ইসলাম একটি আদর্শিক জীবনব্যবস্থা। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় ইসলামের ভূমিকা অত্যুজ্জ্বল। ইসলাম তার আবেদন নিয়ে পৃথিবীর সমগ্র মানচিত্রে ছড়িয়ে দিয়েছে এক অনুপম প্রাণশক্তি। ইসলামের মহান আদর্শই ইসলামবিদ্বেষীদের প্রতিহিংসার কারণ। বিশ্বব্যাপী তাদের অনুদার ও সংকীর্ণ প্রচারণায় ইসলামকে প্রতিনিয়ত দানবীয় রূপে হাজির করা হচ্ছে।প্রোপাগাণ্ডার মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ইসলামোফোবিয়া’ তত্ত্ব। ফলশ্রুতিতে আধুনিক বিশ্বের অনেকের কাছেই ইসলাম একটি ভীতিকর শব্দ, তাদের কাছে ইসলাম ধর্মের অনুসারী মানেই সন্ত্রাসী-উগ্রপন্থী।
ইসলামবিদ্বেষী এ মহামারীতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ছে পশ্চিম থেকে প্রাচ্যে; এমনকি বাংলাদেশেও এ তত্ত্বের আমদানি করা হচ্ছে সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতার মোড়কে। ‘বিহাইন্ড দ্য ইসলামোফোবিয়া’ বাংলাভাষায় এবিষয়ে সর্বপ্রথম প্রচেষ্টা। বইটিতে দেশ-বিদেশের গবেষকদের অনুসন্ধানী কলমে উঠে এসেছে পাশ্চাত্যে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে অনৈতিক প্রচারণার স্বরূপ।
বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে বয়ান করা হয়েছে—কেন পাশ্চাত্য জগতে ইসলাম ও আরববিশ্বকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেমনটা তারা নয়! কেন ইসলামকে অতিরঞ্জিত প্রদর্শনীর মাধ্যমে দানবীয় ও সন্ত্রাসী ধর্মে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়! কীভাবে রাজনৈতিক প্রয়োজনকে বৈধতা দিতে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হয়।
সংকলনটির গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অমুসলিমদের লেখাও এখানে স্থান পেয়েছে। বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতা সামনে রেখে প্রতিটি লেখা সাজানো হয়েছে। বইটিতে যাদের লেখা স্থান পেয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য - নোম চমস্কি, এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ, ড. ইউসুফ কারজাবি, ড. হাতেম বাজিয়ান, ড্যানিয়েল হাকিকাতজু, দীপা কুমার, মুজাহিদুল ইসলাম, জাবির মাহমুদ, রাকিবুল হাসান, হাবিবুর রহমান রাকিব, রকিব মুহাম্মদ প্রমুখ।
বইটি পাঠ করে গভীর মননশীল ব্যক্তিমাত্র উপলব্ধি করতে পারবেন, ইসলামের অনুপম বিষয়াবলি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা পশ্চিমের দ্বিমুখী বক্তব্য, নেতিবাচক ও অবজ্ঞাসূচক দৃষ্টিভঙ্গি। অথচ এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে ইসলামের শক্তিশালী অবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধ—যার ওপর কখনো পশ্চিমা পণ্ডিতদের চোখ পড়ে না। এ সময়ের নানা রাজনৈতিক ও সামরিক মেরুকরণ, নাইন-ইলেভেনউত্তর পাল্টে যাওয়া বিশ্ব পরিস্থিতি ও পশ্চিমি করপোরেট রাজনীতি ও তথাকথিত মানবতার স্বরূপ সম্পর্কেও জানা যাবে।
ইসলামোফোবিয়া মুসলিম জাতি ও ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর এক নব্য হাতিয়ার। উনিশ শতক পরবর্তী সময় থেকে ইসলামোফোবিয়ার ব্যবহার ও প্রচলন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বেড়ে যায়, শুধুমাত্র মুসলিম ও ইসলামকে টার্গেট করে, ইসলামের আইডিওলজিক্যাল ইডেন্টিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াসে। ইউরোপীয় ভদ্র সমাজ (!) প্রতিনিয়ত তাদের ঘৃণা-বিদ্বেষের পালে হাওয়া জুগিয়েছে এই ইসলামোফোবিয়াকে প্রমোট করে। ৯/১১ এর পর থেকে এই চিত্র আরো বদলে গিয়ে বিপুল উৎসাহে যেন পৃথিবীর সর্বত্র ইসলামোফোবিয়ার হাওয়া বয়ে যাওয়া শুরু করল। সবকিছু মিলিয়ে তাদের মুল টার্গেট সর্ব্দাই ইসলাম ও ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। বিশ্ব রাজনীতির হালচাল ও ইসলামের প্রতি তাদের দৃষ্টিকোণ সবকিছু মিলিয়ে 'বিহ্যাইন্ড দ্য ইসলামোফোবিয়া' নামক এই বইটা একজন সুচিন্তিত পাঠকের জন্য চিন্তার খোরাক হয়ে দাঁড়াবে। লেখকের মেহনতকে আল্লাহ তায়ালা কবুল করে নিক। আমিন।