আপনারা Overcoming Depression বইটা পড়তে পারেন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে লেখা বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো বই(আমার মতে)।
বাংলা ভাষায় লিখিত মনোবিজ্ঞান বিষয়ক সবচেয়ে ভালো বই ২ টি, আমার মতে। অনেক বই তো পড়া হয়। তার মধ্যে ২টা বই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো মনে হয়েছে।এ দুইটা বই আমার পড়া সেরা ২০ বই এর মধ্যে থাকবে।
এ দুইটা বই শুধু পড়লে হবে না। বইতে যে কাজগুলো করতে বলবে এবং যা লিখতে বলবে তা করতে হবে। বইয়ের কথাগুলো বাস্তব জীবনে অনুশীলন করতে হবে।
আশা করি এ দুইটা বই আপনাদের অনেক উপকারে আসবে। যারা এখনো পড়েননি, তারা শীঘ্রই পড়ে নিন।
বিষণ্ণতা কী?
১৪ দিনের বেশি এবং দিনে ১২ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে প্রচন্ড মন খারাপ। এর সংজ্ঞা বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। তীব্র হতাশার অনুভূতি, ঘুমের অভাব, কোনো কাজ করতে অনীহা বিষণ্ণতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
বিষণ্ণতার লক্ষণঃ
ক্লান্ত লাগা বা অবসাদ বোধ করা। কোনোকিছুতেই আগ্রহবোধ না থাকা। বিক্ষিপ্ত বোধ করা অথবা মনোনিবেশ করতে সমস্যা হওয়া। রাগের সমস্যা। নিজেকে মূল্যহীন মনে করা। ঘুমের সমস্যা। আত্নহত্যার চিন্তা করা। অতিরিক্ত অথবা কম ক্ষুধা। ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি। বারবার অতীত নিয়ে চিন্তা করা।
বিষণ্ণতার স্ট্রেসসমূহঃ
বাহ্যিক স্ট্রেস - যেকোনো দ্বন্ধ। অভ্যন্তরীণ স্ট্রেস - পারেফকশনিজম, আবেগপ্রবণতা, সংবেদনশীলতা, রাগ ইত্যািদ। মানসিক রোগ - জি এ ডি, ও সি ডি, বাইেপালার মুড ডিসঅর্ডার, ইটিং
বিষণ্ণতার চিকিৎসাঃ
যদি কোনো রোগী কোনো প্রকার স্ট্রেস না থাকা স্বত্ত্বেও বিষণ্ণতায় ভুগে থাকে তবে তার ওষধ সেবন করা দরকার। জীবনে কোনো স্ট্রেস থাকলে সেক্ষেত্রে কাউন্সেলিং কাযর্কর হয়।
বিষণ্ণতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের জীবনের দর্শন এমন হওয়া উচিতঃ
আমরা সবসময় সেই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করব যেগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। অনিয়ন্ত্রিত জিনিস নিয়ে কখনো ভাববো না। সবর্দা নিজের দিকে তাকাতে হবে। নিজের শক্তি এবং দুর্বলতাকে বুঝতে হবে। আমরা অন্যদের বিচার করব না। অন্যের সমালোচনা করারা পূর্বে নিজের সমালোচনা করব।
বিষণ্ণতা কমাতে করণীয়ঃ
আমাদের জীবনের প্রয়োজনীয় ৮ টি স্তম্ভের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমাদের উচিত স্যোশাল মিডিয়ার ব্যবহার সীমিত করা এবং সবসময় ইতিবাচক বিষয়গুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করা। আমরা সবর্দা আত্ন-সহানুভূতিশীল হওয়ার চেষ্টা করব।
যাইহোক না কেন, আমরা আমাদের ঘুমের সময় কোনো আপস করতে পারি না। আমরা একটা রুটিন অনুসরণ করার চেষ্টা করব। আমাদের নিজের সাথে নিজে পজিটিভ কথা বলার চর্চা করতে হবে, ভিজ্যুয়ালাইজেশন করতে হবে। একাডেমিক পড়ালেখার বাহিরে গল্পের বই, পত্রিকা পড়তে হবে এবং খেলাধুলা করতে হবে। অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিতে হবে।
কখন পেশাদার অভিজ্ঞ কারো সাহায্য চাইতে হবে?
যদি আচরণগত পরিবর্তন কাজ না করে তাহলে আমাদের সাইকিয়াট্রিক বা সাইকোলজিস্টের সাহায্য নিব।
This book is like a comprehensive handbook about Mental Health Issues (Depression mostly). And it also went to describe how a Psychiatrist/Psychologist diagnoses his/her patients. Quite interesting to read. But it's more interesting to apply the suggestions in real life, if possible.
সাইকোলজি নিয়ে এর আগে তেমন কোনো বই পড়া হয় নি। বইটি বেশ সুখপাঠ্য ছিলো। লেখক পেশায় একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ। বইজুড়ে তিনি দেখিয়েছেন কেন আমরা ডিপ্রেশন ভুগি এবং কীভাবে পেতে পারি পরিত্রাণ। এই বইয়ে কিছু পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা পালন করলে একজন ডিপ্রেসড মানুষের হতাশার ঘনকালো মেঘ কিছুটা হলেও কেটে যাবে৷ বেশকিছু লাইন মনে দাগ কেটেছে। এর মধ্যে 'সবার জীবনে সবকিছু থাকে না কিন্তু প্রত্যেকের জীবনেই এমন কিছু জিনিস থাকে যা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট।' লাইনটা বেশ ভালো লেগেছে।