বই : বঙ্গ দেশি মাইথোলজি
লেখক : রাজীব চৌধুরী
প্রচ্ছদ : রহমান আজাদ
জনরা : লৌকিক উপকথা
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২০০ (ইলাস্ট্রেটেড ভার্সন)
মুদ্রিত মূল্য : ১৮০ টাকা
ফ্ল্যাপ থেকে :
হিন্দু জমিদার যুগল কিশোর রায় চৌধুরীকে কেন শ্মশানে না পুড়িয়ে লুকিয়ে জানাজা পড়িয়ে কবর দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু কেন? বাংলা নারী জাগরনের পথিকৃৎ বেগম সুফিয়া কামাল তার আত্মজীবনীতে কোন রহস্যের কথা লিখেছিলেন? বরিশালের চন্দ্রদ্বীপের সাথে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু বাকরখানি খাবারের যোগসূত্র-ই বা কোথায়? কিংবা নবীগঞ্জ উপজেলায় কুড়ি টিলার কালো পাথর কেনই বা দিন দিন বড় হয়ে যাচ্ছে? ‘ভাগিনা’ উপাধি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ঠগি সম্প্রদায়, সিলেটের আলোচিত ‘জুজু’ উপকথা, ময়মনসিংহের চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির আখ্যান, বাবা আদমের অভিশাপে রাজা বল্লাল সেনের দুর্গতি, পৌরাণিক ক্ষমতাবান বাঘ দেবতা দক্ষিণরায়ের ইতিহাস, খুলনা শহরে করিম, কমল ও সৈয়দজানের ট্রাজেডি, রাজা রামেন্দ্রনারায়ণ রায়ের জিঘাংসা বশত প্রতিশোধের গল্প, ঈশ্বর পুত্র ইশাইনাথের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার মতো জানা-অজানা নানা উপকথা ছড়িয়ে আছে এই বাংলাদেশের মাটিতে।
সেই সকল উপকথা নিয়ে রচিত ‘বঙ্গদেশি মাইথোলজি’।
রোমাঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অভিভূত হতে বাংলার জানা-অজানা ১৬টি উপকথা নিয়ে রাজীব চৌধুরীর লেখা ‘বঙ্গ দেশি মাইথোলজি’ উপাখ্যানে আপনাকে স্বাগত।
পাঠ প্রতিক্রিয়া :
বাংলার লোকসাহিত্যর লোককথা,উপকথা যখন এই প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা, তখন লেখকের বাংলার লোকসাহিত্যে নিয়ে লেখার মহৎ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসা করার মতোই!
বইটি তে রয়েছে ১৬ টি গল্প।
১.বদর আউলিয়া উপাখ্যান
২.গাজী কলু চম্পাবতি
৩.আলী সুড়ঙ্গ
৪.নবার সিরাজউদ্দৌলার পুত্র কথা
৫.বাকরখানির প্রেম
৬.কুড়িটুলার কালোপাথর রহস্য
৭.গানস অফ বরিশাল
৮.ভাগিনা বিভীষিকা
৯.জুজু
১০.চন্দ্রাবতীর প্রেম কথা
১২.চন্দ্রাবতীর প্রেমকথা
১১.পোড়া রাজা
১৩.কমল বাওয়ালী উপাখ্যান
১৪.নরবলি
১৫.ভাওয়াল রাজার গল্প
১৬.ইশাইনাথের গল্প
বইটি হাতে নিয়ে প্রথমেই আমার মনে যে প্রশ্নটি উঁকি দিয়েছে তা হলো বইটির নাম।বইয়ের ফ্ল্যাপে আমরা দেখতে পাই এটি বাংলা উপকথার সংকলন।কিন্তু বইটির নাম বঙ্গীয় মাইথোলজি ; ফোকলোরের একটি সতন্ত্র শাখা লোক গল্প।লোকগল্পের কয়েকটি ধাপ রয়েছে তার মধ্যে কিংবদন্তি এবং উপকথা দুটোই রয়েছে।এখন কিংবদন্তির ইংরেজি প্রতিশব্দ মিথলজি। সোজা কথায় মিথলজি হচ্ছে এমন এক গল্প কাহানি যাতে শুধু দেব-দেবি এবং সমাজের বীরপুরুষদের কাহীনি বর্নিত যা প্রাকৃতিক ঘটনা সমুহের পিছনে তাদের শক্তি বর্ননা করে আর প্রাকৃতিক ঘটনা সমূহের ব্যাখ্যা দেয়। এক কথায় দেব-দেবীদের নিয়ে যে কোন কাহীনিই হচ্ছে মিথ আর এ সম্পর্কিত বিদ্যা বা পড়ালেখাকে বলে মিথলজি। আর উপকথার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো ফেবল যা একটি কল্পকাহিনী বা একটি কাল্পনিক আখ্যান যার অর্থ নৈতিক পাঠ শেখানো।কল্পিত চরিত্রগুলি সাধারণত এমন প্রাণী যাঁর কথা এবং কাজগুলি মানুষের আচরণকে প্রতিবিম্বিত করে। কিন্তু গল্পগুলোর সংকলন আসলে কিসের মধ্যে পড়েছে একজন ফোকলোর স্টুডেন্ট হিসেবেও আমি উদ্ধার করতে পারলাম না।
এইবার আসি মূল কথায়, প্রথমেই আমি বলেছি বাংলার লোককথার প্রাচীন ঐতিহ্য যখন হারিয়ে যেতে বসেছে তখন এই ধরনের একটা বই,বইয়েত জগৎ এ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।কিন্তু এই কথা দুটো ছাপিয়ে আমি যদি গল্পের গাঁথুনি বা গল্পের শিকড় সম্পর্কে আর দুটো ভালো কথা বলতে পারতাম তাহলে আমার নিজের ও অনেক ভালো লাগতো!গল্পের গাঁথুনির কথা যদি বলি তাহলে বেশ কয়েকটি গল্প পড়তে গিয়েই আমার খাপ ছাড়া মনে হয়েছে; বিশেষ করে শেষ গল্পটি অর্থাৎ ইশাইনাথের গল্পটা খুবই এলোমেলো লেগেছে এবং গল্পের মূল উপজীব্য পর্যন্ত পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়েছে!
এই প্রজন্মের অনেকেরই গাজির গান,ঠগী, দক্ষিণারায় এইসব গল্প সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই।তাই মানুষ যখন কোনো একটা অজানা বিষয়ে পড়তে যায় সে সেই বিষয়টির শিকড় পর্যন্ত যেতে চায় কিন্তু ইতিহাস নির্ভর যে গল্প গুলো রয়েছে সেখানে তথ্যের দৈন্যতা সহজেই প্রকাশ পায়।অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমার কেনো যেনো মনে হয়েছে উনি উইকিপিডিয়ার সাহায্য নিয়েছেন।কিন্তু গাজী কালু চম্পাবতী, শাহ মখদুম কিংবা ভাগিনা বিভিষীকা এই গল্পগুলো তথ্যবহুল ভাবে পাঠকের সামনে উপস্থিত হতে পারতো!কেননা আমরা যদি লোকসাহিত্যের লোকনাট্য কিংবা লোককাহিনী গুলো নিয়ে যদি একটু পড়াশোনা করি তাহলেই তা খুব সহজেই প্রতীয়মান হয়।কারন এই গল্পগুলো নিয়ে গবেষনার অনেক জায়গা আছে বলে আমার মনে হয়।মানে প্রতিটা গল্প পড়ার পরই মনে হয়েছে এটা সম্পর্কে যদি আরেকটু জানতে পারতাম।তবে একটা দুটো এমন বিষয়ও ছিলো যা আগে জানা ছিলো না,যেমন গানস অফ বরিশাল। বইয়ের প্রচ্ছদ নির্বাচনে লেখকের প্রশংসার দাবিদার।
সর্বোপরি যদি বলি আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া ছিলো খুবই সাদামাটা।