গত বছর বাংলা একাডেমী বইমেলায় (১৯৯৫) পার্ল পাবলিকেশন্সের স্টলে বসে আছি। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম বাবা মা'র হাত ধরে বাচ্চা একটা মেয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আট ন' বছরের মতো বয়স, ফুটফুটে চেহারা। কিন্তু চোখের দৃষ্টিতে রাগ ও অভিমান মিশে আছে। আমি বললাম, ' এই মেয়ে এদিকে এস।' সে গটগট করে এগিয়ে এল এবং আমাকে অবাক করে কঠিন গলায় বলল, ' এই বৎসর আপনি আমাদের জন্য একটিও বই লেখেন নি কেন? আপনি কি পেয়েছেন?' ততক্ষণে মেয়ের বাবা মা এগিয়ে এসেছেন।মেয়ের ব্যবহারে সম্ভবত তারা হকচকিয়ে গেছেন। তারা মেয়েকে সামলাবার জন্যে বললেন, ' এই জেরিন। এই।' আমি মেয়ের নাম জানলাম, এবং তৎক্ষণাৎ ঠিক করলাম, আজ রাতেই জেরিন নামের অভিমানী মেয়েটার জন্য একটা লেখা শুরু করব। আমি আমার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে পারি নি। অনেক পরে শুরু করেছি। ভয়ঙ্কর ভুতুড়ে নামের এই লেখা জেরিনের জন্যে। তার ঠিকানা জানি না, ঠিকানা জানলে নিজের হাতে বইটি তার হাতে তুলে দিতে পারতাম। তার বিস্মিত হাসি মুখ দেখতে খুব ইচ্ছা করছে।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
ভয়ংকর ভুতুড়ের ভূতগুলো মোটেও ভয়ংকর নয়। বরং এত মজার যে হিহি করে হাসতে হয়। হুমায়ূনের হিউমার আর পর্যবেক্ষণের দারুণ সমন্বয়। মনটন খারাপ থাকলে বইটি হাতে নেয়া যায়। আখলাক সাহেব চরিত্রটি টিপিক্যাল হুমায়ূনী মানে সামাজিক স্কেলে একটু বোকাটে কিন্তু দারুণ বুদ্ধিমান যুক্তিবাদী মানুৃষ। গল্পের শেষ প্যারাটি মায়ার উদ্রেক করে। বইয়ের এক সূত্র ধরে আমার নাম হওয়া উচিত বোকা ৭৮ কিংবা লেখক ০১! :।
গল্পটি বেশ ছিমাছাম, চমৎকার। মোটামুটি শিশুতোষ পাঠকদের জন্য লেখা হলেও পড়তে কারোই খারাপ লাগেনি। গল্পে রয়েছে স্বতঃস্ফূর্ত হিউমার আর দারুণ সব আইডিয়ার সমাবেশ, যা সামান্য হলেও বিভ্রান্ত করেছে, কিন্তু মজাও পেয়েছি।
আখলাক সাহেব, তিনি অংকের শিক্ষক। বয়স বায়ান্ন হল, এখনো বিয়েথা করেননি। তিনকূলে আছে এক বোন, আর তার বাসায় সপ্তাহে একবার করে যান। গেলেই মেয়েটা তার বিয়ে দেবার জন্য বড্ড চাপাচাপি করে। বিরক্ত হন আখলাক সাহেব। এই লোকের বাড়িতেই কিনা হানা দিলো ভূত। যে সে ভূত নয়, একদম লেখক ভূত! তার লেখার বিষয় মানুষ, মানব সমাজ ইত্যাদি। ভূত তাকে জার্মান ভাষায় শুভরাত্রি জানিয়ে বিদায় নিলো প্রথম রাতে। আর তার পর থেকেই সমস্যা শুরু। একমুখ দুইমুখ করে চাওর হয়ে গেল ভুতের গল্প, সবাই ক্রমশ সন্দেহ করে চলল তার মানসিক ভারসাম্য সম্পর্কে! ওদিকে ভূত প্রায় রাতেই আসে, আর উদ্ভট আইডিয়া তার মাথায় ঢুকিয়ে চলে যায়। তার সেসব কথা যথেষ্ট যৌক্তিক লাগে বলাই বাহুল্য।
মিসলিডিং প্রচ্ছদ। বইটি নামে ভয়ংকর হলে কি হবে, আদতে বেশ মজাদার বই। বইতে হুমায়ূন আহমেদ এর প্রাঞ্জল ছাপ রয়েছে। গল্প শুরু হয় আখলাক সাহেবকে নিয়ে, তিনি অংকের শিক্ষক। বয়স বায়ান্ন হল, এখনো বিয়েথা করেননি। তিনকূলে আছে এক বোন, আর তার বাসায় সপ্তাহে একবার করে যান। গেলেই মেয়েটা তার বিয়ে দেবার জন্য বড্ড চাপাচাপি করে। বিরক্ত হন আখলাক সাহেব।
এই লোকের বাড়িতেই কিনা হানা দিলো ভূত। যে সে ভূত নয়, একদম লেখক ভূত! তার লেখার বিষয় মানুষ, মানব সমাজ ইত্যাদি। ভূত তাকে জার্মান ভাষায় শুভরাত্রি জানিয়ে বিদায় নিলো প্রথম রাতে। আর তার পর থেকেই সমস্যা শুরু। একমুখ দুইমুখ করে চাওর হয়ে গেল ভুতের গল্প, সবাই ক্রমশ সন্দেহ করে চলল তার মানসিক ভারসাম্য সম্পর্কে! ওদিকে ভূত প্রায় রাতেই আসে, আর উদ্ভট আইডিয়া তার মাথায় ঢুকিয়ে চলে যায়। তার সেসব কথা যথেষ্ট যৌক্তিক লাগে বলাই বাহুল্য।
যএভাবেই কাহিনী এগিয়ে এগিয়ে শেষমেশ পরিসমাপ্তি।
হুমায়ূন আহমেদ এর অনেক গল্পেই যথার্থ সমাপ্তি না থাকলেও এই গল্পে আছে। গল্পটি বেশ ছিমাছাম, চমৎকার। মোটামুটি শিশুতোষ পাঠকদের জন্য লেখা হলেও পড়তে কারোই খারাপ লাগেনি। গল্পে রয়েছে স্বতঃস্ফূর্ত হিউমার আর দারুণ সব আইডিয়ার সমাবেশ, যা সামান্য হলেও বিভ্রান্ত করেছে, কিন্তু মজাও পেয়েছি।
নুহাশ হুমায়ুনের "পেট কাটা ষ" এর প্রথম পর্ব "এই building এ মেয়ে নিষেধ" এর শেষাংশ দেখে আমার মাথায় একটাই কথা আসলো ~ আরে পুরাই ক্লাসিক হুমায়ুন আহমেদ pull করলো দেখলাম। তারই প্রেক্ষিতে এই বই হাতে নেওয়া। একটু তাল-বেলে, গল্পের এক অংশে লেখা ভূতদের নাক নেই আবার কিছু অধ্যায় পরে লেখা ভূতেরা বিশাল লজ্জায় পড়লে নাকলজ্জায় পরে যায়~ তখন নাকি নাকে নাকে কথা বলে....আবার অধ্যায়ের প্রথম লাইনে লেখা Psychiatrist এর নাম জয়নালউদ্দিন, আবার আট লাইন পরে লেখা নাম নাকি জালালউদ্দিন। এইসব খুব চোখে লাগলো
'ভূত আপনার কাছে রাতে এসে গল্প করছে। তাদের ভূত সমাজের বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করছে। এ কিন্ত আবার শিক্ষিত ভূত, ইংরেজি জানে, জাপানি ভাষা পারে আবার কবিতা,গল্পও লেখে। আপনার অনুভূতি তখন কেমন হবে?'
⬛ কাহিনী সংক্ষেপ -
আখলাক সাহেব কলাবাগানে নিজের বাড়িতে থাকে। গণিতের শিক্ষক, বিবাহ করেননি। স্বভাবে গম্ভীর মানুষ। ছোট বোন মিলি এখনও প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে তার বিয়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু তিনি নারাজ। বয়স বায়ান্নোর দোরগোড়ায়। এক রাত্তিরে হুট করেই তিনি উপলব্ধি করলেন তিনি কোনো ভূতের সাথে কথা বলছেন। কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে এসে তার কাছে ভূতের অস্তিত্ব আছে বলে বিশ্বাস করা হাস্যকর ছাড়া অন্য কিছু নয়। নিছকই স্বপ্ন ভাবলেন তিনি।
এভাবে প্রায় প্রতি রাতেই ভূত আসে তার কাছে। ভূত তার রাজ্যের গল্প করে কখনো কবিতা শোনায়। তবে তার একটি উদ্দেশ্য আছে। সেই ভূতও আখলাক সাহেবের মতো বিয়ে করতে চায় না কিন্তু তার পরিবার নারাজ, তাই সমস্যা সমাধানের দরুন দারুস হয়েছে তার কাছে। এদিকে ভূত মানুষ সমাজ নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে মতিভ্রম করতে শুরু করলো আখলাক সাহেবের। আখলাক সাহেবের মাথায় গন্ডগোল হয়েছে এটা সমাজের অনেকেরই ধারণা।
অথচ এ সকল সমস্যার সমাধান করে হ্রিহ্রিলা নামক এক সুন্দরী ভূত। এমন করেছিল সে?
⬛ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা -
গল্পটা শুরু থেকেই পড়ে মজা পাচ্ছিলাম। ভূত ও মানুষ সমাজ- ভূত সমাজ গল্প লেখে মানুষ সমাজ নিয়ে আবার মানুষ সমাজ গল্প লেখে ভূত সমাজ। দু সমাজের প্রতি দু সমাজের কত ভ্রান্ত ধারণা। আখলাক সাহেব বিচক্ষণ মানুষ হয়েও করে ফেলেছেন কিছু হাস্যকর ঘটনা। হয়তো ভূতের অস্তিত্ব বিশ্বাস না করা মানুষটা যখন হঠাৎ করেই সেই অস্তিত্ব উপলব্ধি করলো সেটারই ফলাফল। মানুষ সমাজের মতো ভূত সমাজের কিছু বদ ভূত থাকে। তাই তো নিজের নাম লুকিয়ে লেখক-৭৪ পরিচয়ে ভূত এতো কাহিনী করলো। তবে ভালো মানুষের মতো ভালো ভূতও তো থাকে তাইনা। নাহলে মানুষ সমাজের মতো ভূত সমাজ চলবে কীভাবে?
⬛ চরিত্রায়ন -
গল্পের মুখ্য চরিত্র ছিল আখলাক সাহেব। তাকে নিয়েই গড়ে উঠেছে পুরো গল্প। এছাড়াও ছিল লেখক -৭৪, হ্রিহ্রিলা, মিলি, তারেক, দবিরুদ্দিন, শামসুদ্দিন সাহেব, জয়েনউদ্দিন, এমরান সাহেব,মোতালেব।
মোতালেব ভীতু ধরণের ছেলে তবে দবিরুদ্দিন ও শামসুদ্দিন সাহেবের ঝগড়ার টপিকগুলো উপভোগ্য ছিল। শেষ মুহূর্তে ক্ষুদ্র সময়ের জন্য আগমন ঘটনা হ্রিহ্রিলা চরিত্রটা আমার কাছে একটু বেশিই প্রিয় হয়ে উঠেছে।
⬛ পরিশেষে -
হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের এন্ডিং পড়ে সবসময়ই আমি হতাশ হবে তবে এই বইয়ের এন্ডিংয়ে একটা সুখী সুখী ভাব পেয়েছি। হ্রিহ্রিলাকে বারবার খুঁজছিলাম আর কিছু সময়ের জন্য কিন্তু সে তো দুষ্প্রাপ্য।
প্রথমে বইটার নাম দেখে মনে হয়েছিল বইটা খুবই ভয়ংকর। একদিন রাতের অন্ধকারে বইটা দেখেও ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু বইটা একটুও ভুতুড়ে না বরং মজার। আখলাক সাহেব প্রফেসর। তিনি একা বাসায় থাকেন। একদিন রাতে তার এক বিপদগ্রস্ত ভুতের সাথে পরিচয়। বিপদগ্রস্ত ভুত প্রথম দিন ভুতের নামকরণ পদ্ধতি আখলাক সাহেব কে খুলে বলে এবং জাপানি ভাষায় শুভরাত্রি ও জানায়। তার নাম লেখক ৭৪। সে তারপর থেকে প্রায়ই আখলাক সাহেবের সাথে দেখা করত।
শিশুতোষ বই বুড়া বয়সে পড়তেছি! কিন্তু পড়ার মাঝে যে আনন্দ তা কম হচ্ছে না। দারুণ লাগছে পড়তে। কিছু কিছু ক্ষেএে নিজের সাথেও মিল হচ্ছে, গল্পের প্রধান চরিত্রের। সে বিয়ে করবে না, চিরকুমার থাকাই তার ইচ্ছা। কিন্তু হঠাৎ জীবনে এমন পরিস্থিতি আসে যে সে পাগল হতে শুরু করে, অবশেষে বাধ্য হয়ে বিয়ে করা লাগে। আমি পাগল হতে রাজি আছি, কিন্তু বিয়ে করতে নয় 🖐️😞।
রিডার্স ব্লকে ছিলাম অনেকদিন। হালকা, ছিমছাম কিছু পড়া দরকার ছিল। হাতের কাছে পেয়ে গেলাম এই বইটা। আজাইরা মনে হতে পারে। কিন্তু এই সিচুয়েশনে খুবই কাজে দিল। বর্তমান অনুভূতি থেকে রেটিং পাঁচ দিলেও ভুল হত না। তবে ঐ যে চরম আবেগে গলে যাওয়া নিষেধ।
বইয়ের নামটা যথেষ্ট মিসলিডিং। আমি ভুতুড়ে বই পড়ার জন্য বইটা চ্যুজ করেছিলাম। কিন্তু মোটেও ভুতুড়ে বই নয় এটি। বলা হয়েছে এটা শিশুদের জন্য লেখা বই; সেদিক থেকেও একে সার্থক 'শিশুদের বই' বলা যায়না৷ যাই হোক, একদম হালকা ধাঁচের সময় কাটানো বই চাইলে পড়া যায়। তবে 'উপভোগ্য' হবে- এমনটা বলা কঠিন
বেশ সুন্দর ছিমছাম গল্প। অনেক ভালো লেগেছে। তবে ভেবেছিলাম খুব ভয়ের হবে।কিন্তু হলো তার উল্টো! ( আসলে বেশ ভয়ে ছিলাম,না জানি কত ভয়ঙ্কর হতো গল্পটি!গল্পটি কিউট হওয়ায় একদিক দিয়ে বেঁচেই গেছি!)
যদিও বইয়ের নাম দেখে ভূতের গল্প বলেই মনে হচ্ছে এবং গল্পের ভিতরেও ভূতের প্রভাব যথেষ্টই আছে তবু লেখক ইচ্ছে করে এখানে একটা মজার হাসির গল্প লুকিয়ে রেখেছেন।
আমার নাম বোকা ৭০! আরেহ্ ভূতেদের জগতে মানুষের মতো নাম থাকে না। আমরা ভূতেরা লজিক্যাল মানুষ (!) তাই লজিক খাটিয়ে এই নিয়ম তৈরী করেছি। কেউ জ্ঞানী হলে তার নাম জ্ঞানী রাখা হবে আর তার জ্ঞান যতো বেশি হবে তার নামের সামনে নাম্বারও তত বেশি থাকবে। তাই বুঝতেই পারছেন আমার নাম এমন কেনো। যাইহোক নাম নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। যদিও লেখক নিজে বইয়ের নাম ভয়ংকর ভুতুড়ে লিখে পাঠকদের বিভ্রান্ত করেছেন। বইটা মোটেও ভয়ংকর নয়। তবে মজার। কোনো নরম দুপুরে ভাত খাওয়ার পর খাটে হেলান দিয়ে পড়ে ফেলার মতো নরম গল্পের বই। পড়ে ফেলুন, ভালো লাগবে।
সিটি কলেজের অঙ্কের শিক্ষক আখলাক সাহেব । কাজের ছেলে মোতালেব আর বাড়ির পাশের গাছপালার সাথে ভালোই দিন কেটে যাচ্ছিলো তার । কিন্তু হঠাৎ বাড়িতে ভূতের উপদ্রবে তিনি পড়ে গেলেন মহা ঝামেলায় । এই ভূত আবার যে সে ভূত নয় , 'বি���দগ্রস্ত ভূত' ! বিপদ থেকে উদ্ধার করে দেয়ার আবদার নিয়ে ভূত এসেছে চিরকুমার আখলাক সাহেবের কাছে....
এ বছরের প্রথম দিনই উপহার পেয়েছিলাম হুমায়ূন আহমেদ এর ভূতসমগ্র বইটি । ভীষণ আগ্রহ নিয়ে বইটি পড়তে বসে দেখলাম এখানের বেশির ভাগ গল্পই আমার পড়া । তার উপর আবার ৯টির মধ্যে ৫টি গল্পই মিসির আলি সিরিজের , বাসায় আগে থেকে মিসির আলি অমনিবাস থাকায় মনে মনে বেশ বিরক্তও হলাম । তবুও , উপহার বলে কথা ! প্রচন্ড বিরক্ত নিয়ে শুরু করলাম 'যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ' । বিরক্ত হয়ে শুরু করেছিলাম বলেই হয়তো শেষও করলাম বিরক্ত নিয়ে । উপহারদাতার উপর জমে থাকা সব রাগ ( এখানে বলে রাখা ভালো , বইটা পেয়ে বেশ খুশি হয়েছিলাম আর তাই সেই আনন্দে ভাটা পড়ায় রেগেও গিয়েছিলাম খুব ) গিয়ে পড়লো হুমায়ূন আহমেদের উপর । 'কি লেখে এইগুলা ? আগা নাই মাথা নাই , আজাইরা , ফালতু.... ' কিছুক্ষণ গজগজ করে তারপর শুরু করলাম 'ভয়ংকর ভুতুরে' । লেখকের উপর সব রাগ ঝেড়ে ততক্ষণে মনটাও বেশ ফুরফুরে । শিশুতোষ গল্প হওয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই মন আরো ভালো হয়ে গেলো , ভালো লাগা নিয়ে শুরু করায় তাই ( বোধ হয় ) শেষটাও করলাম ভীষণ ভালো লাগা নিয়ে ।