What do you think?


ডাকাতরাজা - বিস্মৃত মল্লরাজ্যের রোমাঞ্চকর আখ্যান
বাংলার বুকে প্রায় এক হাজার বছর রাজত্ব করে গিয়েছে একটাই রাজবংশ, অথচ বিষ্ণুপুরের সেই মল্লরাজারা যেন বড় উপেক্ষিত, বড় অবহেলিত! শশাঙ্ক, বল্লাল সেন, লক্ষ্মণ সেন কিংবা প্রতাপাদিত্যদের ভিড়ে ইতিহাসের বইতে ঠাঁই মেলে না মল্লরাজাদের। অথচ তাঁদের রাজ্যশাসন, প্রজাবাৎসল্য, সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা গর্বিত করতে পারে যে কোন বাঙালিকে!
প্রকাণ্ড ক্যানভাসে যুদ্ধ রাজা নারী সমাজ সম্বলিত এই বিশাল ঐতিহাসিক
উপন্যাসের কথা ছড়িয়ে দেওয়া উচিৎ বাংলার মানুষের মধ্যে। বিশেষত বাঁকুড়াবাসীদের মধ্যে। প্রত্যেকটি বাঙালির জানা উচিৎ এই অদ্ভুত রাজার কথা!
আছেন মল্লরাজ বীরহাম্বীর, আছেন কালাপাহাড়, আছেন শ্রীনিবাস বাচস্পতি। আছেন আরো অনেকে। রোমহর্ষক এই সুবিশাল ইতিহাস সুরভিত উপন্যাস রাঢ় বাংলার এক ঐতিহাসিক দলিল!
প্রকাণ্ড ক্যানভাসে যুদ্ধ রাজা নারী সমাজ সম্বলিত এই বিশাল ঐতিহাসিক
উপন্যাসের কথা ছড়িয়ে দেওয়া উচিৎ বাংলার মানুষের মধ্যে। বিশেষত বাঁকুড়াবাসীদের মধ্যে। প্রত্যেকটি বাঙালির জানা উচিৎ এই অদ্ভুত রাজার কথা!
আছেন মল্লরাজ বীরহাম্বীর, আছেন কালাপাহাড়, আছেন শ্রীনিবাস বাচস্পতি। আছেন আরো অনেকে। রোমহর্ষক এই সুবিশাল ইতিহাস সুরভিত উপন্যাস রাঢ় বাংলার এক ঐতিহাসিক দলিল!
- GenresHistorical Fiction
255 pages, Hardcover
Published August 21, 2021
About the author
Debarati Mukhopadhyay
62 books384 followersDebarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
For more details, please visit: www.authordebarati.com
Her famous novels: Narach, Dakatraja, Shikhandi, Aghore Ghumiye Shib, Narak Sanket, Ishwar Jakhan Bandi, Diotima, Dashgupta Travels, Hariye Jaoa Khunira, Babu O Barbanita etc.
Significant Awards: Indian Express Devi Award, 2022, Tagore Samman, Most Inspirational Lady 2022, Sera Kathak Samman etc.
For more details, visit official website: http://www.authordebarati.com
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
For more details, please visit: www.authordebarati.com
Her famous novels: Narach, Dakatraja, Shikhandi, Aghore Ghumiye Shib, Narak Sanket, Ishwar Jakhan Bandi, Diotima, Dashgupta Travels, Hariye Jaoa Khunira, Babu O Barbanita etc.
Significant Awards: Indian Express Devi Award, 2022, Tagore Samman, Most Inspirational Lady 2022, Sera Kathak Samman etc.
For more details, visit official website: http://www.authordebarati.com
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 57 reviews
October 7, 2022
আহা, কি পড়লাম! কয়েক ঘন্টার জন্য চলে গিয়েছিলাম পাচশ বছর আগের সেই সময়ে৷ প্রতিটি চরিত্র মনে দাগ কেটে গিয়েছে। তেমনিই লেখনি। লেখিকার নারাচ পড়েই ওনার ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম, এবারে সেই ভালোলাগা আরো বহুগুনে বেড়ে গেলো।
March 27, 2025
মল্ল রাজবংশ ও সুলতান দাউদ কররানির সিপাহশালার(সেনাপতির সমতুল্য পদ) 'কালাপাহাড়' ওরফে হিন্দু হতে মুসলিম ধর্মান্তরিত মোহাম্মদ ফারমুলী এই উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র। বাংলার ইতিহাসে কালাপাহাড় কুখ্যাত এক চরিত্র। ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান রাজীবলোচন ব্যক্তিগত অপমানের প্রতিশোধে হিন্দু বিদ্বেষী হয়ে উঠে ধ্বংস করেছিলেন প্রচুর মন্দির, হিন্দু জনপদ।ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস এটি। লেখিকার লেখার ধরণ খুব ভালো লেগেছে আমার। প্রাচীন রাজবংশ রিলেটেড গল্প ভালো লাগলে মাস্ট রিড।
Read
August 30, 2021#পাঠ_প্রতিক্রিয়া
#দেবারতি_মুখোপাধ্যায়ের_ডাকাতরাজা
প্রথমেই বলি অনেকদিন পরে আবার একটানা কোনো উপন্যাস পড়লাম। ছয়মাসের মেয়েকে সামলেও দেড় দিনের মধ্যে যে ২৪৮ পৃষ্ঠার 'ডাকাতরাজা' শেষ করতে পারবো সত্যিই ভাবিনি। কিন্তু ওই যে লেখিকার নাম যখন দেবারতি মুখোপাধ্যায় আর উপন্যাসের পটভূমি আমার জন্মভূমি তথা বাসভূমি তখন তো বাকি আর কিছু বলার থাকে না।
'ডাকাতরাজা' সম্পর্কে বিস্তারিত বলার আগে এটুকুই বলবো এই উপন্যাসের প্রত্যেকটি চরিত্রকে আমি সামনাসামনি প্রত্যক্ষ করেছি। কারণ ডাকাতরাজার পটভূমি শুধু আমার হাতের তালুর মতো চেনাই নয়, আমি বড়ো হয়েছি এখানেই। তখন তো এসব স্থাপত্যে না ছিল পাহারা, না ছিল কোনো রকম রক্ষণাবেক্ষণ! ট্যুরিষ্টও হাতেগোনা! ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতাম।
আমার হাঁটতে শেখা, সাইকেল থেকে স্কুটি শেখা সবই ওই দুই দুর্গতোরণের মাঝের রাস্তাতে। বিকেল হলেই খেলার জায়গা ছিল রাজদরবারের আশেপাশের কোনো মন্দির প্রাঙ্গন। তাই উপন্যাসে বর্ণিত সুউচ্চ প্রাচীর ঘেরা মল্লরাজবাড়ি, মৃন্ময়ী মায়ের মন্দির, প্রাচীন বটবৃক্ষ, পশ্চিমের পুষ্করিণী, তার পাড়ে বর্তমানে ভাঙ্গাচোরা রাণীদের মহল, বড়ো পাথরদরজা, ছোটো পাথর দরজা, দুই দরজার মাঝের খাত, জলদুর্গ, পরিখা, দলমাদল কামান থেকে মল্লেশ্বর শিবের মন্দির, বিড়াই নদী থেকে শ্মশান ঘাট, মিউজিয়াম অর্থাৎ যোগেশচন্দ্র পুরাকীর্তি ভবন, বিষ্ণুপুরের প্রতিটা ওলিগলি, পাড়া এতোই কাছ থেকে দেখেছি ডাকাতরাজার সবটাই চোখে সিনেমার মতো ভাসছে।
ডাকাতরাজা যদিও লেখিকার কল্পনামিশ্রিত ইতিহাসআশ্রিত উপন্যাস তবুও এমন অনেক বিষ্ণুপুরের জানা অজানা তথ্য মিলেমিশে রয়েছে যা মনকে নতুন করে নাড়া দিতে বাধ্য। দশাবতার তাস বারবার দেখলেও প্রকৃত খেলাটা এতোদিন ঠিক মতো জানা হয়ে উঠেনি। আজ অনেকটা ধারণা তৈরি হলো। বিষ্ণুপুরের মাটিতে শ্রীনিবাস আচার্যের পদার্পণ, পুঁথি অপহরণের কাহিনী মাস্টার্সের সিলেবাসেও পড়েছিলাম, কিন্তু মল্লভূমের সাথে ওনার এভাবে একাত্ম হয়ে ওঠার কাহিনী জানা ছিল না। কৃষ্ণপ্রেমের সাথে সাথে ওনার দর্শন, রণনীতি, দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা বারবার যেন মৌর্য যুগের চাণক্যকেই মনে করিয়ে দেয়। ওনার সম্পর্কে পড়ে শুধু মুগ্ধই হইনি, জানার আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে।
মহারাজ বীরহাম্বিরকে নিয়ে আর নতুন করে কি বলবো! বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নেওয়ার পর থেকে ওনার জীবনালেখ্য সম্রাট অশোকের মতোই যে পরিবর্তিত হয়েছিল তা লোকমুখে অনেকবার শুনেছি। কিন্তু এভাবে গল্পের স্রোতে তার জীবনকে উপলব্ধি করার সৌভাগ্য প্রথমবার হলো।
'ডাকাতরাজা' শেষ উনপঞ্চাশতম মল্লরাজ বীরসিংহের জীবনের উপরেই পুরোপুরি আধারিত। বাকি চরিত্ররাও এই ডাকাতরাজাকে কেন্দ্র করেই উপস্থিত হয়েছে। কালাপাহাড়কে আলাদা ভাবে জানতে পারাটা যদিও কিছুটা বাড়তি পাওনা তবুও মনে হয়েছে পরিসরটা আরো একটু বিস্তৃত হলে হয়তো আরো বেশি ভালো লাগতো। কারণ মল্লরাজাদের স্থাপত্যকীর্তি, শতাব্দী প্রাচীন বিভিন্ন রেওয়াজ, ঐতিহ্যবাহী পরম্পরা বা আরো যা কিছু লোকশ্রুতি আছে তা যে রীতিমতো শিহরণ জাগানো বলার অপেক্ষা রাখেনা। সেদিক থেকে ভাবলে মনে হবে যেন খুব কমটুকুই পড়লাম। ডাকাতরাজা শুরু হচ্ছে প্রথম মল্লরাজ আদি রঘুনাথের আমল থেকে সাড়ে আটশো বছর পরে। অবশ্য খুব স্বাভাবিক ভাবেই তেরোশো বছরের বেশি রাজত্ব করা এক রাজবংশের কতটুকু কাহিনীই বা একটি উপন্যাসে লিপিবদ্ধ করা যায়!
তবে স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ডাকাতরাজা যত পড়েছি রোমাঞ্চিত হয়েছি আর টানটান উত্তেজনা নিয়ে কোনো এক সম্মোহনী ক্ষমতার বলে শুধু পাতার পরে পাতা এগিয়ে গেছি।
মহারানী শিরোমণি, মনোহরা, মেনকা, রুদ্রাক্ষ প্রায় প্রত্যেকের চরিত্র মনের মধ্যে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। খলচরিত্রগুলিও কম নয়। মাধব মল্ল থেকে জগতকুমার, ছড়াকার কেশব বা প্রধানমন্ত্রী জিমূতবাহন, প্রত্যেকের লোভ, লালসা, প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকরার পরিণাম যে অল্পপরিসরের মধ্যে গাঁথা হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়! প্রায় চারশো বছর আগের এক অধ্যায়ের সাথে এতোটাই জড়িয়ে গেছিলাম যে রাজকুমার শীতলের মৃত্যুটা মেনে নিতে বড্ড কষ্ট হচ্ছিল! যদিও ইতিহাসকে অস্বীকার করার উপায় নেই। হয়তো বেশিরভাগ চরিত্র লেখিকার কল্পনাতে সৃষ্টি, তবুও সেই কল্পনার সাথে ইতিহাসের এইভাবে মিলেমিশে যাওয়াই 'ডাকাতরাজা'র সবচেয়ে বড়ো স্বার্থকতা।
উপন্যাসের কয়েকটা মন ছুঁয়ে যাওয়া অংশ বিশেষ ভাবে না উল্লেখ করলেই নয়। কারণ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও প্রতিটি ঘটনার যথেষ্ট প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। তার মধ্যে প্রধানতম বীরহাম্বিরের কন্যা শ্যামাকুমারীর জন্মমুহূর্ত। যেখানে রাজপরিবারে পুত্রের জন্মই শুধু শুভ মানা হয় সেখানে মহারাজা রাজপন্ডিতমশাই সহ সবার অমতে গিয়ে কন্যার জন্মতিথিতে মল্লেশ্বর মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপন ও ত্রিশদিন ব্যাপি অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন। শূদ্র পুত্র পবনের সাথে রাজকুমার রঘুনাথের সখ্যতা, চতুষ্পাঠীর দ্বাররক্ষক হয়েও পবনের শিক্ষা অধ্যায়ণের আকাঙখা, দূর থেকে পাঠদান শুনেও তার শাস্ত্রজ্ঞান একলব্যকেই যেন মনে করিয়ে দেয়। চারশো বছর আগে দাঁড়িয়ে রাজকুমার শীতলের তার স্ত্রী মনোহরার প্রতি মুক্তমনা মনোভাব, হেরে পর্বতে দশাবতার খেলায় রাজপরিবারের বধূকে নিয়ে যাওয়ার সাহস বা রাজা বীরহাম্বিরের তার কন্যাকে নিয়ে উজবেকিদের মতো বড়ো করার মনোবাঞ্ছা নিঃসন্দেহে আজকের যুগেও অন্য মাত্রা দেয়। উপন্যাস জুড়ে যেই মেনকা কেশব ছড়াকারকে নিয়ে প্রেমের মোহতে আবেগে ভেসেছে শেষ অবধি মল্লভূমের হিতে তাকে নিজহস্তে হত্যার সিদ্ধান্ত যেন একজন সাধারণ রমনীকেও বীরাঙ্গনা করে তুলেছে। আশ্রয়দাত্রী মল্লভূমের প্রতি তার ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা, আত্মত্যাগ অবশ্যই ভাবতে বাধ্য করে।
বলার অপেক্ষা রাখে না লেখিকা প্রতিটি বইই অনেক রিসার্চের পরে লিখেন। ডাকাতরাজাও সেরকমই। শুধু তথ্য সমৃদ্ধই নয়, একদিকে যেমন এই উপন্যাসেও রয়েছে নারাচের মতোই নানান সংস্কৃত শ্লোকের ভাবার্থ, তেমনই অনেক চলতি ছড়া, যার কিছু রাঢ় অঞ্চলের মানুষের একসময় মুখে মুখে শোনা যেত। শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিগীতি থেকে ভাদুগান কিছুই বাদ যায়নি দুই মলাটে। তবুও মনের মধ্যে কোথাও একটা অতৃপ্তি বোধ হচ্ছিল।
তেরোশো বছরেরও বেশি সময়কাল ধরে রাজত্ব করা মল্লরাজবংশের পরম্পরা আজও মল্লভূমের মাটিতে একইরকম ভাবে যে বিরাজমান তা মা মৃন্ময়ী পুজোর সময়েই বোঝা যায়। দূর্গাষ্টমীর সন্ধিক্ষণে ঐতিহ্যবাহী কামানদাগার কথা তো কারোরই অজানা নয়। পটে আঁকা তিন ঠাকুরণীর পুজো, নবমীতে খচ্চরবাহিনীর বিশেষ পুজো, রাবনকাটা নৃত্য, নীলকন্ঠ পাখিকে উড়িয়ে দেওয়ার রেওয়াজ আজও চলছে। তাছাড়াও মদনমোহনের মাহাত্ম্য, বালুচরী শাড়ি, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, দলমাদল কামান নিয়ে যেসব জনশ্রুতি রয়েছে, রাসমঞ্চ, জোড়বাংলো সহ অন্যান্য মন্দির ও বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন বাঁধের ইতিহাস বৃত্তান্ত অনেক কিছুই উপন্যাসে অধরা! একটি সল্প পরিসরেই লেখিকাকে বাঁধতে হয়েছে কলম।
আসলে বিষ্ণুপুরবাসী বলেই হয়তো উপন্যাসের শেষেও বারবার মনে হচ্ছে আরো বেশি যদি হতো! আরো কিছু যদি পড়তে পারতাম! বিশেষ করে বালক রঘুনাথকে আমরা এই উপন্যাসে পাচ্ছি, ওনার রাজা হওয়ার আগেই উপন্যাস শেষ হয়ে হচ্ছে। যেখানে রাজা রঘুনাথের জীবন অনেক বেশি বর্ণময় ও আকর্ষণীয়, সেই নিয়েও কিছু পেলে আরো ভালো লাগতো।
ডাকাতরাজার ক্লাইম্যাক্স নিয়ে অবশ্য কিছু বলবো না। কারণ লেখিকা যেই চমকপ্রদ মোড়ে নিয়ে গিয়ে উপন্যাসটি শেষ করেছেন, সেটিই ওনার বিশিষ্টতা। প্রতিবার এভাবেই উনি নিজের রেকর্ড নিজেই ছাপিয়ে যান। ওনার হস্তাক্ষর বইয়ে না থাকলেও ওনার স্বাক্ষর ঠিক উনি লেখাতে রেখে যান।
যেই ধর্মউদারতা নিয়ে লেখিকা 'অঘোরে ঘুমিয়ে শিব' শেষ করেছিলেন, আজ আরেকবার ডাকাতরাজাতেও তাই দেখতে পেলাম। মল্লরাজাদের ধর্মনিরপেক্ষতা, সহনশীলতা, সর্বোপরি বিষ্ণুপুরের অধিবাসীদের সেই সুপ্রাচীনকাল থেকে হিন্দু মুসলিম ঐক্যের মাঝে কোথাও যেন লেখিকার ভাবনাও মিলেমিশে এক হয়ে গেছে।
শুধু দুয়েক জায়গাতে আরেকটু মিল থাকলে ভালো হতো মনে হয়েছে। মেনকার পাঠানো কবুতুর দূতের শেষ বার্তাতে শ্রীধরের উদ্দেশ্যে কি লেখা ছিল! রঘুনাথ রাজা হলে রাজপন্ডিতমশাই শ্রীব্যাস আচার্যের জন্য কোনো দন্ড দেওয়া হয়েছিল কিনা! ১৮২ পাতাতে বড় পাথর দরজার আড়ালি দেওয়াল হবে, ছোটো আর বড়োতে সম্ভবত উল্টোপাল্টা হয়েছে। আর সামান্য কিছু ছাপার ভুল রয়েছে।
পত্রভারতীর কভার পেজ কোয়ালিটি তো এমনিতেই অসাধারণ। আর ডাকাতরাজার প্রচ্ছদে ডাকাতরাজাই যেখানে বিরাজমান সেখানে আর তো কিছু বলারই নেই।
পরিশেষে বলবো বিষ্ণুপুর নিয়ে লেখক রমাপদ চৌধুরীর 'লালবাঈ' পড়েছিলাম, আজ প্রিয় লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের 'ডাকাতরাজা' পড়লাম। দুটিই নিজের জায়গাতে অনবদ্য। আমাদের মন্দিরনগরীকে নিয়ে এরকম উপন্যাস আরো আসুক, বাংলার বিস্মৃতপ্রায় মল্লরাজাদের গৌরবান্বিত শাসনের কাহিনী আরো বেশি মানুষ জানুক, বাংলা তথা ভারতের গর্ব আমাদের বিষ্ণুপুরকে পৃথিবীর সকল মানুষ চিনুক, একজন সাধারণ মল্লভূমের বাসিন্দা হিসেবে এটাই সব সময় চাইবো।
অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়কে আমাদের প্রাণের শহর বিষ্ণুপুরকে এই 'ডাকাতরাজা' উপহার দেওয়ার জন্য। 🙏
©প্রতীতি চৌধুরী।
#দেবারতি_মুখোপাধ্যায়ের_ডাকাতরাজা
প্রথমেই বলি অনেকদিন পরে আবার একটানা কোনো উপন্যাস পড়লাম। ছয়মাসের মেয়েকে সামলেও দেড় দিনের মধ্যে যে ২৪৮ পৃষ্ঠার 'ডাকাতরাজা' শেষ করতে পারবো সত্যিই ভাবিনি। কিন্তু ওই যে লেখিকার নাম যখন দেবারতি মুখোপাধ্যায় আর উপন্যাসের পটভূমি আমার জন্মভূমি তথা বাসভূমি তখন তো বাকি আর কিছু বলার থাকে না।
'ডাকাতরাজা' সম্পর্কে বিস্তারিত বলার আগে এটুকুই বলবো এই উপন্যাসের প্রত্যেকটি চরিত্রকে আমি সামনাসামনি প্রত্যক্ষ করেছি। কারণ ডাকাতরাজার পটভূমি শুধু আমার হাতের তালুর মতো চেনাই নয়, আমি বড়ো হয়েছি এখানেই। তখন তো এসব স্থাপত্যে না ছিল পাহারা, না ছিল কোনো রকম রক্ষণাবেক্ষণ! ট্যুরিষ্টও হাতেগোনা! ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতাম।
আমার হাঁটতে শেখা, সাইকেল থেকে স্কুটি শেখা সবই ওই দুই দুর্গতোরণের মাঝের রাস্তাতে। বিকেল হলেই খেলার জায়গা ছিল রাজদরবারের আশেপাশের কোনো মন্দির প্রাঙ্গন। তাই উপন্যাসে বর্ণিত সুউচ্চ প্রাচীর ঘেরা মল্লরাজবাড়ি, মৃন্ময়ী মায়ের মন্দির, প্রাচীন বটবৃক্ষ, পশ্চিমের পুষ্করিণী, তার পাড়ে বর্তমানে ভাঙ্গাচোরা রাণীদের মহল, বড়ো পাথরদরজা, ছোটো পাথর দরজা, দুই দরজার মাঝের খাত, জলদুর্গ, পরিখা, দলমাদল কামান থেকে মল্লেশ্বর শিবের মন্দির, বিড়াই নদী থেকে শ্মশান ঘাট, মিউজিয়াম অর্থাৎ যোগেশচন্দ্র পুরাকীর্তি ভবন, বিষ্ণুপুরের প্রতিটা ওলিগলি, পাড়া এতোই কাছ থেকে দেখেছি ডাকাতরাজার সবটাই চোখে সিনেমার মতো ভাসছে।
ডাকাতরাজা যদিও লেখিকার কল্পনামিশ্রিত ইতিহাসআশ্রিত উপন্যাস তবুও এমন অনেক বিষ্ণুপুরের জানা অজানা তথ্য মিলেমিশে রয়েছে যা মনকে নতুন করে নাড়া দিতে বাধ্য। দশাবতার তাস বারবার দেখলেও প্রকৃত খেলাটা এতোদিন ঠিক মতো জানা হয়ে উঠেনি। আজ অনেকটা ধারণা তৈরি হলো। বিষ্ণুপুরের মাটিতে শ্রীনিবাস আচার্যের পদার্পণ, পুঁথি অপহরণের কাহিনী মাস্টার্সের সিলেবাসেও পড়েছিলাম, কিন্তু মল্লভূমের সাথে ওনার এভাবে একাত্ম হয়ে ওঠার কাহিনী জানা ছিল না। কৃষ্ণপ্রেমের সাথে সাথে ওনার দর্শন, রণনীতি, দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা বারবার যেন মৌর্য যুগের চাণক্যকেই মনে করিয়ে দেয়। ওনার সম্পর্কে পড়ে শুধু মুগ্ধই হইনি, জানার আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে।
মহারাজ বীরহাম্বিরকে নিয়ে আর নতুন করে কি বলবো! বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নেওয়ার পর থেকে ওনার জীবনালেখ্য সম্রাট অশোকের মতোই যে পরিবর্তিত হয়েছিল তা লোকমুখে অনেকবার শুনেছি। কিন্তু এভাবে গল্পের স্রোতে তার জীবনকে উপলব্ধি করার সৌভাগ্য প্রথমবার হলো।
'ডাকাতরাজা' শেষ উনপঞ্চাশতম মল্লরাজ বীরসিংহের জীবনের উপরেই পুরোপুরি আধারিত। বাকি চরিত্ররাও এই ডাকাতরাজাকে কেন্দ্র করেই উপস্থিত হয়েছে। কালাপাহাড়কে আলাদা ভাবে জানতে পারাটা যদিও কিছুটা বাড়তি পাওনা তবুও মনে হয়েছে পরিসরটা আরো একটু বিস্তৃত হলে হয়তো আরো বেশি ভালো লাগতো। কারণ মল্লরাজাদের স্থাপত্যকীর্তি, শতাব্দী প্রাচীন বিভিন্ন রেওয়াজ, ঐতিহ্যবাহী পরম্পরা বা আরো যা কিছু লোকশ্রুতি আছে তা যে রীতিমতো শিহরণ জাগানো বলার অপেক্ষা রাখেনা। সেদিক থেকে ভাবলে মনে হবে যেন খুব কমটুকুই পড়লাম। ডাকাতরাজা শুরু হচ্ছে প্রথম মল্লরাজ আদি রঘুনাথের আমল থেকে সাড়ে আটশো বছর পরে। অবশ্য খুব স্বাভাবিক ভাবেই তেরোশো বছরের বেশি রাজত্ব করা এক রাজবংশের কতটুকু কাহিনীই বা একটি উপন্যাসে লিপিবদ্ধ করা যায়!
তবে স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ডাকাতরাজা যত পড়েছি রোমাঞ্চিত হয়েছি আর টানটান উত্তেজনা নিয়ে কোনো এক সম্মোহনী ক্ষমতার বলে শুধু পাতার পরে পাতা এগিয়ে গেছি।
মহারানী শিরোমণি, মনোহরা, মেনকা, রুদ্রাক্ষ প্রায় প্রত্যেকের চরিত্র মনের মধ্যে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। খলচরিত্রগুলিও কম নয়। মাধব মল্ল থেকে জগতকুমার, ছড়াকার কেশব বা প্রধানমন্ত্রী জিমূতবাহন, প্রত্যেকের লোভ, লালসা, প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকরার পরিণাম যে অল্পপরিসরের মধ্যে গাঁথা হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়! প্রায় চারশো বছর আগের এক অধ্যায়ের সাথে এতোটাই জড়িয়ে গেছিলাম যে রাজকুমার শীতলের মৃত্যুটা মেনে নিতে বড্ড কষ্ট হচ্ছিল! যদিও ইতিহাসকে অস্বীকার করার উপায় নেই। হয়তো বেশিরভাগ চরিত্র লেখিকার কল্পনাতে সৃষ্টি, তবুও সেই কল্পনার সাথে ইতিহাসের এইভাবে মিলেমিশে যাওয়াই 'ডাকাতরাজা'র সবচেয়ে বড়ো স্বার্থকতা।
উপন্যাসের কয়েকটা মন ছুঁয়ে যাওয়া অংশ বিশেষ ভাবে না উল্লেখ করলেই নয়। কারণ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও প্রতিটি ঘটনার যথেষ্ট প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। তার মধ্যে প্রধানতম বীরহাম্বিরের কন্যা শ্যামাকুমারীর জন্মমুহূর্ত। যেখানে রাজপরিবারে পুত্রের জন্মই শুধু শুভ মানা হয় সেখানে মহারাজা রাজপন্ডিতমশাই সহ সবার অমতে গিয়ে কন্যার জন্মতিথিতে মল্লেশ্বর মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপন ও ত্রিশদিন ব্যাপি অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন। শূদ্র পুত্র পবনের সাথে রাজকুমার রঘুনাথের সখ্যতা, চতুষ্পাঠীর দ্বাররক্ষক হয়েও পবনের শিক্ষা অধ্যায়ণের আকাঙখা, দূর থেকে পাঠদান শুনেও তার শাস্ত্রজ্ঞান একলব্যকেই যেন মনে করিয়ে দেয়। চারশো বছর আগে দাঁড়িয়ে রাজকুমার শীতলের তার স্ত্রী মনোহরার প্রতি মুক্তমনা মনোভাব, হেরে পর্বতে দশাবতার খেলায় রাজপরিবারের বধূকে নিয়ে যাওয়ার সাহস বা রাজা বীরহাম্বিরের তার কন্যাকে নিয়ে উজবেকিদের মতো বড়ো করার মনোবাঞ্ছা নিঃসন্দেহে আজকের যুগেও অন্য মাত্রা দেয়। উপন্যাস জুড়ে যেই মেনকা কেশব ছড়াকারকে নিয়ে প্রেমের মোহতে আবেগে ভেসেছে শেষ অবধি মল্লভূমের হিতে তাকে নিজহস্তে হত্যার সিদ্ধান্ত যেন একজন সাধারণ রমনীকেও বীরাঙ্গনা করে তুলেছে। আশ্রয়দাত্রী মল্লভূমের প্রতি তার ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা, আত্মত্যাগ অবশ্যই ভাবতে বাধ্য করে।
বলার অপেক্ষা রাখে না লেখিকা প্রতিটি বইই অনেক রিসার্চের পরে লিখেন। ডাকাতরাজাও সেরকমই। শুধু তথ্য সমৃদ্ধই নয়, একদিকে যেমন এই উপন্যাসেও রয়েছে নারাচের মতোই নানান সংস্কৃত শ্লোকের ভাবার্থ, তেমনই অনেক চলতি ছড়া, যার কিছু রাঢ় অঞ্চলের মানুষের একসময় মুখে মুখে শোনা যেত। শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিগীতি থেকে ভাদুগান কিছুই বাদ যায়নি দুই মলাটে। তবুও মনের মধ্যে কোথাও একটা অতৃপ্তি বোধ হচ্ছিল।
তেরোশো বছরেরও বেশি সময়কাল ধরে রাজত্ব করা মল্লরাজবংশের পরম্পরা আজও মল্লভূমের মাটিতে একইরকম ভাবে যে বিরাজমান তা মা মৃন্ময়ী পুজোর সময়েই বোঝা যায়। দূর্গাষ্টমীর সন্ধিক্ষণে ঐতিহ্যবাহী কামানদাগার কথা তো কারোরই অজানা নয়। পটে আঁকা তিন ঠাকুরণীর পুজো, নবমীতে খচ্চরবাহিনীর বিশেষ পুজো, রাবনকাটা নৃত্য, নীলকন্ঠ পাখিকে উড়িয়ে দেওয়ার রেওয়াজ আজও চলছে। তাছাড়াও মদনমোহনের মাহাত্ম্য, বালুচরী শাড়ি, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, দলমাদল কামান নিয়ে যেসব জনশ্রুতি রয়েছে, রাসমঞ্চ, জোড়বাংলো সহ অন্যান্য মন্দির ও বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন বাঁধের ইতিহাস বৃত্তান্ত অনেক কিছুই উপন্যাসে অধরা! একটি সল্প পরিসরেই লেখিকাকে বাঁধতে হয়েছে কলম।
আসলে বিষ্ণুপুরবাসী বলেই হয়তো উপন্যাসের শেষেও বারবার মনে হচ্ছে আরো বেশি যদি হতো! আরো কিছু যদি পড়তে পারতাম! বিশেষ করে বালক রঘুনাথকে আমরা এই উপন্যাসে পাচ্ছি, ওনার রাজা হওয়ার আগেই উপন্যাস শেষ হয়ে হচ্ছে। যেখানে রাজা রঘুনাথের জীবন অনেক বেশি বর্ণময় ও আকর্ষণীয়, সেই নিয়েও কিছু পেলে আরো ভালো লাগতো।
ডাকাতরাজার ক্লাইম্যাক্স নিয়ে অবশ্য কিছু বলবো না। কারণ লেখিকা যেই চমকপ্রদ মোড়ে নিয়ে গিয়ে উপন্যাসটি শেষ করেছেন, সেটিই ওনার বিশিষ্টতা। প্রতিবার এভাবেই উনি নিজের রেকর্ড নিজেই ছাপিয়ে যান। ওনার হস্তাক্ষর বইয়ে না থাকলেও ওনার স্বাক্ষর ঠিক উনি লেখাতে রেখে যান।
যেই ধর্মউদারতা নিয়ে লেখিকা 'অঘোরে ঘুমিয়ে শিব' শেষ করেছিলেন, আজ আরেকবার ডাকাতরাজাতেও তাই দেখতে পেলাম। মল্লরাজাদের ধর্মনিরপেক্ষতা, সহনশীলতা, সর্বোপরি বিষ্ণুপুরের অধিবাসীদের সেই সুপ্রাচীনকাল থেকে হিন্দু মুসলিম ঐক্যের মাঝে কোথাও যেন লেখিকার ভাবনাও মিলেমিশে এক হয়ে গেছে।
শুধু দুয়েক জায়গাতে আরেকটু মিল থাকলে ভালো হতো মনে হয়েছে। মেনকার পাঠানো কবুতুর দূতের শেষ বার্তাতে শ্রীধরের উদ্দেশ্যে কি লেখা ছিল! রঘুনাথ রাজা হলে রাজপন্ডিতমশাই শ্রীব্যাস আচার্যের জন্য কোনো দন্ড দেওয়া হয়েছিল কিনা! ১৮২ পাতাতে বড় পাথর দরজার আড়ালি দেওয়াল হবে, ছোটো আর বড়োতে সম্ভবত উল্টোপাল্টা হয়েছে। আর সামান্য কিছু ছাপার ভুল রয়েছে।
পত্রভারতীর কভার পেজ কোয়ালিটি তো এমনিতেই অসাধারণ। আর ডাকাতরাজার প্রচ্ছদে ডাকাতরাজাই যেখানে বিরাজমান সেখানে আর তো কিছু বলারই নেই।
পরিশেষে বলবো বিষ্ণুপুর নিয়ে লেখক রমাপদ চৌধুরীর 'লালবাঈ' পড়েছিলাম, আজ প্রিয় লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের 'ডাকাতরাজা' পড়লাম। দুটিই নিজের জায়গাতে অনবদ্য। আমাদের মন্দিরনগরীকে নিয়ে এরকম উপন্যাস আরো আসুক, বাংলার বিস্মৃতপ্রায় মল্লরাজাদের গৌরবান্বিত শাসনের কাহিনী আরো বেশি মানুষ জানুক, বাংলা তথা ভারতের গর্ব আমাদের বিষ্ণুপুরকে পৃথিবীর সকল মানুষ চিনুক, একজন সাধারণ মল্লভূমের বাসিন্দা হিসেবে এটাই সব সময় চাইবো।
অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়কে আমাদের প্রাণের শহর বিষ্ণুপুরকে এই 'ডাকাতরাজা' উপহার দেওয়ার জন্য। 🙏
©প্রতীতি চৌধুরী।
June 20, 2022
উনপঞ্চাশ তম মল্লরাজ বীরহাম্বরীর জীবন নিয়ে লেখা এই উপন্যাসের মাধ্যমে জানা যায় বাংলার ইতিহাসের এক দীর্ঘতম রাজবংশের ইতিহাস। লেখকের ভাষ্য অনুসারে এই মল্লরাজবংশ প্রায় এক হাজার বছর ধরে শাসন করে তাদের মল্লরাজ্য। ৬৯৪ সাল থেকে শুরু করে ১৯৮৩ সাল অব্দি তাদের রাজ্যশাসনের কথা শোনা যায়। আসলে রাজ্য বললেও মূলত তারা ছিল বিষ্ণুপুরের ভূস্বামী বা জমিদার। মোঘল শাসনামলের বিখ্যাত বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম ছিল বিষ্ণুপুরের এর বীর হাম্বরী। প্রকৃত নাম বীরসিংহ হলেও মোগলদের বিরুদ্ধে তার পরাক্রম ও সাহসিকতার দরুন বীর হাম্বরী নামেই ইতিহাসেত পাতায় পরিচিত। ডাকাতরাজা উপাধির পেছনেও মোগল শাসনের বিরোধিতা প্রচ্ছন্ন ভূমিকা আছে। মোগল সম্রাটের সাথে শান্তি চুক্তি হওয়া স্বত্ত্বেও বীরহাম্বরী ঠিকমতো রাজস্ব প্রদান করতো না সম্রাটকে। মাঝে মধ্যে রাজস্ব প্রদান করলেও সম্রাটের লোক খাজনা নিয়ে বিষ্ণুপুর ত্যাগ করার দাথে সাথে নিজস্ব গোপন দস্যুবাহিনী দ্বারা সেই অর্থ-সম্পদ লুট করা হতো। মল্লরাজবংশ বীর হাম্বরীর সাথেই শেষ না হলেও এরপর আর উল্লেখযোগ্য কোন রাজা মল্লবংশের হাল ধরতে পারে নি।
এরপর আসি কালাপাহাড় প্রসংগে। কালাপাহাড়। নামটি সর্বপ্রথম শুনি ফেলুদার 'রয়েল বেঙ্গল রহস্য'এ। তার বাংলার অসংখ্য মন্দির ভাংগার বিষয়াবলী সম্পর্কে বিন্দুমাত্র আইডিয়া ছিল না। এই বই পড়ার পর তা মোটামুটি স্পষ্ট।
ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত হলেও এই বইয়ের ঐতিহাসিক মূল্য কতটুকু আছে তা ইতিহাসবিদরা বিচার করবেন। সাধারণ পাঠক হিসেবে খুবই ভাল লেগেছে বইটি। এরকম আকারের একটি বই পড়তে মোটামুটি ২-৩ দিন সময় লাগে। সেখানে এই বইটি শেষ করতে এক দিনেরও কম সময় লেগেছে। আর ৫০% পড়ার পর শেষ না করে উঠতে মন চাওয়ার কথা না। কাহিনীর ডিটেইলস কপচিয়ে লাভ নেই। এই বিশাল প্লট মুখে বলতেও কষ্ট হবে। সময় পেলে পড়ে নিয়েন।
এরপর আসি কালাপাহাড় প্রসংগে। কালাপাহাড়। নামটি সর্বপ্রথম শুনি ফেলুদার 'রয়েল বেঙ্গল রহস্য'এ। তার বাংলার অসংখ্য মন্দির ভাংগার বিষয়াবলী সম্পর্কে বিন্দুমাত্র আইডিয়া ছিল না। এই বই পড়ার পর তা মোটামুটি স্পষ্ট।
ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত হলেও এই বইয়ের ঐতিহাসিক মূল্য কতটুকু আছে তা ইতিহাসবিদরা বিচার করবেন। সাধারণ পাঠক হিসেবে খুবই ভাল লেগেছে বইটি। এরকম আকারের একটি বই পড়তে মোটামুটি ২-৩ দিন সময় লাগে। সেখানে এই বইটি শেষ করতে এক দিনেরও কম সময় লেগেছে। আর ৫০% পড়ার পর শেষ না করে উঠতে মন চাওয়ার কথা না। কাহিনীর ডিটেইলস কপচিয়ে লাভ নেই। এই বিশাল প্লট মুখে বলতেও কষ্ট হবে। সময় পেলে পড়ে নিয়েন।
September 10, 2021
প্রথমে ভাবছিলাম পড়বনা। না পড়লে অনেক লোকসান হয়ে যেত। এত ভালো একটা লেখা থেকে বঞ্চিত হতাম।
September 10, 2021
অসাধারণ তো বটেই, অসম্ভব ভালো লাগা, মন ছুঁয়ে যাওয়া, উপন্যাস টি পরে শেষ করার পর, ১ টি গোটা দিন শুধু " ডাকাত রাজা" য় ডুবে থাকা। যখন পড়ছিলাম, প্রতিটি চরিত্র চোখের সামনে ছিলো। তোমার কল্পনা মিশ্রিত বাস্তবের সাথে প্রতি মুহূর্তে মিশে গেলো আমার কল্পনা। উপন্যাসের সাথে মেলবন্ধন ঘটলো আমার কল্পনার ছায়াছবির। আরও আরও ডুবে যেতে লাগলাম " ডাকাত রাজায়" । উপন্যাস সমাপ্ত হোল, আমার ঘোর কাটলো, পুরো ১ দিন পর। মাথার মধ্যে, তখনও বীরহম্বির, শ্রীনিবাস আচার্য, জগত কুমার, রঘুনাথ, মেনকা, হেম নলিনী। সর্বোপরি বীরহাম্বির। বিষ্ণুপুর কে দেখলাম, নতুন চোখে, চিনলাম নতুন করে। মল্ল রাজবংশ কে চিনলাম, ডাকাত রাজার চোখে। যেটুকু জানতাম, সেটুকু, এর তুলনায় নগণ্য। সত্যিই ডাকাত রাজা ইতিহাস সুরভিত উপন্যাস। সেই উপন্যাস এর লেখনী, চিন্তা ধারা এবং গবেষণা এর কোনও তুলনা নেই। দেবারতী, তোমার তুলনা শুধু তুমিই। ভালো থাকো, সুস্থ thako। তোমার বাকি সব লেখাই পড়ার জন্য উৎসুক। এবং পড়েও নেব। জানি আবার নতুন করে সেই উপন্যাস এর লেখনী তে বুঁদ হয়ে থাকবো। পাঠকের মনে সেই জায়গা তৈরী করার ক্ষমতা রাখে , তোমার লেখনী। ❤️
April 10, 2023
রোমহর্ষক সুবিশাল ইতিহাস সুরভিত উপন্যাস রাঢ় বাংলার এক ঐতিহাসিক দলিল এই "ডাকাত রাজা"। বাংলায় হিন্দু শাসকদের নাম বললে শশাঙ্ক, বল্লাল সেন, লক্ষণ সেন, প্রতাপাদিত্যের কথা মাথায় আসে, কিন্তু বাংলার বুকে প্রায় এক হাজার বছর রাজত্ব করে গিয়েছে একটাই রাজবংশ- মন্দির নগরী বিষ্ণুপুরের মল্ল বংশ, যার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক বীর হাম্বির, তথা তদানীন্তন বারো ভূঁইয়া দের একজনের কথা যেন উপেক্ষিত থেকে যায়।
উপন্যাসের গতিপথে জানা যায় অশৌচ চলাকালীন রান্নায় হলুদ বর্জনের কারণ, মুসুরডাল কে আমিষ বলে গণ্য করার ইতিহাস।
রয়েছে কালাপাহাড় এর মতো চরিত্র, প্রথম জীবনে যাকে শ্রীচৈতন্যে দেবের সাক্ষাৎ রূপ মনে করা হত, সেই হিন্দু ব্রাহ্মণ রাজীবলোচন রায়ের ধর্মান্তরিত হয়ে বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভীষিকা মোহম্মদ ফারমুলি (কালাপাহাড়) হয়ে ওঠার কাহিনী। যার হাত থেকে রক্ষা পায়না কামরূপের কামাখ্যা থেকে উড়িষ্যার শ্রী ক্ষেত্রে জগন্নাথ ধাম। সেই বিধ্বংসী বাংলার সুবেদার সুলেমান কাররানির সেনাপতি কালাপাহাড় এবং মোঘল বাহিনীর হাত থেকে ছোট্ট অরণ্য রাজ্যটি রক্ষার জন্য মৃত্যুকে উপেক্ষা করে বিরহাম্বির যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এই উপন্যাস শুধু এক রাজার বীরত্বের কাহিনী নয়, এ এক সমগ্র বাঙালি জাতির গর্বের ইতিহাস।
অজানা ইতিহাস এর উপর আমার কৌতূহল বরাবরের। তাই কালাপাহাড় কে নিয়ে আগেও অনেক কিছু পড়েছিলাম, তাই লেখিকার বেশ কিছু বিবরণে যথেষ্ট খটকা লাগল, তবে ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাসে সেগুলো কে লেখিকার স্বাধীনতা হিসেবেই ধরলাম।
মন জয় করেছে আমার বিশেষত পবন আর শীতল কুমারের সাহস। এছাড়া মেনকার আত্মহূতিও মনে রাখার মতো।
যাঁর কথা না বললেই নয় - শ্রীনিবাস আচার্য, তাঁর কথা -প্রেমের বাণী শুনে ভক্তিরসে মন পরিশ্রত হতে বাধ্য। এভাবেও একজন দৈত্য কে ক্ষমা করে মানুষ করা যায়, অনুতাপের চেয়ে বড় শাস্তি আর কিছুতে নেয়, আর ক্ষমার চেয়ে শান্তি আর কিছুতে নেয়। সবশেষে শুধু মানবপ্রেম ই মহান, না জাতি না ধর্ম না ক্ষমতা......
উপন্যাসের গতিপথে জানা যায় অশৌচ চলাকালীন রান্নায় হলুদ বর্জনের কারণ, মুসুরডাল কে আমিষ বলে গণ্য করার ইতিহাস।
রয়েছে কালাপাহাড় এর মতো চরিত্র, প্রথম জীবনে যাকে শ্রীচৈতন্যে দেবের সাক্ষাৎ রূপ মনে করা হত, সেই হিন্দু ব্রাহ্মণ রাজীবলোচন রায়ের ধর্মান্তরিত হয়ে বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভীষিকা মোহম্মদ ফারমুলি (কালাপাহাড়) হয়ে ওঠার কাহিনী। যার হাত থেকে রক্ষা পায়না কামরূপের কামাখ্যা থেকে উড়িষ্যার শ্রী ক্ষেত্রে জগন্নাথ ধাম। সেই বিধ্বংসী বাংলার সুবেদার সুলেমান কাররানির সেনাপতি কালাপাহাড় এবং মোঘল বাহিনীর হাত থেকে ছোট্ট অরণ্য রাজ্যটি রক্ষার জন্য মৃত্যুকে উপেক্ষা করে বিরহাম্বির যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এই উপন্যাস শুধু এক রাজার বীরত্বের কাহিনী নয়, এ এক সমগ্র বাঙালি জাতির গর্বের ইতিহাস।
অজানা ইতিহাস এর উপর আমার কৌতূহল বরাবরের। তাই কালাপাহাড় কে নিয়ে আগেও অনেক কিছু পড়েছিলাম, তাই লেখিকার বেশ কিছু বিবরণে যথেষ্ট খটকা লাগল, তবে ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাসে সেগুলো কে লেখিকার স্বাধীনতা হিসেবেই ধরলাম।
মন জয় করেছে আমার বিশেষত পবন আর শীতল কুমারের সাহস। এছাড়া মেনকার আত্মহূতিও মনে রাখার মতো।
যাঁর কথা না বললেই নয় - শ্রীনিবাস আচার্য, তাঁর কথা -প্রেমের বাণী শুনে ভক্তিরসে মন পরিশ্রত হতে বাধ্য। এভাবেও একজন দৈত্য কে ক্ষমা করে মানুষ করা যায়, অনুতাপের চেয়ে বড় শাস্তি আর কিছুতে নেয়, আর ক্ষমার চেয়ে শান্তি আর কিছুতে নেয়। সবশেষে শুধু মানবপ্রেম ই মহান, না জাতি না ধর্ম না ক্ষমতা......
September 21, 2021
প্রসঙ্গ -‘ডাকাতরাজা’
একখানি সার্থক উপন্যাস,বিশেষত তা ঐতিহাসিক উপন্যাস
হলে,তা লিখতে লেখককে কত পরিশ্রম করতে হয়,সময় দিতে হয়,কতবার নাটকীয়তার নানা সম্ভাবনা বিচার করে ঘটনা গ্রহন বা বর্জন করতে হয়।এত পরিশ্রমের নবজাতক হল রচনাকার দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের সদ্যজাত ঐতিহাসিক উপন্যাস, ‘ডাকাতরাজা’। আজকের এই তাৎক্ষণিকতাকে সিদ্ধি জ্ঞান করা মুহুর্তে বাঁচা বাঙালীকে বাংলা উপন্যাস পড়ানো সন্দেহাতীতভাবে কঠিন কাজ; কিন্তু তৃষ্ণার্তের জলপানের মত সোৎসাহে অনায়াসে পড়ে ফেলা গেল এবং বই বন্ধ করার পরে চরিত্রদের সাথে সময়-সফর করে আসা পাঠক আবিষ্কার করে যে সেও মন্দির-নগরী মল্লভূমির সুখ-দুখ,প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি,রাজনীতি,জনজীবন ইত্যাদি নিত্যকার জীবনের, নিয়তির, শরিক হয়ে পড়েছে। এই অনুভূতিই এই উপন্যাস রচনার সার্থকতা।
বাংলা সাহিত্যে ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়া যায় মুখ্যত সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরে সুনীল গাঙ্গুলির কলমে। বাংলার রাজবংশ, বিশেষত হাজার বছরের বেশী রাজত্ব করা মল্লরাজবংশ, মল্লভূমিকে নিয়ে এর আগে একটিই উপন্যাস পড়া ছিল, রমাপদ চৌধুরির লেখা ‘লালবাঈ’। তবে তার পটভূমি সপ্তদশ শতক যখন দিল্লীশ্বর বাদশা আলমগীর এবং বিষয়বস্তু শাস্ত্রীয় মার্গসংগীত,বিষ্ণুপুর ঘরানার উৎপত্তি। ‘ডাকাতরাজা’-র সময়কাল আরও আগে ষষ্ঠদশ শতক যখন দিল্লীশ্বর বাদশা আকবর। দুটি উপন্যাসে একটি বিষয় অবশ্যই সাধারণ- রাজনীতি।
এই উপন্যাসে ১মেই দেখানো হচ্ছে ডাকাতরাজা অর্থাৎ মল্লরাজবংশের ৪৯তম রাজা বীরমল্লদেব বা,বীরহাম্বির যুবরাজ এবং তিনি যুদ্ধে মোগল সেনাপতি মুনিম খানের মোকাবিলা
করছেন। পিতা ধাড়ীমল্লের রাজত্বকালে যুবরাজ অবস্হায় বীরহাম্বির পাঠান সুলতান সুলেমান কররানীর পুত্র দাউদ খানেরও মোকাবিলা করেছিলেন এবং অনন্যসাধারণ বীরত্ব,পরাক্রম দেখিয়ে যুদ্ধ জয় করেছিলেন। মুন্ডমালাঘাটের যুদ্ধ। তারপর অসাধারণ শৌর্যের পরিচয় দিয়ে যুদ্ধবন্দী দাউদ খানকে জীবিত মুক্তি দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার কথা এখানে নেই। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে ‘কালাপাহাড’ মল্লরাজ্য আক্রমণ করেছেন এবং মল্লরাজ বীরহাম্বিরের সাথে তার সন্মুখসমর অনিবার্য। মহম্মদ ফারমুলী বা কালাপাহাড কামরূপের পরে উড়িষ্যা আক্রমণ করেন, পুরীর মন্দির, কোণারক মন্দির ইত্যাদির প্রভূত ক্ষতিসাধন করেন;দারুব্রক্ষ জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রার বিগ্রহ বিনষ্ট করেন-এসবই ঐতিহাসিক সত্য; কিন্তু তিনি মল্লভূমি আক্রমণ করেছিলেন এবং তাকে মল্লরাজ বীরহাম্বির ও জগন্নাথ কর্মকার নির্মিত ‘দলমাদল’কামানের সামনে পড়তে হয়েছিল এমন ইতিহাস আমার অজানা। কালাপাহাড অনুতাপে জিঘাংসা, রিরংসা পরিহার করে বৈরাগী হয়ে যান এমনটাও নয় কারণ,ইতিহাস বলছে তিনি শেষ দিন পর্যন্ত পাঠানদের হয়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রত ছিলেন এবং সম্বলপুরের কাছে মহানন্দার তীরে সম্ভবত তার সমাধি রয়েছে। তবে সাহিত্যর যেহেতু ইতিহাসকে সর্বদা অনুসরণ করার দায় নেই তাই আমাদের উপন্যাস যেখাতে, যেভাবে এগিয়েছে সেটা নাটকীয়তার স্বার্থেই এগিয়েছে।কালাপাহাড অর্থাৎ রাজীবলোচন রায়ভদ্রের গুরু মহাপন্ডিত শ্রী শ্রীনিবাস আচার্যই যে মল্লরাজ বীরহাম্বিরকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত করেন এটা রোমান্চকর ঐতিহাসিক সত্য এবং কাহিনীতে ‘মনোহরা’ ভাবে উপস্থাপিত। মহাপন্ডিত শ্রীনিবাস আচার্য প্রথমবার মল্লরাজের আমন্ত্রণে রাজসভায় উপস্হিত হচ্ছেন তখন রাজগুরু পন্ডিত শ্রীব্যাস আচার্যের সাথে তাঁর সংলাপ দ্রুপদ যুদ্ধে মহারথী কর্ণের অংশগ্রহণ নিয়ে কিন্তু মহাভারত অনুযায়ী সঠিক নয়। মহাভারতে কর্ণ প্রথমে অল্পকিছুকাল গুরু দ্রোণের কাছে শিক্ষালাভ করেন তারপর উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য মহাগুরু পরশুরামের নিকট যান।মিত্র দুর্যোধনকে সাহায্য করার জন্যে কর্ণও দ্রুপদ যুদ্ধে ছিলেন।
অশৌচ চলাকালীন রান্নায় হলুদ বর্জনের কারণ,মুসুরডাল কে আমিষ মানার কারণ সত্যিই অদ্ভুত। আমার শ্বশুরবাডী অবাঙালী,নিরামিষাশী;পেঁয়াজ-রসুনকে আমিষ না মানলেও তারাও কিন্তু মুসুর ডালকে আমিষ মানে।
আখ্যানে যা ‘শাটিকা’ বলে উল্লিখিত সেটা এখনকার শাড়ী বলেই মনে হয়।সংস্কৃত শব্দ ‘সাত্তিকা’থেকে অপভ্রংশে ‘শাটিকা’।
বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্য, টীকা, ভক্তিশ্লোক-সংগীত, চাণক্য-শ্লোক উপন্যাসের সমুজ্জ্বল আভরণ।
মধ্যম মল্লকুমার শীতলকুমার,আমাকে কিছুটা রবীন্দ্রনাথের ‘মুকুট’ নাটকের মধ্যমকুমার ইন্দ্রকুমারকে মনে পড়িয়ে দেয়।
বিরাট এই উপন্যাস পাঠ শেষে সময়-সফর সমাপ্ত করে উপলব্ধি থেকে যায়, যেটা মহম্মদ ফারমুলীর শিবিরে হস্তী লড়াইয়ের পর বলা আছে- ‘একই সঙ্গে পালিত হচ্ছে জীবন ও মৃত্যু’ এবং পুন্যতোয়া গঙ্গায় জলই শুধু প্রবহমান নয়, ‘সময়ও অবিরত চলমান’ আর ‘তার নিজের হাতে লিখতে থাকা ইতিহাস’।
এত সুন্দর, প্রাণমুখর, স্বচ্ছতোয়া পাঠ অভিজ্ঞতা দেবার জন্যে এবং বই তে সই উপহারের জন্যে, উপন্যাস রচনাকার দেবারতি কে আন্তরিক ধন্যবাদ। সুন্দর প্রচ্ছদ এবং প্রকাশনার জন্যেও পত্রভারতী কে ধন্যবাদ।
একখানি সার্থক উপন্যাস,বিশেষত তা ঐতিহাসিক উপন্যাস
হলে,তা লিখতে লেখককে কত পরিশ্রম করতে হয়,সময় দিতে হয়,কতবার নাটকীয়তার নানা সম্ভাবনা বিচার করে ঘটনা গ্রহন বা বর্জন করতে হয়।এত পরিশ্রমের নবজাতক হল রচনাকার দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের সদ্যজাত ঐতিহাসিক উপন্যাস, ‘ডাকাতরাজা’। আজকের এই তাৎক্ষণিকতাকে সিদ্ধি জ্ঞান করা মুহুর্তে বাঁচা বাঙালীকে বাংলা উপন্যাস পড়ানো সন্দেহাতীতভাবে কঠিন কাজ; কিন্তু তৃষ্ণার্তের জলপানের মত সোৎসাহে অনায়াসে পড়ে ফেলা গেল এবং বই বন্ধ করার পরে চরিত্রদের সাথে সময়-সফর করে আসা পাঠক আবিষ্কার করে যে সেও মন্দির-নগরী মল্লভূমির সুখ-দুখ,প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি,রাজনীতি,জনজীবন ইত্যাদি নিত্যকার জীবনের, নিয়তির, শরিক হয়ে পড়েছে। এই অনুভূতিই এই উপন্যাস রচনার সার্থকতা।
বাংলা সাহিত্যে ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়া যায় মুখ্যত সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরে সুনীল গাঙ্গুলির কলমে। বাংলার রাজবংশ, বিশেষত হাজার বছরের বেশী রাজত্ব করা মল্লরাজবংশ, মল্লভূমিকে নিয়ে এর আগে একটিই উপন্যাস পড়া ছিল, রমাপদ চৌধুরির লেখা ‘লালবাঈ’। তবে তার পটভূমি সপ্তদশ শতক যখন দিল্লীশ্বর বাদশা আলমগীর এবং বিষয়বস্তু শাস্ত্রীয় মার্গসংগীত,বিষ্ণুপুর ঘরানার উৎপত্তি। ‘ডাকাতরাজা’-র সময়কাল আরও আগে ষষ্ঠদশ শতক যখন দিল্লীশ্বর বাদশা আকবর। দুটি উপন্যাসে একটি বিষয় অবশ্যই সাধারণ- রাজনীতি।
এই উপন্যাসে ১মেই দেখানো হচ্ছে ডাকাতরাজা অর্থাৎ মল্লরাজবংশের ৪৯তম রাজা বীরমল্লদেব বা,বীরহাম্বির যুবরাজ এবং তিনি যুদ্ধে মোগল সেনাপতি মুনিম খানের মোকাবিলা
করছেন। পিতা ধাড়ীমল্লের রাজত্বকালে যুবরাজ অবস্হায় বীরহাম্বির পাঠান সুলতান সুলেমান কররানীর পুত্র দাউদ খানেরও মোকাবিলা করেছিলেন এবং অনন্যসাধারণ বীরত্ব,পরাক্রম দেখিয়ে যুদ্ধ জয় করেছিলেন। মুন্ডমালাঘাটের যুদ্ধ। তারপর অসাধারণ শৌর্যের পরিচয় দিয়ে যুদ্ধবন্দী দাউদ খানকে জীবিত মুক্তি দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার কথা এখানে নেই। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে ‘কালাপাহাড’ মল্লরাজ্য আক্রমণ করেছেন এবং মল্লরাজ বীরহাম্বিরের সাথে তার সন্মুখসমর অনিবার্য। মহম্মদ ফারমুলী বা কালাপাহাড কামরূপের পরে উড়িষ্যা আক্রমণ করেন, পুরীর মন্দির, কোণারক মন্দির ইত্যাদির প্রভূত ক্ষতিসাধন করেন;দারুব্রক্ষ জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রার বিগ্রহ বিনষ্ট করেন-এসবই ঐতিহাসিক সত্য; কিন্তু তিনি মল্লভূমি আক্রমণ করেছিলেন এবং তাকে মল্লরাজ বীরহাম্বির ও জগন্নাথ কর্মকার নির্মিত ‘দলমাদল’কামানের সামনে পড়তে হয়েছিল এমন ইতিহাস আমার অজানা। কালাপাহাড অনুতাপে জিঘাংসা, রিরংসা পরিহার করে বৈরাগী হয়ে যান এমনটাও নয় কারণ,ইতিহাস বলছে তিনি শেষ দিন পর্যন্ত পাঠানদের হয়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রত ছিলেন এবং সম্বলপুরের কাছে মহানন্দার তীরে সম্ভবত তার সমাধি রয়েছে। তবে সাহিত্যর যেহেতু ইতিহাসকে সর্বদা অনুসরণ করার দায় নেই তাই আমাদের উপন্যাস যেখাতে, যেভাবে এগিয়েছে সেটা নাটকীয়তার স্বার্থেই এগিয়েছে।কালাপাহাড অর্থাৎ রাজীবলোচন রায়ভদ্রের গুরু মহাপন্ডিত শ্রী শ্রীনিবাস আচার্যই যে মল্লরাজ বীরহাম্বিরকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত করেন এটা রোমান্চকর ঐতিহাসিক সত্য এবং কাহিনীতে ‘মনোহরা’ ভাবে উপস্থাপিত। মহাপন্ডিত শ্রীনিবাস আচার্য প্রথমবার মল্লরাজের আমন্ত্রণে রাজসভায় উপস্হিত হচ্ছেন তখন রাজগুরু পন্ডিত শ্রীব্যাস আচার্যের সাথে তাঁর সংলাপ দ্রুপদ যুদ্ধে মহারথী কর্ণের অংশগ্রহণ নিয়ে কিন্তু মহাভারত অনুযায়ী সঠিক নয়। মহাভারতে কর্ণ প্রথমে অল্পকিছুকাল গুরু দ্রোণের কাছে শিক্ষালাভ করেন তারপর উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য মহাগুরু পরশুরামের নিকট যান।মিত্র দুর্যোধনকে সাহায্য করার জন্যে কর্ণও দ্রুপদ যুদ্ধে ছিলেন।
অশৌচ চলাকালীন রান্নায় হলুদ বর্জনের কারণ,মুসুরডাল কে আমিষ মানার কারণ সত্যিই অদ্ভুত। আমার শ্বশুরবাডী অবাঙালী,নিরামিষাশী;পেঁয়াজ-রসুনকে আমিষ না মানলেও তারাও কিন্তু মুসুর ডালকে আমিষ মানে।
আখ্যানে যা ‘শাটিকা’ বলে উল্লিখিত সেটা এখনকার শাড়ী বলেই মনে হয়।সংস্কৃত শব্দ ‘সাত্তিকা’থেকে অপভ্রংশে ‘শাটিকা’।
বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্য, টীকা, ভক্তিশ্লোক-সংগীত, চাণক্য-শ্লোক উপন্যাসের সমুজ্জ্বল আভরণ।
মধ্যম মল্লকুমার শীতলকুমার,আমাকে কিছুটা রবীন্দ্রনাথের ‘মুকুট’ নাটকের মধ্যমকুমার ইন্দ্রকুমারকে মনে পড়িয়ে দেয়।
বিরাট এই উপন্যাস পাঠ শেষে সময়-সফর সমাপ্ত করে উপলব্ধি থেকে যায়, যেটা মহম্মদ ফারমুলীর শিবিরে হস্তী লড়াইয়ের পর বলা আছে- ‘একই সঙ্গে পালিত হচ্ছে জীবন ও মৃত্যু’ এবং পুন্যতোয়া গঙ্গায় জলই শুধু প্রবহমান নয়, ‘সময়ও অবিরত চলমান’ আর ‘তার নিজের হাতে লিখতে থাকা ইতিহাস’।
এত সুন্দর, প্রাণমুখর, স্বচ্ছতোয়া পাঠ অভিজ্ঞতা দেবার জন্যে এবং বই তে সই উপহারের জন্যে, উপন্যাস রচনাকার দেবারতি কে আন্তরিক ধন্যবাদ। সুন্দর প্রচ্ছদ এবং প্রকাশনার জন্যেও পত্রভারতী কে ধন্যবাদ।
October 23, 2021
গত জানুয়ারিতে "মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর" ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। সারা বিষ্ণুপুর জুড়ে অসংখ্য মন্দির। অপূর্ব তার শিল্পকলা। তার মধ্যে বিখ্যাত কয়েক টা Archeological servey of India -র তত্বাবধানে রয়েছে। বাকি মন্দির গুলো তেমন যত্নে নেই। একটা জিনিস বেশ অবাক করেছিল, জঙ্গলাকীর্ণ এই রাঢ় অঞ্চলে কয়েকশ বছর আগে অসংখ্য মন্দির গুলি কি উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা করা হয়েছিল ?
ইতিহাসের প্রতি আমার বরাবরের একটা কৌতূহল রয়েছে। সেই প্রাচীন কাল থেকে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে , বিভিন্ন রাজ্যে বহু বীর রাজা , যোদ্ধা, শাসকের নাম শোনা গিয়েছে। কিছুটা সম্রাট অশোক, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, হর্ষবর্ধন, চোল, রাজপুত আরো অনেকের । সুলতান, মোঘল, পাঠানদের সম্পর্কে তো ইতিহাসে প্রচুর তথ্য রয়েছে। কিন্তু যখনই বাংলার দিকে তাকাই, শশাঙ্ক ছাড়া আর তেমন কারোর উল্লেখ নেই। এত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ইতিহাস যেনো অনেক টা অলিখিত, উপেক্ষিত।
সেই কৌতূহল অনেক টা মিটলো দেবারতি মুখোপাধ্যায় Debarati Mukhopadhyay এর "ডাকাত রাজা" উপন্যাস টি পড়ে। এই বাংলারই এক হাজার বছর শাসন করা রাজবংশ। যা দেশের ইতিহাসে এবং বাঙালিদের কাছেও অনেক টা অপরিচিত ও উপেক্ষিত।
আকবরের সমসাময়িক এক বীর যোদ্ধা রাজা "বীর হাম্বীর" যার মূল চরিত্র। দিনে প্রজা হিতৈষী রাজা ,আর রাতের অন্ধকারে লুণ্ঠন। ধনীর সম্পদ লুণ্ঠন করে প্রজাদের পালনে কাজে লাগান। কিন্তু সম্রাট অশোক যেমন একদিন কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তাক্ত প্রান্তর দেখে বিমর্ষ ,অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তারপর সেই "চন্ডাশোক" বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে হয় যান "ধর্মাশোক" । অস্ত্র ছেড়ে যিনি মন দেন মানবপ্রেমে। মল্ল রাজা বীর হাম্বীরের মধ্যে সেই অশোকের ছায়া দেখা যায়। শৈব/ শাক্ত থেকে হয়ে যান বৈষ্ণব সেবক। আবার এখানে শ্রীনিবাস আচার্যের মধ্যে দেখা যায় কৌটিল্য কে, আবারও তিনি কখনো "উপগুপ্ত"।
মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের পর যিনি সমগ্র বাংলাকে আবার বৈষ্ণব ধর্মের প্রেমে মাতোয়ারা করতে পারতেন সেই , পণ্ডিত রাজীবলোচন রায় ভাদুড়ী হয়ে যান প্রবল হিন্দু বিদ্বেষী সুলতান সুলেমান কররানি র সেনাপতি বিধ্বংসী "কালাপাহাড়" । যার হাত থেকে রক্ষা পায়না কামরূপের কামাখ্যা থেকে উড়িষ্যার শ্রী ক্ষেত্রে জগন্নাথ ধাম। সেই বিধ্বংসী বাংলার সুবেদার সুলেমান কাররানির সেনাপতি কালাপাহাড় এবং মোঘল বাহিনীর হাত থেকে ছোট্ট অরণ্য রাজ্যটি রক্ষার জন্য মৃত্যুকে উপেক্ষা করে বিরহাম্বির যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এই উপন্যাস শুধু এক রাজার বীরত্বের কাহিনী নয়, এ এক সমগ্র বাঙালি জাতির গর্বের ইতিহাস।
বাল্মীকির ন্যায় অনুশোচনা গ্রস্ত রাজা বীর হাম্বির কে গুরুদেব শ্রীনিবাস আচার্যের সেই উপদেশ " এই জগৎ- এই ভূত আনন্দ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে, আনন্দেই বেঁচে আছে এবং আনন্দেই লীন হবে। জন্মে আনন্দ, জীবনে আনন্দ, মরণেও আনন্দ। এই জগৎ আনন্দে উন্মত্ত। আনন্দই জগৎ। জগৎ ই আনন্দ।" । আবার এই আনন্দ থেকে পরমানন্দ লাভের মন্ত্রও রাজাকে দেন। পরমানন্দ লাভের মূল মন্ত্রই হলো ভক্তি আর জপতে হবে সেই মহা মন্ত্র -
" হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।"
যুদ্ধ, ধর্ম, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, ধর্মীয় উন্মত্ততা , প্রতিহিংসা, রাজ ধর্মের এক জীবন্ত কাহিনী " ডাকাত রাজা" যা এক বিস্মৃতপ্রায় মল্লরাজ্যের রোমাঞ্চকর আখ্যান।
ধন্যবাদ 🙏
ইতিহাসের প্রতি আমার বরাবরের একটা কৌতূহল রয়েছে। সেই প্রাচীন কাল থেকে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে , বিভিন্ন রাজ্যে বহু বীর রাজা , যোদ্ধা, শাসকের নাম শোনা গিয়েছে। কিছুটা সম্রাট অশোক, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, হর্ষবর্ধন, চোল, রাজপুত আরো অনেকের । সুলতান, মোঘল, পাঠানদের সম্পর্কে তো ইতিহাসে প্রচুর তথ্য রয়েছে। কিন্তু যখনই বাংলার দিকে তাকাই, শশাঙ্ক ছাড়া আর তেমন কারোর উল্লেখ নেই। এত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ইতিহাস যেনো অনেক টা অলিখিত, উপেক্ষিত।
সেই কৌতূহল অনেক টা মিটলো দেবারতি মুখোপাধ্যায় Debarati Mukhopadhyay এর "ডাকাত রাজা" উপন্যাস টি পড়ে। এই বাংলারই এক হাজার বছর শাসন করা রাজবংশ। যা দেশের ইতিহাসে এবং বাঙালিদের কাছেও অনেক টা অপরিচিত ও উপেক্ষিত।
আকবরের সমসাময়িক এক বীর যোদ্ধা রাজা "বীর হাম্বীর" যার মূল চরিত্র। দিনে প্রজা হিতৈষী রাজা ,আর রাতের অন্ধকারে লুণ্ঠন। ধনীর সম্পদ লুণ্ঠন করে প্রজাদের পালনে কাজে লাগান। কিন্তু সম্রাট অশোক যেমন একদিন কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তাক্ত প্রান্তর দেখে বিমর্ষ ,অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তারপর সেই "চন্ডাশোক" বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে হয় যান "ধর্মাশোক" । অস্ত্র ছেড়ে যিনি মন দেন মানবপ্রেমে। মল্ল রাজা বীর হাম্বীরের মধ্যে সেই অশোকের ছায়া দেখা যায়। শৈব/ শাক্ত থেকে হয়ে যান বৈষ্ণব সেবক। আবার এখানে শ্রীনিবাস আচার্যের মধ্যে দেখা যায় কৌটিল্য কে, আবারও তিনি কখনো "উপগুপ্ত"।
মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের পর যিনি সমগ্র বাংলাকে আবার বৈষ্ণব ধর্মের প্রেমে মাতোয়ারা করতে পারতেন সেই , পণ্ডিত রাজীবলোচন রায় ভাদুড়ী হয়ে যান প্রবল হিন্দু বিদ্বেষী সুলতান সুলেমান কররানি র সেনাপতি বিধ্বংসী "কালাপাহাড়" । যার হাত থেকে রক্ষা পায়না কামরূপের কামাখ্যা থেকে উড়িষ্যার শ্রী ক্ষেত্রে জগন্নাথ ধাম। সেই বিধ্বংসী বাংলার সুবেদার সুলেমান কাররানির সেনাপতি কালাপাহাড় এবং মোঘল বাহিনীর হাত থেকে ছোট্ট অরণ্য রাজ্যটি রক্ষার জন্য মৃত্যুকে উপেক্ষা করে বিরহাম্বির যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এই উপন্যাস শুধু এক রাজার বীরত্বের কাহিনী নয়, এ এক সমগ্র বাঙালি জাতির গর্বের ইতিহাস।
বাল্মীকির ন্যায় অনুশোচনা গ্রস্ত রাজা বীর হাম্বির কে গুরুদেব শ্রীনিবাস আচার্যের সেই উপদেশ " এই জগৎ- এই ভূত আনন্দ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে, আনন্দেই বেঁচে আছে এবং আনন্দেই লীন হবে। জন্মে আনন্দ, জীবনে আনন্দ, মরণেও আনন্দ। এই জগৎ আনন্দে উন্মত্ত। আনন্দই জগৎ। জগৎ ই আনন্দ।" । আবার এই আনন্দ থেকে পরমানন্দ লাভের মন্ত্রও রাজাকে দেন। পরমানন্দ লাভের মূল মন্ত্রই হলো ভক্তি আর জপতে হবে সেই মহা মন্ত্র -
" হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।"
যুদ্ধ, ধর্ম, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, ধর্মীয় উন্মত্ততা , প্রতিহিংসা, রাজ ধর্মের এক জীবন্ত কাহিনী " ডাকাত রাজা" যা এক বিস্মৃতপ্রায় মল্লরাজ্যের রোমাঞ্চকর আখ্যান।
ধন্যবাদ 🙏
April 20, 2023
🌿🍁বইয়ের নাম - ডাকাত রাজা🍁🌿
✍🏻লেখিকা - দেবারতি মুখোপাধ্যায়
🖨️প্রকাশক - পত্রভারতী
📙প্রচ্ছদ ও অলংকরণ - রঞ্জন দত্ত
📖পৃষ্ঠা সংখ্যা - 248
💰মূল্য - 349₹
🛒📚Book Buy Amazon Link 🔗 https://amzn.to/40oYf1q
🎋🍁সদ্য পড়ে শেষ করলাম লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর লেখা “ডাকাত রাজা”! প্রথমেই বলি লেখিকর লেখা এই প্রথম পড়ছি। এই বই এর প্রচ্ছদটি ভীষণ সুন্দর। অনেক দিন পর আবারো একটা অসাধারণ Historical Fiction পড়লাম দারুন লাগলো, এই বইয়ের Page Quality ভীষণ সুন্দর।
লেখিকার কলমে এই গল্প যেভাবে ফুটে উঠেছে এক কথায় অসাধারণ। এই উপন্যাস একটি ঐতিহাসিক থ্রিলার, যাদের আমার মত ইতিহাস পড়তে ভালো লাগে না,তারা অবশ্যই এই বইটি পড়তে পারেন ,কারণ গল্পের আকারে ইতিহাসকে জেনে নিতে ভালই লাগবে।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হল বীরহাম্বীর তিনিই ডাকাত রাজা নামে পরিচিত। কেন তিনি ডাকাত রাজা নামে পরিচিত সেটা জানতে হলে উপন্যাসটি পড়তে হবে।
‘ডাকাত রাজা’ যার নায়ক মল্লভূমের স্বাধীন প্রজাপালক রাজা বীরহাম্বীর। আবার রাতের আঁধারে তিনিই নাকি ডাকাতরাজা! কেন ? কালাপাহাড় বিশাল বাহিনী নিয়ে ধ্বংস করেছে উত্তরবঙ্গ ও কামরূপ, এবার তার লক্ষ্য উৎকল!
সে প্রতিশোধ নেবে! তারপর ?
কালাপাহাড়ের পূর্বধর্মের দুই স্ত্রী,তারা কোথায় হারিয়ে গেল ?
ছুটে আসছে কালাপাহাড়ের দুর্ধর্ষ পাঠান ফৌজ এবার লক্ষ্য বিষ্ণুপুর! তারপর ?
লেখিকা কে অসংখ্য ধন্যবাদ পাঠকের এত সুন্দর একটি উপন্যাস উপহার দেয়ার জন্য। আপনার লেখা আরো বই পড়ার ইচ্ছে রইল।🍁🎋
🍂উপন্যাসের কিছু লাইনস যেগুলো আমার ভীষণ ভালো লেগেছে -
🍁ডাকাতরাজা নামে কোন গর্ব নেই রে, রয়েছে লজ্জা!
🍁টাকা নিবি গুণে, পথ চলবি চিনে!
🍁প্রথমে তোমাকে বুঝতে হবে, সুখ বা দুঃখ, শীত বা উষ্ণতা, এগুলো সবই মনের অনুভূতি মাত্র। মনকে সহিষ্ণু ও বশীভূত করে তুলতে পারলে সমস্ত দ্বন্দ্বকে জয় করা যায়। মনকে সহিষ্ণু করার কঠোর পথই হল সাধনা!
🙋👩🦰 Follow My Instgram Page👇
https://instagram.com/bookreader_shra...
🙋👩🦰Follow My Goodreads Page 👇
http://WWW.goodreads.com/book_reader_...
#historical_fiction
#ডাকাত_রাজা
#লেখিকা #দেবারতি_মুখোপাধ্যায়
#প্রকাশক #পত্রভারতী
#ঐতিহাসিক_থ্রিলার
Debarati Mukhopadhyay Patra Bharati Rajkumar Mondal
#Dakat_Raja #goodread #booklover #reading #readingchallenge #books #Bengalibooks #facebookpost #post
✍🏻লেখিকা - দেবারতি মুখোপাধ্যায়
🖨️প্রকাশক - পত্রভারতী
📙প্রচ্ছদ ও অলংকরণ - রঞ্জন দত্ত
📖পৃষ্ঠা সংখ্যা - 248
💰মূল্য - 349₹
🛒📚Book Buy Amazon Link 🔗 https://amzn.to/40oYf1q
🎋🍁সদ্য পড়ে শেষ করলাম লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর লেখা “ডাকাত রাজা”! প্রথমেই বলি লেখিকর লেখা এই প্রথম পড়ছি। এই বই এর প্রচ্ছদটি ভীষণ সুন্দর। অনেক দিন পর আবারো একটা অসাধারণ Historical Fiction পড়লাম দারুন লাগলো, এই বইয়ের Page Quality ভীষণ সুন্দর।
লেখিকার কলমে এই গল্প যেভাবে ফুটে উঠেছে এক কথায় অসাধারণ। এই উপন্যাস একটি ঐতিহাসিক থ্রিলার, যাদের আমার মত ইতিহাস পড়তে ভালো লাগে না,তারা অবশ্যই এই বইটি পড়তে পারেন ,কারণ গল্পের আকারে ইতিহাসকে জেনে নিতে ভালই লাগবে।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হল বীরহাম্বীর তিনিই ডাকাত রাজা নামে পরিচিত। কেন তিনি ডাকাত রাজা নামে পরিচিত সেটা জানতে হলে উপন্যাসটি পড়তে হবে।
‘ডাকাত রাজা’ যার নায়ক মল্লভূমের স্বাধীন প্রজাপালক রাজা বীরহাম্বীর। আবার রাতের আঁধারে তিনিই নাকি ডাকাতরাজা! কেন ? কালাপাহাড় বিশাল বাহিনী নিয়ে ধ্বংস করেছে উত্তরবঙ্গ ও কামরূপ, এবার তার লক্ষ্য উৎকল!
সে প্রতিশোধ নেবে! তারপর ?
কালাপাহাড়ের পূর্বধর্মের দুই স্ত্রী,তারা কোথায় হারিয়ে গেল ?
ছুটে আসছে কালাপাহাড়ের দুর্ধর্ষ পাঠান ফৌজ এবার লক্ষ্য বিষ্ণুপুর! তারপর ?
লেখিকা কে অসংখ্য ধন্যবাদ পাঠকের এত সুন্দর একটি উপন্যাস উপহার দেয়ার জন্য। আপনার লেখা আরো বই পড়ার ইচ্ছে রইল।🍁🎋
🍂উপন্যাসের কিছু লাইনস যেগুলো আমার ভীষণ ভালো লেগেছে -
🍁ডাকাতরাজা নামে কোন গর্ব নেই রে, রয়েছে লজ্জা!
🍁টাকা নিবি গুণে, পথ চলবি চিনে!
🍁প্রথমে তোমাকে বুঝতে হবে, সুখ বা দুঃখ, শীত বা উষ্ণতা, এগুলো সবই মনের অনুভূতি মাত্র। মনকে সহিষ্ণু ও বশীভূত করে তুলতে পারলে সমস্ত দ্বন্দ্বকে জয় করা যায়। মনকে সহিষ্ণু করার কঠোর পথই হল সাধনা!
🙋👩🦰 Follow My Instgram Page👇
https://instagram.com/bookreader_shra...
🙋👩🦰Follow My Goodreads Page 👇
http://WWW.goodreads.com/book_reader_...
#historical_fiction
#ডাকাত_রাজা
#লেখিকা #দেবারতি_মুখোপাধ্যায়
#প্রকাশক #পত্রভারতী
#ঐতিহাসিক_থ্রিলার
Debarati Mukhopadhyay Patra Bharati Rajkumar Mondal
#Dakat_Raja #goodread #booklover #reading #readingchallenge #books #Bengalibooks #facebookpost #post
November 11, 2021
"ঘটনা ! দুর্ঘটনা ! হিংসা ! লালসা ! প্রতিশোধ ! যুদ্ধ !"
-ষোড়শ শতাব্দীর বাংলার এক ভুলে যাওয়া অধ্যায়।
লেখিকার আরেকটি অনবদ্য উপন্যাস । এই উপন্যাস বাঙালির মনন থেকে মুছে যাওয়া এক চিত্তাকর্ষক সময়পর্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। যখন দিল্লির সিংহাসনে উপবিষ্ট রয়েছে স্বয়ং আকবর,বাংলা সুবায় চলছে সুলেমান কররানির শাসন। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কিন্তু এদের কেউ নন। বরং কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে স্থান পেয়েছেন মল্লভূমের স্বাধীন প্রজাপালক রাজা বীরহাম্বির (যিনি বাংলার বারো ভুঁইয়াদের একজন)। তিনি একদিকে যেমন প্রজাদের সন্তানের মতো স্নেহ করেন,তাদের মঙ্গলের জন্য সদা নিবেদিত প্রাণ সেই রাজা কেন রাতের অন্ধকারে ডাকাত? উত্তর মিলবে এখানে।
উপন্যাসটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এর চরিত্রগুলি। সেখানে যেমন বীরহাম্বির এর মতো মতো চরিত্র রয়েছে,যিনি চরিত্রবান,সুচতুর, রণকৌশলে নিপুণ যোদ্ধা,প্রজা কল্যানকারী রাজা আবার তিনিই পরবর্তীতে বৈষ্ণবপ্রেমী। রয়েছে রাজকুমার শীতল এর মতো পিতার আজ্ঞাবাহী স্বদেশপ্রেমী চরিত্র,রয়েছে রাজকুমার রঘুনাথ এর মতো ব্যতিক্রমী,কৌতূহলোদ্দীপক চরিত্র যার বন্ধুত্ব পবন বলে এক শূদ্র ছেলের সঙ্গে, রয়েছে মনোহরা, শিরমনির মতো চরিত্র। রয়েছে মাধব মল্ল, কেশব ছড়াকার, জিমূতবাহণ এর মতো স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক চরিত্র। রয়েছে রুদ্রাক্ষ এর মতো বন্ধুপ্রান চরিত্র, রয়েছে মেনকার মতো বিস্ময়কর চরিত্র। রয়েছে শ্রীনিবাস আচার্যের মতো চরিত্র যিনি বৈষ্ণবপ্রেমী, যিনি সময় হলে চাণক্য এর মতো রাজ্য পরিচালনার নির্দেশ দেন, যুদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করেন আবার কৃষ্ণ প্রেমের বন্যা বইয়ে দিয়ে কঠোর থেকে কঠোরতর হৃদয়কেও বিগলিত করতে সক্ষম।
আর রয়েছে কালাপাহাড় এর মতো জটিল চরিত্র। প্রথম জীবনে যাকে সবাই শ্রীচৈতন্যের সাক্ষাৎ রূপ মনে করতো, সে কেন ধর্মান্তরিত হলো? কেনই বা তার হিন্দুদের প্রতি এত বিদ্বেষ? কেন সে রাজীবলোচন রায় থেকে হয়ে উঠলো কালাপাহাড়? কেন সে উৎকল সহ বাংলার সমস্ত মন্দির নগরী ধ্বংস করতে চায়? হিন্দু দেবদেবীর প্রতি কেন তার এত বিদ্বেষ?
সমসাময়িক সমাজ, ধর্মীয় রীতিনীতি, সামাজিক প্রথা, রাজনীতি,কূটনীতি সকলকিছুই এতে রয়েছে। সবমিলিয়ে জমজমাট লেখা। যত পড়বেন,দেখবেন নতুন করে সেই সময়পর্বকে উপলব্ধি করতে পারবেন।
#পড়তে অবশ্যই বলবো।
-ষোড়শ শতাব্দীর বাংলার এক ভুলে যাওয়া অধ্যায়।
লেখিকার আরেকটি অনবদ্য উপন্যাস । এই উপন্যাস বাঙালির মনন থেকে মুছে যাওয়া এক চিত্তাকর্ষক সময়পর্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। যখন দিল্লির সিংহাসনে উপবিষ্ট রয়েছে স্বয়ং আকবর,বাংলা সুবায় চলছে সুলেমান কররানির শাসন। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কিন্তু এদের কেউ নন। বরং কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে স্থান পেয়েছেন মল্লভূমের স্বাধীন প্রজাপালক রাজা বীরহাম্বির (যিনি বাংলার বারো ভুঁইয়াদের একজন)। তিনি একদিকে যেমন প্রজাদের সন্তানের মতো স্নেহ করেন,তাদের মঙ্গলের জন্য সদা নিবেদিত প্রাণ সেই রাজা কেন রাতের অন্ধকারে ডাকাত? উত্তর মিলবে এখানে।
উপন্যাসটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এর চরিত্রগুলি। সেখানে যেমন বীরহাম্বির এর মতো মতো চরিত্র রয়েছে,যিনি চরিত্রবান,সুচতুর, রণকৌশলে নিপুণ যোদ্ধা,প্রজা কল্যানকারী রাজা আবার তিনিই পরবর্তীতে বৈষ্ণবপ্রেমী। রয়েছে রাজকুমার শীতল এর মতো পিতার আজ্ঞাবাহী স্বদেশপ্রেমী চরিত্র,রয়েছে রাজকুমার রঘুনাথ এর মতো ব্যতিক্রমী,কৌতূহলোদ্দীপক চরিত্র যার বন্ধুত্ব পবন বলে এক শূদ্র ছেলের সঙ্গে, রয়েছে মনোহরা, শিরমনির মতো চরিত্র। রয়েছে মাধব মল্ল, কেশব ছড়াকার, জিমূতবাহণ এর মতো স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক চরিত্র। রয়েছে রুদ্রাক্ষ এর মতো বন্ধুপ্রান চরিত্র, রয়েছে মেনকার মতো বিস্ময়কর চরিত্র। রয়েছে শ্রীনিবাস আচার্যের মতো চরিত্র যিনি বৈষ্ণবপ্রেমী, যিনি সময় হলে চাণক্য এর মতো রাজ্য পরিচালনার নির্দেশ দেন, যুদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করেন আবার কৃষ্ণ প্রেমের বন্যা বইয়ে দিয়ে কঠোর থেকে কঠোরতর হৃদয়কেও বিগলিত করতে সক্ষম।
আর রয়েছে কালাপাহাড় এর মতো জটিল চরিত্র। প্রথম জীবনে যাকে সবাই শ্রীচৈতন্যের সাক্ষাৎ রূপ মনে করতো, সে কেন ধর্মান্তরিত হলো? কেনই বা তার হিন্দুদের প্রতি এত বিদ্বেষ? কেন সে রাজীবলোচন রায় থেকে হয়ে উঠলো কালাপাহাড়? কেন সে উৎকল সহ বাংলার সমস্ত মন্দির নগরী ধ্বংস করতে চায়? হিন্দু দেবদেবীর প্রতি কেন তার এত বিদ্বেষ?
সমসাময়িক সমাজ, ধর্মীয় রীতিনীতি, সামাজিক প্রথা, রাজনীতি,কূটনীতি সকলকিছুই এতে রয়েছে। সবমিলিয়ে জমজমাট লেখা। যত পড়বেন,দেখবেন নতুন করে সেই সময়পর্বকে উপলব্ধি করতে পারবেন।
#পড়তে অবশ্যই বলবো।
November 1, 2021
বিষ্ণুপুর গিয়েছিলাম প্রায় বছর দশ বারো হল।সপরিবারে গিয়ে তখন এক দিনের জন্য মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর এর বিভিন্ন মন্দিরের কারুকার্য এবং চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইতিহাসের কিছু ভগ্নপ্রায় নিদর্শন কে প্রত্যক্ষ করেছিলাম । যেটুকু জেনেছিলাম তা খালি বিষ্ণুপুরের মন্দিরের কারুকার্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।কিন্তু এই সমস্ত মন্দিরের সূক্ষ অসাধারণ কারুকার্যের পেছনে যে জ্বলন্ত রোমাঞ্চকর ইতিহাস কালের অমোঘ নিয়মে আমাদের সকলের বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে তা যেন লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস ডাকাত রাজার মধ্যে দিয়ে পুনর্জন্ম লাভ করলো। লেখিকার কলমের জাদুতে যে সময়কাল উপন্যাস এর মধ্যে মন্ত্রমুগ্ধের মত আবিষ্ট ছিলাম মনে হচ্ছিল যেন আবার সেই বিষ্ণুপুরে ফিরে গিয়েছি। তবে তা সমসাময়িক কালের বিষ্ণুপুর নয়, ফিরে গিয়েছিলাম সেই মল্ল রাজাদের অধীনস্থ্ বিষ্ণুপুরে। উপন্যাসের কাহিনী এগোনের সাথে সাথে তৎকালীন বিষ্ণুপুরের যে আর্থসামাজিক চিত্র ফুটে উঠেছে তা এককথায় সত্যি প্রশংসনীয়।মোঘল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজপুতরা যে বীরত্বের নিদর্শন দেখিয়েছিলেন তা আমরা কমবেশি সকলেই জানি। কিন্তু মুঘল, সুলতানি আক্রমণের বিরুদ্ধে আমাদের একান্ত আপন মল্লরাজদের বীরত্বের যে কাহিনী লেখিকা এই ডাকাতরাজা উপন্যাস এর মধ্যে দিয়ে তুলে ধরেছেন তা পড়তে পড়তে সত্যি রোমাঞ্চিত হয়ে যাচ্ছিলাম। হিন্দুদের ত্রাস সাক্ষাৎ মৃত্যদূত কালাপাহাড়ের নিষ্ঠুরতার যে আভাস কাহিনীর প্রয়োজনে এখানে ফুটে উঠেছে তা পড়তে পড়তে সত্যি শিহরিত হয়ে যাচ্ছিলাম। ধর্মের করাল গ্রাসে পড়ে একটা মানুষ যে কিভাবে শয়তানের মূর্ত রূপ হয়ে উঠে তা এই উপন্যাস এর একটি অন্যতম প্রধান চরিত্র কালাপাহাড়ের মধ্যে দিয়ে লেখিকা সুচারু ভাবে তুলে ধরেছেন। এত কিছুর পরেও কয়েকটি প্রেমের কাহিনী এখানে খুব সুন্দর ভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং লেখিকার কলমের আকর্ষণে ভক্তিরসের যে জোয়ার এই উপন্যাসে উদ্ভূত হয়েছে তাতে পাঠকের মন অনেক দিন সিক্ত থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস।পরিশেষে লেখিকা কে অশেষ ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটা উপন্যাস উপহার দেওয়ার জন্য।আপনার আরো লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।ভালো থাকবেন ম্যাডাম।
Read
October 22, 2021Just বু ৺দ hoa porlam....16th Oct e haate pelam...barite relatives esechilen, bikele ghurte gechilam, tai r start kora hoyni....17th theke start....bohu din bola vul...bohu bochor por akta gota boi eivabe utsaho, koutuhol, emotion sob kichu dia porlam...bolte gele akrokom badhyo holam 😊 porte giye ei sob kichu feel o korlam...Thank you Madam Debarati Mukhopadhyay ei rokom lekhoni amader upohar deoar jonno....porte giye ato ta addicted hoa gelam j aj 19th Oct sokalei boi ta sesh kore fellam....osadharon, onobodyo apnar srishti....sei chhotobelay Sarat Chandra Chattopadhyay er 'Mahesh' pore chokhe jol esechilo r aj Rajkumar Seetal er mrityur por Montri Rajiblochon er onukompa r Maharaj Beerhambir er putroshok er bornona chokh vijiye dilo....Protiti choritro ato sundor vabe bornito ...kothao somman er prem, kothao prem er somman....nei kothao extravagant description....sundor sobdo chayon, Gita shlok, Baishnab Podabolir porimito upojukto byabohar....sotti e otuloniyo....
Porisheshe khub boro koutuhol theke akta proshno ache Mohashoya apnar kache....talented toh apni by born, seta bolar opekkha rakhena....kintu time management koren ki kore ato kichhur??? Career as WBCS officer, sonsar, lekha, lekhar jonno research ...khub obaak kore 😊 amader ei projonmer kache akrokom inspiration....valo thakben ...baki boi gulo porteo khub interested...
August er last week e 2din er jonyo office colleague der sathe Bishnupur berate giachilam...tai #DakatRaja boi ta porte sob theke interested chhilam...r boi ta porlam na gile khelam janina 😊 pujor chhuti te porbo tokhon thekei decide korechilam r korlam o tai....kahinir hangover amar thakbe bohudin 😊
Subho Bijoyar priti, suvechha, valobasa roilo ❤️❤️
Porisheshe khub boro koutuhol theke akta proshno ache Mohashoya apnar kache....talented toh apni by born, seta bolar opekkha rakhena....kintu time management koren ki kore ato kichhur??? Career as WBCS officer, sonsar, lekha, lekhar jonno research ...khub obaak kore 😊 amader ei projonmer kache akrokom inspiration....valo thakben ...baki boi gulo porteo khub interested...
August er last week e 2din er jonyo office colleague der sathe Bishnupur berate giachilam...tai #DakatRaja boi ta porte sob theke interested chhilam...r boi ta porlam na gile khelam janina 😊 pujor chhuti te porbo tokhon thekei decide korechilam r korlam o tai....kahinir hangover amar thakbe bohudin 😊
Subho Bijoyar priti, suvechha, valobasa roilo ❤️❤️
Read
September 12, 2021#SDK_BOOKREVIRW
কিছুদিন আগেই শেষ করলাম লেখিকা দেবারতি দির লেখা ডাকাত রাজা । ইতিহাস নির্ভর এই উপন্যাসটি টান টান উত্তেজনায় ভরা । উপন্যাসটি রচিত হয়েছে মূলত বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের নিয়ে যাদের সম্বন্ধে হয়তো খুব কম লোকই জানে । আর এই উপন্যাসটি প্রথমেই আমার মন জয় করেছে কারণ এটা যে শহর কে নিয়ে লেখা সেটা আমার বাড়ি থেকে খুব বেশি দূরত্বের নয়, মল্লভূমি মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর, সেই বিখ্যাত দলমাদল কামান, যেটা ছোটবেলায় চাক্ষুষ দর্শন করে আমার বিস্ময়ের অন্ত ছিল না । যাই হোক এবার উপন্যাসের রিভিউতে আসি ।
আমাদের দেশে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত রাজবংশ অনেক বছর ধরে রাজত্ব করলেও অনেকেই জানেন না যে প্রায় ১০০০ বছর ধরে রাজত্ব করেছে মল্ল রাজারা । এই উপন্যাস টি রচিত হয়েছে উনপঞ্চাশ তম মল্ল রাজ বীরসিংহ কে নিয়ে যিনি বীরহাম্বির নামে পরিচিত ছিলেন । এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে তাঁর আর কুখ্যাত পাঠান সেনাপতি কালাপাহাড়, দুজনের লড়াই কে নিয়ে । এছাড়া উপন্যাসে আছে বিশ্বাসঘাতকতা , বন্ধুত্ব, ঘৃণা , ভালোবাসা । মূলত মল্ল রাজ কে নিয়ে লেখা হলেও কালাপাহাড়-এর ইতিহাস সম্বন্ধে অনেক কিছু জানলাম যেটা আমি জানতাম না । উপন্যাসের প্রথম থেকেই বুঝতে পারছিলাম যে অনেক যুদ্ধ জয় করলেও তার প্রিয়জনদের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য মল্ল রাজের এই যুদ্ধ জয় করা অসম্ভব ছিল কিন্তু এটাও বুঝতে পারছিলাম যে কালাপাহাড় অনেক যুদ্ধ জয় করলেও এই ছোট্ট রাজ্য জয় করতে পারেনি, এই কারণটা জানার জন্যে আরও উত্তেজনায় সৃষ্টি হয়েছে এই উপন্যাসে কারণ এটা তো আর সিনেমার বানানো গল্প নয় যে অলৌকিক ভাবে যুদ্ধ জিতে যাবে মল্ল রাজ, কিন্তু শেষ টা সত্যি বলতে বিস্ময়কর আর অলৌকিক ছিলো । সব মিলিয়ে খুব সুন্দর উপন্যাসটি , তবে শীতল কুমার, পবন, রঘুনাথ এরাও মন জয় করেছে আমার বিশেষত পবন আর শীতল কুমারের সাহস । এছাড়া মেনকার আত্মহূতিও মন জয় করার মতো । সব মিলিয়ে অবশ্যই সংগ্রহে রাখার মত উপন্যাস। এছাড়া লেখিকার লেখনী খুব সুন্দর, বইটির প্রচ্ছদও দারুন মানানসই ।
কিছুদিন আগেই শেষ করলাম লেখিকা দেবারতি দির লেখা ডাকাত রাজা । ইতিহাস নির্ভর এই উপন্যাসটি টান টান উত্তেজনায় ভরা । উপন্যাসটি রচিত হয়েছে মূলত বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের নিয়ে যাদের সম্বন্ধে হয়তো খুব কম লোকই জানে । আর এই উপন্যাসটি প্রথমেই আমার মন জয় করেছে কারণ এটা যে শহর কে নিয়ে লেখা সেটা আমার বাড়ি থেকে খুব বেশি দূরত্বের নয়, মল্লভূমি মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর, সেই বিখ্যাত দলমাদল কামান, যেটা ছোটবেলায় চাক্ষুষ দর্শন করে আমার বিস্ময়ের অন্ত ছিল না । যাই হোক এবার উপন্যাসের রিভিউতে আসি ।
আমাদের দেশে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত রাজবংশ অনেক বছর ধরে রাজত্ব করলেও অনেকেই জানেন না যে প্রায় ১০০০ বছর ধরে রাজত্ব করেছে মল্ল রাজারা । এই উপন্যাস টি রচিত হয়েছে উনপঞ্চাশ তম মল্ল রাজ বীরসিংহ কে নিয়ে যিনি বীরহাম্বির নামে পরিচিত ছিলেন । এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে তাঁর আর কুখ্যাত পাঠান সেনাপতি কালাপাহাড়, দুজনের লড়াই কে নিয়ে । এছাড়া উপন্যাসে আছে বিশ্বাসঘাতকতা , বন্ধুত্ব, ঘৃণা , ভালোবাসা । মূলত মল্ল রাজ কে নিয়ে লেখা হলেও কালাপাহাড়-এর ইতিহাস সম্বন্ধে অনেক কিছু জানলাম যেটা আমি জানতাম না । উপন্যাসের প্রথম থেকেই বুঝতে পারছিলাম যে অনেক যুদ্ধ জয় করলেও তার প্রিয়জনদের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য মল্ল রাজের এই যুদ্ধ জয় করা অসম্ভব ছিল কিন্তু এটাও বুঝতে পারছিলাম যে কালাপাহাড় অনেক যুদ্ধ জয় করলেও এই ছোট্ট রাজ্য জয় করতে পারেনি, এই কারণটা জানার জন্যে আরও উত্তেজনায় সৃষ্টি হয়েছে এই উপন্যাসে কারণ এটা তো আর সিনেমার বানানো গল্প নয় যে অলৌকিক ভাবে যুদ্ধ জিতে যাবে মল্ল রাজ, কিন্তু শেষ টা সত্যি বলতে বিস্ময়কর আর অলৌকিক ছিলো । সব মিলিয়ে খুব সুন্দর উপন্যাসটি , তবে শীতল কুমার, পবন, রঘুনাথ এরাও মন জয় করেছে আমার বিশেষত পবন আর শীতল কুমারের সাহস । এছাড়া মেনকার আত্মহূতিও মন জয় করার মতো । সব মিলিয়ে অবশ্যই সংগ্রহে রাখার মত উপন্যাস। এছাড়া লেখিকার লেখনী খুব সুন্দর, বইটির প্রচ্ছদও দারুন মানানসই ।
August 29, 2021
#ডাকাতরাজা।
ঐ যে কান উঁচু ঘোড়া গুলো আছে ঐ গুলো বাঁকুড়ার ঘোড়া। ওর পাশেই বিষ্ণুপুর। মন্দির নগরী। জোড়বাংলা মন্দির আছে। ছোটবেলায় এটাই ছিল আমার কাছে প্রাচীন মল্লভূমের ধারনা। অবশ্য মল্লভুম নাম টাও জেনেছি একটু বড় হয়ে পান্ডব গোয়েন্দা পড়ার সময়। তারপর আর একটু বড় হয়ে পড়লাম লালবাই। মুগ্ধ হলাম।
যখন লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের ডাকাতরাজার pre booking শুরু হয় তখন book করেছিলাম। উনার ইতিহাস ভিত্তিক লেখা নারাচ আগেই পড়েছিলাম।
Pre booking করতে একটু দেরী হয়েছিল তাই লেখিকার সই সহ বই টি পাইনি কিন্তু সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে এই অসাধারন উপন্যাস টি। নারাচ লেখাটির চেয়ে এই লেখাটি অনেক পরিনত। অনেক উপভোগ্য। লেখিকা কে প্রচুর research করতে হয়ছে সেই সময় কে নিয়ে কিন্তু কোথাও কোনরকম তথ্যর বাহুল্য নেই। আমি প্রায় এক নিঃশ্বাসেই বইটি শেষ করেছি। এখনো তার আবেশে রয়েছি। মল্লরাজ বীর হাম্বীরকে নিয়ে এমন লেখা আমি পড়িনি। অসাধারন চরিত্র এই মল্লরাজ বীর হাম্বীর। লেখিকা কে কুর্ণিশ এই লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।
আমার নিজের দুইটা বিষয়ে খটকা আছে। হয়তো সেটা আমারই ভুল। আমার না জানার ফল।
1: চৈতন্যদেবে তিরোধানের দুইদশক পার হবার পরও হরিনাম সংকীর্তনের জোয়ার বঙ্গদেশে। আমি অনেক জায়গায় পরেছি যে চৈতন্যদেবের তিরোধানের পর প্রায় 50 বছর হরিনাম সংকীর্তন বঙ্গদেশে বন্ধ ছিল।
2: তন্দা তে যশোরের কেদার রায় কাজ করতেন। তখন কালাপাহাড় তন্দার সেনাপতি। প্রতাপাদিত্য তখনও বারোভুইয়া হয়ে ওঠেন নি।
এই খটকা দুটো থাকলেও পুরো উপন্যাস টি এক কথায় অনবদ্য। মল্লভুমের ইতিহাসের একটি টুকরো জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে এই উপন্যাস। আমার বিশ্বাস সবার ভালো লাগবেই এই বিস্মৃতপ্রায় কাহিনী।
লেখিকার কাছে অনুরোধ আপনি এমন লেখা আরও লিখুন।
ভালো থাকবেন। আর আরও ভালো লিখবেন। এমন উপন্যাসের জন্য ধন্যবাদ।
ঐ যে কান উঁচু ঘোড়া গুলো আছে ঐ গুলো বাঁকুড়ার ঘোড়া। ওর পাশেই বিষ্ণুপুর। মন্দির নগরী। জোড়বাংলা মন্দির আছে। ছোটবেলায় এটাই ছিল আমার কাছে প্রাচীন মল্লভূমের ধারনা। অবশ্য মল্লভুম নাম টাও জেনেছি একটু বড় হয়ে পান্ডব গোয়েন্দা পড়ার সময়। তারপর আর একটু বড় হয়ে পড়লাম লালবাই। মুগ্ধ হলাম।
যখন লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের ডাকাতরাজার pre booking শুরু হয় তখন book করেছিলাম। উনার ইতিহাস ভিত্তিক লেখা নারাচ আগেই পড়েছিলাম।
Pre booking করতে একটু দেরী হয়েছিল তাই লেখিকার সই সহ বই টি পাইনি কিন্তু সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে এই অসাধারন উপন্যাস টি। নারাচ লেখাটির চেয়ে এই লেখাটি অনেক পরিনত। অনেক উপভোগ্য। লেখিকা কে প্রচুর research করতে হয়ছে সেই সময় কে নিয়ে কিন্তু কোথাও কোনরকম তথ্যর বাহুল্য নেই। আমি প্রায় এক নিঃশ্বাসেই বইটি শেষ করেছি। এখনো তার আবেশে রয়েছি। মল্লরাজ বীর হাম্বীরকে নিয়ে এমন লেখা আমি পড়িনি। অসাধারন চরিত্র এই মল্লরাজ বীর হাম্বীর। লেখিকা কে কুর্ণিশ এই লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।
আমার নিজের দুইটা বিষয়ে খটকা আছে। হয়তো সেটা আমারই ভুল। আমার না জানার ফল।
1: চৈতন্যদেবে তিরোধানের দুইদশক পার হবার পরও হরিনাম সংকীর্তনের জোয়ার বঙ্গদেশে। আমি অনেক জায়গায় পরেছি যে চৈতন্যদেবের তিরোধানের পর প্রায় 50 বছর হরিনাম সংকীর্তন বঙ্গদেশে বন্ধ ছিল।
2: তন্দা তে যশোরের কেদার রায় কাজ করতেন। তখন কালাপাহাড় তন্দার সেনাপতি। প্রতাপাদিত্য তখনও বারোভুইয়া হয়ে ওঠেন নি।
এই খটকা দুটো থাকলেও পুরো উপন্যাস টি এক কথায় অনবদ্য। মল্লভুমের ইতিহাসের একটি টুকরো জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে এই উপন্যাস। আমার বিশ্বাস সবার ভালো লাগবেই এই বিস্মৃতপ্রায় কাহিনী।
লেখিকার কাছে অনুরোধ আপনি এমন লেখা আরও লিখুন।
ভালো থাকবেন। আর আরও ভালো লিখবেন। এমন উপন্যাসের জন্য ধন্যবাদ।
Read
October 16, 2021#ডাকাতরাজা
প্রি-বুক করতে পেরেছিলাম প্রথম দিনই, রাত ১২:৪০ নাগাদ। হাতে পেয়েছিলাম ২৮ শে আগস্ট। কিন্তু নানা কারণে পড়া হয়ে ওঠেনি। মহা সপ্তমীর দিন শুরু করে বইটি পড়ে শেষ করলাম রাত ১:৪২ মিনিটে। সত্যিই এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো। ছোটোবেলা থেকেই হাম্বীরমল্লর নাম শুনে আসছি। কিন্তু তাঁর সম্বন্ধে বিশেষ কিছুই জানা ছিল না। মল্লরাজাদের মধ্যে কেবলমাত্র রঘুনাথ মল্ল সমন্ধেই একটু আধটু জানতাম, তাও রেডিওতে যাত্রাপালা শুনে। ধন্যবাদ দেবারতি ম্যাডামকে। বইটি পড়ে কালাপাহাড় সম্পর্কেও অনেক কিছু জানতে পারলাম। কালাপাহাড়ের নাম রাজীবলোচন রায় জানাতাম, কিন্তু এটা জানা ছিল না পুরো নাম রাজীবলোচন রায় ভাদুড়ী। তবে ছাত্রাবস্থায় কোনো এক বইয়ে পড়েছিলাম, কালাপাহাড় উৎকল ও কামরূপের বিভিন্ন মন্দির ধ্বংস করলেও, পুরী মন্দিরের কোনো ক্ষতি করেননি। কারণ সেই সময় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নাকি নীলাচলে অবস্থান করছিলেন।
অনেক চরিত্র। অনেক ঘটনার ঘনঘটা। তবে একবার পড়তে বসলে শেষ না করে ওঠা যাবে না। লেখনীর এমনই যাদু।
তবে এমন কিছু নতুন শব্দ আছে যেগুলির অর্থ জানা নেই। সেগুলির অর্থ যদি উল্লেখ করে দেওয়া হতো ভালো হতো। আর একটি বিষয়, উপন্যাসে অনেক জায়গার উল্লেখ আছে। তাদের বর্তমান অবস্হান বা নাম যদি উল্লেখ করা যেত, তাহলে আরও ভালো হত। হাম্বীরমল্লকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করতে অনেক রাজপুরুষ তথা রাজকর্মচারী কালাপাহাড়ের সাথে হাত মিলিয়েছিল। হাত মেলানোর উদ্দেশ্যও উপন্যাসে লেখিকা উল্লেখ করেছেন। শুধু একটি জিনিস বোধগম্য হল না, কেশব ছড়াকারের উদ্দেশ্য। তার আদি নিবাস কোথায় ছিল এবং মল্লরাজের প্রতি তার বিতৃষ্ণার কারণ কী ছিল তাও অজানা রয়ে গেল।
তবে পরিশেষে বলি, লেখিকা এক অসামান্য উপন্যাস উপহার দিয়েছেন পাঠককুলকে। আমার তো খুব ভালো লেগেছে। বাংলাকে নিয়ে, বাঙালিদের নিয়ে এইরকম আরও অনেক উপন্যাসের আশায় রইলাম।
প্রি-বুক করতে পেরেছিলাম প্রথম দিনই, রাত ১২:৪০ নাগাদ। হাতে পেয়েছিলাম ২৮ শে আগস্ট। কিন্তু নানা কারণে পড়া হয়ে ওঠেনি। মহা সপ্তমীর দিন শুরু করে বইটি পড়ে শেষ করলাম রাত ১:৪২ মিনিটে। সত্যিই এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো। ছোটোবেলা থেকেই হাম্বীরমল্লর নাম শুনে আসছি। কিন্তু তাঁর সম্বন্ধে বিশেষ কিছুই জানা ছিল না। মল্লরাজাদের মধ্যে কেবলমাত্র রঘুনাথ মল্ল সমন্ধেই একটু আধটু জানতাম, তাও রেডিওতে যাত্রাপালা শুনে। ধন্যবাদ দেবারতি ম্যাডামকে। বইটি পড়ে কালাপাহাড় সম্পর্কেও অনেক কিছু জানতে পারলাম। কালাপাহাড়ের নাম রাজীবলোচন রায় জানাতাম, কিন্তু এটা জানা ছিল না পুরো নাম রাজীবলোচন রায় ভাদুড়ী। তবে ছাত্রাবস্থায় কোনো এক বইয়ে পড়েছিলাম, কালাপাহাড় উৎকল ও কামরূপের বিভিন্ন মন্দির ধ্বংস করলেও, পুরী মন্দিরের কোনো ক্ষতি করেননি। কারণ সেই সময় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নাকি নীলাচলে অবস্থান করছিলেন।
অনেক চরিত্র। অনেক ঘটনার ঘনঘটা। তবে একবার পড়তে বসলে শেষ না করে ওঠা যাবে না। লেখনীর এমনই যাদু।
তবে এমন কিছু নতুন শব্দ আছে যেগুলির অর্থ জানা নেই। সেগুলির অর্থ যদি উল্লেখ করে দেওয়া হতো ভালো হতো। আর একটি বিষয়, উপন্যাসে অনেক জায়গার উল্লেখ আছে। তাদের বর্তমান অবস্হান বা নাম যদি উল্লেখ করা যেত, তাহলে আরও ভালো হত। হাম্বীরমল্লকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করতে অনেক রাজপুরুষ তথা রাজকর্মচারী কালাপাহাড়ের সাথে হাত মিলিয়েছিল। হাত মেলানোর উদ্দেশ্যও উপন্যাসে লেখিকা উল্লেখ করেছেন। শুধু একটি জিনিস বোধগম্য হল না, কেশব ছড়াকারের উদ্দেশ্য। তার আদি নিবাস কোথায় ছিল এবং মল্লরাজের প্রতি তার বিতৃষ্ণার কারণ কী ছিল তাও অজানা রয়ে গেল।
তবে পরিশেষে বলি, লেখিকা এক অসামান্য উপন্যাস উপহার দিয়েছেন পাঠককুলকে। আমার তো খুব ভালো লেগেছে। বাংলাকে নিয়ে, বাঙালিদের নিয়ে এইরকম আরও অনেক উপন্যাসের আশায় রইলাম।
August 30, 2021
'ডাকাতরাজা'
দেবারতি মুখোপাধ্যায়
প্রকাশক-পত্রভারতী
মুদ্রিত মূল্য-৩৪৯ টাকা
হাতে পাওয়ার দুই দিনেরও কম সময়ে পড়ে শেষ করলাম 'ডাকাতরাজা'। ইতিমধ্যেই অনেকেই পড়ে ফেলেছেন, পাঠ-প্রতিক্রিয়াও দিয়ে ফেলেছেন। প্রত্যেকেই নিজের মতো করে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। এখানে উনপঞ্চাশতম মল্লরাজা বীরহাম্বীর (বীরসিংহ)-র সুযোগ্য শাসন, প্রজাপালন, শাক্ত থেকে বৈষ্ণব হয়ে ওঠা যেমন আছে, তেমন আছে শাস্ত্রজ্ঞ বৈষ্ণব পন্ডিত শ্রীনিবাস আচার্য্যর বিভিন্ন সাংস্কৃত শ্লোকের প্রাঞ্জল বর্ণনা। তিনি যেমন একাধারে রাজার প্রধান পরামর্শদাতা হয়ে উঠেছেন, আবার তিনি অন্যদিকে একদা তাঁর প্রিয় শিষ্য রাজীবলোচন বা স্নেহের রাজুকে সঠিক পথে আনতে বদ্ধপরিকর। একসময়ের হিন্দু ব্রাহ্মণ পন্ডিত কিভাবে ধর্মান্তরিত হয়ে মহম্মদ ফারমুলী তথা ধ্বংসাত্মক 'কালাপাহাড়' হয়ে সমস্ত হিন্দু মন্দির ধ্বংস করে চললেন তাও জানলাম এখান থেকে। আমরা রাঢ় বাংলার মানুষেরা জেনে এসেছি, কাশীপুরের রাজার মেয়ে ভাদু কম বয়সে মারা যাওয়ার জন্যই ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতে ভাদু পুজো হয়। এতদিনে জানলাম তাঁর অকালমৃত্যুর কারণ। এইরকম নানা ছোট-বড় মল্লভুমি তথা রাঢ়ভূমির ইতিহাসের সাথে কল্পনা মিশিয়ে লেখিকা রচনা করেছেন এই অভিনব ঐতিহাসিক উপন্যাস।
* পরিশেষে পত্রভারতীকে জানাই বিশেষ ধন্যবাদ। 'নারাচ'-এর মতো বাঁধাই না করে এক্ষেত্রে রয়্যাল সাইজের কাগজে খোলামেলা বাঁধাই করার জন্য। যেটা 'নারাচ'-এর মতো উল্টে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে দু'হাতে ধরে থাকতে হয় না।
* লেখিকার কাছে অনুরোধ রইল এইরকম আরও উপন্যাস আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য এবং ভবিষ্যতে পঞ্চকোটরাজের ইতিহাস নিয়েও উপন্যাস লেখার।
দেবারতি মুখোপাধ্যায়
প্রকাশক-পত্রভারতী
মুদ্রিত মূল্য-৩৪৯ টাকা
হাতে পাওয়ার দুই দিনেরও কম সময়ে পড়ে শেষ করলাম 'ডাকাতরাজা'। ইতিমধ্যেই অনেকেই পড়ে ফেলেছেন, পাঠ-প্রতিক্রিয়াও দিয়ে ফেলেছেন। প্রত্যেকেই নিজের মতো করে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। এখানে উনপঞ্চাশতম মল্লরাজা বীরহাম্বীর (বীরসিংহ)-র সুযোগ্য শাসন, প্রজাপালন, শাক্ত থেকে বৈষ্ণব হয়ে ওঠা যেমন আছে, তেমন আছে শাস্ত্রজ্ঞ বৈষ্ণব পন্ডিত শ্রীনিবাস আচার্য্যর বিভিন্ন সাংস্কৃত শ্লোকের প্রাঞ্জল বর্ণনা। তিনি যেমন একাধারে রাজার প্রধান পরামর্শদাতা হয়ে উঠেছেন, আবার তিনি অন্যদিকে একদা তাঁর প্রিয় শিষ্য রাজীবলোচন বা স্নেহের রাজুকে সঠিক পথে আনতে বদ্ধপরিকর। একসময়ের হিন্দু ব্রাহ্মণ পন্ডিত কিভাবে ধর্মান্তরিত হয়ে মহম্মদ ফারমুলী তথা ধ্বংসাত্মক 'কালাপাহাড়' হয়ে সমস্ত হিন্দু মন্দির ধ্বংস করে চললেন তাও জানলাম এখান থেকে। আমরা রাঢ় বাংলার মানুষেরা জেনে এসেছি, কাশীপুরের রাজার মেয়ে ভাদু কম বয়সে মারা যাওয়ার জন্যই ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতে ভাদু পুজো হয়। এতদিনে জানলাম তাঁর অকালমৃত্যুর কারণ। এইরকম নানা ছোট-বড় মল্লভুমি তথা রাঢ়ভূমির ইতিহাসের সাথে কল্পনা মিশিয়ে লেখিকা রচনা করেছেন এই অভিনব ঐতিহাসিক উপন্যাস।
* পরিশেষে পত্রভারতীকে জানাই বিশেষ ধন্যবাদ। 'নারাচ'-এর মতো বাঁধাই না করে এক্ষেত্রে রয়্যাল সাইজের কাগজে খোলামেলা বাঁধাই করার জন্য। যেটা 'নারাচ'-এর মতো উল্টে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে দু'হাতে ধরে থাকতে হয় না।
* লেখিকার কাছে অনুরোধ রইল এইরকম আরও উপন্যাস আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য এবং ভবিষ্যতে পঞ্চকোটরাজের ইতিহাস নিয়েও উপন্যাস লেখার।
Read
September 4, 2021"ডাকাত রাজা" উপন্যাসের নামটার সাথেই যেন একটা চাপা রহস্য প্রথমেই উঁকি দেয় মনের মধ্যে। বস্তুত এই উপন্যাসের পৃষ্ঠার সংখ্যার সাথে টানটান উত্তেজনার গ্রাফও যে ঊর্ধ্বমুখী তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
দিদি তোমার লেখনীর এমনই গুন যে, কাহিনীর প্রতিটা চরিত্রই মনে দাগ কেটেছে গভীরভাবে। রাজার রাজ্যের স্থাপত্যকলার অপরূপ বর্ণনা যেন চোখের সামনেই ছবি হয়ে ফুটে উঠছিলো বারবার, শীতল - মনোহরার অসম্পূর্ণ সংসার এবং জন্মভূমির স্বার্থে শেষে শীতলের মৃত্যুবরন চোখে জল এনেছিল অজান্তেই, মেনকার আত্মবলিদানে গুমড়ে উঠেছি, রোমাঞ্চিত হয়েছি শত্রুপক্ষের আক্রমণের পূর্বে সুপরিকল্পিত রণসজ্জায়, মন ভার হয়ে এসেছে একতরফা এক অব্যক্ত ভালোবাসার নায়ক নায়িকা ওরফে: রুদ্রাক্ষ ও হেমনলিনীর করুন পরিণতিতে, রাজীবলোচনের কালাপাহাড় হয়ে ওঠার কাহিনীর পাশাপাশি তাঁর ধ্বংসলীলার বহু অজানা তথ্যে বিস্মিত হয়েছি বারবার, সর্বোপরি; পণ্ডিত শ্রীনিবাস আচার্যের সান্নিধ্যে একসময়ের সেই তেজী "ডাকাত রাজা"র স্বভাবের আমূল পরিবর্তনে মুগ্ধ হয়ে দেখলাম কিভাবে নিজ পুত্রের হত্যাকারীর অনুশোচনার অশ্রুর সাথে নিজের অশ্রু মিলিয়ে দিয়ে, অবলীলায় ক্ষমা করে কালাপাহাড়কে বুকে টেনে নেওয়ার সাথে মল্লরাজ আমাদের যেন সেই সহজ অথচ পরম কঠিন সত্যের শিক্ষা দিলেন "ক্ষমাই পরম ধর্ম"।
প্রিয় দিদি, বারবার তোমার অক্লান্ত গবেষণার রসদের যোগানে, পরিশ্রম করে বুনে চলা কাহিনীতে এভাবেই মুগ্ধ হয়ে এসেছি, আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি, আব্দার একটাই আগামীতেও হতে চাই।
অফুরন্ত ভালোবাসা নিও দিদি।❤️❤️
দিদি তোমার লেখনীর এমনই গুন যে, কাহিনীর প্রতিটা চরিত্রই মনে দাগ কেটেছে গভীরভাবে। রাজার রাজ্যের স্থাপত্যকলার অপরূপ বর্ণনা যেন চোখের সামনেই ছবি হয়ে ফুটে উঠছিলো বারবার, শীতল - মনোহরার অসম্পূর্ণ সংসার এবং জন্মভূমির স্বার্থে শেষে শীতলের মৃত্যুবরন চোখে জল এনেছিল অজান্তেই, মেনকার আত্মবলিদানে গুমড়ে উঠেছি, রোমাঞ্চিত হয়েছি শত্রুপক্ষের আক্রমণের পূর্বে সুপরিকল্পিত রণসজ্জায়, মন ভার হয়ে এসেছে একতরফা এক অব্যক্ত ভালোবাসার নায়ক নায়িকা ওরফে: রুদ্রাক্ষ ও হেমনলিনীর করুন পরিণতিতে, রাজীবলোচনের কালাপাহাড় হয়ে ওঠার কাহিনীর পাশাপাশি তাঁর ধ্বংসলীলার বহু অজানা তথ্যে বিস্মিত হয়েছি বারবার, সর্বোপরি; পণ্ডিত শ্রীনিবাস আচার্যের সান্নিধ্যে একসময়ের সেই তেজী "ডাকাত রাজা"র স্বভাবের আমূল পরিবর্তনে মুগ্ধ হয়ে দেখলাম কিভাবে নিজ পুত্রের হত্যাকারীর অনুশোচনার অশ্রুর সাথে নিজের অশ্রু মিলিয়ে দিয়ে, অবলীলায় ক্ষমা করে কালাপাহাড়কে বুকে টেনে নেওয়ার সাথে মল্লরাজ আমাদের যেন সেই সহজ অথচ পরম কঠিন সত্যের শিক্ষা দিলেন "ক্ষমাই পরম ধর্ম"।
প্রিয় দিদি, বারবার তোমার অক্লান্ত গবেষণার রসদের যোগানে, পরিশ্রম করে বুনে চলা কাহিনীতে এভাবেই মুগ্ধ হয়ে এসেছি, আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি, আব্দার একটাই আগামীতেও হতে চাই।
অফুরন্ত ভালোবাসা নিও দিদি।❤️❤️
Read
August 29, 2021সত্যি কথা বলতে কি প্রচন্ড ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলাম,রিভিউ যে দিতে পারবো ভাবতে পারিনি ।
আমার শহর বিষ্ণুপুর যে বহু জানা অজানা ইতিহাসের সাক্ষী তা শুনে এসেছি,শুনেছি বিভিন্ন মল্ল রাজা দের গল্পঃ কথা , এখানকার মানুষের রীতি নীতি।ভালো মন্দ মিশিয়ে অনেক ইতিহাস আঁকড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এখানকার মন্দির গুলি।
উপন্যাস এর প্রধান চরিত্র যে ডাকাত রাজা,তারই জীবনের আমূল পরিবর্তন কে ঘিরে গোটা ঘটনা। বেশ কয়েকটি জায়গায় মল্লভূম কে নিয়ে তার গর্ব,প্রজাদের প্রতি তার বিশ্বাস আর ভালোবাসা আমাকেও গৌরবান্বিত করেছে। তেমনিই আরও কয়েকটি জায়গায় তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে ভুল প্রমাণিত হওয়ায় কষ্টও পেয়েছি ।
সর্বোপরি , মানুষের সত্য ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভের যে আমূল পরিবর্তন প্রথমে রাজা পরে বিধ্বংসী ও অত্যাচারী কালাপাহাড় তথাপি রাজিবলোচন এর মধ্যে লক্ষ্য করলাম তা প্রশংসনীয়।
লেখিকা খুব সুন্দর ভাবে সঠিক জায়গায় বৃত্তান্ত ও সঠিক জায়গায় নাটকীয় রূপ দিয়ে সুনিপুণ ভাবে তুলে ধরেছেন গোটা ঘটনা। বইটি সম্পূর্ণ করতে লেখিকার অমানুষিক পরিশ্রম কে কুর্নিশ। আশা করি এইভাবেই আপনি আরও অনেক বই আমাদের উপহার দেবেন । 🙏
ধন্যবাদ Debarati Mukhopadhyay দিদি ❤️
আমার শহর বিষ্ণুপুর যে বহু জানা অজানা ইতিহাসের সাক্ষী তা শুনে এসেছি,শুনেছি বিভিন্ন মল্ল রাজা দের গল্পঃ কথা , এখানকার মানুষের রীতি নীতি।ভালো মন্দ মিশিয়ে অনেক ইতিহাস আঁকড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এখানকার মন্দির গুলি।
উপন্যাস এর প্রধান চরিত্র যে ডাকাত রাজা,তারই জীবনের আমূল পরিবর্তন কে ঘিরে গোটা ঘটনা। বেশ কয়েকটি জায়গায় মল্লভূম কে নিয়ে তার গর্ব,প্রজাদের প্রতি তার বিশ্বাস আর ভালোবাসা আমাকেও গৌরবান্বিত করেছে। তেমনিই আরও কয়েকটি জায়গায় তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে ভুল প্রমাণিত হওয়ায় কষ্টও পেয়েছি ।
সর্বোপরি , মানুষের সত্য ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভের যে আমূল পরিবর্তন প্রথমে রাজা পরে বিধ্বংসী ও অত্যাচারী কালাপাহাড় তথাপি রাজিবলোচন এর মধ্যে লক্ষ্য করলাম তা প্রশংসনীয়।
লেখিকা খুব সুন্দর ভাবে সঠিক জায়গায় বৃত্তান্ত ও সঠিক জায়গায় নাটকীয় রূপ দিয়ে সুনিপুণ ভাবে তুলে ধরেছেন গোটা ঘটনা। বইটি সম্পূর্ণ করতে লেখিকার অমানুষিক পরিশ্রম কে কুর্নিশ। আশা করি এইভাবেই আপনি আরও অনেক বই আমাদের উপহার দেবেন । 🙏
ধন্যবাদ Debarati Mukhopadhyay দিদি ❤️
September 12, 2021
প্রায় রুদ্ধশ্বাসে পড়া শেষ করলাম "ডাকাত রাজা"।আমি বিষ্ণুপুরেরই বাসিন্দা,ছোট থেকে এখানকার রাস্তা ঘাট,রাজদরবার,মন্দির চষে বড় হয়েছি;তাই পড়তে পড়তে বারবার হারিয়ে গেছি প্রাচীন মল্লরাজধানীর সময়ঘড়িতে,ষষ্ঠদশ শতকের বিষ্ণুপুরে।উপন্যাসটি হিষ্টরিক্যাল ফিকশন বা ফিকশনাল হিস্টরি কোনটিই আমার মনে হয়নি,বরং প্রচুর ইতিহাস গবেষণা এবং লেখিকার অনন্য বর্ণন ক্ষমতার ফসল। আদ্যোপান্ত মহারাজ বীরহাম্বিরের শৌর্যগাথার এমন রূপায়ণ সম্ভবত আগে কখনো হয়নি।সাথে মনোহরা, মেনকা,এবং যুবরাজ রঘুনাথ ,শীতল চরিত্রগুলি অত্যন্ত মনোগ্রাহী রূপে উপস্থাপিত হয়েছে।উপন্যাস জুড়ে আমরা বৈষ্ণব পণ্ডিত শ্রী শ্রীনিবাস আচার্যের এক গৌরকান্তি উপস্থিতি সত্যিই "তিল আধ পাশরিতে নারি।" কালাপাহাড় এর জীবন বর্ণনাও ততোধিক রোমাঞ্চকর। বিস্মৃত এই মল্লভূমের গৌরবময় কাহিনী সুদক্ষ ভাবে দুই মলাটের মাঝে তুলে ধরে প্রেম,ছলনা,রোমাঞ্চ,বলিদান,বীরত্বের এবং সর্বোপরি বৈষ্ণব ভক্তিরসের মিশেলে যেভাবে উপন্যাসের আঙিনায় উন্মুক্ত করা হয়েছে সে জন্য দেবারতিদিকে অনেক ধন্যবাদ।"ডাকাত রাজা"র পরবর্তী খন্ডের অধীর অপেক্ষায় রইলাম।
September 1, 2021
আপনার বেশির ভাগ লেখাই পড়েছি। ডাকাত রাজা আপনার page এ পড়তে শুরু করেছিলাম, তখন অপেক্ষা করতাম পরের অধ্যায়ের জন্য। কিন্তু তখন গল্পের শেষ হয়নি। তবে বীরহাম্বীর, কালাপাহাড়, মেনকা, শিরোমনি, পবন, রঘুনাথ, রূদ্রাক্ষ এরা মনের কোণে রয়ে গিয়েছিলেন। তাই দুদিন আগে বইটি হাতে পেয়েই সময় বার করে পড়তে শুরু করলাম। এমনকি weekend outing এও সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম😊।অনেক দিন পর বেড়াতে গিয়ে রাত জেগে বই পড়লাম ছোটবেলার মতো। এত সুন্দর গল্পের বাঁধুনি, এত প্রাঞ্জল ভাষা, একবার শুরু করলে শেষ না করে থামা যায় না।
দেবারতি, আপনাকে অনেক অভিনন্দন। এই লেখার পিছনে কতটা গবেষণা ও পরিশ্রম আছে বুঝতে পারছি। এরকমভাবেই লিখতে থাকুন। আমাদের সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করুন। আর আমাদের মতো পাঠকদের বাংলা সাহিত্যমুখী করে তুলুন।😊👍
আর আমি বিষ্ণুপুর যাইনি কখনো, সুযোগ পেলেই যাব যত তাড়াতাড়ি হয়। আমাদের ভুলে যাওয়া ইতিহাসকে তুলে ধরার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
দেবারতি, আপনাকে অনেক অভিনন্দন। এই লেখার পিছনে কতটা গবেষণা ও পরিশ্রম আছে বুঝতে পারছি। এরকমভাবেই লিখতে থাকুন। আমাদের সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করুন। আর আমাদের মতো পাঠকদের বাংলা সাহিত্যমুখী করে তুলুন।😊👍
আর আমি বিষ্ণুপুর যাইনি কখনো, সুযোগ পেলেই যাব যত তাড়াতাড়ি হয়। আমাদের ভুলে যাওয়া ইতিহাসকে তুলে ধরার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
October 22, 2021
#পাঠকের কথা -
উপন্যাস - ডাকাত রাজা.
এবারের পুজোর ছুটিতে দেবারতি দির হাত ধরে গিয়েছিলাম বিষ্ণুপুর। না না, এই বর্তমান সময়ে নয়, ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে মল্লরাজ বীর হাম্বিরের রাজত্বকালে।
ডাকাত রাজা পড়তে পড়তে বার বার চোখে ভেসে আসছিল মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুরের স্থাপত্য তার শিল্পকলা যা কালের যাত্রাপথে কত না ইতিহাসের সাক্ষী। এমন নিখুঁত অথচ প্রানময়ী ঐতিহাসিক তথ্যে ভরপুর উপন্যাস আধুনিক বাংলা সাহিত্যে বিরল।
শুধু তাই নয় বৈদিক সাহিত্য, বিভিন্ন সংহিতা, উপনিষদের শ্লোকের উদ্ধৃতি এক অনুপম সাহিত্য সুষমার দাবী রাখে। সর্বোপরি শেষাংশে চরম আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, ঈশ্বর চেতনা ও জীবনবোধের শিক্ষা আমাদের এক নতুন চলার পথের সন্ধান দেয়।
ইতিহাস কেবল ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুই মলাটের অধীনস্থ নয়, সে কেবল অতীতের ঘটে যাওয়া ঘটনার নিরস ধারাবাহিক আলেখ্য নয় - তার ব্যপ্তি ব্যাপক ও সর্বাত্রক আর সাথে যদি মেশে কিছুটা কিংবদন্তি তবে তো তা সোনায় সোহাগা।
উপন্যাস - ডাকাত রাজা.
এবারের পুজোর ছুটিতে দেবারতি দির হাত ধরে গিয়েছিলাম বিষ্ণুপুর। না না, এই বর্তমান সময়ে নয়, ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে মল্লরাজ বীর হাম্বিরের রাজত্বকালে।
ডাকাত রাজা পড়তে পড়তে বার বার চোখে ভেসে আসছিল মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুরের স্থাপত্য তার শিল্পকলা যা কালের যাত্রাপথে কত না ইতিহাসের সাক্ষী। এমন নিখুঁত অথচ প্রানময়ী ঐতিহাসিক তথ্যে ভরপুর উপন্যাস আধুনিক বাংলা সাহিত্যে বিরল।
শুধু তাই নয় বৈদিক সাহিত্য, বিভিন্ন সংহিতা, উপনিষদের শ্লোকের উদ্ধৃতি এক অনুপম সাহিত্য সুষমার দাবী রাখে। সর্বোপরি শেষাংশে চরম আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, ঈশ্বর চেতনা ও জীবনবোধের শিক্ষা আমাদের এক নতুন চলার পথের সন্ধান দেয়।
ইতিহাস কেবল ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুই মলাটের অধীনস্থ নয়, সে কেবল অতীতের ঘটে যাওয়া ঘটনার নিরস ধারাবাহিক আলেখ্য নয় - তার ব্যপ্তি ব্যাপক ও সর্বাত্রক আর সাথে যদি মেশে কিছুটা কিংবদন্তি তবে তো তা সোনায় সোহাগা।
September 13, 2021
ডাকাত রাজা পড়ে শেষ করলাম। সত্যি বলতে কি, অনেকদিন পর এত ভালো বই পেলাম যেখানে মল্ল রাজ্যের সবচেয়ে প্রতাপশালী ও মহান রাজার এত ভালো বর্ণনা রয়েছে। অদ্ভুত আপনার লেখনীশৈলী। এত চরিত্র, কাহিনীর এত উত্থান পতন কি দারুন ভাবে আপনি একসাথে বেঁধেছেন এই 'ডাকাত রাজা' তে। আমি বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা। ছেলে বেলা থেকেই বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজা দের অনেক কাহিনী শুনে ও পড়ে বড়ো হয়েছি। কিন্তু ডাকাত রাজা সত্যিই আলাদা। ডাকাত রাজা একটা hang over তৈরি করে। মা মৃন্ময়ী মন্দির থেকে মল্ল রাজপ্রাসাদ এর যে ভাঙ্গা অংশ দেখা যায়, সেইদিক তাকালে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে আসে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আমার সবার প্রিয় এই বিষ্ণুপুরের এই বিস্মৃতপ্রায় প্রাচীন গৌরব, এই দীর্ঘ মল্ল রাজত্ব এর কথা আরো ভালোভাবে প্রচারের আলোয় আনার জন্য। বিষ্ণুপুর নিয়ে আপনার আরো লেখনী আসুক। ভালো থাকবেন দিদি।
August 30, 2021
পড়লাম বললে ভুল হবে. এক নিঃশ্বাসে গিললাম বইটা. প্রতিটি মোড়ে চমক. এত ঘাত প্রতিঘাত তাও আবার বাংলার ই এক বিস্মৃতপ্রায় রাজা ও রাজবংশ কে নিয়ে. বাংলার ভক্তি আন্দোলনের রসে এ উপন্যাস টইটম্বুর. শুধু শান্তিপুর ডুবু ডুবু নয়, বিষ্ণুপুর ও ভেসে যায়. আমি এক সাধারণ পাঠক. আপনার প্রায় সব বই এর আগে পড়েছি. তবু ও বলবো সাহিত্য সৃষ্টির গুণমানে নারাচ আর এই বইটি যেন বাংলা সাহিত্যের দরবারে কালজয়ী হয়. বাংলার সাহিত্যের আকাশে আপনি আরো বহুদিন আরতির আরাত্রিকা হয়ে জ্বলে থাকুন স্বমহিমায়.
বিষ্ণুপুর কে এ রাজ্য হয়তো তেমন বিপণন করে উঠতে পারে নি. এই বই পড়ে কোনো একজন পাঠক ও যদি দশাবতার তাস বা দলমাদল কামান এর খোঁজ করেন তাহলেই আপনার কলম সার্থক.
বিষ্ণুপুর কে এ রাজ্য হয়তো তেমন বিপণন করে উঠতে পারে নি. এই বই পড়ে কোনো একজন পাঠক ও যদি দশাবতার তাস বা দলমাদল কামান এর খোঁজ করেন তাহলেই আপনার কলম সার্থক.
November 29, 2021
বিষ্ণুপুর এর ইতিহাস জানার আগ্রহ থেকেই পড়তে শুরু করি ডাকাতরাজা ..প্রথমে একটু monotonous লাগলেও এত সুন্দর ইতিহাস এর প্রতিটি বর্ণনা আর প্রতিটা চরিত্র যেন চোখের সামনে ফুঁটে উঠেছে...রাজা বিরহাম্বীর এর পরিবর্তন,রঘুনাথ পবন এর নিঃশর্ত বন্ধুত্ব,রুদ্রাক্ষ এর কৃতজ্ঞতা,শীতল এর মৃত্যু...আর শেষে মেনকার আত্মত্যাগ,কালাপাহারএর মানসিক বিহ্বলতা ...সব যেন অন্তর দিয়ে অনুভব করেছি...আর যাঁর কথা না বললেই নয়..শ্রীনিবাস আচার্য ...তাঁর কথা শুনে প্রেমের বাণী শুনে চোখের জল নিজ মনে গড়িয়েছে..এভাবেও একজন দৈত্য কে ক্ষমা করে মানুষ করা যায়..আর ক্ষমতা র কি পরিণতি..সবশেষে শুধু মানবপ্রেম ই মহান..না জাতি না ধর্ম না ক্ষমতা..অনেককিছু জেনে সমৃদ্ধ হলাম..ধন্যবাদ আপনাকে।
September 4, 2021
খুব অন্যায় করেছেন আপনি। ভারী অন্যায়। ঘর-সংসার,আপিস-কাছারী কি চুলোয় উঠবে? রাতে চোখের পাতা এক করতে যাওয়ার আগে ডাকাতরাজা আবার সকালে চোখ খুলেই ডাকাতরাজা! এর মাঝে মাঝেই আবার কত্তা আর ছানাটাকে জোরে জোরে পড়ে শোনানো বিশেষ বিশেষ অংশগুলি। এত কি পারা যায়? তাও তো এখনো রয়েছি একশো পঁয়ত্রিশ পাতায় । শেষ করলে মুখে আর কথা জোগাবে না তা বেশ বুঝতে পারছি, তাই মাঝপথেই আপনার সাথে কথা সেরে নিলাম।
আপনি খুব ভালো থাকুন। ঐতিহ্য-মন্ডিত হোক আপনার জীবন ও লেখনী। সবশেষে, লেখকের জন্য সব পাঠকের সেই চিরন্তন শুভেচ্ছাবাণী জানাই, "সোনার কলম হোক আপনার"।
নমস্কার। ইতি- এক গুনমুগ্ধ পাঠক
আপনি খুব ভালো থাকুন। ঐতিহ্য-মন্ডিত হোক আপনার জীবন ও লেখনী। সবশেষে, লেখকের জন্য সব পাঠকের সেই চিরন্তন শুভেচ্ছাবাণী জানাই, "সোনার কলম হোক আপনার"।
নমস্কার। ইতি- এক গুনমুগ্ধ পাঠক
November 18, 2021
দুর্গা পূজার জন্য আয়োজিত পাড়ার মেলায় "ডাকাতরাজা" বইটা প্রথম দেখি। বিষ্ণুপুরের মল্লরাজা বীরহাম্বীরকে নিয়ে লেখা। আমার পৈতৃক বাড়ি বিষ্ণুপুরের নিকটবর্তী একটি অঞ্চলে হওয়ায় ছোট্ট থেকেই আমি বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি, পড়েছি। এই বইটা ২.৫ দিনে পড়ে শেষ করি। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আমি যেন সেই সময়ে চলে গেছি। প্রতিটি চরিত্র এতটাই সাবলীল যেন জীবন্ত চরিত্র।এই রকম সুন্দর একটা বই উপহার দেওয়ার জন্য মাননীয়া লেখিকা মহাশয়াকে ধন্যবাদ। সুস্থ থাকবেন। ভালো থাকবেন।
ইতি
আপনার গুণমুগ্ধ একজন নতুন পাঠিকা। Debarati Mukhopadhyay
ইতি
আপনার গুণমুগ্ধ একজন নতুন পাঠিকা। Debarati Mukhopadhyay
Read
August 28, 2021একজন বিষ্ণুপুরবাসী হিসেবে চির কৃতজ্ঞ রইলাম ম্যাডাম আপনার কাছে, আপনাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই বিষ্ণুপুর কে এইভাবে সর্বসাধারণের সামনে তুলে ধরার জন্য। আমি নিশ্চিত "ডাকাতরাজা "র জন্য বিষ্ণুপুরের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরো বাড়বে। কালকে বইটি হাতে পাই , আজ শেষ করলাম, সত্যি বলছি একদম নিরাশ করেননি। আপনার রুদ্র -প্রিয়ম সিরিজের ভক্ত আমার ঘরের সবাই। আপনি আমাদেরকে এভাবে সুন্দর সুন্দর বই উপহার দিতে থাকুন,এই শুভ কামনা রইলো।🥰🙏
November 28, 2021
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। "ডাকাতরাজা" পড়ে আমি মুগ্ধ। বইটা গত পরশুদিন শেষ করেছি। মুগ্ধ এতটাই হয়েছি, এখনও পর্যন্ত রেশ কাটেনি। অসাধারণ লিখেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই বইটা আমি আমার সংগ্রহে রাখব। বইটা প্রথমবার প্রি-বুক করে আপনার সিগনেচার কপি পেয়েছিলাম। জীবনে অনেক কিছু না পাওয়ার মধ্যেও এটা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া।
এই বইটার আরেকটা সিগনেচার কপিও আমার কাছে আছে। 10/09/2021 পত্রভারতীর কলেজ স্ট্রিটের শোরুম থেকে কালেক্ট করেছি। সেটা আরেকটা সুন্দর সম্পর্কের গল্প। আপাতত এইটুকুই🙏
এই বইটার আরেকটা সিগনেচার কপিও আমার কাছে আছে। 10/09/2021 পত্রভারতীর কলেজ স্ট্রিটের শোরুম থেকে কালেক্ট করেছি। সেটা আরেকটা সুন্দর সম্পর্কের গল্প। আপাতত এইটুকুই🙏
January 5, 2023
ভালো - লেখিকা অব্যশই কিছুটা পড়াশুনা করে লিখেছেন। প্লটও মন্দ নয়।
খারাপ - লেখিকা বোধহয় চেষ্টা করেছেন তাঁর পড়া কোন তথ্য বিফলে না যায়। তাই যথেচ্ছ ইনফো ডাম্পিং করেছেন। তাই চরিত্রেরা অনেকসময় উইকিপিডিয়ার মতো খালি তথ্য দিয়ে গেছে। এর কারনে কাহিনীর বুনোট অত্যন্ত দুর্বল হয়েছে। তাছাড়া কতটা ইতিহাস আর কতোটা লোককথা সেটা পরিষ্কার নয়। ভৃত্য স্থানীয় লোকেরা প্রায় সবাই "করেচি খেয়েচি" বলে। নারী চরিত্রেরা সবাই দুর্দান্ত সুন্দরী।
খারাপ - লেখিকা বোধহয় চেষ্টা করেছেন তাঁর পড়া কোন তথ্য বিফলে না যায়। তাই যথেচ্ছ ইনফো ডাম্পিং করেছেন। তাই চরিত্রেরা অনেকসময় উইকিপিডিয়ার মতো খালি তথ্য দিয়ে গেছে। এর কারনে কাহিনীর বুনোট অত্যন্ত দুর্বল হয়েছে। তাছাড়া কতটা ইতিহাস আর কতোটা লোককথা সেটা পরিষ্কার নয়। ভৃত্য স্থানীয় লোকেরা প্রায় সবাই "করেচি খেয়েচি" বলে। নারী চরিত্রেরা সবাই দুর্দান্ত সুন্দরী।
Displaying 1 - 30 of 57 reviews












