এই যে আমরা বই পড়ে আনন্দ পাই, বিরক্ত হই, কাঁদি অথবা হাসি; এই যে একেকটা বইয়ের সাথে একেক রকম স্মৃতি মিশে থাকে, লুকিয়ে থাকে কোন শীতের রাতে কম্বল মুড়ি দেয়া, পড়ার বইয়ের ফাঁকে লুকানো, ট্রেনের অবিরাম ঝিকঝিক শব্দ অথবা বর্ষাদিনের বিষণ্ণ স্মৃতি- এই গল্পগুলো আমাদের একান্তই ব্যক্তিগত। পাঠকের হাতের বই আর বই হাতে ধরা পাঠক, এই দুজনের মাঝেই অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের উপাখ্যান রচিত হয় আপনা-আপনি।
লেখক মাত্রই পাঠক- এর ব্যতিক্রম হয় না, হতে নেই। কবি শঙ্খ ঘোষ, গল্পকার শঙ্খ ঘোষ যেমন একদিকে পরিচয়, ঠিক তেমনি আরেকটা পরিচয় পাঠক শঙ্খ ঘোষ। বইয়ের ঘর আমাদেরকে শঙ্খ ঘোষের সেই আরেকটা পরিচয়ের সাথেই পরিচিত করিয়ে দেয়। শৈশবের বইপড়া থেকে শুরু করে স্বাধীনমতো যথেচ্ছ বই কিনতে পারার সূচনা পর্যন্ত নানারকমের স্মৃতিকথা নিয়ে রচিত "বইয়ের ঘর।" নতুন বই হাতে নেয়ার আনন্দ, হারানোর কষ্ট, দুর্লভ বই স্পর্শ করার উত্তেজনা, অসাবধানতায় মূল্যবান বই হারিয়ে ফেলা, বইয়ের সাথে জড়িত আপনজন, তৎকালীন বাঙালিজীবন আর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ- সব অনুভূতির এক চমৎকার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই বইয়ে।
স্বয়ং লেখকই বলেছেন, এ লেখা কোন জ্ঞানের কথা নিয়ে নয়, বইপড়ার কোন তথ্যবাহী ইতিহাসও নয়। সবার জীবনে বইয়ের স্মৃতির সাথে জড়ানো থাকে কিছু ঘটনারও অভিজ্ঞতা। এ হলো সে-রকম বই-কেন্দ্রিক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অল্প কয়েকটা বৃত্তান্ত।
প্রথম গল্প হাতপাবাঁধা হনুমান থেকে শুরুর অংশটা তুলে দিলাম-
"আবারও কি তবে হারিয়ে ফেললাম বইখানা?
আগেও হারিয়েছিলাম একবার। সেটা টের পাবার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়েছিল অল্প বয়সের একটা অংশই যেন হারাল আমার জীবন থেকে। সেটা যে বইয়ের ভিতরকার কোন মহিমার জন্য, তা কিন্তু নয়। সেটা তার চারপাশে ঘিরে থাকা অনুষঙ্গের জন্য। ভিতরের কথাগুলি ছাড়াও আরো কত সম্পদ থাকে বইয়ের, থাকে কত ব্যক্তিগত মুহূর্তের স্তবকে স্তবকে খুলে যাওয়া স্মৃতি, কোনো একখানা বই হাতে নিলে যেন কোনো নিজস্ব জীবনাংশই জেগে ওঠে তাই। কোনো বইয়েরই কোনো বিকল্প-বই হতে পারে না, একই সংস্করণের একই মুদ্রণের হলেও তা হয় না। প্রত্যেকটা বই-ই জেগে থাকে তার একলা গরিমায়, একক ইতিহাসে।"
ভালো কথা, বইয়ের ঘর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঘরে বই আসার পেছনের কথা চলে আসে। এই বইটা রেজওয়ান ভাইয়ের কাছ থেকে উপহার পাওয়া!