হোটেল রিভার-শাইনে দীপিকা পোদ্দার নামে এক কলেজ স্টুডেন্ট খুন হয়। তদন্তে উঠে আসে.. সে ব্লু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত ছিল। যাই হোক, খুনিকে সহজেই পাকড়াও করে পুলিশ। তখন তার মুখ থেকে জানতে পারে দীপিকা, শিবাশিস সান্যাল নামে একজন ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টের সাথে এই ধরণের ভিডিও গুলো শ্যুট করত। পুলিশ তাকে অ্যারেস্ট করতে গিয়ে দেখে... পাখি ফুরৎ। এই ঘটনার ১২ বছর পর একটি রিইউনিয়নে জড়ো হয় কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চার বন্ধুর এক গ্রুপ। গল্প কিছুটা এগোলে জানা যায় শিবাশিস সান্যাল তাদের বন্ধুবৃত্তেরই একজন সদস্য ছিল। এবং দু'মাস আগে তার কঙ্কালটা কলেজের পিছনদিকের এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে। এইবার আসল খেলা শুরু হয়.. একদিকে পুলিশি তদন্ত.. অন্যদিকে সন্দেহের তীরে বিদ্ধ হতে থাকে এক একটি চরিত্র। কে এবং কেন খুন করেছে শিবাশিসকে? কোন কাহিনী লুকিয়ে আছে এই গল্পের পিছনে? তা জানতে হলে গল্পটি অবশ্যই পড়তে হবে। আমার কেমন লাগলো তা এবার দু-এক কথায় জানাই...
~ প্রথমেই বলতে হয়.. এত ছোট্ট পরিসরেও লেখিকা চরিত্রদের যত্ন নিয়ে তৈরি করতে পেরেছেন। কখনই মনে হয় না কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চরিত্রগুলো রোবটের মতো নড়াচড়া করছে।
~ প্লট চমৎকার। কে এবং কেন-র উত্তর পাওয়ার পরেও একটা ছোট্ট এক্সটেন্ডেড ভার্সন রয়েছে.. যা আমাকে রীতিমত নাড়িয়ে দিয়েছে।
~ বিছানায় ছানা না কেটেও যে প্রাপ্তমনস্ক রহস্য কাহিনী লেখা যায়.. এর আরেকটি সার্থক উদাহরণ এই গল্পটি।
ক্রাইম ডাজ নট পে— কথাটা আমরা কত জায়গায়, কতভাবে দেখি বা শুনি, তাই না? কিন্তু, কথাটা কি সত্যি? যদি সত্যি হয়, তাহলে এত মানুষ অপরাধ করে কেন? অপরাধ... ক্রাইম মানেই বা আসলে ঠিক কী? দর্শন আর মনস্তত্ত্বের এইসব গূঢ় প্রশ্ন নিয়ে বই লেখা হলে আমরা পড়ার আগেই হাই তুলব। কিন্তু এগুলোকে নিয়েই যদি লেখা হয় একটি রুদ্ধশ্বাস উপন্যাসিকা? যদি তারই চরিত্রদের মুখ আর মুখোশ ক্রমাগত জায়গা বদল করে আমাদের ভাবায়, অপরাধ জিনিসটা আসলে কী? হ্যাঁ, আলোচ্য লেখাটি এমনই। ২০০৮ সালে একটি হত্যা এবং একটি নিরুদ্দেশের ঘটনা এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শেষ বছরের কিছু সম্পর্ককে ওলট-পালট করে দেয়। তারপর জীবন এগিয়ে চলে নিজস্ব ছন্দে। প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির আবর্তে ঘুরপাক খায় ক'জন মুখ্য চরিত্র।অবশেষে, ২০২০ সালে, তারা আবার আসে সমুদ্রের ধারে এক বাড়িতে— পুনর্মিলনের জন্য, হয়তো বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে। সন্দেহ, ভয়, মিথ্যে, বিস্মৃতি, লালসা— এ-সবের মধ্য দিয়ে ক্রমশ উদ্ঘাটিত হয় সত্যের বিচিত্র চেহারাটি। কিন্তু... একাধিক হত্যাকাণ্ড থাকলেও একে প্রথাগত রহস্য কাহিনি বলা অসম্ভব। তার একটা মস্ত বড়ো কারণ হল, এতে সব সূত্র আমাদের সামনে রাখা হয়নি। বরং কথকদের আনরিলায়েবল ন্যারেটর হিসেবে পেশ করে প্রথমেই বোঝানো হয়েছে যে আমরা যা দেখছি, বাস্তব তার তুলনায় অন্যরকম। এটি নিঃসন্দেহে থ্রিলার— যা একেবারে রুদ্ধশ্বাসে আমাদের ছুটিয়ে নিয়ে গেছে শেষ অবধি। তবে... গল্পটা কি তখনও শেষ হয়েছে? নাকি আরও কিছু না-বলা কথার মতো এর বাকিটা থেকেই গেছে গুপ্ত হয়ে? তাই শেষ বিচারে একে নোয়া (noir)-ই বলতে হচ্ছে। ধূসর কিছু চরিত্রের ওপর কালোর নানারঙা প্রলেপ পড়েছে। তাদের কার্যকলাপ পড়তে গিয়ে আমরা একইসঙ্গে বিকর্ষিত ও শিহরিত হয়েছি। আর হ্যাঁ, গল্পের শেষে একটা কথা প্রমাণিত হয়েই গেছে। ক্রাইম ডাজ নট পে! পিয়া সরকারের লেখনী আর চরিত্রচিত্রণ নিয়ে নতুন কিছু বলার প্রয়োজন নেই। আলোচ্য বইটিও তাঁর দক্ষতার উৎকৃষ্ট নিদর্শন। প্রকাশক এই বইটিকে বেশ যত্নের সঙ্গে সম্পাদনা করিয়েছেন দেখে স্তম্ভিত হলাম। পূর্বজন্মের কোনো সুকৃতির ফলেই এ-জিনিস দেখার সৌভাগ্য হল আর কি। তবে খেতে পেলে শুতে চাওয়ার মতো করে বলি, এত ছোটো একটি লেখাকে ব্যয়বহুল হার্ডকভার যখন বানানোই হল, তখন ভেতরে ক'টা অলংকরণ দিলে আরও ভালো হত। হু/হাউ-ডান-ইট নয়, বরং এক টানটান নোয়া আখ্যান পড়তে চাইলে এই বইটি আপন করে নিন। ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।
গল্প পড়লাম বটে একখানা। এক রিইউনিয়ন, চার আলাদা আলাদা চরিত্র আর একখানা অন্ধকার ইতিহাস। বেশ গল্প জমাট। 🔥🔥
একদল বন্ধু রিইউনিয়নে এসে জানতে পারে 12 বছর আগের এক লাশ পাওয়া গেছে যা তাদেরই বন্ধুর। কে ছিল তার মৃত্যুর নেপথ্যে? আমাদের গল্পের সূত্রধরের এদিকে amnesia হয়ে গেছে। তাই স্মৃতি হাতড়ে হাতড়ে উত্তরের সামনে পৌঁছানোর মজাটাই আলাদা হয়ে গেছে।
✨ ক্রাইম থ্রিলার হয়তো ঠিক বলা যাবে না। তবে সাইকো থ্রিলার বলাই যায়। কারণ গোটা গল্পই মনের রহস্যের ওপর। একদিকে যেমন গল্পের বক্তা, মূল চরিত্র তার দুর্বল, আহত স্মৃতির সাথে যুদ্ধ করে সব রহস্য সমাধানের চেষ্টা করছে তেমনি আরেকদিকে আসল দোষী তার খেলাও চালিয়ে গেছে। ♥️ গল্পের শেষে ক্রিমিনাল এর মনের ভিতরেও এক চক্কর দিয়ে আনা হয়েছে। যা ঘুরে আসার পর আপনার সব ধারণা চুরমার হয়ে যাবে, ভুল-ঠিক সব মিলে মিশে ঘেঁটে যাবে।
🥰 তবু বইখানা পড়তে তো হবেই। এক তো বেশ ডিটেক্টিভ ডিটেক্টিভ খেলতে পারবেন, আর দুই তো সাইকো থ্রিলারের মনস্তাত্বিক বিশ্লেষন আছেই। 112 পাতার সুন্দর বই, লেগে পড়ুন।
সদ্য শেষ করলাম পিয়া সরকারের এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বইটি। থ্রিলার আমার বরাবরই প্রিয়, সেখানে এরকম কাহিনী হলে শেষ না করে ওঠা যায় না। টানা ৩ ঘন্টা পড়ে শেষ করেছি বইটি। দারুন একটা গল্প পড়লাম। সাক্ষী হলাম এক অন্ধকার অতীতের।
কোলাঘাট থানার এস.এইচ.ও সন্ধ্যেবেলায় থানায় বসেছিলেন, হঠাৎ থানার ফোনে খবর আসলো হোটেল রিভার শাইনে দীপিকা পোদ্দার নামে একটি কলেজ স্টুডেন্ট খুন হয়েছে।
ব্লু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতো কলকাতার বিখ্যাত কলেজের ছাত্রী দীপিকা পোদ্দার আর কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং করেজের ছাত্র শিবাশিস স্যান্যাল। পুলিশের রেইড পড়ে শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীপিকা টাকার জন্য ব্ল্যাকমেল করতে থাকে যার দোকান থেকে ভিডিও আপলোড করা হতো সেই ব্যক্তি অর্থাৎ শিন্টু নামে একটি ছেলেকে। ব্ল্যাকমেলের মাত্রা ছাড়ালে শিন্টু দীপিকার সাথে বোঝাপড়া করে নেওয়ার জন্য মিটিং ফিক্সড করে এ���ং কথা কাটাকাটির ফলে মাথা গরম হয়ে যাওয়ায় সে দীপিকাকে খুন করে। কিন্তু সেই রাতেই আবার গায়েব হয়ে যায় দীপিকার সাথে ভিডিওতে কাজ করা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র শিবাশিস স্যান্যাল।
পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে শিবাশিসের হদিশ না মেলায় তারা ভেবেছিল সে হয়তো এই খুনের সঙ্গে যুক্ত এবং ধরা পড়ার ভয়ে সে কলেজ থেকে পালিয়েছে। কিন্তু ঠিক ১২ বছর বাদে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পেছনের জঙ্গল থেকে তারই মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের জেরায় শিন্টু স্বীকার করেছে যে, দীপিকাকে খুন সেই করেছিল, কিন্তু শিবাশিসকে নয়। তাহলে শিবাশিসকে হত্যা করলো কে?
অন্যদিকে দীপিকা পোদ্দার খুনের ১২ বছর পর একটি রিইউনিয়নে জড়ো হয় কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পুরোনো চার বন্ধুর এক গ্রুপ। তাদের কথপোকথন থেকেই সামনে আসে শিবাশিস স্যান্যাল তাদের গ্রুপেরই একজন সদস্য ছিল। এখান থেকেই শুরু হয় আসল খেলা। একদিকে চলতে থাকে পুলিশি তদন্ত আর অন্যদিকে সন্দেহের তীরে বিঁধতে থাকে চারজন তাদের গ্রুপের একে অপরকে। কে এবং কেন খুন করেছে শিবাশিসকে? সন্দেহের কাঁটা ঘোরে কার দিকে? দায়ী কে এই খুনের জন্য?
কাহিনী খুব ছোটো পরিসরের। তবে এর মধ্যেও লেখিকা কাহিনীটিকে এতো সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন যার প্রসংশা না করে পারা যায় না। বিশেষ করে শেষের অংশটিতে পুরো হতবাক হয়ে গেছি আমি।
📚 বিষয়-সংক্ষেপ : হোটেল রিভার-শাইনে খুন হয় দীপিকা পোদ্দার নামে এক কলেজ স্টুডেন্ট । তদন্তে উঠে আসে - সে ব্লু-ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত ছিল । খুনিকে খুব সহজেই ধরে ফেলে পুলিশ । তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে - কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের 'শিবাশিস সান্যাল' নামের একজন স্টুডেন্টের সাথে এই ধরণের ভিডিওগুলো শ্যুট করত দীপিকা । পুলিশ শিবাশিসকে অ্যারেস্ট করতে গিয়ে দেখে সে আগেভাগেই পালিয়েছে ।
এই ঘটনার ১২ বছর পর একটি রিইউনিয়নে জড়ো হয় কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চার বন্ধুর এক গ্রুপ । তাদের কথোপকথন থেকে জানা যায় শিবাশিস সান্যাল তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুবৃত্তেরই একজন সদস্য ছিল । এইসময় চার বন্ধুর মধ্যে একজন, রঞ্জন জানায় - দু'মাস আগে কলেজের পিছনদিকের এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটা কঙ্কাল, পুলিশ সনাক্ত করেছে ঐ কঙ্কাল শিবাশিসের ।
এইবার ঐ চার-বন্ধু সন্দেহের তীর ছুঁড়তে শুরু করে একে অপরের দিকে । অন্যদিকে সমান তালে চলতে থাকে পুলিশি তদন্ত । কে খুন করেছিল শিবাশিসকে ? এত বছর পর কলেজের পিছনের জঙ্গল থেকে শিবাশিসের লাশটা উঠেই বা এল কিভাবে ? কোন কাহিনী লুকিয়ে আছে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে ?
📚 প্রতিক্রিয়া : এই উপন্যাস দুর্দান্ত একটি ক্রাইম থ্রিলার, সাথে আছে 'ডিটেকটিভ' গল্পের টাচ্ । একটি রিইউনিয়ন, চারটি মূল চরিত্র এবং তাদের অন্ধকার অতীত - এই প্রেক্ষাপটে গল্পটি সাজিয়েছেন লেখিকা । প্রতিটি চরিত্র তৈরি করেছেন সুনিপুণভাবে । ছোট্ট প্লট এবং কাহিনী বিন্যাস খুব সীমিত পরিসরের হওয়া সত্ত্বেও, উপন্যাসটি বেশ জমজমাট ।
▫️এই উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হল - রহস্য সমাধান হয়ে যাওয়ার পরের অংশটি, যেখানে লেখিকা পাঠককে প্রবেশ করিয়েছেন মূল অপরাধীর মনের ভিতরে । 'কেন' - এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পেরে 'ঠিক-ভুল', 'ভালো-খারাপ', 'ন্যায়-অন্যায়' - সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়ে পাঠক 'হতবাক' হয়ে রয়ে যাবে ।
▫️'নিহত হওয়ার আগে ও পরে' উপন্যাসটি 'প্রাপ্তমনস্ক' পাঠকদের জন্য একটি 'পারফেক্ট' ক্রাইম থ্রিলার ।
📖: নিহত হওয়ার আগে ও পরে 👤: পিয়া সরকার 👨💻: বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন ⭐: ৪.২৫ / ৫
পিয়া সরকারের নিহত হওয়ার আগে ও পরে বইটি প্রথম পড়া শুরু করেই বুঝে গিয়েছিলাম—এটি এক বসায় শেষ না করে ওঠা যাবে না। করুণাময়ী থেকে বর্ধমানগামী বাসে বইটি খুলেছিলাম, আর দমদম পেরিয়ে ডানলপ পৌঁছানোর মধ্যেই ১১২ পাতার এই উপন্যাস শেষ! এত দ্রুত পড়ে ফেলার পেছনে একটাই কারণ—গল্পের টান।
নাতিদীর্ঘ এই উপন্যাসে লেখিকা বন্ধুত্ব, প্রেম, হিংসা ও রহস্যকে এমনভাবে বুনেছেন যে কোথাও আলাদা করে কিছু চোখে পড়ে না, বরং সবকিছু মিলেমিশে একটি পূর্ণাঙ্গ আবহ তৈরি করেছে। সাধারণত বড় উপন্যাসে চরিত্রায়ন, রহস্যের স্তর নির্মাণ বা মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের জন্য বেশি পরিসর থাকে। কিন্তু এত কম পরিসরেও লেখিকা গল্পকে যত্নে গুছিয়ে একটি সম্পূর্ণতা দিয়েছেন—এটি সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
তবে শেষাংশে কিছু জায়গায় সামান্য অসঙ্গতি চোখে পড়েছে, আর সমাপ্তিটা আরও একটু গোছানো হতে পারত। তবুও মনে রাখতে হবে, এটি লেখিকার শুরুর দিকের কাজ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে প্রচেষ্টা এবং সম্ভাবনা—দুটোই স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, এই বছরের বইমেলায় লেখিকার পাঁচটি বই কেনার সিদ্ধান্ত একেবারেই ভুল ছিল না। বরং বাকি লেখাগুলো পড়ার জন্য এখন আরও বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
পিয়া সরকার সমকালীন গোয়েন্দা গল্প ও থ্রিলার যাঁরা লেখেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর বৃশ্চিকচক্র পড়ে দারুণ লেগেছিল। এটি পড়েও হতাশ হইনি। একটাই অভিযোগ কাহিনী তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল। আরো খানিকটা চললে ভালো লাগত।
দর্শনা বোসের দীর্ঘ ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাওয়া এই আনপুটডাউনেবল উপন্যাসিকাটি বাংলা রহস্য সাহিত্যে নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। Keigo Higashinoচিত দর্শনের ধারক হয়েও, আদ্যন্ত দেশজ ও বাঙালি আঙ্গিকের এই লেখাটি বোধহয় আরও বেশি সংখ্যক পাঠকের মনোযোগ ডিজার্ভ করে।
🔍 চার বন্ধু ১২ বছর পর রিইউনিয়ন এ এসে জড়িয়ে পরে ২০০৮ এ ঘটে যাওয়া একটা খুনের তদন্তে। কলেজ এর পিছনের পুকুরে উদ্ধার হয় তাদের এক সহপাঠীর কঙ্কাল। কঙ্কাল এর গলায় যে প্যাঁচানো দড়ি সেটা এরা চারজনেই চিনতে পারে। তাহলে খুন টা কে করেছে?
🕵️কলেজ জীবন, বন্ধুত্ব, লেগ পুলিং সমস্ত কিছুই আমাদের জীবনে কখনও মধুর আবার কখনও বিষাদ স্মৃতি বহন করে। নিঃসন্দেহে লেখিকা এক টানটান মার্ডার মিস্ট্রি খুব সুন্দরভাবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন। তবে এটাকে স্রেফ straightforward মার্ডার মিস্ট্রি ভাবলে ভুল হবে।এটি আসলে একট�� মৃত্যু কে কেন্দ্র করে কিছু চরিত্রের গল্প , শুরু থেকে যার উদ্দেশ্যে রহস্য উদ্ঘাটন নয়, কিন্তু চরিত্রগুলোর মনের গভীরের গ্রে এরিয়ার ফটোকপি তুলে আনা, এবং পাঠকের হাতে বিচার ছেড়ে দেওয়া।
📌 তবে আমার মনে হয়েছে—গল্পটা একটু বেশি স্লিম হয়ে গেছে ডায়েট করে। গদ্যে একটু মেদ, চরিত্রগুলোর আরও ব্যাক স্টোরি থাকলে সংযোগটা আরও গভীর হতো।
✨ বাংলার থ্রিলার ঘরানায় এমন নতুন ঢংয়ের লেখা সত্যিই ফ্রেশ লাগলো। যারা চরিত্র-কেন্দ্রিক থ্রিলার ভালোবাসেন, তাদের জন্য রেকমেন্ড করবো।