ভরবর্ষায় নাফ নদী পেরিয়ে রোহিঙ্গারা আসছে। তাদের আগমনের দৃশ্যটা বাস্তব দুনিয়ার মনে হয় না, মনে হয় বাইবেলের সেই এক্সোডাস—বাস্ত্তচ্যুতদের অভিযাত্রা। ‘অলৌকিক ছড়ি’ গল্পের মুসার মতোই অনেকটা বিহারি রহমতুল্লাহ, পাহাড়ি দিবাকর। তাদের আগে-পিছে ছিল শরণার্থী-কাহিনি। আজকের দুনিয়ায় যে কেউ যেকোনো সময় এ কাফেলার অংশ হয়ে যেতে পারে। হোস্টেল সুপারের মার্ডারের ঘটনা মর্মান্তিকই শুধু নয়, বয়ঃসন্ধিকালের অনুকরণীয় একজনের করুণ পরিণতি যেন নিজের সেই বয়সটারই খুন হওয়ার বার্তা বয়ে আনে। বর্তমান সময়ের স্পন্দন এ সংকলনের প্রায় সব গল্পেই পাওয়া যাবে।
Shaheen Akhtar is the author of six short story collections and four novels. She has also edited the three-volume Soti O Swotontora: Bangla Shahitye Nari, about the portrayal of women in Bengali literature, and Women in Concert: An Anthology of Bengali Muslim Women's Writings 1904-1938.
Akhtar's second novel Talaash won the Best Book of the Year Award for 2004 from Prothom Alo, the largest-circulation daily newspaper in Bangladesh. The English translation of the novel was published by Zubaan Books, Delhi, India in 2011.
Novels:
1. Palabar Path nei (No Escape Route), Mowla Brothers, 2000
2. Talaash (The Search), Mowla Brothers, 2004
3. Shokhi Rongomala, Prothoma, 2010
4. Moyur Shinghashon (The Peacock Throne), Prothoma, 2014
বিষয়বৈচিত্র ও গভীরতা - দুই দিক থেকেই গল্পগুলো অনন্য। পাশাপাশি দুটো গল্পের মধ্যে কোনো মিল নেই। কাহিনির পরিণতি কোন দিকে যাচ্ছে তা-ও আগেভাগে আঁচ করা কঠিন। দেশ, সমকাল, উদ্বাস্তু সমস্যা, অন্তর্গত বিষাদ, বিপন্ন যৌনতা, ভালোবাসা নিয়ে লেখা গল্পগুলো বলে গেছে মানুষের অসহায়ত্ব, আশা ও বিস্ময়ের কথা।
অনেকদিন বাদে এক বসায় পড়ে শেষ করা প্রিয় লেখকের কয়েকটি গল্প (বই পড়া ভীষণ পরিশ্রমসাধ্য এবং ক্লান্তিকর)। পাঠের অভিজ্ঞতা এক রোমাঞ্চকর অভিযাত্রার মত, তাড়িয়ে বেড়াবে দীর্ঘ সময়। সে যাত্রায় পথের দুপাশে দেখা যাচ্ছে কখনো বাস্তুচ্যুত মানুষের মিছিল, কখনও নিপীড়িত নারীর মুখ। এক গল্পে ইউসুফ নবীর হাড় বয়ে হেঁটে যায় বিহারী মুসা নবী, আরেকগল্পে রোহিঙ্গা মুসা নবীর হাতের লাঠি সাপ হয়ে আচমকা পালিয়ে যায় - এইরকম বিস্ময়কর সব সত্যিগল্প।
শাহীন আখতার ভালো লিখেন,অনেকের কাছেই শুনেছি। আমার পড়া হয়নি। তবে স্বভাবের তাড়নায় উনার চার টা বই সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। ভালোবাসার পরিধি,তালাশ,একশ এক রাতের গল্প,ময়ূর সিংহাসন। এবার এই চার টার একটা পড়লাম। বইয়ের নাম ভালোবাসার পরিধি। এই বইটা পড়ার জন্য বেছে নেয়ার কারণ, এটার ক্ষীণ তনু আর গল্পগ্রন্থ হওয়ায়।
এই বইয়ে দশ টা গল্প আছে। দুই দিন লাগিয়ে সব কয়টা পড়লাম। কিছু গল্প বুঝেছি,যেগুলো বুঝেছি চমৎকার লেগেছে। যেমন ভালোবাসার পরিধি, বৈকালিক ভ্রমণ, অলৌকিক ছড়ি,সবুজ পাসপোর্ট, পাচার,চাঁদের পাহাড় । বাকি গল্প গুলো মাথার উপর দিয়ে গেছে।
শাহীন আখতারের লেখার স্টাইল ভালো লেগেছে। গতানুগতিক না। বেশ জটিল করেই বাক্য লিখেন,ফলে সহজ জিনিস ও বুঝতে বেগ পেতে হয়েছে আমার। এটা আমার অজ্ঞতা।
শাহীন আখতার এই প্রথম পড়া। তিনি যে অতি শক্তিশালী গল্পকার তা টের পাবার জন্য এই গল্পগ্রন্থটি যথেষ্ট। শাহীন আখাতারের গল্পের রেঞ্জ বিস্ময়কর রকমের বিস্তৃত। তাঁর গল্প পাঠকের প্রেডিকশনকে হারিয়ে দেয়। গল্প কোথায় থামবে সে ক্ষমতা গল্পকার নিজ হাতেই রেখে দেন। শাহীন আখতারের ভাষা নাকি দুর্বোধ্য এমন কথা শোনা যায়। তাঁর গল্প দূরহ বটে কিন্তু মোটেও দুর্বোধ্য নয়। বরং ভাষা তাঁর গল্পকে আরো সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম করে তোলে। চেতনার গভীরে অবচেতনের কাছাকাছি বিমূর্ত বোধ কে ছুঁয়ে যায়। শাহীন আখতারের সাহিত্যকর্ম প্রতি আগ্রহবোধ করছি, আশা করি শিঘ্রই তাঁর উপন্যাস পাঠের অভিজ্ঞতা হবে।