সকালবেলা কফিতে ডোনাট চুবিয়ে চুকচুক করে তা খেতে খেতে লালচুলো মেরী অবশেষে মুখখানা তেলে ভাজা পরোটার মতো গোলাকার করে আমাদের বলেন—দ্যাখো এই শহরে কত বৃদ্ধ, ভবঘুরে ও গৃহহীনদের বাস। সংসার এদের ত্যাগ করেছে। এদের মধ্যে বৃদ্ধরা পরপারে পাড়ি দেয়ার সাকোতে দাড়িয়ে দিন গুনছেন। প্রভু যিশুর জন্মদিনে তাদের যাবার মতো কোনো স্থান নেই।
জটাজুটওয়ালা জোয়ান মর্দ গাড়ির সামনে গিয়ে লণ্ঠন তুলে ঘোড়া দুটিকে দেখতে শুরু করেন। অশ্ব দুটি এতে ভড়কে গিয়ে চিহিহি করে দৌড়ানোর উপক্রম করে। আর আমহার্স্ট শহরের সবুজ চত্বরে জনা ছয়েক ঘোরতর কালো বর্ণের তরুণী কোমরে রুপালি ফিতায় মাদল বেঁধে ঘুরে ঘুরে নাচে। ওখানে পার্কিংলটের গা ঘেঁষে তপ্ত চায়ের সোনালি রঙের মতো তীব্র রোদে দাঁড় করানো সাদায় রুপালি মেশানো দীর্ঘ নলের একটি দূরবীন।
গির্জার প্রশস্ত হলকক্ষে শুরু হয় শিকারি বাজ ও চিল জাতীয় পাখির প্রদর্শনী। সূর্য অস্তমিত হলে কেইলি এসে সকলকে লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে কায়াক জাতীয় নৌকায় চাপতে বলে।
সাইডওয়াকে জলরঙ ও পেন্সিল স্কেচ করা ছবি নিয়ে বসে জনা পাঁচেক অতি জীর্ণ পোশাকে মলিন চেহারার পেইন্টার। এদের দিকে তাকিয়ে দেশের কোনো দরগার সিঁড়িতে বসে থাকা ভিখারিদের কথা মনে পড়ে।
মঈনুস সুলতানের জন্ম ১৯৫৬ সালে, সিলেট জেলার ফুলবাড়ী গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি। খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এবং স্কুল অব হিউম্যান সার্ভিসেসের। ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার ভিজিটিং স্কলার। শিক্ষকতা, গবেষণা ও কনসালট্যান্সির কাজে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাঁর ‘জিম্বাবুয়ে : বোবা পাথর সালানিনি’ গ্রন্থটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বই হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ২০১৪ সালে ভ্রমণসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। প্রাচীন মুদ্রা, সূচিশিল্প, পাণ্ডুলিপি, ফসিল ও পুরোনো মানচিত্র সংগ্রহের নেশা আছে মঈনুস সুলতানের।