁটুর নীচে ট্যাকটিকাল ছুরি, হিপ পকেটে পাঞ্চার, আর দু'চোখে ধিকিধিকি আগুন!
সায়নের লেখা ইভা'র মতোই— সুন্দর, ব্যক্তিত্বময়, প্রাণঘাতী। আরেকটু ধীরলয়ে লিখলে, খল চরিত্রগুলোকে আরেকটু ত্রিমাত্রিক করে তুলতে পারলে এই লেখা আরও সুখপাঠ্য হবে। বইটির ছাপা ও লে-আউট চমৎকার। কয়েকটি কী/কি সংশয় ছাড়া আমি বানানের তেমন কোনো ভ্রান্তি লক্ষ করিনি। প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে মোটিফের ব্যবহার ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদটিও অল্পের ওপর বেশ দৃষ্টিনন্দন ও অর্থবহ।
যদি থ্রিলারের অনুরাগী হন, তাহলে এই বইটি আপনার ভালো লাগবে বলেই আমার ধারণা। আর লেখকের উদ্দেশে প্রশ্ন, ইভা সেন কবে ফিরবেন?
গত কয়েকবছর ধরে বাংলাদেশী থ্রিলারগুলো পড়তে পড়তে ওপারের প্রতি এতটাই বায়াসড হয়ে গিয়েছিলাম যে আমার বিশ্বাস জন্মে গেছিল এপার বাংলায় তেমন লেভেলের থ্রিলার হয়ত পাবই না। এই বইটা হুট করেই নজরে পড়ে একদিন। মিথ্যে বলবো না , প্রচার হিসেবে যেটুকু সার সংক্ষেপ লেখা ছিল তা পড়ে আমার মনে হয়েছিল হালকা অ্যাকশন আর নড়বড়ে লেখা একটা গল্প হবে হয়ত। কিন্তু বইটা পড়ে আমার সেই ধারণা চেঞ্জ হয়ে গেছে। এই রকম একটা থ্রিলার এপার বাংলায় লেখা হয়েছে তা ভাবাই যায় না। যদিও কিছু কিছু ত্রুটি আছে( আমার মনে হয়েছে) তবুও এটা বেশ ভালো একটা থ্রিলার।
কাহিনী সংক্ষেপ: ইভা সেন। সাধারণ এক মেয়ে হলেও অসাধারণ। জনসমক্ষে সে একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর।তবে আড়ালে সে কলকাতা পুলিশের আনঅফিসিয়াল গোপন কর্মী। মার্শাল আর্ট স্পেশালিস্ট। সি আই এ ট্রেনিং প্রাপ্ত। তার সঙ্গী রেক্স নামের এক কুকুর এবং এক সি আই এ অ্যাসেট । কাহিনী শুরু এক বাচ্চার কিডন্যাপ দিয়ে। ঘটনাচক্রে কেসটা ইভার কাছে আসে। তদন্তে নেমে ইভা জড়িয়ে পড়ে বিশাল বড় এক চাইল্ড ট্রাফিকিং গ্রুপের সঙ্গে। নেমে আসে একের পর এক দুর্যোগ। প্রাণনাশের হুমকি এবং নোংরা খেলা। ইভা কি পারবে এই জাল কেটে বেরিয়ে আসতে? পাঠ প্রতিক্রিয়া: যা বলছিলাম, শুরু করার আগে পর্যন্ত আমার খুব একটা এক্সপেক্টেশন ছিল না বইটা নিয়ে। তবে শেষ করার পর বেশ ভালো লাগলো।বর্তমানে তন্ত্র ছাড়াও অন্যকিছু বেরিয়েছে এপার বাংলায় এটাও একটা ভালো বিষয়। যাই হোক , কাহিনী খুবই সাধারণ। একটা কিডন্যাপ এবং তার তদন্ত। ডিটেলিং বেশ সুন্দর তবে লেখনশৈলী আরেকটু ভালো হতে পারত ( যেহেতু প্রথম বই লেখকের, তাই এতে অত গুরুত্ব দিলাম না। জাস্ট কিছু জায়গায় বাক্য গঠন এবং শব্দচয়ন আরো ভালো হতে পারত)। বইতে প্রচুর বন্দুক - রাইফেল এবং তাদের সম্পর্কে অনেক ইনফরমেশন রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন রকম ' স্টান্স ' সম্পর্কে তথ্য। বেশ কিছু কমব্যাট দৃশ্য আছে ( হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাটের বর্ণনা বেশ ভালো ছিল)। অন্তিম দৃশ্যে আছে একটি আর্মড কমব্যাটের বর্ণনা ( এটা আরেকটু জোরদার হতেই পারতো)। চরিত্রায়ন বেশ পোক্ত। ইভা, ম্যাট, দুর্নীতিবাজ পুলিশ, সুপারি কিলার সহ প্রায় সব মেজর চরিত্র মনে প্রভাব ফেলতে সক্ষম। ব্যক্তিগত ভাবে আমার ম্যাট কে দারুন লেগেছে ( তাকে সি আই এ কম , ব্যাড অ্যাস কোনো সিন্ডিকেট/ গ্যাং পারসন মনে হয়েছে)। বইয়ের সমাপ্তিও বেশ সুন্দর। সব মিলিয়ে উপভোগ্য একটা বই।
( এর পরের প্যারায় হালকা স্পয়েলার আছে, তবে মেজর না, পড়লে বইয়ের মজা খুব একটা নষ্ট হবে না। বাকি আপনার ওপর)
বইটা বেশ ভালো হলেও কয়েকটা ছোট ছোট ব্যাপার আমার পছন্দ হয়নি। ১. কিছু কিছু জায়গায় দুটো ভাষা মিশিয়ে সংলাপ বা বর্ণনা দেয়া আছে। খারাপ না তবে জিনিসটা মাথায় খোঁচা মারে। বাংলায় কথা বললে তার মধ্যে দুটো হিন্দি শব্দ থাকলে তেমন ব্যাপার না কিন্তু যখন একটা প্যারার বা সংলাপের চারটে লাইনের মধ্যে দুটো বাংলা, বাকি দুটো হিন্দি হয় তখন একটু হলেও জিনিসটা খারাপ লাগে। যেহেতু বাংলায় লেখা বই ,তাই এক্ষেত্রে টান মেশানো বাংলা ব্যবহার করলেই মনে হয় ভালো হতো। ২. বইতে বলা আছে ইভা সি আই এ , নেভি সিল ট্রেনিংপ্রাপ্ত। সুতরাং ধারণা করা তার অবজারভেশন ক্ষমতা গড়পড়তা লোকের থেকে বেশি হবে। কিন্তু বইতে এমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় নি (বিবরণ দিলে স্পয়েলার হয়ে যাবে)। ৩. শুরুর দিকে একটা জায়গায় ইভা এক দাগী আসামীকে ধরতে যায় ( পুলিশ অনেক চেষ্টা করেও পারেনি, তাই কাজটা ইভার ওপর এসে পড়েছে)। সেখানে লোকের সন্দেহ এড়াতে ভ্যাপসা গরমে ইভা আপাদমস্তক কালো চাদর জড়িয়ে সেই এলাকায় যায়। এইটা কেমন কথা। ওই ভাবে কেউ আসলে তাকে তো আরো বেশি করে সন্দেহ করবে লোকে তাইনা? ৪. ' ট্যাকটিক্যাল ' শব্দটার অতি ব্যবহার। ট্যাকটিক্যাল ব্যাটন, ট্যাকটিক্যাল ভেস্ট,ট্যাকটিক্যাল নাইফ, ট্যাকটিক্যাল প্যান্ট, ট্যাকটিক্যাল বুট, ট্যাকটিক্যাল টর্চ ইত্যাদি। এই শব্দটা এতবার না আনলেও হতো।
প্রোডাকশন এর দিক থেকে বইটা আরো উন্নত হতে পারত। নর্মাল পেপারব্যাক না দিয়ে প্রিমিয়াম পেপারব্যাক হলে বেশি ভালো লাগতো। বইটার বাইন্ডিং একটু কমজোরী। পেজ খুলে আসার চান্স আছে।
তবে যদি সিম্পলি পড়তে থাকেন তাহলে হয়ত এই জিনিসগুলো অতটা ইমপ্যাক্ট ফেলবে না। ওভারঅল বেশ ভালো একটা বই। অ্যাকশন/কমব্যাট থ্রিলার পছন্দ হলে পড়তে পারেন। হতাশ হবেন না। রেটিং: ৪/৫
This entire review has been hidden because of spoilers.
সদ্য শেষ করলাম সায়ন দাশের লেখা একটি অ্যাকশন থ্রিলার "হিডেন আই " বইটি । বাংলায় এরকম টান টান গতিশীল থ্রিলার হয়ত খুবই কম আছে।লেখকের লেখা আগে এটা থ্রিলার পড়েছিলাম "ব্লাডহাউন্ড" নামে সেখানেও একই অনুভূতি হয়েছিল। 🫡 এই ২৩৩ পাতার উপন্যাসটা এতোই টান টান আর উত্তেজনাপূর্ণ যে এক সিটিং এ শেষ করে ফেলেছি বইটি।
🍁প্রথমে মূল গল্পের একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া যাক। গল্পের মুখ্য চরিত্রে আছে ইভা সেন। সবার কাছে সে পরিচিত একজন গোয়েন্দা হিসাবে। তবে এই গোয়েন্দার আড়ালে তাঁর আরও একটা পরিচয় আছে। সে কলকাতা পুলিশের একজন আনঅফিসিয়াল কর্মী। গুপ্ত কাজ গুলিতে ডাক পড়ে তাঁর।
চাকদহ এর ছাতিমতলার কাছ থেকে হারিয়ে যায় একটি শিশু। পুলিশের কাছে সাহায্য না পেয়ে তারা দ্বারস্থ হয় ইভা সেনের কাছে। এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। একের পর এক রহস্য উন্মোচন হতে থাকে। উঠে আসে শিশু পাচার কারীদের কাহিনী। খুন জখম তো আছেই। এর মাঝেই আবির্ভাব হয় এক সাইকোর, ঠিক সাইকো হয়ত নয়। একজন বিকৃত কাম মনস্ক ব্যক্তির। ঘটনা চক্রে সে ও জড়িয়ে যায় এর সঙ্গে। এর মাঝেই আবার হটাৎ ফিরে আসে ইভার অন্ধকারময় অতীত, কি হয়েছিল ইভার সাথে অতীতে? এর বেশি ডিটেলস দিতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে।
এবারে আসি নিজের অনুভূতি গুলো নিয়ে।
🍁যেদিন ব্লাডহাউন্ড পড়ি, সেদিন থেকেই লেখকের লেখনীর ভক্ত হয়ে গেছি। আর বলা বাহুল্য এই বইটি কেনার সময়ে আমার যা এক্সপেকটেশন ছিলো আমি তাঁর চেয়েও বেশী পেয়েছি। থ্রিলার যারা পছন্দ করেন, আমি মনে করি তাঁদের জন্য এই বইটি মিস করা উচিত নয়।
🍁শুধু থ্রিলার? সাথে সাথে আছে প্রচুর বন্দুক এবং নতুন নতুন অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য, এই দিক দিয়ে এই বইটার উপরে একটা অন্য রকমের ভালো লাগা কাজ করে । লেখককে এটার জন্য কতটা পরিশ্রম আর পড়াশোনা করতে হয়েছে তাঁর প্রমান প্রতিটি পাতায় পাবেন।
🍁চরিত্রনির্মাণ ভীষণ ভালো। প্রত্যেকটা চরিত্র মনে দাগ কেটে দেবার মতো।
🍁তবে শুধু মারামারি গোলাবাজি ই নেই, গোটা উপন্যাস জুড়ে ভালোবাসা - বিচ্ছেদ - মায়া- মমতা একে অপরের সাথে একজোট হয়ে আছে। যা লেখকের মুন্সীয়ানাতে হয়ে উঠেছে জীবন্ত। প্রতিটা দৃশ্য মনে হচ্ছিলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
😍অসাধারণ একটা বই পড়লাম। আপনারাও পড়ুন। নিরাশ হবেন না। ভালো থাকবেন লেখক। আপনার লেখনী এভাবেই চলতে থাকুক। আমাদের কেও আরও নানান স্বাদের কাহিনী উপহার দিতে থাকুন।🥰🥰
🙂শেষে লেখকের কাছে একটি অনুরোধ, এই বইটি প্রকাশ হবার পরে অনেক দিন তো হয়ে গেল...এবারে তো আমরা এই সিরিজের পরের বইটা পেতেই পারি... 🙂❤️ খুব তাড়াতাড়ি পরের বইটা চাই আমরা।
এই ধরনের আরও রিভিউ পেতে এবং নিত্য নতুন বই সম্পর্কিত তথ্য পেতে like, follow.. এবং আপনার বইপ্রেমী বন্ধুদের কাছে share করে সাপোর্ট করতে পারেন আমার ফেসবুক পেজ Books With Amir কে❤️। সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং অতি অবশ্যই সাহিত্যে থাকুন ❤। ধন্যবাদ🙏🥰
অসাধারণ এক উপন্যাস পড়ে উঠলাম, রিভিউ আমি লিখতে পারিনা,তবুও লিখতে বসলাম বাধ্য হয়ে। পড়তে বসে কখনোই মনে হয় নি বই পড়ছি,খালি মনে হচ্ছিল চোখের সামনে কোনো হলিউডি 3D অ্যাকশন ফিল্ম দেখছি। আরো বেশী ভালো লাগার কারণ লেখক মূল প্রোটাগনিস্টকে কোনো অতিমানব হিসাবে দেখান নি, বাস্তব টাকেই দেখানোর চেষ্টা করেছেন, সাথে এত অত্যাধুনিক অস্ত্রের নাম, Goosebumps আসতে বাধ্য। ম্যাট চরিত্রটিকে খুব পছন্দ হয়েছে,ভবিষ্যতে ম্যাটের আলাদা গল্প পেলে ভালো লাগবে। আর বেশী কিছু বললে স্পয়লার হয়ে যাবে, বইয়ের শেষে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া আছে দ্বিতীয় খণ্ডের। আপাতত তারই অপেক্ষায়।
⚔️ বিষয়বস্তু- আমি এই বই এর বিষয়বস্তু বিস্তারিত ভাবে বলবো না। কারন আমি এমন টান টান একটা থ্রিলার এর স্পয়লার দিতে চাইনা। এই উপন্যাস হলো এক মহিলা প্রাইভেট ডিটেকটিভ ইভা সেন এর সিরিজ এর প্রথম বই। ইভা সেন , যার বয়স ২৭ বছর। তার আর একটি পরিচয় হলো সে কলকাতা পুলিশ এর হিটওম্যান, কিন্তু তা আনঅফিসিয়াল ভাবে। তার সাথে মারনাস্ত্র চালাতেও সে অত্যন্ত দক্ষ, আবার তেমনই মার্সেল স্পেশালিস্ট, আবার তেমনই মারাত্মক স্ট্রিট ফাইটার। আবার দেখতেও অত্যন্ত সুন্দরী। আর সে থাকে কলকাতায় এক ভক্তি আবাসন নামের এক আবাসনে। আর এই হিডেন আই হলো ইভার তৈরি করা এজেন্সি। কিন্তু সেই এজেন্সি এর কোন অফিস নেই, website এ গিয়ে যোগাযোগ করতে হয়, তারপর কোন ক্যাফেতে গিয়ে কেস ডিটেলস নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই বই এর কাহিনীর সূচনা হয়েছে দুটি কিডন্যাপ হওয়া ছোট্ট বাচ্ছার কথপোকথন দিয়ে। আর তারপর ইভার জীবনের কিছু ইতিহাস ও বর্তমান নিয়ে শুরু এই বই। তারপর দেখা যায় আসল ঘটনা, অর্থাৎ নদীয়ার চাকদহ নামের এক এলাকা থেকে নিখোঁজ হতে থাকে সব ছোট ছোট বাচ্চারা, যাদের বয়স মূলত ১২ থেকে ১৮ এর মধ্যে। আর এরই মধ্যে নিখোঁজ হয় চাকদহ থানার কনস্টেবল সুকুমার বড়ুয়া এর ভাগ্নে সন্তু । আর সুকুমার বাবু website এ গিয়ে যোগাযোগ করেন ইভার সাথে, আর সমস্ত ডিটেলস বলেন। এরপর শুরু হয় আসল ঘটনা। ইভা সেন এর তদন্ত। তার সাথে সাথে উঠে এসেছে এমন সব ভয়ঙ্কর তথ্য যা নাড়িয়ে দিতে পারে দেশ থেকে বিদেশে এর গোয়েন্দা দপ্তরকে। এর সাথে সাথেই উঠে এসেছে "গজবা" নামের এক ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠন এর কথা। উঠে এসেছে সুইসাইড বম্বার, ডার্কউইভ, চাইল্ড পর্ণ এর মত জঘন্য থেকে জঘন্য তর অপরাধের কথা। আর তার সাথে যুক্ত হয়েছে রাজনীতি ও বিনোদন জগতের নোংরামির কথা। আর একটি দূর্দান্ত দিক এই উপন্যাস এর মধ্যে দিয়ে ঊঠে এসেছে, আর তা হলো, বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র এর নাম সাথে সাথে তাদের ডিটেলিং এর চালানোর কৌশল। উপন্যাস পড়লে বোঝা যায় এটা নিয়ে লেখক মশাই রিতিমত গবেষণা করেছেন। এই উপন্যাস এ উঠে আসে বেশ কিছু প্রশ্ন, যেমন- কে এই ইভা সেন? কী তার জীবনের ইতিহাস? কিই বা বর্তমান? ডার্কউইভ কী? সুইসাইড বম্বার ই বা কী? কোথায় আছে সন্তু? কেন নিখোঁজ হচ্ছে বাচ্চা গুলো? উদ্দেশ্য ই বা কী? কে এই ম্যাট? আর কেই বা রেক্স? এখানে বিদেশি যোগাযোগ কোথা থেকে এলো? ইভা আর দেবোত্তম কী পারবে রহস্যের জাল ছিন্ন ভিন্ন করে বেরিয়ে আসতে? নাকী তারা আরও জালে জড়িয়ে পড়বে? কী হবে শেষ পরিণতি? আর এই সব উত্তর জানতে হলেই পড়তে হবে এই উপন্যাস হিডেন আই।
⚔️ প্রচ্ছদ- কথায় বলে "বই এর মলাট হলো বই এর ললাট" কারণ প্রচ্ছদ দেখতে যতটা আকর্ষণীয় হবে বই এর বিক্রি ততটা প্রভাবিত হবে। এই বই এর প্রচ্ছদ শিল্পী চয়ন মণ্ডল মহাশয়, আমি প্রচ্ছদ শিল্পী হিসেবে চয়ন বাবুর নাম আগে শুনিনি। এই প্রচ্ছদটি আমার ভালো লাগেনি, আরও অন্য রকম করা যেত বলে আমার মনে হয়েছে। কারন লেখার মান যে তুলনায় আকর্ষণী���় সেই তুলনায় প্রচ্ছদ টি একেবারেই তা নয়। আর কালার কম্বিনেশন টা আমার একদমই ভালো লাগেনি।
⚔️ বই এর পাতার মান এবং বই এর বাঁধন- মাথামোটার দপ্তর প্রকাশনা এর কোন বই এর আগে আমি পড়িনি। কিন্তু প্রথম অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। অত্যন্ত সুন্দর এবং মজবুত বাঁধন। তার সাথে সাথে অত্যন্ত উন্নত মানের পাতা। আর লেখার হরফ সজ্জা ও অত্যন্ত সুন্দর এবং চোখের পক্ষে বেশ ভালো। এর জন্য অবশ্যই অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই মাথামোটার দপ্তর প্রকাশনা এর কর্ণধার এবং এই বই এর সাথে যুক্ত সকলকে।
⚔️ নামকরণ- "হিডেন আই" এই কথাটার বাংলা করলে হয় লোকানো চোখ, যাকে আমরা বর্তমানে বলি স্পাই ক্যামেরা, আবার তৃতীয় নয়ন এটাও বোঝাতে পারি। আর এই উপন্যাস এও সেই রকম এক হিডেন আই আছে, আর সেটা হলো ইভা সেন এর এজেন্সি। তাই নামকরণ টি একদম উপযুক্ত এবং যথার্থ।
⚔️ বইটি কারা পড়তে পারবেন আর কারা পারবেন না- প্রথমেই বলে রাখি এই বইটি একেবারেই কঠোর ভাবে প্রাপ্ত মনষ্ক দের জন্য। এখানে পরতে পরতে থ্রিলার যেমন আছে, তেমনই আছে অশ্লীল ভাষার ব্যবহার, এবং তার সাথে সাথে আছে বহু নৃশংস ঘটনার বর্ণনা। তাই এটা প্রাপ্ত মনষ্ক হয়েই পড়া ভালো বলে আমার মনে হয়।
⚔️ নিজস্ব ভালোলাগা- ১. উপন্যাস টির প্লট মারাত্মক রকমের সুন্দর। একটা নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছে লেখার মাধ্যমে। তার সাথে সায়ন দা বাংলা সাহিত্যে এক অসীম প্রতিভাধর নারী চরিত্র কে সৃষ্টি করেছেন এই উপন্যাস এর মাধ্যমে। যার তুলনা সে নিজেই ২. উপন্যাস এর প্রতিটি পরতে পরতে থ্রিল। মানে যাকে বলে থ্রিল বিষয়টাকে উপন্যাস টির মধ্যে একদম ঠুসে ঠুসে ভরা আছে। তাই থ্রিলার প্রেমী দের কাছে এই বই এক অন্য মাত্রায় উন্নীত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ৩. উপন্যাস এর লেখার ধরন অত্যন্ত সুন্দর এবং পর্ব সজ্জা ও বেশ ভালো। ৪. উপন্যাস টি অত্যন্ত মার্জিত ভঙ্গিতে লেখা। তার সাথে অত্যন্ত সাহিত্য রস পরিপূর্ণ একটি বই। ৫. এর সাথে উপন্যাস এর প্রতিটি চরিত্রকে লেখক তার কলমের দ্বারা অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে সৃষ্টি করেছেন। ৬. অনেক অস্ত্র বিষয়ে অনেক নতুন নতুন তথ্য জানতে পেরেছি এই উপন্যাস থেকে। ৭. প্রূফ সংশোধন অসাধারণ।
⚔️ ভালো লাগেনি- ১. উপন্যাস এর ভাষা ব্যবহার আর একটু সহজ সরল হলে পারতো। ২. উপন্যাস টা বড্ড ঘটনা বহুল হয়ে গেছে, তাই জট পাকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সব ভালো লাগা খারাপ লাগা গুলো মিলিয়ে মিশিয়ে একটা কথাই বলবো উপন্যাস জমে ক্ষীর। আর পরের ইভা সেন সিরিজ এর অপেক্ষায়।
ধন্যবাদ 🙏 সকলে ভালো থাকুন 🙏 সুস্থ থাকুন 🙏 বই এ থাকুন
বইয়ের নাম - হিডেন আই লেখক - সায়ন দাশ মাথামোটার দপ্তর - ২৫০/-
বেশ কিছুদিন আগে শেষ করেছি সায়ন দাশের লেখা "হিডেন আই"... রিভিউ লেখার কথা ছিল আরো আগে, কিন্তু হয়ে উঠছিল না। আজ একদম মনস্থির করে বসে পড়লাম অবশেষে, আর এই সুযোগে আরো একবার বইটা ঝালিয়ে নিলাম।
গল্পের শুরু, ইভা সেন নামক এক তরুণীর সাথে পাঠকের পরিচয় পর্বের মধ্যে দিয়ে। মেয়েটির অতীতে যে কিছু ভয়ঙ্কর সত্য লুকিয়ে আছে, তা প্রথম পাতা থেকেই আন্দাজ করা যায়, কেবল আভাস পাওয়া যায় না সেই ঘটনার বীভৎসতা এবং নৃশংসতা সম্পর্কে। গল্প যত এগোতে থাকে, একে একে দৃশ্যে আসে ম্যাট, মারিয়া, দেবোত্তম, টুকলুর মত চরিত্রেরা। তবে ভালোর পাশাপাশি মন্দেরও সহাবস্থান আছে। তাদের বিরুদ্ধে চলে ইভার লড়াই। একের পর এক দুরন্ত এনকাউন্টারের বর্ণনা পাঠককে টেনে রাখে বইয়ের পাতায়।
ইভার কাজ, ম্যাটের আসল পরিচয়, দেবোত্তম ও ইভার সম্পর্ক, এ বিষয়ে ওদের পরিবার পরিজনদের মতামত, ইভার মনে একদিকে টুকলুকে ঘিরে জন্ম নেওয়া মাতৃত্বের ভাব, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের ওপর বদলা নেবার বেপরোয়া মানসিকতা - সব কিছুর মিশেলে লেখা এই উপন্যাসটি বেশিরভাগ পাঠকের কাছে জমজমাট অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে এসব কিছুই আদপে গৌণ। মুখ্য শুধু এটুকুই যে এই গল্প একটি মেয়ের ঘুরে দাঁড়াবার কাহিনী। শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়েও কিভাবে মৃত্যুর মুখে থেকে জীবনের মূল স্রোতে ফিরে আসা যায়, স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবার পরেও কিভাবে নতুন করে স্বপ্ন বুনতে হয়, ভয়কে হারিয়ে কিভাবে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়, তা শেখাতেই বুঝি ইভা সেনের আত্মপ্রকাশ। অবশ্য এটাও অস্বীকার করা যায় না যে, এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য, সর্বস্ব হারিয়েও মানসিক জোর ফিরে পাবার জন্য সবসময় পাশে প্রয়োজন ম্যাট আর মারিয়ার মত দুজন মানুষের।
ভালো লেগেছে : ভালো লাগার বিষয় তো বইটার প্রতি পাতাতেই রয়েছে। আলাদা করে আর কি বলব? অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে গল্পটি যথেষ্ট দ্রুত গতিতে এগিয়েছে, তবে এর কারণে কোথাও কিন্তু বর্ণনা সংক্ষিপ্ত হয়নি। একেকটা ঘটনা এমনকি প্রত্যেকটি চরিত্রের মানসিক টানাপোড়েন থেকে শুরু করে তাদের অভিব্যক্তি, হাঁটা-চলা, হাবভাব, কথোপকথন - সব কিছুই যথাযথ ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক টানা পড়লে মনে হবে, চোখের সামনে ঘটনাগুলো আদপেই ঘটছে। কিছু কিছু জায়গার ডিটেলিং আমার খুব ভালো লেগেছে, যদিও সেগুলো এখানে লিখছি না। আমি চাই, প্রত্যেক পাঠক নিজেই সেটা খুঁজে বের করুন।
খারাপ লেগেছে : খারাপ লাগা সে অর্থে তেমন কিছু নেই, তবে একটা অভিযোগ আছে। গল্পটির অন্যতম প্রধান চরিত্রের অমন মর্মান্তিক পরিণতি মোটেই কাঙ্খিত ছিল না, ইভার কাছে তো নয়ই, এমনকি আমার মত নিতান্ত সাধারণ একজন পাঠিকার কাছেও না। সত্যি বলছি, "আয় আহ্ য়েউ ইআ..." লাইনটা পড়ে স্রেফ কেঁদে ফেলেছিলাম। তারপর থেকে লেখকের ওপর যথেষ্টই ক্ষিপ্ত হয়ে আছি। জানি উনি বলবেন, গল্পের খাতিরে এটার প্রয়োজন ছিল, কিংবা হয়তো বলতে পারেন, এই চরিত্রটির পরিবর্তে অন্য আরেকটি চরিত্রের আবির্ভাব হবে ইভার ভবিষ্যৎ জীবনে, অথবা তাঁর পক্ষে এটাও বলা যুক্তিসঙ্গত হবে যে প্রতিটি মানুষের জীবনেই তো এমন ভালো-মন্দ, সাদা-কালো, পজিটিভ-নেগেটিভ দিক থাকেই, সে হিসেবে বাস্তবসম্মত হবে বলেই তিনি ঘটনাটির অবতারণা করেছেন। তা সে যাই হোক না কেন, শেষ অব্দি সায়ন বাবুর দক্ষ কলম কেন যে এমন একটি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলল, সেটা ভেবেই আফসোস হচ্ছে...
যাই হোক, ভবিষ্যতে ইভার আরো কীর্তিকলাপ পড়ার জন্য আগ্রহী হয়ে রইলাম। আশা করি বেশিদিন অপেক্ষা করাবেন না...
বই : হিডেন আই (ইভা সেন সিরিজ) লেখক : সায়ন দাশ ( Sayan Das ) প্রকাশনী : মাথামোটার দপ্তর প্রচ্ছদ : চয়ন মণ্ডল বিনিময় মুল্য : 250/-
প্রথমেই বলব , প্রচলিত আমাদের এই বাংলার বই ঘরানাতে একজন নারী গোয়েন্দার অনুপস্থিতি আমি খুব বেশি করে অনুভব করতাম। মিতিন মাসি সেক্ষেত্রে কিছুটা অভাব পুরণ করলেও সে সব ছোটবেলার জন্য ঠিক আছে।
মনে মনে চাইতাম , টানটান একজন নারী গোয়েন্দা যার মগজাস্ত্র এবং শারীরিক সক্ষমতা অবাক করে দেবে আপামোর বাঙালি পাঠককুল কে ; চোখে ভেসে উঠত অ্যাঞ্জেলীনা।
ইভা সেন কে লেখক গড়েছেন একদম আধুনিক ভাবে। মার্শাল আর্ট আর অভিনব অস্ত্রে তাকে সুসজ্জিত করেছেন ; ব্যাখ্যা করেছেন সেই সব অস্ত্রের কার্যবিধি এবং টুকরো কথায় ছুঁয়ে দিয়েছেন হালকা ইতিহাস। যদিও ইভার প্রতিপক্ষও অতি ভয়ংকর এবং নির্মম , তবুও আমি বলব আঁচলে হলুদ মুছতে মুছতে কেস solve করা নারী গোয়েন্দা আমার চ���ই না ; আমার চাই ইভা কে।
লেখক যে ভাবে গল্প এগিয়েছেন মনে হচ্ছিল আমার সামনেই ঘোরাফেরা করছে গল্পের চরিত্ররা। কোথাও কোনো জায়গা নেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার , সব সময় মনে হচ্ছে এবার কি হবে, আর এবার কি হবে। বলতে বাধা নেই এ হলো এক নিশ্বাসে শেষ করার মতন বই।
কিন্তু আমি হলাম ভীতু পাঠিকা .. ভয়ে পরের পাতায় যেতে পারিনি গোটা একটা দিন এ রকমও হয়েছে। কারণ মনেমনে যা চাইতাম তার দশ গুণ দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন লেখক। আমার সাকুল্যে নয় দিন লেগেছে পড়তে। পড়তে পড়তে গুগল বাবার সাহায্য নিয়েছি কিছু জিনিস সম্পর্কে জানতে , তাতেও বেশ কিছু টা সময় গেছে। নিজের মনের সাথে রীতিমত স্নায়ু যুদ্ধ করে করে পড়া শেষ করেছি আমি।
লেখকের প্রতি একটাই ক্ষোভ আমার , যে স্থানে উনি সিরিজের প্রথম খণ্ড র্যাপ করলেন তাতে আমার কেবল মনে হচ্ছে দ্বিতীয় খণ্ড হাতে না পাওয়া অবধি শান্তি নেই।
অসাধারণ একটা সিরিজ। আমি এখনও ইভার গাড়ির পেছনের সিটেই বসে আছি। ভাবছি নামব না। আমি চাইব লেখক তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় সিরিজ নিয়ে আসুন।
বলার ভাষা নেই! ❤️ কিছু কিছু জায়গা চোখে জল আনার মত। অ্যাকশন এর কথা তো বাদই দিলাম, এর আগে এরকম ধুন্ধুমার দৃশ্য পড়িনি। অনেক অজানা তথ্যও জানতে পারলাম, ধন্যবাদ লেখক কে এরকম এক উপন্যাস আমাদের উপহার দেবার জন্য।
Ek kothay anoboddo tantan ekta thriller. Prothom uponyas hisabe khub e jhorjhore lekhoni er bhasa proyog. Khub vlo kono jaygai pathok ke boring hobar sujog nei. Ebar etar 2nd part er ashay achi. Kobe r moddhe HIDDEN EYE er 2nd part asbe janaben...
সিক্রেট এজেন্ট বা স্পাই থ্রিলারের ভক্ত আমরা কমবেশি সবাই। আর তা যদি বাংলা ভাষায় এক নারীচরিত্রকে কেন্দ্র করে হয়, তাহলে তা কৌতূহল উদ্রেক করে বইকি। টানটান মেদহীন লেখা এবং লেখকের প্রথম প্রয়াস হিসেবে যথেষ্ট প্রশংসনীয়। এখন শুধু অপেক্ষা কবে এই সিরিজের দ্বিতীয় বইটি হাতে পাবো।
অবেশেষে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শেষ করলাম ইভা সেন সিরিজের বই নম্বর ০.৫।
এক বাক্যে যদি উত্তর দিতে বলা হয় বইটা কেমন লাগলো বলবো ভালো, বেশ ভালো। তবে কিছু অভিযোগ আছে আমার। লেখক নিশ্চয়ই আমার ধৃষ্টতা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। বইতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রচুর ডিটেইলস আছে যেগুলো আমার মতো অস্ত্র বিষয়ক জ্ঞানহীন মানুষ ভালোমতো ধরতে পারেনি। বুঝতে পারিনি অস্ত্রটা ঠিক কেমন, জিনিসটা ঠিক কি এই আর কি। একটু অসুবিধা হয়েছে তাই পড়তে। বইটাতে সিনেমাটিক ব্যাপার ছিলো মাঝেমধ্যে এমনটা লেগেছে আমার। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে কাউকে এতটা নৃশংসভাবে না মারলেও হতো🥺। তবে অবশ্যই সেটা বইয়ের প্রয়োজনেই ছিলো🙃।
এবার আসি ভালো লাগায়। বইটায় ভরপুর আর মারাত্মক অ্যাকশন ছিলো। কিছু নৃশংসতা হৃদয় কাপিয়ে দিয়েছে। ইভা সেনকে এতটা স্ট্রং ক্যারেক্টার বানানো হয়েছে যেটা খুব ভালো লেগেছে। মেয়ে চরিত্রের এত মারমার কাটকাট অ্যাকশন সত্যিই খুব ভালো লাগার ছিলো। বইটাতে এত রিয়েলিস্টিক প্রবলেমগুলো ছিলো একদম চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো। ইভার কিশোর বয়সের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা থেকে ফিরে এসে ওকে যেভাবে তৈরি করা হয়েছে সেটা খুব ভালো ছিলো। এছাড়াও ইভাকে একদম সুপার ওম্যান বানানো হয়নি। ভালো লেগেছে ব্যাপারটা। কিশোর বয়সের ওর রেপিস্টকে পরে আবার চোখের সামনে দেখে যে অবস্থাটা তৈরি হয় সেটা খুব বাস্তবসম্মত ছিলো।
আর কি লিখবো বুঝছি না। লেখক তার প্রথম বই হিসেবে খুব ভালো লিখেছেন এইটুকু বলবো। কলকাতা থেকে বই আনানোটা আমার বিফলে যায়নি😁। ইভা সেন সিরিজের বই নম্বর ১ পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
This entire review has been hidden because of spoilers.
ইভার সাথে আমার পরিচয় গুগল ডকে। পড়তে পড়তে একটা অন্য জগতে চলে গেছিলাম। সত্যি বলতে সায়ন যখন জানালো যে ও গল্প লিখছে, আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এইরকম মারকাটারি লেখা যে ও লিখবে এটা একদমই অপ্রত্যাশিত ছিলো। আমি এতোদিন যা পড়ে এসেছি তার থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা সায়নের লেখা। এক নিশ্বাসে পড়ে সেদিন শেষ করেছিলাম ইভা সেন নামের উপন্যাসটা (তখনো হিডেন আই নাম দেয়নি সায়ন)। টান টান লেখনী, অসাধারণ সব টুইস্ট আর অ্যাডভেঞ্চারে পরিপূর্ণ হিডেন আই। বাংলা সাহিত্যে এরকম লেখা কমই আছে। ব্যক্তিগতভাবে জানি সায়ন প্রচুর রিসার্চ করেছে এই লেখার জন্যে, বিভিন্ন রকম আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কে, বিদেশি লড়াইয়ের খুঁটিনাটি সম্পর্কে এবং সেগুলো ওর লেখা পড়লেই পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।
সবশেষে বলি, ইভা হয়তো কাল্পনিক চরিত্র, এতো রকম দক্ষতা আমরা আমাদের কোন পরিচিত মানুষের মধ্যে দেখতে পাই না। কিন্তু আদতে ইভা আমাদের পাশের বাড়ির মেয়ে। যে বাস-ট্রেনে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করে, যাকে ন্যুড ছবি লিক করার ভয় দেখালে সাইবার সেলে যোগাযোগ করে, যে আর্মি জয়েন করে সাহসিকতার পুরস্কার পেয়ে আমাদেরই মুখ উজ্জ্বল করে। এটাই ইভার USP, এটাই সায়নের লেখার সবচেয়ে ইউনিক চরিত্র। সায়নকে অনেক শুভেচ্ছা জানাই, অনেক ভালোবাসা নিস ভাই, আরো ভালো লেখা তোর থেকে আশা করছি।
বাংলায় এ জাতীয় ফাস্ট পেসড অ্যাকশন থ্রিলার খুব কম পড়েছি। বিশেষত একজন মহিলা প্রট্যাগনিস্টকে নিয়ে। নির্মেদ টানটান গল্প। কোথাও একবারের জন্যও গতি কমেছে বলে মনে হয়নি।
শুধু শেষটা আরেকটু ডিটেলড হলে মনে হয় ভালো হত। তবে লেখক নিজেই বলেছেন যে এটা ০.৫। সিরিজের ১ম গল্পও পুরোপুরি নয়৷ সেক্ষেত্রে এটা উপেক্ষা করাই যায় পরবর্তী পর্বের আশায়।
দ্বিতীয় একটা পয়েন্ট - ম্যাটের ব্যাকগ্রাউন্ড আরেকটু ক্লিয়ার করলে মনে হয় ভালো হবে। সিআইএ অপারেটর হলেও কলকাতায় বসে সে এত অত্যাধুনিক অস্ত্র কীভাবে পায় এই জায়গাটা আমার মতে কিছুটা ব্যাখ্যা দাবি করে।
অসাধারণ একটা বই পড়লাম ।পুরো বইটা পড়ার সময় একটা টান টান উত্তেজনা, এক��ার বইটা পড়া শুরু করলে থামা যায় না ।অসম্ভব ব্যস্ত থাকার জন্য বইটা শেষ করতে সত্যিই একটু দেরি হল। তবে এর মধ্যে কিন্তু দুবার আমার পড়া হয়ে গেছে। সবাইকে একটাই কথা বলব এই বইটা একবার অন্তত পড়ে দেখুন না হলে কিন্তু কিছু একটা মিস করবেন।