বাংলা নবজাগরণের সঙ্গে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। এই বংশের অনেক কৃতী সন্তান নবজাগরণের বিভিন্ন দিগন্তকে তাঁদের ব্যক্তিত্ব প্রভায় উজ্জ্বল এবং আলোকিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বা ছিলেন বিখ্যাত কবি, কেউ বাগ্মী, কেউ রাজনীতিবিদ, আবার কেউ সমাজ সংস্কারক। পুরুষের পাশাপাশি অন্দরমহলের বেশ কিছু মহিলার উজ্জ্বল উপস্থিতি আমাদের চোখে পড়ে। প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তাঁদের অনেকে মনে রাখার মতো কাজ করে গেছেন। কেউ লিখেছেন অনবদ্য কবিতা, কেউবা উপন্যাসের মাধ্যমে নিজের না বলা কথা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন, কেউ রঙ তুলি আর কল্পনা মিশিয়ে সাদা ক্যানভাসে চিত্র বিচিত্র ছবি এঁকে আমাদের অবাক করে দিয়েছেন। এই পরিবারের কোনো এক বিদূষী কন্যা অতলান্তিক পার হয়ে নতুন মহাদেশে গিয়ে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার কথা প্রতীচ্য দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। আবার একজন প্রাচীন শিল্প সংগ্রহ করে বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী প্যারিসের বুকে এমন এক সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন, যা আজও হাজার হাজার মানুষের মুগ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শুধু ঠাকুরবাড়ির কন্যারাই নন, বিবাহসূত্রে যাঁরা এই পরিবারের সাথে অঙ্গাঙ্গী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁদের কারো কারো মধ্যে প্রতিভার স্ফুরণ চোখে পড়ে। তাঁদের কেউ ছিলেন বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী, কঠিন নাচের এক একটি ভঙ্গিমা নিবেদন করতেন ছন্দোময় অভিব্যক্তিতে, কেউ বা অচেনা অজানা অঞ্চলে গিয়ে সেখানকার সাধারণ মানুষের জীবনের মানোন্নয়নের জন্য থেকেছেন আত্মনিবেদিতা। এই পরিবারের কোনো লজ্জাশীলা কিশোরী কন্যা শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কেউ আবার শিল্পচেতনাকে করেছেন সমৃদ্ধ। কেউ রন্ধনশিল্পের মতো একটি অনাদৃত অবহেলিত দিক নিয়ে সারাজীবন গবেষণা করে গেছেন। ~ পৃথ্বীরাজ সেন