উসমানি খেলাফতের গুরুত্বপূর্ণ ও সফলদিকগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। প্রায় ৬০০ বছর ধরে রাজত্ব করা উসমানিদের যুদ্ধ কাহিনি যতটুকু আলোচিত তাদের মানুষ, তাদের আচরণ, তাদের জীবন যাপনের বিষয়াদি তত আলোচিত হয় না। লেখক সেই প্রচেষ্টাই করেছেন বইটিতে।
১.সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদ যিনি জীবনে এক ওয়াক্ত ফরজ নামাজ কাজা করেননি। প্রতিটি যুদ্ধ থেকে ফিরে জামায় লেগে থাকা ধুলোবালি একটি বোতলে ভরে রাখতেন তিনি।
২. সুলতান প্রথম সালিম এক যাত্রাকালে ফলমূলে সুশোভিত বাগানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। যাত্রাবিরতিতে সুলতানের সন্দেহ হয় যে তার সেনাবাহিনী ঐ বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করেছে কিনা। সবাইকে চেক করে কারো কাছে একটি ফলও পাওয়া গেলো না৷
৩. সুলতান ফাতিহ এক কর্মকর্তার হাত কেটে ফেললে সে কাজির কাছে বিচার দাবি করে। কাজি কিসাস হিসেবে সুলতানের হাত কাটার নির্দেশ দেন। কিন্তু ঐ কর্মকর্তা শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরন দাবি করলে সুলতান তাকে দিগুণ জরিমানা হিসেবে প্রদানে করেন।
প্রায় ৬০০ বছরের রাজত্বে এমন ঘটনা ২/৩ টি নয়। বরং হাজার হাজার৷ তবে দীর্ঘমেয়াদী এই রাজত্বের যুদ্ধ কাহিনি যতটা জানা যায় তার অন্যান্য বিষয়গুলো ততটা জানা যায় না৷
সেই সহস্র সোনালি দিনগুলো নিয়ে বর্তমানে চলছে নানা গবেষণা৷ সুদীর্ঘ ছয় শতাধিক বছর ঐশী বিধানে পরিচালিত একটি সাম্রাজ্য, একটি জাতি, এক বিশাল সমাজের কতগুলো সোনার মানুষের সোনালি অবস্থা ও তাদের জীবন ব্যবস্থা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বইটিতে।
এক, দেড়, দুই পৃষ্ঠার গল্পে গল্পে সাজানো বই। কিছু গল্পে উসমানীদের বীরত্ব-কৃতিত্ব তুলে ধরা হয়েছে। কিছু আছে প্রেম-ভালোবাসা টাইপ, কিছু গল্প আরো বিরক্তিকর। কিছু ঘটনা এতটাই দৃষ্টিকটু যে, সোর্সের অথেনটিসিটি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকে যায়। হাতে গোনা কয়েকটা ভালো লেখা আছে। অনুবাদকের অনুবাদও যুতসই ছিল না। একটা বই পড়াকে কেন্দ্র করে পাঠকের দুইটা ইনভেস্টমেন্ট থাকে- টাকা ও সময়। সময়ের অপচয়টা আমার হয়তো একটু বেশিই হয়েছে।
সাধারণ ইতিহাসের বইয়ের আদলে লেখা না। উসমানি সালতানাতের টুকরো টুকরো সুন্দর কাহিনির সংকলন, যা পাঠকের উক্ত সাম্রাজ্যের ইতিহাসের প্রতি আরও আগ্রহি করে তুলবে।