❛𝘈𝘯𝘺𝘣𝘰𝘥𝘺 𝘤𝘢𝘯 𝘮𝘢𝘬𝘦 𝘩𝘪𝘴𝘵𝘰𝘳𝘺; 𝘰𝘯𝘭𝘺 𝘢 𝘨𝘳𝘦𝘢𝘵 𝘮𝘢𝘯 𝘤𝘢𝘯 𝘸𝘳𝘪𝘵𝘦 𝘪𝘵.❜ ― 𝙊𝙨𝙘𝙖𝙧 𝙒𝙞𝙡𝙙𝙚 বাংলার ইতিহাস হাজার ব্যাপক। এই ইতিহাসের পরতে পরতে আছে সুখ-দুঃখের আখ্যান। আছে হাসি, আনন্দ। আবার অশ্রুও। তবে সবথেকে বেশি মনে হয় আছে র ক্তপাত। ইতিহাস তৈরী হয় বীরের মাধ্যমে। পরাজিতের আখ্যান লিখে রাখে বা মনে রাখে খুব কমই। মোঘল শাসনের সময় বাঙাল মুল্লুকের দায়িত্বে ছিল সামন্ত রাজা, নবাব, হাকিম। তাদের অনেকের কথাই আমরা জানি। সুদূর দিল্লি থেকে সরাসরি দেখভালের অভাবে অনেক সময় বি দ্রো হ ও করে বসতেন বাংলার দায়িত্বে থাকা রাজারা। আবার দেখা গেছে রাজার রাজ্যের ভেতরেই দানা বেঁধেছে ষ ড় য ন্ত্রে র বীজ। বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা তথা এই মুল্লুক ছিল পরস্পরের সাথে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি বজায় রেখে চলা এক স্থান। এখানে ধর্মের ভেদাভেদ কিংবা জাতপাতের ব্যাপার থাকলেও একে অপরের বন্ধুসম ছিল। মুসলিম ছিল হিন্দুর বন্ধু। একইসাথে তারা কাজ করতো, বাস করতো। তবে সবসময় যে এই সম্প্রীতি বজায় থাকতো, এমনটাও নয়। গোড়া অথবা কিছু কুচ ক্রীর ইশারায় দাঙ্গাও বেঁধে যেত। হতো ধর্মের নামে ব্যাবসা। নিয়মকে আপন স্বার্থে বদলে দিতো কিছু দূষিত মনের মানুষ। এই উপন্যাসের আখ্যান এমনই এক সময়ের।
∆ রাজকুমারী ৪- দ্য এন্ড অব দ্য ডে ভিল❜স কিংডম ন্যায় আর ইনসাফের পক্ষের ল ড়া ই বাংলা আসাম থেকে ছড়িয়ে গেছে ছোটো ছোটো রাজ্যে। বিভিন্ন দুর্গে অধিষ্ঠিত আছে কিছু অ ত্যা চা রী রাজা। যারা পুরুষ হিসেবে শুধু ভোগ করাকেই নিজেদের অধিকার মনে করে। এমনই রাজা রিয়াসিং, রাজকুমার শাওন সহ এই খান্দানের সবাই। একেক দুর্গে তারা ধর্মের নামে অনাচারের প্রাসাদ বানিয়ে রেখেছিল। তাতে দগ্ধ হচ্ছিল সাধারণ জনগণ। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে হাকিমের বাহিনী তাদের জাল গুটিয়ে এনেছে অন্তিম আ ঘা তের জন্য। খোলাসা হবে অনেক রহস্য। শেষমেষ কি রাজকুমারী চন্দ্রকান্ত অধীন হবে স্বাধীন রাণী হিসেবে? অবশেষে কি রাজ্যের নেতা তার প্রজাদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে থাকিবে? পাঠ প্রতিক্রিয়া: ❝রাজকুমারী❞ উর্দু সাহিত্যের লেখক ড. করম হোসাইন শাহরাহি এর লেখা চার খন্ডের একটি সিরিজ। যেখানে লেখক বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার সোনালী অতীত এবং মুসলিমদের বিজয় আখ্যানের এক দাস্তান রচনা করেছেন। ইতিহাসের প্রায় হারিয়ে যাওয়া এবং অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত বিষয়কে উপজীব্য করে উপন্যাস রচনা করেছেন। উপন্যাসের বিষয়ে কিংবা লেখকের বিষয়ে খুব একটা তথ্য খুজে পাইনি। মূল বইটি উর্দুতে এবং আমার ধারণা উর্দু থেকে সরাসরি বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। কারণ এর কোনো ইংরেজি ভার্সন আমি কোথাও পাইনি। ২০১৪ সালে সম্ভবত বইটি রচিত। কিন্তু বাংলা ভার্সন ছাড়া কোন ভার্সন গুডরিডসেও পাইনি।
❝রাজকুমারী ৪- দ্য এন্ড অব দ্য ডে ভিল❜স কিংডম❞ সিরিজের শেষ কিস্তি। বিমলা দেবীর উপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে যে আখ্যানের শুরু হয়েছিল তার অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছেছে এখানে। নতুন নতুন অনেক চরিত্রের আগমনে কাহিনি এখানে আরও গভীরে যায়। বেরিয়ে আসে কৃষ্ণকুমারের পরিবারের কালো ইতিহাস। তাদের করা নানা অন্যায়ের স্বাক্ষী হিসেবে হাজির হয় অনেক সত্য। সত্যের বাণী কখনো লুকায়িত থাকে না। হিন্দু এবং মুসলিম মিলে অন্যায়ের এই শিকল ভেঙে নতুন ভোরের সূচনায় বদ্ধ পরিকর থাকে। আমার কাছে চার খন্ডের এই আখ্যানের মধ্যে সবথেকে ভালো লেগেছে শেষ খন্ডটি। এখানে পরিমিত আবেগ, কিছুটা নাটকীয়তার পাশাপাশি আমার কাছে বেশ থ্রিলিং লেগেছে। তবে আ ক্র ম ণ এবং বিভিন্ন দুর্গের আলাদা ঘটনাগুলো একটু স্পেস দিয়ে বা কিছুটা বিস্তারিত বর্ণনা করা যেত। শেষে তাড়াহুড়োর ছাপ লক্ষণীয় ছিল। সমাপ্তিটাও মনে হয়েছে ঝট করে দিয়ে দিলেন। তবে উপন্যাসের সবথেকে দারুণ একটা ব্যাপার লেগেছে লেখকের এই উক্তিটি, ❛যে মা র তে চায় তার চেয়ে যে বাঁচাতে চায়- তার শক্তি বেশি।❜ এবং যথার্থ ভাবেই এই কথার প্রয়োগ উপন্যাসের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে প্রমাণ করে দিয়েছেন। অনুবাদ: অনুবাদ আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি। কাঠখোট্টা জাতীয় অনুবাদের ধরন লেগেছে। লেখকের প্রথম অনুবাদ হিসেবে মেনে নেয়া যায় যদিও। তবে চারটা অনুবাদ পড়ার পর মনে হয়েছে অনুবাদের উন্নতি হয়েছে মোটামুটি। কিন্তু মূল লেখাতেই এতো আবেগ, কান্না ছিল যে অনুবাদকের এসকল লাইনের শব্দচয়ন পড়তে গিয়ে নিজেই কেমন ময়ে ময়ে হয়ে যাচ্ছিলাম। সবাই কেন্দে দিচ্ছে, চুমুর প্রলেপ পরশ দিয়ে দিচ্ছে, মৃ ত্যুর ঘাট পার করিয়ে দিচ্ছে যতই ব্যাপার-স্যাপার হজম করতে কষ্ট হয়েছে আরকি! অন্যান্য: চার খন্ডের এই আখ্যানের অনুবাদক এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই প্রকাশের সাথে বইয়ের ফ্ল্যাপ বা ব্লার্ব বলতে যা বুঝি এখানে একটু সময় দিতে পারতেন। সময় দিতে পারতেন বইয়ের ভূমিকা কিংবা প্রারম্ভিকার ক্ষেত্রেও। বইয়ের কাহিনি জানতে আমরা সাধারণত ফ্ল্যাপ থেকে কিছুটা ধারনা নেই যে এই খন্ডে কী কী হতে পারে। এই বইয়ের ক্ষেত্রে প্রথম খন্ডের পরে বাকিগুলো আন্ধার মতো শুরু করতে হয়েছে। কারণ, চারটি বইয়ের কাহিনি সংক্ষেপ, ফ্ল্যাপ বা ব্লার্ব সবগুলোই একই লেখা সেটে দিয়েছেন। যেটা আমার ভালো লাগেনি। একই কাজ ভূমিকা বা প্রারম্ভিকার ক্ষেত্রেও। একই লেখা দিয়ে দিয়েছেন শুধু প্রথম খন্ডের পরিবর্তে ২, ৩, ৪ এমন নাম দিয়ে দিয়েছেন। নিজেকে থেকে আলাদা খন্ড নিয়ে কিছু লিখলে পাঠকের উপকার হতো।