বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনকে গভীররভাবে যিনি স্পর্শ করেছেন তিনি হুমায়ূন আহমেদ।জাদুকরী লেখনী দিয়ে জয় করে নিয়েছেন মানুষের মনন।একটা সাদা বাড়ি ও এর মধ্যে বসবাসকারী ছোট এক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করেে গড়ে উঠেছে উপন্যাসের পটভূমিকা।অর্থ মানুনুষকে বদলে দেয় এবং শুধুমাত্র অর্থনৈতিক জীবনযাত্রার বৈশ্লস্টিতেই যে মানুষের আসল রুপ বেরিয়ে আসে তার প্রমান হুমায়ূনের এই বই।জীবনকে তুলে এনেছেন অদ্ভুত এক ছন্দে।কোথাও কোথাও কয়েকটা চরিত্রকে অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও জীবনের মতোই তার স্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। মধ্যবিত্ত চাওয়া পাওয়াকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস হয়ে ওঠে যেন বর্তমানেরই এক উপজীব্য!
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
আমরা সব মানুষ আলাদা আমাদের নিজস্ব চিন্তা ভাবনাও আলাদা।একটি সাদা বাড়িতে অবস্থানরত কিছু মানুষের জীবন নিয়ে উপন্যাসটি। সাদা বাড়িতে বাস করে পাঁচজন ভাইবোন তারা একই মায়ের পেটের কিন্তু তারা স্বভাব চরিত্রে সম্পূর্ণ আলাদা। হুমায়ূন আহমেদ মানব চরিত্রের যে ব্যাপকতা রয়েছে তা তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসে। এই সাদাবাড়ির বড় মেয়েটি বিবাহিত, দু সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন কিছু সময় ধরে।বড় মেয়েটি ভ্যাদকান্দুনী,বোকা টাইপ।বড় ছেলেটি সাদাসিধা, বাস্তবজ্ঞান শূন্য। মেজ ছেলে স্বার্থপর,তারপরের ভাইটি বাস্তবজ্ঞান সম্পূর্ণ, সরল আর এই উপন্যাসের ন্যারেটর।ছোট বোন নিতু ভালো, বুদ্ধিমতি ও স্পষ্ট বক্তা। বাড়ির মানুষেরা স্বাভাবিক ছিলো কিন্তু বাড়ির মালিকানা পাবার পর তাদের জীবন কেমন জানি এলোমেলো হয়ে গেল। বইটি খুব ছোট কিন্তু ভালো লেগেছে পড়তে, শেষটা অসমাপ্ত এটা ভালো লাগেনি।
রঞ্জুরা পাঁচ ভাইবোন। ওর দুই বোন আর আছে দুই ভাই। ওরা একেকজন একেক স্বভাবের। রঞ্জুর বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদের কমন ক্যারেক্টার- ঘরে বসে পা দুলিয়ে অন্ন গেলা আর সবার পরিবর্তন খেয়াল করা টাইপ চরিত্র। রঞ্জুর মেজো ভাই ইসতিয়াক ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ালেখা করছে; বড় আপার বিয়ে হয়েছে এবং তার দুইটা অতিরিক্ত চিৎকার করা মেয়েও রয়েছে; আর সবচেয়ে ছোট জনের নাম নীতু, ইনি ভার্সিটির ফ্রেশার। অন্যান্য অনেক বইয়ের মতোই এখানেও এদের সবার পিতার ডিমেনশিয়া রয়েছে এবং মাতা বেহুদা চিৎকার চেঁচামেচিকারিনী (-_-)
রঞ্জুদের দোতালা শাদা বাড়িটা ইয়া বিশাল! কিন্তু বাড়িটা আসলে ওদের নয়। ওর বাবার বন্ধু মইনুদ্দিন সাহেব বাড়িটার দেখাশোনার জন্য ওদের দায়িত্ব দিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন। তিনি আর কাউকে ভরসা পান না। নিজের বেকারত্বের সময়ে এই রঞ্জুর বাবাই তাকে আশ্রয় দিয়েছিল নিজের ঘরে। তো যাইহোক, সময়ের ফেরে মইনুদ্দিন সাহেবের মৃত্যু হয় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এবং মৃত্যুর সময়ে তিনি বাড়িটি রঞ্জুদের দিয়ে যান। পরে দেখা যায় বাড়িটা আসলে রঞ্জুর মায়ের নামে লিখে দিয়ে গেছেন। মইনুদ্দিন সাহেবের মেয়ে তানিয়া দেশে আসলে আরও অনেক কিছু জানা যায়। তিনি মৃত্যুশয্যায় মেয়েকে বলেছেন- রঞ্জুর মা উনার অনেক সেবাযত্ন করেছেন, ব্যবসার জন্য নিজের বিয়ের হার পর্যন্ত বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন! পরে আরও জানা যায়, রঞ্জুর মা সে সময় মইনুদ্দিন সাহেবকে একবার গল্প করতে করতে বলেছিলেন যদি তার অনেক টাকা হয় তাহলে তিনি অনেক জায়গাজুড়ে শাদা বাড়ি বানাবেন। তানিয়া মারফত আরও জানা যায় যে, রঞ্জুর মা'র তরুণী বয়সের অসম্ভব সুন্দর ছবি ওদের বাসায় রয়েছে। এসব শুনে রঞ্জুদের মায়ের মুখ খুব ফ্যাকাশে হয়ে যায় আর মেজোভাই নিজেদের মধ্যে তানিয়ার মতো ধূসর চোখ খুঁজে বেড়ায়..
৯ জুন, ২০২৩
This entire review has been hidden because of spoilers.
শেষের দিকে আমি যা ধরে নিয়েছি লেখক কি সেটাই বোঝাতে চাইলেন? যদি তাই হয় তাহলে খুবই ডিস্টার্বিং একটা বিষয়। ধরে নিলাম আমার ধারণাই সঠিক।
মানুষের গোপন পাপ থাকে, দুঃখ থাকে, অনেক গোপন আনন্দও থাকে। যেগুলো কখনো কাউকে বলা হয় না, বলা যায় না। সেগুলো গোপন থাকলে সেসবকে সংগোপনে লালন করতে ভালো লাগে, কিন্তু প্রকাশিত হয়ে পড়লে সকলের কাছে নিজেকে ছোট হতে হয়, নিজের কাছেও হতে হয়।
মানুষের এসব গোপন পাপ, দুঃখ, আনন্দ থাক না গোপন। পৃথিবীতে যেভাবে গোপন থেকে যায় বুনো পলাশের লাল অথবা অমাবশ্যায় চাঁদ।
বাগানবিলাসে জড়ানো চমৎকার সাদা বাড়ির গল্প যে আয়েশে আগ্ৰহ নিয়ে শুরু করেছিলেন ভাষার বুনটে তরতর করে এগিয়ে যাওয়া সেই কাহিনীর ছন্দপতনে একটা ভালো গল্প পাবো সেই আশায় গুড়ে বালি হয়ে গেছে আর কি
একটা সাদা বাড়ি, বাবা-মা, পাঁচ ভাইবোনের গল্প। আলাদা আলাদা ব্যক্তিত্বের সবাই। কিন্তু ঝামেলা তখনই বাঁধে যখন বাবার বন্ধু সাদা বাড়ি তাদের দিয়ে মারা যান। সাদামাটা ছোট একটা বই। শেষটা কেমন জানি অসমাপ্ত। মেজো ভাইয়ের সন্দেহ আদোও সঠিক কিনা বুঝলাম না।
বুনো ভাইয়ের চোখ কী আসলেই ব্রাউন ছিল? নাকি অন্য কারো চোখ, প্রশ্নটা রয়েই যায়। মেজো ভাইয়ের সন্দেহ সঠিক না ভুল তাও বলা যায় না। শেষটা পরিপূর্ণ বলা যায় না।
শুরুটা সুন্দর ছিমছাম গোছানো একটি পরিবারের গল্প। যেনো অনায়াসেই দেখে চলা কোনো প্রতিবেশীর গল্প পড়ছি। কিন্তু হুট করে পরিবর্তন হতে শুরু করে সব ভিন্ন হতে থাকে গল্প, গল্পের ধারা, গল্পের বয়ান! আসলে পরিবারের প্রতিটি মানুষ এর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার স্যাপার কখনো এক হয় না একে অপরের চেয়ে আলাদা হবেই! শেষটাই যেনো পরিষ্কার বয়ান এর!!
আমি যাচ্ছি চোখের ডক্টরের কাছে। ৬ মাস পর পর চেকাপের জন্য যেতে হয় আমার। ক্লিনিক অব্দি যেতে সময় লাগে প্রায় ৪০-৪৫মিঃ (ভাগ্যিস খুলনাতে কোন জ্যাম নাই)। এরপর ডক্টরের চেম্বারের সামনে ওয়েটিং এ বসে থাকতে হয় আরো আধঘন্টা, সুতরাং মোটমাট ঘন্টা দেড়েক হুদাই বসে থাকতে হবে ভেবে, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ব্যাগে একটা বই নিয়ে বের হই। ইফ ইনকেস যদি সুযোগ হয় তবে পড়ব। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে ওয়েটিং রুমে ছিল সাংঘাতিক ভিড়, বসার জায়গাটা অব্দি নাই। একপায়ে নিজের শরীরের ভাড় দিয়ে অন্য পা হালকা ভাজঁ করে ভাবছিলাম কি করব। হুট করে মনে আসল, আরেহ ফোনে তো অডিওবুক ডাউনলোড করা ছিল। এরপর ব্যাগ থেকে TWS টা বের করে কানে দিয়ে শুনতে থাকি, কল্লোল ভাইয়ের জবানীতে "আমাদের সাদা বাড়ি"।
হুমায়ূন আহমেদের আর দশটা উপন্যাসের মতনই এটা। নতুনত্ব নাই। এক গাদা ভাইবোন, এক এক জন এক এক রকমের স্বভাবের, বাবা হুটহাট কারণে অকারণে চিৎকার চেঁচামেচি করে তার নিজের ক্ষমতার প্রকাশ ঘটান। মা সাদাসিধা কিন্তু পরিস্থিতি ভেদে সেও জ্বলে উঠেন আপন গতিতে। এই তো, এই ছিমছাম পরিবার নিয়েই গল্প।
তবে নতুনত্বের মধ্যে ছিল... এই পরিবারের বাসাটা, যেটা প্রোটাগনিস্ট রন্জুর, বাবার বন্ধু মঈনউদ্দীনের কিন্তু সে বিদেশে থাকায় বাসাটা দেখভালের দায়িত্ব পরে এই পরিবারের পর। এই পরিবারে তাদের বেড়ে উঠা, তাদের আনন্দ, বেদনা সবকিছুর সাক্ষী এই বাড়িটা। কিন্তু একই সময় এই বাড়িটা আবার পার্মানেন্ট না তাদের জন্য। তাদের মনে সবসময় একটা ভয় যে একদিন মঈনউদ্দীন সাহেব ফিরে আসবেন আর এই বাড়িটা তাঁদের ছেড়ে দিতে হবে। তখন কি হবে!? যে মায়ার বাঁধনে তারা জড়িয়ে আছেন, পারবেন কী এত সহজে সেই বাঁধন ছেঁদ করে দিতে?
উপন্যাসটা শুনছিলাম আর.. মনে মনে একটা সাদাবাড়ি কল্পনা করছিলাম। আমাদের খুলনাতেই, জেলা স্টেডিয়ামের ওখানে মস্ত বড় এক সাদা বাড়ি আছে। জমিদারি ধাঁচের বাড়িটা সবসময় তালাবদ্ধ থাকে, বাড়িটা দেখতে অনেকক সুন্দর। বারবারই এই বাড়িটাই রন্জুদের বাড়ি ভাবছিলাম।
ডক্টর দেখায় বাড়ি ফেরার পথেই উপন্যাসটা শেষ হয়ে যায়। শেষটায় একটা ধাক্কা খেয়েছিলাম যদিও, তবে খারাপ লাগে নাই। অসমাপ্ত লেগেছে, অবাক হওয়ার কিছু নাই লেখক হুমায়ূন আহমেদ।
একবার পড়ে তুলে রাখার মতন বই, নাথিং স্পেশাল জাস্ট, সময়টা ভাল কেটে যায়।
ধরুন আপনার ঘুড়িটা দারুণ ভাবে আকাশে উড়ছে। হঠাৎ কেন যেন সুতোটা ছিরে গেলো। আপনার যেমন অনুভূতি হবে, বইটার শেষ পাতাটা পড়ার পর আপনার হয়তো ঠিক তেমনি অনুভূতি হবে। লেখক হয়তো লিখতে লিখতে হঠাৎ চিন্তা করলেন ধুর, আর লিখবো না। ব্যাস শেষ।
I was curious about this book and wanted to read it, but I never bought it—despite having over 120 books by this author. It just felt like another one of his usual stories.
His book রজনী left me shaken, something I could never forget. So, I expected আমাদের শাদা বাড়ি to be just as powerful. But after finishing it, I felt nothing. I couldn’t even understand what the author was trying to say.
সাদা বাড়িতে কেয়ার টেকারের হিসাবে থাকে রনজুরা। রনজুরা ৫ ভাই বোন, সাথে মা, বাবা। বাড়ির মালিক মইনুদ্দিন বিদেশ যাবার সময়, বাড়িটা দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান তার ছোট বেলার বন্ধু রনজুর বাবাকে। হটাত একদিন মারা যান মইনুদ্দিন সাহেব বিদেশেই এবং মরার আগে সাদা বাড়িটি দিয়ে যান রনজুদের কে। এর পর ধীরে ধীরে গল্পে আসে টার্ণ।
১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ৪৮ পৃষ্ঠার এই বইটির গল্প একটা সাদা বাড়ি ও এর মধ্যে বসবাসরত এক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
প্রথমেই সাদা বাড়িটির ঠিকানা বলে রাখি- রাস্তার ডান দিকে মোড় নিলেই লাল রঙের বাগানবিলাসের পাতা দিয়ে ঢাকা এই বাড়িটি দেখা যায়। কেউ আবার জিজ্ঞেস করোনা যে কোন রাস্তা। তা আমি বলতে পারবো না। কারণ লেখক তা উল্লেখ করেননি।
যাইহোক এবার বলি যে বাড়িটিতে কারা থাকেন। এই সাদা বাড়িতে রঞ্জু ,তার মা-বাবা এবং রঞ্জুর চার ভাই-বোন থাকে।
মজার ব্যাপার হলো যে রঞ্জুরা এ বাড়ির মালিক না আবার তারা এ বাড়িতে ভাড়াও থাকে না। তারা হলো এই বাড়ির কেয়ারটেকার। বাড়িটি হলো রঞ্জুর বাবার বন্ধু- মইনুদ্দীন সাহেবের। তিনি ইংল্যান্ডে থাকেন আর বাড়ির বিভিন্ন কাজ, যেমন: ছাদে রেলিং দেওয়াসহ ইত্যাদি আরো অনেক কাজের জন্য প্রায়ই টাকা পাঠান। কিন্তু রঞ্জুর বাবা এই টাকাগুলো বাড়ির জন্য খরচ না করে, বিভিন্ন ব্যবসার জন্য খরচ করেছেন আর তার কোনো ব্যবসাই টিকে থাকেনি।
রঞ্জুদের জীবন আরামেই কেটে যাচ্ছিল কিন্তু হঠাৎ করেই মইনুদ্দীন সাহেবের চিঠি থেকে জানা যায় যে তিনি শীঘ্রই দেশে আসবেন।
এখন রঞ্জুদের কী হবে? ওদে�� কী এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে হবে?
বইয়ের নাম দেখেই কিছুটা অনুমেয় যে গল্পটা হয়তো শাদা বাড়িকে ঘিরে। ঠিক ধরেছেন।
বাগানবিলাসে ঘেরা একটি দুতলা শাদা বাড়িকে কেন্দ্র করেই আমাদের শাদা বাড়ি রচিত। ধবধবে শাদা রঙের বাড়িটা ঠিক যেন নীল আকাশের বুকে একগুচ্ছ ধবল সাদা মেঘ ।
বাড়ির কর্তা এবং তার পাঁচ সন্তান নিয়ে বসবাস এই শাদা বাড়িতে যদিও বাড়িটা তার বন্ধু মইনুদ্দিনের। গল্পকথক রঞ্জু।বাড়ির কর্তার ছোট ছেলে।
মইনুদ্দিন চাঁচা একসময় তাদের বাড়িতে ছিলেন অনেকটা সময় ,তখন তিনি অসুস্থ হলে মা ওনার সেবা করেন। চাঁচা একসময় অনেক টাকার মালিক হন পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে।রঞ্জুদেরকে তার বিশাল বাড়িতে থাকতে দেন। যদিও মৃত্যুর পূর্বে বাড়িটা তাদের নামেই দেন।
রঞ্জুর বাবা বাড়ির কাজের ছুতোয় মইনুদ্দিন সাহেবের থেকে বহুবার টাকা নিয়েছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করেননি।এ নিয়ে তাঁর ভয়েরও শেষ নেই কখন বন্ধু দেশে চলে আসেন আর এসে বাড়ির অবস্থা দেখেই বা বন্ধুকে কি বলেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মইনুদ্দিন সাহেব তার মেয়ে দোয়া চেয়ে চিঠি পাঠান রঞ্জুদের বাড়ি। রঞ্জুর বাবা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন যদিও বন্ধুর অসুস্থতার জন্য মন খারাপও হয়েছে। কিছুদিন পর মইনুদ্দিন সাহেব মারা যান এবং এই বাড়িটা তিনি বন্ধুকে দিয়ে যান।
তবে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো বাড়িটা তাদের নিজের করে পাওয়ার পর থেকেই দেখা দেয় নানান সমস্যা। গল্পের ভাষ্যনুসারে ভেবেছিলাম হয় জ্বীন-ভূত নয়তো সায়েন্স ফিকশনের দেখা মিলবে তবে আমার ধারণা পুরোপুরি ভুল ছিলো।
গল্পের শেষের দিকের কথকের মায়ের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠে,সন্দেহটা আরো জোড়ালো হয় যখন দেখা যায় মইনুদ্দিন সাহেব বাড়িটা রঞ্জুর বাবার নামে না দিয়ে মায়ের নামে দিয়েছেন, এবং স্টুডিওতে তোলা মঈনুদ্দিন চাচার সাথে তার মায়ের কিছু ছবি।
কি সম্পর্ক ছিলো রঞ্জুর মায়ের সাথে মইনুদ্দিন চাঁচার, আর কেনই বা তিনি বাড়িটা মায়ের নামে দিলেন। একধরনের অস্থিরতা চলতে থাকবে আপনার মনে। দ্বিধা দ্বন্দ্বের দোদুল্যমান অবস্থায় এনে লেখক ইতি টেনেছেন গল্পের। এ যেন শেষ হয়ে হইলো না শেষ।
পাঠককে এই ধরনের মিশ্র অনুভূতির জোয়ারে ভাসিয়ে বিষাদের যন্ত্রণায় কাতর করার জন্যই হয়তো লেখক গল্পের কোনো সমাপ্তি দেননি
This entire review has been hidden because of spoilers.
একটি বাড়ি, তার মধ্যে থাকা কিছু মানুষ। এবং সেই বাড়িতে তাদের বসবাস। এদের নিয়েই রচিত হুমায়ুন আহমেদে অসাধারণ ছোট উপন্যাস ‘আমাদের শাদা বাড়ি’। মানুষ বেঁচে থাকে কোনো কিছুর আশা নিয়ে। কোনো একটা চাহিদা নিয়ে। এই চাহিদা মানুষকে আর মানুষ রাখে না। কখনো নিয়ে যায় উপর থেকে উপরে, কখনো বা নিয়ে যায় অতল গভীরে।
শাদা বাড়ির কর্তার পাঁচ সন্তান নিয়ে বসবাস বন্ধুর দেয়া বাড়িতে। প্রথম অবস্থায় বাড়িটিতে তিনি কেয়ারটেকার হিসেবে থাকতে শুরু করেন। বাড়ি দেখভাল করার অযুহাতে বেশ কয়েবার টাকা আনিয়ে সেই টাকায় তিনি অন্য কাজ করেন। এবং সেই কাজও বিফল হয়। ফলশ্রুতিতে তিনি সব সময় উৎকন্ঠিত অবস্থায় দিন পার করেন। কখন তার বন্ধু ফিরে আসে। আর তার কাছে কৈফিয়ত চায় এই ভয়ে থাকেন সব সময়। ও হ্যা, বন্ধুবর বিদেশে থাকেন।
কর্তার বড় ছেলে পড়াশোনা শেষে করে আপাতত বিশ্রামে আছেন। তিনি দিনদুনিয়ার খবর নেন পেপার পড়ে। মেজো ছেলে পড়াশোনা করছেন, তবে তিনি বেশ ধুরন্ধর সভাবের। ছোট ছেলেই মূলত এই গল্পের কথক। বড় বোন বিবাহিত, বর্তমানে দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি বেড়াতে এসেছেন। তিনি বেজায় অভিমানী। ছোট বোনটি স্পষ্টভাষী, চঞ্চল।
কর্তার বন্ধু যখন শারীরিক অসুস্থার জন্য যখন দেশে আসতে পারবে না বলে খবর পাঠালেন তখন তার বন্ধু দুঃখীত হবার পরিবর্তে বোধহয় খুশিই হয়ে থাকবে। আর এখানেই লেখক দারুণ চমৎকার এক শিক্ষা রেখে গেছেন সবার জন্য।
আসলে গল্পের যাদুকর হুমায়ুন আহমেদ এই ছোট গল্পটির পরতে পরতে রেখে গেছেন অনেক শিক্ষা। মানুষ কতরকমের চরিত্রে অভিনয় করতে পারে তার নিজের প্রয়োজনে সেটার চমৎকার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন এই বইতে। আশাকরি সকল পাঠক বইটি পড়ে আনন্দ পাবেন।
"কাউকে বাড়ির ঠিকানা দেবার সময় আমরা বলি, রাস্তার ডান্দিকে মোড় নিলেই দেখবেন চমৎকার একটা সাদা বাড়ি। বাগানবিলাসে ছাওয়া। আমাদের বাড়ির কথা বলতে গেলে 'চমৎকার' বিশেষণ আপনা আপনি চলে আসে।" রঞ্জুদের সাদা বাড়ির মতোই ছিমছাম একটা গল্প, যেই গল্পের মূলে আছে রঞ্জুর পরিবার। পাঁচ ভাইবোন আর মা-বাবা নিয়ে গড়ে উঠা মধ্যবিত্ত একটা পরিবারের গল্প 'আমাদের সাদা বাড়ি'। এই পরিবারের প্রত্যেকেই স্বভাবগত দিক থেকে আলাদা - আত্মভোলা, মোহহীন বুনোভাই, লোভী মেজোভাই, আত্মগ্লানিতে ভুগতে থাকা বাবা, সব জেনেও চুপ করে সয়ে যাওয়া রঞ্জু। এ যেনো একই ছাদের নিচে পুরো একটা সমাজের চিত্র। হুমায়ূন আহমেদের গল্পগুলো যেমন হুট করেই শেষ হয়ে যায়, এই বইতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাই 'শেষ হয়েও হইল না শেষ' একতা ভাব রয়ে গেছে মনের মধ্যে। বইটা শেষ করার পর মনে হচ্ছিল একই রকম গল্প আগে যেন কোথায় পড়েছিলাম। পরে মনে পড়লো 'শঙ্খনীল কারাগার' বইটাতেও মোটামুটি একইরকম প্লট। হয়তো একই লেখকের বেশ কয়েকটা গল্প একাধারে পড়ায় লেখকের লিখা কাছাকাছি মনে হচ্ছিল। সবশেষে, যারা হালকা ধাঁচের ছোট পরিসরে কিছু পড়তে চান, তাদের জন্য বইটা বেশ ভালো একটা পছন্দ হতে পারে।
রঞ্জুরা ৩ ভাই ২ বোন। একটা বড় শাদা বাড়িতে থাকে তারা। কিন্তু এই বাড়ি রঞ্জুদেরনা। এই বাড়ি রঞ্জুর বাবার বন্ধু মইনুদ্দিন এর। তিনি বাইরের দেশে থাকেন, বন্ধুকে বাড়ি দেখাশোনা করার জন্য থাকতে দিয়েছেন। কিন্তু মইনুদ্দিন সাহেব মারা যাওয়ার পর রঞ্জুরা জানতে পারে এই বাড়ি তাদের লিখে দিয়ে গিয়েছেন তিনি। রঞ্জুর বাবা বাড়ি নিজের নামে হওয়ার পর প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছেন। তার ধারণা বাড়ির মেরামত বাবদ তিনি তার বন্ধু থেকে যত টাকা নিয়েছেন, সেই টাকা কোথাও না কোথাও লস করেছেন। বাড়ির কাজে হাত দেননি। এখন মৃত বন্ধু এসে দেখেছে এই অবস্থা। এই চিন্তায় পাগল হয়ে গিয়েছেন। তখন বাড়িকে ঘিরে রঞ্জুর মেজো ভাই এর উচ্চ আশা তৈরী হয়। বাড়িকে ঘিরে অনেক ধরণের পরিকল্পনা করে। রঞ্জুর ২ বোন আবার এক্ষেত্রে কিছুটা বিরোধ করে কারণ মেজোভাই এর লোভ অতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছিলো। পরে গিয়ে সবাই জানতে পারে আসলে এই বাড়ি মইনুদ্দিন সাহেব লিখে দিয়ে গিয়েছেন রঞ্জুর মাকে। বেচারীর অনেক শখ ছিলো একটা শাদা বাড়িতে থাকার। মইনুদ্দিন সাহেব বাড়িটা ঠিক সেভাবেই বানিয়েছেন এবং এই মধ্যবিত্ত পরিবারটি ২ এর ২ মিলিয়ে ৪ করে ফেলেছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
রবীন্দ্রনাথের "শেষ হয়েও হইল না শেষ" জনরার একটা বই। ক্লাইম্যাক্স যে ঐদিকে টার্ন নিবে সেটা অপ্রত্যাশিতই ছিল। সন্দেহ তুলে এনে তা পাঠকের হাতে ছেড়ে দিয়ে ���ুমায়ুন আহমেদ তার কলমের নিব খাতা থেকে তুলে নিয়েছেন, তা আশাহত হওয়ার কারণ হলেও এমন ওপেন এন্ডিং আমি বেশি প্রেফার করি। বইটা বন্ধ করে এই যে বেশ খানিকক্ষণ চিন্তা করা যায়, এইটা আমাকে চায়ের কাপে প্রতি চুমুকের পরের যেই ভালো লাগার অনুভূতি সেটা দেয়।
সাত সদস্যের পরিবারের একেক সদস্যকে ইউনিকলি পোট্রে করা হয়েছে। সবার ছোটো রঞ্জুর ন্যারেটিভে গল্প আগাবে। এ গল্পের একটি সাইড ক্যারেক্টারের যে এত ইমপ্যাক্টফুল কন্ট্রিবিউশান ছিল আর সেই এই বইয়ের ক্লাইম্যাক্স তৈরি করে ফেলবে এটাই পাঠকের এই বই পড়ার প্রাপ্তি হবে বলা যায়। আর বেশি কিছু লিখছি না কারণ ছোট বই, কথা বাড়ালেই তা স্পয়লার হয়ে যাবে।
কিছু কিছু বই আছে, যেগুলো পড়লে কোন উপকার হয় না, না পড়লে কোন ক্ষতিও হয় না, তেমন একটি বই "আমাদের শাদা বাড়ি"। উপন্যাসটা পড়লে কিছু চরিত্রের প্রতি করুণা জাগে মাত্র, কোন চরিত্র দাগ কেটে যায় না। একটা ভালো রকমের চমক দেয়ার ইচ্ছা লেখকের ছিলো, সে চমকও পাঠককে বিস্মিত করে না। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত চরিত্রের কারণে পাঠ শেষ হওয়ার পর কোন চরিত্র সম্পর্কেও ভালো রকম ধারণা পাঠকের জন্মে না। সময় কাটানোর মতো, পাঠান্তের তিন ঘণ্টার মধ্যে ভুলে যাওয়ার মতো একটা উপন্যাস। ইউটিউবের কয়েক কোটি ভিডিও যেমন মনে কোন স্থাযয়ী দাগ কাটে না, আমরা শুধু দেখে যাই দেখতে হবে বলে, উপন্যাসটাও তেমন। খুব সম্ভবত রাত বারোটার মধ্যেই বইটার নাম ও গল্প ভুলে যাবো। হুআ এর অন্যতম অখাদ্য উপন্যাস।
উপন্যাস পড়ে মনে হলো ছোট গল্প পড়লাম! কেমন যেন হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেলো কাহিনী!
হুমায়ুন স্যারের এ্যাজ ইউজুয়াল মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের কাহিনী।আর ওই পরিবারে কোনো একটা সমস্যা নিয়ে কেউ একজন অসুস্থ হয়ে পড়বে(বিশেষ করে মানসিক সমস্যা দেখা দিবে)। এমনটাই হয়েছিল। তবে শেষ কেমন যেন ঘোলাটে রেখে দিলো। তবে বিরক্তি আসবে না এবার পড়া শুরি করলে। ভালোই, ছোটখাটো সাদামাটা এক বসায় শেষ করার মতো মোটামুটি ভালোই একটা বই।