ফেসবুকের বিভিন্ন অলৌকিক সাহিত্য-নির্ভর গ্রুপে এবং সংকলনে উৎস ভট্টাচার্যের লেখা পড়ার অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই হয়েছে। মানুষটি উদ্যমী ও উদ্যোগীও বটে। তাঁর এই একক সংকলনটি প্রকাশের পেছনেও আছে ঘূর্ণিঝড়ে পীড়িত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা। সেই সংকলনটিই পড়ে ফেললাম গতকাল আর আজ মিলিয়ে।
পিয়ালী ত্রিপাঠী'র আঁকা বীভৎস প্রচ্ছদ দেখে বই পড়ার ইচ্ছে উবে যেতে বাধ্য। তবু তা পেরিয়ে এবং 'কথামুখ' অতিক্রম করে এইক'টি গল্পের মুখোমুখি হওয়া যায়~ ১. অন্ধকারের উৎস হতে ২. ক্রোনোমেন্ট্রোফোবিয়া ৩. প্রেতমুকুর ৪. অতল অন্ধকার ৫. স্মরণাতীত স্মৃতি ৬. দশম কবন্ধ ৭. পালাবার পথ নেই ৮. মঙ্গলময়ীর লীলা ৯. এমনটাও হতে পারে ১০. গোপন কথাটি রবে না গোপনে ১১. স্বপ্নসম্ভব
গল্পগুলোর নামে যতই আধুনিকতা আর কাব্যময়তার মিশ্রণ ঘটুক, আদতে এদের সবক'টিই খুব পুরোনো এবং চেনা প্লটের লেখা। ব্যতিক্রম হিসেবে দু'টি কাহিনির কথা বলা যায়— 'ক্রোনোমেন্ট্রোফোবিয়া' (অণুগল্প) আর 'এমনটাও হতে পারে।' কিন্তু এরা এবং বাকি সবক'টি লেখাই কিছু প্রাথমিক দুর্বলতার শিকার হয়েছে, যা ফেসবুকে লেখালেখি করা অনেকের মধ্যেই দেখতে-দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সেগুলো হল~ (ক) সংলাপের বদলে ফার্স্ট বা থার্ড পার্সনে শুধুই বিবরণের বন্যা; (খ) চরিত্র-নির্মাণে অনীহা এবং তার বদলে কুয়াশা, রক্ত, মাংস, জ্বলন্ত চোখ, অভিশাপ— এগুলো দিয়েই কাজ সারার চেষ্টা; (গ) ভয়ের আসল শিকড় যে মনে, সেটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে পুরোনো মন্দির, তান্ত্রিক, দেহের রূপ-বদল, আয়না থেকে প্রেতের হানা জাতীয় ট্রোপের ব্যবহার— যার ব্যতিক্রম হিসেবে ক্রোনোমেন্ট্রোফোবিয়া-র কথাই শুধু বলতে পারি।
লেখকের উদ্দেশে আবেদন জানাব, যাতে তিনি আগামী দিনে মনের অন্ধকার নিয়ে, ছোটো-ছোটো সংলাপ আর বাক্যের সাহায্যে গল্প সাজান। সেক্ষেত্রে যে আমরা তাঁর কাছ থেকে সত্যিই শিহরন (হ্যাঁ, সঠিক বানানে দন্ত্য-ন হয়)-জাগানিয়া লেখা পাব— এ-বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।