💢 পাঠ প্রতিক্রিয়া 💢
লেখক গোলাম কিবরিয়া এর থৃলার উপন্যস "কিয়নগজি ১০০ দিন" পড়ে শেষ করলাম। বইটা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কিছু মতামত আমি দিচ্ছি। যেইটা, আমার একান্তই নিজস্ব। আপনি এবং আমি, দুজনই ভিন্ন স্বত্বা তাই আপনার সাথে আমার পছন্দ / মতামতে পার্থক্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। সুতরাং, ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকবেন।
আফ্রিকার একটা ছোট্ট দেশের রাষ্ট্র প্রধানকে ঘিরে জমাট বেঁধে উঠেছে ষড়যন্ত্রের কালো মেঘ, আর এই ষড়যন্ত্র আমেরিকা থেকে আফ্রিকা হয়ে সুদূর বাংলাদেশে এসে শেষ হয়েছে।
শুরুর দিকের কয়েকটা চ্যাপটারে প্রতিটা চরিত্রের খুটিনাটি এবং আশেপাশের সকল পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত থাকার কারনে একটু স্লো মনে হয়েছে। তবে, এই বিস্তারিত বর্ননা গুলো দরকার ছিল গল্পের ভেতরে পুরোপুরি ডুকার জন্য।
প্রথম থেকে ৯ম অধ্যায় পর্যন্ত পড়তে বেশ সময় লাগলেও, আমাজন জঙ্গলের ভিতরের ঘটনা শুরু হওয়ার পর থেকে শুরু হয় আমার ভালোলাগা, সেই সাথে পরবর্তীতে কি হলো বা হবে তা সম্পর্কে জানার প্রবল আগ্রহ। এডভেঞ্চার আর মজা, সেই সাথে গল্পের মূল দুই চরিত্র "ওমাগো হাতুই" এবং "জায়েদ" কে নিয়ে চিন্তাভাবনা।
তাই, ১০ম অধ্যায় থেকে টানটান উত্তেজনা ছিল একদম শেষ পর্যন্ত, যার কারনে বলা চলে পরের এই অংশটা শেষ করেছি এক বসায়। একবসায় শেষ করার মত যথেষ্ট কারনও ছিল। প্রথমত এক দিকে বিভিন্ন ধরনের কন্সপারেসি তো আছেই, সাথে আমাজান জঙ্গলের এডভেঞ্চার পূর্ণ যাত্রা। নদী পথের যাত্রা, পোর্টারদের চলাফেরা। আফ্রিকার এই ভয়াল জঙ্গলের বিভিন্ন হিংস্র প্রানী, প্রতিটা পদক্ষেপে মৃত্যুর ভয়, "কিগানি, ওজাহিরি, কিন্বা পিগমি" সম্প্রদায়ের হিংস্র মানুষদের আকশ্মিক আক্রমণের ভয়। সব মিলিয়ে, এক মিশ্র অনুভূতিপূর্ন উপন্যাস।
💠 চরিত্র বর্ননা:
পার্ল, ওমাগো হাতুই, জায়েদ, কাকাবুয়া মুরুয়া, মালিনা নেফ্রিদা সহ গল্পের প্রতিটা চরিত্র এতো সুন্দর করে বর্ননা করেছেন, প্রত্যকটি চরিত্রই যেন জীবন্ত। যার কারনে যেমন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়টা খুব সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে তেমনি ভয় ও এডভ্যেন্চার বিষয়গুলিও খুব সহজ ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
পুরো উপন্যাসে আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হল জায়েদ, তার পরিশ্রম, ত্যাগ, বুদ্ধিমত্যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
💠 গল্পের প্লট, গল্প বুনন ও লেখনশৈলী:
গল্পের প্লট সাধারণ এবং গল্প বুনন ছিল বেশ সাবলীল। গল্পের প্রত্যকটা সিকুয়েন্সের বর্ণনা সুন্দর ভাবে দিয়েছেন।
শুরুতে এমন সুন্দর ডিটেল্স না থাকলে, গল্পের ভেতরে এতো সহজে যেতে পারতাম না। গল্পের বুনন এতো ভালো ছিল বলেই এতটা সময় টানটান উত্তেজনা এবং সেই সাথে ভয় মিলিয়ে নিজেকে গল্পের একটা অংশ হিসাবেই ধরে নিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন চোখের সামনেই হচ্ছে সব। উপন্যাসের শেষটা বেশ চমৎকার ছিল যার কারনে উপন্যাস টি আরো বেশি উপভোগ্য মনে হয়েছে। আমাজান জঙ্গলে ছোটখাটো একটা ভ্রমণও হয়ে গেছে, সেই সাথে নতুন অনেক কিছুই জানতে পেরেছি।
আর, পাঠক একটা গল্প পড়ার সময় গল্পের ভেতরে ডুবে যাবে এই পরিবেশটা সব লেখক করতে পারে না। এই দিক দিয়ে আমি বলবো লেখক " Golam Kibria " খুব দক্ষতার সাথেই কাজটা করেছেন।
লেখকের লেখনীর মান যথেষ্ট ভালো, এই নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। যথেষ্ট পরিমাণে ভালো তথ্য, উপাদান দিয়েই খুব সুন্দর করে উপন্যাসটি আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন।
আগামী উপন্যাসের অপেক্ষায় থাকবো, শুভকামনা রইলো। ^_^