এ এক দীর্ঘ এক্সোডাস! যার পরিণতিতে, মামুন হুসাইন তাঁর প্রজন্মকাল ছাপিয়ে বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান শ্রমঘনিষ্ট কারিগর হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন ইতোমধ্যে। তাঁর লেখার জগত সে-অর্থে শুধু বিপন্ন মানুষের নির্মাণ-বিনির্মাণ নয়; প্রেক্ষিত হিসেবে সেখানে অবিরত সৃজন হয়েছে বৈশ্বিক মানুষের নানান পাঁক এবং দ্রোহের এক নির্মোহ অবয়ব। এই ধারাবাহিকতায় নিকট অতীতের বাংলাদেশকে সবচেয়ে গভীরভাবে খনন করার প্রথম উদ্যোগ খুঁজে পাই আমরা লেখকের এইসব তীব্র-তীক্ষ বিপ্রতীপ বাক্যের গলিঘোঁজে।
মামুন হুসাইন ৪ মার্চ ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন কুষ্টিয়া জেলা শহরের কমলাপুরে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায়। পড়ালেখা করেছেন ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে। ১৯৭৭ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে আইএসসি পাস করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে এমবিবিএস করেন ১৯৮৫ সালে। এরপর বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন-এর অধীনে ডাক্তার হিসেবে সরকারি চাকুরিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। মামুন হুসাইনের সাহিত্যে হাতেখড়ি আশির দশকে হলেও প্রাথমিক অবস্থায় তিনি সাহিত্যের ছোটকাগজগুলোতেই লিখতেন। বেশ পরে ১৯৯৫ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘শান্ত সন্ত্রাসের চাঁদমারি’ প্রকাশ করেন। গ্রন্থটি প্রকাশের আগেই তিনি বাংলাদেশের গল্পধারায় সিরিয়াসধর্মী গল্পকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য মামুন হুসাইন ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।