আজ থেকে চার দশকেরও বেশি আগে এই বইটি লিখিত হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এতদিন পরেও ঠিক এইরকম স্বচ্ছ ভাবনা ও যুক্তির আলোয় ভারতীয় ধর্মের ইতিহাস নিয়ে বই বড়োই দুর্লভ। লেখক তার ভূমিকায় অকপটে জানিয়েছিলেন, বাংলা ভাষায় বিভিন্ন ধর্মের ইতিহাস বিষয়ক বইয়ের অভাব নেই। কিন্তু অভাব আছে ঐতিহাসিকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেই ধর্ম, বিশ্বাস বা চিন্তন-প্রক্রিয়ার বিবর্তনকে দেখা ও দেখানোর। হাজার-হাজার বছরের ইতিহাসকে তিনশো পাতার কিছু বেশিতে আঁটানো চাট্টিখানি কথা নয়। সেই কঠিন কাজটি করার জন্য বক্তব্যকে লেখক যে-সব অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন তারা হল~ ১. ঐতিহাসিক পটভূমি: প্রাক্ -বৈদিক যুগ ২. বৈদিক যুগের ধর্ম ৩. রূপান্তরের যুগ ৪. বৌদ্ধ ধর্ম ৫. জৈন ধর্ম ৬. ভাগবত বা বৈষ্ণব ধর্ম ৭. শৈব ধর্ম ৮. শাক্ত ধর্ম ও তন্ত্র ৯. গৌণ দেবতা ও সম্প্রদায় ১০. গুণগত রূপান্তর: ভক্তি আন্দোলনের প্রভাবে নানা পরিবর্তন ১১. বহিরাগত ধর্মসমূহ ১২. আধুনিক পরিণতি: যার মধ্যে ব্রাহ্ম আন্দোলন, রক্ষণশীল কার্যকলাপ, শ্রীরামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ, ভারতীয় ইসলামে নানা পরিবর্তন— এগুলো আলোচিত হয়েছে। এই বইয়ে বিভিন্ন প্রসঙ্গ উত্থাপন বা বিশ্লেষণে কোনো বিশেষ মতাদর্শ বা ভাবনার অনুসরণ করা হয়নি। বরং কালক্রম অনুযায়ী ধর্মীয় জগতে আসা পরিবর্তনগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে এই বই। লেখার ভাষা অত্যন্ত সহজ। আলোচনা কোনো অবস্থাতেই "ভালো" বা "খারাপ"-এর বিচার করার চেষ্টা করেনি; বরং যা ডকুমেন্টেড তাকেই পরিবেশন করেছে। এক কথায়, ভারতীয় ধর্মের ইতিহাস জানতে শুরু করার, এমনকি অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পক্ষেও একেবারে আদর্শ বই এটি। স্বাভাবিকভাবেই এই বইটি বাজারে পাওয়া যায় না। প্রকাশক এটিকে ছাপেন না। দুধের বদলে পাঠককে পিটুলিগোলা খেতে বাধ্য করা... এই তো বাংলা বইয়ের বাজার, কালীদা!