নির্বাক শব্দের আক্ষরিক অর্থ আমরা কি বুঝি? অর্থাৎ যে সরব নয়,বাকশক্তিহীন। কিন্তু এই উপন্যাসের প্রতিটি বাঁকে চরিত্রদের জন্য ও পাঠকের জন্য সাজানো রয়েছে এমন কিছু ঘটনাপ্রবাহ, যা হয়তো নির্বাক করবে পাঠককেও। জীবনের কিছু অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে একজন সরব মানুষও কিভাবে নির্বাক হয়ে উঠতে পারে, সেই অধ্যায়ের গল্প বলে নির্বাক। আদ্যোপান্ত সাংসারিক একটি উপন্যাস নির্বাক, যার প্রতিটি শব্দের মায়াজালে পাঠক হয়তো খুঁজে পেতে পারেন আপন জীবন সংগ্রাম।।
নির্বাক বলতে আমরা বুঝি একটা শারীরিক অক্ষমতাকে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় কি? সময়, পরিস্থিতি বিশেষে একজন শারীরিক মানুষও নির্বাক মানুষে পরিণত হয়। চরম আঘাত পেলে, বা চরম বিস্ময়ের সম্মুখীন হলে একজন বাগ্মীও ভাষা হারিয়ে ফেলে। এরকমই কিছু নির্বাক মুহূর্তের কথা উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।
ভালোবাসার সঠিক সংজ্ঞাটা ঠিক কি? প্রেম কি কখনো বিকৃত হতে পারে? একজন মানুষ কাউকে ঠিক কতটা ভালোবাসতে পারে? সেই ভালোবাসার জন্য সে কতটা দূর পর্যন্ত যেতে পারে? ভালোবাসায় বিশ্বাসের পরিমাপ ঠিক কতটা? বন্ধুত্বের আরেক নাম কি ভালোবাসা হতে পারে? ভালোবাসায় অনন্তকাল প্রতীক্ষা কি সম্ভব? এই সকল প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এই উপন্যাসে।
উপন্যাসের প্রতিটা পরতে ফুটে উঠেছে উপন্যাসের প্রতিটা চরিত্রের মনের নানান দোলাচলের বর্ণময় চিত্র। যা পাঠককে একইসঙ্গে মুগ্ধ এবং নির্বাক করে তুলবে।
✪ শ্রদ্ধেয়া লেখিকা সাথী দাসের একটি অন্যতম উপন্যাস "নির্বাক" , উপন্যাসটি বেশ চরিত্র বহুল একটি উপন্যাস।
★ এই উপন্যাসটি শেষ করতে আমার বোধহয় সবথেকে বেশী সময় লেগেছে , কারণ একপৃষ্ঠা পড়ে ভাবতে সময় লেগেছে পাঁচ মিনিট !
★ সত্যিই উপন্যাসটি আমাকে ভাবিয়েছে , ভাবিয়েছে আমার নিজের জীবনের ফেলে আসা মুহূর্তগুলোকে নিয়ে।
★ আমরা সবসময়ই ভাবি যে আমাদের নিজেদের জীবনের সমস্যাগুলোই বোধহয় সবচেয়ে বড় সমস্যা , কিন্তু মাননীয়া লেখিকার কলম আমাকে ঘাড় ধরে দেখিয়েছে যে একজন নির্বাক মহিলা কিভাবে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজের ধৈর্য না হারিয়ে সবশেষে বিজয়ীর হাসি হাসতে পারেন।
★ এই উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রকে বিশ্লেষন করতে গেলে হয়তো আরেকটি ৬৫৬ পৃষ্ঠার উপন্যাস হয়ে যাবে।
★ মাননীয়া লেখিকার এই উপন্যাসটি পড়ে আমার কেবল দুটি বাক্য মনে হয়েছে -
★ এই উপন্যাসে মাননীয়া লেখিকা দেখিয়েছেন কিভাবে "সৌদামিনী" যাঁর ডাকনাম "মিনী" , সে একজন অক্ষম বাকযন্ত্রের অধিকারিণী হওয়া সত্ত্বেও সর্বক্ষেত্রে বিজয়ী হ'তে পারেন।
★সেই মিনী প্রচন্ড রকম নিরব থেকেও ভীষণ ভাবে সরব হয়েছেন বাস্তব জীবনের বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
★ আবার এই উপন্যাসেই লেখিকা দেখিয়েছেন কিভাবে চোখের ভালোবাসার মোহে অন্ধ হয়ে "নীল" তাঁর আসল ভালোবাসার মানুষটিকে অর্থাৎ "রাত্রিকে" কখনও মস্তিষ্ক দিয়ে অনুভবই ক'রতে পারেন নি !
★ সত্যি ব'লতে কি আজকের সমাজের আধুনিক মানুষদের একটি জীবন্ত আয়না এই "নির্বাক" নামক উপন্যাসটি।
★ আমরা রাস্তাঘাটে কতো Couple কে দেখে ভাবি এঁরা বোধহয় সত্যিই "Happy couple" কিন্তু বাস্তবে উঁকি দিয়ে দেখতে গেলেই দেখা যায় যে ঐ সম্পুর্ণ সম্পর্কটাই একটা ভাঙা আয়না যেটি আঠা দিয়ে জোড়া দেবার মতোই টিকে আছে , কিন্তু সেই ভাঙা দাগটা মুছে যায়নি।
★ আমরা দেখতে পাই তাঁদের বাহ্যিক চাকচিক্যটুকুই , কিন্তু আসল বাস্তবটা দেখতে পান কেবলমাত্র তাঁদের আপন জনেরা। আর দেখতে পায় তাঁদের দুজনের অন্তরাত্মা।
★ প্রতি মুহূর্তে রক্তাক্ত হয় ঐ দুটি হৃদয় আর তার যন্ত্রনা অনুভব করেন তাঁদের আপনার জনেরা।
★ সত্যিই তো কাউকে ভালোবেসে যদি ভালো থাকা যায় তাহ'লে পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব থাকলেই বা ক্ষতি কি ?
★ সত্যি কথা ব'লতে কি "Soulmate" বা আত্মার বন্ধু হ'তে গেলে যে বস্তুটি থাকা অতি আবশ্যক সেটি হ'ল "আত্মা" , আর আত্মাকে কেউ চোখে দেখতে পায়না সে অবিনশ্বর , তাই আত্মার সাথে আত্মার যে মিলন সেটাও কিন্তু অবিনশ্বর।
★ সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি বিশেষ মন্ত্র - ➤ "যদেতৎ হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম । যদিদং হৃদয়ং মম , তদস্তু হৃদয়ং তব ।।" পাঠ করেই স্বামী , স্ত্রী হওয়া যায়না।
★ স্বামী , স্ত্রী হ'তে গেলে শুধু এই মন্ত্রটি পড়াই যথেষ্ট নয় ! অনেক সময় কোন কথা না বলেও অনেক কিছু বলা হয়ে যায়। নীরব থেকেও যে সরবতাকে হারিয়ে দেওয়া যায় , দূরে থেকেও যে ভালোবাসা য়ায় , মাননীয়া লেখিকা তাঁর কলমের দ্বারা ঠিক এটিই বুঝিয়ে দিয়েছেন।
✪ আমার মনে হয়েছে এই উপন্যাসটি প্রাপ্তবয়স্ক সকলেরই একবার পড়া উচিৎ।
★ জীবনের এতো উত্থান , পতন আবার উঠে দাঁড়িয়ে ভালোবাসার মানুষের জন্য ত্যাগ , তাঁর জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার এইরকম পুঙ্খনুপুঙ্খ বিবরন এর আগে আমি কোন উপন্যাসে পাইনি !
★ উপন্যাসটির একটি সুন্দর সমাপ্তি অবশ্যই হয়েছে , কিন্তু সেটা হীরার আকরিক থেকে স্বচ্ছ হীরে বের করার মতোই পরিশ্রমসাধ্য কাজ ।
★সেই কাজটি মাননীয়া লেখিকা যথাযথই করেছেন।
★★ এই উপন্যাসটি যে কোন পাঠকের মানসিকতাকে পরিবর্তন করে তাঁর মনকে সুন্দর একটি কল্পলোকে বিচরণ করাতে সক্ষম।
★ উপন্যাসটি পড়ে আমার শুধু Criss Jami কথিত সেই বিখ্যাত উক্তিটি মনে পড়েছে - ➤ "𝐄𝐯𝐞𝐫𝐲𝐨𝐧𝐞 𝐡𝐚𝐬 𝐭𝐡𝐞𝐢𝐫 𝐨𝐰𝐧 𝐰𝐚𝐲𝐬 𝐨𝐟 𝐞𝐱𝐩𝐫𝐞𝐬𝐬𝐢𝐨𝐧 . 𝐈 𝐛𝐞𝐥𝐢𝐞𝐯𝐞 𝐰𝐞 𝐚𝐥𝐥 𝐡𝐚𝐯𝐞 𝐚 𝐥𝐨𝐭 𝐭𝐨 𝐬𝐚𝐲 , 𝐛𝐮𝐭 𝐟𝐢𝐧𝐝𝐢𝐧𝐠 𝐰𝐚𝐲𝐬 𝐭𝐨 𝐬𝐚𝐲 𝐢𝐭 𝐢𝐬 𝐦𝐨𝐫𝐞 𝐭𝐡𝐚𝐧 𝐡𝐚𝐥𝐟 𝐭𝐡𝐞 𝐛𝐚𝐭𝐭𝐥𝐞 ."
✪ এতো সুন্দর একটি উপন্যাস আমাদের অর্থাৎ পাঠকদের উপহার দেবার জন্য সম্মাননীয়া লেখিকাকে সর্বান্তকরণে শ্রদ্ধা জানাই। সত্যিই উপন্যাসটি অনবদ্য এবং সম্পুর্ণ ভিন্ন স্বাদের একটি উপন্যাস। সম্ভব হ'লে আপনারাও পড়ে দেখুন না বন্ধুরা , আশাকরি নিরাশ হ'বেন না। __________________________________
শ্রদ্ধেয়া লেখিকা সাথী দাসের একটি অন্যতম উপন্যাস "নির্বাক" , উপন্যাসটি বেশ চরিত্র বহুল একটি উপন্যাস। এই উপন্যাসটি শেষ করতে আমার বোধহয় সবথেকে বেশী সময় লেগেছে কারণ একপৃষ্ঠা পড়ে ভাবতে সময় লেগেছে পাঁচ মিনিট ! সত্যিই উপন্যাসটি আমাকে ভাবিয়েছে......ভাবিয়েছে আমার নিজের জীবনের ফেলে আসা মুহূর্তগুলোকে নিয়ে। আমরা সবসময়ই ভাবি যে আমাদের নিজেদের জীবনের সমস্যাগুলোই বোধহয় সবচেয়ে বড় সমস্যা কিন্তু মাননীয়া লেখিকার কলম আমাকে ঘাড় ধরে দেখিয়েছে যে একজন নির্বাক মহিলা কিভাবে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজের ধৈর্য না হারিয়ে সবশেষে বিজয়ীর হাসি হাসতে পারেন। এই উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রকে বিশ্লেষন করতে গেলে হয়তো আরেকটি ৬৫৬ পৃষ্ঠার উপন্যাস হয়ে যাবে।
মাননীয়া লেখিকার এই উপন্যাসটি পড়ে আমার কেবল দুটি লাইন মনে হয়েছে...... 1. "Speak is great but silence is greater. " 2."Love looks not with the eyes but with the mind."
সত্যিই এই উপন্যাসে মাননীয়া লেখিকা দেখিয়েছেন কিভাবে মিনী নামের অক্ষম বাকযন্ত্রের অধিকারিণী প্রচন্ড রকম নিরব থেকেও ভীষণ ভাবে সরব হয়েছেন বাস্তব জীবনের বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আবার এই উপন্যাসেই লেখিকা দেখিয়েছেন কিভাবে চোখের ভালোবাসার মোহে অন্ধ হয়ে "নীল" তাঁর আসল ভালোবাসার মানুষটিকে অর্থাৎ "��াত্রিকে" কখনও মস্তিষ্ক দিয়ে অনুভবই ক'রতে পারেন নি।
সত্যি ব'লতে কি আজকের সমাজের আধুনিক মানুষদের একটি জীবন্ত আয়না এই "নির্বাক" নামক উপন্যাসটি। আমরা রাস্তাঘাটে কতো Couple কে দেখে ভাবি এঁরা বোধহয় সত্যিই Happy couple কিন্তু বাস্তবে উঁকি দিয়ে দেখতে গেলেই দেখা যায় যে ঐ সম্পর্কটা একটা ভাঙা আয়না আঠা দিয়ে জোড়া দেবার মতোই টিকে আছে। আমরা দেখতে পাই তাঁদের বাহ্যিক চাকচিক্যটুকুই , আসল বাস্তবটা দেখে তাঁদের আপনার জনেরা। প্রতি মুহূর্তে রক্তাক্ত হয় ঐ হৃদয় দুটি আর তার যন্ত্রনা অনুভব করেন তাঁদের আপনার জনেরা তাইনা ? সত্যিই তো কাউকে ভালোবেসে যদি ভালো থাকা যায় তাহ'লে পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব থাকলেই বা ক্ষতি কি তাইনা ?
Soulmate বা আত্মার বন্ধু হ'তে গেলে যে বস্তুটি থাকা অতি আবশ্যক সেটি হ'ল "আত্মা" , আর আত্মাকে কেউ চোখে দেখতে পায়না সে অবিনশ্বর , তাই আত্মার সাথে আত্মার যে মিলন সেটাও কিন্তু অবিনশ্বর। সেক্ষেত্রে শুধু স্বামী স্ত্রী হওয়া আর ঐ যদস্তু হৃদয়ং........মন্ত্রটি পড়াই যথেষ্ট নয়। মাননীয়া লেখিকা ঠিক এটিই বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমার মনে হয়েছে এই উপন্যাসটি প্রাপ্তবয়স্ক সকলেরই একবার পড়া উচিৎ। জীবনের এতো উত্থান , পতন আবার উঠে দাঁড়িয়ে ভালোবাসার মানুষের জন্য ত্যাগ , অপেক্ষা এর আগে আমি কোন উপন্যাসে পাইনি। উপন্যাসটির একটি সুন্দর সমাপ্তি অবশ্যই হয়েছে কিন্তু সেটা হীরার আকরিক থেকে স্বচ্ছ হীরে বের করার মতোই পরিশ্রমসাধ্য কাজ , এবং সেই কাজটি মাননীয়া লেখিকা যথাযথই করেছেন। এই উপন্যাসটি যে কোন পাঠকের মানসিকতাকে পরিবর্তন করে সুন্দর একটি কল্পলোকে বিচরণ করাতে সক্ষম। সবশেষে এতো সুন্দর একটি উপন্যাস আমাদের অর্থাৎ পাঠকদের উপহার দেবার জন্য মাননীয়া লেখিকাকে সর্বান্তকরণে শ্রদ্ধা জানাই। সত্যিই উপন্যাসটি অনবদ্য এবং সম্পুর্ণ ভিন্ন স্বাদের একটি উপন্যাস। আমার সকল প্রিয় বন্ধুদের উপন্যাসটি পড়ে দেখবার জন্য আমি অনুরোধ করছি। -----------------------------------
"তোমারে পাছে সহজে বুঝি তাই কি এত লীলার ছল বাহিরে যবে হাসির ছটা ভিতরে থাকে আঁখির জল বুঝি গো আমি, বুঝি গো তব ছলনা - যে কথা তুমি বলিতে চাও সে কথা তুমি বল না ||"
আজ পড়ে শেষ করলাম প্ৰিয় লেখিকা সাথী দাসের লেখা "নির্বাক" উপন্যাসটি। ৬৫৬ পাতা দীর্ঘ একটা উপন্যাস আত্মস্থ করবার পর এখন শব্দ হাঁতড়ে বেড়াচ্ছি আমার শব্দ ভাণ্ডারে কারণ এই উপন্যাসের ঘটনা বিন্যাস আর চরিত্রেরা আমায় নির্বাক করে দিয়েছে। উপন্যাস শুরু হয়েছে রাত্রির বিয়ের প্রস্তুতি দিয়ে। ছোটবেলা থেকেই মেয়েটা দুঃখী; যে বাড়িতে সে থাকে সেই বাড়ির অশ্রিতা সে, সবার করুণা ও বিরক্তির পাত্র। অথচ উপন্যাস যত এগিয়েছে, বারবার মনে হয়েছে এই চরিত্রটির থেকে আমার অনেক, অনেক কিছু শেখার আছে। বিশেষ করে রাত্রির ধৈর্য, অপেক্ষা, শান্তভাবে কোনো জটিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা, ধূপকাঠির মত নিজে জ্বলে অন্যকে সুগন্ধ দিয়ে যাওয়া আর আরও অনেক কিছু। রাত্রির সবটুকুই যেন স্নিগ্ধ, সুন্দর আর পবিত্র। মেয়েটার প্রাপ্তির ঝুলি প্রায় শূন্যই বলা চলে। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা অনেকেই হয়তো অন্যের সহানুভূতি আশা করি, আত্মহত্যার চেষ্টা করি, কিন্তু সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাত্রি অন্য একজন ভেঙে পড়ার মানুষের জীবন তরীকে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু সেখান থেকেও তার প্রাপ্তি কেবল হতাশা, উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা। উপন্যাসের প্রায় শেষের দিকে রাত্রির ভাবনা চিন্তা আমায় একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছে। কতখানি মুক্ত মনের অধিকারী হলে এভাবে ভাবা যায়। "আমি তোমার ভালোবাসাকে ভালোবাসি। কারণ আমি তোমায় ভালোবাসি। তাই তোমার সঙ্গে জুড়ে থাকা সবকিছুকেই ভালোবাসি।" এভাবে ভাবতে পারলেই বোধ হয় শেষটা সুন্দর হয় ; শুধু গল্প উপন্যাসে নয়, বাস্তবেও।
শুনেছি, প্রথম ভালোবাসায় মানুষের আবেগ খাঁটি থাকেই। আর রাত্রি তার প্রথম ভালোবাসাকে নিজের চোখের সামনে অন্য কারোর সঙ্গে সুখী হতে দেখেছে। কিন্তু এর জন্য তার মনে কোনো হিংসা, দ্বেষ, রাগ এসব জন্ম নেয়নি; বরং সর্বান্তকরণে দুজনের ভালোই চেয়ে গেছে সে। হয়তো সে ভেবেছে, "পূর্ণতার চেয়ে চরম শূন্যতা আর কিছুতে নেই। তাকে পেয়ে গেলেই কিন্তু সব শেষ হয়ে যাবে। ভালোবাসা পরিণত হবে অভ্যেসে।"
এছাড়াও এই উপন্যাসে উঠে এসেছে অজস্র চরিত্র ও তাদের জীবনের জটিলতা, সম্পর্কের সমীকরণ। আন্তরিক আর ঝুমের কার্যকলাপ মাঝে মাঝে ভাবিয়েছে, কখনও তাদের অসহায়তা অনুভব করিয়েছে আবার মাঝে মাঝে বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে। স্বপ্ননীল আর স্বর্ণালীর সম্পর্কের পরিণতি বিষয়ে আরেকটু জানার ইচ্ছে ছিল। এ ব্যাপারে লেখিকার কার্পণ্য আমায় আহত করেছে। শুধুমাত্র এই জুটির পরিণতি টাই সুন্দরভাবে দেখানো হয়নি। আর সব চরিত্রের মাথার ওপরে বটগাছের মত রয়েছে নির্বাক সৌদামিনী দেবী। এরকম একজন ব্যক্তিত্বের সামনে মাথাটা অজান্তেই শ্রদ্ধায় অবনত হয়।
অসাধারণ লেগেছে আমার এই বইটি। বলতে বাধ্য হচ্ছি, লেখিকার যে তিনটে বই এখনও অবধি পড়লাম, তার মধ্যে মনের বেশি কাছাকাছি পৌঁছেছে "নির্বাক"।
🍁সদ্য পড়ে শেষ করলাম লেখিকা সাথী দাস এর লেখা “নির্বাক”! লেখিকার লেখা আমি আগেও পড়ছি। (অসমাপ্ত) ১০৭২ পেজের অসাধারণ একটি সামাজিক উপন্যাস। ওই উপন্যাস এর ৭২ পেজ ভীষন কাঁদিয়ে ছিলো, এই উপন্যাস তেও তাই, শেষ ৫৬ পেজ ভীষন কাঁদালো আবারো। এই বইয়ের Page Quality বইয়ের বাধাই ভীষণ সুন্দর, আর প্রচ্ছদটি তো অপূর্ব।
🍁উপন্যাস সম্পর্কে কি আর বলবো যতোই বলি না কেন কম বলা হবে। কিছু কিছু উপন্যাস থাকে না - উপন্যাসের চরিত্রগুলো আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায়, অনেক ভুল ও ধরিয়ে দিয়ে যায়, ঠিক তেমনি ই একটি উপন্যাস ‘নির্বাক’। উপন্যাসটি পড়ে এক বার ও আমার মনে হয়নি যে উপন্যাস পড়ছি। মনে হয়েছে সমস্ত চরিত্র গুলো কে আমি ভীষন কাছ থেকে দেখছি। এবং মনে হয়েছে আমার সামনেই সমস্ত ঘটনা ঘটে চলেছে। এই উপন্যাসে এত নিখুঁত বর্ণনা দেয়া রয়েছে প্রত্যেকটি পাতায় পাতায়, যেটা পড়ার পর ‘নির্বাক’ হয়ে যেতেই হয়। এই উপন্যাসে যেমন কিছু পুরানো সম্পর্ক ভেঙে যাবে, সেটা খুবই কষ্টকর। তেমনি কিছু নতুন সম্পর্ক আবারও নতুনভাবে শুরু হবে।
🍁আমি এমনিতেই ভীষণ আবেগপ্রবণ মানুষ, উপন্যাসটির শেষ ৫৬ টি পাতা মন ছুঁয়ে গেলো যা চোখে জল এনে দিলো। এই উপন্যাসের প্রতিটি পাতা আবেগে পরিপূর্ণ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক ভাঙাগড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে ঠিকই, তবে শেষটা ভীষণই ভালো। এই উপন্যাসের সাথে আমার যোগসূত্র খুঁজে পাই। উপন্যাসের প্রত্যেকটি চরিত্র ভীষণভাবে মনে দাগ কাটলো। অনেক কিছু বুঝতাম না, এই উপন্যাস একসপ্তাহের মধ্যেই তা শিখিয়ে দিলো। লেখিকা কে ���সংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি বই পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য। এই ভাবেই লিখতে থাকুন। আর আপনি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এটাই চাই। আপনার লেখা ত্রিভুজ বই টি আমার সংগ্রহে আছে। খুব তাড়াতাড়ি পড়বো। বাকি বই গুলি এখনো কেনা সম্ভব হয়ে ওঠেনি, ভবিষ্যতে কেনার ইচ্ছে রইলো।
🍁উপন্যাসের মুখ্য নারী চরিত্র সৌদামিনী মুখোপাধ্যায়। সৌদামিনী ‘নির্বাক’..... এক নির্বাক নারীর যুদ্ধ!যে বলতে পারে না, সে কি চায়!কেন চায়! তার কথা বা ইচ্ছের স্বপক্ষে, কোনো যুক্তি তার কাছে নেই। থাকলেও, তা কাউকে বোঝানোর কোনো ক্ষমতা নেই। কারণ তার ঝুলিতে, জন্ম থেকেই ঈশ্বর কোনো শব্দ দেননি। অথচ ওই একটিমাত্র অস্বাভাবিক ব্যাপারই তাকে স্বতন্ত্র করে দিয়েছে, আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের থেকে।
🍁প্রেমে বিশ্বাসের পরিমাপ ঠিক কতটা হওয়া উচিত? প্রেম কি কখনও বিকৃত হতে পারে? প্রেমের জন্য একজন নারী কতদূর পর্যন্ত একাকী যেতে পারে? ভালোবাসায় অনন্তকাল অপেক্ষা কি সম্ভব? বিকৃত প্রেমের স্বীকৃতিও কি সম্ভব? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এই উপন্যাস এ পাওয়া যাবে, সবাইকে বলবো এই উপন্যাস পড়ার জন্য। অসাধারণ একটি উপন্যাস।