After Jodi Jantem, he changed the character Basu to be an aged lawyer, whose wife Ranu is made invalid & Suborna alias Mithu, their only daughter is died in an accident. This novel marks the proper starting of the series. This is based on a murder of Ramen Guha, a policeman and some other incidents at The Repose, a hotel at Ghum, Darjeeling, run by the Mitra couple, Sujata & Koushik Mitra.
Narayan Sanyal (bn: নারায়ণ সান্যাল) was a well-known & versatile writer of modern Bengali literature. He received several awards for literature including Rabindra Puraskar for Aporupa Ajanta (Bangla: অপরূপা অজন্তা) in 1969, Bankim Puraskar for Rupmonjori (Bangla: রূপমঞ্জরী) in 2000, and Narasingha Dutta Award. Many of his books were filmed and he won the Best Film Story Writer Award for Shotyokam (Bangla: সত্যকাম) by Bengal Film Journalists.
Sanyal wrote numerous books that dealt with many topics, such as children, science, art and architecture, travels, psychiatry, technology, refugee problems, history, biographical pieces, encyclopedia of animals, social novel and Devadasi-related. He also wrote a series of detective fiction called the Kanta (Thorn) series, the framework of which was borrowed from the Perry Mason series of novels by Erle Stanley Gardner. Some of the stories were inspired from popular Agatha Christie novels like Mousetrap, ABC Murders, etc.
Interestingly, this talented author also preferred writing books on deep shadow of many world famous works. One of the most popular Sci-Fictions Nakshatraloker Debatatma (Bangla: নক্ষত্রলোকের দেবাত্মা) is based on the transformation of human race from primitive creature to civilized intelligent species controlling the whole earth. Then it deals with Jupiter exploration and a super intelligent Computer HAL. The three parted book is a clear shadow of 2001: A Space Odyssey by Arthur C. Clarke. In his book, NS renamed HAL as 'Jantra-Na.' In his mother tongue Bangla, it means 'Not a Machine'.
His most popular work is Biswasghatak (Bangla: বিশ্বাসঘাতক) written about the Manhattan project that developed the first US Atom Bomb. This book is based on the shadow of Brighter than a Thousand Suns: A Personal History of the Atomic Scientists (1970), by Austrian Robert Jungk. Not a shadow, but almost translation in some parts. Few of the illustrations in this book have been taken from few Russian school level books.
Another book Timi Timingil (Bangla: তিমি তিমিঙ্গিল) is on Whales. This stands on an article published in Readers Digest. But while NS accepted this for Timi Timingil, he never mentioned or thanked authors of 2001 or Brighter.
Most of the "Kanta" series stories were copied or heavily inspired from Perry Mason novels. For example, "Ristedar-er Kanta" was copied from The case of the beautiful beggar, "Abhipurbak Ni-Dhatu Au-er Kanta" was inspired from The case of the restless redhead. Some of the stories were inspired from Agatha Christie stories. For example, "Dress Rehearsal-er Kanta" was inspired from Three Act Tragedy. NS acknowledged his inspirations in his first few "Kanta" series books, but forgot to do so for the latter ones.
Thousands of NS fans feel sorry of this as a man of his talent could have developed something even better instead of just 'Copying' and retouching others works while he had indeed produced some excellent works himself.
But it is undoubtedly accepted by all that NS was one of the finest authors in Bengali and he was a class apart from the flock of contemporary Bengali writers those who too dependent on sentiment and emotional overdose in their writings and too dependent on monopolist Bengali media/publication groups in commercial front.
গোয়েন্দা গল্প মানেই মনের মধ্যে উঁকিঝুঁকি মারে শুধু ব্যোমকেশ বক্সীর নাম। কী অসাধারণই না ছিল গল্প গুলো। ফেলুদাও ভাল লাগে কিন্তু ব্যোমকেশের মতো মনের মধ্যে দাগ কাটতে পারে না। তারপর একে একে কিরীঠী, অর্জুন, মিতিন মাসি সবগুলোর স্বাদ ই নিয়ে দেখেছি কিন্তু ব্যোমকেশের মতো পায়নি। সেই ব্যোমকেশ কেই উৎসর্গ করে লেখা এই ডিটেকটিভ উপন্যাসটি। এই সিরিজের পদার্পণ হলোই এ গল্প দিয়ে। আর শুরুতেই বাজিমাত। একদম নিখাদ গোয়েন্দা গল্প যাকে বলে।
গল্পের ডিটেকটিভ নায়ক পি. কে. বসু। চরিত্রটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রচন্ড ম্যাচুরিটি আছে চরিত্রটার মাঝে । একজন অভিজ্ঞ ব্যারিস্টার আর বুদ্ধিদীপ্ত তদন্তকারীর একইসাথে উপস্থাপন করেছেন লেখক অনেক সাফল্যের সাথে। এতকিছুর পরও পি কে বাসুর আরেকটি দিকের কথা বলতেই হয়। স্ত্রীর প্রতি অনুরাগ। দুর্ঘটনায় চলৎশক্তিহীন স্ত্রীকে সঙ্গ দেবার জন্য পি কে বাসু অবসর নেন কাজ থেকে। নিজেকে উজাড় করে দেন যেন একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বেঁচে থাকা এই ভদ্রমহিলা নিজেকে কখনো একা না ভাবেন।
এটুকু নিশ্চিত পরবর্তী গল্পগুলো অবশ্যই পড়ব। আপাতত ইয়ার ফাইনাল এক্সাম। তাই আপাতত স্থগিত। তবে পরীক্ষার পর মালকোচা মেরেই লাগবো আশা করি। এই সুখাদ্য বেশিদিন ফেলে রাখা যাবে না।
বেশ ভালো লাগল। প্রথমবার পড়লাম নারায়ন স্যানালের পি.কে বাসু সিরিজের কোনো গল্প। যদিও গল্পটা পেরি ম্যাসন সিরিজের এডাপ্টাশন, তবুও পরিচিত ঘরনায় পড়তে ভালো লেগেছে। একেবারে গোল্ডেন এইজ মার্ডার মিস্ট্রি সোনার কাঁটা। পি.কে বাসু পেঁয়াজের খোসার মত রহস্যের কিনারা করেছেন। শেষের টুইস্টটাও ভালো, আগে থেকে ধারণা করা কঠিন। কন্টিনিউ করার ইচ্ছা আছে সিরিজটা।
খাসা খাসা! পি কে বাসুর সাথে দারুণ সময় কাটছে। চমৎকার এই সিরিজটা নিয়ে কেউ কথা কেন বলে না তা ভেবে অবাক হচ্ছি। র্যানডম পিকের ক্ষেত্রে নারায়ণ সান্যাল আমাকে কখনো হতাশ করেননি।
যারা ডিটেকটিভ থ্রিলার পছন্দ করেন তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্যের কাতারে পরে নারায়ণ সান্যালের এই 'কাঁটায় কাঁটায়' সিরিজ।
একটি হত্যা রহস্যের কিনারা করতে না করতেই আরেকটি হত্যা চেষ্টার আবির্ভাব! একটি হোটেলে জনাকয়েক মানুষ, প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে জনবিচ্ছিন্ন প্রায়। যেন চারিদিকে সমুদ্র ঘনিয়ে আসছে। পালাবার পথ রুদ্ধ। এই জনাকয়েক মানুষের মুক্তির পথ ছিল নিজেদের মধ্যে সঙ্ঘবদ্ধতায় কিন্তু অবিশ্বাসের জালে জড়িয়ে গিয়ে সবাই সবার চোখে হয়ে উঠেছে খুনি।
ওরা জানে এই জনবিচ্ছিন্ন হোটেলে তাদের সাথেই একজন খুনি লুকিয়ে আছে। সে আরেকটা হত্যাকাণ্ড ঘটাতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু কে কাকে খুন করতে চায়? কিছুই তো জানা নেই।
পুরোটা বই জুড়েই রহস্যের একটা ঘন কুয়াশা বিরাজ করেছে, সন্দেহের তীর একদিক থেকে আরেকদিকে হেলে গিয়েছে বার বার। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে বাধ্য করেছে প্রতিনিয়ত।
আমরা অধিকাংশ বইপোকা বাংলাসাহিত্যে খাঁটি গোয়েন্দা বলতে কাদের লেখাগুলো বেশি পড়ি। প্রথমে ফেলুদা, তারপর ব্যোমকেশ কিংবা অর্জুন, খুব বেশি হলে কিরীটী রায় বা কিকিরা। কিন্তু বাংলা সাহিত্যে রয়ে গেছেন আরও অনেক শক্তিশালী গোয়েন্দা চরিত্র। যাদের সম্পর্কে জানলে হয়তো কিছু কিছু গল্পে তারা আমাদের কাছে ফেলুদা কিংবা ব্যোমকেশকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। আজ তেমন একজন গোয়েন্দা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো। নারায়ণ সান্যাল রচিত সেই গোয়েন্দার নাম ব্যারিস্টার পি কে বাসু।
নারায়ণ সান্যাল এই চরিত্রটি আর্ল স্ট্যানলি গার্ডেনার এর প্যারি ম্যাসনের অনুকরনে এঁকেছেন। কোর্টরুম ট্রায়াল ও নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে পিকে বসু রহস্য উদঘাটন করে থাকেন। কাঁটা সিরিজের অধিকাংশ গল্পই স্ট্যানলি গার্ডেনারের গল্পের ছায়ায় যদিও আগাথা ক্রিস্টি ও কয়েকজন বিদেশী লেখকের কাহিনী অনুসারেও কিছু গল্প রচিত হয়েছে। সোনার কাঁটায় গল্পটি অগাথা ক্রিস্টির মাউস ট্রাপ গল্প থেকে এডাপ্ট করা হয়েছে। এই গোয়েন্দা সিরিজটির নাম কাঁটায় কাঁটায়। যা সত্তরের দশক থেকে প্রচন্ড জনপ্রিয়তা লাভ করে।
বইয়ের নামঃ সোনার কাঁটায় লেখকের নামঃ নারায়ণ সান্যাল প্রথম প্রকাশকালঃ অক্টোবর ১৯৭৪ প্রচ্ছদ শিল্পীঃ খালেদ চৌধুরী উৎসর্গঃ ব্যোমকেশ বক্সী পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭০
দার্জিলিং থেকে কলকাতার লাল বাজারে পোষ্টিং পেয়ে বেশি খুশী হয়েছিলো ও সি নৃপেন ঘোষাল। সমতলের মানুষ হয়ে চার বছর পাহাড়ে কাটাতে হাপিয়ে উঠেছিলো। তাই স্ত্রীকে নিয়ে রীতিমত আনন্দ করেই দার্জিলিং কে বিদায় জানাচ্ছিলো আর এদিকে নৃপেনের জায়গায় সাকসেসার হিসাবে যে ছেলেটি এসেছে সেও অনেক ভাল। সহবত জানে। রমেন গুহ ছেলেটির নাম। তাই রাতে তাকে ঢেকে একরকম জোর করেই খাইয়ে দিয়েছিলো নৃপেনের স্ত্রী রমেনকে। সকাল হলেই বিদায় দার্জিলিং, কলকাতার পথে যাত্রা। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎ একটি ফোন। বার বার চিৎকার করে জানাচ্ছে কোন অশুভ বার্তা। যাওয়া হলো না ওসি নৃপেনের ঘোষালের। ফোনের ওপার থেকে এলো লোমহর্ষক এক খুনের ঘটনা। সাকসেসর রমেন গুহকে বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে হোটেলের রুমে।
আর তদন্তে পাওয়া গেছে একটি চিরকুট। চিরকুটে লেখা আছে তিনটি লাইন। যেখানে নির্দেশ করা আছে আর দুটি খুনের এবং খুনের ঠিকানা। প্রথম লাইনের প্রথম হত্যাকান্ডের নির্দেশ। যা ইতিমধ্যে সমাপ্ত। দ্বিতীয় লাইনে একটি স্থানের নাম। মানেটা পরিস্কার। দ্বিতীয় হত্যাকান্ড হবে সেই স্থানে। আর তৃতীয় লাইনে আছে শুধু একটি জিজ্ঞেসাবোধক চিহ্ন (?) যার মানেটাও এই চিহ্নের মত। দার্জিলিং এর কাছে ঘুম নামের একটি স্থানে নতুন খোলা একটি হোটেল হবে খুনীর পরবর্তী টার্গেট, নাম রিপোস।
এই উদ্ভট রহস্য জালের জটিলতা হয়তো আরও দুর্বোধ্য হতে উঠতো কিন্তু হোটলে কাঞ্চনজঙ্ঘায় ওসি রমেন গুহের মৃত্যুর সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আর একটি বিশেষ মানুষ। স্বয়ং পি কে বাসু নিজেই। তারপরের হোটেল রিপোস, অনেকগুলো চরিত্রের উপস্থিতি, অপরাধের পূর্ব ইতিহাস, প্রতিশোধের নেশায় ছদ্মবেশী খুনীর আগমন, আর অবেশেষে জ্বলসে ওঠে বারুদের গন্ধ।
ব্যক্তিগত মতামতঃ
সাধারনত গোয়েন্দা চরিত্রগুলির মাঝ�� আত্নবিশ্বাস মাত্রাটা একটু বাড়াবাড়ি রকমের দেখা যায়। তবে ব্যারিস্টার পি কে বাসুকে এদিক থেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। সোনার কাঁটায় গল্পটিতেই আমরা দেখতে পাই তিনি অরুপের দুর্ঘটনার জন্য নিজের ভুল বিশ্লেষণকে দায়ী করেন।
নারায়ণ সান্যালের সৃষ্ট পি কে বাসু আরেকটি দিক হলো প্রচন্ড ম্যাচুরিটি আছে চরিত্রটায়। একজন অভিজ্ঞ ব্যারিস্টার আর বুদ্ধিদীপ্ত তদন্তকারীর একইসাথে উপস্থাপন করেছেন লেখক অনেক সাফল্যের সাথে। এতকিছুর পরও পি কে বাসুর আরেকটি দিকের কথা বলতেই হয়। স্ত্রীর প্রতি অনুরাগ। দুর্ঘটনায় চলৎশক্তিহীন স্ত্রীকে সঙ্গ দেবার জন্য পি কে বাসু অবসর নেন কাজ থেকে। নিজেকে উজাড় করে দেন যেন একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বেঁচে থাকা এই ভদ্রমহিলা নিজেকে কখনো একা না ভাবেন।
এটি ছিল কাঁটায় কাঁটায় সিরিজের দ্বিতীয় গল্প। প্রথম গল্পটির নাম নাগচম্পা। “এটাকে ট্রায়াল বল” বা পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টাও বলা হয়।
দারুণ। খুনী কে গেস আগেই করতে পারছি যদিও বাট দার্জিলিং এর হিম হিম কন্ডিশনের পটভূমিতে রচিত থ্রিলার দারুণ লেগেছে।নিজে একসময় গেছিলাম সেজন্য ভালো লাগাটা আরো বেড়ে গেছে।
পিকে বাসুর শেষ পর্যন্ত নিজ অনুমানে অভ্রান্ত থেকে টিকে যাবার ব্যাপারটা নেহাতই ডালভাতের মতনই স্বাভাবিক সহজিয়া সিদ্ধান্ত।খুন থেকে খুনীর খবরাখবর বের করবার প্রচলিত প্রথায় নিজ বুদ্ধিমত্তার যে পরিচয় দিয়েছেন তাও আমাদের জ্ঞাত।
শুধু আলী সত্যবাদী যুধিষ্ঠির হতে গিয়ে রাসলীলার যে রমরমা পরিকল্পনা করেছিল,শেষান্তে ঘরভেদী বিভীষণের তকমা কেন সেধে নিতে গেলো তাই বুঝতে পারলুম না। পরনারীর প্রলোভনে পরকীয়ায় সক্রিয় হবার পরিকল্পনাটা নেহাতই মাঠে মারা গেলো বেচারার।
সাধারন,কিছুটা খাপছাড়া প্লটের অনুমেয় উপসংহারান্তে তিন তারকা যোগ্য একবারের বেশি পঠনযোগ্য নয় কাঁটা সিরিজের রিভিউ এখানেই সমাপ্ত।
সেমিনারের একের পর এক বিরক্তিকর প্রেজেন্টেশন আর সহ্য করতে না পেরে পড়া শুরু করলাম, আর সেমিনার শেষ হবার আগেই বই শেষ। আগাথা ক্রিস্টির মাউসট্র্যাপ-এর এডাপটেশন; কয়েক জায়গায় সামান্য খাপছাড়া হলেও টাইম পাসের জন্য ভালই।
ভালো তবে নারায়ণ সান্যালের লেভেলের মনে হল না। বেশ কিছু জায়গা আবছা রয়ে গেল। যেমন
১) কৌশিক দার্জিলিঙে মিসেস ডালমিয়ার সঙ্গে লাঞ্চ করল, তাকে সোনার কাঁটা দিল, আবার সেটাই শেষে সুজাতাকে কি করে দিল? তবে কি সে সুজাতার জন্য কেনা কাঁটাটি মিসেস ডালমিয়াকে দেখাচ্ছিল?
২) সহদেবের দ্বিতীয় টার্গেট অরুপরতন শুধুমাত্র আহত হয়েছিলেন, কাজ অসম্পূর্ণ রেখে কোন খুনী তৃতীয় খুনের চেষ্টা করবে?
৩) সহদেবের রিপোসে কোন বুকিং ছিলনা। যদি মারাত্মক দুর্যোগ না হত তাহলে তার পক্ষে সুবীর সেজে এসে ওখানে ওঠা কি খুব সহজ হত? এত প্ল্যান করে এসে এটা কি ভাগ্যের হাতে ছাড়া সম্ভব?
অনেকদিন পর একটা ভালো গোয়েন্দা গল্প পড়লাম, আর পড়েই মনে হলো অনেক দেরী করে ফেলছি, আরো আগেই পড়ে নেওয়া উচিত ছিলো। বাংলা সাহিত্যে গোয়ান্দে চরিত্রের ভিড়ে খুব একটা ভালো জায়গা করে নিতে হয়তো পারেনি পি.কে বাসু, কিন্ত যোগ্যতা যে কোনও অংশে কম না তা বলাই যায়। তাই আমার মনে হয়েছে, ফেলুদা সত্যান্বেষী কিংবা কীরিটির তুলনায় বড্ড আন্ডার-রেটেড। তবে যারাই পড়েছেন তারাই প্রশংসা করেছেন, এও এক বিরাট প্রাপ্তি লেখকের জন্য। কাঁটা সিরিজের নাম আমি বহুবার শুনেছি, ভীষণ ইচ্ছা ছিলো পড়ার, যাই হোক শুরু করলাম সোনার কাঁটা দিয়ে, নিরাশ তো ইইনি বটেই সাথে আগ্রহ বেড়ে গেছে তীব্র। গোয়ান্দা গল্পের রহস্য নিয়ে কিছুই বলবো না, তবে বলতে পারি, পড়ে দেখুন দুর্দান্ত লাগবে। সামান্য যে টুকু না বললেই নয়, তা হলো এরকম - পি.কে বসু একজন ল-ইয়ার ছিলেন যিনি, বর্তমানে প্র্যাক্টিস ছেড়ে হুইল চেয়ারে উপবিষ্টা স্ত্রীর সেবক রূপে নিয়োজিত প্রাণ। ল-ইয়ার হওয়ার সুবাদে সুনামের সাথে সাথে অর্জন করেছেন এক চেটিয়া শত্রুকুল। তাদেরই একজন বীরিংসাপরায়ণ হয়ে লেখকের ক্ষতি করতে চায়। অকস্মাৎই পি.কে বসুর পরিচিত খুন দিয়ে যে কাহিনীর শুরু হয় তার শেষ টার্গেট হয়ে দাঁড়ায় তার স্ত্রী। তাকেই বাঁচাতে কিভাবে রহস্য ভেদ করেন তা অবশ্যপাঠ্য। একটা জিনিস মনে হয়েছে সেটা এই প্রসঙ্গে বলি, কেন জানিনা লেখকের লেখায় আমি শরদিন্দু বাবুর লেখনশৈলীর ছোঁয়া পেয়েছি, অনুপ্রাণিত বলা চলে। গল্প বলার ধরণ থেকে আরম্ভ করে গোয়ান্দার উপস্থাপনা সবটাই। তবে আমার তা খারাপ লাগেনি।
গল্পের প্লট, গল্পের বুনট, গল্পের ব্যাবস্থাপনা যথাযোগ্য। কোথাও কোথাও যথারীতি হাস্যরসেই উপস্থাপনা লক্ষণীয়। সাথে শেষ পাতা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার রসদ। সব মিলিয়ে অত্যন্ত সুখপাঠ্য এই বই। তাই এটিও রেকমেন্ডেড্। (এটিও বলছি কারণ আজকাল যা পড়ছি সবই রেকমেন্ড করছি, আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে আমি একটু বেছে বই পড়ি, তাই গ্রুপে কোনও বই নিয়ে খুব মাতমাতি দেখে তবেই পড়ি বলে খারাপ লেখা পড়া হয়ে ওঠে না, আর ভালো উপন্যাস, ভালো গল্প তো ভালো লাগতে বাধ্য নাকি। তাই সবই রেকমেন্ড করে বসি) আর হ্যাঁ, এটা পড়ার পরে রাত ভরে বৃষ্টি পড়েছিলাম, এটার রিভিউ লেখা বাকি ছিলো, তাই একসাথে বসে দুটো লিখলাম।
নারায়ণ সান্যালের "সোনার কাঁটা" তাঁর জনপ্রিয় "কাঁটা সিরিজ" এর দ্বিতীয় উপন্যাস, যেখানে প্রধান চরিত্র ব্যারিস্টার পি. কে. বাসু। এই উপন্যাসটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় এবং আগাথা ক্রিস্টির বিখ্যাত নাটক "The Mousetrap" থেকে অনুপ্রাণিত । পি. কে. বাসু একজন প্রাক্তন ব্যারিস্টার, যিনি তাঁর চলৎশক্তিহীন স্ত্রীকে সেবা করার জন্য পেশা ছেড়েছেন। তাঁর চরিত্রটি আর্লে স্ট্যানলি গার্ডনারের "পেরি ম্যাসন" এবং আগাথা ক্রিস্টির "হারকিউল পোয়ারো" চরিত্রের সংমিশ্রণ। তিনি বুদ্ধিদীপ্ত, অভিজ্ঞ এবং মানবিক গুণে পরিপূর্ণ । ঘটনাটি ২ অক্টোবর, ১৯৬৮ সালে দার্জিলিংয়ে শুরু হয়। সেখানে সদ্য বদলি হয়ে আসা ওসি রমেন গুহ একটি হোটেলের ঘরে রহস্যজনকভাবে নিহত হন। ঘটনাস্থলে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে তিনটি খুনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরপরের খুনটি ঘটবে দার্জিলিংয়ের কাছে "ঘুম" নামক স্থানে নতুন খোলা হোটেল "রিপোস"-এ। এই রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করেন পি. কে. বাসু, যিনি ঘটনাক্রমে সেখানে উপস্থিত ছিলেন । "সোনার কাঁটা" একটি চমৎকার রহস্য উপন্যাস, যা বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে। পি. কে. বাসুর চরিত্র এবং নারায়ণ সান্যালের লেখনশৈলী দুটোই মনোমুগ্ধকর।
যদিও এই উপন্যাসটি জনপ্রিয় ইংরেজ লেখিকা আগাথা ক্রিস্টির লেখা ❝দ্য মাউসট্রাপ❞ নাটক থেকেই অনুপ্রানিত হয়ে লেখক লিখেছেন। তারপরও লেখক তাঁর নিজের লিখনশৈলী ও লেখার ধরন দিয়ে উপন্যাসটিকে অনেকটাই উপভোগ্য করে তুলেছেন। এছাড়া উপন্যাসটির কাহিনী লেখক চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন ও একটি নির্দিষ্ট গতিতে কাহিনী এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন কিন্তু উপন্যাসের শেষে কাহিনীর গতি একটু দ্রুত করেছিলেন কিন্তু তাও উপন্যাসটি ভারসাম্য হারায়নি। আরও একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম, লেখক পি.কে.বাসুকে সাধারণ চরিত্র হিসেবেই দেখিয়েছেন, যা আমার খুবই ভালো লাগলো।
কিন্তু লেখক যদি উপন্যাসটির চরিত্রগুলোর আরও বর্ণনা দিতেন, তাহলে হয়ত চরিত্রগুলোর সাথে আরও ভালোভাবে কানেকট্ হতে পারতাম। তাছাড়া উপন্যাসের শুরুতে লেখক অনেক রহস্য ও প্রশ্ন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন কিন্তু উপন্যাসের শেষে লেখক অনেক প্রশ্নেরই উত্তর দেননি; যদি সেগুলোর উত্তর দিয়ে দিতেন তাহলো হয়ত উপন্যাসটি আরও উপভোগ্য হয়ে উঠত।
কাহিনী সংক্ষেপ এ যাবো না। বাংলা গোয়েন্দা গল্পে সোনার কাঁটা বা কাঁটা সিরিজের পরিচিতি ব্যাপক। মোটামুটি গুগল করলে বা গুডরিডসে খোজাখুজি করলে এর কাহিনীসংক্ষেপ জানা যাবে। আমি বরং পাঠ প্রতিক্রিয়ায় আসি। বাঙলা গোয়েন্দা গল্প হিসেবে তুলনা করলে সোনার কাঁটা'র জনপ্রিয়তা কি জাস্টিফাইড? এটা নিয়ে আমার মিশ্র অনুভুতি আছে। সিরিজের বাকি বইগুলি পড়ে সে ইভালুয়েশন করা যাবে। এমনি তে সোনার কাঁটায় ভাল লেগেছে দার্জিলিং এর বর্ণনা। চরিত্রে আসি..... নতুন চরিত্রগুলির ক্ষেত্রে ক্যারেক্টর ডেভেলপমেন্ট কিছুটা খাপছাড়া মনে হয়েছে। মিস্টার আলি, অজয়, মিস কাবেরী এদের দৃষ্টিকোণ থেকে আরেকটু ক্যারেক্টর স্টোরি এড করলে তেমন লাগত না। পি.কে. বাসু কে তুলে ধরা হয়েছে একজন প্রতিভাবান ক্রিমিনাল লইয়ার হিসেবে। সেই তুলনায় যে ক্লু এর ভিত্তিতে তিনি সহদেব কে ধরলেন তা আমার কাছে নেহায়েত সরল মনে হয়েছে। আরেকটু টুইস্ট বা একশন থাকলে ভাল লাগত। ব্যক্তিগত মতামত। কারো কাছে এটা খুব ভাল লাগতেই পারে এবং লেগেছে ও।
This entire review has been hidden because of spoilers.
গোয়েন্দা গল্প পড়িনি আজ বেশ কিছুদিন হল, অন্তত বছরখানেক তো হবেই। আমি গোয়েন্দা গল্পের খুব বড় ভক্ত নই, আবার যারা একে লঘু সাহিত্য মনে করেন, আমি সেই দলেও পড়ি না। মাঝে-মাঝে স্বাদ বদলের জন্য এ-পাড়ায় আসা। গল্পটা পড়েছি কালীপূজা আর ভাইফোঁটার মাঝামাঝি সময়ে।
ফেলুদা, ব্যোমকেশ, মিতিনমাসী, অর্জুন সহ বাংলা সাহিত্যে যাদের নিয়ে গোয়েন্দা-রহস্য লেখা হয়েছে, জনপ্রিয়তা ও পরিচিতির নিরিখে তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে ব্যারিস্টার পি.কে.বাসু আসেন না— তা মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তবে সোনার কাঁটা পড়ে মনে হল সবার অলক্ষ্যে থেকে অভিজাত ব্যারিস্টার মিস্টার বাসু কিন্তু গোয়েন্দাগিরিতে মোটেই কম যান না!
বইয়ের শুরুতে কৈফিয়ত অংশে লেখক বলেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় আর ব্যোমকেশ বক্সীর প্রতি তার অনুরাগের কথা। যাদের ব্যোমকেশ প্রিয়, শরদিন্দু পড়েছি অল্প-বিস্তর— এ-কৈফিয়ত তাদের ভালো লাগবেই। অনুরোধ রইল সবার কাছে, কৈফিয়ত অংশটি পড়ে দেখার।
প্রসঙ্গে ফেরা যাক। গল্পের মূল ভাবনা আর প্রোটাগনিস্ট কোনোটাই লেখকের স্বকীয় কল্পনাজাত নয়— তাঁর কথায়, ক্রিস্টি-কীর্তি 'মাউস ট্র্যাপ'-এর ছায়া দিয়ে গড়া সোনার কাঁটা', আর স্ট্যানলি গার্ডনার-সৃষ্ট চরিত্র প্যেরী মেসনের আদলে বাংলা সাহিত্যে জন্ম পি.কে.বাসু-র। তবে যারা ইতিমধ্যেই ছায়ায় তৈরি দেখে মৌলিকতার অভাববোধ করে পড়বেন না ভাবছেন, তাদের উদ্দেশে জানিয়ে রাখি— না-পড়লে মিস হতে পারে ভালো কিছু।
গল্পের প্রেক্ষাপট বাঙালির প্রিয় শহর দার্জিলিং। নৃপেন ঘোষাল বাড়ি থেকে দূরে সেখানে কর্মরত, সদর থানার ওসি তিনি। সম্প্রতি লালবাজারে তার বদলির খবর শুনে স্বভাবতই তিনি খুব খুশি। রমেন গুহ তার জায়গায় কাজে যোগ দেবেন নতুন ওসি হিসেবে। ইতিমধ্যে তিনিও চলে এসেছেন দার্জিলিঙে।এই অবধি সবকিছু স্বাভাবিকই চলতে থাকে— কিন্তু হঠাৎ ঘটে যায় একটা রহস্য মৃত্যু। হোটেল রুমে রমেন গুহকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক অনুমান— পানীয় সায়ানাইডের বিষক্রিয়ায় দূষিত। এরপর গল্পের গতি যেমন বাড়তে থাকে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঘনীভূত হয় রহস্যের মেঘ। মিস্টার বাসু-র বুদ্ধিদীপ্ত বিশ্লেষণে কাহিনি এতটাই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে যে, শেষ না-করে এ-জিনিস ছাড়া যায় না। অন্যান্য চরিত্রের বর্ণনা, তাদের সংলাপ— সবটাই যেন যথাযথ মনে হয়। স্বার্থক ক্রাইম থ্রিলারে যেমনটা হয় আর কী! টানটান উত্তেজনা অনুভব করেছি প্রায় শেষ অবধি, ক্লাইম্যাক্সের ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত। পুরো গল্পটা গোগ্রাসে গিলতে গিলতে বোধহয় শেষটা নিয়ে প্রত্যাশার পারদ চড়েছিল অনেকখানি। তা হোক, তবে মন্দ লাগেনি একেবারেই। গন্তব্যের দিকে না-চেয়ে যাত্রাটা উপভোগ করা যায় অনায়াসে।
রেডিও মিলানে অডিও স্টোরিটা শেষ করার পর প্রায় সাথে সাথেই ইউটিউবে দেখে ফেলেছিলাম "যদি জানতেম" নামক ছবিটা। মূল গল্পের সাথে ফিল্ম এডাপ্টেশনের খুব বেশি একটা মিল নেই। কৌশিক আর সুজাতার সূচনাটাও দেখানো হয়েছে অন্যভাবে। সৌমিত্র আর উত্তম কুমারের অভিনয় নিয়ে নতুন করে তো আর বলার কিছু নেই। উত্তম দৃশ্যপটে প্রবেশ করার সাথে সাথেই যেন পারদটা একেবারে আকাশেতে পৌঁছে যায়।
সে যাক। মূল গল্পটা স্রেফ অসাধারণ। হোটেলে আটকে পড়া মানুষের সংখ্যা খুব বেশি না, কিন্তু তারপরও আপনি কাকে সন্দেহ করবেন, তা বুঝতে একটু গলদঘর্ম হওয়া লাগে। শেষটায় খলকে যেভাবে পাকড়াও করলেন পি কে বাসু, সেটা আজকের দিনে কিছুটা হালকা লাগলেও তখনকার সময় মাস্টারস্ট্রোক ছিলো। তা বলাই বাহুল্য। ক্লাইম্যাক্সের পর কী থেকে কী হলো, সেটাও খুব সুন্দর করেই ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। বইটা জম্পেশ...
সদ্য ট্রান্সফার হওয়া এক উল্লসিত পুলিশ অফিসার তার স্ত্রী সহ গোছগাছ শুরু করে দিয়েছেন কাঙ্ক্ষিত স্থানে যাওয়ার জন্য। ঠিক এরইমধ্যে তি���ি খবর পান তার বন্ধু সম কলিগ খুন হন। যিনি কিনা আগের দিন রাতেও তাদের সাথে একত্রে ডিনার করে গেছেন। পুলিশ অফিসার ছুটতে থাকেন সেই খুনের তদন্ত করতে।
অন্যদিকে এক দম্পতি নতুন একটি হোটেল চালু করেন। মেঘোমন্দ একটা দিনে উদ্বোধন হয় হোটেলটির। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই একে একে বোর্ডাররা আসতে থাকেন হোটেলে। আর এই হোটেলেই এসে উপস্থিত হন পি.কে.বাসু। ইনি একজন অপরাধী পক্ষের আইনজীবী। বর্তমানে এক দুর্ঘটনার জন্য তিনি তার প্র্যাকটিস ছেড়ে পঙ্গু স্ত্রীর সাথেই আছেন। মধ্যবয়স্ক মানুষটি তার স্ত্রীকে প্রচুন্ড ভালো বাসেন। এই হোটেলে এসেছেনও স্বস্ত্রীক। দার্জিলিং এর সুন্দর মনোরম শান্ত প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগ করতেই তারা এখানে বেড়াতে এসেছেন।
বৃষ্টিস্নাত রাতে পি.কে.বাসু একটি তরতাজা খুনের গল্প বলতে থাকেন। সেখান থেকে জানা যায়, তিনি যে গল্প বলছেন সেই গল্পের ভিকটিমই হচ্ছেন সেই পুলিশ অফিসারের কলিগ। যিনি মৃত্যুর দিন একটা হোটেলে ছিলেন। আরো জানা যায়, সেই হোটেল থেকেই কিছু প্রত্যাক্ষস্বাক্ষী বোর্ডার এই নতুন হোটেলে এসে থাকছেন। তাদের কথা হলো, তারা আনন্দ ভ্রমন করতে এসেছেন, পুলিশের ছত্রিশ ঘা খেতে আসেননি। তারা নিরিবিলি সময় কাটাতে চান।
গল্প শোনার পর থেকেই সবার মধ্যে সন্দেহ কাজ করতে থাকে। সবাই সবাইকে সন্দেহ করতে থাকে।
এরই মধ্যে একজন একটা চিরকুটের মাধ্যমে জানতে পারেন, এই হোটেলেই সেই খুনি আছে এবং সে চ্যালেঞ্জ করছে আরো দুটো খুন সে করবে। কিন্তু কেনো? এবং কি কারনে?
পি.কে.বাসু তার কর্মজীবন থেকে অনেক শত্রু সংগ্রহ করে ঘুরছেন। তাই তিনি খুন হতে পারেন বলে সবাই আশংকা করেন। তা যদি হয়ও, তাহলে তৃতীয় ব্যাক্তিটি কে হতে পারেন খুনির শিকার? আর এই কজন বোর্ডারদের মধ্যে খুনিই বা কে? একদিকে হোটেলের বাইরে চলছে আকাশ ভাঙা ঝড়বৃষ্টি। অন্যদিকে বোর্ডারদের মধ্যে চলছে ভয়, শঙ্কার ঝড়। প্রবোল ঝড়ের কবলে পড়ে হোটেল থেকে শহরে যাতায়াত পথ ক্ষতিগ্রস্ত। তাই আপাতত পুলিশি সহায়তা বন্ধ। এবার কি হবে?
—--
লেখক ‘নারায়ণ স্যানাল’এর কাঁটায় কাঁটায় সিরিজের প্রথম গল্প ‘সোনার কাঁটা’ পড়ে আমার ভালো লেগেছে। লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ে ভক্ত। তাই তার লেখাতে শরদিন্দুর লেখার ছায়া পাওয়া যায়। দু'একটা খটকা বাদে বাকি গল্প বেশ চমৎকার। পড়া শেষে এই গল্প আমার প্রিয় আরেক রহস্য লেখিকা আগাথা ক্রিস্টির ‘দ্য মাউসট্র্যাপ’ গল্পের কথা মনে পড়ে যায়। অবশ্য লেখক নারায়ণ স্যানালও তার এই গল্প এ কথা উল্লেখ করেছেন। তাই বলা যায়, সোনার কাঁটা গল্পটির থিম মাউসট্র্যাপ ছিলো। আর সেই থিমকে বর্তমান লেখক খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। গোয়েন্দা বা রহস্য গল্পের পাঠকরা পড়লে ভালো লাগতে পারে।
Narayan Sanyal's "Sonar Kata" offers a commendable entry into Bengali detective literature, though its length can feel a bit extended. The novel truly shines in its meticulous and thorough development of its characters, allowing readers a deep understanding of their roles and motivations within the unfolding mystery. While the resolution of the case felt somewhat anticipated, diminishing the impact of the final reveal, it's important to acknowledge the book's historical context. Considering the era in which it was written, "Sonar Kata" undoubtedly represents a significant milestone for Bengali literature and its detective genre. For those who appreciate Bengali detective series, encountering the well-crafted character of PK Basu is a worthwhile experience and a key draw of this novel.
ক্রিস্টির মাউসট্র্যাপের এডাপটেশন। বেশ কয়েক জায়গায় নাম উল্লেখ করেই ট্রিবিউট দেয়া হয়েছে। এটাতে ডিটেইলিং তুলনামূলক কম ছিলো, প্রথম অংশ বেশি ভালো লেগেছে যেখানে পি কে বাসুর পরিচিত পাই আমরা। লেখকের শক্তির দিক সেটাই মূলত, নতুন একটা পরিবেশ ও তার সাথে মানানসই চরিত্র প্রতিষ্ঠা করা। মাউসট্র্যাপ আগে পড়া থাকলেও ভালোই লেগেছে।
মনের মতো উপন্যাস 🫶🏻। আরে এরকমই তো চাই। শেষ অব্দিও বুঝতে পারব না খুনী কে। একটা চাপা ভয় নিয়ে তিন চারঘন্টা ডুবে থাকব এবার কে মারা যেতে পারে? এবার কার উপর আক্রমণ হতে যাচ্ছে? কে?
আফসোস এর বিষয় গল্প শুধু শুনি, আর পড়িই। সেটা নিয়ে কথা আর বলার সুযোগ পাই না। এই যেমন এখন...