Premendra Mitra (Bangla: প্রেমেন্দ্র মিত্র) was a renowned Bengali poet, novelist, short story writer and film director. He was also an author of Bengali science fiction and thrillers.
His short stories were well-structured and innovative, and encompassed the diverse to the divergent in urban Indian society. The themes of poverty, degradation, caste, the intermittent conflict between religion and rationality and themes of the rural-urban divide are a thematically occurring refrain in much of his work. He experimented with the stylistic nuances of Bengali prose and tried to offer alternative linguistic parameters to the high-class elite prosaic Bengali language. It was basically an effort to make the Bengali literature free from softness, excessive romance and use of old style of writing which were prevalent in older writings.
বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ গল্পের তালিকায় থাকবে এই ছোটগল্পটি। ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়া ব্যবহার করে এমন বিষাদ-অদ্ভুত বর্ণনা– অসাধারণ।
গল্পকার কলকাতাবাসী.. একদিন দু বন্ধুকে নিয়ে রওনা দিলেন তেলেনাপোতা আবিষ্কারে। শখের বশে মাছ-শিকারী গল্পকার এসে পৌঁছালেন এক ধ্বংসস্তূপের মতো বাড়িতে। বাড়িটির প্রতিটি ইট-কাঠই যেন প্রাচীন রহস্যময় কোনোকিছুর ইঙ্গিত দেয়। রহস্য আরো ঘনীভূত হয় যখন যামিনী নামের বিষণ্ণ-চোখের এক মেয়ের সাথে তার পরিচয় ঘটে। যামিনী এবং তার মা এই নির্জন, জনমনুষ্যহীন প্রেতপুরীতে এখনও ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে আছে কোনো এক অলীক আশায়। ঘটনাক্রমে গল্পকার তার সেই আশাপূরণের এক ক্ষণস্থায়ী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফের কলকাতার পথে রওনা হন। গল্পটি এমনিতেই ছোট, তাই শেষটা আর বলব না। তবে মাথা গুলিয়ে দেবে নিশ্চিত।
▪️ মৃণাল সেনের খন্ডহর (Khandhar) সিনেমাটির গল্প এখান থেকেই নেওয়া।
৫ মিনিটে পড়ে ফেলবার জন্য চমৎকার উপভোগ্য একটি গল্প। তবে বিরক্ত হয়েছি এন্ডিং টার জন্য। 'কথা দিয়ে কথা না রাখা' টাইপ ব্যাপারগুলো আমার মেজাজ খারাপ করে দেয়।
ছেলেবেলায় প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত রূপকথার গল্পগুলো পড়তে বেশ লাগত... আর আজ এই বড়বেলায় এসে তার লেখা এই অসাধারণ গল্পটি পড়ে সেই পুরনো দিনগুলোর প্রতি নস্টালজিক অনুভবেরা জাঁকিয়ে বসলো! চটুলতাবিহীন, নির্মেদ হাস্যরসসম্পন্ন গল্পটা পড়তে ১০-১৫ মিনিটের বেশি হয়ত লাগবে না আপনার, কিন্তু পড়া শেষ করার পর এক অতুলনীয় ভাললাগার রেশ আপনাকে আচ্ছন্ন করে রাখতেই বাধ্য। 🤍
তেলেনাপোতা আবিষ্কার — প্রেমেন্দ্র মিত্রের কলমে রচিত এমন এক গল্প, যা বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই ছোটগল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪২ সালের “যুগান্তর” পত্রিকার শারদ সংখ্যায়, কিন্তু তার সাহিত্যিক গন্ধ ও সাংগঠনিক সূক্ষ্মতা আজও পাঠকের মনে শিহরণ তোলে। বিশ্বসাহিত্যের যেকোনো ধ্রুপদী ছোটগল্পের পাশে বসিয়ে দেওয়া যায় এই রচনাকে, কোনো দ্বিধা ছাড়াই।
গল্পটির কাঠামো অত্যন্ত সহজ: শহুরে ক্লান্তি ও বৈচিত্র্যহীনতা থেকে মুক্তি পেতে গল্পকার বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মাছ ধরার উদ্দেশ্যে — নিছক একটি শখ, নিছক অবসর। কিন্তু যাত্রাপথের শেষবিন্দুতে এসে পৌঁছান তেলেনাপোতা নামের এক বিস্ময়কর, প্রায় ভৌতিক গ্রামের ভগ্নপ্রায় এক বাড়িতে — যেখানে সময় থেমে গেছে, সভ্যতার হাতছানি নেই, কেবল আছে এক অপূর্ব বিষণ্ণতা ও নিঃসঙ্গতার জাদু।
গল্পটি যতটা না বহির্জগৎ নিয়ে, তার চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্জগতের অভিঘাত নিয়ে। বাড়িটির প্রতিটি ইট, প্রতিটি ঘুলঘুলি যেন মুখ খুলে বলে ওঠে পুরনো দিনের কথা। এমনকি যামিনী নামের সেই তরুণী — যার চোখে প্রোথিত এক বিশাল শূন্যতা, এক দীর্ঘ অপেক্ষা — তাকেও যেন সময় ভুলে গেছে। তার ও তার মায়ের জীবনের অপেক্ষা যেন সেই পুরনো পাথরে জমাট বাঁধা স্মৃতি, যা ভাঙার নয় — কেবল উপলব্ধি করার।
প্রেমেন্দ্র মিত্র এখানে কাহিনি লেখেননি — তিনি তৈরি করেছেন মানসিক প্রেক্ষাপট, যেখানে পাঠক ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। গল্পকারের অল্প কিছুদিনের সফর হয়ে ওঠে এক ধরনের আবিষ্কার — বাহ্যিক ভ্রমণের আড়ালে এক গভীর, মানসিক অন্বেষণ। ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়া-রূপে গল্পটির বর্ণনা এক অনন্য বিষাদঘন ধাঁচ তৈরি করে — যেন পাঠক জানেন, এই মুহূর্তের সবকিছুই অতীত হয়ে যাবে, অথচ সেসব ক্ষণিক ঘটনাই চিরস্থায়ী হয়ে বসে থাকে মনোজগতে।
তেলেনাপোতা এখানে কেবল একটি গ্রাম নয় — এটি এক প্রতীক। ভগ্নতাবাদ, অপেক্ষা, স্মৃতি, এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার প্রতীক। যামিনী ও তার মা যেন সেই সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা শহুরে আধুনিকতার কোলাহলে হারিয়ে গেছে, অথবা ইচ্ছাকৃত ভাবে সরে এসেছে। এই ধ্বংসস্তূপেই আশ্রয় নেয় হৃদয়ের অতৃপ্ত কামনা, অপরিসীম অপেক্ষা, এবং গোপন প্রতিশ্রুতি। গল্পকার, এক আশ্চর্য মানবিক বোধে, কিছুক্ষণ এই জগতে প্রবেশ করেন, সাময়িকভাবে একটি আশার আলো জ্বালান — এবং তারপর আবার ফিরে যান শহরে। কিন্তু পাঠক থেকে যান… সেই বাড়িতে, সেই মেয়েটির দৃষ্টিতে, সেই বাতাসের ভারে।
গল্পটি সংক্ষিপ্ত, অথচ এতটাই সংবেদনশীল ও শৈল্পিক যে, তা পড়ার পর বহুদিন পাঠকের হৃদয়ে অনুরণিত হতে থাকে। মৃণাল সেন এই গল্প অবলম্বনে “খণ্ডহর” ছবিটি নির্মাণ করেন — এবং এটিই প্রমাণ করে, গল্পটির ভিজ্যুয়াল শক্তিও কতটা গভীর।
এই রচনার আসল কৃতিত্ব প্রেমেন্দ্র মিত্রের ভাষা ও বর্ণনাশৈলী — এমনভাবে লেখেন, যেন পাঠক নিজেই যাত্রা করেন, নিজেই খুঁজে পান সেই হারিয়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের প্রেম, দীর্ঘশ্বাস, এবং অব্যক্ত প্রতিশ্রুতি। এখানে “আবিষ্কার” কেবল তেলেনাপোতার নয়, বরং এক স্বরহীন আর্তনাদের — যা আজও চুপ করে বসে থাকে কোনো প্রাচীন জানালার পাশে।
"তেলেনাপোতা আবিষ্কার" সেই গল্প, যা বোঝায় — ভালো সাহিত্য কখনোই পুরনো হয় না, বরং বারবার নতুন হয়ে ওঠে পাঠকের অন্তরজগতে। তাই এটিকে নিয়ে কিছু লেখা অনেক সময় বৃথা মনে হয়। বরং, তেলেনাপোতার দিকে আবার ফিরে তাকানোই শ্রেয়। সেই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। সেই নির্জনতার শ্বাস টেনে নেওয়া।
আমার সাহিত্য পড়ার চৌহদ্দি বড় বেশি নয়, কিন্তু সেই সীমিত গন্ডি থেকে আমার মনে হয়না বিশ্বসাহিত্যে তেলেনাপোতা আবিষ্কারের থেকে ভালো ছোট গল্প খুব বেশি লেখা হয়েছে।