"আমার মৃত্যুর পর কেউ আমার জানাযা পড়বে না । আমাকে গোসল দিবে না এবং আমাকে যেনো কাফনের কাপড় না পরানো হয় । আমি যে পোশাক পরে মারা যাবো সে পোশাকে সহ-ই ঘরের ভেতরে আমাকে মাটি চাপা দিতে হবে । যখন তোমরা আমাকে কবরে শোয়াবে, তখন আমার মাথাটি পূর্ব দিকে, পা পশ্চিম দিকে এবং আমার মুখ দক্ষিণ দিকে করে দেবে । যদি এই নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়, তবে আমি প্রতিশোধ নেব ।"
- আনোয়ার দরবেশ
১১ জুলাই ,২০০৭ সাল । জামালপুরের জঘন্নাথগঞ্জ স্টেশন থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করে জিএম এক্সপ্রেস নামক লোকাল ট্রেনটা । আজএ তার গন্তব্য ভিন্ন কিছু ছিলো না । সবকিছু প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক । বিপত্তি বাধলো যখন ট্রেনটি ময়মনসিংহ পৌরসভার কাশর এলাকার ইটখোলার এসে পৌছাল । তখন ঘলিতে সময় বেলা ৩টা ১০ মিনিট ।হঠাত ট্রেন ড্রাইভার লোকো মাস্টার লক্ষ্য করলেন, রেশ কয়েকজন নারী পুরুষ একে অন্যকে ধরাধরি করে রেল লাইনের উপরে এসে থামলো । লোকো মাস্টার প্রথমে ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিলেন না, কিন্তু যখন তিনি বুঝতে পারলেন এদের উদ্দেশ্য স্রেফ রেললাইন পার হওয়া না, তিনি স্তব্ধ হয়ো গেলেন । আতঙ্কিত হয়ে সাথে সাথে ট্রেনের ইমারজেন্সি চেইন টানলেন তিনি । কিন্তু ততক্ষণে খুব বেশি দেরি হয়ে গেছে.....
আমরা এখন প্রচুর স্যাটানিক কাল্টের নাম জানি । শুধু নাম-ই নয়, এসব কাল্টের ইতিহাস সম্পর্কেও আমরা কম বেশি জানি । দু;খের বিষয় হলো, আমাদের দেশের অভন্তরে গড়ে ওঠা এক স্যাটানিক কাল্ট যা "আম ধর্ম" নামে আত্মপ্রকাশ করেছিলো, সে সম্পর্কে আমরা প্রা্য় কিছুই জানি না । এই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার দরবেশ প্রকাশ্যে ইসলামের বিরোধীতা শুরু করেছিলেন । তিনি ইসলামের সর্বশেষ নবীকে শয়তানের প্রতিনিধি হিসেবে আখ্যা দেন, এবং ধীরে ধীরে রিজের ধর্মকে পূর্নাঙ্গ রুপ দেয়ার জন্য কাজ করতে থাকেন ।
পড়ে শেষ করলাম আদম ধর্ম।বইটা নিয়ে আমার অনেক বেশি এক্সপেক্টেশন ছিল।অনেক দিন আগেই নেটফ্লিক্সের একটা ডকুমেন্টেশন দেখি House of secrets নামের। খুবই ভালো লেগেছিলো।ওটা দেখার পরই বিষয়টা নিয়ে একটু রিসার্চ করলে জানতে পারি বাংলাদেশেও অনেকটা সেম ধরনের একটা কাহিনী হয় ২০০৭ সালে।আরেকটু ভালো ভাবে জানার পর দেখি ঐ কাহিনীর উপর একটা বই লেখা হয়েছে "আদম ধর্ম"।ভেবেছিলাম বইটা পড়ে হয়তো অনেক কিছু জানতে পারবো কিন্তু হয়েছে উল্টো।বইটা পড়লে আপনার মনে অহেতুক প্রশ্ন ছাড়া আর কিছুই সৃষ্টি হবে না। বইটার মূল কাহিনী হলো ময়মনসিংহে একসাথে আত্মহত্যা করা ৯ জন সদস্যের মৃত্যুর রহস্য নিয়ে যা রহস্যই রয়ে যায়।এই পরিবারের মুখ্য ব্যাক্তি ছিলেন আনোয়ার দরবেশ যিনি একজন পীর বা মুমিন ব্যক্তি হওয়া সত্বেও সমাজের কিছু সমস্যার কারণ কালো জাদুতে জড়িয়ে পরে নিজেকে আদম(আ.) মনে করে একটা যাচ্ছেতাই ধর্ম সৃষ্টি করে "আদম ধর্ম" যা ওনার পরিবারের সবাই গ্রহণ করে।ওনার বড় ছেলে অক্সফোর্ড থেকে পড়ে দেশে আসে।পুরো বইটা পড়ে আমার শুধু এটাই মনে হয়েছে যে অক্সফোর্ড থেকে পড়ে আসা মানুষজন এতো বেক্কল হয়? যাইহোক বইটা আমি কাউকে রেকুমেন্ড করবো না কারণ এটা আপনার প্রশ্ন তো দূর করবেই না উল্টো আরো কিছু ভিত্তিহীন প্রশ্ন আপনার মাথায় দিয়ে দিবে।
'আদম ধর্ম' মূলত কাজী ম্যাক রচিত স্পিরিচুয়াল থ্রিলার জনরার বই যেটা কিনা সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা হয়েছে। মূলত সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা বলেই বইটি অনেকেরই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো বা রয়েছে। বইটিতে বাস্তব চরিত্রগুলোর আসল নাম ব্যবহার না করে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন আব্দুল দরবেশ যার আসল নাম ছিলো আনোয়ার দরবেশ। আব্দুল দরবেশের একজন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম থেকে ক্রমান্বয়ে স্যাটানিক কাল্টের দিকে ধাবিত হওয়ার চিত্র ফুটে উঠে বইটিতে। তিনি 'আদম ধর্ম' নামক একটি ধর্ম প্রবর্তন করেন, প্রথমে নিজ পরিবার এবং তার কিছু মুরিদকে তিনি এই ধর্মে দীক্ষিত করেন, এই ধর্মের অন্যতম একটি লক্ষ্য ছিলো, মুসলিমদের অনিষ্ট করা এবং মুসলিমদের শত্রু ভাবা, যে নিজেই একজন সাচ্চা মুসলমান ছিলেন একদিন সেই কিনা মুসলমান এবং ইসলামের ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়! বইটিতে তার এবং তার পরিবারের শেষ পরিণতি পর্যন্ত তুলে ধরা হয়েছে।
লেখক ঘটনার সত্যতা নিরূপণে বইয়ের শেষের দিকে সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন ছবি এবং নথিপত্রের ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন; কলকাতার সাইকোলজিস্ট প্রফেসর নাসিমা সেলিম আদম ধর্ম প্রতিষ্ঠা এবং এই ধর্মের অনুসারীদের আত্মহত্যার বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে থিসিস পেপার লেখেন। তার মতে আদম ফ্যামিলি 'shared delusion' এবং 'shared psychotic disorder (SPD)' নামক মানসিক রোগে ভুগছিলো। এছাড়াও পরিবারের সকলের অদ্ভুত আচরণের পেছনে ' Folie a famille ' নামক রোগকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
বইটিতে প্রথম দিকে মার্ক্সবাদ নিয়ে কিছুটা যুক্তিতর্ক এবং আলোচনা-সমালোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত চিন্তাধারা, এক পর্যায়ে সাটানিক কাল্টের ক্রিয়াকলাপ, আদম ফ্যামিলির সমাজবিচ্যুতি, পরিশেষে পরিণতি ইত্যাদি বিষয়াদি উপস্থাপন করা হয়েছে।
সতর্কতাঃ এমন কিছু পরিস্থিতির বর্ণনা রয়েছে যা পড়ার সময়ে চোখের সামনে ভেসে ওঠা চিত্র মস্তিষ্কে মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ আমি কম্পলিটলি স্পিচলেস! বইটা ২৩৬ পেইজের, দুদিনের একটু বেশি সময় লেগেছে শেষ করতে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে হবার জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়তে থাকি, পড়ার এক পর্যায়ে কিছুটা আতংক সৃষ্ট হয় মনে, মেরুদণ্ড বেয়ে এক ধরণের শীতল স্রোত বয়ে যায়। আল্লাহ! দৃশ্যগুলা যখন চোখের সামনে ভাসতে থাকে তখন যে কেমন লাগে সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তারপরেও শেষ কি হয় এটা জানার জন্য মন ছটফট করে। ওভারল খারাপ ছিলো না।
ফ্ল্যাপ থেকেঃ আমরা এখন প্রচুর স্যাটানিক কাল্টের নাম জানি। শুধু নাম-ই নয় এসব কাল্টের ইতিহাসও আমরা কমবেশি জানি। তবে সবথেকে দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের দেশের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা এক স্যাটানিক কাল্ট যা "আদম ধর্ম" নামে আত্মপ্রকাশ করেছিলো, সে সম্পর্কে আমরা প্রায় কিছুই জানি না ।
এই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা সুপরিচিত ছিলেন "আনোয়ার দরবেশ" নামে। প্রথমে তিনি পীর দরবেশ হিসেবেই - এলাকায় খ্যাতি অর্জন করেন। বেশ কিছু লোক তার মুরিদও হন। কিন্তু, হঠাৎ-ই আনোয়ার দরবেশের চিন্তা- চেতনা এবং আচার আচরণে আমূল পরিবর্তন আসা শুরু করে। তিনি প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্মের বিরোধীতা শুরু করেন। তিনি ইসলামের সর্বশেষ নবীকে শয়তানের প্রতিনিধি হিসেবে আখ্যা দেন। জানা যায় তার চারপাশের মানুষজন তার এরকম অদ্ভুত বিশ্বাসের কারণে তাকে একঘরে করে দেয়। কিন্তু আসলে তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় প্রতিবেশীদের "বয়কট" করেছিলেন।
ধীরে ধীরে তিনি তার এই নতুন ধর্মকে পূর্ণাঙ্গ রুপ দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন। তিনি স্বতন্ত্র ইবাদতের পদ্ধতি, সূরা, নানা রকম নিয়ম-নীতি তৈরি করতে থাকেন। নিজ পরিবারের সকল সদস্যদের তিনি তার ধর্মে দীক্ষিত করেন। প্রথম অবস্থায় পীর হওয়ার কারণে তার মুরিদদের মধ্যেও অনেকে এই ধর্মে দীক্ষিত হন। চলতে থাকে তাদের গোপন ধর্মচর্চা।
তাদের এই চর্চার মূল বিষয় ছিলো "কুফরি কালাম"। আনোয়ার দরবেশ মারা যাবার পর তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তার আত্মাকে হাজির করার চেষ্টা করে। আনোয়ার দরবেশের আত্মা হাজির হয় এবং তাদের প্রতি নির্দেশনা আসে "একসাথে আত্মহত্যা করার"। এতে তাদের আত্মা সংঘবদ্ধভাবে মুহাম্মদ সাঃ-র আত্মাকে আক্রমণ করতে পারবে। শুনতে কিছুটা অদ্ভুত মনে
হলেও এটাই ছিলো তাদের জন্য সত্য। ১১ জুলাই, ২০০৭ সাল। জামালপুরের জগন্নাথগঞ্জ স্টেশন থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করে জিএম এক্সপ্রেস ২৫৪ ডাউন নামক লোকাল ট্রেনটি। আজ ট্রেন চালাচ্ছেন ড্রাইভার (লোকো মাস্টার) আব্দুল মতিন এবং মোঃ এনায়েত খান। ময়মনসিংহ পৌরসভার কাশর এলাকার ইটখোলায় যখন ট্রেনটি আসে, তখন ঘড়িতে সময় বেলা ৩টা ১০ মিনিট। হঠাৎ ড্রাইভাররা দেখেন, রেলপথের বাঁ পাশ থেকে বেশ কয়েকজন নারী- পুরুষ একে অন্যকে ধরাধরি করে রেল লাইনের দিকে আসছে।
মোট ৯ জন। পুরুষ, নারী, শিশু সবাই একই পরিবারের সদস্য। রেললাইন ধরে চুপচাপ বসে পড়ে তারা। প্রথমে ড্রাইভাররা কিছুই বুঝতে পারেননি। পরে খেয়াল করলেন, তারা আসলে রেললাইন পার হচ্ছে না, রেললাইনের উপরেই বসে আছে। ড্রাইভার হুইসেল দিলেন। তারা লাইন থেকে সরল না। ড্রাইভাররা বুঝতে পারলেন এরা সবাই আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে। ট্রেন ইমার্জেন্সি ব্রেক করলো। কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। চোখের সামনে ৯ জন মানুষকে চাপা দিয়ে ট্রেনটা
বেশ খানিকটা সামনে এগিয়ে গিয়ে থামল। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে তা��� বাড়ির ভেতর কিছু নথি আবিষ্কার করেছিলেন। সেসব নথি তে নানা রকম তথ্য লিপিবদ্ধ ছিলো।
একটি ডায়েরির ভেতর ইংরেজিতে লেখা ছিল-"আমরা পৃথিবীর একমাত্র পরিবার যারা স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল। মোহাম্মদের আইনের বাইরে এবং সব ধর্মের সব কার্যকলাপের বাইরে। তাহলে আমরা কে? আমরা হলাম আদম। ” এ ছাড়া লেখা ছিলো "সবার উপরে আদম সত্য, জুলুমের বিচারের ব্যবস্থা করিব।” আনোয়ার দরবেশ মারা যাওয়ার আগে অছিয়ত করে গিয়েছিলেন। অছিয়তনামার একটি অংশ নিম্নে দেয়া হলোঃ
"আমার মৃত্যুর পরে কেউ আমার জানাজা পড়বে না। আমাকে গোসল দিবে না এবং আমাকে যেনো কাফনের কাপড় না পরানো হয়। আমি যে পোশাক পরে মারা যাবো সে পোশাক সহ-ই ঘরের ভেতর আমাকে মাটি চাপা দেয়া হবে। যখন তোমরা আমাকে কবরে শোয়াবে, তখন আমার মাথাটি পূর্ব দিকে, পা পশ্চিম দিকে, এবং আমার মুখ দক্ষিণের দিকে করে দিবে। যদি এই নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয় তবে আমি প্রতিশোধ নেব।"
ভাগ্যক্রমে এই ধর্মের এক অনুসারীর কাছ থেকে কিছু টাকার বিনিময়ে একটি পান্ডুলিপি আমি গোপনে সংগ্রহ করি। সেই সাথে পাই কিছু ভয়ানক তথ্য। এই বইটিতে আমি চেষ্টা করবো সেসব তথ্য পাঠকের সামনে তুলে ধরার
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগে বলে নেই যে আমরা যারা Netflix এর ডকুমেন্টারি সিরিজ House of Secrets দেখেছি তারা অনেকটাই এই বইয়ের কাহিনির সাথে সামঞ্জস্য পেতে পারেন। মূলত দুটো ঘটনাই বাস্তব। তবে বাংলাদেশের 'আদম ধর্ম' কেইসটা অনেক ক্রিটিকাল এবং ভয়ানক।
সত্যি বলতে বইটা যতটা এক্সপেকটেশন নিয়ে শুরু করেছিলাম তার বিন্দুমাত্রও পূরণ করতে পারেনি। অনেকটাই আশাহত হয়েছি। মূল কাহিনির অস্তিত্ব ছিলো সামান্য মাত্র, তাও একেবারে শেষের দিকে। তবে বইটা থেকে অনেকখানি ডার্ক সাইকোলজি ও কিছু জায়গায় রয়েছে আদিম লাভক্রাফটিয়ানের ছোয়া পাওয়া যাবে। বইটিতে ধর্ম, দর্শন, সাইকোলজি এবং হররের অদ্ভুত সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হয়। বইটিতে অনেক রহস্যই অমীমাংসিত রাখা হয়েছে যার কারণে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুজে পাওয়া যায় নি। হয়তো বইয়ের দ্বিতীয় পর্বে এই রহস্যের সমাধান পাবো।
এই পাঠপ্রতিক্রিয়াটিতে আমি পজিটিভ ও নেগেটিভ দিকে তুলে ধরবো।
শুরুতে বইয়ের কিছু পজিটিভ দিকগুলো দেখা যাক৷
লেখকের লিখনশৈলী বেশ ভালো হয়েছে, খুবই সাবলীল ভাষায় তিনি বইটা সাজিয়েছেন। যুক্তির প্রয়োগের বর্ণনাগুলো অসাধারণভাবে ব্যাবহার করেছেন। বইটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থ্রিলিং ভাইব কিন্ত বজায় রেখেছেন লেখক যা বেশ ভালোই লেগেছে। আনোয়ার দরবেশের প্রাথমিক চরিত্রটা বেশ ভালো লেগেছে, যদিও শেষের দিকে এসে সে পথভ্রষ্ট হয়ে যায় যা মূলত মানসিক সমস্যা থাকে।
এবার আসি বইটির কিছু নেগেটিভ দিকে।
বইয়ে প্রচন্ড পরিমাণ বানান ভুল ছিল যা এর আকার অনুসারে একদমই খাপছাড়া। রীতিমতো বিরক্ত হয়েছি। হতাশ হলাম বইয়ের তৃতীয় মুদ্রণে এসেও এতো বানান ভুল থাকবে বলে আশা করিনি। কিছু কিছু জায়গায় বাক্যে প্রতিষ্ঠা একেবারেই অর্থহীন (যেমন কোরআনের মোট সূরা ১৪৪! )। এটা অবশ্যই প্রোডাকশন এর ভুল যা গ্রহণযোগ্য নয়। লেখক কিছু বিষয়কে অতিরঞ্জিত ভাবে উপস্থাপন করেছেন। তবে যদি তা যদি ঘটনা প্রবাহে দরকার হয় তাহলে এটি অভিযোগ করার মত না। অতিরিক্ত বর্ণনা, স্লো বার্ণ এবং মূল বিষয়ের উপর ফোকাস পুরোপুরিই কম, সম্ভবত বইয়ের সিকুয়েলের জন্য এমনটা করা হয়েছে। যদি না করা হয়ে থাকে তাহলে সত্যিই হতাশ হয়েছি। ঘটনাপ্রবাহের শেষের দিকে এসে একটু বেশিই তাড়াহুড়োর মাঝে শেষ করেছেন। বইটির পিছনের ফ্ল্যাপের কথাগুলো অসুম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এছাড়া বইয়ের পেইজ কাটিং এ আরো সতর্ক হওয়া দরকার ছিল, প্রায় মার্জিন এ চলে গেছে। শেষ প্রান্ত আরো মসৃণ হতে পারত।
আশা করি যে জায়গাগুলোতে সম্পাদনার ঘাটতি রয়ে গেছে, সেই জায়গাগুলো ঠিকঠাক করে নেয়া হবে পরবর্তী সংস্করণে এবং পেইজ কাটিং এর দিকে যত্নবান হবে।
প্রথম দিকে ভালো লাগলেও পরবর্তীতে চরিত্রগুলোর নামের অদল বদল,বানান ভূল,তারিখের ভূলের জন্য প্রচণ্ড বিরক্তিকর অনুভূতি হয়েছে।শেষের দিকের ঘটনা গুলো কেমন যেন গোজামিল দিয়ে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করছি পরবর্তী চ্যাপ্টার আরো বেশি ভালো হবে
Based on a unknown truth, portraying the Spiritual Thriller category with the mixture of horror, philosophy, Marxism & Islam is "Adam's Creed (আদম ধর্ম)" written by Kazi Mac. The whole book described a story of forbidden satanic cult in Bangladesh. The main plot took place at Mymensing. Later the writer adjused his own imagination. It's not an exciting thriller from the beginning but very much informative.
July 11, 2007
The local train called GM Express runs regularly from Jamalpur to Mymensingh. Driver Abdul Matin and Md. Enayet Khan are driving the train today. When the train arrives in Itkhola area of Mymensingh municipality, the time on the clock is 3:10 p.m. Suddenly the drivers saw a group of men and women approaching the railway line holding each other from the left side of the railway line. A total of 9 people. Men, women, children all members of the same family. They sat quietly along the railway line. At first the drivers did not understand anything. Later he noticed that they were not actually crossing the railway line, they were sitting on top of the railway line. The driver whistled. They are not straight from the line. The drivers realized they were all going to commit suicide. The train broke the emergency. But by then it was too late. With 9 people pressed in front of his eyes, the train came to a halt. Police later conducted an investigation and discovered some documents inside their house. Various information was recorded in those documents.
Inside a diary there was written in English: “We are the only family in the world who are independent and self-reliant. Out of the law of Muhammad and out of all the activities of all religions. So who are we? We are Adam. ” In addition, it was written, "Adam is the truth above all, I will arrange the trial of oppression."
The book can be briefly called the journey of Anwar Darvesh. The main characters in the book have been renamed. Some religious and situational insulting information has also been changed. The stalks of the writer's imagination have been added to it keeping the main facts right. As a result, I will definitely throw the book into the fiction genre. The author claims it to be a spiritual thriller. In the first part there were Marxism, Philosophy, Islam, Dark psychology where the second part about ths theory of ancient horror mainly describing the main part. Story building was quite good. It felt like slowly going into deeper. But have to admit that this book is much informative. Also many questions answer remain unfounded. Maybe it'll disclose in the next part.
সত্যি বলতে, এই বই পড়তে হলে ইসলাম সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। তাহলে পড়ার রোমাঞ্চটা পাওয়া যাবে! আনোয়ার দরবেশের পরিবৃত্তিটা কি চমকপ্রদ! চরম অপমানের শিকার হয়ে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে কিভাবে তার চিন্তা ভাবনায় আমূল পরিবর্তন এলো! এখন একজন মুসলিম হিসেবে ব্যপারটা এভাবে মাথায় কাজ করছে, আসলেই সে আর তার পরিবার কালো জাদুর চর্চায় রত ছিলো কিনা, আসলেই তারা জ্বীনের প্রভাবে এসব করেছে কি-না! (জ্বীন আর ব্ল্যাক ম্যাজিকে বিশ্বাস না করলে শুনতে হাসি পায়, জানি! সেজন্য কুরআনের শেষ ৩ সূরার তাফসির জানতে হবে।) প্রথমদিকে কমিউনিস্ট নাস্তিকদের সাথে যে তর্ক ছিলো তা দারুণ লেগেছে। খুব জাদরেল কিছু না কিন্তু প্রশংসনীয়। একমাত্র অসহ্য লেগেছে গল্পের এক পর্যায় কিছু কামুক বর্ণনা ছিলো, বেশ চড়া পর্যায়ে। হয়তো গল্পের প্রয়োজনে। সাধারণত শয়তান সাধনার গল্প বা মুভিতে থাকে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরক্ত লেগেছে! তাছাড়া বাকিটা বেশ উপভোগ্য।
This entire review has been hidden because of spoilers.
শুরুটা যেমন হয়েছিলো, কাহিনী বিল্ডআপ, স্টোরিটেলিং, তড়তড় করে কাহিনী এগিয়ে যাওয়া , সবকিছু ভালো ছিলো । কিন্তু শেষ দিকে এসে কেমন যেন ছন্নছাড়া হয়ে গেলো । মনে হলো খ��ব তাড়াহুড়ো করে ফিনিশিং দেয়া হয়েছে ।
The book started off strong. Halfway through, the author decided that it was not worth his time anymore and wrote literally whatever he thought of. It was unbelievably bad. I kept reading because I was hoping for something to happen, but nothing did. I absolutely hated it.
মিথ্যা আর নিজেদের প্রচার, এবং একই পরিবারের ন জনের ট্রেনে কাটা পরে আত্মহত্যা। মুলত এই পরিবার বিশ্বাস করতো তারাই একমাত্র সত্য ধর্মে দিক্ষীত। আদম পিতা মনে করতেন তিনি একজন ঈশ্বর, এবং তিনি ছাড়া আর সবাই অন্ধকারে পতিত। তার ধর্মই সত্য। এই মুল কাহিনী।