শেষ লড়াইয়ের পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। কিন্তু লড়াই আবার হবে। অন্ধ জাদুকরের সাথে দিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরছেন মুরশেদ মিয়া, সাথে তার দুই সঙ্গী। কিন্তু ফেরার পথে পদে পদে বাধা, বিপত্তি। অন্যদিকে, নিজেকে খুঁজে ফিরছে কিশোর সালাম। আশ্রম থেকে পালানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ড. আরেফিন দেখা পেলেন এক অদ্ভুত মানুষের। এই মানুষটাই হয়তো জানে সেই রহস্যের কথা যা তার বাবার মৃত্যুর সাথে সাথে হারিয়ে গেছে। তা জানার জন্য সর্বস্ব বাজি রাখতে রাজি ড. আরেফিন। সালামকে খুঁজছে মুরশেদ মিয়া এবং অন্ধ জাদুকর, সালামকে খুঁজছে গওহর জামাল। আর সালাম খুঁজছে নিজের আসল অতীত। সব কিছুর মীমাংসা হবে খুব শিগগিরি। ভালো-মন্দ, আলো-অন্ধকারের লড়াইয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এরা কারা? এসব কিছু নিয়েই টান টান উত্তেজনা আর জাদুর অদ্ভুত পৃথিবী নিয়ে ‘অন্ধ জাদুকর’ সিরিজের দ্বিতীয় উপাখ্যান ‘অন্ধ জাদুকর- প্রলয় হুংকার’।
Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.
Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.
Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.
Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'
ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রথম বইটা এরথেকে অনেক উত্তম লেগেছে। প্রথম বইয়ে যেমন পাঠক হিসেবে সালাম চরিত্রটার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব অনুভব করতে পারছিলাম, তাছাড়াও, কাহিনীর ভালো-মন্দ কে, প্লটের উদ্দেশ্য বা গতিপথ কী, এইসব নানাদিক নিয়ে চিন্তা করার খোরাক ছিল পাঠকের জন্য।
দিতীয় বইয়ে সবকিছু অনেকটাই সরলরৈখিক। এই দল ভালো, ওই দল মন্দ, তারা বারবার বারবার লড়াই করে। এটুকুই। পাশাপাশি, 'মৃত্যুর মহান জাদুকর' চরিত্রটার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখানো হয়েছে।
শরীফুল হাসানের আগের কোনো বই, অন্ধ জাদুকরের দুই খন্ডের মতো একশন-প্যাকড ছিল না। এবং বাংলাদেশী লেখকদের মাঝে তাঁর লেখার ভঙ্গি আমার অন্যতম পছন্দের হলেও, শরীফুল হাসানের একশন ডিজাইন আমাকে হতাশ করেছে পুরোপুরি। প্রতিটা সিকোয়েন্সে মুরশেদের বনবন করে লাঠি ঘোরানোই দেখেছি কেবল, আশপাশে শ্যামশঙ্কর আর আইয়ারের ঝাঁপানো, আর ফরিদ সালাহ উদ্দিনের বিড়বিড় করা। ফ্ল্যাশব্যাকের একশন সিকোয়েন্সগুলোই কিছু ব্যাতিক্রমধর্মী ছিল, উপভোগ করেছি সেগুলো।
সিকোয়েন্স নির্মাণে অযৌক্তিক হোঁচট খেতে হয়েছে দুয়েকবার। যেমন, রাস্তার ওপর কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে ড্রাইভারের এমনিতেই গাড়ি থামিয়ে দেবার কথা (তদুপরি স্বাভাবিক কেউ ছিল না রাস্তার ওপর)। ওটাই কল্পনা করে নিয়ে পরের লাইনেই পড়লাম, না, মুরশেদ মিয়া ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বলছেন।
এর বাইরে, 'সহৃদয়বান' গোছের সম্পাদনাজনিত ভুল পুরো বইয়েই ছড়িয়ে ছিল। সম্পাদনা বা প্রুফ রিডিঙে যত্নশীল না হওয়া প্রকাশনীর নজির অনেক আছে। কিন্তু বাতিঘরের বইয়ের ক্ষেত্রে রীতিমতো ধ্রুব হয়ে গেছে বিষয়টা, যে, বাতিঘরের বইয়ে টাইপো থাকবেই। বর্তমানের এতটা জনপ্রিয় এবং প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনী হিসেবে নিজেদের এমন দুর্নাম ঘোচাতে বাতিঘরের যত্নবান হওয়া উচিৎ।
যেসকল পাঠক অন্ধ জাদুকর সিরিজের শেষ অব্দি দেখতে চান, অর্থাৎ প্রথম বই পড়েই ঠিক করেছেন যে এই সিরিজের সাথে থাকবেন, আশা করা যায় 'প্রলয় হুঙ্কার' তাঁদের খায়েশ মেটাবে। আমার মতে, দিতীয় বইটা সিরিজটাকে টেনে নিয়েছে কেবল। কাহিনীর গভীরতা আগেরচে' কিছু বাড়েনি। এবং এইখানেই আমি সিরিজের সাথে এগোনোর আগ্রহ হারিয়েছি।
অনেক বিখ্যাত এবং বিস্তৃত সিরিজও মাঝে বা শুরুতে পাঠককে আগ্রহী করতে ব্যার্থ হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রিলজির তৃতীয় বই পাঠকের মন রাখতে পারে কী না।
ভালো লেগেছে। টানটান উত্তেজনা, সাসপেন্স ছিল ভালোই। দুইপক্ষের মধ্যে লড়াই, একদল মৃত্যুর মহান জাদুকরের উত্থানের অপেক্ষায়, অপরপক্ষ তাকে থামানোর। এই দুইপক্ষের মধ্যে ভালো কে সেটা পাঠকদের হাতে ছেড়ে দেয়ায় শ্রেয়। সিরিজের তৃতীয় কিস্তির অপেক্ষায়।
মৃত্যুর মহান জাদুকর, তাজ হোটেল, শেষে গ্যাস দিয়ে অজ্ঞান, পুলিশের হাবিজাবি অ্যাকশন এবং শেষের দিকে টিভির রিপোর্টের মতো বর্ণনা। আমি স্রেফ হতাশ। সিরিজটাই একটা দুঃস্বপ্ন ছিল।
সত্যি বলতে এই সিরিজের প্রথম বইটা কেমন যেনো লেগেছিলো। এলোমেলো, কাহিনী কোথায় যাচ্ছে সেটার খেয়াল রাখতে গিয়ে পড়ে আসা পাতাগুলো পড়তে হয়েছে।সে তুলনাতে দ্বিতীয় খন্ড ভালো লেগেছে।
“Magic is believing in yourself, if you can do that, you can make anything happen.”― Johann Wolfgang von Goethe - ❝অন্ধ জাদুকর: প্রলয় হুঙ্কার❞ - সালাম, এর আগের পর্বের শেষ লড়াইয়ের পরে আবার ফিরে আসে তার আগের আশ্রমে। এর ফলে সেই আশ্রম চালানো বৃদ্ধ জাদুকর তার সঙ্গী কুদ্দুসকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজাতে থাকে। সেই পরিকল্পনার জন্য সালামকে ঘিরে আশ্রমে গঠিত হতে থাকে প্রশিক্ষিত এক জাদুকরদের দল। - এদিকে শেষ লড়াইয়ের পরে মুরশেদ মিয়া আর ফরিদ সালাহ উদ্দিনও বসে নেই। তাই শত্রুরা তাদের আবার আঘাত করার আগে তারাই প্রথম আঘাত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। এই কারণে ফরিদ সালাহ উদ্দিনের অনেক আগে গঠন করা দলের কয়েকজন পুরনো সদস্যরাও সেই দলে আবার যোগদান করা শুরু করে। - ড. আরেফিন কামাল, তার বাবার আসল পরিচয় খুঁজছে। এই খোঁজাখুঁজির ভেতরে তার সাথে পরিচয় হয় সোহরাব আলী নামের রহস্যময় এক লোকের। তার কাছ থেকে ড. আরেফিন জানতে পারে পল্টনের এক হোটেলের ঠিকানা। সেই হোটেলের বাসিন্দাদের আবার রয়েছে নিজস্ব এক পক্ষ। - এখন সালাম কী এই পর্বে স্থিরতা পাবে কোন জায়গায়? সালামকে ঘিরে সেই আশ্রমের পরিকল্পনা কী সফল হবে? ফরিদ সালাহ উদ্দিনের দল কী পারবে তাদের শত্রুদের উপরে আঘাত হানতে? এ সব কিছুর সাথে ড. আরেফিন আর পল্টনের হোটেলের বাসিন্দাদের কী সম্পর্ক? তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক শরীফুল হাসানের ফ্যান্টাসি থ্রিলার ধারার "অন্ধ জাদুকর" — সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব ❝অন্ধ জাদুকর: প্রলয় হুঙ্কার❞ উপন্যাসটি। - ❝অন্ধ জাদুকর: প্রলয় হুঙ্কার❞ বইটি লেখক শরীফুল হাসানের ফ্যান্টাসি থ্রিলার ধারার "অন্ধ জাদুকর"— সিরিজের দ্বিতীয় আখ্যান। বইটির পটভূমি শুরু হয় এর আগের বইয়ের ঘটনাবলীর মাস কয়েক পরে। ধীরে ধীরে গত পর্বে�� মূল সারথীদের এবারের অবস্থান পাঠকদের কাছে খোলাসা করা হয়। এই পর্বের কাহিনি আগের পর্বের থেকে কিছুটা ধীরগতির লাগলো, একেবারে শেষে এসে কাহিনি বেশ গতি পায়। তবে এই পর্বের লেখনশৈলী গল্পকে টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো করেই লেখা হয়েছে। - ❝অন্ধ জাদুকর: প্রলয় হুঙ্কার❞ বইতে আগের চরিত্রগুলোর সাথে এবারে সোহরাব আলী চরিত্রটিকে ইন্টারেস্টিং লেগেছে। আগের পর্বে পরিচিত হওয়া কয়েকজন জাদুকরের জাদুবিদ্যা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড এবারে আরো বিস্তারিত ভাবে দেখানো হলেও তাদের কয়েকজনের কার্যক্রম বেশ ধোঁয়াশা এবং কিছুক্ষেত্রে প্রশ্নবোধক লাগলো। তবে নতুন প্রাণী হিসেবে "মহারাজ' নামের একটি কুকুর এবং "বাসন্তী" নামের একটি পাখি গল্পে বেশ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও এই পর্বে অ্যাকশন সিকোয়েন্স আগের পর্বের থেকে বাড়লেও সেখানে বেশ কিছু দৃশ্য বেশ রিপিটেটিভ লাগলো। সিরিজের পরবর্তী পর্বের হিন্ট দেওয়া হলেও এই পর্বের কাহিনি অবশ্য বেশ ভালোভাবেই শেষ করা হয়েছে। - ❝অন্ধ জাদুকর: প্রলয় হুঙ্কার❞ বইটির প্রোডাকশন মোটামুটি চলনসই লেগেছে। সম্পাদনাজনিত নানা ধরনের ত্রুটি সিরিজের আগের বইয়ের মতো এই পর্বেও ছিলো। প্রচ্ছদ আগের পর্বের স্টাইলেই করা হয়েছে, যা মোটামুটি মানানসই। এই বইয়ের পরবর্তী পর্ব বের হলে সম্পাদনায় আরো যত্নবান হবে এই সিরিজের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজন, এই আশা করছি। - এক কথায়, অন্ধ জাদুকর সিরিজের প্রথম পর্বের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গিয়েছে ❝অন্ধ জাদুকর: প্রলয় হুঙ্কার❞ বইতে, নতুন কিছু প্রশ্ন যুক্তও হয়েছে সেই সাথে। যদিও আমার এই সিরিজের প্রথম বইটি বেশি চমৎকার লেগেছে, তারপরেও যাদের কাছে এই সিরিজের প্রথম বইটি ভালো লেগেছে তাদেরকে ❝অন্ধ জাদুকর: প্রলয় হুঙ্কার❞ বইটিও পড়ার সাজেশন দেওয়া থাকবে।
প্রথম বইয়ের তুলনায় ২য় বই কিছুটা কাহিনী প্লটের ঘোলাশা দূর করছে, টানটান উত্তেজনা ছিল পুরো বই জুড়ে। এক পক্ষ পুরো পৃথিবী আয়ত্তাধীন করতে চায় আর একপক্ষ জাদুকর আর মানুষ সমানুপাত পৃথিবীতে বাস করতে চায়। আর এক পক্ষের জাদুকর আছে যারা নিরপেক্ষ, তারা শান্তি প্রিয়। তারা দুই পক্ষের মধ্যে সন্ধি করতে চায়।যা আমার খুব ভাল লেগেছে। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে পরর্বতী আরেকটা খন্ড পাবো এই সিরিজের।
কাহিনী জমে নাই। অনেকটা এক্স ম্যান এর কাহিনীর মত মিউট্যান্ট দের নিয়ে গল্প। মিউট্যান্টদের ক্ষমতাকেই জাদু বলা হচ্ছে । পড়ে মনে হয়েছে অনেকটা জোর করে লেখা, চরিত্রগুলো জমে নি, সব মিলিয়ে ভাল লাগে নি।
অন্ধ জাদুকর খুব ভালো না লাগলেও আরবান পটভূমি তে লেখক যে জাদুকরী জগৎ তৈরি করেছিলেন সেটা বেশ আকৃষ্ট করেছিলো। প্রথম বইয়ের তুলনায় এই বইটার প্রতি প্রত্যাশা একটু না ভালই বেশি ছিল কেননা প্রথম বইতে বলতে গেলে শুধু মাত্র সূচনা ঘটেছে মূল কাহিনীর। দরজা খুলে মাত্র জাদুর জগতে পা রেখেছিলাম । আসল রোমাঞ্চ থাকার কথা ছিল প্রলয় হুঙ্কারে। ভেবেছিলাম অন্ধ জাদুকরে জন্ম নেয়া সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবো। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত হতাশ হতে হয়েছে - ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি এমন ভাবে শেষ করেছি এই বই। লেখক যে প্লট তৈরি করেছিলেন জাদু নিয়ে, তার সাথে ভিন্ন ভিন্ন অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার মেলবন্ধন - চমৎকার একটা থিম ছিলো। কিন্তু কল্পনার বিস্তার ঘটেনি চরিত্র গুলো তে। তাদের জাদু শক্তির বর্ণনা , লড়াই এর বর্ণনা গুলো অনেক দূর্বল লেগেছে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নের উত্তর জানি কিন্তু গুছিয়ে লিখতে না পারার মত। এখানে অন্ধ জাদুকর ফরিদ সালেহ উদ্দীন। তার নামেই বইয়ের নাম কিন্তু তার মত গুরত্বপূর্ন একটা চরিত্রের কোন ব্যাক স্টোরি নাই। তার অতীত নিয়ে কোন কথা নাই। তার জাদুর শক্তি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ নাই। আর এখানেই এই চরিত্র টা মুখ থুবড়ে পরে। গওহর জামাল কিভাবে আর কেনই বা প্রতারণা করে , তার সঙ্গী কারা ছিল ! ( দিল্লিতে যারা আক্রমণ করে শুরুর দিকে) এই বিষয়ে পরিষ্কার ভাবে বলা হয়নি। ' নিরপেক্ষ ' শক্তির সোহরাব আলী, ড. আরেফিন কে নিয়ে এমন ভাবে প্ল্যান করে যেন তাকে দিয়ে গুরত্বপূর্ন কোনো কাজ করানো হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি বুঝতে পারছি না আরেফিন চরিত্রের দাঁড়ায় দাঁড়ায় দেখা ছাড়া আর কি ভূমিকা ছিলো এই কাহিনী তে! আর এন্ডিং ! মানে পুরো বইতে যে অপরাজেয় , মহাক্ষমতাধর ' মৃত্যুর মহান জাদুকর ' কে উপস্থাপন করা হয়েছে সে কিনা কি সব জাদুকরী ধোঁয়ায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়! এত ক্ষমতাধর দুই দলের মাঝে উড়ে এসে জুড়ে বসে সব ঠিক করে ফেললো নিরপেক্ষ দল! আসলে সম্পূর্ণ বইটা এমন অসংখ্য প্লট হোল আর দূর্বল ভিত্তির উপর ভর করে সামনে এগিয়েছে যা বিস্তারিত বলতে গেলে ছোট খাটো একটা বই ই হয়ে যাবে। আমিও হয়তো গুছিয়ে সেভাবে লিখতে পারিনি। কিন্তু আমার মনে হয় ফ্যান্টাসি একটা দীর্ঘ সময় নিয়ে লেখার বিষয়। লেখকের কল্পনা শক্তির পূর্ণ মাত্রার প্রয়োগ প্রয়োজন হয় একটা ফ্যান্টাসি জগৎ তৈরি করতে গেলে। যার কল্পনা শক্তি বেশি তার তৈরি জগৎ ও তত বেশি সমৃদ্ধ। ভিন্ন জগৎ এ কাহিনীর বিস্তার বিধায় খুঁটিনাটি সব কিছুর বিশ্লেষণ ছাড়া পূর্ণতা পায়না।
❛আলো আর অন্ধকারের মধ্যে সবসময় ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। কোনোটার একচ্ছত্র বেড়ে ওঠা প্রকৃতির জন্যে সুখকর নয়। প্রকৃতি চায় ভারসাম্য।❜
❛মৃ ত্যু র মহান জাদুকর❜ এর সাথে শেষ লড়াইয়ে প্রায় ম র তে ম র তে বেঁচেছিলেন মুরশেদ মিয়া। তাও সেই ❛অন্ধ জাদুকর❜ শেষ মুহূর্তে না আসলে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারতো। সেই লড়াইয়ের পর কেটেছে অনেকদিন। তবে ফয়সালা যেহেতু হয়নি তাই ল ড়া ই যে আবার হবে সেটা বলাই বাহুল্য। দিল্লিতে কাটিয়ে এখন অন্ধ জাদুকরের সাথে তাদের সঙ্গীসহ আবার নদীমাতৃক বাংলায় আগমন করলেন মুরশেদ মিয়া। তবে যাত্রাটা নির্বিঘ্নে ঘটেনি। পথে মোকাবিলা করতে হয়েছে শত্রুর পাঠানো উপহারের সাথে। এ যাত্রায় প্রাণটা টিকে গেলো।
সালাম নিজের ভেতরের অদ্ভুত এই সত্তাকে মেনে নিতে পারছে না। একটা স্বাভাবিক সুন্দর জীবন সেও চেয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতির অমোঘ নিয়তিতে তাকেও আটকে যেতে হলো। আশ্রমে ফিরে আগের থেকে দ্বিগুণ নিরাপত্তায় থাকলেও সুযোগ বুঝে সে আবার পালায়। এই পালানোটাই যেন তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে ভালো মন্দ কোনো পক্ষেই থাকতে চায় না। কিন্তু মাঝে মাঝে ভেতরের ঐ সত্তাটা........!
ডঃ আরেফিন কামাল ছুটছেন সত্য উদঘাটনে। জানতে হবে অনেক কিছুই। এরমধ্যেই তার পরিচয় হয় এক অদ্ভুত লোকের সাথে। যার কাছে আছে অজানা অনেক প্রশ্নের উত্তর। যার পিছে আরেফিন ছুটে চলেছে অনেকদিন ধরে। আলো-আঁধার, শুভ-অশুভের মাঝে আর কিছু আছে কি? যারা মধ্যপথে থাকতে চায় এমন? যারা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিশ্চুপ থেকে শুধু দেখে যেতে চায়। কিছুসময় এইসব মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারীদের খুব খারাপ ��াগলেও ভালো মন্দের খেলার ভারসাম্য রাখতে তাদের প্রয়োজন হতেও পারে।
সালামকে খুঁজছে গওহর জামালের দল, অন্ধ জাদুকর এবং মুরশেদ মিয়া। তাদের দলে যোগ হয়েছে রাম আইয়ার, শ্যাম শংকর, আজাদ মালিকেরাও। একদলের উদ্দেশ্য ❛মৃ ত্যু র মহান জাদুকর❜ এর উত্থান ঘটানো। আরেকদলের উদ্দেশ্য তার বিপরীত। আর ময়দানে আছে সেই অদ্ভুত ব্যক্তি। যারা কোনো পক্ষেই নেই। মনসুর রাতের বেলা কেমন কাতরে ওঠে। কী দেখে সে? কোনো দুঃস্বপ্ন কি? দেখবেই বা না কেন? চলেই এমন সব অদ্ভুত মানুষের সাথে। সেখানে স্বাভাবিক স্বপ্নই তো অস্বাভাবিক! নিউটনের তৃতীয় সূত্রমতে, ❛প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।❜ অশুভ শক্তির যেমন নেতা আছে তেমন শুভ শক্তির কী মহান কেউ থাকতে পারে না? না হয় লড়াইটা সমানে সমানে কী করে হবে? একজনের উত্থান হয়েছে তবে বিপরীত আরেকজনের উত্থান হতে কত দেরি?
গাজীপুরের শালবনে জড়ো হয়েছে ❛মৃ ত্যু র মহান জাদুকর❜, গওহরের দল আর অন্ধ জাদুকরের দল। যদিও এই দলে মানুষ মোটে দুইজন। মনসুরকে ধরা চলে না। এই শক্তি নিয়ে শুভ শক্তির আগমন ছাড়া কী করে জয়ী হবে তারা? এছাড়াও মাঠে আছে অদ্ভুত ব্যক্তি। পৃথিবীকে রক্ষার জন্য ভারসাম্য জরুরি। আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। এরপর?
এগুলোর মাঝে ডঃ আরেফিন কোন দল বেছে নিবেন? দুই পক্ষের প্রলয় হুংকার শোনা যাচ্ছে যে.....
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝অন্ধ জাদুকর- প্রলয় হুংকার❞ সিরিজের দ্বিতীয় বই। এবং আশা করি এটাই শেষ। প্রথম বইয়ের যেখানে শেষ হয়েছে তারপর থেকে শুরু হয়েছে প্রলয় হুংকারের ধ্বনি। প্রথম বইতে অনেক ধোঁয়াশা, কুয়াশার পরে অনেককিছু সমাধান হয়েছিল আর প্রশ্ন রেখে গেছিল আরো অনেক কিছুর। এই বইতে সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। রহস্য এখানেও ছিল বেশ। কেন শুভ-অশুভের এই লড়াই কেনই বা দরকার ভারসাম্য সবকিছুই এসেছে এই খন্ডে। আগের থেকে আরো বিস্তারিত এবং উপভোগ্য করে লেখক বইটা সাজিয়েছেন। আগের বইয়ের টান ধরে এনেছেন নতুন অনেককিছু। আগমন ঘটেছিল অনেকগুলো চরিত্রের। তারা এসেছে প্রয়োজনের খাতিরে। গল্পে আলাদা মাত্রা এনেছে অনেকের উপস্থিতি। বেশ ভালো লেগেছিল সেসব বর্ণনা। গত পর্বের মতো এখানেও সালাম পালিয়ে বেড়িয়েছে। নিজেকে জানতে কখনো, কখনো বা প্রস্তুত হতে। আসন্ন লড়াইতে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখবে সে উদ্দেশ্যে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে। ছোটো এইটুক ছেলের জন্য এতবড় ভার বহন বেজায় কঠিন-ই বটে!
প্রতিটা ঘটনা এবং তার প্রেক্ষিতে আগত চরিত্রদের লেখক ব্যবহার করেছেন প্রশংসনীয়ভাবে। বিশেষ করে পল্টনের সেই হোটেলের মধ্যে যে আবহ আর রহস্যের ঘেরাও ছিল সেটা সত্যিই দারুণ ছিল। তাদের উপর প্রচন্ড বিরক্তি লাগলেও একটা সময় তাদের বেশ লেগেছে। কখনো কখনো নিরপেক্ষতা পারে ভারসাম্যের দিকে নিতে। তবে আমার মনে হয়েছে অতিরিক্ত রহস্য রহস্য করে শেষদানে কিস্তিমাত করতে গিয়ে গল্পটা কোথাও গিয়ে একঘেঁয়ে হয়ে গেছিল। আর শেষের বিশাল একটা ক্লাইম্যাক্স অনেকটাই ধরে ফেলা গেছিল বা আমি ধরতে পেরেছিলাম। কারণ কোনো চরিত্রের উপস্থিতিই লেখক অযথা আনেন নি। সে থেকেও অনেকটা ধারনা পেয়েছিলাম। শেষটুকু লেখক দারুণ বর্ণনা দিয়েছেন। আমার মনে হয়েছে সমাপ্তি হিসেবে এরথেকে সুন্দর আর হয়না। সিরিজটা এখানেই সমাপ্ত হিসেবে একদম দারুণ। এর বেশি নিলে একই কথার একই কাহিনির কপচানো মনে হবে। হয়তো সেটা ভিন্ন আঙ্গিকে। ডুয়েল সিরিজ হিসেবে ❛অন্ধ জাদুকর❜ উপভোগ্য। পড়তে গিয়ে ডঃ আরেফিনের ব্যাপারে মনে হলো ভুল পড়লাম। প্রথম বইতে ছিল তার ভাই বোন আছে (যদ্দুর মনে আছে)। এই বইতে এক স্থানে লেখক উল্লেখ করলেন তার বাবার একটাই ছেলে অর্থাৎ আরেফিন কামাল একলাই। ভুল না সম্পাদনার ঘাটতি জানা নেই।
আলো আঁধারের খেলায় কর্তৃত্ব যদি একজনের হয় তবে খেলাটা কি সকলের জন্য ভালো হবে? নাকি কিছুটা আধিপত্য কিছুটা পরাজয়ের মধ্যেই আছে আসল সার্থকতা?
চরিত্র:
এখানে অনেক চরিত্রের আগমন ঘটেছে। আগের বইয়ের মতোই সালাম চরিত্রটাকে আমার তেমন বিশেষ পছন্দ হয়নি। তার পলাপলি খেলাতেই উপন্যাসের বিদায় ঘন্টা এসে গেছে। ❛অন্ধ জাদুকর❜, মুরশেদ মিয়া এই দুইজনকে ভালো লেগেছে অবশ্যই। তবে শেষে দিয়ে অন্ধ জাদুকর অবাক করেছে। ডঃ আরেফিন থেকে আশা আরো বেশি ছিল। তাকে খেলার পুতুল হিসেবেই মনে হয়েছে উপন্যাসে। চাইলে তার ব্যবহার আরো বেশি করা যেতো।
প্রচ্ছদ:
বইয়ের প্রচ্ছদটা আমার খুব ভালো লেগেছে। উপন্যাসের সাথে একেবারে মানানসই।
❛প্রলয় হুংকার শোনা যাচ্ছে। এবারের খেলায় এক পক্ষ জয়ী হবে। একপক্ষের জয় কি ভালো হবে? আলো আঁধারের পাশাপাশি সহাবস্থান-ই তো এই জগতের মূল। তবে লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা যাক।❜
বহুদিন পর প্রায় একদিনে এবং রাতের ঘুম কিছুটা বিসর্জন দিয়ে একটা বই শেষ করার অর্থ বইটা ভালো লেগেছে। কাহিনী তার গতিতে এগিয়ে গেলেও লড়াইগুলো শুরু হয়ে উপভোগের আগেই যেন শেষ হয়ে গেছে। অন্ধ জাদুকর পড়ার সময়েই মনে হচ্ছিলো এই দীর্ঘ সময়ের জন্য এই বৃদ্ধদেরকেই কেন অপেক্ষা করতে হবে? তারা কি পারতো না নতুন জাদুকর খুঁজে তাদের প্রস্তুত করতে? বিপক্ষের সাথে লড়াইয়ের সময়ে বিষয়টা আরো মনে আসছিলো। বানান ভুল, ভেঙে যাওয়া শব্দ, উধাও হয়ে যাওয়া লাইনের অংশবিশেষ খুঁচিয়েছে। তবে বেশি যেটা চোখে লেগেছে, ক্যাজুয়াল পোশাকে রাতে বাইরে বেরিয়ে সারারাত বাইরে থেকে, সকালে কি করে একজনের কাছে খালি অফিস ইউনিফর্মই থাকতে পারে! অন্ধ জাদুকর বইতে মনসুরের বাবা-মা সম্পর্কে বলা হলো তারা ফরিদ সালাহ উদ্দীনের কাছে কাজ করতো। একসাথেই মারা যায় তারা। তাদের দিল্লির সবচেয়ে বড় হাসপাতালে রেখে অনেকদিন চিকিৎসাও করানো হয়েছিলো। কিন্তু এ বইতে এসে লেখা হলো, কে বা কারা যেন মনসুরকে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে রেখে গিয়েছিলো, সেখান থেকে উদ্ধার করেই নিজের কাছে রেখে দেন তিনি! এদিকে আরেকটু মনে হয় নজর দেয়া উচিত ছিলো লেখকের। শেষাংশের চমকটা বেশ অনুমেয়ই ছিলো, লেখক কিছুটা জোরও করেছেন ওদিকে চিন্তা করতে পাশাপাশি ওদিক থেকে দৃষ্টি সরানোরও চেষ্টা চালিয়েছেন। যদিও আমার মনে হচ্ছিলো চমকটা অন্যদিক থেকে আসলে খুব একটা মন্দ হতো না। জানি না আরেক খণ্ড আসবে কিনা, আসলে ভালো না আসলেও শেষ যেভাবে হয়েছে তাতে আটকাবে না।
চলে। আগের পর্বের চেয়ে বেটার। আমি আবারো বলব যে অন্যান্য জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি প্লটের সাথে প্রচ্ছন্ন মিল রাখা যেতো। এক্স-মেন, হ্যারি পটার, ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট - এসব এখন নিতান্তই সহজলভ্য সবার জন্য। একশন সিনারিওগুলো মাঝেমধ্যে তাল রাখতে পারেনি। বিরক্ত হয়েছি হতাশ হয়েছি, তবু আগের পর্বের চেয়ে তুলনামূলক ভালো হয়েছে।
বেশ অনেক জায়গায় বানানের ভুল আছে। বাতিঘরের কমন সমস্যা। প্রকাশকের আরো যত্নশীল হওয়া দরকার পরবর্তী এডিশনে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
এই সিরিজটা কেন জানি হতাশ করছে। ২য় পার্ট অনেক দিন পরে পড়ছি বলে মনে হয় আগের পার্টের অনেক কিছু ভুলে গেছি। তারপরও এই সিরিজ পড়তে গিয়ে বার বার বার ই মনে হয়েছে ক্যারেক্টর গুলা কপি করা কোন ইংরেজি মুভি থেকে৷
কাহিনী জাল ভাল ছাড়িয়েছিল, ডাল পালাও গজিয়েছিল কিন্তু অদ্ভুত সব ক্যারেক্টার, তৃতীয় পক্ষের অদ্ভুত উদয় সব ভন্ডুল করে দিয়েছে।
বই টা শেষ করতে করতে একটূ রাত হয়ে গিয়েছিল , ঘুম চোখে শেষ ২ পাতা পড়ে ছিলাম, সকালে ঘুম থেকে উঠে মনেই পরছিল না শেষে কি হয়ে ছিল। পুরো বই যেই সাসপেন্স নিয়ে এগিয়েছিলো তা শেষ এক দুই পাতায় শেষ। ভালোই লেগেছে বইটা ম্যে বি শরীফুল হাসান আরেক পর্ব নিয়ে আসবেন ।