চেপে রাখা ইতিহাস একটা বই না, একটা বোম। যা ফাটিয়েছেন গোলাম মোর্তজা সাহেব। ভারতবর্ষের কিংবদন্তিরা স্বীকার করেছেন ভারতবর্ষের ইতিহাস ভুলে ভরা ইতিহাস। যে ইতিহাস রচনা করা হয়েছে বর্ণহিন্দু ও বৃটিশদের সহযোগিতায় মুসলিম-হিন্দু দূরত্ব সৃষ্টির জন্য।
মুসলিম শাসকের আগে থেকেই মুসলিম ব্যবসায়ীদের আনাগোনা ছিলো এই ভারতবর্ষে। হিন্দুদের সাথে ছিলো সুসম্পর্ক। মুসলিম শাসকদের আগমনেও সেই সম্পর্কে কোনো ফাটল তৈরি হয়নি।
হিন্দুদের একদল নিজেদের মধ্যেই জাত বৈষম্য তৈরি করেছিলো। নিচু জাতের বলে নিজেদেরই এরা অত্যাচার করতো, অপমান করতো। বৃটিশদের আগমের পর তাদের একটা অংশ বৃটিশদের সাথে মিশে তৈরি করে একের পর এক মুসলিম বিদ্বেষ ইতিহাস। যা ফাটল তৈরি করে হিন্দু মুসলিম সম্পর্কে। নব্য মুসলিমদের অনেকেও রাজনৈতিক কারণে নিজেদের স্বার্থে যোগ দেয় এতে৷
ভারতবর্ষে ভাস্ক-দা-গামে যতটা সম্মানের সাথে মেনে নেয়া হয় মুসলিম শাসকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো৷ এই দেখুন না কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা অস্ট্রেলিয়ার হারকে অঘটন বা দুর্ঘটনা বলে প্রচার করেই চলছে। ভুল শিক্ষার কারণেই ২০২১ সালে এসেও এরা বিদ্বেষ মুক্ত হতে পারেনি।
তৎকালীন নিম্নশ্রেণীর হিন্দুরা মুসলমানদের সাথে প্রতিরোধ করলেও জমিদার ও উচ্চবর্ণ হিসেবে পরিচিতরা ইংরেজদের পক্ষেই ছিলো৷ এখন যেমন শিক্ষিতরা ইউরোপ আমেরিকা বললেই লাফিয়ে উঠে, স্পষ্ট মিথ্যাকে সত্য বলে মেনে নেয় তখনও একদল উপমহাদেশীয় বুদ্ধিজীবীরা ওদের সাথেই ছিলো। যদিও পরবর্তীতে ধোকা খেয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিলো। কিন্তু তা ভালো ফল বয়ে আনেনি। ফলাফল সিপাহী যুদ্ধের পরেও আরো প্রায় ১০০ বছর পরাধীনতা। অথচ এই সিপাহী বিদ্রোহতে যে অসংখ্য মুসলিম নেতার অবদান ছিলো তা আজ বেশির ভাগই অস্বীকার করা হয়৷
ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যাদের মাথায় তুলে নাচা হয় তাদের অনেকেই ছিলেন ইংরেজদের চাটুকার। প্রতিটি বিদ্রোহের সময়ে তারা ইংরেজের পক্ষে ইনিয়ে বিনিয়ে কিংবা সরাসরি পক্ষ নিয়েছে। অথচ আজ তারাই মাথার তাজ আর মুসলিমরাই যেন তাদের চোখের বিষ।
ভারতের ইতিহাস বদলের প্রেক্ষাপট ও মুছে ফেলা অনেক ইতিহাস নিয়েই রচিত 'চেপে রাখা ইতিহাস' বইটি।
আমাদেরকে ভারতবর্ষের মুসলমানদের যে ইতিহাস গেলানো হয়, তা যে বিকৃত সেটা লেখক ও পাঠক উভয়েরই জানা । হিন্দু ঐতিহাসিকরা প্রতিহিংসা বশত এমন অনেক ঘটনা বর্ণনা করেছেন ; যেগুলো কোন মুসলমান দ্বারা সংঘটিত হওয়া অসম্ভব । এই বইয়ে সেসব ঘটনাই বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে । আমি কোন ঐতিহাসিক নই, আর আমার পক্ষে লেখকের সব রেফারেন্স ঘেটে দেখাও সম্ভব হয়নি , তাই এই বইয়ে উল্লেখিত ইতিহাসই সত্যি এমন দাবি আমি করবো না । তবে এই বইয়ে যেরকম বর্ণনা করা হয়েছে, মুসলমানদের ইতিহাস সেরকম হওয়াই বিশ্বাসযোগ্য তা অবশ্যই বলবো ।