"বইটা কাদের জন্য লেখা? এই প্রশ্নটা আমি নিজেকে করেছিলাম। এর কোন নির্দিষ্ট উত্তর নেই। এখানে আমার নানান বয়সের নানান অভিজ্ঞতা-উপলব্ধি স্থান পেয়েছে। নিজের জীবন থেকে, চারপাশের মানুষের জীবন থেকে আমি যা শিখেছি, সেই কথাগুলোই বলার চেষ্টা করেছি। আপনি যখন বইটা হাতে নেবেন, পড়তে পড়তে যদি মনে হয়, এগুলো আপনারই কথা, আপনার মনের কথা যেগুলো আপনিও বলতে চাইতেন- তবে বইটা আপনার জন্যই লেখা " - লেখক
~বইটা পড়ে আমি কি পরিমান শান্তি পেয়েছি তা বোঝানো সম্ভব না। লেখক কথাগুলো এত সহজ-সরলভাবে বলেছেন আপনার হৃদয়ে দাগ কেটে যাবে। উনার কিছু লেখা পড়ার সময় আমার চোখ বারবার ভিজে যাচ্ছিল। বইয়ের লেখাগুলো আর কিছু না হোক, একবার হলেও আপনাকে দুনিয়ার ওপারের জীবনটাকে নিয়ে ভাবাবে। আপনার রবকে নিয়ে ভাবাবে।
বইয়ের কিছু আর্টিকেল এর নাম বেশ মজার ছিল। যেমন এক টুকরো গরুর মাংস, সব তরকারির আলু, এক ঠোঙা ঝাল মুড়ি এবং অতঃপর, ইত্যাদি। তবে কয়েকটা আর্টিকেল বেশ ছোট মনে হয়েছে। ওগুলো আর একটু সময় নিয়ে পড়তে ইচ্ছে করছিল। আর লেখকের লেখনী এক কথায় অসাধারণ। উনার নতুন বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
~বইটা শুরু হয়েছিল এই তিনটা লাইন দিয়ে। খুব সুন্দর না?
"আল্লাহ যদি অনুগ্রহ করে আমাকে জান্নাত দেন, তবে জান্নাতে গিয়ে ইনশাআল্লাহ একটা চায়ের দোকান দেবো। সবুজ বাগান, ঝর্ণাধারা, শীতল বাতাস -এর মধ্যে ছোট্ট একটা টং দোকান। আর সেখানে রাসুল ( সা), আবু বকর (রা) আর উমর (রা) এর সাথে চা খেতে খেতে গল্প করব।"
সাজিদ ভাইয়ের লেখা সরল, সহজবোধ্য, হৃদয়গ্রাহী, তবে 'হালকা' নয়। এই সহজ, সরল কথাগুলোই আপনার হৃদয়ে এমনভাবে দাগ কাটবে যে আপনি নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে ভাবতে বাধ্য হবেন, কি করছি আমি? এর নামই কি জীবন? এই জীবনের লক্ষ্য কি? গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয়া এই নিশ্চিন্ত জীবনে মাঝে মাঝে এমন কিছু নাসীহাহ, রিমাইন্ডার দরকার পড়ে যা অন্তরে নাড়া দিবে, চিন্তার দুয়ারে আঘাত করবে, নতুন করে ভাবতে শেখাবে। এই বইটি তেমনই কিছু লেখার সংকলন। নিজে পড়ুন, অন্যদের পড়তে দিন, লেখাগুলো নিয়ে ভাবুন। একবার না, বার বার। জনে জনে বিলি করার বইয়ের লিস্টে আরো একটি বই যুক্ত হলো।
এই বইয়ে লেখক, বিভিন্ন সময় তার মনে আসা ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন। ভাবনাগুলো আপনাকে ভাবাবে বক্সবন্দী এই জীবনের বাইরে একটি জীবন আছে। যেই জীবন আপনাকে জান্নাতে টংয়ের দোকানে মুহাম্মাদ (সা.), আবু বাকর (রা.), উমার (রা.) এর সাথে চা খেতে খেতে গল্প করার ইচ্ছা জাগাবে।
যে অল্প ক'টা বই আমার পড়া হয়েছে, তার মধ্যে এই বইটা শেষ করেই মনে হল আবার বইটা পড়তে হবে। এমনকি খুব শীঘ্রই।
মাঝে-মধ্যে আমার মনে হয়েছিল আমি এই বুঝি হাইস্কুলে চলে এসেছি। হাইস্কুলের এক স্যার ঐ বয়সেও আমাদের ইংরেজি মুখে-মুখে পড়াতেন৷ লেখক এমনভাবে কিছু জিনিস তুলে ধরেছেন, এতো করে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন যে আমি সেই হাইস্কুলে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আর একজন স্টুডেন্ট হিসেবে অনেক কিছুই হুবহু মেলাতে পেরেছি বলতে গেলে।
সবশেষে আমার শুধু একটা জিনিসই মাথায় এখন ঘুরপাক খাচ্ছে যে, জীবন নিয়ে আমরা ঠিক কত কমই চিন্তা না করি..
জীবনঘনিষ্ট অনেক বিষয়কে আমরা কিভাবে ইসলামের আলোকে দেখতে পারি এ ব্যাপারে লেখক আলোচনা করেছেন। নিজের জীবনের নানা ঘটনা এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। মাঝে মাঝে এমন বই পড়লে নিজের ঈমানে ধাক্কা লাগে, চিন্তার খোরাক জাগে। একই ধাচের ঘটনা আমি কিভাবে চিন্তা করছি আর লেখকের ইসলামের আলোকে ব্যাখ্যা পাশাপাশি রাখলে বুঝা যায় নিজের হালত।
আমরা আমাদের জিবন কতটা অবহেলায় কাটাচ্ছি একটা বার যদি আমরা ভেবে দেখি কি করার কথা আমাদের আর আমরা কি করছি তখনই আমরা জিবনের আসল মর্মার্থ বুঝতে সক্ষম হব, বইটিতে জোনাকি ও ফরিঙের জিবন দিয়ে উপমা দিয়েছেন লেখক,, আমরা আমাদের বাস্তব জিবনের সাথে একবার মিলিয়ে দেখলেই বুঝতে পারব কি করার কথা আর কি করছি আমরা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
অসাধারণ! আল্লাহ বইটির লেখক সাজিদ ভাইকে উত্তম প্রতিদান দিক! আমীন। বইটি আমাদের জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। শুধু এটুকুই বললাম। বাকিটা পড়লেই বুঝতে পারবেন।
বইটিতে উৎসর্গ ছিল না, কিন্তু বই খুলে প্রথমেই উৎসর্গের জায়গায় এমন কিছু কথা চোখে পড়ল— যা যে কারো মন ভালো করে দেবে, স্বপ্ন দেখতে শিখাবে। কেউ কেউ হয়তো ভাববে, এমনও কি সম্ভব! জান্নাতী টঙ দোকানে বসে রাসূল ﷺ ,আবু বকর (রা.) ও উমর (রা.) আনহুমা এর সঙ্গে আড্ডা! ইশশ… ভাবলেই মনটা ভরে যায়। এই ছোট্ট অংশটুকু পড়েই বইটির প্রতি গভীর আগ্রহ জন্মাল। শুরু করলাম পড়া। কয়েকটি অধ্যায় শেষে বইটির প্রতি যেন মোহাবিষ্ট হয়ে গেলাম। শেষ করা পর্যন্ত ছিলাম এক অনির্বচনীয় ঘোরের মধ্যে।
পাপ-পঙ্কিলতার কারণে আমাদের ঈমানের সৌন্দর্য হারিয়ে যায়, ঈমানের প্রতিটি ভাঁজেই জমে ধুলো। তাই ঈমানকে সময় সময় শান দিতে হয়। এই বইটি যেন আমার জং ধরা ঈমানকে শান দেওয়ার কাজটিই করেছে। প্রতিটি অধ্যায় পাঠের পর হৃদয়ের গভীরে এক অবর্ণনীয় অনুভূতি এসে ভিড় জমিয়েছে।
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গতানুগতিক ইসলাম থেকে আমাদের বের করে প্রকৃত ইসলামের রাজপথে নিয়ে যাওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াসই এই বই। ছি বইটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল পড়ুয়াদের জন্য। লেখক নিজেও যেহেতু জেনারেল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন, তাই তিনি আমাদের মানসিকতা ও বাস্তব জীবনের চিত্রটা খুব সুন্দরভাবে ধরতে পেরেছেন। মনে হয়েছে, যেন আমাদেরই দৈনন্দিন দৃশ্যগুলো তিনি বইয়ের পাতায় এঁকে দিয়েছেন। আবার কখনো মনে হয়েছে, বইটি দুনিয়ার পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে পড়া পথিকদের জন্য; মোহ ও ফ্যান্টাসিতে হারিয়ে যাওয়া আত্মাগুলোর জন্য। এই বই শেখায় কিভাবে দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে সাহাবাদের মতো জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে লেখকের হৃদয় নিংড়ানো দুআগুলো অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলে। লেখকের ভাষা সহজ, সাবলীল, । কোথাও একঘেয়েমি লাগেনি; এক পাঠের পর এক পাঠ দ্রুতই শেষ হয়ে গিয়েছে। মোট ৫৫ টি শিরোনামে বইয়ের আলোচনাগুলো উঠে এসেছে। প্রচন্ড মন খারাপে হুট করে বসে পড়া যাবে এই পাঠগুলো- জান্নাতে কোনোদিন আমাদের মন খারাপ হবে না, লকডাউন, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, একটি লাভজনক ব্যবসা, শেষ কবে আপনি প্রিয় নবীর জন্য কেঁদেছেন, সত্যিকারের মৃত্যুর আগে এরা প্রতিদিন অনেকবার করে মরে! ইত্যাদি। __________________________________