মণীন্দ্র গুপ্তর জন্ম ১৯২৬ সালে অবিভক্ত বাংলার বরিশালের গৈলা গ্রামে। কৈশোর কাটিয়েছেন অসমের বরাক উপত্যকায় মামার বাড়িতে। একই সঙ্গে কবি, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী মণীন্দ্রবাবু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কবিতা লিখেছেন ১৯৪০-এর দশক থেকে। প্রথম কবিতার বই ‘নীল পাথরের আকাশ’ প্রকাশিত হয় অনেক পরে, ১৯৬৯ সালে। লিখতে এসেই পাঠকের নজর কাড়েন তিনি। বাংলা কবিতার তৎকালীন অভিমুখের সম্পূর্ণ বিপরীতেই অবস্থান করছিল তাঁর রচনা। এর পরে প্রকাশিত হয় ‘মৌপোকাদের গ্রাম’, ‘লাল স্কুলবাড়ি’, ‘ছত্রপলাশ চৈত্যে দিনশেষে’, ‘শরৎমেঘ ও কাশফুলের বন্ধু’ অত্যাদি কাব্যগ্রন্থ। ১৯৯১-এ বের হয় তাঁর আলোড়ন তোলা প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘চাঁদের ওপিঠে’। ১৯৯১-এ প্রকাশিত হয় আত্মজীবনী ‘অক্ষয় মালবেরি’-র প্রথম খণ্ড। তিন খণ্ডে বিন্যস্ত এই লিখন বাংলা সাহিত্যের এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন। সম্পাদনা করেছেন ‘পরমা’ পত্রিকা। ১৯৭০-এর দশকে কবি রঞ্জিত সিংহের সঙ্গে যৌথ ভাবে সম্পাদনা করেছেন ‘এক বছরের শ্রেষ্ঠ কবিতা’-র মতো সংকলন। হাজার বছরের বাংলা কবিতা ঘেঁটে সংকলন করেছেন তিন খণ্ডে ‘আবহমান বাংলা কবিতা’। ২০১০ সালে পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার। ২০১১ সালে সাহিত্য আকাদেমি।
মণীন্দ্র গুপ্তের প্রধান পরিচয় তিনি কবি।তিনি নিজেও নিজেকে কবি হিসেবেই পরিচয় দেন। তাঁকে লিটল ম্যাগাজিনের লেখকও বলা হয় এবং লেখক এই পরিচয়টার স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে একমত পোষণ করেন।এই গদ্যসংগ্রহে তাঁর একটা লেখা আছে, নিজেকে লিটল ম্যাগাজিনের লেখক বলে উচ্ছসিত হয়ে।
আমি কখনো উনার কবিতা পড়িনি তবুও উনার কবিত্বে মুগ্ধ! কারন উনার গদ্য লেখা কবিতার মতোই সুস্বাদু এবং গভীর। উনার লেখা যেনো হাওয়ায় মিঠে, যেখানে মুখ ডুবালে মুখ মিষ্টি স্বাদে মুখ ডুবে যায়। সেই স্বাদ থেকে মুখ উঠাতে ইচ্ছে করেনা। এতো আন্তরিকভাবে সামান্য একটা ছোট পুকুর আর ঝোপঝাড়ের এমন বর্ণনা দেন যে সেটা অন্য রকম সৌন্দর্য নিয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠে।উনার বেশিরভাগ লেখা ই স্মৃতি থেকে তুলে আনা, ষাট-সত্তর বছর পূর্বের ঘটনা এতো অপূর্বভাবে ডিটেইলসকারে দেন যে মনে হয় ঘটনাটি এখনই ঘটছে এবং লেখক তৎপর ই লিখতে বসেছেন। উনার অনুভবে প্রগাঢ়তা এতো গাঢ় যে বারবার বিস্মিত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। প্রকৃতি,ইতিহাস আর ব্যাক্তিগত স্মৃতিচারণের অনবদ্য সমন্বয় এই বইয়ের লেখাগুলো...