What do you think?
Rate this book


192 pages, Hardcover
Published October 1, 2024
"...শেখ মুজিব ইয়াহিয়ার সঙ্গে বসলেন ভাগ-বাঁটোয়ারা করার জন্য। ভুট্টোই আসলে বাংলাদেশের পিতা। ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিল।কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল থাকলে তার পক্ষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া... সে জন্য সে চাইছিল ইস্ট বেঙ্গল চলে যাক, আমি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হব।কাজেই শেখ মুজিব বিভাজন চাননি।শেখ মুজিব বাংলাদেশ চাননি, বাংলাদেশ চেয়েছিল ভুট্টো। এটা সত্যি। শেখ মুজিব চেয়েছিলেন পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হতে এবং এখানকার একটা স্বায়ত্তশাসন, কিন্তু পাকিস্তান ভাঙতে চাননি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে কী হয়েছিল তা শেখ মুজিব কখনো শুনতে চাইতেন না, এটা সবাই জানে। তিনি কিছুতেই শুনতে চাইতেন না যে ১৯৭১ সালে কী হয়েছিল। বাংলাদেশ যে তাঁর অনুপস্থিতিতে স্বাধীন হয়ে গেল, এটা তাঁর পক্ষে কিছুতেই হজম করা সম্ভব ছিল না। তিনি যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারলেন না এটা এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ হয়ে যাওয়া একেবারে শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। এ জন্য তিনি কোনো রকমে ১৯৭১ সালে যে লড়াই হয়েছিল তা শুনতে চাইতেন না।"
"পাকিস্তান হওয়ার পর যেসব আন্দোলন হয়েছে-ভাষা আন্দোলন, '৬৯- এর গণ-অভ্যুত্থান, '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ কোনোটাতেই শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর এসব আন্দোলনের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তারপর '৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার পর তিনি মহারাজার মতো সিংহাসনে বসলেন এবং মনে করলেন 'আমি কি হনু রে'। যে জনগণ তাঁকে এত সমর্থন দিয়েছে, রক্ষীবাহিনী গঠন করে তিনি সেই জনগণের ওপর জুলুম করতে শুরু করলেন। বিরোধী লোকদের, বিশেষ করে যুবকদের মেরে বস্তাবন্দি করে, নর্থ বেঙ্গলের পাবনা, যশোরের মতো জায়গায় মেরে মানুষকে শেষ করে দিয়েছে। কোনো রকম বিরোধিতা সহ্য করতেন না। তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনকালে এ দেশের মানুষ কিছুই পায়নি।"