'ওয়াসি বরাবরই আমাদের চারপাশের ভয়াবহ বাস্তবকে খুব নিচু ঠাণ্ডা চোখে দেখে থাকেন। তার হাতে ছুরির ফলার মতাে ঝক ঝক করে বর্তমানের এই বাস্তব। আমাদের চারপাশের, এই বাংলাদেশের মানুষের জীবনের নিহিত ধ্বংস-দেশকালের নির্দিষ্টতায় আটকানাে আবার সাধারণভাবে বৈশ্বিক অমানুষতায় উঙ্কট-কোনাে কিছুই তার চোখ এড়ায় না। কিন্তু তার গল্প সেখানেই থেমে থাকে না। তিনি জীবনের অতলে নেমে যান, সুখের খোঁজে, দুঃখের খোজে, সুস্থতার খোঁজে, বিকারের খোজে। কে ছুঁয়ে দেয় সুখী তৃপ্ত যুবতীটিকে? কোন উৎস থেকে আসে জীবনের অপার বিষণ্ণতা? মাটির তলা থেকে, বিছানার নিচে থেকে, দরজার ফাটল থেকে লক্ষ লক্ষ পিপড়েরা বেরিয়ে এলে সন্তানসম্ভবা তরুণী প্রবল বৈকল্যের শিকার হবে কেন আর কেনই বা ধরিত্রীর নিচের লক্ষ লক্ষ বীজোদগমের মহােৎসবে নিজেও সৃষ্টির পতাকা তুলতে উন্মুখ। হয়ে উঠবে ? বনসাইদের উদ্দাম বৃদ্ধির আতঙ্কেই কি পদ্মমুখী এক তরুণীকে হত্যা করে ফেলে উচ্চাশাতীত যুবকটি? আপাতউদ্ভট, তুচ্ছ, অস্বাভাবিক এই প্রশ্নগুলিই শেষ পর্যন্ত কখনাে জীবনের নিরর্থকতা দেখায়, কখনাে একালের গভীর ব্যাধিকে শনাক্ত করে, কখনাে বা মানুষী অস্তিত্বের অসহায়ত্বকেই তুলে ধরে। 'ছোঁয়া', 'বনসাইয়ের স্বপ্ন', 'শীতপিপাসার দেও-দানব’, ‘ঋতুচক্র'-এর মতাে গল্প বাংলাভাষায় হরহামেশা লেখা হয় না।' -হাসান আজিজুল হক।
ওয়াসি আহমেদের জন্ম ১৯৫৪ সালে, সিলেট শহরের নাইওরপুলে। স্কুলের পাঠ বৃহত্তর সিলেটের নানা জায়গায়। পরবর্তী শিক্ষাজীবন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কবিতা দিয়ে লেখালেখির শুরু। ছাত্রাবস্থায় প্রকাশিত কবিতা সংকলন ‘শবযাত্রী স্বজন’। কথাসাহিত্যে, বিশেষত গল্পে, মনোনিবেশ আশির দশকে। প্রথম গল্প সংকলন ‘ছায়াদণ্ডি ও অন্যান্য’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। পুস্তকাকারে প্রথম উপন্যাস ‘মেঘপাহাড়’ প্রকাশ পায় ২০০০ সালে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালনসহ কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানা অঙ্গনে। লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশের প্রায় সব প্রধান সাহিত্য পুরস্কার।