মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য। নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর ১৯৬০ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে নাটকটি রচিত হয়েছে। মদনকুমারের স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা মধুমালা আর তাকে খুঁজতে গিয়ে প্রণয়ে আবদ্ধ কাঞ্চনমালা মধ্যে ত্রিভুজ প্রেমের গল্প ও মধুমালার ট্র্যাজিক পরিণতি নিয়ে এই নাটক। গদ্য সংলাপ, সুর ও কাব্য নিয়ে একসাথে অগ্রসর হয়েছে নাটকের গল্প। এতে ৪৩টি গান রয়েছে।
Kazi Nazrul Islam (Bengali: কাজী নজরুল ইসলাম) was a Bengali poet, musician and revolutionary who pioneered poetic works espousing intense spiritual rebellion against fascism and oppression. His poetry and nationalist activism earned him the popular title of Bidrohi Kobi (Rebel Poet). Accomplishing a large body of acclaimed works through his life, Nazrul is officially recognised as the national poet of Bangladesh and commemorated in India.
যার কূলে শান্তি নেই, জলে ঝাপ দিয়ে শান্তি তো মিলবে না। জল হয়ত তাকে আপন করে নিবে, জলের সৌন্দর্য তার হবে। জলের মহিমান্বিত রুপ, তার অপূর্ব মায়া যে পায় সে তো ভালোবাসা কি জানে! তাই তো সমুদ্র মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। যেখানে অদূর ভবিষ্যৎ কল্পনা করা বৃথা কারণ যার কোনো নিদিষ্ট সীমা নেই তার কাছে মাসির গল্প বলাটা বৃথা। ভালোবাসা চাইলে কি করতে না পারে! মানুষকে ভেঙে গড়তে পারে, অলস মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন এর বীজ বপন করতে পারে। অনুর্বর হৃদয়ে জল সেচন দিয়ে সৃষ্টি করতে পারে প্রিয়তমার ন্যায় অমৃত ফুল।
মধুমালা নাটকি সৌন্দর্য আমার প্রিয়তমার মত। কোনোদিন ভুলা যায় না যে সৌন্দর্যকে। যতবার দেখব, পড়ব ততবার তাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করবে। এত দরদ, কান্না, ভালোবাসা দিয়ে নাটক উপস্থাপন করা কবির শ্রেষ্ঠত্ব। বিয়োগান্ত বোধ সৃষ্টি ও মনের আলোড়নে শতাব্দীর ভালোবাসা সৃষ্টি কবি ছাড়া কেউ পারে না। প্রতিটি স্তবকে সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি। যেন ডাঙার মাঝে হাজারো ফুল তবুও মানুষ অদেখা একটি ফুলের জন্য কাঁদে।
নাটকটির সারসংক্ষেপ হলো, মদনকুমার তার বাবা মার অনেক আদরের সন্তান। তার রুপ, যৌবন পৃথিবীর মাঝে আর কারো নেই। একদিন সে শিকারে গেলে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে পরীর দেশে। পরীরা তাকে তার চেয়ে সুন্দর মধুমালার কাছে নিয়ে যায়। যখন দুজনের পরিচয় হয় তারা আলাদা হয়ে পড়ে। রাজকুমার পাগল হয়ে যায় মধুমালা উচ্চারণ করতে করতে। পড়ে রাজা রাজকুমারকে মধুমালার খোঁজে নদীতে ভাসিয়ে দেয়।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সে গিয়ে পড়ে রাজা শ্রী সেনের কাছে। যে কুটিলতা করে রাজকন্যা কাঞ্চনমালার সাথে রাজকুমারের বিয়ে দিয়ে দেয়। বাসর রাতে রাজকুমার সব খুলে বলে এবং বেরিয়ে পড়ে মধুমালার খুঁজে। ঐদিকে মধুমালা জীবন অতিষ্ঠ রাজকুমার মদনকুমারের জন্য।
পরীরা তাদের দুঃখ দেখে এক করে দেয়। কিন্তু ভাগ্য তাদের সহায় ছিল না। সবকিছু উল্টে যায়। চাঁদ ডুবে যায়।