Jump to ratings and reviews
Rate this book

মাউস ট্র্যাপ

Rate this book
ডিপ ওয়েব ও ডার্কওয়েব নিয়ে বাংলাভাষায় লেখা প্রথম তথ্যকাহিনী।

ডার্ক ওয়েবের দুনিয়া কীভাবে চলে? কারা তার নিয়ন্ত্রক? তাদের কি কোনও সিক্রেট সোসাইটি আছে? কয়েক ক্লিকেই জাল পাসপোর্ট, নকল নোট, অস্ত্রশস্ত্র- সে কি সম্ভব? সেখানে নাকি আইসিসের রিক্রুটমেন্ট চলে? ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড কীভাবে চুরি হয়? ব্যাংক জালিয়াতি কীভাবে হয়? টিকটক বা ক্যামস্ক্যানারের ব্যান হওয়ার আসল কারণ কী? ড্রোন বা মিসাইলে সাইবার অ্যাটাক, মোবাইল অ্যাপ দিয়ে প্লেন হাইজ্যাক- সেকি শুধু কল্পবিজ্ঞানের গল্পকথা? সিগারেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কী সম্বন্ধ? ডেটিং সাইট কতটা সেফ্? সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে কি ভোটের রেজাল্ট পালটে দেওয়া যায়? কেনই বা ফেসবুক পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা দিয়েছে? ভুয়ো খবর, ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চেনার উপায় কী? বিটকয়েন কীভাবে কাজ করে? র‍্যানসমওয়্যার কীভাবে কাজ করে? হ্যাকটিভিস্ট্ কারা?…

400 pages, Hardcover

Published January 1, 2021

7 people want to read

About the author

Sourav Mitra

9 books1 follower

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (75%)
4 stars
1 (25%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Preetam Chatterjee.
7,145 reviews386 followers
September 23, 2021
বই: মাউস ট্র্যাপ
লেখক: Sourav Mitra
প্রচ্ছদঃ সৌভিক মিত্র
বর্ণশুদ্ধি এবং বর্ণবিন্যাসঃ Arka Paitandi
ফরম্যাট : হার্ড বাউন্ড
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪০০
প্রকাশক : Boichoi Publication
প্রথম সংস্করণ: জুলাই, ২০২১
মূল্য : ৪৬০ /-

গল্পটা ঠিক কোন জায়গা থেকে আরম্ভ করবো বুঝতে পারছি না।গল্পের পটভূমিকা বেশ পরিব্যাপ্ত। স্বাধীনতার গল্প এটি। স্বাধীনতার চাইতে কাঙ্খিত বস্তু আছে নাকি কিছু মানুষের ? সেই যে কবি বলছেন না :

স্বাধীনতা তুমি
খোকার গায়ের রঙিন কোর্তা,
খুকীর অমন তুলতুলে গালে
রৌদ্রের খেলা।
স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা। -----

যেমন ইচ্ছা , যেমনভাবে বাঁচার ইচ্ছা, নিজেকে প্রকাশ করে মেলে দেওয়ার ইচ্ছাই তো স্বাধীনতা।

কিন্তু স্বাধীনতা কি অনিয়ন্ত্রিত? তা কি সেচ্ছাচারী? শর্তহীন ?

শর্তহীন স্বাধীনতা ও তার ভয়ঙ্করতম ধ্বংসসামর্থ্যের গল্প বলছে এই বই।

একটু সামান্য পিছনের দিকে তাকানো যাক , চলুন।

বিশ শতকের দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব ছিল নগরকেন্দ্রিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সম্প্রসারণশীল। এই নবসভ্যতা প্রতিষ্ঠা এবং প্রসারে প্রযুক্তির ভূমিকা অগ্রগণ্য। এবং সমাজের যে অংশ প্রধান ভূমিকা নেয় তার নাম বুর্জোয়াজি বা নাগরিক মধ্যবিত্ত শ্রেণী।

দার্শনিক-বৈজ্ঞানিক-আবিষ্কারক-উদ্ভাবকের দল , জ্ঞানকে নির্ভরযোগ্য ও সম্প্রসারিত করেন , প্রযুক্তির উন্নতি ঘটিয়ে মানুষের দক্ষতা ও ক্ষমতাকে বিপুল পরিমাণে বাড়িয়ে দিতে থাকেন। শিল্পবিপ্লবের ফলে বুর্জোয়ায়ন , শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসার এবং সমাযোজন-পরিবহণের (transport and communication) ব্যাপক উন্নতি কাটিয়ে তোলে প্রজন্মব্যাপী অচলায়তনিক জড়তা।

সাম্রাজ্যতন্ত্রে-সাম্রাজ্যতন্ত্রে দু'টি মহাযুদ্ধের পরবর্তীকালে সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয় ঐতিহাসিকের ভাষ্যে 'ভাস্কোডাগামা যুগ'। তারপর আসে বিশ শতকের ছয়ের দশক। ১৯৬২ সালের গ্যালাকটিক নেটওয়ার্ক কনসেপ্টের পরবর্তী এক দশকে বাস্তবায়িত হয়। ১৯৭২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সূচনা ঘটে ইন্টারনেট যুগের। সভ্যতার তৃতীয় বৃহত্তম বিপ্লব বলেছেন একে কেউ কেউ। আমরা পদার্পণ করি এক নতুন বাস্তবতায়।

জিজ্ঞাসারিক্ত নির্দেশনির্ভরতা, পরম্পরানিয়ন্ত্রিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জীবনযাত্রায় ঘটে আমূল বিপ্লব।
কিন্তু যে উদ্যম, নির্ভরযোগ্য জ্ঞান, বিকাশধর্মী প্রযুক্তি আমাদের ঐহিক সমৃদ্ধিসাধন করলো , সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আগ্রাসীবৃত্তি , বিনাশসামর্থ্য ও মৃত্যুবৃত্তিকেও করলো প্রবলতর। উদ্যোগের সঙ্গে মিশেল ঘটলো লোভের , অনিবার্য মিশেল ঘটলো বিনাশসামৰ্থ্যের। সময়ের আবর্তনের সাথে সাথে সদম্ভে গড়ে উঠলো সামাজিক মাধ্যম, মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার।

সেই সঙ্গে আরও একটি নেশা মহামারীর মতই ছড়িয়ে পড়ল দুনিয়া জুড়ে - অনলাইন শপিংয়ের। একবিংশ শতকে পদার্পন করতে না করতেই আমরা বুঝতে পারলাম যে নেট প্রযুক্তিকে নতুন এক ড্রাগ বলে অভিহিত করেছেন পন্ডিত মানুষজন -- ‘ডিজিটাল ড্রাগ’। কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ একে ‘ডিজিটাল কোকেন’ বলেও অভিহিত করেছেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে আফিমের নেশায় বুঁদ করে ইংরেজরা চিনের জনগণের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।

বিংশ শতাব্দীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ, যেমন, মারিজুয়ানা, হেরোইন, ব্রাউন সুগার, কোকেন, গাঁজা প্রভৃতির কারণে তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেরুদণ্ড অনেকাংশে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই ষাটের দশক থেকে সত্তরের দশকের গোড়া পর্যন্ত ভিয়েতনামে অগ্রসরমান আমেরিকান সেনাবাহিনীর পতনের অন্যতম কারণ ছিল ড্রাগের নেশা। আর আজ ঠিক একই ভাবে আধুনিক প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার নতুন প্রজন্মকে মানসিক ভাবে ক্ষয়িষ্ণু করে তুলেছে। এই ক্ষয়িষ্ণুতার পথ দিয়েই ঢুকে পড়ছে প্রতারক।

যে প্রযুক্তি মানুষের কল্যানসাধনের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল তা ক্রমে হয়ে উঠলো আমাদের অসুস্থতার অন্যতম কারণ। প্রমিথিয়াস জুসের বজ্রের থেকে চুরি করে মানবজাতির কল্যাণের তাগিদে তাদের দিয়েছিলেন আগুন। সেই আগুন ব্যবহার করেই পরবর্তীকালে মানুষ স্বজাতিহত্যার খেলায় মেতে উঠেছে। প্রযুক্তির সামগ্রিক স্খলনের গল্পটিও অনেকটা সেরকম।

সেই গল্পই আদ্যন্ত লোকায়ত ভঙ্গিমায় বলেছেন সৌরভ মিত্র।

বইয়ের নাম মাউসট্র্যাপ।

প্রসঙ্গত , নোবেলজয়ী সাহিত্যিক Selma Lagerlöf মহাশয়ার একটি বিস্ময়কর গল্প আছে যার নাম - The Rattrap ! সেই গল্পের মুখ্যচরিত্র এক ইঁদুরকল বিক্রেতা। গল্পের গোড়াতে সে মানুষের জীবনকে একটি ইঁদুরকলের সাথে তুলনা করতে গিয়ে বলছে ' ....the whole world with its lands and seas, its cities and villages — was nothing but a big rattrap. It had never existed for any other purpose than to set baits for people. It offered riches and joys, shelter and food, heat and clothing, exactly as the rattrap offered cheese and pork, and as soon as anyone let himself be tempted to touch the bait, it closed in on him, and then everything came to an end.'
গোটা দুনিয়াতেই পাতা রয়েছে লোভের মারণ ফাঁদ। মানুষের অনৈতিক, অবৈধ, বেআইনি এবং অনাহূত প্রত্যেকটি আকাঙ্খার সূত্রই লোভ। ভার্চুয়াল নেশায় মগ্ন প্রযুক্তিনির্ভর মানুষের লোভকে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে হাজার কোটি টাকার ইন্টারনেট-প্রতারণার ব্যবসা। মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে মুহূর্তের সুখের আশায় বিশ্বের কোটি কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তাই সহজেই ধরা দিচ্ছেন প্রতারকের জালে।

বইয়ের নামকরণ সার্থক বলে ধরে নেওয়া যায়।

মুখবন্ধে বলা হচ্ছে : আমাদের প্রবৃত্তিগত দুর্বলতা আর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিগত অজ্ঞতা , এই দু'য়ের সঙ্গে প্রতারকের টোপ মিলে যে ত্র্যহস্পর্শ যোগ সৃষ্টি হচ্ছে তা থেকে পরিত্রান পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। শুধু ব্যক্তি মানুষ নয় , এই সব ধীমান প্রতারকদের পাল্লায় পড়ে জেরবার হয়ে যাচ্ছে বিশ্বের তাবড় তাবড় রাষ্ট্রশক্তি। এ যেন এক অপ্রতিরোধ্য অদৃশ্য আক্রমণ, এমন এক ভার্চুয়াল যুদ্ধ যেখানে কে লক্ষ্যবস্তু আর কেই বা আততায়ী, কে যে শত্রু আর মিত্রই বা কে তা নির্ধারণ করা একপ্রকার অসম্ভব।

যদিও চলছে লাগাতার সতর্কতামূলক প্রচার, তা সত্ত্বেও কমছে না অনলাইন প্রতারণার সংখ্যা। কর্মব্যস্ততার মধ্যে হঠাৎই আপনার মুঠোফোনে পাতা হলো প্রতারণার মাউস ট্র্যাপ। এলো মেসেজ। সেই মেসেজে বলা হয়েছে, 'প্রিয় গ্রাহক আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দ্রুতই স্থগিত হয়ে যাবে। অনুগ্রহ করে কেওয়াইসি যাচাই করবার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।' অজ্ঞানতার দরুন এমন লিংকে ক্লিক করলেই বিঘ্নিত হতে পারে আপনার সাইবার সুরক্ষা।

সাইবার আইনে ডিপ্লোমা ও পেশায় প্রযুক্তিবিদ সৌরভ মিত্র , নিঃসন্দেহে সুলেখক। তিনি তাঁর মাউস ট্র্যাপ নামক ডক্যুমেন্টারি-ননফিকশনকে সাজিয়েছেন এমন চমৎকার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা ও ঘটনাপ্রবাহে যে আলোচনাকারীর মতো নিতান্ত হীনবুদ্ধি ও আপাদমস্তক প্রযুক্তি-মূর্খেরও মনে হয়নি যে তিনি একটি ননফিকশন পড়ছেন।

বইয়ের একেবারে গোড়া থেকে শেষ পর্যন্ত সমগ্র ন্যারেটিভের বক্তা দারোগা হরনাথ সৎপথী নামক এক বর্ণময় পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই মানুষ। তিনি 'প্রায় সিকি শতাব্দী ধরে চোর-ডাকাত-পকেটমারের পেছনে দৌড়ে হঠাৎ খেয়াল করলেন অপরাধের দুনিয়াটাই গিয়েছে বদলে। ....এখন যত্তসব ছেলেছোকরার দল , একটা ল্যাপটপ কী দুটো মোবাইল জুটিয়ে ঘরে বসেই টুকটাক চুরিচামারি সেরে ফেলছে ! ...

সহকর্মী মানিক হালদারকে সাইবারক্রাইমের অলিগলি চেনানোর অছিলায় হরনাথ যথাসম্ভব অনায়াসগম্য, অকপট ও সহজপাচ্য ভাষায় পাঠকের পরিচয় করিয়েছেন অন্তর্জালের নানাবিধ সূক্ষাতিসূক্ষ্ম আঙ্গিকের সঙ্গে।

প্রত্যেকটি অধ্যায়ের নামকরণে রয়েছে লেখকের গভীর রসবোধ ও নিরলস মনীষার চিহ্ন। সর্বমো�� ন'টি অধ্যায়ে বিভক্ত বইটি, যথাক্রমে :

১) গৌরচন্দ্রিকা (ভার্চুয়াল দুনিয়ার বাস্তব ভিত্তি )
২) ছদ্মবেশী (আইডেন্টিটি থেফট যেভাবে হয়)
৩) কী মাছ ধরেছি বড়শি দিয়া (ফিশিং আর হ্যাকিংয়ের গল্প)
৪) অর্থমনর্থম (ফাইনান্সিয়াল ফ্রডের রকমফের)
৫) মূর্খ বড়ো , সামাজিক নয় (সমস্যার নাম সোশ্যাল মিডিয়া)
৬) মুদ্রাসঙ্কেত (ক্রিপ্টোকারেন্সি সংবাদ)
৭) ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবি (রানসমওয়ারের ফাঁদ)
৮) তা সে যতই কালো হোক (ডার্ক ওয়েবের খোঁজে )
৯) ধারাপাত ধারা পাঠ (অপরাধ ও শাস্তি )

ফিশিং থেকে হ্যাকিং , ইন্টারনেটের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা, Ransomware ইত্যাদি প্রসঙ্গ বহুবিধ স্লাইডের সাহায্যে দারোগা হরনাথ সৎপথী বুঝিয়েছেন আমাদের।

ইন্টারনেটের যুগ হাট করে খুলে দিয়েছে সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা, গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের ব্যক্তিগত তথ্য। গুপ্তচরবৃত্তিও হচ্ছে যন্ত্রের সাহায্যে। সিআইএ, আইএসআই, র, এমআই৬, মোসাড— বিভিন্ন দেশের গুপ্তচর সংস্থা পৃথিবী জুড়ে নানা গোপনীয় উপায়ে তথ্য সংগ্রহের জাল বিস্তার করেছে। গোপন নথির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের ফাঁদে ফেলা কিংবা টাকার লোভ দেখিয়ে তথ্য হস্তান্তরের কাজ নিখুঁত করতে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সহায়তা লাগেই। এজেন্টদের কাজে লাগিয়ে আড়ি পাতা, বন্ধুত্ব করা, ‘বাগিং’ করা, গোপন ক্যামেরা লাগানো ইত্যাদিই হল পন্থা। গোপনে জিপিএস দিয়ে কারও গতিবিধি মাপা অনৈতিক হলেও গুপ্তচরদের তা করতেই হয়।

এই সব কৌশলের থেকে আরও কয়েক যোজন এগিয়ে প্রযুক্তি সংস্থা ‘এনএসও’, যার আধুনিকতম স্পাইওয়্যার ‘পেগাসাস’ বিশ্বের তাবড় রাজনীতিবিদ, ধনকুবের, আমলা, সাংবাদিক, সমাজকর্মীদের উপর স্মার্টফোনের মাধ্যমে ‘রিমোট সার্ভেল্যান্স’ চালানোর ক্ষমতা রাখে। কিছু দিন আগেও অ্যাপের সাহায্যে ছদ্মবেশে কোনও ম্যালওয়্যার ফোনে ঢোকাতে গেলে গ্রাহকের অনুমতি লাগত, কিংবা একটা ক্লিক করতে হত কোনও ওয়েবপেজ খুলতে, কিংবা ডাউনলোড করতে হত কোনও অ্যাপ বা লিঙ্ক।

পেগাসাস অনুমতির ধার ধারে না— ‘জ়িরো ক্লিক’ পে-লোড— অজানতে ঢুকে পড়ে গ্যাজেটে। এর উপস্থিতি টেরও পাওয়া যায় না, কোনও সূত্র না রেখেই তা আবার যন্ত্র থেকে বেরিয়েও যায়। মিসড কল, ভুয়ো ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ইমেল বা যে কোনও ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে তা আসতে পারে। যেন তাকে আহ্বান জানাতে তৈরিই রয়েছে আধুনিক গ্যাজেট। এই স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে ভাইরাস ঢুকিয়ে যন্ত্রের যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়া যায়, তা সার্ভারে জমা রেখে ইচ্ছেমতো ব্যবহারও করা যায়।
গ্যাজেট যত আধুনিক, হানার আশঙ্কা তত বেশি।

হ্যাকিং বা Ransomware থেকে কোন পদ্ধতিতে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যাবে তা জানাচ্ছে এই বই। উপরন্তু হ্যাকিং ঠিক কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে করা যায় তার হদিশও মিলবে কিছুটা। যেহেতু স্লাইডের সাহায্যে জটিলতম বিষয়গুলিকে প্রায় জলবৎ তরল করে দিয়েছেন লেখক , প্রকাশক একটি ডিসক্লেইমার দিতে বাধ্য হয়েছেন বইয়ের সূচনায় : এই বইটিতে বর্ণিত যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা আইনের গন্ডীর মধ্যে , প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পরিমণ্ডলে ও কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংস্থার কোনোরকম ক্ষতির চেষ্টা না করে , শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়েছে। '

অন্তর্জালের অন্ধকার জগতের গল্প বলেছে এই বই। আলোচনার প্রারম্ভেই বলে হয়েছিল যে এই বই স্বাধীনতার গল্প বলে। চরমতম মুক্তি ও স্বাধীনতার উৎ্কাঙ্খা নিয়ে ডার্ক ওয়েবের যাত্রাপথের সূচনা ঘটে। গোপনীয়তা রক্ষার মাধ্যমে বাক স্বাধীনতাই ছিল ডার্ক ওয়েব প্রতিষ্ঠার প্রধান লক্ষ্য।

‘হোয়াইট ওয়েব’ অর্থাৎ গুগল, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার গোটা নেট দুনিয়ার মাত্র পাঁচ শতাংশ। বাকিটা ‘ডিপ ওয়েব’। ‘ডিপ ওয়েব’-এর সমস্ত অনৈতিক কাজ হয় এই ‘ডার্ক ওয়েব’-এ।

‘দ্য ওনিয়ন রাউটার’(The Onion Router) বা ‘টিওআর’ (টর) নেটওয়ার্কে পেঁয়াজের খোসার মতে বিভিন্ন স্তরে বেনামে ব্যবহারকারীরা লুকিয়ে থাকে এবং হাজার হাজার স্তরে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। আইপি অ্যাড্রেস, বা ব্যবহারকারীর প্রকৃত নাম, লোকেশন
কিছুই এই নেটওয়ার্কে জানা সম্ভব হয় না।

সাইবার ক্রাইমের কিছু রোমহর্ষক আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছেন সৌরভ। সৌরভ বুঝিয়েছেন , ঠিক কোন পদ্ধতিতে ‘টর ব্রাউজারের’ মাধ্যমে ব্যবহার হওয়া ডার্ক ওয়েবের শেষ কথা গোপনীয়তা সুনির্দিষ্ট করা হয়। যেহেতু এই ব্রাউজার ব্যবহারকারীর আইপি (ইন্টারনেট প্রোটোকল) অ্যাড্রেস সেভ করে না, ফলে এক বার লগ অফ করে দিলে ব্যবহারকারীর পরিচয় জানতে পারা প্রায় অসম্ভব।

আর এই সুযোগেই পরিচয় গোপন রেখে বেআইনি কাজকর্ম চলে। অবাধে বিক্রি হয়, আগ্নেয়াস্ত্র থেকে মাদক, যৌন পণ্য থেকে দামি জিনিস।
মানবচরিত্রের অন্ধকার দিক নিয়ে ঘালিবের একটি চমৎকার পদ্য আছে। কবি বলছেন : আশিক হুঁ পে মাশুক ফরেবী হ্যায় মেরা কাম / মজনুকো বুরা কেহতি হ্যায় লায়লা মেরে আগে।

গণতান্ত্রিক সমাজে অন্য অনেক কিছুর মতো প্রযুক্তি-বিরোধী হওয়ারও পূর্ণ অধিকার মানুষের রয়েছে। বহু উপজাতীয় সমাজ তো বিজ্ঞানের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে দিব্যি বেঁচেবর্তে আছে। কিন্তু নাগরিক জীবনে , বিশেষত একবিংশ শতাব্দীর এই বিশ্বায়িত জগতে প্রযুক্তি-সম্পৃক্ত সমস্ত সুফলগুলি পুরোপুরি ভোগ করার পর যদি কেউ প্রযুক্তিকে সর্বময় অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত করতে উদ্যত হন তাহলে তাঁর যুক্তিধারা ফ্যালাসিদোষে দুষ্ট হয়ে পড়ে।

বিশ্বব্যাপী মাকড়সার জালের মতো বিস্তারিত ইন্টারনেট নামক এই মাধ্যমকে এড়িয়ে জীবন নির্বাহ করা এক কথায় অবিশ্বাস্য, ধারণাতীত,। কিন্তু যে মাধ্যমের কুফলের দরুন প্রত্যহ যৌন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু, বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুরি যাচ্ছে ব্যাক্তিগত তথ্য, ভুল খবর ছড়িয়ে পড়েছে মুহূর্তেই, অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অর্থ-সম্পদ চুরি করে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ, সেই মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকার উপায় কী?

উপরোক্ত প্রশ্নের যে উত্তরগুলি সৌরভ তাঁর বিভিন্ন মডিউলের মাধ্যমে দিয়েছেন তা এক কথায় আদর্শস্বরূপ। সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে সৌরভের প্রত্যেকটি মূল্যায়ন , নানাবিধ টোটকা , বিভিন্ন ফেইলসেফের যুক্তিযুক্ত বর্ণনা এই বইয়ের উজ্জ্বলতম অংশ।

সাধারণ ইউজারের সাইবার নিরাপত্তা কোন পথে আসবে সে প্রসঙ্গে সৌরভ বহু কিছু শিখিয়েছেন আমাদের। কম্পিউটার ও মোবাইলের মাধ্যমে সকল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ব্যবহার করার আগে প্রাথমিক কিছু জ্ঞান থাকা আবশ্যক -- যে জ্ঞান তাদের প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচের কাজ করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সঠিক সচেতনতা ও সঠিক সর্তকতা, প্রভূত অবাঞ্ছিত হয়রানি থেকে আমাদের মুক্ত রাখবে। পাসওয়ার্ড থেকে কোন ধরনের বিপদ আমাদের আসতে পারে, নিরাপদ পাসওয়ার্ডের জন্য কোন কোন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, ইত্যাদি বিষয়ে সৌরভ আমাদের জানিয়েছেন। ই-মেলের নিরাপত্তা কিভাবে সুনিশ্চিত করব তা জানানো হয়েছে এই বইয়ে। ই-মেইলের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হওয়ার থেকে কিভাবে নিজেদের মানুষ রক্ষা করবেন তা আমাদের জানিয়েছেন সৌরভ। অনলাইন প্রতারণা বা অনলাইন স্ক্যাম থেকে কিভাবে নিজেদের রক্ষা করব তা জানিয়েছেন সৌরভ। সৌরভ তাঁর বইয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে জানিয়েছেন।
বইয়ের উপসংহারে আবার নিতান্তই আড্ডার আবেশে লিখেছেন সাইবার আইনের নানা খুঁটিনাটি সম্পর্কে।

এক কথায় বলতে গেলে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য একধরণের রক্ষাকবচ এই বই।

স্বাদু গদ্যে বহুসংখ্যক দুর্দান্ত জটিল বিষয়াবলী সম্পর্কে সৌরভ আমাদের অবহিত করেছেন যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তথ্��ের পটভূমি তৈরির নিরিখে লেখক দশে দশ পাবেন। বইয়ের একটি অংশেও অনর্থক ডকুমেন্টেশন নেই। দশে সাড়ে দশ পাবেন প্রায় ঐশ্বরিক গ্রাফিকাল রেপ্রেজেন্টেশনের সুবাদে। লেখকের নিজের হাতে তৈরি করা প্রত্যেকটি শিক্ষামূলক স্লাইড এই বইয়ের এক্স-ফ্যাক্টর।

বাংলা ভাষায় এই বিষয়ে এমন সুন্দর বই পড়ার সৌভাগ্য এর আগে ঘটেনি অধমের।

প্রায় চারশো পাতার এই বই পাঠককে যেভাবে আদ্যন্ত টেনে রাখে, তার জন্য অবশ্যই লেখকের সাধুবাদ প্রাপ্য।

শুভেচ্ছা জানাই লেখককে। ফাটাফাটি বর্ণশুদ্ধি এবং বর্ণবিন্যাসের জন্য শভেচ্ছা জানাই বন্ধুবর Arka Paitandi-কে।

অলমিতি।
Displaying 1 of 1 review

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.