প্রথম খণ্ড সম্পূর্ণ– ইতিহাস শাস্ত্রের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে হুনাইনে যুদ্ধের বর্ণনায় গিয়ে শেষ হয়েছে।
এই খণ্ডের শুরু থেকে ১০৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটুকু অংশে ইতিহাসের সংজ্ঞায়ন, গুরুত্ব, ইতিহাস রচনার স্তর এবং ইসলামি ইতিহাস ও অন্যন্য ইতিহাসের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য, ইসলামি ইতিহাসের প্রাচীন গ্রন্থসমূহের পরিচিতি এবং সেগুলোর বিন্যাস, সমস্যা, ইতিবাচক দিক খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাসের মৌলিক বৃহৎ ও ক্ষুদ্র যেকোনো গ্রন্থগুলো পড়ার আগে এটুকু অংশ প্রত্যেকেরই গুরুত্বসহকারে পড়া প্রয়োজন। . আরেকটি চোখে পড়ার মতো ব্যাপার হচ্ছে, এই খণ্ডের শব্দপ্রয়োগ ও ব্যবহার। পুরো ৪৯৪ পৃষ্ঠার মধ্যে সবরকমের জটিল শব্দ সমূহ এড়িয়ে এমনসব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, সম্পূর্ণ বইটি সহজবোধ্য হয়েছে। এবং এর ফলে বইটি যেকোনো বয়সের পাঠকের জন্যে অত্যন্ত সুখপাঠ্য।
সাধারণত সিরাত ও ইতিহাস পাঠের সময়, ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহের সন, তারিখ সম্পর্কিত অনেক মতভিন্নতা দেখা যায়। এসব মতভিন্নতার সমাধান, সমন্বয় লেখক অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই গ্রন্থের টীকায় সংযোজন করেছেন। এরজন্যে লেখক, সামনে রেখেছেন মক্কা ও মদিনার তৎকালীন ব্যবহৃত ভিন্ন ভিন্ন দুটি বর্ষপঞ্জি। এবং অপরিবর্তনীয় গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি। উল্লেখ্য, মক্কার মুশরিকরা তাদের মনমতো মাসকে আগেপিছে করতে অভ্যস্ত ছিলো। এজন্য মক্কা এবং মদিনার মাসগুলোয় এই পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
এরপর, ঐতিহাসিক সমস্ত ঘটনার বিবরণ তুলে ধরার ক্ষেত্রে গ্রন্থকার বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যা প্রতিটি ঘটনার বিশুদ্ধতা প্রশ্নাতীতভাবে নির্ণীত করে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক অন্যান্য বিবরণের যেসমস্ত দুর্বলতা রয়েছে সেগুলোর কারণ টীকায় সংযুক্ত করে দিয়েছেন। . আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, ইতিহাসের পরিচয়ের পর পূর্ববর্তী পয়গম্বরদের যে কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে, তা খুবই সংক্ষিপ্তসার। এই সংক্ষিপ্তসার বর্ণনাতে শুধুমাত্র নবী-রাসুলগণদের মূল দাওয়াতি কাজকে (তাওহীদের প্রচারণা ও সর্বশেষ অবস্থা) হাইলাইট করা হয়েছে। বিশদ বিবরণের দিকে লেখক যাননি। এটাকে আপাদ দৃষ্টিতে গ্রন্থটির দুর্বলতা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু গ্রন্থের নামের দিকে তাকালে বুঝা যায়, পূর্ববর্তী পয়গম্বরদের যদ্দুর বর্ণনা এসেছে, সেটুকু যথার্থই। কেননা, লেখক এখানে মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস বলতে চেয়েছেন। যার দরুন, পয়গম্বরগণের বিশদ বর্ণনা এখানে লেখকের মূল্য উদ্দেশ্যকে বাধাগ্রস্ত করবে অথবা গ্রন্থটি কলেবরে আরও বড় হয়ে যাবে। এজন্যে পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণের মূল দাওয়াতি কার্যক্রমকে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে ক্ষান্ত হয়েছেন।
রাসূল (সা.) জন্ম নিলেন মক্কার কুরাইশ বংশে। এরপর পঁচিশ বছর বয়সে বিয়ে এবং চল্লিশ বছর বয়সে নবুয়ত প্রাপ্তির পর ইসলাম প্রচার শুরু করেন। যার দরুন মক্কার কুরাইশরা নবীর উপর অত্যাচার চালান এবং মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হন রাসূল(সা.)। পরবর্তীতে আবার মক্কা বিজয় করেন। ইসলাম শিক্ষা বই এবং মক্তবে গিয়ে এতটুকুই জেনেছিলাম। পরে অবশ্য অল্পস্বল্প জানা হয়েছে কিন্তু বিস্তারিত ইতিহাস জানার আগ্রহ থাকলেও সুযোগ হয়ে উঠেনি। গতবছর যখন ইসলামি ইতিহাস বিশ্বকোষের অফার চলতেছিল তখন বইগুলো কিনেছিলাম।
বড় বই পড়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়, ধরি ধরি করতে করতে মাঝে দিয়ে ছোট বই শেষ হয়ে যায়। এবার রোজা শুরু হওয়াতে ভাবলাম এটা শুরু করি। প্রথম খন্ড শুরু করলাম, বইটাকে অনুবাদ মনেই হয়নি। অনেক ভালো অনুবাদ।
প্রথম খন্ডতে ইতিহাস ও ইসলামি ইতিহাস সম্পর্কে ব্যপক ধারণা দিয়ে শুরু করে লেখক। এরপর ইসলামি ইতিহাসের বিভিন্ন বিখ্যাত বই এবং ইতিহাসবিদদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে সূচনার সমাপ্তি টেনেছেন। মূল ইতিহাস শুরু হয়েছে পৃথিবীর সৃষ্টি এবং হযরত আদম (আ.) হতে। পরবর্তী নবীগণ এবং তাঁদের ইসলামের দাওয়াত, জীবনকাল ইত্যাদি লিপিবদ্ধ হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্মের পূর্ববর্তী আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগের অবসানের জন্য একজন পথপ্রদর্শকের আবশ্যক হয়ে পড়ে। ঠিক তখনই আল্লাহ তায়ালা পুরো মানবজাতির হেদায়েতের জন্য সর্বশেষ নবী পাঠান মক্কার কুরাইশ গোত্রে। রাসূল (স.) এর জন্ম হতে মক্কায় ইসলাম প্রচার, মদিনায় হিজরত, বদর-উহুদ-খন্দক-খায়বারের যুদ্ধ এবং অবশেষে মক্কা বিজয় পর্যন্ত ইতিহাস স্থান পেয়েছে প্রথম খন্ডে। হ্যাপি রিডিং।
আসসালামু আলাইকুম অনেক ভালো একটি বই..প্রথমে ইতিহাস নিয়ে ১০০ পৃষ্ঠার আলোচনা হয়েছে যা অসাধারণ ছিলো..ইতিহাস কি? কোন ইতিহাস পড়া উচিত এবং কোনটা অনুচিত এবং ইতিহাস বিষয়ক কিছু ফিকহী বিষয় নিয়ে আলোচনা। তারপর সীরাতের মাধ্যমে মূল বইটি শুরু করেছেন লেখক..সীরাতটি অসাধারণ ছিলো..আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে ক্যালেন্ডার বিষয়ক আলোচনাটি..কেন ঐতিহাসিক বিষয়ের তারিখ নিয়ে মতবিরোধ আছে..যেটা আর কোনো সীরাতের বইয়ে দেখা যায় না..সবাইকে অনুরোধ করবো পড়ার জন্য।