Jump to ratings and reviews
Rate this book

দুইশো তেরোর গল্প

Rate this book
কৈশোর পেরিয়ে তরুণ হয়ে ওঠার টলমলে সময়টায় পড়ার জন্য ঘর ছাড়তে হয় যাদের; তাদের শুরুটা কেমন হয়? এক ঝাঁক অপরিচিত মুখের মধ্যে তারা কি নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলে, নাকি সেই অপরিচিত মুখগুলিকেই সবচেয়ে আপন করে নিয়ে জীবনের নতুন ধাপটায় পা রাখে দৃপ্তভাবে?
জীবনের তিক্ত সত্যগুলিকে আবিষ্কার করার ফাঁকে এক পশলা শান্তির বৃষ্টি বয়ে আনা মানুষগুলির সাথে জীবনকে চিনতে পারার গল্পের নাম ‘দুইশো তেরোর গল্প’। শুধুই হোস্টেলের রুম নাম্বার নয়, বরং চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী রঙিন সময়ের নাম ‘দুইশো তেরোর গল্প’।
পড়তে পড়তে পাঠক হারিয়ে যাবেন ফেলে আসা সেই সময়টায়, যখন বন্ধুর সাথে চায়ের আড্ডায় বসে জীবনের সব জটিলতাকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দেয়া যেতো।
দুইশো তেরোর দরজা খুলে দেয়া হলো। পাঠককে সাদর আমন্ত্রণ!

232 pages, Hardcover

First published July 9, 2021

5 people are currently reading
127 people want to read

About the author

Tasnia Ahmed

6 books38 followers
আমি তাসনিয়া আহমেদ - পেশায় চিকিৎসক, নেশায় লেখক। এমবিবিএস পাস করেছি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে। মেডিকেলে পড়ার সময়ই লেখক হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করি ২০১৭ সালের বইমেলায় একটি গল্প সংকলনে গল্প প্রকাশের মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘বয়স যখন ষোলোই সঠিক’। এরপর একে একে লিখে গেছি আরো বেশ কিছু গল্প আর উপন্যাস।
বর্তমানে আমার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের সংখ্যা চার এবং উপন্যাস সংখ্যা এক। এক সময় লেখক হবার কথা ভাবতে পারতাম না সত্যি, তবে এখন মাঝেমধ্যে স্বপ্ন দেখি, আমার লেখা বইয়ের টাওয়ার আকাশ-সমান উঁচু হোক! আর তাই, চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করাই এখন আমার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়; সেই সাথে লিখে যেতে চাই - ভালোবাসার গল্প, মানুষের গল্প আর বেঁচে থাকার গল্প।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
76 (56%)
4 stars
45 (33%)
3 stars
11 (8%)
2 stars
2 (1%)
1 star
1 (<1%)
Displaying 1 - 30 of 44 reviews
Profile Image for Sadia Nidhi.
35 reviews73 followers
October 4, 2021
শেষ!
এই বছর আমার পড়া বেস্ট বই সম্ভবত!
এটা পড়তে পড়তে কেঁদেছি, কাঁদতে কাঁদতে পড়েছি।

এই বইটার সেকেন্ড পার্ট বের করা উচিত বোধহয়।

লেখিকার লেখার মধ্য দিয়ে সিলেটকে আবার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম যেন। মেডিকেল লাইফ আর হোস্টেল লাইফটাও যেন চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছিলাম।

এই বইয়ের বেস্ট চ্যাপ্টার বোধহয় অধ্যায় পঁচিশ। এই অধ্যায় পড়ে আনন্দে চোখে পানি এসেছে। আর সবচেয়ে কষ্টের অধ্যায় ছিল অধ্যায় ছাব্বিশ। কষ্টে পানি এসেছে এটা পড়ে৷

অধ্যায় আটত্রিশ পড়তে পড়ে নিজের সার্জারি ভাইভার আগের রাত অনুভব করতে পারছিলাম মনে হচ্ছিলো এতটাও কষ্টে যায় একেকটা প্রফ, একেকটা ভাইভার আগের রাত!

আর সবচেয়ে সুইট চ্যাপ্টার ছিলো অধ্যায় বিয়াল্লিশ আর অধ্যায় চুয়ান্ন (শেষ অধ্যায়)। কস্মিনকালকে দেখার ইচ্ছা পোষণ করছি!

রিডার্স ব্লক টা বোধহয় কেটে গেলো এই বইটা পড়ার পর।

লেখিকাকে অনেক বড় একটা ধন্যবাদ দেওয়া দরকার এই বইটা লিখে ফেলার জন্য।

এমবিবিএস লাইফের স্ট্রাগল গুলো আবার অনুভব করতে পারলাম, ডাক্তারদের আত্মত্যাগ গুলোও চোখের সামনে ধরা দিতে লাগলো যেন আবার। কতটা কষ্ট সহ্য করে যায় একেকজন ডাক্তার হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে!

২৩০ পৃষ্ঠার বইটা বেশিই ছোট হয়ে গেছে। আরও বড় হত যদি!
Profile Image for Chandreyee Momo.
222 reviews30 followers
November 29, 2022
লেখিকার জীবনের সেই মেডিকেলের দিনগুলোতে আমিও ঢুকে গেছি। বের হতে পারছিনা।
Profile Image for Tazbeea Oushneek.
156 reviews53 followers
July 21, 2021
অদ্ভুৎ সুন্দর একটা অনুভূতি হয়েছে বইটা পড়ে। যদিও এটা সবাইকে পড়তে সাজেস্ট করবো না আমি। স্মৃতি থেকে লেখা বই, ওই স্মৃতির সাথে নিজেকে মেলাতে পারলে পড়ার আনন্দ অনেক গুণ বেড়ে যায়। যাদের সাথে মেলেনা তাদের হয়তো সাদামাটাই লাগবে।
প্রিয় শহর সিলেটে যে কত স্মৃতি, আর সাথে বইয়ের স্মৃতিগুলো লেখা হোস্টেলের রুমমেইট, বন্ধুদের নিয়ে। একেক্টা অধ্যায় পড়ি আর নিজের ঠিক ওরকমই কাছাকাছি ঘটনা মনে পড়ে।
জীবনে প্রথম হঠাৎ প্ল্যানে জিন্দাবাজার যাই ম্যাথ বই কিনতে,এরপর একটা ব্যস্ত শহরে এত বড় বড় ৪টা ছেলে মেয়ে হারায় যাচ্ছিলাম আরেকটু হলে। বাসার বাইরে আমার প্রথম জন্মদিনে ৩বার কেক কাটা হয়।

এক আত্মীয় একবার ক্ষেপানোর জন্য বলেছিল, এই তোমাদের কী বাড়ির পাশে চা বাগান? তখন খুব ভাব নিয়ে বলেছিলাম হ্যাঁ আমরা হল থেকে বের হয়ে দুই মিনিট হাঁটলেই চাবাগান, সকালে নাস্তা খাই ওখানে। তখন বুঝিনাই ওই চা বাগানটাও যে এতটা আপন হয়ে গেছে।
প্রথমবার ছুটিতে বাসায় যাওয়ার যে একটা অনুভূতি। এত অস্থির হয়ে যাওয়ার পর দেখি সিলেট মিস করি। কী ভয়ংকর ব্যাপার! এরপর ছিল সব গোছগাছ করে একা একা হল পরিবর্তন। মনে হচ্ছিল মোঘল সাম্রাজ্য রাজধানী বদলাচ্ছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং এ মেয়ে স্বাভাবিকভাবেই কম। আর আমার হলে ডিপার্টমেন্ট এর আমি একা ছিলাম প্রথমে। হল পরিবর্তনের পর সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৬জনে। তার মাঝে ৪জন করতাম গ্রুপ স্টাডি। আর আমাদের বিভিন্ন সলিউশন গ্রুপে আপলোড দেয়ার জন্য ফোনের পর ফোন দিয়ে পাগল বানাতো বিখ্যাত ইউনিলিভারবাসী বন্ধুগণ। 😅 আর পরীক্ষার আগের দিন ফার্স্ট বয় থেকে বহু কষ্টে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে চলতো ডিপার্টমেন্টের সেমিনার রুমে গ্রুপ স্টাডি। সেখান থেকে বের করে দেয়ার পর ঠাঁই হতো গেইটের বিসমিল্লাহ রেশটুরেন্টে। মাত্র চারটা টেবিল নিয়ে রেশটুরেন্ট চালানো হারুন মামা মনে হয়ে লেখকের জুলেখা খালার রূপ ছিল। উনার টাইমটেবিল ছাড়া আমাদের জন্য না চাইতেই চা বানায় আনা, এসাইনমেন্ট মিলানোর মাঝে কারেন্ট চলে গেলে মোম বাতি সাপ্লাই দেয়া, মাছ বা মুরগির যে পিসটা যে পছন্দ করে না চাইতেই তাকে সেটা জোর করে খাওয়ায় দেয়া সব ছিল রেগুলার।
সাদাপাথরের রাস্তায় সিএনজি নষ্ট হওয়া মনে হয় রেগুলার ঘটনা। 😂 আমিও যখন গিয়েছিলাম পুরো জায়গাটাই খালি ছিল বলতে গেলে, এত সুন্দর আর শান্তির জায়গা।
কক্সবাজার প্রথম দেখা হয় ডিপার্টমেন্টের ট্যুর এ। আর এই ট্যুর এ অসুস্থ হওয়া পাবলিক ছিলাম আমি। প্রথমদিন বান্দরবান গিয়ে জ্বরের কারণে নৌকাভ্রমণে যেতে পারিনি। আমাদের আবার সব ব্যাচ, এলামনাই সবাই ট্যুর এ থাকেন। আর সেখানে এত এত সিনিয়র ভাইয়া আপুদের সামনে দায়িত্বরত শোয়েব স্যার আমাকে সবার সাথে পরিচয় করালেন- ওর নাম অনেক কঠিন, ওর জ্বর আসছে, সবাই ফলমূল নিয়ে ওর রুমে ওকে দেখতে যাবা। কী বেইজ্জতি ব্যাপার! ২ কেজির মত ফল কালেক্ট করে ফেলছিলাম ওইদিন।
আর সিলেটের বৃষ্টি!!! যে জীবনে কোনদিন এটা পায় নাই সে বুঝবেনা। এমন বৃষ্টিতে আসলেই না ভিজে থাকা যায়না। কনভোকেশন এর তারিখ পাওয়ার পর আফসোস ছিল জানুয়ারি মাসে কেন? দুইটা মাস পরে দিলেই তো বৃষ্টিটা মিস হবেনা।
বই পড়তে গিয়ে নিজের জীবনের অনেক কথা মনে পড়েছে। শুধু হাসিগুলো না। কান্নাও আছে। অনেক কষ্ট লেখকের সাথে সম্পূর্ণ মিলে গেছে। অনেক সুন্দরভাবে নিজের সুখ দুঃখ সব লিখেছেন, উপলব্ধি, সিদ্ধান্ত, সকালের নাস্তা খাওয়ার চিন্তা থেকে হঠাৎ বড় হয়ে যাওয়া, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তা। এগুলো প্রতিটা মানুষের জীবনেই আসে কোন না কোন ভাবে। এত সুন্দরভাবে গুছিয়ে সবাই লিখতে পারেনা।

সিলেটের হলের রুম থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটে অলিগলিতে যে পরিমাণ স্মৃতি, সারাজীবন ঢাকায় থেকে ঢাকাতেও এত সুন্দর স্মৃতি নাই।

বইটা আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে।
Profile Image for Shotabdi.
822 reviews200 followers
July 21, 2021
এই বই নিয়ে আসলে কিছু বলতে যাওয়া একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে কঠিন। কারণ, এই বইয়ের ক্ষেত্রে আমি সাধারণ কোন পাঠক না। কারণ, ইফা, রিচি, রূপা, শিপলু, বিভা, মায়া, অদ্রিজা এদের প্রত্যেককে আমি চিনি। এই জীবন, একদম হুবহু না হলেও, আমি কাটিয়ে এসেছি। এই ২১৩ নাম্বার রুমের উপরতলায় ৩১৫ নাম্বার রুমেই আমি থাকতাম। সিঁড়ি বেয়ে উঠানামার সময় এই চরিত্রগুলোর সাথে আমার দেখা হয়েছে। এদের সাথে একই লেকচার গ্যালারীতে বসে আমি ক্লাস করেছি৷ এদের পদচারণায় যেমনভাবে ফার্স্ট ইয়ার থেকে ইন্টার্নশিপ পর্যন্ত হসপিটালের নানান প্রান্ত মুখরিত হয়েছে, সেই একই পথ ধরে হেঁটে গেছি আমিও, আমরাও।
তাই অনুভূতিগুলো শুরু থেকেই বড্ড চেনা। বড্ড আপন।
এই বই নিয়ে আমি কিছু কেবল একজন সাধারণ পড়ুয়া হিসেবে কেমন করে বলব?
মেডিকেলে পড়তে আসা প্রতিটা মানুষের গল্প হুবহু এক না হলেও কোথাও না কোথাও আসলে আছে গভীর মিল। সেই অসহ্য পড়ার চাপ, হুট করে একগাদা পরীক্ষার মাঝে সাপ্লির ভয়ে হাবুডুবু খেতে থাকা, ভাইভার আগে গলা শুকিয়ে আসা, ইন্টার্নের শুরুতে প্রচণ্ড আগ্রহ, শেষদিকে ভারী হয়ে আসা বুক এই প্রতিটা অনুভূতি যতজন ডাক্তার এই বইটা পড়বে, আবার অনুভব করবে। যে জীবন আমি একবার ফেলে এসেছি, আমি আবার সেই জীবনের স্বাদ ফিরে পেলাম বইটার মধ্য দিয়ে।
বইটা পড়তে পড়তে কখনো প্রবল হেসেছি, কখনো মন খারাপ হয়েছে। কারো কারো জীবনের বাঁক বদলে দুঃখ পেয়েছি, কারোরটায় আবার অবাক হয়েছি৷ এইগুলো বাস্তব না অবাস্তব এসব নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন হয়��ি। লেখিকা অপূর্ব দক্ষতায় বাস্তব এবং অবাস্তবের মিশেল ঘটিয়েছেন।
প্রথম উপন্যাস হিসেবে এত ভালো হয়েছে, সত্যি আমি ভাবিনি যে আমি এভাবে বইটা হাফ পড়া রেখে ঘুমুতে যেতে চাইব না। সকালে উঠেই কোনদিকে না তাকিয়ে বইটা পড়তে বসতে চাইব!
এই আগ্রহটুকু সিওমেক, সিলেট এবং ইফার জন্য। ইফার জাদুকরী কলমের জন্যই সম্ভব হয়েছে আসলে৷
চরিত্রগুলির দৈনন্দিন চলার ফাঁকে ফাঁকে এদের জীবনে এসেছে ঝড়ো প্রেম, বিচ্ছেদ, এসেছে পাগল করা কিছু স্মৃতিময় ট্যুর, এসেছে সত্যি সত্যিই অনুর ছুরিকাঘাতের মতো ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, আরো অনেক কিছু।
দুইশো তেরোর গল্প কেবল ইফার নয়, দিলরুবার ২১৩ বাসীদের নয়, এই গল্প সিওমেকের সবার। সবার নিজস্ব অধিকার বোধহয় আছে বইটির মধ্যে।
৫২ এর সবাই কোন না কোনভাবে মিশে আছে বইটির সাথে।
দুইশো তেরোর গল্প যুগ যুগ বেঁচে থাকুক। 💕
2 reviews2 followers
July 11, 2021
Must read books for us. This book will take you to those golden days of your life; the life in hostel in graduation period. This book tells story of lives, friends; friends who are lives. I laughed at so many times during reading this book, sometimes I cried. People are lucky who have friends for a lifetime.
Profile Image for Parvez Alam.
308 reviews12 followers
June 15, 2023
বইটার মাঝে কোন কিক নাই, মানে সামনে কি হবে এমনটা জানার কোন আগ্রহ লেখম জাগাতে পারে নাই। লেখক যেহেতু মেডিক্যালে পড়েছে উনার হোস্টেলর রুম নাম্বার দিয়ে বইয়ের নাম। ঐখানে কি ভাবে পড়াশুনা করেছে সেই কাহিনি নিয়ে বই।
25 reviews10 followers
July 22, 2021
"দুইশো তেরোর গল্প" বেশ কয়েকদিন আগেই হাতে পেয়েছি। সাধারণত আমি যখন একটা বই পড়া শুরু করি, টানা পড়ে সেটা শেষ করে ফেলি, কিন্তু এবার বেশ সময় নিয়ে পড়লাম। বইটা টানা পড়তে গেলেই মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল, সিলেটের জন্য, আমার সিলেটের জীবনটার জন্য মন কেমন করছিলো।
উপন্যাসের কাহিনী অনেকটা দিনলিপির মত করে এগিয়েছে। পরিবার ছেড়ে নতুন এক শহরে আসা, মেডিকেলে এসে হঠাৎ পড়ালেখার চাপে হাবুডুবু খাওয়া, ক্লাস, ওয়ার্ড, প্রফ, এবং এত কিছুর মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব--পরিচিত এসব ব্যাপার সুন্দরভাবে উঠে এসেছে গল্পে। সহজ, সাবলীল ভাষায় লেখা এই গল্প যে কেউই উপভোগ করবে, তবে হোস্টেলে থাকার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, এবং বিশেষ করে মেডিকেল স্টুডেন্টরা বইটার পাতায় পাতায় নিজেদেরকে খুঁজে পাবে।
আমি নিজেও মেডিকেলে এসে কিছু অসাধারণ মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, তাদের সাথেই রুমে উঠেছি। আমাদেরও রুম নাম্বারটা নিছক একটা সংখ্যা নয়, এর সাথে আমাদের অনেক গল্প, অনেক স্মৃতি জড়িত। বইটা পড়ার সময় আমার মনে হচ্ছিলো, ঘটনা গুলো হুবহু না মিললেও অনুভূতিগুলো খুব চেনা। আমাদের এখনো মেডিকেল লাইফের কিছু সময় বাকি আছে, তবে কোভিডের কারণে ঘরবন্দী অবস্থায় ফিফথ ইয়ার কাটিয়ে দিচ্ছি বলেই হয়তো রুম ছেড়ে আসার, বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার কষ্ট একটু হলেও আঁচ করতে পারছি।
তাসনিয়া আহমেদের লেখা আমার সবসময়ই ভালো লাগে, কিন্তু এই বইয়ের বিষয়বস্তুর কারনেই হয়তো এটা অনেক বেশি পছন্দ হয়েছে। কেউ যদি এখনো দোটানায় থাকেন, যে বইটি পড়বেন কিনা, আমি বলবো অবশ্যই পড়ে নিন। You won't regret it.
Profile Image for মোহতাসিম সিফাত.
180 reviews50 followers
March 13, 2023
১২ বছর বয়সে ক্যাডেট কলেজে ঢুকলাম। পরিবার থেকে দূরে সমবয়সীদের সাথে একত্রে বেড়ে ওঠা আর আস্তে আস্তে সে মানুষগুলোকে আপন করে নেয়ার ব্যাপারটা যে কতটা গভীর দাগ কাটে জীবনে, তার পূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। কলেজ থেকে বেরিয়ে নেভাল একাডেমিতে একই রকম অনুভূতি। এই বই য়ে বইটা পড়ে অনেক অনেক স্মৃতি রোমন্থন করে ফেললাম।

মেডিকেল কলেজে পড়ার খুব ইচ্ছা ছিল। কোচিং ও করলাম। (পরিবারের চাপে নেভিতে জয়েন করি😑😑😑) । তবে আগের ইচ্ছা টার সাথে এই গল্পের এক্সপেরিয়েন্স অনেক বেশি রেস্পেক্ট তৈরি করেছে এই প্রফেশন টার জন্য। একটা ডাক্তারের ডাক্তার হয়ে ওঠার পেছনে পরিবার, সহপাঠী, বন্ধু, শিক্ষক, সামগ্রিকভাবে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ কতটা ইমপ্যাক্ট রাখে সেটা বুঝলাম। বইয়ের প্রতিটা পাতা খুবই কাছে থেকে অনুভব করেছি। আর লেখিকার লেখনশৈলী এতটাই জীবন্ত যে মনে হয়েছে আমিই ক্যারেকটার দের মাঝে ছিলাম।

খুবই দরকারি একটা বই। অনেক কিছু শেখাবে, অনেক কিছু বোঝাবে, অনেক ভুল ভাঙাবে। তাই এই রিভিউ পড়তে আসছেন যিনি, আপনাকে অবশ্যই এটা পড়তে বলব আমি।
Profile Image for Pranta Dastider.
Author 18 books327 followers
August 23, 2021
সামগ্রিকতার বিচারে এই উপন্যাসকে চার তারা দেওয়া যেত। কিন্তু পাঁচই দিলাম। সত্যি বলতে সবকিছু আণুবীক্ষণিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতে ভাল লাগে না। এই গল্পটা লেখিকার আবেগের যায়গা, আর আবেগটুকু আমার মধ্যেও যথার্থ সঞ্চালিত হয়েছে। আর এখানেই আমার মনে হয় গল্পটা সার্থক। এর বেশি আর কী চাই?

গল্পের শুরু একজন শিক্ষার্থীর মেডিকেল কলেজে ভর্তি থেকে। তারপর একত্রে গনকক্ষে বাকি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাত্রি ও দিনযাপন। কত সহজেই এক অপরের বন্ধু হয়ে ওঠা। একে অন্যের দুঃখ ও ব্যর্থতায় কাতর হয়ে পড়া। সামান্যতম উপলক্ষ উদযাপন থেকে শুরু করে খুনসুটি আর অধ্যাবসায়ের নানান দিকে চোখের সামনে উঠে এল ভাসমান দৃশ্যপট হয়ে। দুইশো তেরোর ঘরটি সে-দিক থেকে দেখতে গেলে হয়তো বিশেষ কোনও ভূমিকা আমার দৃষ্টিতে রাখে না। কারন এই মানুষগুলো যদি পাঁচশ পঁয়ষট্টি নম্বর ঘরেও থাকত তবুও তারা আমার আপন হয়ে উঠত সন্দেহ নেই। বিভা, রিচি, আদ্রিজা, রূপা, ইফা- এই সবার সঙ্গে কখন চুপিসারে বন্ধুত্ব হয়ে গেল টেরই পেলাম না। নিজের পানসে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের জন্যও কিঞ্চিৎ আফসোস হল বৈকি! কিছুই তো করিনি সেভাবে বলতে গেলে। ওই এক র‍্যাগ-ডে আরেঞ্জ, একটা পিকনিক আর দুটো কার্নিভ্যাল আয়োজন আর কিছু প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা সামাল দিতেই তো সময়টা পেরিয়ে গেল। কই এতগুলো চমৎকার বন্ধু তো আমার হয়নি। একজনের সঙ্গেই বেশ জমত, সে বেচারাও এখন প্রবাসী, কথা হয় বছরে একবার বড়জোর!

উপন্যাসের প্রথম দিকটা বেশ সরেস হলেও শেষ অর্ধেকে বিষাদের সুর বেজেছে মুহুর্মুহু। ডাক্তার এবং তাদের জীবনধারাকেও কিছুটা যৌক্তিকতা আর আবেগি দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়েছে বার বার। সেখানে হয়তোবা খুঁজতে চাওয়া হয়েছে আরও কিছুটা স্বীকৃতি। যা হয়তোবা অনেকেরই দিতে আপত্তি থাকতে পারে। সে তর্কে যাচ্ছি না। তবে লেখিকা চিকিৎসক বলেই এই জায়গাগুলো একেবারে অহেতুক নয়। তার এই আঙ্গিকটাই বরং থাকা স্বাভাবিক। কারন তারা যা পেরিয়ে আসছেন, সাধারণ মানুষ তা পেরিয়ে আসেনি। তাদের নিয়মিত যা সামাল দিতে হয়, আমাদের হয় না। সুতরাং, এই আক্ষেপ স্বাভাবিক।

আরও কিছু জিনিস ঘুরে ফিরে এসেছে নিয়মিত অভ্যাসের মতো, বিশেষ করে চা খাওয়া আর কান্না। উপন্যাসটা সত্য জীবনকে উপজীব্য করে লেখা দেখেই এমনটা স্বাভাবিক। হয়তো মেকি হলে এসব সম্পাদনা করার তাগিদ থাকত। কিন্তু আমরা অভ্যাসের দাস, নিয়মিত কত কাজ করে চলি, সেগুলোকে বাহুল্য ধরা কর্তব্য নয়। তাই এই বিষয়টিও আমি অন্তত মেনে নিয়েছি। তাছাড়া এগুলোই গল্পটাকে আরও মানবিক করেছে।

প্রেম, বিরহ, মিলন, আর নতুন জীবনের আগমন সব এসেছে বইয়ের পাতায়। বোধকরি কিছু কিছু অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা বর্জিতও হয়েছে। কারন তেমন খুব বেশি ঘটনা চোখে পড়েনি বইতে। সে লেখিকার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাছাড়া আজকাল আর অসঙ্গতি নিয়ে লেখা পড়তে ভালও লাগে না বড় একটা।

সবশেষে বলব, সরল লেখনী আর স্বাভাবিক ঘটনাক্রমের জোরেই গল্পটা খুব ভাল লেগে গেল। পড়েও ফেললাম টানা। প্রথম প্রফের পর একটু বিরতি নিয়ে দু'দিন পর বইটা ধরে এক টানে খতম দিলাম। কিছু কিছু টুকরো কবিতা, উদ্ধৃতি বেশ লেগেছে। রিচির চটজলদি কবিতা তৈরির অভ্যাস ভাল লেগেছে, বিভার পাগলামি আনন্দিত করেছে, ইফার দৃঢ়তা সাহস দিয়েছে, আদ্রিজার অসহায় সময়টা ভাবিয়েছে, রূপার প্রেম চমৎকার আঙ্গিক এনে দিয়েছে, কস্মিনকালের নামকরণ আমোদিত করেছে। সব মিলিয়ে এরা আমার বন্ধু হয়ে গেছে। তারা যে যেখানেই আছে, যে নামেই আছে, ভাল থাকুক -একজন সাধারণ পাঠক হিসাবে এর থেকে বেশি আর কিছুই চাইবার নেই।

লেখিকা যদিও বলেছেন বইটা উপন্যাস হিসাবে পড়তে, আমি বলছি বাস্তবতা হিসাবে পড়ার জন্য। কারন জীবনটা এমনই, ঠিক এমনই।
Profile Image for Mueed Mahtab.
355 reviews
April 23, 2025
আমার শুধু মনে হয়েছে ২৭-৩১ চ্যাপ্টারগুলোয় একটু তাড়াহুড়ো ছিলো, পুরো বইটার তুলনায় এইটুকু পার্ট একটু অগোছালো লেগেছে। কিন্ত ওভারঅল বইটা অনেক বেশি সুন্দর। যেখানে যতটুকু থাকা উচিত ঠিক ততটুকুই আছে! বইটার চরিত্রগুলোর সাথে এতটাই মিশে গিয়েছিলাম যে বইটা শেষ হলে একটু মন খারাপ হবে জানতাম। একগুচ্ছ মেধাবী ডাক্তারী পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সাথে বেশ কেটে যাচ্ছিলো আমার।


QUALITY BOOK
Profile Image for Mahrufa Mery.
207 reviews117 followers
March 6, 2024
কয়েকদিন একদম অন্য জগতে ছিলাম বইটা নিয়ে। লেখকের অনুভূতি যেন আমিও অনুভব করছিলাম। ভাল একটা মেমোয়ার যেমন হওয়া উচিৎ, তেমনি। একুশে ২০২৪ বইমেলা থেকে নিয়েছিলাম। ওয়ার্থইট।
Profile Image for Akash Saha.
156 reviews26 followers
April 9, 2022
ভালো লেগেছে। কিন্তু ফেসবুকের রিভিউ দেখে যত বেশি প্রত্যাশা ছিল, ঠিক ততটুকু পুরন হয়নি। ওভাররেটেড মনে হয়েছে।

লেখার সাবলীলতা আছে, কিন্তু কিছু জায়গায় কিছু শব্দ কানে বেধেছে। সবই ঠিক আছে, তবে মনে হয়েছে আরেকটু পরিপক্ব লেখনী হলে পূর্ণতা পেত বইটি।

খুব কি নেগেটিভ কথা বলে ফেললাম? তবে নস্টালজিক হওয়ার মতো একটি বই!!!
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for হেরা  আলীশা.
25 reviews1 follower
August 22, 2021
আমি লিখলাম,"ভালো থেকো দুইশো তেরো!"
রিচি লিখলো,"213,thanks for the memories!"
বিভা লিখলো,"end of the era."
সবার শেষে তরু লিখলো,"দুইশো তেরোর গল্প যেন কখনও শেষ না হয়!"

তরুর সুরের সাথে সুর মিলিয়ে আমি পাঠক হিসেবে বলতে চাই, দুইশো তেরো'র গল্প শেষ না হোক!বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কাল্পনিক প্লটের ছোঁয়ায় এই উপন্যাসটি পাঠকের মন কে নিংড়ে নিতে প্রস্তুত। বইটি পড়ার সময় কিছু কিছু জায়গায় লেখকের ভাষায়ই বলতে হয়,হৃদয়ের মাঝে এক ধরনের পিনপতন নীরবতা কাজ করছিল।দুইশো তেরো'র গল্প প্রতিটা শিক্ষার্থীর জীবনে একেক আঙ্গিকে রয়েছে।

যে লেখার প্রারম্ভ পড়েই চক্ষু অশ্রুসিক্ত হতে পারে,তাতে আর যাই হোক বলা যায় বইটি কতটা যত্ন নিয়ে লেখা।দুইশো তেরো'র প্রতিটি অধ্যায় পাঠকের মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য! সদ্য কৈশোর পেরিয়ে তরুণ হয়ে ওঠার টলমলে সময়টা পড়ার জন্য ঘর ছেড়ে আসা নবীন প্রাণ গুলোর শুরুটা কেমন হয় তা দিয়ে যেমন উপন্যাসটি শুরু হয়েছে। ঠিক তেমনি শেষের সময়টা অধিকার ছেড়ে দিয়ে দাবি করাটা যে কতোটা বিড়ম্বনার তা এই বইটির শেষ অধ্যায় গুলোতে এসে টের পাইয়ে দিয়েছে নিদারুণ!

দুইশো তেরো'র মূল আর্কষণ হচ্ছে 'বন্ধুত্ব' নামক শব্দটি।এটি যে শুধু একটি শব্দ নয়।পুরো উপন্যাসের মূল উপজীব্য!এক ঝাঁক মানুষের ভীড়ে গুটিকয়েক অপরিচিত মুখ গুলোকে ঘীরে যে বন্ধুত্বের সংগায়ন পাঠক পাবে তা নিতান্তই পাঠকমনকে দ্বিতীয় দফায় নিংড়ে এনে দিবে বন্ধুত্বের স্বাদ কতোটা অভিনব হয়।মূলত,বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করেই উপন্যাসটি তার নিজস্ব পরিধি এঁকেছে এবং আমাদের দিয়ে গেছে দুইশো তেরো'র গল্পের বৃত্ত!যার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে সকল পাঠকের জন্য।

তাছাড়া মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জীবন সংগ্রাম কেমন হয়, তা পই পই করে লিখে গেলেন তিনি।একজন মানুষ নাকি জীবনে তিনবার ডাক্তার হয়!সেই গল্পটা কত গর্বের ও অহংকারের বুঝতে পারা পাঠক মন হিসেবে ডাক্তারদের প্রতি সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছে।

শহরের উষ্ণতম দিনে বইটি আমার পড়া লেখক তাসনিয়া আহমেদের লেখা প্রথম বই।বইটির কয়েকটা ছোট গল্প মনে দাগ কাটবার মতো ছিল!তবে দুইশো তেরো'র গল্প এই সমকালীন উপন্যাসটি আমার কাছে স্মৃতি ও আশার আলো হয়ে থাকবে।বইটি পড়ার সিদ্ধান্ত ছিল না শুরুতে, তবে বইয়ের পাতা উল্টে উল্টে আমার নেত্রজোড়া আটকে গেল বইটির প্রারম্ভের পৃষ্ঠাটিতে।আমিও আটকে গেলাম অসাধারণভাবে কিছু সাধারণ বাক্যগুচ্ছে!আর পড়ে ফেললাম দুইশো তেরোর গল্প!

সবশেষে বলতে হয়,জীবন সেখানে সুন্দর।
প্রিয় পথের শহর,প্রিয় মানুষের শহর,যখন তখন বৃষ্টির শহর,জাদুর শহর,বড় বেশি ভালোবাসি তাকে আমি।
বৃষ্টির শহরের ঘ্রাণ গায়ে মেখে আমি গুটিসুটি হয়ে ঘুমিয়ে পড়ি_______তাসনিয়া আহমেদ।
Profile Image for Samia Rashid.
304 reviews16 followers
December 16, 2024
এই বইটা সাধারণত যারা হলে থাকে, বা ছিল কিংবা যারা ডাক্তারি পড়েছে/পড়ছে, তাদের কাছে হয়ত অনেক ভাল লাগার মত বই। তবে আমি দুটোর কোনটাই পাইনি এই জীবনে, তবুও এই বইটার মায়া কাটাতে পারছিনা! ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু চান্স পাইনি। ভাবলাম যদি পাবলিক কোনো ভার্সিটিতে চান্স পাই তবে হলে থাকব, সেটাও হলো না! পড়তে হলো প্রাইভেটে। সবসময়ই এই হলে না থাকা নিয়ে আফসোস হয় আমার। এই বইটা এই জন্যই কিনেছিলাম, যদি একটু হলে থাকার স্বাদ পাই বইটা পড়ে! এতটুকুই বলতে পারি, একদমই নিরাশ করেনি বইটা আমাকে।

লেখিকার লেখা প্রথম বই পড়েছিলাম "শহরের উষ্ণতম দিনে"। তখনই তার লেখনি আমাকে টানে। এই বইটাও ঠিক তেমনি টানলো। এই বইটাকে উপন্যাস না বলে হয়ত ডায়েরির পাতার গল্প বললে ঠিক হবে। অনেক মায়াময় একটা বই।
Profile Image for Bookreviewgirl_xo.
1,195 reviews101 followers
April 30, 2025
Rating : ৪.৫/৫

মশারি টানানোর মতো অতি বিরক্তিকর কাজ যে অন্যের জন্য এক রাতে তিন-তিনবার করে দেয়, সে অবশ্যই একজন মহামানবী।


"There's no place I'd rather be
Than on the seashore dry, wet free
On golden sand is where I lay
And if I only had my way
I'd play till the sun sets
Beyond the horizon."


"ভালোবাসার জন্য অনেক কিছু ছেড়ে আসা যায় এটা যেমন সত্যি, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে ভালোবাসার দোহাই দিয়েও কাউকে ছাড় দিতে নেই; এটাও সত্যি।"


কাজের পরিবেশ ভালো হলে কাজ করার আগ্রহ বেড়ে যায়, তা সে যত পরিশ্র���ের কাজই হোক না কেন।
Profile Image for Shamim Ehsan.
78 reviews3 followers
December 29, 2022
এটা শুধু দুইশো তেরোর না, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বাসা, পরিবার ছেড়ে অন্য শহরের হল/ মেসে ওঠা সকলের গল্প। কিছু জিনিস হয়তো যারা মেডিকেলে পড়েছেন তারা ভালোমত উপলদ্ধি করতে পারবেন, তবে হলের স্ট্রাগল, বন্ধু, আড্ডা, প্রেম, পড়ালেখা এগুলো সার্বজনীন।

বইয়ে কিছু ভুল ও বিদঘুটে বানান আছে, তবে সেটার দায়ভার লেখিকার থেকে সম্পাদক / প্রুফ-রিডারের অনেক বেশি।
Profile Image for Bookclub By Shoily.
86 reviews8 followers
November 21, 2022
খুবই সুন্দর স্মৃতিমাখা উপন্যাস। মেডিকেল লাইফের মিশ্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক দৃঢ় হওয়া, এ যেন আমাদের জন্যই লেখা এক স্টুডেন্টের ডায়েরি।
19 reviews9 followers
Read
July 17, 2021
#দুইশোতেরোরগল্প_রিভিউ_কম্পিটিশন

বইয়ের নাম : দুইশো তেরোর গল্প

লেখকের নাম : তাসনিয়া আহমেদ

ঘরানা : স্মৃতিচারণমূলক উপন্যাস

©তাসনিয়া আহমেদ

প্রিভিউ : কলেজ জীবন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখতে গিয়ে অনেক সময়ই ঘরের কাছের প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ হয় না সবার। স্বপ্নপূরণের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোনোর সিঁড়িতে পা রাখার স্বার্থে অনেককেই লম্বা একটা সময়ের জন্য ছাড়তে হয় নিজের অতিপরিচিত প্রতিদিনের অভ্যাসে মিশে থাকা শহর, বাড়ি আর প্রিয়জনদের। কেমন হয় সেসব মানুষের নতুন জীবনে প্রবেশের ট্রানজিশন? কেমনই বা হয় নতুন জীবনে চলার পথ এবং সে পথে চলার সাথীরা? এমন কিছু সদ্য ছাত্রজীবন পেরোনো মেডিকেল স্টুডেন্টদের নিয়মের কঠিন বেড়াজালে বন্দি জীবনের ভেতরের হাসি-কান্না, খুনসুটি, অনুভূতির ফুলঝুরি, পরিণত হওয়া আর প্রাণোচ্ছলতা টুকরো টুকরো গল্পের সমষ্টিই হলো এই "দুইশো তেরোর গল্প"।

ব্যক্তিগত মতামত : এই গল্পটার সাথে নিজেকে রিলেট করতে পারা আমার জন্য একইসাথে কঠিন এবং সহজ ছিল। কঠিন কেন? কারণ নিজে একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট না হওয়ায় সব ব্যাপার এক রিডিংয়ে বুঝে ফেলা সম্ভব ছিল না, যদিও ঔপন্যাসিক যথেষ্ট সাবলীল ভাবে ঝরঝরে লেখনীতে সব সহজ ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং খুব বেশি এমন মেডিকেল টার্ম উল্লেখ করেননি যেগুলো বুঝতে নন মেডিকেল স্টুডেন্ট বা পাঠকদের বুঝতে খুব অসুবিধে হবে। আর উল্লেখ করে থাকলেও সাথে সাথে এক-দু কথায় ছোট অথচ প্রাঞ্জল ব্যাখা দিয়ে গেছেন সেগুলোর। আর হল লাইফের তেমন অভিজ্ঞতা না থাকায় হয়তো অতোটা রিলেট করা সম্ভব হয়নি যদিও হল লাইফের টুকরো টুকরো অভিজ্ঞতার গল্প আগেও শোনা হয়েছে আবাসিক বন্ধুদের কল্যাণে।

দুইশো তেরোর গল্পগুলোর সাথে নিজেকে রিলেট করা বা মেলানো একইসাথে আমার জন্য সহজও ছিল। কারণ লেখিকার মতো সদ্য কলেজ পেরোনো আমাকেও একদিন ছাড়তে হয়েছিল আমার শহর, বাড়ি ও প্রিয়জনদের নিয়মিত সান্নিধ্যকে এবং আমার ছেড়ে আসা শহরটাও ছিল ওনার মতোই ব্যস্ত, কোলাহলপূর্ণ রাজধানী। ঢাকা। একজন ঢাকাবাসী অন্য একটা শহরে বাস করতে গেলে তার যেসব অভিজ্ঞতার বা বিষয়ের মুখোমুখি হতে হয়, লেখিকার মতো আমাকেও সেগুলোর মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বাড়িতে যাবার জন্য আমারও মন আকুলিবিকুলি করতো এবং সময়ে সময়ে তার উল্টোটাও হয়। মানে নতুন আপন হতে থাকা শহরটা ছেড়ে আসতে গেলেও কষ্ট হয় খুব। কারণ স্কুল-কলেজ বাড়ির কাছাকাছি কোথাও পার করলেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বাড়িতে থেকে, নিজের শহরে থেকে পড়ার সুযোগ অনেকেরই হয় না আমার মতো। যার ফলে বাড়ি আর নিজের শহর ছেড়ে অন্য একটা শহরে পা রাখি আমরা। এর আগে শহর বা জেলা বদল সাধারণত হয়ে আসতো বাবা-মার চাকুরিতে বদলি বা এ ধরণের কোনো কারণে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য যখন অন্য একটা শহরে বা জেলায় একা থাকতে যাওয়া হয়, তখন সেটা হয়ে দাঁড়ায় পুরোপুরি নিজের জন্য। "এই শহরে আমি শুধু আমার জন্য থাকছি" এই অনুভূতিটাই তো অনেক স্পেশাল! আর তাইতো নতুন এ শহর বাড়ি ছেড়ে আসা একজন শিক্ষার্থীর জন্য এতো বেশি গুরুত্ব রাখে। নতুন এ শহরের আলো, বাতাস, শব্দ আর জায়গাগুলো ক্রমে আপন থেকে আপনতর হয়ে উঠতে থাকে নিজের কাছে। ছেড়ে আসতে কষ্ট হয়। তবে ছেড়ে আসলেও সারাজীবন হৃদয়ে একটা জায়গা দখল করে থাকে সেখানকার টুকরো টুকরো স্মৃতিগুলো। আমিও এই ফেইজের মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং যাচ্ছি। তাই লেখিকার গল্পগুলোর সাথে নিজেকে মেলানো সহজও ছিল আমার জন্য।
গল্পগুলো হোস্টেলের চার দেয়ালের মধ্যকার হাসি-কান্নার, বন্ধুত্বের জন্য ত্যাগের, একে অন্যের অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠার। বন্ধুত্বের পাগলামীর। পরিবারের বাইরে অন্য এক পরিবার গড়ে ওঠার। হেসেখেলে বেড়ানোর জীবনে দায়িত্ববোধ জন্ম নেয়ার। মেডিকেল লাইফের মৃত্যু, কান্না আর হাসির। পরিবারের চাপিয়ে দেয়া মেনে নিতে গিয়ে দিশাহারা হওয়ার। প্রেম পরিণয় পাওয়ার। হৃদয়ে ভাঙনের। ইগোর ক্ল্যাশের। আত্মসম্মানবোধের।

যারা এমন জীবন যাপন করছেন বা একটা সময় করে এসেছেন এবং যারা যাপন করেননি কিন্তু কল্পনায় এর অভিজ্ঞতার কিছুটা ভাগ নিতে চান, তাদের সকলেরই বাস্তব আশ্রিত এ উপন্যাসটি ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।

পরিশিষ্ট : বই অর্ডার করার আগে আমার ধারণা ছিল বইটা পুরোপুরি বাস্তবের সব ঘটনা নিয়ে লেখা। কিন্তু পরে লেখিকার এক ফেসবুক মন্তব্যের সূত্রে জানতে পারি কিছু একেবারেই কাল্পনিক ঘটনাও এতে স্থান করে নিয়েছে। তাতে আশাভঙ্গ যে একেবারে হয়নি বলবো না, তবে ওভারঅল ভালো লেগেছে। এ কথার সূত্র ধরে বলতে চাই, উপন্যাসে নুরাত হাসনাইন নামে যে চরিত্রটার কথা বলা হয়েছে তিনি আর তার ঘটনাগুলে যদি বাস্তব হয়ে থাকে তবে তার লেখাগুলো আমি পড়ে দেখতে আগ্রহী।
Profile Image for অর্বাচীন.
6 reviews
April 1, 2024
√√√ বুক – রিভিউ √√√


☞ বই : দুইশো তেরোর গল্প

☞ লেখক : তাসনিয়া আহমেদ

☞ প্রচ্ছদ : সানজিদা স্বর্ণা ও তাহমিদ রহমান

☞ জনরা : সমকালীন উপন্যাস

☞ ধরণ: স্ট্যান্ডার্ড সাইজ-হার্ডকাভার

☞ মলাট মূল্য : ৪০০ টাকা



❝ দুইশো তেরোর দরজা খুলে দিলাম। পাঠককে সাদর আমন্ত্রণ। ❞

🗣️ তাসনিয়া আহমেদ


➤ ফ্ল্যাপ থেকে


কৈশোর পেরিয়ে তরুণ হয়ে ওঠার টলমলে সময়টায় পড়ার জন্য ঘর ছাড়তে হয় যাদের; তাদের শুরুটা কেমন হয়? এক ঝাঁক অপরিচিত মুখের মধ্যে তারা কি নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলে, নাকি সেই অপরিচিত মুখগুলিকেই সবচেয়ে আপন করে নিয়ে জীবনের নতুন ধাপটায় পা রাখে দৃপ্তভাবে? জীবনের তিক্ত সত্যগুলিকে আবিষ্কার করার ফাঁকে এক পশলা শান্তির বৃষ্টি বয়ে আনা মানুষগুলির সাথে জীবনকে চিনতে পারার গল্পের নাম ‘দুইশো তেরোর গল্প’। শুধুই হোস্টেলের রুম নাম্বার নয়, বরং চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী রঙিন সময়ের নাম ‘দুইশো তেরোর গল্প’। পড়তে পড়তে পাঠক হারিয়ে যাবেন ফেলে আসা সেই সময়টায়, যখন বন্ধুর সাথে চায়ের আড্ডায় বসে জীবনের সব জটিলতাকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দেয়া যেতো। 

দুইশো তেরোর দরজা খুলে দেয়া হলো। পাঠককে সাদর আমন্ত্রণ!


➤ কাহিনী সংক্ষেপ


গল্পটা দুইশো তেরোর , গল্পটা ইফা , রিচি , বিভা , তরু , রুপা , শিপলু , অভি , আহনাফ সহ কিছু স্বপ্ন-পাগল ছেলেমেয়েদের , গল্পটা মানবসেবায় নিজেদের বিলিয়ে দেয়ার ব্রত পালন করতে  –ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় হোক–  দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবুজের রাণী , ‘শ্রীমঙ্গল’ , ‘জাফলং’ ও চা-বাগানের দেশ সিলেটে ছুটে আসা কয়েকজন অদম্য তরুণ তরুণীর।


গল্পটা এক দঙ্গল বন্ধুর হাসি-কান্নায় পাশে থাকার , একে অপরের জন্য বেঁচে থাকার , মরতে চাওয়ার। 

দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় মেডিকেলের মতো জীবন ক্ষয়িঞ্চু বিষয়ের উপর পড়াশোনা করে , হাজারো সকাল বিকেল এক ছাদের নিচে কাটানোর গল্প , গল্পটা জীবনের , গল্পটা বন্ধুত্বে��� , গল্পটা ভালোবাসার।


এখানে বাস্তবতা বেঁচে থাকে কাল্পনিক সব আল্পনার মাঝে , বইয়ের চরিত্ররা সব বিচরণ করে পাঠকের মন-আঙিনায়। এখানে পাঠক তার মনের ক্যানভাসে বইয়ের দৃশ্যগুলো চিত্রায়িত দেখতে পান , তাদের হাসিঠাট্টা কান্না-বিষাদ মিশ্রিত সেসব অনুভূতির পেছনে লুকিয়ে থাকা আবেগ অনুভব করতে পারেন , নিজেকে ভাবতে পারেন ‘দুইশো তেরোর’ই একজন। “দুইশো তেরো” , যার গল্প কখনো শেষ হবার নয়। 


➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া


রিভিউটা লিখতে বসে সর্বপ্রথম আমার দুটো কথা ভেবে খারাপ লাগছে। 


প্রথমত ; এমন মাস্টারপিস একটা বই কেন আমি এতদিনেও পড়ি নি। বারবার চোখের সামনে এসেছিল কিন্তু উপেক্ষা করে চলে গিয়েছি। এখন বইটা শেষ করে , শুরুর দমফাটা সেসব হাসির আর শেষের করুণ সব মেডিকেল কেসের কথা পড়ে মনে হচ্ছে এটা না পড়লে এতসব বই পড়া অনেকাংশেই বৃথা যেতো। এই বইকে উপন্যাসের চেনে জীবনের শীলান্যাস বলাটাই শ্রেয়। এই বইয়ে গল্পের আদলে সমাজের অনেক কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক তিক্ত সত্যকে বলে ফেলা হয়েছে হাস্যরসের মাঝেমধ্যে। হয়তো এরপরে কোন মন খারাপের সন্ধ্যায় হাতে তুলে নিব বইটা। হারিয়ে যাব ‘দুইশো তেরোর গল্পে’। সেই তুমুল ঝড়ের রাতে , সাদাপাথর আর উতমাছড়ার ভ্রমণে , হাজারো সকাল-বিকেলের হাসিঠাট্টা কিংবা কান্নার মাঝে , ইফা , রিচি , বিভাদের সাথে এক অটুট , অক্ষুণ্ণ বন্ধুত্বের সায়রে। 


নূরাতের ভয়ংকরতম ডিপ্রেশন থেকে বেঁচে ফিরে পাঠকপ্রিয় লেখক নূরাত হাসনাইন হওয়ার গল্প আমাকে কখনো বাঁচতে শেখাবে কঠিন সময়ের সাথে লড়াই করে। ইফার পছন্দের ক্যামেরা বিক্রি করে ফাইনাল প্রফ ক্লিয়ার করার গল্প থেকে শিক্ষা নিয়ে হয়তোবা আমিও আমার স্বপ্নের জন্য কিছু আবেগ , কিছু অনুভূতি ত্যাগ করতে পারবো। আবার বন্ধুর শখের জন্য রাত্রির কষ্টের জমানো সব টাকা তার হাতে তুলে দেওয়ার গল্প আমাকে বন্ধুত্বের মূল্য বোঝাবে। 


ঘরবাড়ি ছেড়ে দূরে থাকার অভিজ্ঞতা আমার প্রায় দশ বছরের। এই ছোট্ট একজীবনে অনেক কিছু ছেড়ে এসেছি , অনেক বন্ধুর সঙ্গ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। এই বইটি পড়ার সময় , মাঝেমধ্যেই সেসব স্মৃতিরা ভীড় জমাতে শুরু করেছিল আমার মনমুকুরে। কখনো কাঁদছিলাম আবার কখনো হাসছিলাম , নিজের অজান্তেই যেন আমি হয়ে উঠেছিলাম “দুইশো তেরোর” বাসিন্দাদের একজন। তাদের প্রতিটি অনুভূতির পেছনের আবেগ আমি উপলব্ধি করতে পারছিলাম। হারিয়ে যাওয়া অনেক স্মৃতিরা আবার তাদের গৃহে ফিরেছে , আবার অনেককে ফিরে পেয়েছি এই বইয়ের অন্তরালে। 


দ্বিতীয়ত ; এই বইয়ের সমাপ্তি। প্রথম থেকেই লেখিকা ছোট ছোট বাক্যে গল্প এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। স্বপ্নবাজ সেই মানুষগুলোর হাসি-কান্না , আনন্দ-বেদনার মাঝ দিয়ে। মেডিকেল লাইফের শুরুর দিকের স্ট্রাগল , ইউরিনে আছাড় খেয়ে প্রেমে পড়া , বাড়ি যাওয়ার আনন্দ ও বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট , এমনই সব গল্প যা পাঠককে দমফাটানো হাসি হাসাবে। আবার কখনো হালকা করে বিষাদের ছোঁয়া দিয়ে যাবে। শব্দের মালা গেঁথে তিনি লিখে গিয়েছেন বন্ধুত্বের সংগা , জীবনের সংগা। 


নিজের জীবন নিংড়ে দিয়েও হয়তো আমি এক ' দুটোর বেশি এমন বন্ধুত্ব খুঁজে পাব না। জীবনে বাবা-মার পরই যাদের প্রভাব , যাদের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি তারা হলো বন্ধু। জীবন মরণের সাথী , বন্ধুর জন্য মরতেও রাজী। গল্প যতই এগিয়েছে ততই গল্পকার পাঠককে কল্পনা থেকে বাস্তবতার গভীরে নিয়ে গিয়েছেন। মেডিকেল লাইফের নির্মম বাস্তবতা , তিক্ত স্ট্রাগল। প্রফ , সাপ্লি , ভাইভা আর মেডিকেলের বিদঘুটে সব টার্ম আর অদ্ভুতুরে সব পরীক্ষা। 


কিন্তু গল্প তো গল্প-ই , বাস্তবতা তারচেয়ে বহুগুণে কষ্টের। আর এই বইয়ের শেষে লেখিকা তার ইন্টার্নশিপের যেসব রোগী ও মেডিকেল কেসের কথা বলেছেন সেগুলো নিখাঁদ বাস্তবতা। মানুষের অক্ষমতা , অসহায়ত্ব আর দুরারোগ্য সব রোগের বিবরণ পড়তে পড়তে কখন যে চোখের কোণে পানি চলে এসেছে টেরও পাইনি। স্রষ্টার এই অনুপম সৃষ্টি , অনাবিল সৌন্দর্যের আধার এই ধরার সব আনন্দ এক পাশে , আর মূদ্রার অপর পিঠে থেকে যায় সব দুঃখ-কষ্ট আর অসহায়ত্ব। গল্পের সন্তানরা মায়ের জন্য কতকিছু ত্যাগ করে , আর বাস্তব দুনিয়ায় তারা মা-কেই ছেড়ে চলে যায়। তারপরও সন্তান নামক কলঙ্কের জন্য যখন মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে , তখন নিজেকে এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে বড় অবাঞ্চিত মনে হয়। আবার গল্পের মেয়েরা নিজের পছন্দের মানুষকে পাওয়ার জন্য পুরো দুনিয়ার সাথে লড়াই করে , আর বাস্তবে সেসব মেয়েরা কেবল তাদের পরিবারকেই মুখ তুলে কিছু বলতে পারে না। বাধ্য হয়ে সাতপাকে বাঁধা পড়ে কি অমানুষের সাথে। এমন কিছু পশুর কাছে তাদের পুরোটা জীবন কাটাতে হয় , যে হয়তো বাসর রাতেই তাকে নিজ স্বামীত্বের অধিকার ফলানোর নামে ধ*র্ষ*ণ করেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রথম রাতেই তাকে অসহায় , অক্ষম শুয়ে থাকতে হয়েছে হাসপাতালের বেডে , ভবিষ্যতের কথা ভেবে , সেই অমানুষের সাথে বাকিটা জীবন কাটানোর কথা ভেবে কান্না করে। জীবনে চলার পথে এমন হাজারো ঘটনা আমাদের চারপাশে ঘটে চলেছে। কিন্তু তাসনিয়া আপু যেভাবে তার জীবনে ঘটে যাওয়া এমন কিছু নির্মম ঘটনা বইয়ের শেষদিকে তুলে ধরেছেন , চাইলেও আর তখন উটপাখির মত বাস্তবতা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা দরকার না। অশ্রুধারারা নিজের অজান্তেই দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে। এতটা হাস্যরসের সাথে যে বইয়ের সূচনা , তার এমন সমাপ্তি আমি চাই নি। আসলে বাস্তবতা আমরা কখন-ই বা চাই , আমরা তো কল্পনায় বেঁচেই খুশি।


বইটি যতই সমাপ্তির দিকে এগিয়েছে ততই মন খারাপ হচ্ছিল , পূর্বের কারণের সাথেসাথে আরেকটা কারণে , সেটা হলো এত চমৎকার বইটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকটা কোন আনন্দঘন বিকেল কিংবা অবিস্মরণীয় কোন ভ্রমণের শেষ হয়ে যাওয়ার আগের অনুভূতি। শেষ কয়েক পাতা পড়তে অনেক কষ্ট হচ্ছিল , বারবার বই বন্ধ করে ঘরে এদিক থেকে ওদিক পায়চারি করছিলাম , আবার এসে এক পাতা পড়তাম , আবার বই বন্ধ করে উঠে যেতাম। আমি কখনো কোন বই না শেষ করে রাখতে পারি না , যে কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে একসময় বইটা শেষ করলাম , চোখের জলে একাকার হয়ে। উচ্ছল , তারুণ্যে ভরপুর ইফা , বিভার শুরুটা ছিল আনন্দের , প্রাপ্তির। কিন্তু তাদের সমাপ্তি , চোখের সামনে বইয়ের পাতায় বড় হয়ে উঠে মেডিকেল লাইফের শেষটা বেদনার , অনেক অপ্রাপ্তির সাথে কিছু প্রাপ্তিরও বটে। টানা কয়েক বছর এক হোস্টেলে থাকার অভিজ্ঞতা আমার আছে , তাই ইন্টার্নশিপের শেষ বেলায় তাদের আবেগঘন বিদায় , কান্নামাখা হাসি আর সেই অব্যক্ত আবেগ আমার মনের গহীন কোণে লুকিয়ে থাকা সেই আবেগকে বের করে নিয়ে এসেছিল। 


অসংখ্য ধন্যবাদ আপু , এত সুন্দর কিছু অনুভূতির জন্য 🥰🥰



➤ চরিত্র বিশ্লেষণ


এই অংশটুকু ‘দুইশো তেরোর গল্প’র ক্ষেত্রে খাটে না। এখানে সবাই নায়ক সবাই নায়িকা , এটা এমন এক গল্প যেখানে সবাই মূল চরিত্র , কারো থেকে কাউকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই। এটা দুইশো তেরো ও দুইশো চৌদ্দর গল্প , এটা তাদের সবার গল্প। এখানে তাই ওদের সবাইকে নিয়েই কথা বলবো।


⇨ ইফা , এই গল্পের কথক এবং লেখিকা তাসনিয়া আপুর প্রতিবিম্ব। গল্পে এই চরিত্রের আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য নেই , সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যহীন নিজেকেই রেখেছেন লেখিকা , কিন্তু অপরদিক থেকে দেখলে সবখানেই ইফার প্রভাব টের পাওয়া যায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা , নিজের পছন্দের সংক্ষিপ্ততা , মুখ ফুটে সব কথা বলতে না পারা , এসবই উঠে এসেছে এই চরিত্রের মাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে বৈশিষ্ট্যহীন , সাধারণ রাখতে চেয়েছিলেন , আর তাতেই তিনি সমাপ্তিতে হয়ে উঠেছেন অনন্য , অসাধারণ। পছন্দের একটি চরিত্র। 


⇨ রিচি , দুইশো তেরো ও দুইশো চৌদ্দর সঞ্জীবনী শক্তি এই মেয়ে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দৌড়ে আসা , সময়ে অসময়ে নেচে উঠে সবাইকে হাসিয়ে তোলা , বন্ধুর প্রয়োজনে নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করা চৌধুরী বংশের এই মেয়ের অকারণেই ভয় পেয়ে যাওয়া , সবকিছুই অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। এই বইয়ে যে মেয়েটা সবচেয়ে হাসিখুশি শেষে সে-ই সবচেয়ে অভাগা , কেবল সরকারি চাকরি না থাকায় তাকে ভালোবাসার মানুষের সাথে পরিবার বিবাহ দেয় নি। এই করুণ সব হৃদয় ভাঙার গল্প এই সমাজের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে। কেউ খুঁড়তে শুরু করলেই রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ইচ্ছা আছে কোনদিন সুযোগ পেলে এই চরিত্রের বাস্তব মানুষটাকে দেখবো। কল্পনার সেই রিচির বাস্তব সংস্করণ। 


⇨ তরু , ❝ তোরা সবাই চা খাবি ? ❞ এই এক ডায়লগের মাঝেই বারবার তরু ফিরে আসবে আমার কল্পনায়। সব গল্পেই এমন একজন থাকে যার কথা অন্যদের মতো এতবেশী হয় না , সে আ���়ালেই থাকতে পছন্দ করে , তারপরও তার ছোট ছোট কিছু ঘটনা , কথার মাঝ দিয়ে সে বারবার ফিরে আসে। দুইশো তেরোর গল্পে তরু তেমনই একজন। 


⇨ বিভা , আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র এই বইয়ে। সবার চেয়ে আলাদা , সবার সাথে মিশুক , নিজেই নিজের অধিকারী , এমনসব গুণের কারণেই সে সবসময় অন্যরকম এক অবস্থানে থাকবে আমার মনের মনিকোঠায়। 

রাত্রির সাথে পুরোটা বইয়ে বিভার খুনসুটি , আনন্দমাখা ঝগড়াগুলো বইয়ের সবচেয়ে উপভোগ্য বিষয় ছিল। তাদের ভালোবাসার মাঝে এটা খুটি হিসেবে কাজ করতো। কখনো বন্ধুত্বের ভিতকে টলে যেতে দিতো না। মেডিকেল শেষে সবাই যার যার মতো ব্যস্ত হয়ে যায় , আর বিভা ভর্তি হয় সেনাবাহিনীতে। মেডিকেল থেকে আর্মি , বিভা এমনই পাগল , আর তার এমন সব পাগলামোর জন্যই সে আমার কাছে অন্যরকম , বাস্তবের কাউকে হয়তো বলা যায় না , কিন্তু গল্পের চরিত্র বিভাকে তো বলাই যায় , আমি মনে হয় তোমার প্রেমে পড়ে গিয়েছি। এবারই প্রথম নয় , তবে বলার মতো জোরদার Fall in love এবারই প্রথম। 


ভালো থেকো ভালোবাসা!! 


⇨ রাত্রি , রুপা , অদ্রিজা , দুইশো চৌদ্দ'র তিন বাসিন্দা , যারা বইয়ের শুরু থেকেই একসাথে ছিল , রুমে আসার পরও তাদের ভাগ্য তাদের পাশাপাশিই রেখেছে। দুই রুমের সাতজনের মাঝের আনন্দঘন সব সময় , একসাথে ঘুরতে যাওয়া , রাত্রির ইউরিনে আছাড় খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে রুমে আসা , আর দুদিন পর যার জন্য আছাড় খেয়েছে তারই প্রেমে পড়া সবমিলে পুরো হোস্টেলে এই দুই রুমের সাতজনের কোন তূলনা ছিল না। 


⇨ শিপলু , অভি , আহনাফ , মহিলা গ্যাং-এর তিন মাত্র পুরুষ সদস্য , যারা তাদের সাথে ঘুরতে গিয়েছে , যাদের সাথে মেডিকেল লাইফের পুরোটা সময় এবং পরের জীবনেও বন্ধুত্ব অটুট ছিল। এদের সাথে বিভা , ইফাদের সম্পর্ক কেবল বন্ধুত্বের , নিখাঁদ বন্ধুত্বের ভালোবাসার। যদিও সেখান থেকে রুপা শিপলুর ঘরনি হয়ে গিয়েছে। তারাও ‘কস্মিনকাল’কে সাথে নিয়ে বন্ধুই ছিল। 


⇨ কস্মিনকাল , এই বইয়ের একদম শেষে যার আগমন , কিন্তু এই নাম আপনাকে জানানো হবে বই শুরু করারও আগে। পুরোটা বই আপনি ভাবতে থাকবেন , কেন লেখিকা বই ‘কস্মিনকাল’কে উৎসর্গ করলেন ?  

থাক আমি কিছু বলবো না , আপনি বই পড়েই জেনে নিয়েন। নাহয় বলে দিলে আবার মারতে আসতে পারেন। জানের ভয় আছে না 🫠🫠


⇨ সাফা আপু , মেডিকেল লাইফের একদম শুরুতে যার হাত ধরে কঠিন সব পথ পারি দিয়েছে ইফা , যাকে বড় বোন বললেও কম হবে , কারণ বোনের সাথে রক্তের সম্পর্ক থাকে কিন্তু সাফা আপুর সাথে ইফার কোন সম্পর্ক ছিল না , সিনিয়র জুনিয়রের সম্পর্ক ব্যতীত। এমন দুয়েকজন মানুষ সব জায়গায়ই থাকেন , যারা ছোটদের নিজের রক্তের আত্মীয়দের চেয়েও বেশি স্নেহ মমতা দিয়ে ভালোবাসেন , শাষন করেন। এমন কয়েকজন মানুষের দেখা আমি নিজের জীবনেও পেয়েছি , তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে দেয়ার কিছু নেই ভালোবাসা ছাড়া। আল্লাহ ! তুমি তাদেরকে ভালো রাখো , আমিন। 


এছাড়াও আরও অনেকে রয়েছে এই বইয়ের পাতায় পাতায়। সবার নামও হয়তো মনে নেই। সবাইকে নিয়ে লেখাও হয়তো সম্ভব নয়। আবার যখন বইটা হাতে নিব সেসব চরিত্ররা ভেসে উঠবে আমার স্মৃতির পাতায় , কিংবা অকারণেই কোন শুভ্র , নির্মল ভোরে , কোন রক্তিম , গোধূলিময় সাঁঝে হঠাৎই মনে পড়ে যাবে দুইশো তেরোর কোন চরিত্র , কোন গল্প। কখনো হেসে উঠবো , কখনোবা কাঁদবো। এইতো জীবন , তার সাথে জড়িয়ে গেল এবার জীবনের গল্প , ‘দুইশো তেরোর গল্প’। 


➤ প্রচ্ছদ


আমি কোন বই পড়লে সেটার প্রচ্ছদ নিয়ে তেমন মাথা ঘামাই না। বই ভালো হলেই হলো , প্রচ্ছদ ভালো লাগলে ভালো , আর খারাপ হলে কার কি আসে যায়। আসলে কখনো প্রচ্ছদ তেমন একটা প্রভাব আমার বই পড়ার উপর কখনোই ফেলে নি। ব্যতিক্রম এই বইটি। এটার প্রচ্ছদের দিকে আমি দীর্ঘসময় কেবল তাকিয়েই ছিলাম। বই শুরু করার আগে , শেষ করেও। প্রচ্ছদের আনাচে-কানাচেতে ছড়িয়ে থাকা ছোট্ট সব চিরকুট , ক্যামেরার ছবি সব বইয়ের ভেতরে পড়া অনুভূতির জানান দিচ্ছিল। জীবনের গল্প এতটা অনুভব করে পড়েছি মনে হচ্ছে এই প্রথম। বারবার গল্প থেকে হারিয়ে যাচ্ছিলাম , মনে হচ্ছিল এগুলো তো লেখিকার নয় , আমারই জীবনের গল্প। 

{{ বই নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত}}  আসলে এগুলো কোন গল্প নয় , বরং চারদেয়ালের মাঝে বন্দী কিছু ভালোবাসা , বন্ধুত্ব ও জীবনের রঙিন সময়ের নাম। আমার পড়া সেরাদের সেরা তিনটি বইয়ের একটি এই ‘দুইশো তেরোর গল্প’। যেকোনো বয়সের সবার জন্য মাস্ট রেকমেন্ডেড একটি বই।  


➤ প্রোডাকশন


এর আগেও আমার সতীর্থ প্রকাশনার কিছু বই পড়া হয়েছে , কিন্তু বেশিরভাগই ছিল পেপারব্যাক কিংবা ক্রাউন সাইজ-হার্ডকভার। তাই এটা নিয়ে আলাদা একটা আগ্রহ ছিল , সতীর্থের স্ট্যান্ডার্ড সাইজের হার্ডকাভার বই পড়বো। ব্যাক্তিগত কিউরিসিটি আর কি। 

এখন পর্যন্ত বই ঠিকই আছে , তবে কি না এই আমার পরিবারের মধ্যেই আরও চার পাঁচ হাত বদল হবে , আমার বাসার সবাই থ্রিলার জনরা পড়তে পারে না , তাই সমকালীন জনরার সব বই পাঁচ ছয় হাত ঘুরে তারপর শেলফে স্থান পায়। এটা কতখানি টেকসই তা সবার পড়া শেষ হলেই কেবল বোঝা যাবে। 

এছাড়া পুরো বইয়ে বানান ভুল কিংবা মুদ্রণপ্রমাদ একটাও চোখে পড়ে নি। লেখার ফন্টও ঠিকঠাক ছিল , মোটকথা আমার পড়া সতীর্থের সেরা বই এটা। Tahmid ভাই ! বড়সড় একটা ধন্যবাদ আপনার প্রাপ্য। 

আর ছোট্ট একটা মতামত , আমার মনে হয় এই বইটি কোন ওয়েব সিরিজে কনভার্ট হওয়ার মতো একটা বই। সুদক্ষ কুশলীবদের হাতে পড়লে সুন্দর কিছু হওয়ার আশা করা যায় ‘দুইশো তেরোর গল্প’ থেকে। যদি কোনদিন হয় সে পর্যন্ত ‘আদিওস'।


☞ ব্যক্তিগত রেটিং : ১১/১০ 

আগের যুগে নাকি কোন ছাত্রের পরীক্ষা অসম্ভব রকমের ভালো হলে সেটা বোঝানোর জন্য পূর্ণ নাম্বারের চেয়েও কিছু বেশি দেওয়া হতো। আমিও সেরকম টাই বুঝাতে চেয়েছি। ১০/১০ তো আরও অনেক বই-ই পাবে , কিন্তু ‘দুইশো তেরোর গল্প’ সবার চেয়ে ভিন্ন , অসাধারণ , অনন্য।


বইয়ের সাথে যাত্রা চলুক অবিরাম 📚📚📚
Profile Image for Humaira Tabassum  Ellin.
23 reviews7 followers
December 25, 2021
আমি নিজে যেহেতু মেডিকেলে পড়ি,খুব ভালো ভাবে নিজের জীবনের সাথে গল্পগুলো মিলে যাচ্ছিল। নিজের জীবনের সাথে মিলে গেছে বলেই হয়তো উপন্যাস টা এত দারুন লেগেছে
24 reviews
August 9, 2021
পড়ে খুব ভালো লেগেছে। যদিও আমি মেডিকেল স্টুডেন্ট না। তবে আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড মেডিকেলের, ওর সাথে চলাফেরায় ওর মেডিকেলের কমবেশি প্রতিটা ঘটনা শুনেছি, বই পড়ে সেই ঘটনাগুলোর সাথে মিল পাচ্ছিলাম। সিলেট আমার প্রিয় শহরের মধ্যে একটা। শহরের বর্ণনায় মনে হচ্ছিলো সবকিছুই চোখের সামনে ভাসছে।
আমার শহর, তাসনিয়া আপুর শহর নারায়ণগঞ্জ নিয়েও আপুর কাছ থেকে কোন গল্প চাই, বা গল্পের প্লট নারায়ণগঞ্জকে কেন্দ্র করে হোক এমনটা চাই।
Profile Image for রায়হান রিফাত.
256 reviews9 followers
July 14, 2021
সবসময় শুরুতে বই এর নাম দিয়ে শুরু করি আমি|
আজ করবোনা|

কিছু গল্প উপন্যাস নাম দিয়ে পরিচিত হয়না তারা তাদের গল্প দিয়েই পরিচিত হয়!
'তাসনিয়া আহমেদ' আপুর "দুইশো তেরোর গল্প" তেমন কিছু একটা!!

বই টা কোনো মাস্টারপিস বই না,এইটা আসলে ক্যাম্পাস আর হোস্টেল লাইফের যে জীবন ব্যবস্থা তার একটা উদাহরণ বা আপুর ব্যক্তিগত ডায়েরী ও বলা চলে|

প্রতিটা ক্যাম্পাসে প্রতিটা গ্রুপের এমন একটা করে গল্প থাকে,যা হয়ত বাহিরের কেও শুনতে চাইনা|

তবে আমি বরাবর ই আমার জীবনে ৪টা ধাপ নিয়ে বই লিখবো ভেবে এসেছি :3 নাম গুলো ও ফিক্সড করে রেখেছি 😉
তাই বোধয় এত ভাল লেগেছে এই বই!!

মোটামুটি যাদের ক্যাম্পাস লাইফ আছে তারা মেডিকেল লাইনের না হলেও এটাচড করতে পারবেন নিজেকে গল্পের সাথে!!

গাইনীর অংশ টা আমি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি ভাল লাগেক কচ ওই অংশ টা!!

কারো ব্যক্তিগত ডায়েরী যেমন পুরোটাই রোমাঞ্চকর হয়না তেমনি এই বই এর মাঝের কিছু অংশ ও একটু বোরিং ছিল তবে জীবনের এসব উথান পতন দিয়েই যেন একটা রোলার কোস্টার রাইডে ছিলাম!!

মেডিকেলের স্টুডেন্ট দের পড়ে আর ও মজা লাগবে 🖤

একটা বই এর সফলতা নির্ভর করে লেখক পাঠক কে কতটা আনন্দ দিতে পেরেছেন জার্নিতে তার উপর|
আর আমি আনন্দিত কারণ এটা আমাদের সবার গল্প মোটামুটি 🖤

কিছু জিনিস ভুলবোনা কখন ও কারণ অসম্ভব ভাল লেগেছে আবার কিছু জিনিস আছে যা আমার সাথে প্রায় মিলে গেছে বা আমি দেখেছি এসব কাণ্ড:

- ইউরিনে আছাড় খেয়ে প্রেমে পড়া,
- বিশেষ কারো উপর বিরক্ত হয়ে পরে বন্ধু হওয়া,
- হুট করে ঘুরতে যাওয়া,
- বিনা নোটিশে ঘুরতে যাওয়া,
- কয়েকজন মিলে একজনকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া(Shanto)
-কস্মিনকাল
-বিভা আপুর চরিত্র টা (Niloy ) এর সাথে ম্যাচ খাই :3
- রিচি হিসেবে (Sarah Mirza)
- শিপলু হিসেবে (Rafiew Islam)100% মিলেনা কিন্তু লাস্ট গফের জন্য ও এমন ছিল 😂
-আদ্রিজা হিসেবে (Rupam)
- অভি হিসেবে (Asaduzzaman)
-লেখিক হিসেবে আমি নিজে :3

চমতকার একটা রাইডের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ 🖤

রেটিং: 8/10
Profile Image for আকাশলীনা.
57 reviews1 follower
January 16, 2024
তৃণা আপু(একজন মেডিক্যাল স্টুডেন্ট) এইটা পড়তে নিষেধ করেছিল আমাকে,আর বলেছিলেন যে এই বই পড়লে মেডিক্যালের প্রতি মনে ভয় ঢুকে যাবে। তবুও আমি পড়েছি। ছোট ছোট চ্যাপ্টারে ভাগ করা বইটা আমাকে ভয় দেখিয়েছে ঠিকই, কিন্ত একটুও বোর করে নি।
Profile Image for Fahmida Rini.
67 reviews34 followers
March 30, 2023
[আমি অসংখ্যবার বলেছি আগেও আমি রিভিউ লিখতে জানি না। এই লেখাকেও রিভিউ এর অন্তর্ভুক্ত করা যায় না]

'দুইশো তেরোর গল্প' নিয়ে বলতে গেলে প্রথমে বলতে হয় পড়ার আগ্রহ হয়েছিলো কেনো।
মার্কেটিং এর কারণেই নিউজফীডে এই বইয়ের আলোচনা সামনে আসে। নাম থেকে আন্দাজ করতে পেরেছিলাম বইয়ের বিষয়বস্তু, সাথে ফ্ল্যাপের লেখা তো আছেই।
রকমারিতে 'একটু পড়ে দেখুন' আমার বিরাট স্বস্তির জায়গা। অনলাইনে বই কিনতে গেলে উল্টেপাল্টে দেখা যায় না। সেই সমাধান দিচ্ছে রকমারি।
একটুখানি পড়তেই বইয়ের নাম টুক করে উঠে এলো আমার উইশলিস্টে।
তারপর নানা কাজের ভীড়ে আমি বইটার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম।এবছর অপ্রত্যাশিতভাবেই বইটা হাতে এসেছে দিন কয়েক আগে।
আমার বাসায় বই গড়ায় বহুদিন,কোন বই কবে কিনে কবে পড়বো আমার নিজেরও জানা নেই।
এই বই উপহার পেয়েও শেল্ফে পড়ে ছিলো কিছুদিন। বইটা শুরু করার পর একটাবারের জন্যেও মনে হয়নি কোনো বই পড়ছি। আমার বারবার মনে হচ্ছিলো আমার সামনে বসে কেউ তার জীবনেও গল্পগুলো একে একে বলে যাচ্ছে। এবং যে বলছে তার গল্প বলার ধরণ এতো সুন্দর যে তার গল্পে আমি বিরক্ত হচ্ছি না।
বইটা এতো ভালো লাগার পরও আমি পড়তে সময় নিয়েছি কয়েকটা দিন। যতো পাতা ফুরিয়ে আসছিলো আমার আফসোসের মাত্রা বেড়েছে।
সুখের দিনগুলো এভাবে পাখির ডানায় ভর করে উড়ে যায় চোখের পলকে।
সেভাবেই শেষ হয়ে গেলো ইফা,তরু,মায়া,বিভা,রূপা,শিপলু,রিচি,নুরাতদের ২১৩ কে ঘিরে রচিত গল্প।
এই বই পড়তে পড়তে কখনো আপনার প্রচণ্ড খুশিতে দম বন্ধ হয়ে আসবে,কখনো গলার কাছে দলা পাকাবে কান্না,কখনো বিশাল শূন্যতায় সিলিং এর দিকে তাকিয়ে ভাববেন 'সব ঠিক হয়না,সব ঠিক হবার নয়'।
গুডরিডস একাউন্ট খোলার পর থেকে আমি কোনো বইয়ে বোধহয় ৫ তারকা রেটিং দেইনি। তবে এই বইয়ে সে রেকর্ড ভেঙেছে।
(It Ends With Us এ দিয়েছিলাম কিনা ঠিক মনে নেই)
যদি বলা হয় কেনো আমার এতো ভালো লেগেছে তার উত্তর হলো এই বইয়ের বন্ধুত্ব। এই বইয়ে যেই বন্ধুত্বের গল্প আছে জীবনের কোন এক সময়ে সেই বন্ধুত্বই আমরা সবাই চেয়েছি।
আর যা না উল্লেখ করলেই না,লেখিকা তাসনিয়া আহমেদের লেখনীশৈলী চমৎকার। জীবনের গল্প সুন্দর হলেও সুন্দরভাবে সবাই লিখতে পারেন না। তাসনিয়া আহমেদ জীবনযুদ্ধে ভীষণ এগিয়ে গেছেন।

[এই অংশটুকু না পড়লেও চলবে-
গল্পের ইফাকে একটা পর্যায়ে আমার জড়িয়ে ধরে বলতে ইচ্ছা হচ্ছিলো সে প্রচণ্ড সাহসী একটি মেয়ে। মেডিকেল জীবনের এতোগুলো ধাপ পেরিয়ে আসা কিংবা কঠিন কঠিন পরীক্ষা উতরে আসার জন্যে নয়। ওয়ার্ড কিংবা মূমুর্ষ রোগী সামলাবার জন্যেও নয়। বরং জীবনের সবচে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে নেবার জন্য। নিজেকে ভালোবাসা সাহসের ব্যাপার। রোজদিন অন্যকে ভালোবাসতে যেয়ে আমরা নিজেকে ভালোবাসতে ভুলে যাই। কখনো কখনো আমাদের নিজেকে বেছে নেয়া উচিত,নিতে হয়।]
Profile Image for Ashfia Sharif.
74 reviews3 followers
June 1, 2022
অসম্ভব সুন্দর এক বই পড়লাম। এর রেশ অনেকদিন থাকবে। কারণ এই বইয়ের অনেকটাই আমার নিজের জীবনের সাথে মিলে যাচ্ছিল। এই বই পড়ে আপনি হারিয়ে যাবেন ক্যাম্পাসের দিনে। হারিয়ে যাবেন বন্ধুদের সাথে আড্ডার সময়গুলোতে। এই বই পড়বেন কিন্তু আপনি বন্ধুদের মিস করবেন না এটা অসম্ভব।
এটা এমন একটা বই যেটা ভালো লাগবেই । আর আপনি যদি মেডিকেল প্রফেশনের সাথে জড়িত থাকেন আমি গ্যারান্টি দিতে পারি বইটি আপনি সারাজীবন মনে রাখবেন। মাঝে মাঝেই উল্টেপাল্টে দেখতে চাইবেন আর হারিয়ে যেতে চাইবেন সেই মেডিকেলের ফেলে আসা দিনগুলোতে। আর আপনি যদি নন- মেডিকেলীয় হন এবং মেডিকেল স্টুডেন্টদের টিকে থাকার যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে চান, বইটা পড়ে দেখবেন।

সিলেট আমার খুব প্রিয় জায়গা। বেশ কয়েকবার যাওয়া হয়েছে। আমাদের থার্ড ইয়ারে মেডিকেল থেকে সিলেটে ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিল।ওসমানী মেডিকেল কলেজে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে আর যাওয়া হয়নি। এখন খুব আফসোস হচ্ছে। ইচ্ছে করছে মেডিকেল মাঠটাকে আর দুইশো তেরো রুমটাকে একবার দেখে আসি।

আর আমি কিন্তু এই বইটা এক বসায় শেষ করিনি। প্রতিদিন ১৫- ২০ পৃষ্ঠা করে পড়েছি আর একটু একটু করে দুইশো তেরোর গল্পগুলোকে নিজের মধ্যে গেঁথে নিয়েছি।বলাবাহুল্য বইটা আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় উঠে গেছে।

তাসনিয়া আপুর লেখা আমি এই প্রথম পড়লাম।এক কথায় অসাধারণ। মায়া মেশানো লেখা। শান্তি শান্তি লাগে কথাগুলো পড়লে। আপুর অন্য বই খুব জলদি পড়তে হবে।আর আপুর সাথে বই নিয়ে কথা বলতে বেশ লেগেছে। অনেক শুভকামনা।
Profile Image for Fareya Rafiq.
75 reviews1 follower
April 26, 2023
বন্ধুর উপহারে পাওয়া বইটার শুভেচ্ছা পত্রে লিখা ছিল, তার জীবন যেন ২১৩ এর মতো হয়৷ কোনো অপূর্ণতা না থাকে।
ভেবে দেখলাম, দুইশো তেরো আসলে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি মিলিয়েই একটা বই। শুভেচ্ছা পত্রটা তাই ঠিক পছন্দ না হলেও বইটা আমার বেজায় ভালো লেগে গেল।
সাধারণত সমকালীন লেখক-লেখিকার বই পড়ি না কন্টেন্ট ভালো লাগেনা বলে। (অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, না পড়ে কন্টেন্ট কীভাবে বুঝলাম। আসলে ফ্ল্যাপ এবং অন্যের পড়া রিভিউ আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে)।
তাই বইটা পড়া নিয়ে দোটানা ছিল। কিন্তু পড়া শুরুর পর বুঝলাম বইটা সত্যিই দারুণ। একে তো বন্ধুত্বের উপর লিখা, দুইয়ে চিরায়ত গল্প বলার ঢঙে না বলে ডায়েরির মতো ছোট ছোট টুকরো গল্পের মতো বলা। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল, আমিও দুইশো তেরোর কেউ।
বইয়ের সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার অংশ ছিল ছাব্বিশ নাম্বার চ্যাপ্টারে নুরাত আর ইফার কথোপকথন, আর সেই সময় নুরাতের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দুইশো তেরোর বন্ধুরা আছে জানিয়ে দেয়া।
(ইফাকে পেলে সত্যিই ধন্যবাদ দিতাম, নিজেকে আগে গুরুত্ব দেয়ার জন্য। সত্যিই কখনো কখনো নিজের জন্যও সময় রাখতে হয়।)
ধন্যবাদ লেখিকাকে এত সুন্দর করে গুছিয়ে লিখার জন্য।

#দুইশো_তেরোর_গল্প
#তাসনিয়া_আহমেদ
#সতীর্থ_প্রকাশনী
Profile Image for Tasmin Nisha.
164 reviews6 followers
April 19, 2023
ইফার হল জীবন, গণরুমে রিচি, আদ্রিজা,বিভা, তরু, রাত্রি, লামিসা, মায়াদের সাথে পরিচয়, কমনরুম থেকে দুইশো তেরোতে বিভা,তরু ও রিচির সাথে পদার্পণ, ডাক্তার হওয়ার লম্বা সফরে সবকিছু ভাগাভাগি করে নেওয়া এইসব নিয়েই বইটি।

গল্পটার সাথে আমি খুব বেশি একটা রিলেট করতে পারছি না কারণ হলজীবনের সাথে আমি খুব একটা পরিচিত নই। তবে হলজীবন যেমনটা কষ্টের হয় তেমনটা আনন্দেরও হয় তা আমি আমার কাছের বান্ধবীর মাধ্যমে দেখেছি। মাঝেমাঝে মনে হতো ঈশ আমিও যদি হলে থাকতাম, এইযে হঠাৎ একজনের সাথে আরেকজনের দেখা হয়ে যাওয়া, তারপর সারারাত একসাথে আড্ডা দেওয়া এই ব্যাপারগুলো খুব ভালো লাগতো আমার।

যাই হোক মূল গল্পে আসা যাক। লেখিকার লেখনশৈলী নিয়ে কিছু বলার নেই, খুবই সাবলীল এবং সুন্দর‌। গল্পটাও যথেষ্ট উপভোগ্য। তবে লেখিকা যে প্রত্যেক চরিত্রকে পজিটিভলি দেখিয়েছেন তা কিন্তু বাস্তব জীবনে অনেকটা রূপকথার গল্পের মতো।
Profile Image for Fatema Tuz Johora.
13 reviews4 followers
April 13, 2023
মায়াময় একটি বই।
লেখিকার প্রথম উপন্যাস হিসেবে আমার কাছে বইটি ভালো মনে হয়েছে। সমালোচনা করার মতো ব্যাপার ও হয়তো আছে কিন্তু তা নিয়ে কথা বলবো না। কিছু অংশে হেসে কুটিকুটি হয়েছি আবার কিছু অংশে দু:খবোধে আক্রান্ত হয়েছি। ঘর ছেড়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সদ্য মেডিকেলে পড়তে আসে একঝাঁক পাখি। চিরচেনা আপন ঘর থেকে অচেনা ঘরে পা বাড়ায় তারা। তারপর আর কি। চলতে থাকে তাদের গল্প, তাদের অচেনা ঘরের গল্প। সেই অচেনা ঘর একসময় হয়ে উঠে সবচেয়ে আপন। হয়ে উঠে অস্তিত্বের অংশ। সেই ঘর ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করা যায় না।
যারা হোস্টেল জীবন অতিবাহিত করেছেন বা করছেন তারা এই গল্পের সাথে রিলেট করতে পারবেন আর মেডিকেল স্টুডেন্ট হলে তো মনে হবে নিজের গল্পই পড়ছেন। আমি যদিও মেডিকেলের স্টুডেন্ট না কিন্তু ইফা,রিচি,বিভা,তরু,অদ্রিজা,রুপা,মায়া,অভি,শিপলু তাদের সবার গল্পের মায়ায় আবদ্ধ হয়েছি।
8 reviews
October 15, 2023
If you are a med student in Bangladesh, embracing all the endless studies & uncountable exams to fulfill your dream of being a physician- you'll relate to this book.If you are doing all these by being away from the warmth & comfort of your home in a hostel, you'll definitely find yourself in any of the characters of the book.
If you don't relate to any of the things above- don't worry. This book will introduce you to that world.
Profile Image for Hasibur Rahman.
44 reviews2 followers
January 28, 2023
a beautiful book. Forced me to go back to my hostel life. It made me laugh at hard sometimes, sometimes made me so emotional and those last chapters are most beautiful part.
Highly recommend book.
Thanks to author and Satirtha Publication to bring this kind of beautiful book❤️
Displaying 1 - 30 of 44 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.