মূলত ২.৫ তারা হবে। আওয়ামী লীগপন্থি পারিবারিক আবহে বড়ো হওয়ার দরুন শাহ এ. এম. এস. কিবরিয়া আমার অপরিচিত নন। সেই সঙ্গে আমার পৈতৃক নিবাসের কাছাকাছিই তাঁর সাকিন, এটাও চেনাজানার একটা হেতু। বইটা বিশ্ববিদ্যালয় পাঠাগারে পেয়ে এতটা উচ্ছ্বসিত ছিলাম যে তাঁর তনয়া বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক নাজলী কিবরিয়াকে মেইলই করে দিলাম, দুর্লভ এ বইটা পরিলিপি (স্ক্যান) করে আন্তর্জালে অবমুক্ত করে দেব কি না। তিনি তো অনুমতি দিয়ে আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিলেন! শাহ কিবরিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ বেশ প্রজ্ঞাবান লাগলেও, আজকের আওয়ামী দুঃশাসনে কালাতিপাত করে তাঁর অন্যবিধ রচনা বেশ তরল আর প্রহসনমূলক লেগেছে। চীন ও পূর্ব এশিয়ার ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির সুফল তাঁর চোখে লেগেছে, কিন্তু মানবাধিকার হ্রস্বকরণে তাঁকে ততটা বিচলিত দেখা গেল না। কই, তাঁর বাংলাদেশ তো এখন আপাদমস্তক পুঁজিবাদী, সিংগাপুর কি হতে পারল? তাইল্যান্ড হতে পারল? তাঁর সাধের বিনিয়োগ জাপান করছে ঠিকই জাইকার মাধ্যমে, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রাণপ্রকৃতির বিনিময়ে। দুঃখিত, মাদাম নাজলী কিবরিয়া!