সৈনিক, গোলাবারুদ, কামান, ড্রোন, যাবতীয় হাতিয়ার- পৃথিবীর সবচেয়ে সফল সামরিক অপারেশনে এসবের আর দরকার নেই। ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য প্রযুক্তির কিছুই প্রয়োজন পড়বে না। যুদ্ধ শুনলেই আমাদের চোখের সামনে যা যা ভেসে ওঠে সেসবের কিছুই থাকবে না। কিন্তু সামান্য একটা জিনিস ব্যবহার করে পুরো আস্ত দেশকে আপনি হাতের মুঠোয় পুরতে পারবেন। যুদ্ধে যে পুরো আরামসে এবং একশোতে একশো স্টাইলে জিতে যাবেন তা তো বলাই বাহুল্য। এর জন্য লাগবে সামান্য একটা জিনিস! সেটা হলো-
"শকওয়েভ!"
প্রতিটা গল্পেই একজন খলনায়কের দরকার পড়ে। সেক্ষেত্রে প্রকৃতিমাতার চেয়ে ভাল খলনায়ক আর কে হতে পারে? যেসব রাষ্ট্রের সাথে আমেরিকার শত্রুতা সেখানে দেখা গেল হুট করে, বিনা নোটিশে, কথা নেই বার্তা নেই ভয়ংকর কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে গেল। মরল লাখ লাখ মানুষ, নিশ্চিহ্ন হলো শহর। রাষ্ট্রব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ল। ঠিক তখনই খোদার রহমত হিসেবে আবির্ভূত হলো আমেরিকা, যাদের দয়ায় টিকে আছে পুরো পৃথিবী। ওরা বাড়িয়ে দিল সাহায্যের হাত, এরপরই বদলে গেল দুর্যোগে আক্রান্ত দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা। কী? ডাল মে কুচ কালা হ্যায় মনে হচ্ছে? আসলেই আছে। ডালের ভিতরটা পুরাই বুড়িগঙ্গার পানির মত কালা। আর সেসবেই নাক গলাচ্ছিল এক মেয়ে। সে খবর পাঠাল তার বান্ধবীকে। বান্ধবী আবার আমাদের মাসুদ ভাইয়ের পরিচিত। নাক গলানোর ব্যাপারে রানাও জড়িয়ে পড়ল। শুরু হলো কেয়ামত। রানা এজেন্সির টমাস হার্ডি তো জিজ্ঞেসই করে বসল, "এবার কার পোঁদে আঙুল দিয়েছ, বন্ধু?"
এই যে একটা ক্যাঁচাল, সেটার শুরু কিন্তু অনেক আগে। সার্বিয়ান বিজ্ঞানী টেসলার মাধ্যমে এর শুরু। যার পুরোটা রানা জানে না, তবে শীঘ্রই জানবে। "চিফ" নামের এক রহস্যময় চরিত্র এরই মধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছে। পাঠিয়ে দিয়েছে খুনে বাহিনী, গ্রেনেড লঞ্চার, হেলিকপ্টার, বেশ কিছু ডাবল এজেন্ট এবং "রিপেয়ারম্যান" নামের এক সিরিয়াল কিলার। একটু পরই শুরু হবে ভূমিকম্প, অথচ মাসুদ রানা আটকা পড়েছে কবরস্থানে!
ভিলেনরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে বলছে, "ভাল হয়ে যাও, মাসুদ! ভাল হয়ে যাও!"
দেখা যাক মাসুদ ভাই কীভাবে সবকিছু সামলায়, দেখা যাক বই শেষ করার আগ পর্যন্ত কত মানুষ মরে।
বেশ কিছু ভায়োলেণ্ট অ্যাকশন ছিল, ছিল দুর্ধর্ষ কার চেসিং সিন, প্রচুর গোলাগুলি আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সাসপেন্সফুল সিকোয়েন্স আর ছিল পাঠকের চাহিদা মেটাবার মত টুইস্ট। কয়েক মুহূর্তের জন্য কবীর চৌধুরীর দেখাও পাওয়া গেছে। পড়ে দেখতে পারেন।
পুনশ্চ- মাসুদ ভাই আর কবীর ভাই, দু'জনের নামের শেষেই চৌধুরী আছে। চৌধুরীতে সাদৃশ্য থাকার কারণে তাদেরকে পরস্পরের খালাতো ভাই, চাচাতো ভাই বানায়া দেয়া যায় না?