Jump to ratings and reviews
Rate this book

গিলগামেশ

Rate this book
যা চলে গেছে তা কী আর কখনো ফিরে আসে?

ছোটবেলায় এক মনোবিকারগ্রস্ত লোকের পাল্লায় পড়েছিল মোবাইল দোকানি বাপ্পা। ওর চোখের সামনে মট করে পরপর তিনটা বিড়ালের ঘাড় ভেঙ্গে ফেলেছিল লোকটা। তারপর দক্ষ শল্যবিদের মতো একটা একটা করে ঘাড়ভাঙ্গা বিড়ালের চোখগুলো উপড়ে নেয় ও। সেখান থেকে দুটো চোখ আলাদা করে। তারপর নিজের চোখের ওপর রেখে বলতে থাকে, ‘বিড়াল চক্ষু’, ‘বিড়াল চক্ষু’, ‘বিড়াল চক্ষু’। বাসায় ফিরে উথালপাতাল জ্বরে কাতর হয়ে যায় বাপ্পা। পরদিন বিড়ালের দুইটা ড্যাবডেবে চোখ এসে হাজির হয় বাপ্পাদের দোরগোড়ায়। ওইদিনই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে বাপ্পার বড়ভাই বিকাশ। অনেক ডাক্তার-কবিরাজ করা হয়েছিল, কিন্তু লাভ হয়নি। বিকাশের চোখের দৃষ্টি ফেরেনি। এক হুজুর জানান, বিকাশ এমন একটা কিছু নেয়ার চেষ্টা করেছিল যা ওর না। এজন্যই ওর এই অবস্থা।

থানা শহর রণকেলীর ওপর দিয়ে বয়ে চলা নদীটির নাম কাপুত। কাপুত মানে হলো ফিনিশড। শেষ। কাপুতের আরেকটা অর্থ আছে। ল্যাটিন ভাষা মোতাবেক কাপুত মানে হলো মাথা। কথিত আছে কাপুতে নাকি একসময় নরবলী হতো। নদীর তলদেশে এখনো কঙ্কাল, মানুষের মাথার খুলি মিলে। মিলে জং ধরা গিলোটিন। কাপুত নদীর ওপর সেতু বানানো হচ্ছে। এই ডামাডোলের মাঝে পরপর ছয়জন বাচ্চার খণ্ডিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশগুলোর কপালের ঠিক নিচে, দুই চোখ যেখানে ছিল সেখানে দুইটা গোল চাকতির মতো গর্ত। ছয়টা লাশেরই পাঁজর ভাঙ্গা, হৃৎপিন্ড উপড়ানো!

চোখের বদলে নিকষ কালো আঁধার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে...

গর্জনে পরিণত হয় ফিসফাস, কাপুতের প্রাচীন দেবতারা নাকি ক্ষুদ্ধ। হাজারো নিষ্পাপ শিশুর রক্তেই কেবল মুক্তি মিলবে, নচেৎ নয়। আসলেই কি তাই?

ফিরোজ আহমেদ পুলিশ সুপার। তুখোড় গোয়েন্দা হিসেবে যেমন নাম কামিয়েছেন, শত শত জটিল কেস সমাধা করেছেন ঠিক তেমনি তার একটা আক্ষেপও আছে। আক্ষেপের নাম, হর্স কিলার। মহীনের ঘোড়াগুলি থেকে গান আওড়ে খুনীটি শিকারে নামতো। সেইজন্যই পত্রিকাওয়ালারা অদ্ভুত এই লেবেল সেঁটে দিয়েছে। কিন্তু সে তো বহুদিন ধরেই নিশ্চুপ। তবে কী বেশ পাল্টে পুনরায় ফিরে এসেছে খুনী? আবারো কী ভয়ংকর নৃশংসতায় মাতবে বিশ্বচরাচর?

নাম তার বিঘতখানেক লম্বা। সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল। দাদা আদর করে ডাকতেন গিলগামেশ, উরুক-রাজ গিলগামেশ, আক্কাদীয় ভাষার সেই পৌরাণিক চরিত্র। যার দুই-তৃতীয়াংশ দেবতা আর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। কিন্তু আমাদের গিলগামেশ কোন রাজা নয়, দেবতাও নয়। সে একজন মানুষ, সাধারণ মানুষ। পেশায় ডিবির সিনিয়র গোয়েন্দা। দাদা মারা যাওয়ার আগে তার জন্য একটা ডায়েরি রেখে গিয়েছিলেন। ডায়েরিতে অনেক কথার ফাঁকে গিলগামেশের জন্য তিনি একটা সতর্কবার্তা লিখে গেছেন - মনে রেখো গিলগামেশ, শিকারও একসময় শিকারীতে পরিণত হয়, আর শিকারী শিকারে।

রণকেলীতে কে শিকারীতে পরিণত হবে? আর কেইবা হবে শিকার? ডিবির গোয়েন্দা সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল কি পারবে শিকারীকে থামাতে? নাকি নির্ভুল লক্ষ্যভেদে শিকারী তীরবিদ্ধ করবে তার শিকারকে?

গিলগামেশ মহাকাব্য বিশ্বের প্রাচীনতম উপাখ্যান। যে অমরত্বের সন্ধানে মানুষের নিরন্তর ছুটে চলা, তা কি কখনো পায় সে? নাকি মরণশীলতাই তার একমাত্র নিয়তি?

394 pages, Hardcover

First published February 28, 2020

20 people are currently reading
543 people want to read

About the author

জাহিদ হোসেন

20 books478 followers
জাহিদ হোসেনের জন্ম সিলেটে, বেড়ে উঠা ঢাকায়। পড়াশোনা করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পেশায় ব্যাংকার হলেও বইপড়ার প্রতি অসম্ভব ঝোঁক থেকেই লেখালেখিতে আগ্রহ। শুরু অনুবাদ দিয়ে। পরপর দু’টি অনুবাদ প্রকাশিত হয় তার - অ্যাম্বার রুম ও ম্যাক্সিমাম রাইডঃ দ্য অ্যাঞ্জেল এক্সপেরিমেন্ট। তারপর তিনি প্রবেশ করেন মৌলিক লেখালেখির জগতে। মৌলিক থ্রিলার হিসেবে তার প্রথম প্রয়াস ঈশ্বরের মুখোশ যা ২০১৫ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর একে একে বের হয় ফিনিক্স, কাদ্যুসেয়াস, একজোড়া চোখ খোঁজে আরেকজোড়া চোখকে, দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব, গিলগামেশ, নৈর্ঋত, পরশুরামের কঠোর কুঠার, ইথাকা ও স্বর্গরাজ্য। লেখালেখিতে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য তিনি আলাদা পরিচিতি লাভ করেছেন।

তার প্রকাশিত বই ওপার বাংলাতেও ব্যাপক সমাদৃত ও প্রশংসিত। কলকাতার অভিযান পাবলিশার্স ও বুকিকার্ট থেকে ইতিমধ্যে তার কয়েকটি বইয়ের ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
114 (31%)
4 stars
146 (40%)
3 stars
68 (18%)
2 stars
24 (6%)
1 star
7 (1%)
Displaying 1 - 30 of 96 reviews
Profile Image for Rizwan Khalil.
377 reviews600 followers
March 15, 2020
চারশো ছেষট্টি পৃষ্ঠার সুবিশাল এপিক থ্রিলার উপন্যাসটি শেষ করে অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে নির্বাক বসে ছিলাম। মাথার ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।

কী পড়লাম এটা? কী পড়লাম?! কী পড়লাম??!!
যা চলে যায় তা কী আর কখনো ফিরে আসে?
পাঠপ্রতিক্রিয়ায় বিস্তারিত বিশ্লেষণ করার মতো, লেখার মতো মাথায় কিছু আসছে না। আসলে অ্যা-তো কিছু বলতে গেলে যে কোথা থেকে শুরু করা উচিত সেটাই চিন্তা করে ঠাহর করা যায় না। অহেতুক কিছু বলা বাদ দিই, আর আক্ষরিক মহাকাব্যিক মহাজটিল কাহিনীটা নিয়েও বলা বাতুলতা। শুধু এটুকু বলতে পারি, আমার মনে পড়ে না বাংলা ভাষায় আমি শেষ কবে এরকম প্রায় পাঁচশো পৃষ্ঠা ধরে সুনিপূণ ঠাসবুনোটের গাঁথুনিতে আগাগোড়া টানটান উত্তেজনার মাথায় প্যাচের পর প্যাচ লাগিয়ে দেয়া চিত্তাকর্ষক সূচনা থেকে চমকপ্রদ সমাপ্তি পর্যন্ত অনন্যসাধারণ একটি এপিক রোমাঞ্চোপন্যাস পড়েছি। মনে পড়ছে না।

লেখকের পূর্ববর্তি প্রকাশিত উপন্যাসটিতে কিঞ্চিত অবিন্যস্ততা-অগোছালো-তাড়াহুড়োর ছাপ থাকায় মনে মনে একপ্রকার উৎকণ্ঠা ছিল এবারের এই কৌতূহলোদ্দীপক বিশালাকায় বইটিতেও সে সমস্যাটা থাকে কি না। শুরু করতে কয়েক অধ্যায় পড়ার পরেই ভয়টা অমূলক প্রমাণিত হলো। সাজানো-গোছানো সুচিন্তিত প্রাঞ্জল লেখা, মাখনের মতো মসৃণ স্টোরিটেলিং-এ নির্ঝরতায় আপনাতেই এগিয়ে যাচ্ছে গল্প। তৃপ্তিকর আরামদায়ক সুখপাঠ্য। আর ঠিক সেই সুখপাঠ্যতার মাঝেই মসৃণ সর্পিল গতিশীলতায় ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে পাঠককে প্রতিটি অধ্যায়ে একের পর এক হাবুডুবু খাইয়ে একাধিকবার চোয়াল ঝুলিয়ে স্তম্ভিত করে দিয়ে অবশেষে গল্পকে লেখক অবধারিত সমাপ্তিতে পৌছে দিয়েছেন। শেষের দিকে মনে হয়েছে বইটি যদি আরো শ'খানেক পৃষ্ঠা বেশি হতো! তবে গল্প কেবল না টেনে যথাযথ পর্যায়ে দাঁড়ি টানতে পারাও একজন সুলেখকের পরিচায়ক। লেখক সেটা খুব ভাল ভাবেই পেরেছেন, আমার মতে।

কী ধরনের গল্প এটা? কখনো সমকালীন, কখনো অতিপ্রাকৃতিক, কখনো পৌরাণিক, কখনো রূপকধর্মী, কখনো ফ্যান্টাসি, আবার কখনো ভয়ানক ধূর্ত রহস্যময় এক সিরিয়াল কিলারের পিছু ধাওয়া করা হৃদকম্প-রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়া রেসিংকার গতির নিখাঁদ রোমহর্ষক থ্রিলার। আদতে সবকিছুই। সকল ধারা মিলিয়ে একাধিক সমান্তরাল সময়কালের, একাধিক আপাতঃবিচ্ছিন্ন দৃষ্টিকোণের, একাধিক দুর্বোধ্য ঘটনাক্রমের ধীরে ধীরে সুদক্ষতার সাথে মিশে যাওয়া এক পরিপূর্ণ সুবিস্তৃত রোমাঞ্চোপন্যাস। কে এখানে নায়ক, কে খলনায়ক? প্রাথমিক একটা ধারণা গড়ে ওঠলেও গল্পের অগ্রগতির পাশাপাশি একসময় এসব মোটা দাগের বিভাজনও মুছে যেতে থাকে। অসংখ্য ছেঁড়া ছেঁড়া ঘটনা, গল্পের ভেতরে উপগল্প, কিন্তু শেষাবধি সবই এক সূত্রে বাঁধা। যেকোনো মহাকাব্যের মতোই বারে বারে রূপ বদলিয়ে ধরন বদলিয়ে তার অন্তিম পরিণতিতে পৌছানো। 'পাঠপ্রতিক্রিয়া'র নামে এইসব কী হাবিজাবি লিখলাম কে জানে।

তিন-চার দিন ধরে ভেঙ্গে ভেঙ্গে উপন্যাসটি পড়েছি। কিন্তু জাগ্রত সময়ের প্রায় প্রতিটি মূহূর্তেই উপন্যাসের ঘটনাবিন্যাস, চরিত্রগুলি যেন মাথায় ঢুকে ছিল। এখন পড়া শেষে চারপাশ থেকে এক বিষন্ন আবেশ জড়িয়ে আছে। খুব, খুব অসাধারণ, মনোমুগ্ধকর কোনো দীর্ঘ লেখা কয়েকদিন ধরে টানা পড়ার পর হঠাৎ শেষ হয়ে গেলে যেমন একধরনের মন খারাপ করা অনুভূতির সৃষ্টি হয় তেমনি এক শূন্যতা অনুভব করছি। আর কিছু পড়তে ইচ্ছা করছে না এখন।
মানুষ তো মারা যায়, কিন্তু গল্প কী কখনো মরে?
লেখক জাহিদ হোসেনকে আমার অন্তহীন মুগ্ধতার মাথা নত করা অভিবাদন। বাংলাভাষায় বর্তমানে আর কেউ এমন একটি অবিশ্বাস্য গভীরতার পৌরাণিকতার রূপকে মোড়ানো শ্বাসরুদ্ধকর সুদীর্ঘ রোমাঞ্চোপন্যাস এমন স্বস্তিদায়ক সহজ সুলেখনিতে বর্ণিত করতে পারেন কি না আমার জানা নেই। আমি আর পড়িনি।
ব্রাভো ম্যান! ব্রাভো!

আমার রেটিং:
১০/১০, ৫/৫, A+

বিঃদ্রঃ বইতে মুদ্রণ প্রমাদ অল্প কয়েকটাই ছিল, সেগুলো অগ্রাহ্য করার মতো। তবে বারবার 'রূপ'-কে 'রুপ' লেখায় খুব বিরক্ত লেগেছে। ওয়াসিফ নূরের প্রথম পৃষ্ঠার ফুলপেজ বিস্তারিত অলঙ্করণটি অপূর্ব দৃষ্টিনন্দন, তাকিয়েই থাকতে হয়। পিওর আর্টওয়ার্ক হিসেবে মাস্টারপীস। সজল চৌধুরীর করা ফ্রন্টকভার ও ব্যাককভার দারুণ সুন্দর, যেমন গল্প তার তেমনি উপযুক্ত উপস্থাপন।
Profile Image for সালমান হক.
Author 67 books1,987 followers
March 13, 2020
বইটা পড়ার আগেও বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে এপিক কিছু পড়তে যাচ্ছি। বইটা শেষ করার পরেও সেই সন্দেহ প্রকাশ করার কোন অবকাশ রাখেন নাই জাহিদ ভাই।
দিস ইজ অ্যানাদার লেভেল। পরে হয়তো বিস্তারিত কিছু বলবো।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books404 followers
March 7, 2020
যা চলে গেছে তা কী আর কখনো ফিরে আসে?

শেষ করলাম এপিক বই গিলগামেশ। কি অসাধারণ একটা বই! আজ রাতে কোনো কাহিনী সংক্ষেপ নেই! সরাসরি কাহিনী বিশ্লেষণে চলে যাবো। দুর্দান্ত একটা বই গিলগামেশ। চারশো পৃষ্টার একটা অ্যাটম বোমা বলা চলে। সত্যিই মহাকাব্যিক বা এপিক একটা উপন্যাস গিলগামেশ। কি নেই বইটাতে? শুরু হয় এক বড়লোক বাপের উচ্ছনে যাওয়া ছেলে শাহ ফতে গিলকে দিয়ে। আস্তে আস্তে গল্প গড়ে ওঠে। মধ্যখানে চরিত্রগুলো হাওয়া। একেবারে নতুন চরিত্র আমদানী হয়। কিন্তু শেষে গিয়ে কি ধাক্কাটা না খেতে হয়। শুরু থেকে শেষ,প্রথম ওয়ার্ড থেকে লাস্ট, সবকিছু একে অপরের সাথে জড়িত। উপন্যাসটা কোন জনরার? গিলগামেশ আসলে হরেক রকমের জনরার মিশ্রণ। প্রথমে স্বভাবসুলভ রসিকতা, এরপর ধীরেসুস্থে হরর, তারপর মিথলজিক্যাল ফ্যান্টাসি, তারপর পাক্কা ক্রাইম থ্রিলার অবশেষে আরবান ফ্যান্টাসি। আর একটা দারুণ কবিতা তো রয়েছেই। এতকিছুর কম্বিনেশন এই এক উপন্যাসে। লেখক মিথলজিক্যাল ফ্যান্টাসির দারুণ প্রয়োগ ঘটিয়েছেন এমনকি ক্রাইম থ্রিলার হিসেবেও দুর্দান্ত। মনে হবে পরিপূর্ণ কোনো রহস্য উপন্যাস। খুনীর পিছে ধাওয়া করে পুলিশ। কিন্তু খুনী! সে ধাওয়া করে অলৌকিক কিছুর পেছনে। রূপ বদলে যায়, কাহিনী বদলে যায়, পাঠককে উঠতে বসতে ধাক্কা খেতে হয় কিন্তু কাহিনীর গতিশীলতা বদলায় নাহ। দারুণ ফাস্ট পেসড। দুদিনে শেষ করেছি। শেষে একের পর এক টুইস্ট। দুই একটা টুইস্ট অবশ্য আগেই ধারণা করেছি। লেখক মাঝখানে ক্লু দিয়েছিলেন উপহার হিসেবে। উপন্যাসের ফাঁকে ফাঁকে কয়েকটা গল্প রয়েছে। অতিপ্রাকৃত ও ফ্যান্টাসি জনরার। গল্পগুলো দারুণ লেগেছে। এই উপন্যাসে কে নায়ক আর কে ভিলেন শেষের আগে ধারণা করা সম্ভব না। বেশি ভালো লেগেছে এসপি ফিরোজ আহমেদ আর শাহ ফতেহ গিলের চরিত্র দুটো। আরেকটা ব্যাপার গিলগামেশেও অনেক ডার্ক কমেডি ও হিউমার রয়েছে। যা প্রত্যেকটা মুহূর্তে পাঠককে বিনোদনের খোরাক যোগাবে। আর কথা বাড়াচ্ছি না। পাঠকরা এখনই পড়তে শুরু করুন এই মহাকাব্যিক উপন্যাসটা। নাহলে চরম মিস।

গিলগামেশ
জাহিদ হোসেন
বাতিঘর প্রকাশনী
পৃষ্টা: ৪৬৩
প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী
অলঙ্করণ: ওয়াসিফ নূর
Profile Image for Rakib Hasan.
464 reviews80 followers
January 22, 2022
একটানা পড়ে গেলাম। প্রায় সাড়ে চারশো পৃষ্ঠার বইটি এত ভ��লো লাগবে অথবা এত বেশি পেজ টার্নার আশা করিনি। যখনই যতটুকু পড়েছি মোবাইল, নেট রেখে একটানা পড়ে গেলাম। বিস্তারিত রিভিউ পরিচিত বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ভাইয়া আপুরা দিয়েছেন এজন্য কিছু লিখলাম না কিন্তু এক কথায় বইটা ভালো লেগেছে।
Profile Image for Shariful Hasan.
Author 42 books1,009 followers
March 27, 2020
জাহিদ হোসেনের সেরা কাজ। প্রথম দিকে ধীর গতিতে এগুলেও পড়তে ভালো লাগছিল এবং সব ভালো যার শেষ ভালো। আপনার কাছে এই ধরনের কাজ আরো আশা করি।
Profile Image for DEHAN.
278 reviews80 followers
May 24, 2020
বর্তমানে থ্রিলার উপন্যাস যারা লেখেন তাদের মধ্যে আমি একটা জিনিস লক্ষ করলাম তা হলো উপন্যাস টারে প্রাইমারী ইস্কুলের পরীক্ষার পর্যায়গুলার মতো বানায় ফেলানো । ধরেন প্রথমে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা তারপর দ্বিতীয় সাময়িক এবং তারপর বার্ষিক পরীক্ষা । সবার শেষের পর্যায় হলো সব পরীক্ষার মিলিত ফলাফল প্রকাশ ।
গিলগামেশের কথায় আসি …হ্যাঁ ঐ যে সেই রাজা যিনি অর্ধেক ঈশ্বর অর্ধেক মানুষ ছিলেন পরবর্তীতে বন্ধুর প্রয়াণে তীব্র শোক খাইয়া অমরত্বের সন্ধানে বের হন তারপর দারুণ নাকানিচুবানি খেয়ে ফেরত আসেন । এই বই ওটার আরেকটু এক্সটেন্ডেড এবং চৌদ্দ ইঞ্চি কালার টেলিভিশন ভার্শন ।
লেখক জাহিদ হোসেনের লেখার সাথে আমি পরিচিত । ভদ্রলোকের ''দুধ চা খেয়ে গুলি করে দেব'' পড়ার পর আমি দারুণ হতাশ হয়ে টানা সাড়ে চার হপ্তা রঙ চায়ের উপরে ছিলাম ,দুধ চায়ের ধারে কাছেও যাই নি ।
কাদ্যুসেয়াস অবশ্য একোটু ভালো লাগছিলো । তবে ঐখানে যে ঝামেলায় পড়ছিলাম এই গিলগামেশেও সেই ঝামেলায় পড়েছি ।
লালন সাহেব হয়তো এরকম উপন্যাস পড়েই লিখেছিলেন এসব দেখি কানার হাট বাজার …এই প্রেক্ষাপটে শুধু কানার স্থলে চরিত্র শব্দটা বসবে ।
‘’এসব দেখি চরিত্রের হাটবাজার ‘’
লেখক মনের আনন্দে একটার পর একটা চরিত্র সৃষ্টি করেছেন ।
চরিত্র , উপচরিত্র , শাখা চরিত্র , প্রশাখা চরিত্র… যেন বিশাল পাতিলের মধ্যে তেল, নুন , হলুদের গুড়া , মরীচের গুড়া , পেঁয়াজ ,রসুন, আদা বাটা ইত্যাদির সাথে চরিত্রগুলা ফেলে সমস্ত শক্তি দিয়ে ঘুটে দিয়েছেন ।
উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে - বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান সড়কের শুরুতেই ইদ্রিস মিয়ার ঔষধের দোকানের পাশে অবস্থিত শরিফের চায়ের দোকানে গিয়া হাজী বদরুজ্জামান সাহেবের বাসার দ্বিতীয় তলার ভাড়াটে হাফিজুর রহমানের ছোট ছেলে আরিফ একটা বেঞ্চে বসে তার পাশে বসা ভদ্রলোক কে ডেকে বললো ‘’আমার বন্ধু মন্টু আমার ঘড়িটা একটা চাকুরীর ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য ধার করেছে ,যদি এখন কয়টা বাজে বলতেন তাহলে চট্টগ্রাম থেকে আমার চাচা আজিজুল হক যেই ট্রেনে আসছেন সেই ট্রেন স্টেশনে এসে পৌঁছেছে কিনা বুঝতে পারতাম ‘’
একটু বাড়িয়ে বলে ফেললাম। কিন্তু ঘটনা প্রায় সেরকম ই ।
বলছিলাম কি নিরীহ পাঠকদের এভাবে বিব্রত না করলেই নয়(এখন আপনি যদি শীর্ষেন্দু ভক্ত হন তাহলে আপনার পড়তে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা না কিন্তু যদি না হন তাহলে একটু বিপদের কথা তো বটেই)
রুল টানা খাতা আর বলপেন নিয়ে বসতে হয় - কোন চরিত্র কি করে, তার উপন্যাসের সাথে সম্পর্ক কি সেগুলা লিখে রাখার জন্য ;যাতে ‘’আরে এইটা আবার কই থেইকা আসলো ‘’ বলে পৃষ্ঠা উল্টায়া আবার পাগলের মতো পেছনে যেয়ে খুঁজাখুঁজি করতে না হয় । উপন্যাস টার প্লট খুব ই মানসম্মত স্বীকার করছি । যথেষ্ট গোছালো (!) কিন্তু মাঝেমধ্যে আসলেই হিমশিম খাওয়া লাগছে ।
চরিত্র বানাবেন না কেন ! গল্পের খাতিরে অবশ্যই বানাবেন কিন্তু একটু রয়েসয়ে বানালে ভালো হয় আরকি !
আর আরো একটা ব্যাপার হলো গল্পের নায়কের নাম নিয়ে । প্রথম যে পার্ট টা আছে সেখানে গল্পের নায়কের নাম অমিত ব্যবহার করা হলেও পরের পার্টে সেইটা হয়ে গেছে গিল । যদিও নায়কের ভালো নাম সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল, কিন্তু তাও প্রথমে অমিত হিসেবে দেখতে দেখতে অভ্যস্থ হয়ে যাওয়ায় পরে গিল পড়তে পড়তে একটু আনইজি ফিল হচ্ছিলো ।
লেখক নায়কের বউ শায়লারে নিয়ে প্রথম পার্টে যে হৈচৈ করেছেন দ্বিতীয় পার্টে ঠিক তার উল্টো মানে শায়লার অবস্থা কি সেটা বারবার এড়িয়ে গিয়ে পাঠকের কৌতূহল টা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন ঐটা ভালো লেগেছে ।
আপাতত জনাব জাহিদ হোসেন গুডরিডসে তেমন সক্রিয় নন এই আশা করে গিলগামেশের কচকচানি শেষ করছি ।
Profile Image for Nazrul Islam.
Author 8 books227 followers
March 10, 2020
প্রথম দিন- প্রথম বাস- দ্বিতীয় বাস- অফিস-বাসা
দ্বিতীয় দিন-প্রথম বাস- দ্বিতীয় বাস- অফিস- বাসা

ঠিক এভাবেই দুইদিনে শেষ করলাম "গিলগামেশ"। বাসে বসে পড়লাম, অফিসে বসে পড়লাম, বাসায় এসে পড়ে শেষ করলাম বইটা।
এই মুহূর্তে আমি টাইপ করে চলেছি, আর সাথে চলছে মহীনের ঘোড়াগুলি'র "কাঁপে কাঁপে আমার হিয়া কাঁপে" ।
আসলে এই বইটা নিয়ে এখন কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছে না, যেই আবেশ নিয়ে বইটা শেষ করলাম লিখলেই মনে হবে সব ঝেড়ে দিচ্ছি আর সেই আবেশও লেখার সাথে চলে যাবে। কিন্তু জানি এখন না লিখলে আর কখনোই লিখতে পারবো না এই বইটা নিয়ে।

"তোমার গল্প ছড়িয়ে পড়ে
পার হয় সাত সমুদ্র তের নদী
মানুষ তো মারা যায়,কিন্তু গল্প কি কখনো মরে?"


এই বইটার আগ পর্যন্ত জাহিদ ভাইয়ের সেরা কাজ কোনটা জিজ্ঞেস করলেই অনেকেই যে বইটার নাম বলবে না সেটা হলো "কাদ্যুসেয়াস" । কিন্তু কাদ্যুসেয়াস বইটা আমার খুবই পছন্দের। "ভালোবাসা বিমার, আবার ভালোবাসাই হল দাওযাই" কথাটা এখনো কানে বাজে। আজকে থেকে মনে হচ্ছে মনের মধ্যে উঁকি দিবে,
"হ্যায়, আর ইউ স্লিপিং?"
"কাদ্যুসেয়াস" পড়ে যেরকম শূন্য অনুভূতি নিয়ে বসে ছিলাম,এখন সেরকম শূন্য অনুভূতি নিয়ে বসে আছি।


বইয়ের সে সাইজ তাই কাহিনী সংক্ষেপ লেখার বৃথা চেষ্টা আর করলাম না, আর সেটা সম্ভবও। এত চরিত্র,এত কাহিনী বর্ননা করা মেলা ঝামেলা, বরং আমি বলি বইতে কি পাবেন-
আপনি যদি মিউজিক, মুভি কিংবা কবিতা পছন্দ করেন তাহলে, এই বইটা আপনার ভালো লাগবে।
কাহিনী ফাঁকে ফাঁকে আছে অজস্র মুভি, গান কিংবা কবিতার রেফারেন্স। কাহিনী'র কথা যদি নাও ধরি শুধু লেখনিই আপনাকে পাতার পর পাতা উল্টিয়ে নিয়ে যাবে, আপনার কিছুই করতে হবে না। শুধু ঘোড়ার লাগামের মতন বইটা হাতে ধরে রাখবেন, বাকি সবকিছু আপনা গতিতে চলবে।

অনেক কিছুই বলার ছিল। অনেক কিছুই এক্সপ্লেনেশন করার ছিল কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না। এসব করার জন্য বিশেষজ্ঞরা আছেন। আমি পড়েই আরাম নেই।
অ্যাডিওস। হ্যাপি রিডিং।
সবাইকে দেবী 'থ' এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।
Profile Image for Farhan.
727 reviews12 followers
October 18, 2022
২ না ৩ দিবো ভাবতে ভাবতে ৩-ই দিলাম, জেনারাস সাইডে থেকে। এরপর আবার ২ দিলাম। নাজিমউদ্দীন সাহেবের নিজের যে সমস্যা, তার প্রকাশনীর লেখকদেরও মনে হয় একই সমস্যা --চমৎকারভাবে গল্প শুরু হয়, এরপর মাঝপথে এসে অহেতুক বর্ণনা আর পন্ডারিং করে ইলাস্টিকের মত লম্বা হতে থাকে, যেন লেখক খুঁজে পাচ্ছেন না কি করা যায়, শেষে এসে ব্যাপক একটা গোঁজামিল দিয়ে লেখা খতম, আর পাঠক ভাবতে থাকে, এইটা কি একই কাহিনী ছিল?
এই গল্পটা শুধু ভাল না, বেশ ভাল ছিল। স্টোরিলাইন অন্তত ২০০ পৃ���্ঠা পর্যন্ত টান টান ছিল। কিন্তু লেখক পুরো গল্প জুড়েই আরবান ফ্যান্টাসি নাকি মিস্ট্রি লিখবেন সেটা নিয়ে পাঠককে ঝুলিয়েছেন। একদম শেষে এসে ভাবলেন, নাহ, অতিলৌকিক কিছুই লেখার কথা ছিল, তাছাড়া স্রেফ একশনে সমাধানটাও জমছে না, কাজেই দুম করে অলৌকিকের আবির্ভাব, এবং পুরো গপ্পোটা মাঠে মারা। এটুকু না করলে, আর একজন ভাল সম্পাদক থাকলে, লেখাটা ৪ পেত।
Profile Image for Amit Das.
179 reviews118 followers
August 23, 2020
দুর্দান্ত!
৪৬৬ পৃষ্ঠার সুবিশাল এই বইটি পড়তে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে এপিক কিছুই পড়ছি। গত দুটো দিন যেন আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল এই বই। এতসব চরিত্র, এত বর্ণনা, প্লটের ভেতর সাবপ্লট, সাথে নিজের ক্ষুরধার লেখনী ও হিউমার দিয়ে জাহিদ হোসেন যে মহাকাব্যের পসরা সাজিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
ব্রাভো!
Profile Image for Shuk Pakhi.
517 reviews321 followers
May 11, 2021
দাদাজান নাম রেখেছিলেন গিলগামেশ। মেয়ে পটানো সুদর্শন ছেলে হিসেবে বেড়ে উঠে সে। তবে এবার সে নিজেই পটে যায় এরপর শুরু হয় খেলা....

মৃত বিড়াল কেন গিলের মায়ের পায়ে পায়ে ঘুরে? ম্যাজিশিয়ান কালাহান কেন সর্বক্ষণ মুখোশ পরে থাকে? যা যায় তা কি সত্যি ফিরিয়ে আনা যায়? দেবী থ কি জাগবে? তিনটি শর্ত পূরণ করতে পারবে কি কেউ? এইসব আদি ধর্মের মানে কি? গিলের মেয়ে কোথায়? কোথায়ই বা তার স্ত্রী? তিশার ছোটবেলায় কি ঘটেছিল? কেন শুধু তার সাথেই?
বহুরূপী মানে কি একজনে বহুজন নাকি বহুজনে একজন? মার্বেল চোখের রহস্য কি?

দুইটানে পড়ে শেষ করলাম বইখানা। অফিস থেকে ফিরে পরশু রাতে পড়েছি আর কালকে অফিস থেকে ফিরে রাত দুটোয় বই শেষ করে ঘুমাতে গেছি।
অসামমমমমম বই।

এখনকার কিছু বইতে একটা স্টাইল খেয়াল করতেছি... ইচ্ছাকৃতভাবে প্রসঙ্গক্রম সৃষ্টি করে সমসাময়িক অন্য বইয়ের নাম বা লেখকদের নামগুলা বইতে নিয়ে আসা হয়। এই বইতেও সেটা করা হয়েছে ভরপুর।
যেহেতু অন্য বইগুলো পড়ি তাই পরিচিত বই বা লেখকদের নাম দেখে মজাই লাগে। তবে মাঝেমাঝে ত্যক্তও লাগে। মনে হয় যেন এইগুলা তাদের ইনার জোকস হিসেবে বইতে নিয়ে আসা হচ্ছে যা কি না পড়ুয়া হিসেবে আমি বুঝতে পারতেছি না।

'কাঁপে কাঁপে
আমার হিয়া কাঁপে'
মহীনের ঘোড়াগুলির এই গান কি করে এই বইতে?
বইটা পড়লেই বুঝবেন। 😁
Profile Image for Ajwad Bari.
76 reviews32 followers
January 13, 2021
৪৬৬ পৃষ্ঠার বই তিন দিনে শেষ করে এখন ঘোরের মধ্যে আছি।

মাস্টারপিস!
Profile Image for Zerin Oyishi (Free Palestine).
32 reviews252 followers
August 2, 2020
'গিলগামেশ' বইটি মূলত দু'ভাগে বিভক্ত। উথান এবং পতন।প্রথম অংশ বেশ প্রশংসনীয়।দ্বিতীয় অংশ পড়া শুরু করার পর, ম্যাট্রোশকা পুতুলের মতো একের পর এক ঘটনা এবং অনেক ঘটনার মাঝে দু'একটা ঐতিহাসিক কিংবা পৌরাণিক গল্পের কল্যাণে এক পর্যায়ে মনে হলো দুটো অংশ কি একই গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
রূপকথার এলিস যেমন ওয়ান্ডারল্যান্ডে হারিয়ে গিয়েছিল,পৃষ্ঠা সংখ্যা যতই বাড়ছিল এক পর্যায়ে আমি যেন এলিসের মতো হারিয়ে যাচ্ছিলাম। তবে সেটা ওয়ান্ডারল্যান্ডে নয়, কনফিউশনল্যান্ডে ।


বইটার শেষ অব্দি কোন সমাধান মিলবে নাকি এমনি খাপছাড়া থেকে যাবে, এ নিয়ে রীতিমতো দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছিলাম। অতঃপর গল্পের শেষ অংশে লেখক যেন অপ্রকৃতস্থ ঘটনার বদৌলতে বেশ তাড়াহুড়া করেই সব প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে গল্পের ইতি টানলেন।

বি.দ্র. বইয়ের নামকরণ এর সার্থকতার স্বার্থেই যদি গিল তথা অমিত বেশ কিছু ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করা সত্ত্বেও, স্রেফ মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে একজন খ্যাতিমান মানুষে রূপান্তরিত করা হয়। তবে সেটাকে নেহাত ছেলেমানুষী বলেই বিবেচনা করতে হবে।
Profile Image for Naimul Arif.
108 reviews5 followers
September 17, 2022
গল্পের বিল্ডআপ বেশ ভালো। তারপর একগাদা প্যাচ এবং প্লটহোলে তালগোল পাকানো সমাপ্তি।
একটা টুইস্ট যদি দিতেই হয় তাহলে পিছনে কোথাও না কোথাও সেই টুইস্টকে জাস্টিফাই করার মতো উপাদান রেখে আসতে হয়। পাঠক প্রথমে টুইস্টে হতবাক হবে, তারপর দেখবে 'আসলেই তো পিছনে হিন্ট দেয়া ছিলো; কিন্তু লেখক এমনভাবেই দিয়েছেন যে আমরা পড়েছি কিন্তু খেয়াল করতে পারিনি'। এখানে টুইস্ট দুর্বল, পিছনে কোন জাস্টিফিকেশান রেখে আসেন নি, বরং চাইলে প্রশ্ন করে টুইস্টগুলোকে যুক্তিতে আটকে ফেলা যায়। আর লেখক কাহিনীকে এগিয়ে নিতে শক্ত গল্প তৈরির চেষ্টা না করে যৌনতার পর যৌনতা নির্ভর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করেছেন। যৌনতা আসবে কাহিনীর প্রয়োজনে, কাহিনীর দুর্বলতা ঢাকার জন্য নয়।
মোটের উপর হতাশ হয়েছি। টাকা মার গেলো এই বই কিনে।
Profile Image for Hasibul Ahsan.
32 reviews2 followers
March 13, 2020
যদিও লেখকের পূর্ববর্তী কোনো বই পড়া হয়নি, তবুও এই লেখকের কোনো বই কেনার ইচ্ছা ছিলো না। কারণ টা সম্ভবত তার আগের কোনো একটি বইয়ের রিভিউ!
বইমেলায় বাতিঘরের সব থ্রিলার কেনার পর, বাদ থাকে এটা। তো গুডরিডসে বেশ ভালো কিছু রিভিউ দেখে কি মনে করে নিয়েই ফেললাম! এবং হ্যা, হতাশ হইনি!
খুব বেশি বড় বইগুলো তে ম্যাক্সিমাম সময় ই একটা সময় বোর লাগে, হয়তোবা তা কাহিনীর জন্যে অথবা অযথাই লেখা বাড়ানোয়। এই বইয়ের একটি পাতাও স্কিপ করার মত না এবং রিডার এর ফুল মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম। লেখকের লেখনী খুবই সাবলীল এবং বর্ণনাতে অনেক সময় এমন লেগেছে যে, সামনে বসে কারো মুখ থেকে শুনছি। এতগুলো ক্যারেক্টার প্যারালালি কন্টিনিউ করে শেষে এসে একটি প্রোপার ফিনিশিং এ দক্ষতা লাগে, যা স্পষ্টতই লেখকের আছে। বেশ ক্লাইম্যাক্স এন্ড টুইস্টে ঠাসা শেষের দিকে। সব মিলিয়ে বেশ বেশ ভালো একটা বই।
লেখকের লেখা বেশ পছন্দ হলেও শুরুর দিকে কিছু শব্দচয়ন ক্ষাণিক বিরক্তির উদ্রেক করেছে; মনে হয়েছে অহেতুক কিছু শব্দচয়ন না করলেও হতো। এটা সম্পূর্ণই ব্যাক্তিগত মতামত। যদিও সামনে এগিয়ে আর খুব একটা পাইনি।
শুভকামনা লেখকের জন্যে। সুপাঠ্য।
Profile Image for Ratul.
70 reviews22 followers
August 23, 2020
What should I call it?
Contemporary thriller? Mythological thriller? Fantasy Thriller? Serial Killer Thriller?
Or a blend of the above?
Whatever it is, it is perfect all the way!
The plot, the execution, and the ending - which I liked most, was simply mind-blowing.
Not get bored for a single moment in this 464-page epic, thanks to the subtle humour in equally flowing writing.
One of the best thrillers that I read for a long long time.
Worth reading!
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
March 14, 2020
"মানুষ তো মারা যায়, কিন্তু গল্প কী কখনো মরে?"
-
গিলগামেশ
-
সৈয়দ শাহ আব্দুল গিল, ডিবির চৌকশ অফিসার। নানা ধরণের চাঞ্চল্যকর কেস সমাধান করে ইতিমধ্যেই পুলিশের ভেতরে-বাইরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। তেমনি এক কে���ে রণকেলীতে গিয়ে পড়ে যান এক গভীর রহস্যের মাঝে, যার সাথে মিশে আছে তার অতীত - বর্তমান - ভবিষ্যৎ।
-
কর্নেল কালাহান, তার সময়ের জনপ্রিয় এক ম্যাজিশিয়ান, এক দু:খজনক ঘটনার পরে ইন্ডিয়ার নানা শহরে জাদু দেখিয়ে আস্তানা গাড়ে বাংলাদেশে। "সামহোয়্যার ওভার দ্য রেইনবো" নামক রহস্যময় বাড়িতে থাকা তার কাজকর্মও বেশ রহস্যময়।
-
ফিরোজ আহমেদ, ঢাকা শহরের এক পুলিশ সুপার। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একমাত্র কালো দাগ "হর্স কিলার" নামের এক সিরিয়াল কিলার। এক সময়ে দেশের নানা অঞ্চলে দাপিয়ে বেড়ানো এই সিরিয়াল কিলারের খুনের পদ্ধতি বেশ অদ্ভুত এবং নৃশংস। কিন্তু অনেক চেষ্টা চরিত্র করেও তিনি বের করতে পারছিলেন না যে কে এই হর্স কিলার।
-
তিশা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছুটি কাটাতে আসেন রণকেলীতে, কিন্তু পড়ে যান আরো জটিল ঝামেলার মাঝে।মাটি খুঁড়ে বের হতে থাকে চাপা দেয়া তার অতীতের নানা অংশ।
-
মোবাইল দোকানি বাপ্পা, ভালোই চলছিল তার দিনকাল। কিন্তু কিন্তু রণকেলীতে অদ্ভুতভাবে খুন হওয়া শুরু করলে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়।তার ও মনে পড়ে যায় অতীতের কিছু ভয়াবহ স্মৃতি।
-
গিলগামেশ, ইতিহাসের প্রাচীনতম মহাক্যব্যের ভিতরে একটি। সে মহাকাব্যের মহানায়ক গিলগামেশ, বলা হয়ে থাকে তার দুই ভাগ দেবতা এবং এক ভাগ মানুষ। উরুক রাজ্যের সেই হতভাগ্য রাজার স্বর্গ, মর্ত্য থেকে পাতাল পর্যন্ত নানা মহাকাব্যিক অভিযান নিয়েই রচিত হয়েছে এই বিশাল মহাকাব্য।
-
এখন রণকেলীতে গিয়ে ডিবির চৌকশ অফিসার সৈয়দ শাহ আব্দুল গিল কি সমস্যায় পড়েন? কর্নেল কালাহানের এই অদ্ভুত রহস্যময় জীবনের কারণ কি? ফিরোজ আহমেদ কি শেষ পর্যন্ত পারবে হর্স কিলারকে ধরতে? রণকেলীর বর্তমান ঘটনায় তিশা এবং বাপ্পার অতীত কিভাবে জড়িত? রণকেলীর এই খুন গুলোর সাথে যে গুজবগুলো ছড়াচ্ছে তার সম্পর্ক কতটুকু? এর সাথে শহরের কাপুত নদী আর এর উপর নির্মীয়মান সেতুর যে মিথ জড়িত তা কতটুক সত্যি?

সব থেকে বড়ো প্রশ্ন, ইতিহাসের প্রাচীনতম মহাকাব্য, গিলগামেশ - এর বর্তমান ঘটনাগুলোর সাথে কি ধরণের কানেকশন? এ সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে লেখক জাহিদ হোসেনের ৪৬৪ পৃষ্ঠার সুবিশাল মহাকাব্যিক উপন্যাস "গিলগামেশ"।

-

"গিলগামেশ" উপন্যাসটি শেষ করার পরে প্রথম কিছুক্ষণ একেবারেই অনুভূতি শূন্য ছিলাম। খুবই ভালোমানের কোন বিদেশী মুভি, টিভি সিরিজ বা বই শেষ করার পরে ঠিক যে অনুভূতি শূন্য অবস্থা হয় ঠিক সেরকম, যা সচরাচর দেশি বইয়ের ক্ষেত্রে হয় না। বইয়ের কথা বিস্তারিত বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় এর সুবিশাল প্লটের কথা। মহাকাব্যিক লেভেলের এই উপন্যাসে প্লট, সাবপ্লট আর মাঝে মধ্যেই আরব্য রজনীর মতো "গল্পের ভেতরে গল্প" ছিল প্রচুর। তাই পড়ার সময় চিন্তায় ছিলাম এত এত সাবপ্লট কি আসলেই গল্পে দরকার নাকি শুধু শুধুই দেয়া? তবে বইটির ক্লাইম্যাক্সে এ সবকিছুর অসামান্য সুন্দরভাবে একত্রকরণ এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে।
-
"গিলগামেশ" এর আরেক দুর্দান্ত দিক এর লেখকের সিগনেচার স্টাইলের ডার্ক হিউমার সমৃদ্ধ লেখনী। বইয়ের ভাষায়ই বলতে হয় এ বইয়ের লেখনী ধারালো ক্ষুর দিয়ে মাখন কাটার মতোই মসৃণ। তাই ৪৬৪ পৃষ্ঠার বই হবার পরেও কোথাও পড়তে গিয়ে অতৃপ্তি লাগেনি। কাহিনীর ভিতরে সাসপেন্স, একশন, মিথোলজিক্যাল কনসেপ্ট এবং টুইস্টও পরিমাপমতো দেয়া হয়েছে এবং চমৎকারভাবে এক্সিকিউট করা হয়েছে।
-
"গিলগামেশ" বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যার মতো এর চরিত্রও অনেক। এর ভিতরে সবচেয়ে দারুন ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট "সৈয়দ শাহ আব্দুল গিল" এর লেগেছে। ফিরোজ আহমেদ, শায়লা রহমান, হর্স কিলার এ চরিত্রগুলোও দারুণভাবে গেঁথে গেছে গল্পের সাথে। উপন্যাসটি ইনিশিয়ালি চরিত্রগুলোকে ডেভেলপ করতে বেশ পরিমান ভালো সময় নিয়েছে এবং এদের শেষ পরিণতি বেশ সন্তোষজনক।
-
"গিলগামেশ" এর বর্ণনাভঙ্গির কারণে অনেক সাধারণ মিথোলজি এবং বিলুপ্ত ধর্মাচার এর কাহিনী অসাধারণ লেগেছে। গল্পের শুরুতেই গিলগামেশের অভিযান নিয়ে চমৎকার এক কাব্য বেশ লেগেছে। গল্পের ভেতরে নানা ধরনের পপ কালচার এবং দেশি - বিদেশী সাহিত্যের অজস্র এস্টার এগ দারুন লেগেছে, যার ভিতরে "মহীনের ঘোড়াগুলি" এর "আমার প্রিয়া ক্যাফে" বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
-
"গিলগামেশ" বইটির প্রচ্ছদ আমার দেখা এবারের বই মেলার অন্যতম সেরা প্রচ্ছদ এবং বইয়ের কাহিনীর সাথে অত্যন্ত মানানসই। বইয়ের প্রথমেই করা অঙ্কনটি অপার্থিব সুন্দর। তবে ৪৬৪ পৃষ্ঠার বইতে বাধাঁই কিছুটা নাজুক মনে হয়েছে। কিছু ছোটখাট প্রিন্টিং মিস্টেকও চোখে পড়েছে। ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়েছে এ বইটি আরো ভালো সম্পাদনা ডিজার্ভ করে। সামনে বইটির প্রকাশনী এ ব্যাপারে খেয়াল রাখবে আশা করি।
-
এক কথায়, সাসপেন্স থ্রিলার থেকে আরবান ফ্যান্টাসির এক ফুল এন্টারটেইনিং প্যাকেজ হচ্ছে "গিলগামেশ"। ব্যক্তিগত ভাবে "গিলগামেশ" আমার পড়া লেখকের এখন অবধি সেরা লেখা এবং ক্ষুদ্র জীবনে পড়া বাংলা মৌলিক থ্রিলারগুলোর ভিতরে অন্যতম সেরা এক উপন্যাস। শেষ কবে এত এপিক লেভেলের দুর্দান্ত, রুদ্ধশ্বাস এবং টানটান থ্রিলার পড়েছি তা আমার আসলেই মনে নেই।

লেখকের শতায়ু কামনা করছি যাতে তিনি এ ধরনের উপন্যাস লিখে বাংলা থ্রিলার সাহিত্যকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারেন।

Highly, highly recommended to all kinds of thriller and fantasy lovers!
Profile Image for মোহতাসিম সিফাত.
181 reviews30 followers
June 15, 2024
অদ্ভুত সুন্দর। গল্পের ভেতর গল্প, অনেকটা মহাভারত বা আরব্য রজনীর গল্পের মতো। অনেকগুলো ধারায় এগিয়েছে, দিনশেষে আবার সব ঠিকমতো মিশিয়েও দিয়েছেন।
Profile Image for উচ্ছ্বাস তৌসিফ.
Author 8 books70 followers
September 15, 2020
গিলগামেশ। পৃথিবীর প্রাচীনতম মহাকাব্যের নাম। জাহিদ হোসেন শুরুতেই বলেছিলেন, উপন্যাসে, গল্পের ভাষায় এটা তার মহাকাব্য লেখার চেষ্টা। মহাকাব্যের ক্যানভাস বিচার করার সাধ্য আমার নেই। কিন্তু এই গল্পটা পড়ার পর অনেকক্ষণ থম মেরে বসে শুধু ভেবেছি, এরকম কিছু কল্পনা করা বা লেখা আদৌ কি সম্ভব? (উঁহু, এই গল্পের কোনো রিভিউ হয় না। হওয়া সম্ভব না। বুঝতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে গল্পটা।)

খানিকটা একঘেয়ে ও গম্ভীর স্বরে বর্ণনার মাধ্যমে শুরু। লেখার আবহ, টোন পুরোপুরি সেট করে দেয়া। সময় নিয়ে, বিভিন্ন গল্প, উপকথা ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রের সঙ্গে পরিচয়। তারপর, হঠাৎ করেই ভিন্ন আরেকটি গল্পের সূচনা। উরুকরাজ গিলগামেশ। জীয়ননদী। আর, সেই প্রশ্নের সন্ধান। মানুষ তো মারা যায়, গল্প কি কখনো মরে?

উত্থান ও পতন - বইয়ের দুটো অংশের স্বার্থক নাম। পুরো লেখাজুড়ে থ্রিলার, ফ্যান্টাসি, হরর, সিরিয়াল কিলিং, মিথোলজি, ম্যাজিক, গান এবং ট্রিভিয়া মিলে-মিশে একাকার। এত চমৎকার মিশেল ও গাঁথুনি - পড়ে মনে হবে, একটিও ঠিকভাবে না মিললে এই গল্প পূর্ণতা পেত না।

কিছু অপূর্ণতা, সামান্য আফসোস তবু থেকে যায়। বানান ভুল, পুরানো আফসোস। ছোট, আলাদা গল্পগুলো আর মূল গল্পের বর্ণনায় একইরকম শব্দের ব্যবহার। মাঝির ব্যবহৃত গল্পে 'ডাকসাইটে' সুন্দরী। আর, শেষদিকে এসে মোটামুটি পরিচিত একটি মোচড়। পাঠক হিসেবে খানিকটা আফসোস তাই থেকেই যায়।

এই গল্প কতটুকু মহাকাব্য হয়ে উঠতে পেরেছে জানি না, সম্ভবত পারেনি (সাহিত্যগুণে মহাকাব্য হয়ে ওঠার জটিল সমীকরণ বিচারে), কিন্তু গল্প হিসাবে লেখক ছাড়িয়ে গেছেন আমার মতো পাঠকের চিন্তার আকাশ। পার করে নিয়ে গেছেন সাত সমুদ্র, তের নদী। মুগ্ধ ও তৃপ্ত করেছেন। সেই সঙ্গে উসকে দিতে পেরেছেন নানামুখী আগ্রহ।

শেষে এসে একটা লাইনই বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে।
গল্প কি কখনো মরে?
Profile Image for Injamamul  Haque  Joy.
100 reviews113 followers
January 7, 2021
এক কথায় অসাধারণ। এপিক থ্রিলার, আরবান ফ্যান্টাসি, ক্রাইম, প্যারানরমাল মিস্ট্রি মিলে দুর্দান্ত কাহিনী। লেখকের আগের উপন্যাসগুলোর শুরুর যেই অসামঞ্জস্যতা, অগোছালোভাবে কাহিনী এগিয়ে নেওয়ার যেই প্রবণতা ছিলো সেটা এই বইতে কাটিয়ে উঠেছে। ফার্স্ট কোয়াটার স্লো হলেও সুখপাঠ্য, আগ্রহ জাগানিয়া। আর কাহিনীটা কি বলব, বাংলায় এর চেয়ে জোশ এপিক ফ্যান্টাসি থ্রিলার আমার পড়া হয় নি। যেভাবে খন্ডগল্প আনছিলো, এগুলোর পরিণতি নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। চরিত্র উত্তোরন দারুণ ছিলো, বিশেষ করে গিল চরিত্রটাকে। অন্যান্য চরিত্রগুলাকেও বেশ ভালো পরিণতি দিয়েছে। স্টোরিটেলিং যথেষ্ট ভালো, অনেকটা মাখনের উপর দিয়ে ছুরি চালিয়ে দেওয়া টাইপের। এত কাহিনী, এত গল্পের ভেতরে শেষ পরিণতি নিয়ে ���কটু শঙ্কায় ছিলাম। শেষে আমার শঙ্কাকে লঙ্কায় পরিণত করে লেখক দারুণ ভাবে গল্পটা শেষ করেছে।

পরিশেষে উথান—পতনের ফ্যান্টাসি, কাব্যিক, সিরিয়াল কিলিং, পৌরাণিক, ম্যাটাফোর থ্রিলারটা গোগ্রাসে গিলেছি। বানান ভূল, মিস প্রিন্টিং কমই ছিলো। তবে ৪৬৬পৃষ্ঠার বই অনুযায়ী বাধাইটা তেমন লাগেনি।

এ কি কান্ড!
সব পন্ড, এ ব্রম্মান্ড,
শুন্য লাগে,
তুমি ছাড়া শুন্য লাগে।
Profile Image for Arko Arsalan.
1 review1 follower
July 5, 2020
#বুক_মর্টেম_001
#গিলগামেশ

"কাঁপে...
কাঁপে...
আমার হিয়া কাঁপে...
এ কি যে কাণ্ড!
এ কি যে কাণ্ড!
এ কি কাণ্ড
...সব পণ্ড... এ ব্রহ্মাণ্ড
শূন্য লাগে,
তুমি ছাড়া শূন্য লাগে !!"
-আমার প্রিয়া ক্যাফে,মহীনের ঘোড়াগুলি

পৃথিবীর সবথেকে প্রাচীনতম উপখ্যান হলো উরুক-রাজ গিলগামেশের গল্প নিয়ে গিলগামেশ মহাকাব্য।বলা হয়ে থাকে গিলগামেশ হলো মহাকাব্যের আড়ালে থাকা পৃথিবীর প্রথম গল্প।গিলগামেশ দুই তৃতীয়াংশ দেবতা, আর এক তৃতীয়াংশ মানুষ। উরুক রাজ্যের সেই হতভাগ্য রাজা গিলগামেশের বীরত্বের সংগ্রাম, স্বর্গ-মর্ত্যলোক থেকে পাতাললোকের নানা মহাকাব্যিক অভিযান, তার উত্থান-পতনের রচিত কাহিনী। তবে জাহিদ হোসেনের লেখা "গিলগামেশ" হলো আধুনিক কালের থ্রিলার উপন্যাস, লেখকের ভাষায় বলতে গেলে মহাকাব্য লেথার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। কবিতা লিখতে অপারগতার কারণে গল্পের আকারে বলা এ যুগের গিলগামেশের গল্প, পুরোটা জুড়ে আছে মহাকাব্যের মেজাজ।

#কাহিনী_সংক্ষেপ :
যা চলে গেছে তা কী আর কখনো ফিরে আসে?
গল্পের শুরুটা হয় শেষের কবিতার অমিতকে দিয়ে.... আহেম...আহেম..নাহ, অমিত রে নয়, তার একটা রাশভারি নাম আছে। ইংলিশে মাস্টার্স পড়ুয়া রমণীমোহন অমিতের জীবনের নেশা বই,মুভি আর নারী। এভাবেই খুব সাধারণ একটা গল্পের মোচড় ঘুরে যায় যখন তার জীবনে হুট করেই আসে শায়লা..কী সেই মোচড় কিংবা উত্থান পর্ব? 😉

ডিবির চৌকস অফিসার সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল। একের পর এক চাঞ্চল্যকর কেস সলভ করে ইতিমধ্যেই তদন্ত জগতের এক কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন তিনি। তেমনি এক কেসের দায়িত্বে যান থানা শহর রণকেলীতে, যার সাথে মিশে আছে তার অতীত - বর্তমান - ভবিষ্যৎ নাকি পতন?😉

তার সময়ে তাক লাগিয়ে দেয়া বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান কর্ণেল কালাহান, এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হারান নিজের পরিবারকে। ছেলের দেখা স্বপ্ন পূরণ করতে আসেন ভারতে। তারপর ডেরা গাঁড়েন বাংলাদেশে।থাকেন সামহোয়্যার ওভার দ্য রেইনবো নামের জাদুর বাড়িতে। রহস্যময় কালাহানের কাজকর্মও বেশ ধাঁধায় ভরা। কিন্তু কেন এতো গোপনীয়তা?

মোবাইল দোকানি বাপ্পার দুঃস্বপ্নে ছোটবেলার একটা স্মৃতি প্রায়ই তাকে তাড়া করে বেড়ায়।এক মনোবিকারগ্রস্ত তার সামনে পরপর তিনটা বিড়ালের ঘাড় ভেঙে দক্ষ সার্জনের তো উপড়ে নেয় তাদের চোখগুলো। সেখান থেকে দুটো চোখ নিজের চোখের ওপর রেখে বলতে থাকে, 'বিড়াল চক্ষু', 'বিড়াল চক্ষু'...সেদিনের মতো পালিয়ে বাঁচে সে....তারপর একজোড়া চোখ হাজির হয় বাপ্পাদের বাড়ির দোরগোড়ায়... তারপর?

রণকেলীর বুক চিরে হিমঠাণ্ডা জলে ভরা নদী কাপুতে একসময় হতো নরবলি। নদীর তলদেশে এখন ডুব মারলেই মানুষের খুলি-কঙ্কালের দেখা মেলে। কাপুত মানে? মাথা 🤐সেই কাপুতের উপর বানানো হচ্ছে ব্রিজ। ঘটে চলেছে নানা অঘটন।এই ডামাডোলের পাওয়া গেছে ছয় শিশুর খণ্ডিত লাশ।লাশগুলোর চোখের জায়গায় গোল চাকতির মতো গর্ত। লাশ কি গল্প বলে?

মহানগরীর পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদের ক্যারিয়ার বেশ লম্বা চওড়া আর সাফল্যময়। ক্যারিয়ারে একমাত্র কালো দাগ "হর্স কিলার" নামের সিরিয়াল কিলার,এই কালো দাগ যেন তার দিকে চোখ রাঙিয়ে ঠাঠা করে হাসে।অতীতে দেশের নানা প্রান্ত দাপিয়ে ত্রাস সঞ্চারকারী সিরিয়াল কিলারের মোডাস অপারেন্ডি বেশ অনন্য আর নৃশংস। কিন্তু বারবার চোখে ধুলো দেয়া হর্সকিলার নামের এই কালো দাগকে কি তিনি মুছে ফেরতে পারবেন?

ভার্সিটি পড়ুয়া থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট তিশা।তার অতীত তাড়া করে ফেরে তাকে। ভ্যাকেশনে ছুটি কাটাতে আসে রণকেলীতে, কিন্তু পড়ে যায় উত্তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে। মাটি খুঁড়ে অ্যানাকোন্ডার মতো বেরিয়ে আসে অতীত। কী সেই অতীত?কেনই বা এতো ভয়ানক?

মৃত্যুর আগে দাদা তার চোখের মণি গিলগামেশের জন্য ডায়েরিতে লিখে গেছেন সতর্কবার্তা-
মনে রেখো গিলগামেশ,শিকারও একসময় শিকারীতে পরিণত হয়,আর শিকারী শিকারে। কী বলতে চেয়েছিলেন তিনি?

রণকেলীতে কে শিকারীতে পরিণত হবে? আর কে হবে তার শিকার? গিলগামেশ কি পারবে থামাতে শিকারীকে? নাকি শিকারীই তীরবিদ্ধ করবে শিকারকে? ধনুকের ছিলা টানটান, তীরটা শুধু ছুটতে বাকি!

#ব্যক্তিগত_মতামত_কিংবা_খুচরা_আলাপ:

গিলগামেশ পড়ার পর আমি একরাশ শূন্যতা নিয়ে বসেছিলাম। ঠিক এমনটা হয়েছিল "কাদ্যুসেয়াস" এর ক্ষেত্রে। তবে এবারের অনুভূতিটা আরো গভীর। কারণ একসময় অল্পতেই আপ্লুত হয়ে যেতাম, কাঁচা পাঠক ছিলাম আগে। এখন খুব কম জিনিসই মুগ্ধ করে আমাকে। কাদ্যুসেয়াস আর গিলগামেশ সে হিসেবে ব্যতিক্রম।

৪৬৪ পেজের বিশাল বইটাকে দুই পর্বে ভাগ করা হয়েছে- উত্থান আর পতন পর্ব। পুরো বই জুড়ে মেইন প্লটের পাশাপাশি এতো এতো সাবপ্লট, আর গল্পের ভিতর গল্প আপনার মনে ব্যাঙের ছাতার মতো প্রশ্ন গজিয়ে তুলবে। এমনও ভাবাতে পারে,"এন্ডিংয়ে সবকিছু সাযুজ্যতা বজায় থাকবে তো?" নেস্টেড স্টোরি বা গল্পের ভিতর গল্পের এই এমবেডেড ন্যারেটিভ সেই শুরুর ওডিসি, অ্যারাবিয়ান নাইটস থেকে হ্যামলেট, হার্ট অফ ডার্কনেস এমনকি নীল গেইম্যানের স্যান্ডম্যানে পাবেন আপনি। লেখক পুঁটুলি থেকে যতবেশিই সুতা ছেড়েছেন,তা ঠিকঠাকমতোই আবার গুঁটিয়ে নিতে পেরেছেন। সব প্রশ্নের একদম নিজস্ব স্টাইলে উত্তর দেয়া হয়েছে পতন পর্বের শেষ কটা অধ্যায়ে। একাধিক প্যারালাল টাইমলাইনে ঘটা ছেঁড়া ছেঁড়া সব ঘটনা আর বিভিন্নজনের দৃষ্টিকোণ, অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন গল্প প্রকৃতপক্ষে যে একই সুতোই বাঁধা সেটা বোঝার পর আপনার চোয়াল আপনা থেকেই ঝুলে পড়তে বাধ্য।

লেখকের লেখার যে জিনিসটা আমাকে মুগ্ধ করে সেটা হলো উনার গল্প বলার ধরন। ক্ষুর ধারালো লেখনীতে দারুণ রসবোধের সাথে বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তুলেন দৃশ্য।বৃষ্টির দিন, সেলুনের সামনে বসে থাকা কুকুরের চারপাশে ভনভন করতে থাকা মাছি কিংবা খুনের উদ্দেশ্যে খুনীর উদ্যত কালোহাত- এসব দৃশ্যেও দেখা যায় উনার ডার্ক হিউমারের ছোঁয়া। প্রতিটা বইয়ে যে জিনিসটা আমি খেয়াল করেছি সেটা হলো নৃশংসতায় নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া। মিউজিক, মুভি কিংবা কবিতা যদি পছন্দ হয় তাহলে সাহিত্য,পপকালচারের অজস্র এস্টার এগ আছে আপনার জন্য।যেমন ধরেন মহীনের ঘোড়াগুলির "আমার প্রিয়া ক্যাফে" বা উইজার্ড অফ দি ওজের "Somewhere over the rainbow", কখনো উঁকি দিবে পিঙ্ক ফ্লয়েডের " Comfortably Numb" এর লিরিকস, কখনো বা সুনীলের "কেউ কথা রাখে নি"এর পঙক্তিমালা।

যারা " ঈশ্বরের মুখোশ","ফিনিক্স" বা "কাদ্যুসেয়াস" পড়েছেন তারা এটা খেয়াল করবেন যে, প্রতিটা বইয়ের ক্যারেকটার সংখ্যা বেশি। কিন্তু ক্যারেকটারগুলো বেশ যত্ন নিয়ে ডেভেলপ করা আর তাদের প্রায় সবার পরিণতি থাকে শেষে। গিলগামেশেও এটা বেশ ভালোভাবে লক্ষণীয়। প্রতিটা মেজর ক্যারেকটারকে বেশ সময় নিয়ে,ফ্লাশব্যাকে তাদের ব্যাকস্টোরি দিয়ে শেষে পরিণতি দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে নাম চরিত্রের পাশাপাশি সবথেকে বেশি অ্যাট্রাকটেড হয়েছি হর্স কিলারের ধূর্ততার প্রতি।

বইয়ের নেগেটিভ দিক হিসেবে অনেকে বইয়ের সাই��ের কথা বলবেন হয়তো। কিন্তু বড় সাইজের এই বইটা পড়তে বিরক্ত লাগে নি খুব একটা। ক্লিফহ্যাঙ্গার আর কাহিনীর গতির কারণে আপনি পাতার পর পাতা উল্টাতে বাধ্য হবেন। গল্প বলার স্টাইলটার কারণে আপনি অনেক সময় নিজের জীবনের সাথেও রিলেট করতে পারবেন। তারপর আবিষ্কার করবেন যে কাহিনী অ্যানাকোন্ডার মতো পেঁচিয়ে ধরেছে আপনাকে।

অনেকেরই হয়তো এন্ডিং পছন্দ নাও হতে পারে। তাদের আমি জিজ্ঞেস করবো "গিলগামেশ" মহাকাব্যের গল্পটা জানেন? এটা জানলে হয়তো আপনাদের এটা নিয়ে অভিযোগ করার কথা না। কাদ্যুসেয়াস আর গিলগামেশের এন্ডিংটায় আছে লেখকের অন্য লেভেলের সিগনেচার এন্ডিং। ❤❤❤

এখন বইয়ের প্রোডাকশন নিয়ে বলি। সজল চৌধুরির মাননসই প্রচ্ছদ আর ওয়াসিফ নূরের অঙ্কন আমার দারুণ লেগেছে।বইয়ের ফ্রন্ট আর ব্যাক কাভারে সিম্বলগুলো আর ছবিগুলো যে বেশ অর্থপূর্ণ সেটা বইটা শেষ করলেই টের পাবেন। বানান ভুল তেমন চোখে পড়ে নি। কাগজের মান ভালো হলেও বাঁধাই ভালো না। আমারটার মলাট ভেঙে গিয়েছে.. পেজও খুলে আসছে শুরুর দিকের😔 এদিকে নজর দেয়া দরকার বলে মনে করি।

#ম্যাগনেট_পার্ট_ও_কাটাছেঁড়া:

গিলগামেশের বিভিন্ন জায়গায় আমরা যে চোখের ব্যবহার দেখি। এটার জন্য কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, "বইটার পাতায় পাতায় ইলুমিনাতি!" ইলুমিনাতি কন্সপিরেসি থিওরিস্টদের এতো বেশি উদ্ভট কল্পনার জিনিস হয়ে গেছে যে সবকিছুতে এনারা ইলুমিনাতি খুঁজে পান। বলে রাখা দরকার আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের স্মৃতিতে গিলগামেশের কোথাও আমি ইলুমিনাতি বা Pyramid of Power নিয়ে কিছু পাই নি। বরং যা পেয়েছি সেটা হলো চোখ আর সন্ধিপূজার ১০৮ টা পদ্মের সম্পর্ক।যেটার কিছুটা লেখক বইয়েই আভাস দিয়েছেন।দেবী থ এর সামোনিং রিচুয়ালে ১০৮ টা পদ্ম লাগে, যা কিনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বইয়ের ইনফো ছাড়াও যা পেলাম তা মোটামুটি এরকম-
পুরাণ মতে দেবী দুর্গা যখন মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে রত তখন তাঁর দুই সেনা চণ্ড ও মুণ্ড দেবীকে আক্রমণ করে। তখন দেবী দুর্গার তৃতীয় নয়ন থেকে এক দেবীর আবির্ভাব হয় যিনি চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করেন। এই কারণে দেবীর নাম হয় চামুণ্ডা। সন্ধিক্ষণে আসলে দেবী চামুণ্ডারই পূজা হয় ১০৮ পদ্ম ও ১০৮ প্রদীপ জ্বালিয়ে।

মজার কথা বলি। বইয়ে দেয়া ইলিয়ালিল কাল্ট নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে যে জোনাথন পামারের "অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অফ ইলিয়ালিল কাল্ট" বা জর্জ লুকাসের "লুপ্ত ধর্মাচার" রেফারেন্স দুটো পেয়েছিলাম সেটা গুগল করি। তারপর যেটা আবিষ্কার করি সেটা হলো এই সবকিছু লেখকের সম্পূর্ণ মস্তিষ্কপ্রসূত! 😮
কাদ্যুসেয়াসে "অ্যানশিয়েন্ট অর্ডার অব দ্য সেক্রেড মাউন্টেন" নামের একটা সম্পূর্ণ মস্তিষ্কপ্রসূত ধর্মের দেখা পাই, অনেকটা সেরকমই। আর অনন্ততার প্রতীক Ouroboros এরও বেশ সফল ব্যবহার খেয়াল করেছি।

জাহিদ হোসেনের বইয়ে বেশির ভাগ সময় চরিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু কমন কথা বারবার থাকে। এই বইয়ের ক্ষেত্রে ছিল -
★ যা চলে গেছে তা কী আর কখনো ফিরে আসে?
★হ্যায়, আর ইউ স্লিপিং? 😉
★গড়বড় চলছে, খুব গড়বড়...

নেস্টেড গল্পগুলোর ভিতর বাবুর্চির গল্পে একটা অসামঞ্জস্যতা খেয়াল করেছি। কিন্তু সেটা বোধ করি খুব সম্ভবত আমার কম জ্ঞানের কারণেই।হর্সকিলার যে আসলে কে এটা মনে মনে খানিকটা আন্দাজ করেছিলাম যদিও কিন্তু এক্সপ্লেইন করতে পারি নি। বাকি সব টুইস্ট ধরতে পারি নি। গিট্টু লেগে গেছে মাথায়🤐

সাসপেন্স আর হিউমারের সাথে পর্যাপ্ত অ্যাকশন, কাল্ট,মিথোলজিক্যাল কন্সেপ্ট, লুপ্ত ধর্মাচারের পার্ফেক্ট ব্লেন্ডিং ❤সাথে ছিল বেশ কিছু টুইস্ট। এসব নিয়ে যদি পড়তে চান তবে এই রোলার কোস্টার রাইডে স্বাগতম। শুধু সিটবেল্টটা বেঁধে ফাস্ট হবার আগ পর্যন্ত একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে, তারপর হার্ট বিট কখন আপনা থেকেই বেড়ে যাবে আর অ্যাড্রেনালিন ক্ষরণ শুরু হবে সেটা টেরও পাবেন না। গ্রীস ও ট্রয়ের উপখ্যান,ইলিয়াড,ওডিসি, রামায়ণ-মহাভারত পছন্দ হলে এটার বর্ণনাভঙ্গি আর কাহিনী ভালো লাগবে সন্দেহ নেই❤

"তোমার গল্প ছড়িয়ে পড়ে
পার হয় সাত সমুদ্র তের নদী
মানুষ তো মারা যায়,কিন্তু গল্প কি কখনো মরে?"

হ্যাটস অফ টু জাহিদ হোসেন❤🔥

একনজরে-
বই: গিলগামেশ
লেখক: জাহিদ হোসেন
প্রকাশনী: বাতিঘর
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৪৬৪
প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরি
অংকন : ওয়াসিফ নূর
গায়ের দাম: ৫২০ টাকা
পার্সোনাল রেটিং?
❤❤❤
#Happy_Reading
Profile Image for শুভাগত দীপ.
281 reviews43 followers
August 10, 2020
|| রিভিউ ||

বইঃ গিলগামেশ
লেখকঃ জাহিদ হোসেন
প্রকাশকঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
ঘরানাঃ সাইকো থ্রিলার/মিস্ট্রি/ফ্যান্টাসি
প্রচ্ছদঃ সজল চৌধুরী
পৃষ্ঠাঃ ৪৬৪
মুদ্রিত মূল্যঃ ৫২০ টাকা
ফরম্যাটঃ হার্ডকভার

কাহিনি সংক্ষেপঃ তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অমিতের পুরো নাম সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল। পীর বংশের ছেলে। অমিতের দাদা তাকে ডাকতেন গিলগামেশ নামে। রাজাদের রাজা, উরুক রাজ। পৃথিবীর প্রথম মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রের নাম ধরে দাদা ডাকেন অমিতকে। শেষ বয়সে একটা ডায়েরিতে নাতির জন্য উপদেশমূলক কথাবার্তা লেখা শুরু করেন মানুষটা। অমিত ওরফে গিলগামেশের জীবনটা ঘটনাবহুল হবে, এটা তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।

এসপি ফিরোজ আহমেদের দীর্ঘ সফল ক্যারিয়ারে একটা মাত্র অপ্রাপ্তি তাঁকে কাঁটার মতো খোঁচায়। অবিরত খোঁচায়। আর সেই ব্যর্থতার নাম হর্স কিলার। কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার, যে বেশ কয়েক বছর আগে সারা দেশে ভয়াবহ আতঙ্কজনক কিছু ঘটনার জন্ম দিয়েছিলো। বিকৃত মানসিকতার এই খুনি বাচ্চা মেয়েদেরকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করে রেখে যেতো। আর পৈশাচিক কাজগুলো করার সময় গাইতো কলকাতার বিখ্যাত ব্যান্ড মহীনের ঘোড়াগুলি'র গান। পুলিশের চেয়ে সবসময় একধাপ এগিয়ে থাকা হর্স কিলারকে ফিরোজ আহমেদ বেশ কয়েকবার ছুঁয়ে ফেলেও ধরতে পারেননি।

বার্লিনের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিজের পুরো পরিবারকে হারিয়েছিলেন জগদ্বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান কর্নেল কালাহান। পুরো দুনিয়া ঘুরেফিরে তিনি এখন আবাস গড়েছেন বাংলাদেশে। মেয়ে শায়লা রহমানের সাথে হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে অমিতের। নিজেকে সবসময় মুখোশের আড়ালে রাখা ম্যাজিশিয়ান কি মেনে নেবেন এই সম্পর্ক?

মফস্বল শহর রণকেলীর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে হিমাদ্রী নদী। এই নদীর আদি নাম কাপুত। অনেক লোককথা প্রচলিত আছে এই নদী নিয়ে, যার বেশিরভাগই রীতিমতো আতঙ্ক জাগানিয়া। রণকেলীর কাপুত নদীর ধারেই সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া গেলো ছয় জন বাচ্চার লাশ। কেউ একজন নৃশংসভাবে খুন করেছে তাদেরকে। পাঁজর ভেঙে বের করে নেয়া হয়েছে হতভাগ্য শিশুদের হৃদপিণ্ড আর উপড়ে নেয়া হয়েছে চোখ গুলো। আবার কোন সাইকোপ্যাথের পাল্লায় পড়লো রণকেলী? ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি)-এর সিনিয়র ইনভেস্টিগেটর সৈয়দ শাহ ফতেহ গিলকে রণকেলীতে পাঠানো হলো এই ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলিংয়ের তদন্তভার দিয়ে। এখানে কে শিকারী আর কে শিকার, সেটাই তার কাছে পরিস্কার না এখনও।

সৃষ্টিলগ্নের শুরুতে দেবতাদের আদিপিতা কুরুৎ বিতাড়িত করেছিলেন তাঁর প্রথম সন্তান থ-কে। দেবতাদের দেবতা বানিয়েছিলেন তাঁর আরেক সন্তান পুত্র ত-কে। কি ছিলো থ-এর অপরাধ? কেন তাকে ছাড়তে হয়েছিলো দেবলোক? আজ, এতোদিন পর কেনই বা তাকে ঘুরে মর‍তে হচ্ছে পুরো পৃথিবীজুড়ে?

যে হারিয়ে যায়, আর কখনও ফিরে আসে না। অবস্থা আর পরিস্থিতির পরিবর্তনে শিকারী পরিণত হয় শিকারে, আর শিকার শিকারীতে। যুগ যুগান্তর ধরে অমরত্বের সন্ধানে ছুটে চলা মানুষরা কি সত্যিই অমরত্বের দেখা পায়, নাকি প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই বরণ করে নেয় চিরসত্য মৃত্যুকে?

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ সুলেখক জাহিদ হোসেনের মহাকাব্যিক ধাঁচের সুবিশাল কলেবরের উপন্যাস 'গিলগামেশ'। দুটো পর্বে এই উপন্যাসটার কাহিনির ব্যাপ্তি। পর্ব এক হলো উত্থান আর পর্ব দুই পতন। 'গিলগামেশ' আক্ষরিক অর্থেই সুবিশাল ক্যানভাসের একটা উপন্যাস। কাহিনির শুরু সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল ওরফে অমিত ওরফে গিলগামেশ ও তার আশেপাশের মানুষদেরকে নিয়ে। ধীরগতিতে অথচ ইন্টারেস্টিং ভাবে এগিয়েছে কাহিনি শুরু থেকেই। এর মাঝেই উঠে এসেছে বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান কর্নেল কালাহান বিষয়ক ট্রাজেডি, শায়লার সাথে অমিতের পরিচয়, হর্স কিলারের অতীত অপরাধের ফিরিস্তি সহ ব্যক্তিগত জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অমিতের নানা চড়াই-উতরাই।

দ্বিতীয় পর্বের বেশ অনেকটা জুড়েই ছিলো মফস্বল শহর রণকেলী ও কাপুত নদীকেন্দ্রিক ঘটনাবলী। এই পর্বে এসপি ফিরোজ আহমেদের ভূমিকা বেশ শক্তিশালী ছিলো। আর সৈয়দ শাহ ফতেহ গিলকে এখানে আরো পরিণত হিসেবে দেখানো হয়েছে। একটা নয়, দুটো সিরিরাল কিলিং; একটা অতীতে আরেকটা ঘটে চলেছে বর্তমানে। দুটো সিকোয়েন্সই সমানতালে এগিয়ে নিয়ে গেছেন জাহিদ হোসেন। মাঝেমাঝেই উপকথার মতো করে শুনিয়েছেন নানা গল্প, যেগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত 'গিলগামেশ'-এর মূল প্লটের সাথে। ব্যাপারটা বেশ ভালো লেগেছে। গল্পের ভেতরে গল্প আমাকে বরাবরই বেশ টানে জন্যই ভালো লেগেছে।

অনেকগুলো আলাদা আলাদা সূত্র ছিলো পুরো উপন্যাস জুড়ে৷ জাহিদ হোসেন শেষে এসে সবগুলো সূত্রকেই বেশ ভালোভাবে জোড়া লাগিয়েছেন। কাহিনির ভেতরে বড়সড় কোন ফাঁকা স্থান আমি আবিস্কার করতে পারিনি। যদিও সুবিশাল একটা প্লট আর একগাদা চরিত্র নিয়ে লিখতে গেলে কাহিনিতে কিছু ফাঁক থেকে যাওয়া বিচিত্র কিছু না। তবে তেমনটা ঘটেনি 'গিলগামেশ'-এর ক্ষেত্রে। পারফেক্ট ছিলো পুরো উপন্যাসটাই আমার দৃষ্টিতে।

মার্ডার মিস্ট্রি, সাইকো থ্রিলার আর ফ্যান্টাসি মিলিয়ে সুবিশাল একটা উপন্যাস 'গিলগামেশ'। টুইস্ট ছিলো বেশ কিছু। ভালো লেগেছে। আর ফিনিশিংটাও ছিলো চমৎকার। ২০২০-এ বোধহয় এটাই প্রথম বই, যা আমি খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করেছি। একেবারে চুম্বকের মতো টেনে ধরে রেখেছিলো আমাকে বইটা। আমি বরাবরই জাহিদ হোসেনের লেখার ফ্যান সেই তাঁর প্রথম উপন্যাস 'ঈশ্বরের মুখোশ'-এর সময় থেকেই। ২০১৯-এর বইমেলায় তাঁর 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব' বইটাও বেশ সাড়া ফেলেছিলো। আশা করি আগামী বইমেলায় তাঁর কাছ থেকে রিভেঞ্জ ট্রিলোজি'র শেষ ইন্সটলমেন্টটা পাবো।

সজল চৌধুরী'র চমৎকার প্রচ্ছদে 'গিলগামেশ' হয়ে উঠেছে আরো মাহাত্ম্যপূর্ণ। বইটার কাগজের মান বেশ উন্নত। তবে স্বাস্থ্যবান বই গুলোর বাঁধাইয়ের প্রতি বাতিঘর প্রকাশনীর আরো সিরিয়াস হওয়া উচিৎ বলে মনে হয় আমার।

চাইলে হারিয়ে যেতে পারেন 'গিলগামেশ'-এর অদ্ভুত দুনিয়ায়। পার্সোনালি রিকমেন্ড করছি।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.২৫/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৪.০৩/৫

- শুভাগত দীপ -

(১০ আগস্ট, ২০২০; নাটোর)
Profile Image for MD Mijanor Rahman Medul  Medul .
178 reviews42 followers
August 10, 2020
গিলগামেশ।

আসলে কিভাবে শুরু করবো ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা এখনো। কয়েকবার চেষ্টা করেও পূর্নাঙ্গ রিভিউ উপস্থাপন করতে পারলাম না। তাই ছোট করে পাঠ প্রতিক্রিয়াই ব্যক্ত করি।।

মূলত গল্পটি দুইটি পর্বে ভাগ করে রেখেছেন। এক উত্থান পর্ব অন্যটি পতন পর্ব। তো গল্পের ফ্লোর দারুন ছিলো। বিশাল প্লটে গল্পটি বারবার ভেবেছি আমি লেখন না জানি এতো চরিত্রের মাঝে মিল কিভাবে করবে। তারপর গল্পে ছিলো মিথ হর্সকিলার পক্ষীবাবা জাদুটোনা আরো কতকি! একটি আরবান ফ্যান্টাসি হিসাবে লেখক এতোভাবে উজ্জ্বল করে তুলছে সত্যি ভাল্লাগছে। রণকেলীর ঘটনা গুলো কিংবা শেষের দেবীর উত্থান সব দারুন লেগেছে। তারপর বলবো লেখক গল্পের ফাঁকে ফাঁকে যে কবিতার লাইন গান, ইত্যাদি ব্যবহার করেছে সেগুলোও। তবে আমার সবচে বেশি ভালো লেগেছে উত্থান পর্ব। এই পর্বে গিল এর উঠে আসা তার প্লেবয় প্লেবয় টাইপের খেলা এসব দারুণ ইনজয় করেছি। আর শেষের দিকে আরেক টুইস্ট তো আছেই। সর্বাপরি জাহিদ হোসেন ভাইয়ের গিলগামেশ নিয়ে আমার বেশ কয়েকদিন ভালোই গেছে। কর্মব্যস্ততার কারনে ৪০০+ বই পড়তে আমার বেশ ভালোই সময় লেগেছে। সো গিলগামেশ নিয়ে সময় ভালোই কেটেছে। পূর্নাঙ্গ রিভিউ করতে পারলাম না কারন পুরো বইয়ে এতো গল্প এতো গল্পবাক তা মিলাতেই পারছিনা। শেষ করে জাস্ট এটাই বলছি যে এটা পড়লাম!!

পারসোনাল রেটিং : ৪/৫।।
Profile Image for Didarul Islam.
137 reviews1 follower
May 3, 2022
সংক্ষিপ্ত পাঠপ্রতিক্রিয়া-
❝মনে রেখো গিলগামেশ, শিকারও একসময় শিকারীতে পরিণত হত, আর শিকারী শিকারে।❞

উরুক রাজ্যের রাজা, অমর অর্ধ-মানব অর্ধ-দেবতা গিলগামেশের হৃদয়ে বিষাদ ছেয়ে গেল তার বন্ধুবর এনকিদুর বিরহে। নেমে পড়ে যে অভিযানে, নিজের গরিমা মাটিচাপা দিয়ে মৃত বন্ধুকে ফিরে আনতে যা যা সম্ভব সবই করতে প্রস্তুত গিলগামেশ। কিন্তু যা চলে যায় তা কি আর ফেরত আসে?
গিলগামেশ মহাকাব্য, পৃথিবীর প্রথম উপাখ্যান, আজীবন গেঁথে রবে মানুষের মনে। ঠিক সেই মহাকাব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে জাহিদ হোসেনের ‘গিলগামেশ’, যেখানে আমাদের প্রটাগনিস্ট সৈয়দ শাহ ফাতেহ গিল। গল্পের শুরু ও সমাপ্তি পুরোপুরি হৃদয়ঙ্গম করতে পড়তে হবে গিলগামেশ মহাকাব্য। গিলগামেশের সাথে আমাদের নায়ক গিলের মেলবন্ধন বেশ লেগেছে। নন লিনিয়ার প্যাটার্নে গল্প এগিয়ে যাওয়াও বিন্দুমাত্র বিরক্তি আসেনি, কেবল সাল আর তারিখের উল্লেখ থাকলে বুঝতে আরেকটু সুবিধা হতো। একটা প্লটে আছে অসংখ্য সাবপ্লট, এ যেন গল্পের মাঝে গল্প। আদতেই বেশ জটিল প্লট, মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়েছি, ঘূর্ণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি অন্তিম পরিণতি কী হত্র চলেছে। শুরুটা তথা উত্থানের অংশ বেশ ধীরস্থিরভাবে শুরু হয়, অসংখ্য সবপ্লট আর গিলকে পরিচিত করানো হয়, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এক গাদা রহস্য জট পাকাতে থাকে। একদম শেষ দিকে মাথা নষ্ট করা অকল্পনীয় কয়েকটি টুইস্ট দিয়ে লেখক পার্ফেক্ট এণ্ডিং টেনেছেন, বাকরুদ্ধ হয়েছিলাম গল্পটা পুরো পড়ে! এতটা জটিল গল্প এবং উপস্থাপনা কীভাবে আসল মাথায়! যাকগে, বইটার মূল নাম গিলগামেশ হলেও গল্পের মূল প্রভাব ফেলেছে একটা গুপ্ত ধর্ম, যার নাম ইলিয়ালিল। সেই ধর্মে আছে দেবতা, দেবতাদের দেবতা, অভিশাপ, বলিদান। অকাল্টের ব্যাপারটা এতটা সুন্দরভাবে লিখেছিলেন যে মিথগুলো বাস্তব ইতিহাসে জায়গা করে নেয়া মিথ মনে হচ্ছিল। তবে গুগল করে দেখি এসবই লেখকের কল্পনাপ্রসূত। এতটা গভীর কল্পনাবিলাসী হওয়ায় লেখকে একটা স্যালুট জানানোই যেতে পারে। মিথ, ক্রাইম, ফ্যান্টাসি, ডার্ক কমেডির পাশাপাশি অসংখ্য রহস্য জট বাঁধিয়ে শেষ অবধি সব সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রেখে লেখক যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার জোর দাবি রাখে। বাংলা ভাষায় আমার পড়া সেরা মৌলিকগুলোর একটা হচ্ছে ‘গিলগামেশ’।
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
April 20, 2021
⚈ স্পয়লার-ফ্রি রিভিউ—

গিলগামেশ, পৃথিবীর প্রাচীনতম মহাকাব্য। ইলিয়াড ও ওডিসির ��্রায় ১৫০০ বছর পূর্বে যা রচিত হয়েছিল। এই মহাকাব্য আবর্তিত হয়েছে প্রাচীন নগরী উরুকের রাজা, গিলগামেশ ও তার বন্ধু এনকিদুকে ঘিরে। প্রাচীন দক্ষিণ মেসপটেমিয়া অঞ্চল। ইউফ্রেতিস ও তাইগ্রিস নদী দুটির মধ্যবর্তী দোআব অঞ্চলের গড়ে উঠেছে উরুক রাজ্য। এই রাজ্যের রাজা গিলগামেশ। প্রচণ্ড সাহসী, সুপুরুষ এবং বীরযোদ্ধা। দুই-তৃতীয়াংশ দেবতা, এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। তার বাবা উরুকের ধর্মযাজক লুগালাবান্দা, মা দেবী নিনসাল। দেবীর দিক থেকেই তার দেহে দেবত্বের ধারাটি এসেছে। গিলগামেশ তাই মানুষ হয়েও অমর, অপ্রতিরোধ্য।

দেবতা, স্বর্গ-মর্ত্য-নরক ও অমরত্বের সন্ধান ইত্যাদি উঠে এলেও, এই মহাকাব্যের মূল কথা দুজন প্রায় দেবতা ও প্রায় বনমানবের মানুষ হয়ে ওঠা নিয়ে। বন্ধুত্বের জন্য মৃত্যুকে পরাজিত করার প্রচেষ্টা নিয়ে। কিন্তু মৃত্যুকে কি হারানো যায়? মানুষ কি পেতে পারে অমরত্ব?

সংক্ষেপে এই হচ্ছে উরুকের রাজা মহান গিলগামেশের ইতিবৃত্ত। লেখক জাহিদ হাসান চেয়েছেন এই মহাকাব্যের সমতুল্য কিছু সৃষ্টি করার। তিনি কতটুকু পেরেছেন সে-ই নিয়ে আজকের আলোচনা।

প্রথমে বলতে হয় মহাকাব্য রচনা করতে অনেক ভ্যারিয়েশনের প্রয়োজন। নিয়ে আসতে হবে পৌরাণিক কোনো ধর্ম, ধর্মীয় দেব-দেবী, সে-ই দেব-দেবীর মধ্য দৌরাত্ম্য, দৌরাত্ম্য থেকে স্বতন্ত্র। ষড়যন্ত্র তো অবশ্যই, না হয় দেবলোকে চলবে গন্ডগোল। গন্ডগোল বেধে যাওয়ার পূর্বে কাউকে প্রবঞ্চনার মাধ্যমে বহিষ্কৃত করে চলে যেতে বলে মর্ত্যে। মর্ত্যে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় স্বয়ং দেব রাজের বিপক্ষে, ছলেবলে আদায় করে নিতে চায় হারানো সিংহাসন! অতঃপর কী হয়? কেউ সক্ষম হয় অথবা কেউ চিরকাল স্থায়ী আবাস গেড়ে নেই এই ধরিত্রীতে। খেলা করে অবলা সৃষ্টির সেরা জীবদের নিয়ে। কিছু শঠ মনুষ্য সে-ই নির্বাসিত হওয়া দেব-দেবীকে উপঢৌকন দেওয়ার প্রচেষ্টায় মগ্ন থাকে দিনরাত্রি! এইভাবে হয়তো ক্ষমতা জয় করা যায়, কিন্তু সেটা নিজের সন্তুষ্টির জন্য না-কি ঈশ্বর তুল্য ক্ষমতার জন্য?

মূলত ❛গিলগামেশ❜ উপন্যাসে লেখক ক্রাইম, মিস্ট্রিকে উস্কে দিতে যুক্ত করেছেন মিথ, কাল্ট, ফ্যান্টাসি, সিরিয়াল কিলার টাইপ বিষয়বস্তু। টাইমলাইন ভাগ করেছেন দুইভাবে। উত্থান ও পতনের মাধ্যমে গল্প এগিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি চমকপ্রদ। কিন্তু এত কিছুর পরেও সবকিছু কতটা সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল সেটা নিয়ে আলোকপাত করা যাক।

➲ আখ্যান—

যা চলে গেছে তা কী আর কখনো ফিরে আসে?

থানা শহর রণকেলীর ওপর দিয়ে বয়ে চলা নদীটির নাম কাপুত। কাপুত মানে হলো ফিনিশড। শেষ। কাপুতের আরেকটা অর্থ আছে। ল্যাটিন ভাষা মোতাবেক কাপুত মানে হলো মাথা। কথিত আছে কাপুতে নাকি একসময় নরবলী হতো। নদীর তলদেশে এখনো কঙ্কাল, মানুষের মাথার খুলি মিলে। মিলে জং ধরা গিলোটিন। কাপুত নদীর ওপর সেতু বানানো হচ্ছে। এই ডামাডোলের মাঝে পরপর ছয়জন বাচ্চার খণ্ডিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশগুলোর কপালের ঠিক নিচে, দুই চোখ যেখানে ছিল সেখানে দুইটা গোল চাকতির মতো গর্ত। ছয়টা লাশেরই পাঁজর ভাঙ্গা, হৃৎপিন্ড উপড়ানো!

চোখের বদলে নিকষ কালো আঁধার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে...

গর্জনে পরিণত হয় ফিসফাস, কাপুতের প্রাচীন দেবতারা নাকি ক্ষুদ্ধ। হাজারো নিষ্পাপ শিশুর রক্তেই কেবল মুক্তি মিলবে, নচেৎ নয়। আসলেই কি তাই?

ফিরোজ আহমেদ পুলিশ সুপার। তুখোড় গোয়েন্দা হিসেবে যেমন নাম কামিয়েছেন, শত শত জটিল কেস সমাধা করেছেন ঠিক তেমনি তার একটা আক্ষেপও আছে। আক্ষেপের নাম, হর্স কিলার। মহীনের ঘোড়াগুলি থেকে গান আওড়ে খুনীটি শিকারে নামতো। সেইজন্যই পত্রিকাওয়ালারা অদ্ভুত এই লেবেল সেঁটে দিয়েছে। কিন্তু সে তো বহুদিন ধরেই নিশ্চুপ। তবে কী বেশ পাল্টে পুনরায় ফিরে এসেছে খুনী? আবারো কী ভয়ংকর নৃশংসতায় মাতবে বিশ্বচরাচর?

নাম তার বিঘতখানেক লম্বা। সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল। দাদা আদর করে ডাকতেন গিলগামেশ, উরুক-রাজ গিলগামেশ, আক্কাদীয় ভাষার সেই পৌরাণিক চরিত্র। যার দুই-তৃতীয়াংশ দেবতা আর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। কিন্তু আমাদের গিলগামেশ কোন রাজা নয়, দেবতাও নয়। সে একজন মানুষ, সাধারণ মানুষ। পেশায় ডিবির সিনিয়র গোয়েন্দা। দাদা মারা যাওয়ার আগে তার জন্য একটা ডায়েরি রেখে গিয়েছিলেন। ডায়েরিতে অনেক কথার ফাঁকে গিলগামেশের জন্য তিনি একটা সতর্কবার্তা লিখে গেছেন - মনে রেখো গিলগামেশ, শিকারও একসময় শিকারীতে পরিণত হয়, আর শিকারী শিকারে।

রণকেলীতে কে শিকারীতে পরিণত হবে? আর কেইবা হবে শিকার? ডিবির গোয়েন্দা সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল কি পারবে শিকারীকে থামাতে? নাকি নির্ভুল লক্ষ্যভেদে শিকারী তীরবিদ্ধ করবে তার শিকারকে?

➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—

❛গিলগামেশ❜ উপন্যাসের প্লট অনেক বিস্তৃত। সাবপ্লট ও ব্যাকস্টোরি সাথে খুচরা কয়েকটা গল্প লেখক মূল কাহিনির সামঞ্জস্যতা বজার রাখার জন্য রেখেছে। উত্থান ও পতন দিয়ে কাহিনি দুইভাগ করেছেন। উত্থানের কাহিনির মাত্রা কম হলেও হিউমার ও রোমান্স ভর্তি কাহিনির সাথে চরিত্র মেলবন্ধন সবকিছু মিলিয়ে পারফেক্ট। কিন্তু পতনের ভাগে গল্পে কিছুটা কমতি লক্ষ করি। ধীরেসুস্থে সেটা নিয়ে পর্যালোচনা করছি—

● প্রারম্ভ—

লেখক উপন্যাসের শুরুতে সৈয়দ শাহ আবদুল কাদির অর্থাৎ অমিত ওরফে গিলের দাদার কবিতা তুলে ধরেছে। পুরো উপন্যাসের সাথে এই কবিতার যোগসূত্র বেশ ভালোই রয়েছে। শুরুতে ❛উত্থান❜ পর্ব আসে, যেখানে সৈয়দ শাহ ফতেহ গিলের ভার্সিটি জীবন, সাহিত্যের প্রতি তার অগাধ প্রীতি। ইচ্ছে লেখক হওয়ার। সে-ই লেখক হওয়ার পাশাপাশি কিছু গুপ্ত বা নিষিদ্ধ কার্যপ্রবাহের স্থান পেয়েছে। ডিটেকটিভ হওয়ার স্বপ্নেও তাকে বিভোর হতে দেখা যায়। অর্থাৎ এক ব্যক্তির কতশত অভিলাষ থাকে তা লেখক খুব যত্ন সহকারে প্রস্তবনা করেছেন।

ভারী বর্ষণের আবহ জীবন্ত লেগেছে। সর্পবাবার আগমন থেকে কফিশপের কথোপকথন সবকিছুতে তন্ময়তা বিদ্যমান। পাঠক অবলীলায় হারিয়ে যাবে সে-ই ভাবাবেগে।

উত্থান পর্বে লেখক গিলের চরিত্র বিল্ডাপ করেছেন। পতনে ফিরোজ আহমেদ, বাপ্পা ও তিশার চরিত্র। কিন্তু সিকুয়েন্স সাজানো সাধারণ পাঠকের কনফিউশনের কারণ হবে। পতন পর্বে ফিরোজ আহমেদের অতীত-বর্তমান টাইমলাইনের ফাঁকে ফাঁকে বাপ্পা, তিশা, গিলের গল্প চলে। তাই একটু সতর্ক তো থাকতেই হবে পাঠকদের।

● গল্প বুনন—

গল্প বুননে লেখকের বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। ক্ষুরধার মস্তিষ্ক দিয়ে যে সাম্রাজ্য তৈরি করার ক্ষমতা দেখিয়েছেন নিঃসংকোচে প্রশংসার দাবিদার। মূল প্লটের সাথে এত এত সাবপ্লট সাথে ব্যাকস্টোরি ও আলাদা কাহিনি তৈরিতে অবসাদের কোনো ছায়া লেখনশৈলীতে পড়েনি। রেলগাড়ি যে গতিতে ছুটে চলে লেখকও তার আটকে থাকা গল্পের গাড়ি সে-ই গতিতে ছুটিয়েছে মনিটরের স্ক্রিনে। না হয় পাঠক হয়ে আমি ক্ষিপ্রতার সাথে বিশালকায় বইটি দ্রুত পাঠে সক্ষম হতাম না।

লেখক বাবুর্চির গল্প, মাঝির গল্প, বাপ্পার স্বপ্ন এইরকম কয়েকটা গল্প যুক্ত করেছেন প্লটে যেগুলো মেইন প্লটে প্রভাব ফেলে। তবে নাফিস আর বিকাশের গল্প ট্র্যাপ ফেলেছেন পাঠকদের খেলানোর জন্য৷

● লেখনশৈলী—

লেখনশৈলী নিয়ে অভিযোগ করার কিচ্ছু নেই। লেখক যে সাহিত্যচর্চা করেছে ভালোভাবে সেটা উপলব্ধি করা গেছে। আধুনিক ধাঁচের লেখাতেও ঢুকেছে পারিভাষিক টিউন। যখন যেখানে যে ভাষার দরকার সে-ই ভাষাতে লেখা এগিয়েছে। তবে ‘হয়তোবা’ শব্দের মতো কিছু শব্দ বারবার ব্যবহার কিছুটা বিরাগী ভাব তৈরি করেছে। তবে চমৎকার লেখনশৈলীতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

● বর্ণনাভঙ্গি—

পুরো উপন্যাসের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা�� যে দিকটা সহজবোধ্য ও সাবলীল করার প্রয়াস লেখকদের কাছে স্বপ্ন। ❛গিলগামেশ❜ উপন্যাসে লেখক এই দিকে সিদ্ধহস্ত। নো ডাউট! যেসব বিষয়বস্তু নিয়ে লেখক ব্যাখা বা বাস্তব অনুভূতি গঠন করতে চেয়েছেন সেক্ষেত্রে তিনি সফল হয়েছেন। পারিপার্শ্বিক বর্ণনা দিতে গিয়ে এক প্রকার ঘোরে নিয়ে গিয়েছেন। লেখকের নিকট আহবান রইল, গহীন অরণ্য এবং মরুভূমির প্রেক্ষাপটে উপন্যাস লেখার জন্য। গল্প বুননের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রত্যকটি দৃশ্যের স্পষ্ট বিবৃতি অন্যরকম রোমাঞ্চের পরশ বুলিয়েছে।

রাস্তায় গড়িয়ে যাওয়া পানির ধারা, কফিশপের অন্তরালে কপোত-কপোতীর উষ্ণ ক্রিয়া, দেয়ালে সাঁটানো অশালীন পোস্টার, কুকুর আর মাছির দীর্ঘ রসায়ন, নদীর তলদেশে মাথার খুলি আর হাড়গোড়ের জীবন্ত আলোড়ন-সহ এমন আরও দৃশ্যর ত্রুটিশূন্য বর্ণনা আলাদা ভালোলাগা তৈরি করেছে। সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জিনিসের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা দিয়ে মোহনিদ্রা করতে সমর্থ হয়েছে।

● চরিত্রায়ন—

❛গিলগামেশ❜ উপন্যাস চরিত্র দিয়ে পরিপূর্ণ। মূল প্লটের একাধিক চরিত্রের সাথে সাবপ্লট ও আলাদা গল্প মিলিয়ে চরিত্রের সংখ্যা নেহাত কম নয়। লম্বা লিস্টি করার অবশ্যই দরকার নেই। পড়ার ভূত একবার চাপলে অনায়াসে সে-ই চরিত্রগুলো মস্তিষ্কে সেট হয়ে যাবে। তবে মূল ফোকাসে কিছু চরিত্র রয়েছে।

❛গিলগামেশ❜ খ্যাত অর্থাৎ মূল প্রোটাগনিস্ট ভূমিকায় রয়েছে সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল। এছাড়া পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ হচ্ছেন অকুতোভয় এক সাহসী অফিসার। সে-ই সাথে অ্যান্টাগনিস্টের সিরিয়ালও বেশ হৃষ্টপুষ্ট। একেবারে ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের নাচন খাওয়ানোর মতো পরিস্থিতি। কে কাকে কোনদিকে কী বানিয়ে ফেলছে টের পেতে সময় লাগবে। মনুষ্যর পাশাপাশি কিছু অলৌকিক চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছে। উত্থান পর্বে ‘সর্ববাবা’ আর পতন পর্বে ‘পক্ষীবাবা’ ও ‘বিস্ময় বালক’–এর মতো দুর্ধর্ষ চরিত্র ক্রিয়েশন করার চেষ্টা করেছেন। তবে চরিত্রগুলোর পরিণতি কী হয়েছে জানতে হলে বই পড়তে হবে।

পেডোফিলিয়া আক্রান্ত চরিত্রের পাশাপাশি, একজন ভিক্টিমের মানসিক অবস্থা কেমন হয় এবং প্রতিনিয়ত তাকে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় সে-ই বিষয় নিয়ে উপযুক্ত কাহিনি সৃষ্টি করেছেন লেখক।

● সমাপ্তি—

সমাপ্তি ঠিকঠাক। বেশি ভালোও লাগেনি আবার খারাপও লাগেনি। কেন লাগেনি সে-ই বিষয় বলছি। উপন্যাসের শুরুটা যেমন ছিল শেষটা কিন্তু তেমন হয়নি। আর সেটা হয়ও না। লেখক এত বেশি পরিমাণের ব্লেন্ডিং করেছেন যে সেটা ঠিকঠাক রাখা কষ্টসাধ্য।

ইলিয়ালিল একটি প্যাগান ধর্ম যেটি মূলত লেখকের সৃষ্টি। সে প্যাগান ধর্মে রয়েছে নর্স ও গ্রিক মিথের ছোঁয়া। কাহিনি তৈরিতে এই ব্যপারটি বেশ ভালো। তবে লেখক জানিয়েছে এই ধর্মের ছোঁয়া অনেকটা হিন্দুর ধর্মের মতো! আবার উদাহরণস্বরূপ টেনেছেন হযরত আদম (আঃ) এর ব্যাখা। রিচুয়াল যেটা ছিল সেটা হিন্দু ধর্মের আঙ্গিকে গঠন করেছেন। অর্থাৎ সব ধর্ম থেকে কিছু কিছু নিয়ে চরিত্র বানিয়ে প্লট দাঁড় করিয়েছে। এখন কথা হচ্ছে সেখানে কি ফাঁকফোকর থেকে যায়নি? গিয়েছে অবশ্যই।

শেষটা একটু অতিরঞ্জিত লেগেছে। স্বাভাবিকভাবে দেখলেও অস্বাভাবিক লাগে। অর্থাৎ হুট কয়ে কয়েকটি বিচিত্র ব্যাখা দাঁড় করিয়ে সমাপ্তি টেনে দেওয়া কিছুটা হতাশ করেছে। মনঃপূত হয়নি আমার, আবার অনেকটা হয়েছে। সেটা নিয়ে একেবারে শেষে ‘স্পয়লার ডিসকাশন’ করব।

.

লেখক উপন্যাসে মহীনের ঘোড়াগুলির ‘আমার প্রিয়া ক্যাফে’ থেকে শুরু করে উইজার্ড অব দ্য ওজ, পিংক ফ্লয়েড, সুনীলের ‘কেউ কথা রাখেনি’ এই গানগুলোর বিশেষ কিছু লাইনের বারবার দেখা মিলবে। বাকি রাখেনি আশিকি সিনেমায় গাওয়া কুমার শানুর গান ‘আঁখ মারে’। কিছু দৃশ্যের সম্পৃক্ততা দেখানোর জন্য ম্যাট্রিক্স সিনেমা-সহ আরও কিছু সিনেমার উদাহরণ সাথে পুর্ণেন্দু পত্রীর কবিতাও তুলে ধরেছে। সাহিত্যের ভাইব ক্রিয়েটে কার্পণ্য দেখাতে চাননি বটে।

উপন্যাসে বিড়াল ও সাপের ওপর বেশি ফোকাস রাখা হয়েছে। এই দুই প্রাণীর সাথে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেন জড়িত বই পড়ে জানতে পারবেন।

সব মিলিয়ে বইটি অবশ্যই পাঠ্য।

➢ লেখক নিয়ে কিছু কথা—

জাহিদ হাসানের লেখা এই প্রথম পড়লাম। লেখকের অন্য কোনো বই পড়া না হলেও সেগুলো পড়ার লিস্টে যুক্ত করে নিলাম। গল্প বুননে আর লেখনশৈলীর প্রাঞ্জলতা মুগ্ধ করেছে। গল্পের শুরু বা শেষ নিয়ে শিরঃপীড়া করছি না। কাহিনি বিল্ডাপে এমন পাণ্ডিত্য সচারাচর দেখা যায় না। থ্রিলার জগতে অবশ্যই লেখকের নামটি উজ্জ্বল হয়ে থাকবে দ্বিধাহীনভাবে বলে দেওয়া যায়। লেখকের জন্য শুভকামনা রইল।

● সম্পাদনা—

উঠে ও ওঠে বিভ্রাট। সমাপিকা ক্রিয়া হলে উঠে অর্থাৎ যেটা বাক্যের মাঝে বসে। বাক্যের শেষে ‘ওঠে’ বলে অর্থাৎ অসমাপিকা ক্রিয়া। যেটা দিয়ে বাক্যের সমাপ্তি টানা হয়। এই দিকটি কিছুক্ষেত্রে মিসিং ছিল।

৩১৭ পৃ : নামটা শুনে ভ্রু কুঁচকে উঠে গিলের! কিন্তু গিলের জায়গায় নাম হবে ‘বাপ্পার’।

৪১৪ পৃ : ইকবাল নাম রিপ্লেস হয়ে ‘ইকবার’ হয়ে গিয়েছে।

● বানান—

ইতিমধ্যে, ঐ, পিছন, বোধহয়, আবারো, ডিঙ্গিয়ে, হয়তোবা, কীইবা, ভাঙ্গিয়ে, পনের, নেয়া, দেয়া, উপর, ইদানিং, খেলাধূলা, দু’জন, দু’টো, দু’একটা, ক’জন, দু’দিন, যে কোন, একশো, পৌছে, প্রচন্ড, ফর্মূলা, বাঙ্গালী, কুল-কিনারা, বলী, নরবলী, ক্ষেত, রুপকথা, রাণী, অপাংক্তেয়, শ্রেণী, কাহানী, ধ্বসে, ধূলো, কাঁচের, পাষন্ড, দন্ড, ভারি, ডিঙ্গি, তারমতই, ব্রীজ, ভন্ড, কান্ড, রুপ, কালোঘাম, উনারে, আর্গল, জ্যুস, ধরণের, মুনী, কিভাবে, পয়ত্রিশ, পাকিস্তানী, ষোল, ঘন্টা, সিঙ্গাড়া, সরকারী, নাকি, উঠার, স্পীকার, দূর্গা ইত্যাদি বানান ভুল ছিল।

ইংরেজি বানানে হ্রস্ব-ই কারের জায়গায় দীর্ঘ-ই কার দেওয়া। কিছু শব্দে ‘ণ্ড’ এর জায়গায় ‘ন্ড’ এবং ইতোমধ্যে, ওপর, ইদানীং, ফর্মুলা, বাঙালি, কূলকিনারা, অপাঙ্‌ক্তেয়, নরবলি, খেত, কাহানি, ধসে, ধুলো, কাচের, রূপ, কালঘাম, অর্গল, জুস, ধরনের, মুনি, কীভাবে, কীসের, পাকিস্তানি, পঁয়ত্রিশ, ষোলো, ঘণ্টা, শিঙাড়া, সরকারি, স্পিকার, না-কি, ওঠার, দুর্গা এইগুলা হচ্ছে সঠিক বানান।

মত ও মতো দুইরকম এসেছে। তবে সঠিক হচ্ছে ‘মতো’ কিন্তু সেটার আধিক্য একেবারে কম।

কোন শব্দগুলো হবে ‘কোনো’। যেমন কোনক্রমে হবে ‘কোনোক্রমে’ অন্যদিকে কোনভাবে হবে ‘কোনোভাবে’ এইরকম আরও অনেক জায়গায় ভুল ছিল।

১৯০ পেজে আসবাব লেখা হয়েছে ‘আসবার’।

২৫৫ পৃষ্ঠায় “স্যার কী রণকেলীতে প্রথম আসলেন?” উক্ত সংলাপে হবে ‘কী’ এর জায়গার ‘কি’ হবে। কারণ যে প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না দিয়ে দেওয়া যায় সেখানে ‘কি’ বসবে। এইরকম ভুল কয়েক জায়গায় হয়েছে।

২৮৪ পেজে ছাড়া লেখছে ‘ছড়া’।

● প্রচ্ছদ, অলংকরণ—

প্রচ্ছদ করেছেন সময়ের সেরা প্রচ্ছদ শিল্পী সজল ভাই। উপন্যাসের সাথে সাদৃশ্যতা বজায় রেখে দারুণ প্রচ্ছদ তৈরি করেছেন। কালার চুজিং আর এলিমেন্ট প্রতিস্থাপনে যে দক্ষতা দেখিয়েছেন সেটা ভালো লেগেছে।

ওয়াসিফ ভাইয়ের কাজ বরাবর আমার পছন্দের। ওনার আর্ট ওয়ার্ক গুলো অন্য লেভেলের। ‘গিলগামেশ’ নামের টাইপোগ্রাফি বেশি ভালো লাগছে সাথে প্রচ্ছদে ফিনিক্স পাখির আর্টওয়াক। ভেতরের পেজে গিলগামেশ, দেবী থ, ফিনিক্স, ওরুবোরস চিত্রণ নজরকাড়া ছিল।

● মলাট, বাঁধাই, পৃষ্ঠা—

মলাট আর বাঁধাই বেশ ভালো। কিন্তু এই বইতে ১ ফর্মা অর্থাৎ ১৬ পেজ গায়েব ছিল। তাও ক্লাইম্যাক্স টাইমে। ৪৩২ থেকে ৪৪৮ পেজ পর্যন্ত৷ মেজাজ খারাপ করার জন্য আশা করি এটা যথেষ্ট? এইসব রিটার্ন করা অনেক ঝামেলা। একটু সতর্ক থাকলে এইসব ভুল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

➠ বই : গিলগামেশ | জাহিদ হাসান
➠ জনরা : মিথলজিক্যাল ক্রাইম থ্রিলার
➠ প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২০
➠ অলংকরণ : ওয়াসিফ নূর
➠ প্রচ্ছদ : সজল চৌধুরী
➠ প্রকাশনা : বাতিঘর প্রকাশনী
➠ মুদ্রিত মূল্য : ৫২০ টাকা মাত্র
➠ পৃষ্ঠা : ৪৬৬

❎ স্পয়লার ডিসকাশন—

১. ইঞ্জিনিয়ার রাহেল শরীফ যিনি রণকেলীর কাপুত নদীর ওপর ব্রিজ তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিলেন। পতনের প্রথম অধ্যায় ব্যতীত ওনার কোনো বিশাল ভূমিকা দেখলাম না। সম্পূর্ণ ফোকাস চলে গিয়েছে পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদের অতীত আর বর্তমান দেখানো নিয়ে। অন্যদিকে ডিটেকটিভ ইনভেস্টিগেটর গিলের দিকে। এক্ষেত্রে লেখক চাইলে রাহেল সাহেবকে সরিয়ে ফিরোজ সাহেবের মাধ্যমে কাপুত নদীর ইতিহাস সম্পর্কে একটা জুতসই ব্যাখা দাঁড় করাতে পারতেন অথবা ভেবেছিলাম রাহেল সাহেব তিশার সাথে কোনোভাবে কানেক্টেড থাকবে।

২. অমিত ওরফে ফতেহ গিল। যে কি-না ‘প্রেগন্যান্ট কিলার’ কিন্তু এই কিলার হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য কি শুধুমাত্র তার স্টিলবর্ন বেবি? সে যদি মানসিক বিকারগ্রস্ত হয় তাকে একজন আইজি আবার সাপোর্ট কেন দিবে? ফায়দা কী? ওইদিকে আইজির মেয়ে লরার সাথে আদতে কী সম্পর্ক সেটা খোলসা করা হয়নি! কেন করাচ্ছে কী জন্য করাচ্ছে সব ঘোলাটে।

৩. তিশাকে কীভাবে তার পালক পিতা-মাতা খুঁজে পেল সেটার বিস্তারিত নেই! তার একটা ব্যাকস্টোরি অর্থাৎ কীভাবে দেবী থ তিশাতে পরিণত হয় সেটা দেখানো দরকার ছিল। আর সাধারণত আমরা জানি কোনো দেবী যদি মানুষের ওপর ভর করে তাহলে তার আধ্যাত্মিক কিছু শক্তি থাকে। কিন্তু উপন্যাসে সেটা হয়েছে উলটো। তিশার বদলে পদ্ম বা বিস্ময় বালকের কাছে এমন কিছু ক্ষমতা দেখা যায়! কেন দেখা যায় সেটার ব্যাখা নাই।

৪. শায়লা ও গিলের ছেলে পদ্ম বা বিস্ময়বালক। সে হঠাৎ করে দুইজন ছেলেকে ছেড়ে দিলো কেন? আর দিয়েছে যাদের তারা কারা? বাবা-মাকে নিজে মেরেছে কেন? জিউসের ছায়া কখন থেকে তার ওপর পড়লো? সর্পবাবা/হর্স কিলার ও শায়লা/পক্ষীবাবা সারাক্ষণ যদি দেবী থ এর পূজায় মগ্ন থাকত তাহলে পদ্ম বা বিস্ময় বালকের মধ্যে রাজা হওয়ার আগ্রহ জন্ম নিলো কীভাবে? সে-তো তখনও নাবালক! বিশেষ ক্ষমতা থাকলেও এইরকম হটকারিতা কেন করল সেটা বুঝলাম না। আর পিচ্চির মাথার মধ্যে এই চিন্তা ঢুকাইছে কে?

৫. গিল ব্যবসায়ী থেকে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের অফিসার কীভাবে হয়েছে সেটা নিয়ে দুকথা লেখার দরকার ছিল। উদাহরণ দিয়ে বললে, গিলের ওয়াইফ শায়লা যখন প্রেগন্যান্ট ছিল তখন যে ডাক্তার অর্থাৎ প্রিয়াঙ্কার মাধ্যমে চেক‌আপ করাতো তারা ছিল ভুয়া, তো সেটা গিলের মতো একজন দক্ষ অফিসারের নজরে কেন আসলো না? স্টিলবর্ন বেবি জন্ম দেওয়ার পর বউয়ের সাথে যোগাযোগ স্থাপনা করার প্রয়োজনীয়তা বেমালুম গায়েব হয়ে যাওয়াটা কিছুটা অসংগতি মনে হয়৷ ডিটেকটিভ হওয়ার পূর্বে সে-ই মানুষের কিছু বিচক্ষণ ক্ষমতার আভাস পাওয়া যায় কিন্তু গিলের ক্ষেত্রে এইটা পুরোপুরি উধাও। কেন?

৬. গিল যে উপন্যাস লেখে সুপার ফ্লপ খায় সে উপন্যাসের কাহিনি অনেকটা ইলিয়ালিল ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু কথা হচ্ছে শায়লা হয়তো-বা ওই ধর্মের সাথে জড়িত ছিল কিন্তু গিল না। তাহলে এই উপন্যাসের আইডিয়া মাথায় আসে কীভাবে? এইটা কি আধো গিল লেখেছিল না-কি শায়লার বরাবরই হাত আছে এইখানে? যাতে ওই বইয়ের মাধ্যমে মানুষ এই প্যাগান ধর্মটাকে ভালোভাবে চিনতে পারে? লুপ্ত সমাচার যেটা জর্জ লুকাস লেখেছে সেটার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে এটাই কি আসল উদ্দেশ্য ছিল?

৭. গিলগামেশের সাথে সৈয়দ শাহ ফতেহ গিলের মধ্যে কতটুকু সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন অবশ্যই জানাবেন।

এইরকম আরও কিছু প্রশ্ন মাথায় ঘুরাঘুরি করছিল, হয়তো আমি মিলাতে পারিনি অথবা কোনো কিছু মিস করে গিয়েছি বলে খটকা লাগছে৷ কেউ যদি পয়েন্টগুলো নিয়ে আলোচনা করেন তাহলে ভালো হয়৷
Profile Image for Zauad Mahmud.
37 reviews6 followers
June 19, 2025
লেখক সাহেব ভূমিকায় লিখলেন যে মহাকাব্য রচনা করেছেন। এই শ্রেণীর একটা থ্রিলার লিখে এই দাবি যেহেতু করেছেন সাহস আছে বলতে বলতে হবে। কিছু কিছু জায়গায় অপ্রয়োজনীয় অনেক ক্যারেক্টার নিয়ে এসেছেন। কারণ ছাড়াই দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন বেহুদা জিনিস, কারণ ছাড়াই গল্পকে অনেক স্লো করে দিয়েছেন। শাহ ফতেহ গিলের ক্যারেক্টার বিল্ড আপ করলেন প্রায় প্রথম অর্ধেক। কিন্তু পরবর্তী ধাপে এসে সেই বিল্ড আপের কোনো ঝলক ই দেখা গেলো না। আর গোয়েন্দা হিসেবে নায়কের ক্যারেক্টার বিল্ড আপের কোনো লজিক্যাল কনসিকুয়েন্স ও ছিলো না৷ শেষে এসে তো ঘোড়ার ডিম আর মাথা একাকার করে কিসব যে লিখলেন। সব মিলিয়ে মহাকাব্যের নামে বিরক্তিকর একটা আখ্যানের দেখা পেলাম।
Profile Image for Bimugdha Sarker.
Author 15 books89 followers
March 19, 2020
অসাধারন একটা বই৷
অসাধারন৷

বিস্তর প্লট৷ বিস্তারিত বললেও বোঝাতে পারব না কি লেভেলের৷

"হ্যায়, আর ইউ স্লিপিং?"

পড়ে ফেলুন এই কোয়ারেন্টাইন এর সময়ে৷ ডুবে যান এপিক একটা বইয়ে৷
Profile Image for Rohun.
120 reviews58 followers
March 24, 2021
যা চলে গেছে তা কী আর কখনো ফিরে আসে?
সৈয়দ শাহ ফতেহ গিল অমিত, শায়লা রহমান, কালাহান, আতিকুর রহমান, ইশতিয়াক চৌধুরি, তিশা, ফিরোজ আহমেদ, দেব ত, কুরুত, দেবী থ সহ বই এর প্রত্যেক টা কুশীলব মনে দাগ কাটতে সমর্থ। এবং চিন্তার খোরাক জোগাতে পারে বহুদিন।
নিঃসন্দেহে অসম্ভব সুন্দর কিছু জনরার ব্লেন্ডিং এ দাড় করানো বইটা উপভোগ করেছি। কিন্তু '২০২০' সালের শ্রেষ্ঠ মৌলিক থ্রিলার গিলগামেশ' এই খানে দ্বিমত প্রকাশ করছি। যেকোনো মিথ, আরবান ফ্যান্টাসি যখন বাংলাদেশের কন্টেক্সটে ঘটা শুরু করে তার পেছনে যৌক্তিক একটা লজিক দাড় করানো হয় এত দেশ থাকতে বাংলাদেশ কেনো- এর উত্তরের জন্য। সাম্ভালায় দেখেছি ঘটনাপ্রবাহ কেন বাংলাদেশে ঘটছে, তার পেছনে যৌক্তিক কার আছে। গিলগামেশের ঘটনা প্রবাহ এর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক টা কি তা উল্লিখিত না। দ্বিতীয় কারন কয়েক জায়গায় অমরত্বের কথা বলা হয়েছে, সিম্বল এসেছে কিন্তু মূল ঘটনার সাথে তার সম্পর্ক বুঝলাম না। তৃতীয় কারন বড্ড কাকতালীয়তা।
এছাড়া বাকী সব একদম পারফেক্ট। লেখনশৈলিতে লেখক নিজেকে ছাড়িয়ে যাব্র চেষ্টা করেছেন। প্রশোংশনীয়। তবে লেখকের উপন্যাসে মুহুর্মূহ চরিত্রের আমদানী আমার শুরুতে বিরক্তির উদ্রেক ঘটায় বরাবর। উপন্যাস টা পুরোপুরি উপভোগ করেতে পেরেছি মিথলজি,আরবান ফ্যান্টাসি, ট্রু ক্রাইম সিরিয়াল কিলিং এর সাবলীল ব্লেন্ডিং এবং লেখনশৈলীর জন্য। যেকোনো থ্রিলার পাঠকের জন্য HIGHLY RECOMMENDED.
Profile Image for Gourab Mukherjee.
164 reviews23 followers
June 21, 2021
ডার্ক ফ্যান্টাসি থ্রিলার, এই হয়ত হবে এই বইয়ের genre। কিন্তু এই বইয়ের গভীরতা এই তিন শব্দের থেকেও অনেক অনেক নিচে।
😔 প্রথম একশো পাতায় আমার মনে হচ্ছিল, লেখক শুধুই অকারনেই তিন চারদিকে গল্প ছড়িয়ে যাচ্ছেন। নোংরা ভাবে নারীদেহের বর্ণনা, গা ঘিন ঘিন করা সব পরিবেশের বিবরণ এই সব প্রচণ্ড বিরক্তিকর লাগছিল।
🌀 সাধারণ গল্প হঠাৎ করে ডার্ক হয়ে যায��। আস্তে আস্তে জুড়তে থাকে মিথলজির স্তর।
অবশেষে প্রচণ্ড নিপুণতার সাথে লেখক আবার সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সুতো গুলোকে এক কাছে এনে গল্পের চাদরটা বোনা শেষ করেন।

🌀 কাল্ট আছে, সিরিয়াল কিলিং আছে, প্রেম আছে, পুলিশি তদন্ত আছে, এমনকি ম্যাজিক আছে আবার রূপকথার দেবদেবীরাও আছে।

🌀 কোন চরিত্রের কখন প্রেমে পড়বেন, আর তার কি পরিনতি হবে তার দায়িত্ব লেখক নেবেন না, তাই সাবধানে পড়বেন। এই বই বড় ভয়ানক।

😍😍 কিছু মিথলজিকাল থ্রিলার হয় যা শেষ হওয়ার পরও আপনি একটা ঘোরের মধ্যে থেকে যান। কারণ সেই গল্পের জগৎ। লেখকের বর্ণনা। এই বই আদতে একটি ডিটেকটিভ ক্রাইম থ্রিলার তা সত্ত্বেও এর মিথলজির দুনিয়ায় আপনি আটকা পড়তে বাধ্য। সেই একটা wow-factor আছে। রিভিউ লিখতে লিখতেও সেই আচ্ছন্ন ভাবে ডুবে যাচ্ছি। যাহ! হারিয়ে গেলাম।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
529 reviews196 followers
June 18, 2022
প্লট সুন্দর। পারফেক্ট রিড হতো যদি না মনে হতো মাঝে মাঝে একটু টেনে লম্বা করেছেন শুধু শুধু।
Profile Image for Tahmid Anik.
69 reviews4 followers
August 2, 2021
Truly E P I C !!
আমার পড়া অন্যতম সেরা বাংলা মৌলিক থ্রিলার ।
কি ছিল না বইটাতে মিথ,কাল্ট,ধর্ম,দেব-দেবী,ফ্যান্টাসি,ম্যাজিক,ক্রাইম, সিরিয়াল কিলিং ,খুন, নিঃসংশ্রতা, পুলিশি তদন্ত , সাসপেন্স,টুইস্ট সব মিলিয়ে এক যেন এক মহাকাব্য।

লেখকের সব গুলো বই এক নিমিষে পড়ে ফেলতে ইচ্ছা করছে ।
Displaying 1 - 30 of 96 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.