কেনেথ এন্ডারসন , ভারতীয় লেখক ও শিকারী। বনে বিপদ বইয়ে পাঁচটা গল্প আছে।
তালাভাদির বাঘ — কেনেথ এন্ডারসনের বন্ধু হাঘি হেইলস্টোন। ময়ার নদীর তীরে পছন্দমত একটুকরো জমি গড়ে তুলেছিলেন ”ময়ার উপতাকা র্যাঞ্চ। ভারতের কোনো কোনো এলাকায় বিশেষ প্রজাতির এক ধরনের ঘাসের খোঁজ পান এসময় হাঘি। এই ঘাসের বিশেষত্ব হলো শুকনো অবস্থায় এর কাজগুলো দিয়াশলাইয়ের কাঠির কাজ করে। হাঘির মাথায় বুদ্ধি চাপলো এই “দিয়াশলাই ঘাস’র চাষ করার। সেই ঘাসের জমিতে, হরিণ , শুয়োরের উৎপাত শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেখানে বাঘ- চিতাবাঘের আনাগোনাও শুরু হয়। এভাবেই শেষ পর্যন্ত হাঘির গুলিতে এক বাঘ ভয়ংকর ভাবে আহত হয় এবং তার মুখটি বীভৎস রকমের হয়ে যায়। পরবর্তীতে বাঘটি মানুষখেকোতে পরিণত হয়। এদিকে আবার হাঘি গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায়। যার ফলে সে কেনেথ এন্ডারসনকে অনুরোধ জানায় সে যেন মানুষখেকো বাঘটির শিকার করেন। কেনেথও রাজি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত কেনেথ সেটাকে দমনও করেন। তবে এত সহজে নয়। তার জন্য কেনেথ প্রায় মৃত্যুর মুখে পড়ে যাচ্ছিলেন। ঘটনার কিছুদিন পরে হাঘি নিজ দেশে ফিরে যান।
গেরহেট্টির শয়তান - পাগল খেতাব পাওয়া একটা হাতির কাহিনি এটা। হাতিটা কিভাবে পাগল হয়েছে সে ব্যাপারে এন্ডারসন জানেন না। যেকারণেই হাতিটা পাগল হোক না কেন শয়তানটা ইতোমধ্যে কয়েকজন মানুষকে খুন ও জখম করে ফেলেছে। এন্ডারসন এবং তার বন্ধু রাঙা মিলে এই পাগলা হাতিটাকে শিকার করেন।
জালাহালির খুনি — গল্পটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেকার সময়ের। একটা স্বাভাবিক আকারের সাধারণ একটি চিতা বাঘের কাহিনি। যে নিজের জীবন বাঁচাতে লড়েছে সাহসীভাবে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। আর এটা করতে গিয়ে তিন জন মানুষ মারা পড়ে তার হাতে, আহত হয় এগারো জন। তবে চিতা বাঘটার মৃত্যু হয়েছে বীরের মতো, অপরাজিত থেকেই, কয়েকদিনের মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করার পর।
মামান্দুরের নরখাদক — এটা একটা মানুষখেকো বাঘিনীর গল্প।
রহস্যময় বন — অলৌকিক কিছু ঘটনার বিবরণ নিয়ে এই অংশের লেখাগুলি। প্রতিটাতেই এন্ডারসন ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী। কালো যাদুর কাহিনী , হাতি বৃদ্ধ হলে নদীতে আত্মাহুতি দেয়ার মিথটা সত্য না মিথ্যা এটা পরীক্ষা করাসহ আরও একটা কাহিনী দিয়ে বইটা শেষ হয়েছে।
বানানে দুয়েকটা ভুল নজরে আসছে। ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটার মূল্য ১৫০৳।
কেনেথ এন্ডারসনের বন্ধু হাঘি হেইলস্টোন। ময়ার নদীর তীরে পছন্দমত একটুকরো জমি কিনে রেঞ্চ গড়ে তুলেছিলেন। মাঝখানে মাথায় বুদ্ধি চাপলো "দিয়াশলাই ঘাস" এর চাষ করবেন। সেই ঘাসের আড়ে হরিণ, শুয়োরের উৎপাত, তারপর তাদের লোভে বাঘ চিতাবাঘের আনাগোনা - আর শেষমেশ হাঘির গুলিতে এক বাঘের আহত হয়ে মানুষখেকোতে পরিণত হওয়া - যে বাঘটি পরিচয় লাভ করেছিলো 'তালাভাদির মানুষখেকো' নামে। গুলিতে মুখ বীভৎসভাবে নষ্ট হওয়া এই মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগকে দমন করেন কেনেথ। তবে এত সহজে নয়, দারুণ টক্কর দিয়েছিলো বাঘটা। একবার তো মরতেই বসেছিলেন। গভীর রাতে জলাশয়ের মাঝে নেমে চারপাশে চক্কর দেয়া বাঘ আর হাতির কবল থেকে এন্ডারসন যে কিভাবে ফিরেছিলেন - ভাবতেই গায়ে কাঁটা দেয়।
মানুষখেকোটির হাতে নিহত নিরীহ মানুষগুলোর রক্তের দাগ হাঘির হাতেও লেগেছিলো। তাই ঘটনাটির পর বেশিদিন বাঁচেননি তিনি।
তালাভাদির বাঘের মতই মামান্দুরের নরঘাতক বাঘিনীর কাহিনীও শিহরণ জাগানো। বিখ্যাত চামলা ভ্যালির ডোরাকাটার উত্তরসূরী হিসেবে আবির্ভাব হয় এই বাঘিনীর। এছাড়া মানুষের শয়তানি আর জ্বালাতনও যে প্রাণীদের নরঘাতক হতে বাধ্য করে তার উদাহরণ 'জালাহালির খুনী'। 'গেরহেট্টির শয়তান' এক পাগলা হাতি নিয়ে। শুরুতে পরপর তিনটা ঘটনা আছে হাতির আক্রমণের, সেগুলা ভাল্লেগেছে।
বইটার শেষ হয়েছে অলৌকিক কিছু ঘটনার বিবরণ দিয়ে। প্রতিটাতেই কেনেথ এন্ডারসন ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী। সুতরাং ভুয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে কালো যাদুর কাহিনীটাতে আক্রান্ত মেয়েটির গালে মুখে টর্চ জ্বেলে, আঙুল ঢুকিয়ে আসলেই পাথর বের হয় কিনা তা কনফার্ম করতে গলদঘর্ম হয়েছেন কেনেথ। হাতি বৃদ্ধ হলে নদীতে আত্মাহুতি দেয়ার মিথটা যে সত্য তাও নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে জেনেছেন তিনি। বাকি কাহিনীটা এক পরিত্যক্ত গ্রামের মন্দিরের। মন্দিরের পবিত্র লন্ঠন চুরি করে কিভাবে এক বিদেশি খ্রিস্টান দম্পতি অভিশাপের সম্মুখীন হয়েছেন তা নিয়ে লেখা।
ওভারঅল চমৎকার একটি বই। রেটিং ৪/৫। শেষ লেখাটি - 'রহস্যময় বন' যে কারো অবিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিতে সক্ষম।