গত সংস্করণটির তুলনায় অনেক পরিচ্ছন্ন লে-আউটে এল এই নবকলেবরটি। অতি সামান্য ক'টি বানান ছাড়া বাকি বানান ও যতিচিহ্নের প্রয়োগ শুদ্ধতর। সর্বোপরি, মানচিত্র ও টীকা সংযোজিত হওয়ায় বইটি এই সময়ের পাঠকের কাছে বিশেষভাবে কৌতূহলোদ্দীপকও হয়েছে। আগের বইয়ের গা-শিরশির করানো ভয় এবং ইতিহাস ও কল্পনার মিশ্রণে রচিত ঠাসবুনট কাহিনি অবিকৃত রয়েছে। রয়েছে বিস্মৃত 'বন' ধর্মকে নিয়ে অতি সহজ অথচ তথ্যনিষ্ঠ আলোচনা। সব মিলিয়ে, বইয়ের এই নতুন রূপটি আগের তুলনায় অনেক বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠেছে বলেই আমার ধারণা। সুযোগ পেলেই পড়ে ফেলুন।
এই সময়ের বাজারচলতি তন্ত্র আর পিশাচ বা বিদেশি প্রেত কি শয়তান উপাসনার গল্প পড়ে-পড়ে একেবারে হেজে গেছিলাম। সেই তুলনায়, আমার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত লেখকের এই ছিমছাম উপন্যাসটি পড়তে বেশ লাগল। কী নিয়ে লেখা হয়েছে এই উপন্যাসটি? কাঠমান্ডু-র এক বইয়ের দোকানে স্রেফ ঘটনাচক্রে একটি বহু প্রাচীন পুথি পেয়ে যান বিনয়বাবু। তারপর থেকেই তাঁর নানা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হতে থাকে। বেশ কিছু দুর্ঘটনা, এমনকি রহস্যজনক মৃত্যুর পর জানা যায়, এই পুথির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বহু প্রাচীন ধর্ম আর তার সঙ্গে জড়িত নানা অপশক্তি। এও বোঝা যায় যে ইতিহাস থেকে প্রায় মুছে যাওয়া এক সভ্যতার কিছু চিহ্ন মিশে আছে পুথির শরীরেই। কীভাবে ঘটল এই অদ্ভুত সমন্বয়? তার থেকেও বড়ো কথা, এই সাংঘাতিক পুথি নিয়ে বিনয়বাবু এখন কী করবেন? এই বইয়ের ভালো দিক হল~ ১) বন ধর্ম-র উল্লেখ এখনও অবধি বাংলায় মাত্র একটি ফিকশনেই পেয়েছিলাম— অভীক সরকারের লেখা 'পেতবত্থু'-তে। কিন্তু এই বইয়ে সেটি যেভাবে আলোচিত হয়েছে তা অভূতপূর্ব। ২) ফ্রিজিয়ান সভ্যতা ও তার উপাসক দেবীর কথা আজ অবধি বাংলায় পড়িনি। লেখক অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে, অথচ সংক্ষেপে সেই সভ্যতা তথা সমকালীন নিকট প্রাচ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত মনোগ্রাহী হয়েছে। ৩) কাহিনি অত্যন্ত গতিময়। অতীত ও বর্তমানের ঘটনাক্রম সমান্তরালে প্রবাহিত হলেও একবারের জন্যও গল্পের গতি শ্লথ হয়নি। ৪) প্রতিটি চরিত্রই বাস্তবানুগ। ফলে কাহিনিতে যতই নাটকীয় ঘটনা ঘটুক না কেন, একবারও মনে হয়নি চরিত্ররা বাংলা সিরিয়ালে অভিনয় করছে। এই বইয়ের খারাপ দিক হল~ (ক) অতিলৌকিক ও অলৌকিক কার্যক্রমকে বড়ো বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হরর সাহিত্যে এমনটা হয়। তবে মানুষী তদন্ত এবং যৌক্তিক কার্যক্রম দেখিয়ে ভারসাম্য রাখা হয় তাতে। এই কাহিনির অ্যান্টাগনিস্ট ও প্রটাগনিস্ট— সবাই এত বেশি করে অলৌকিকের ওপর নির্ভর করেছে যে তা কাহিনিকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছে। (খ) বর্তমান সময়ের ঘটনায় স্বল্প পরিসরে বেশ কিছু চরিত্রকে আনা হয়েছে, কিন্তু তাদের যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায়নি। (গ) বইটির ফন্ট সাইজ অস্বাভাবিক বড়ো, লে-আউট আদ্যন্ত অবৈজ্ঞানিক, সর্বোপরি বইটি হার্ডকভার। এটিকে ঠিকমতো ছাপলে একশো চুয়াল্লিশ পাতার পেপারব্যাক হয়ে যেত। সেক্ষেত্রে বইটিকে পেপারব্যাক হিসেবে অনেকটা সুলভে পাঠকের কাছে আনা যেত। তবু বলব, এই সময়ের বীভৎসতা এবং তন্ত্রের নামে যথেচ্ছাচার পড়ে যদি ক্লান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে এই বইটি পড়ে দেখতে পারেন। খারাপ লাগবে না, দায়িত্ব নিয়ে বলছি।
একবার পড়ার জন্য ঠিকঠাক, অযথা গল্পটা টানা হয়নি। শেষের দিকের টিকাগুলি বেশ ভালো। গল্পটা একটা গন্ডির মধ্যে রাখা হয়েছে, কষ্টকল্পনীয় ব্যাপার অল্প। মোটের উপর ভালোই বলা যায়।
ইদানীং ছোটাখাটো বই বেশি পড়া হচ্ছে। পড়ার গতিও বেড়েছে। তাই ভাবলাম ছোট একটা মিথোলজিক্যাল বই পড়া যাক। তাই তিব্বতি পুথি বইটা শুরু করি৷ . যদিও সেভাবে বইটা নিয়ে আশা ছিল না। তবুও নামেএ কারণে একটা ছোট ভাবনা ছিল। বইটি নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। ছোট বইয়ের কাহিনী তৈরি করতে গিয়ে বেশ তথ্য সমৃদ্ধ করেছেন। গল্পের গভীরতা বেশি না হলেও প্রতিটি ধাপ বেশ সুন্দর ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে৷ . লেখক অনেক তথ্য উপাত্ত দিয়েই ইতিহাস থেকে সংগ্রহ করেই বইটি লিখেছেন৷ বেশ কষ্ট সাধ্য একটি কাজ বলা যায়। তবে লেখক বেশ সুন্দর ভাবে গুছিয়েছেন৷ যদিও আর ভাল টুইস্ট দেয়া যেতো তবে খারাপ সেটাও বলা যাবে না। . তবে বারবার পড়ার মত নয়। এক বারের জন্য ভাল সময় কেটেছে।
কাহিনি দ্রুত গতির কিন্তু সাবলীল। কলেবর ছোট বলে হয়ত। এটাকে আরও সাজানো যেতে পারতো। হঠাৎ করেই অতীতের রেশ টানা। তারপর দক্ষ হাতে গল্পটিকে প্যারালালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ইতিহাস আছে, আছে মিথ, আ্যকশেন। “বন” ধর্মটার ব্যাপারে জানা গেল। সুখ পাঠ্য।
কাহিনীর মুখ্য চরিত্র বিনয়বাবু কাঠমান্ডু-র এক বইয়ের দোকানে পেয়ে যান এক প্রাচীন পুঁথি । তারপর থেকে তাকে সম্মূখীন হতে হয় অদ্ভুত কিছু ঘটনার । ক্রমশ ঘটে চলতে থাকে একেরপর এক দুর্ঘটনা, এমনকি রহস্যজনক মৃত্যু যার ব্যাখ্যা সাধারণের গণ্ডি থেকে করা যায় না। ক্রমশ জানা যায় এই পুঁথির সঙ্গে যোগ আছে বহু প্রাচীন বনধর্মের আর তাকে ঘিরে রয়েছে নানা অশুভশক্তি। প্রতি পাতার মার্জিনে আছে ফ্রিজিয়ান ভাষায় লেখা মাতৃদেবী কুবেলির বন্দনা। যার কাছে এই পুঁথি যায় তার নানান বিপদ ঘনিয়ে আসে।
কি রহস্য লুকিয়ে আছে এই পুঁথির মধ্যে? বিনয়বাবু কি পারবে এই অভিশপ্ত পুঁথির রহস্য ভেদ করতে? খ্রীষ্ট জন্মের আগে এক উচ্চাকাঙ্খী ফ্রিজিয়ান রাজপুত্র কীসের খোঁজে সুদীর্ঘ বিপদসংকুল পথ পেরিয়ে তিব্বতে গিয়েছিলেন?
পুঁথির রহস্য উন্মোচনে জড়িয়ে পড়েন এক অধ্যাপক, এক লামা ও একজন কালীভক্ত। এক রোমাঞ্চকর ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিসম্পাতি হয় দুই সহস্রাব্দের বেশি পুরনো এক অভিশাপের।
ঋজুবাবুর রিভিউ দেখেই বইটি কিনেছিলাম। পড়ে কিছুটা হতাশই হয়েছি। ওই রিভিউটি অত্যন্ত মনোগ্রাহী, ওনার যেকোন রিভিউর মতোই। তবে, ওখানে উল্লেখিত নেগেটিভ পয়েন্টগুলোই আমার কাছে dominate করেছে পড়ার পর। বড় বেশি অতিলৌকিকতার আশ্রয় নেয়া, দুর্বল লেখনী এগুলো যথেষ্ট চোখে লেগেছে আমার। বন ধর্ম বা ফ্রিজিয়ান সভ্যতা সম্পর্কে যেটুকু আছে তা উইকিপিডিয়ার বেশি একটুও নয়, বরং তার সংক্ষিপ্তসার। দুয়েকটি জায়গায় 'যৌনাচার' শব্দটি যদি না থাকত, এটিকে অনায়াসে কিশোরপাঠ্য বলে চালানো যায়। হয়তো বইটি সেরকম কিছু ভেবেই লেখা। কিন্তু, অভীক সরকারের এই genre এর কিছু লেখা পড়ার পর এত দুর্বল কাঠামোর গল্প পড়ে মজা পাইনি আমি পাঠক হিসেবে।
অনেক আশা নিয়ে শ্যামল ঘোষের তিব্বতি পুঁথি শুরু করেছিলাম।শুরুতে ভাল লাগছিল । আস্তে আস্তে অনেক চরিত্র এবং একাধিক রাইভ্যাল গ্রুপ এসে পডায় বড্ড বেশী রক্ত এবং মৃত্যু হয়। যেগুলো ছাড়াও গল্প ভালই চলত। মনে হয় মাঝখানে লেখক কি একটু খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন - উলিয়ামদের ত নিজেদের ই কোনো পয়সা ছিল না। কি করে তারা আবার পয়সা দিয়ে লোক লাগাবে অন্য দলের উপর নজর রাখার জন্য? লেখার স্টাইল ও অত্যন্ত সাধারন ।
প্রাচীনতায় মিশানো মিথলোজিক্যাল বই পড়তে ভালই লাগে। লেখক অনেক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেই বইটি লিখেছেন৷ বন ধর্মের এই প্রথম শুনলাম, বজ্রযোগিনী বৌদ্ধ ধর্মের কথা শুনলেও এখানে কিছুটা হলেও ডিটেলস এ জানতে পেরেছি। ফ্রিজিয়ান সভ্যতাও এসেছে গল্পের স্রোতে। সর্বোপরি ওয়ান টাইম রিড হিসেবে এই বইটা ভাল।
ভালো লেগেছে। বইটার পিছনে লেখকের যে প্রভূত পড়াশোনা আছে তা প্রকাশ পেয়েছে ছত্রে ছত্রে। অনেক তথ্য পাওয়া গেলেও কখনো ইনফো ডাম্পিং মনে হয়নি। তবে ডায়লগ আরো একটু বেশি থাকা উচিত ছিল।