ব্যাপারটা কাকতাল বা হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়। এই ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো আমেরিকা থেকে আফ্রিকা হয়ে সুদূর বাংলাদেশ পর্যন্ত। আর এই জালে ফেঁসে গেল আটপৌড়ে এক বাঙালি যুবক। বাধ্য হয়ে পা বাড়াতে হলো অসম্ভবের পথে। শ্বাপদসংকুল দুর্গম জঙ্গলে প্রাণটা হাতে নিয়ে শুরু হল পথচলা।
অচেনা দেশ, অজানা জনপদে চারপাশে কেউ নেই যার কাছ থেকে মিলতে পারে বিন্দুমাত্র সাহায্য, সহানুভূতি। শত্রুপুরীতে একেবারেই একা। ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে বলির পাঠা হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আন্তর্জাতিক এই চক্রের হাতের পুতুল হয়েই কি তাকে অংশ নিতে হবে ইতিহাসের জঘন্যতম প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে?
প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর তপ্ত নিশ্বাস অনুভব করছে ঘাড়ের উপর। সীমাহীন লালসা, ক্ষমতা দখলের তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর বিশ্বাসঘাতকতার কুৎসিত রূপটাও প্রত্যক্ষ করতে হল খুব কাছে থেকে।
অক্টোপাসের মতো চারদিক থেকে জড়িয়ে থাকা চক্রান্তের হাত থেকে মুক্তির কোনো পথই কি খোলা নেই!
কাহিনি সংক্ষেপঃ আফ্রিকার একটা ছোট্ট দেশ। দেশটার আয়তন মাত্র ৬২ হাজার বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা আড়াই কোটি। পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা এই দেশের মাত্র ২২ শতাংশ জায়গায় জনবসতি আছে। আর বাকি অংশটুকু আজও দুর্গম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মূল্যবান খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ এই দেশ। কৃষিপ্রধান এই দেশটাকে বেশ কয়েকটা ছোট-বড় গোত্রের বাস হলেও এদের মধ্যে প্রধান দুটো গোত্রের নাম হাতুই ও ওজাহিরি। শত শত বছর ধরে এই দুটো গোত্রের মধ্যে চলে আসা বিরোধটা আজকেই এই আধুনিক যুগেও বর্তমান। রাজনীতিতেও হাতুই ও ওজাহিরি গোত্রের লড়াইটা সবার কাছেই দৃশ্যমান।
ওমাগো হাতুই বর্তমানে এই দেশটার প্রেসিডেন্ট। মিডিয়ার কল্যাণে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে এই মানুষটা রীতিমতো একজন রাজনৈতিক খলনায়ক হিসেবে কুখ্যাতি লাভ করেছেন। স্বেচ্ছাচারী একজন স্বৈরশাসক হিসেবে ওমাগো হাতুইকে তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমা জনসাধারণের কাছে। এর পেছনে অবশ্য বড় একটা রাজনৈতিক কারণ আছে। আর সেটা হলো, নিজ দেশে পশ্চিমা বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের কঠোর ও জেদি মনোভাব। আদতে তাঁকে তাঁর দেশের সাধারণ মানুষরা ভালোবাসে। প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে ওমাগো হাতুই কখনোই দুর্নীতির কাছে মাথা নত করেননি। ভালোবেসে তাঁকে সবাই ডাকে কিয়নগজি, সোহাইলি ভাষায় যার অর্থ লিডার বা নেতা।
সাদামাটা এক বাঙ্গালী যুবক জায়েদ। অপ্রত্যাশিত এক স্কলারশিপ পেয়ে সে পাড়ি জমালো স্বপ্নের দেশ আমেরিকায়। ড. অগাস্টিন নামের এক রহস্যময় লোকের অধীনেই জায়েদের কাজ করার কথা। কিন্তু আমেরিকায় গিয়ে সে অবাক হয়ে আবিস্কার করলো স্কলারশিপের সাথে সম্পর্কিত কোন অ্যাকাডেমিক বিষয়েই ওকে জড়ানো হচ্ছে না। বরং সেই জায়গাতে রীতিমতো কমান্ডো ট্রেনিং দেয়া হতে লাগলো তাকে। আর এরপরেই তাকে রীতিমতো অন্ধকারে রেখে রওনা করিয়ে দেয়া হলো আফ্রিকার ততোধিক অন্ধকার শ্বাপদসঙ্কুল পথে এক গোপন মিশনে। যা রহস্যময় ১০০ দিনের একটা প্রজেক্টের অংশ।
দীর্ঘদিন ধরে বুনে চলা এক জটিল ষড়যন্ত্রের জালে ফেঁসে গেলো সাদামাটা বাঙ্গালী যুবক জায়েদ। ক্ষমতার লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা আর প্রাণসংশয়ে ভরা এই অনিশ্চিত যাত্রার শেষ কোথায়, জানে না সে। মুক্তির পথ? সে তো আরো বহু দূরে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ গোলাম কিবরিয়া'র 'কিয়নগজি ১০০ দিন' বইটা মূলত একটা কন্সপিরেসি থ্রিলার হলেও এতে মিশে আছে কিছুটা অ্যাডভেঞ্চার ও এসপিওনাজ থ্রিলারের আবহও। বইয়ের প্রথম অর্ধাংশ কিছুটা স্লো মনে হয়েছে আমার কাছে। এই কারণে বইটা শেষ করতে একটু বেশিই সময় লেগে গেলো। গোলাম কিবরিয়া শুরু থেকেই চেষ্টা করেছেন বর্ণনার মাধ্যমে কাহিনির খুটিনাটি সব ব্যাপারেই বিস্তারিত একটা ধারণা দিতে। লেখকের এই বিস্তারিত বর্ণনার ধরণটা ভালো লাগলেও বেশ কিছু জায়গায় বর্ণনার রিপিটেশন লক্ষ্য করেছি। এই ব্যাপারটাতে সামান্য বিরক্ত হয়েছি। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আবহটা বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন তিনি তাঁর এই বইয়ে। আর সেই ষড়যন্ত্রের সাথে বাঙ্গালী এক যুবকের জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারটা সত্যিই বেশ থ্রিলিং লেগেছে আমার কাছে।
আফ্রিকার রহস্যময় ও বিপদসঙ্কুল জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাত্রার অংশগুলো বেশ উপভোগ করেছি। বেশ কিছু অজানা ব্যাপারেও ধারণা লাভ করেছি এই অংশগুলো থেকে। মন খারাপ করা কিছু ব্যাপারও অবশ্য এর মধ্যে ছিলো। সেসব সম্পর্কে লিখতে চাই না, স্পয়লার দেয়া হয়ে যাবে। আমি চেষ্টা করি রিভিউ স্পয়লার-ফ্রি রাখতে। 'কিয়নগজি ১০০ দিন'-এর শেষটা ছিলো সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য। উপন্যাসের শেষাংশে এসে লেখক বেশ চমৎকার একটা ফিনিশিং টাচ দিতে পেরেছেন বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। তাঁর পূর্ববর্তী উপন্যাস '২৪ ঘন্টা', 'পাপ', 'রক্ত' ও 'ফাঁদ' কখনো সুযোগ হলে পড়ার ইচ্ছা রাখি।
বইটাতে বেশ কিছু টাইপিং মিসটেক খেয়াল করেছি। কয়েক জায়গায় 'নানা' কথাটাকে 'না না' ও 'বিস্ফারিত'-কে 'বিস্ফোরিত' লিখতে দেখেছি। আশা করি পরবর্তী এডিশনে এই ভুলগুলো থাকবে না।
'কিয়নগজি ১০০ দিন'-এর প্রচ্ছদটা বোধহয় আরো একটু ভালো হতে পারতো। এটা নিয়ে আরো কাজ করা যেতো বলে মনে হয়েছে আমার।
A spider’s cobweb isn’t only its sleeping spring but also its food trap. — African proverb - কিয়নগজি: ১০০ দিন - ওমাগো হাতুই, আফ্রিকার একটি দেশের প্রেসিডেন্ট। দেশটির হাতুই সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা এই নেতা সেই দেশের ভেতরে বেশ জনপ্রিয় হলেও দেশের বাইরে অনেকেই তাকে স্বৈরশাসক হিসেবে অভিহিত করে। হঠাৎ সেই রাষ্ট্রের উপরমহলের কয়েকজন লোক বুঝতে পারে প্রেসিডেন্টকে ঘিরে বোনা হচ্ছে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের জাল। - জায়েদ, মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের কর্তার যেন এক প্রতিচ্ছবি। হঠাৎ তার কাছে আসে একটি লোভনীয় স্কলারশিপের সুযোগ। সেই সুযোগ লুফে নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমায় সে, কিন্তু সেখানে গিয়ে বুঝতে পারে আসলে স্কলারশিপের নামে তাকে আমেরিকা আনা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্দেশ্যে। - এখন আফ্রিকার সেই দেশকে ঘিরে কোন ধরণের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে? এর পেছনের কলকাঠি কে বা কারা নাড়ছে? এ সব কিছুর সাথে জায়েদ কীভাবে জড়িয়ে যায়? তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক গোলাম কিবরিয়া এর কন্সপিরেসি থ্রিলার ঘরানার উপন্যাস "কিয়নগজি: ১০০ দিন"। - "কিয়নগজি: ১০০ দিন" বইটি মোটাদাগে কন্সপিরেসি থ্রিলার হলেও বইতে অ্যাডভেঞ্চার, পলিটিক্যাল থ্রিলার এবং এসপিওনাজের কিছুটা ছোঁয়াও ছিলো। বইটি প্রথমে বেশ ধীরগতিতে শুরুর পরে প্রধান চরিত্রগুলো ভালোভাবে ফোকাসে আসলে কাহিনি এর আসল রহস্যের দিকে আগায়। তাই বইয়ের মাঝের পার্টটি সবথেকে ভালো লাগলেও শেষে গিয়ে একটু তাড়াহুড়ো করেই শেষ করা হয়েছে বলে মনে হলো। - "কিয়নগজি: ১০০ দিন" বইয়ের চরিত্রগুলোর ভেতরে প্রেসিডেন্ট ওমাগো হাতুই এবং জায়েদ সবথেকে বেশি ফোকাস পেয়েছে। এছাড়াও পোচার কাকাবুরা চরিত্রটি বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। ইনফ্যাক্ট বইয়ের সবথেকে ভালোলাগার অধ্যায়গুলোর বেশিরভাগই কাকাবুরা এবং জায়েদের যুগলবন্দীর অধ্যায়গুলোর ভেতরে পড়বে। "কিয়নগজি: ১০০ দিন" বইয়ের ভেতরে বেশ কিছু জায়গার বর্ণনা বিশেষ করে আফ্রিকান দেশটির ভৌগোলিক, জাতিভেদ এবং বনাঞ্চলের বর্ণনা বেশ চমৎকারভাবে বর্ণিত হয়েছে। তবে সেদিক থেকে বইয়ের অ্যাকশন দৃশ্য আরেকটু ভালো করা যেত বলে মনে হলো, বিশেষ করে একেবারে শেষদিকের অ্যাকশন দৃশ্য খুব একটা বাস্তবসম্মত মনে হলো না। - "কিয়নগজি: ১০০ দিন" বইয়ের সম্পাদনায় কিছুটা ঘাটতি চোখে পড়লো। একেবারে সিলি কিছু প্রিন্টিং আর টাইপিং মিস্টেক দেখলাম, যা পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করা হবে আশা করি। বইয়ের প্রচ্ছদটি অ্যাভারেজ লাগলো। বইয়ের বাধাঁই সহ অন্যান্য দিক দামের তুলনায় অবশ্য বেশ মানানসই। - এক কথায়, কন্সপিরেসি থ্রিলার এবং অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলারের মিশেলে "কিয়নগজি: ১০০ দিন" বইটিকে উপভোগ্য বলা চলে বাংলা মৌলিক থ্রিলার হিসেবে। যারা এ ধরনের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং জঙ্গলবেষ্টিত অ্যাডভেঞ্চার টাইপ বই পড়তে পছন্দ করেন তারা বইটা পড়ে দেখতে পারেন।
বড় ক্যানভাসে ঝরঝরে লেখা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান ভাব বজায় ছিল। কাহিনির কোথাও ছন্দপতন ছিল না।নিঃসন্দেহে লেখকের এটি মাস্টারপিস। বইটির জন্য শুভ কামনা।
অসাধারণ! এক কথায় যাকে বলে "Unputdownable", ঠিক সেরকম ই একটি বই৷ কিন্তু এত অসাধারণ একটা বই নিয়ে তেমন একটা আলোচনা/সমালোচনা , রিভিউ, পাঠ প্রতিক্রিয়া আমার চোখে পরে নি...সে দিক থেকে বই টা বেশ " Underrated". এটার একটা কারণ হতে পারে বইটির কভার৷ অবশ্যই এটা সম্পূর্নই আমার ব্যক্তিগত মতামত৷ ' Don't judge a book by a cover', এটাই হওয়া উচিত৷ কিন্তু আমি নিজেই সেরকমটা মেনে চলতে পারি না, আমার মনে হয় খুঁজলে এরকম আরো ২/৪ জন পাঠক জুটে যেতে পারে৷ আমি কভার দেখে নিজের মনে একটা ধারণা দাঁড় করাই- কেমন হতে পারে গল্প, বইটার পিছনে লেখক-প্রকাশক কতটা শ্রম দিয়েছেন প্রভৃতি। তাই আমার মনে হয়েছে, এই বইটির কভার আরো অনেক বেশি সুন্দর, আকর্ষনীয় হওয়া উচিত ছিল, ভেতরের গল্পটা নিজেই এই দাবির পক্ষে শক্তিশালী প্রমান৷
লেখকের কাহিনী বলার ধরণ খুবই চমৎকার৷ কোনো প্লট হোল নেই৷ অবাস্তব/কাকতালীয় গোজা-মিলে ক্লাইম্যাক্স এ আসা, এই জিনিসটা একে বারেই নেই৷ এটাই বইটি প্রশংসা পাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে৷ কারণ বর্তমানে 'গুপ্ত সংঘ...হারানো বই/ফর্মুলা....তার পিছনে লেগে থাকা নায়ক/নায়িকা...প্লট হোল যুক্ত কাহিনী...অবাস্তব গোজা মিলে ক্লাইম্যাক্স আনা' প্রভৃতি র বাইরে থ্রিলার বই খুব কম ই লেখা হচ্ছে৷ নামে মৌলিক হলেও, কোথায় যেন পাশ্চাত্যের একজন বিশেষ লেখককে অনুকরণ করার চেষ্টা৷ সে দিক থেকে 'কিয়নগজি ১০০ দিন' একে বারেই আলাদা৷ এই 'প্রভাবমুক্ত' লেখনীর জন্য লেখক গোলাম কিবরিয়া অবশ্যই প্রসংশার দাবিদার৷ লেখকের জন্য শুভ কামনা, সামনের দিন গুলোতে যেন তিনি পাঠকদের এরকম আরো সুন্দর বই উপহার দিতে পারেন...
মোটাদাগে বলতে পারি যথেষ্ট ভালো। লেখকের আগের কোন বই পড়া হয়নি। এটাই প্রথম। থ্রিলার, এডভেঞ্চার, একশন, সব মশলা দিয়ে ভালোই কষানো ছিল। তবে, টুইস্ট থাকলেও তেমন দাগতে পারেনি। এবং এটাও সত্য যে এইজন্য কোন পয়েন্ট মাইনাস হবে না। লেখাতে আরোও কিছু এডভেঞ্চার এবং একশনের সুযোগ হয়তো ছিল। দেখা যাক, লেখকের আরো কোন লেখা পড়ে।
লেখক গোলাম কিবরিয়া এর থৃলার উপন্যস "কিয়নগজি ১০০ দিন" পড়ে শেষ করলাম। বইটা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কিছু মতামত আমি দিচ্ছি। যেইটা, আমার একান্তই নিজস্ব। আপনি এবং আমি, দুজনই ভিন্ন স্বত্বা তাই আপনার সাথে আমার পছন্দ / মতামতে পার্থক্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। সুতরাং, ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকবেন। আফ্রিকার একটা ছোট্ট দেশের রাষ্ট্র প্রধানকে ঘিরে জমাট বেঁধে উঠেছে ষড়যন্ত্রের কালো মেঘ, আর এই ষড়যন্ত্র আমেরিকা থেকে আফ্রিকা হয়ে সুদূর বাংলাদেশে এসে শেষ হয়েছে।
শুরুর দিকের কয়েকটা চ্যাপটারে প্রতিটা চরিত্রের খুটিনাটি এবং আশেপাশের সকল পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত থাকার কারনে একটু স্লো মনে হয়েছে। তবে, এই বিস্তারিত বর্ননা গুলো দরকার ছিল গল্পের ভেতরে পুরোপুরি ডুকার জন্য। প্রথম থেকে ৯ম অধ্যায় পর্যন্ত পড়তে বেশ সময় লাগলেও, আমাজন জঙ্গলের ভিতরের ঘটনা শুরু হওয়ার পর থেকে শুরু হয় আমার ভালোলাগা, সেই সাথে পরবর্তীতে কি হলো বা হবে তা সম্পর্কে জানার প্রবল আগ্রহ। এডভেঞ্চার আর মজা, সেই সাথে গল্পের মূল দুই চরিত্র "ওমাগো হাতুই" এবং "জায়েদ" কে নিয়ে চিন্তাভাবনা।
তাই, ১০ম অধ্যায় থেকে টানটান উত্তেজনা ছিল একদম শেষ পর্যন্ত, যার কারনে বলা চলে পরের এই অংশটা শেষ করেছি এক বসায়। একবসায় শেষ করার মত যথেষ্ট কারনও ছিল। প্রথমত এক দিকে বিভিন্ন ধরনের কন্সপারেসি তো আছেই, সাথে আমাজান জঙ্গলের এডভেঞ্চার পূর্ণ যাত্রা। নদী পথের যাত্রা, পোর্টারদের চলাফেরা। আফ্রিকার এই ভয়াল জঙ্গলের বিভিন্ন হিংস্র প্রানী, প্রতিটা পদক্ষেপে মৃত্যুর ভয়, "কিগানি, ওজাহিরি, কিন্বা পিগমি" সম্প্রদায়ের হিংস্র মানুষদের আকশ্মিক আক্রমণের ভয়। সব মিলিয়ে, এক মিশ্র অনুভূতিপূর্ন উপন্যাস।
💠 চরিত্র বর্ননা: পার্ল, ওমাগো হাতুই, জায়েদ, কাকাবুয়া মুরুয়া, মালিনা নেফ্রিদা সহ গল্পের প্রতিটা চরিত্র এতো সুন্দর করে বর্ননা করেছেন, প্রত্যকটি চরিত্রই যেন জীবন্ত। যার কারনে যেমন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়টা খুব সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে তেমনি ভয় ও এডভ্যেন্চার বিষয়গুলিও খুব সহজ ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। পুরো উপন্যাসে আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হল জায়েদ, তার পরিশ্রম, ত্যাগ, বুদ্ধিমত্যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
💠 গল্পের প্লট, গল্প বুনন ও লেখনশৈলী: গল্পের প্লট সাধারণ এবং গল্প বুনন ছিল বেশ সাবলীল। গল্পের প্রত্যকটা সিকুয়েন্সের বর্ণনা সুন্দর ভাবে দিয়েছেন। শুরুতে এমন সুন্দর ডিটেল্স না থাকলে, গল্পের ভেতরে এতো সহজে যেতে পারতাম না। গল্পের বুনন এতো ভালো ছিল বলেই এতটা সময় টানটান উত্তেজনা এবং সেই সাথে ভয় মিলিয়ে নিজেকে গল্পের একটা অংশ হিসাবেই ধরে নিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন চোখের সামনেই হচ্ছে সব। উপন্যাসের শেষটা বেশ চমৎকার ছিল যার কারনে উপন্যাস টি আরো বেশি উপভোগ্য মনে হয়েছে। আমাজান জঙ্গলে ছোটখাটো একটা ভ্রমণও হয়ে গেছে, সেই সাথে নতুন অনেক কিছুই জানতে পেরেছি।
আর, পাঠক একটা গল্প পড়ার সময় গল্পের ভেতরে ডুবে যাবে এই পরিবেশটা সব লেখক করতে পারে না। এই দিক দিয়ে আমি বলবো লেখক " Golam Kibria " খুব দক্ষতার সাথেই কাজটা করেছেন। লেখকের লেখনীর মান যথেষ্ট ভালো, এই নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। যথেষ্ট পরিমাণে ভালো তথ্য, উপাদান দিয়েই খুব সুন্দর করে উপন্যাসটি আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন।