শুরুটা ছিলো খুবই শুরুটা ছিলো খুবই সাধারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা ঋতুর জন্যে খানিকটা উত্তেজনারও। হাজার হলেও প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ। কিন্তু শুরুটা আর দশটা সাধারণ ইন্টারভিউয়ের মতো হলেও দ্রুতই সেটা রূপ নিলো ভিন্ন কিছুতে। ঋতুর সাথে পরিচয় হলো রহস্যময় এক অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসরের, ঢোলাটে চশমার আড়ালে লুকানো চোখের রহস্যময় এক ব্যাক্তি। প্রথম চাকরির অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে ঋতুকে দেয়া হলো পুরনো এক কেস ফাইল, যেখানে কয়েক বছর আগে নিজের বাগদত্ত্বাকে হারিয়ে উন্মাদ হয়ে যাওয়া এক ছেলের কেস সলভ করতে হবে তাকে। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে এরকম এক প্রেম কাহিনী ধরিয়ে দেয়াতে শুরুতে খানিকটা বিরক্তই লাগছিলো ঋতুর। কিন্তু সাধারণ কেসটা ঘটনার ঘনঘটায় এতোটাই দ্রুত এমন ভয়ঙ্কর এক রূপ নিলো যে তাল রাখতে রীতিমতো হিমশিম খেতে শুরু করলো সে। একদিকে তার নিয়োগকর্তা রহস্যময় প্রফেসর, অন্যদিকে ততোধিক রহস্যময় এক কেস, বাধ্য হয়ে সে সাহায্য চাইলো সাংবাদিক বন্ধু মৃদুলের কাছে। ঋতু আর মৃদুল জড়িয়ে যেতে শুরু করলো এমন এক বিভৎস রহস্যের জালে যেটা সমাধানের জন্য তাদেরকে ডুব দিতে হবে অর্ধ উন্মাদ একজন মানুষের হারানো স্মৃতির অতলে, যেখানে লুকানো আছে শতবর্ষের পুরনো এক হিংস্র রহস্যের চাবিকাঠি। বাংলা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সাহিত্যে নতুন এক মাত্রা যোগ করা রবিন জামান খান রচিত উপন্যাস ‘শব্দজাল’ এর পাঠকপ্রিয়তার পর প্রফেসর জ্যাক সিরিজের দ্বিতীয় বই ‘বিখন্ডিত’ পাঠককে আরেকবার নিয়ে যাবে মানব মনের এমন এক অতলে, যেখানে বিরাজমান শুধুই হিংস্রতা আর অন্ধকার। প্রফেসর জ্যাকের কালো চশমার জগতে পাঠককে আরেকবার স্বাগতম।
রবিন জামান খান একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক । রবিন জামান খানের জন্ম ময়মনসিংহ শহরে, পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষাতত্বে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। পড়া-পড়ানো, শেখা-শেখানোর চর্চা থেকেই শিক্ষকতাকে পেশা ও লেখালেখিকে নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংকলনে বেশকিছু মৌলিক ও অনুবাদ গল্প লেখার পাশাপাশি লিখেছেন একাধিক টিভি নাটক। তার মৌলিক থৃলার উপন্যাস শব্দজাল, ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু, ব্ল্যাক বুদ্ধা, ফোরটি এইট আওয়ার্স, দিন শেষে, আরোহী ও অন্ধ প্রহর ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে বিপুল পাঠক প্রিয়তা। বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতা থেকে প্রকাশিত তার মৌলিক গ্রন্থ ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু ও শব্দজাল পশ্চিম বঙ্গের পাঠক মহলে ভালোবাসা কুড়িয়েছে। ভারতবর্ষের ইতিহাসের রহস্যময় ঘটনাবলী, সেইসাথে মানব মনের জটিল মনস্তত্ত্ব বিষয়ে আগ্রহ থেকে উনি বর্তমানে কাজ করে চলেছেন একাধিক ইতিহাস নির্ভর ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার উপন্যাস নিয়ে। এরই প্রেক্ষিতে খুব শিঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস বিখন্ডিত, রাজদ্রোহী, ধূম্রজাল, সিপাহী, অশ্বারোহী, মুক্তি। রবিন জামান খান ঢাকায় প্রথম সারির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবষেণা করছেন তিনি।
প্রথমে এক নারীর রহস্যময় অন্তর্ধান ও তার প্রেমিকের উন্মাদ হয়ে যাওয়া দিয়ে কাহিনীর শুরু। এরপর সাইকোলজি প্রফেসর জাকারিয়া ও তার দলবলের রহস্য সমাধানে নামা। ধীরে ধীরে পেঁয়াজের খোসার মত রহস্যের জট খোলা, শেষে সার্ভাইবাল গেম শো... মোটামোটি এই-ই হল বিখন্ডিত এর কাহিনী।
এককথায় বেশ ইন্টারেস্টিংভাবেই বলা হয়েছে গল্পটা। শব্দজালের মত খাপছাড়া ভাবটা ছিল না। সাইকোলজিক্যাল বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও বিস্তর আলাপ করেছেন লেখক, একটা কাল্পনিক ঐতিহাসিক পার্টও ছিল। বইয়ের সবথেকে স্ট্রং পয়েন্ট স্টোরি টেলিং: একইসাথে সাসপেন্স ধরে রাখা হয়েছে প্রত্যেকটা অধ্যায়েই, কোথাও-ই ঝুলে যায়নি কাহিনী। তবে কয়েক জায়গায় একটু ইলজিক্যাল মনে হয়েছে। ঐটুকু ওভারলুক করে যাওয়া যায়। বড় কোনো টুইস্ট ছিল না, যা ছিল সহজেই অনুমেয়। যাইহোক, বড় পরিসরে লেখা বই অনেকসময় বোরিং হয়ে ওঠে। এখানে সেই সমস্যাটা ছিল না। ভালোই উপভোগ করেছি।
প্রফেসর জ্যাকের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল 'শব্দজাল'-এ। রাজনীতি, ঘটমান বর্তমান, আর মনস্তত্ত্বের খেলা যে কোন স্তরে পৌঁছোতে পারে এবং কতটা ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে, সেটা বেশ বুঝেছিলাম সেই বইটি পড়ে। রবিন জামান খানের লেখনী তথা কাহিনি-নির্মাণে নৈপুণ্য নিয়ে আর পাঁচজন পাঠকের মতো আমার মনেও সংশয় ছিল না। কিন্তু স্রেফ মনস্তত্ত্ব আর কথাকে উপজীব্য করে এমন টানটান লেখা... সত্যিই স্পেশাল ছিল সেটা। তাই, এই গল্পটা পড়তে শুরু করার সময় আমার মনে হয়েছিল যে জম্পেশ কিছু পড়তে চলেছি। যা পড়লাম তা প্রায় অভাবনীয়। উপন্যাসের শুরুতে একটা অদ্ভুত 'প্রোলগ' আছে— যাকে সর্বার্থে গল্পের শুরু বলা চলে। তারপর, খুব সাধারণ, প্রায় ঘরোয়া ভঙ্গিতে শুরু হয় আসল আখ্যান। মনস্তত্ত্বের এক ছাত্রী প্রফেসর জ্যাকের সহায়ক হিসেবে যোগ দিয়ে একটা বিশেষ কেসের বিশ্লেষণ শুরু কর।। কেসটা আপাতদৃষ্টিতে স্রেফ স্মৃতিভ্রংশের। স্মৃতি এক রহস্যময় বস্তু। তার প্রকৃতি বুঝতে কেটে যায় জীবন। তবে এটুকু বোঝা যায় যে আমাদের মনের নানা অংশকে সেই ধরে রেখেছে এক নিবিড় বন্ধনে। স্মৃতি যখন হারিয়ে যায়, তখন সেই বাঁধন ছিঁড়ে যায়। আলগা হয়ে যায় মন। তবে সুতোগুলো থেকে যায় তার গভীরে। ধীরে-ধীরে সেই সুতোগুলোকে নতুন করে জুড়ে নেওয়ার চেষ্টাই করেন প্রফেসর এবং তাঁর সঙ্গীরা। কিন্তু... কিন্তু তার কারণ জানার চেষ্টায় অনুসন্ধান যত এগোয়, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে ততই কেউটে, তারপর শঙ্খচূড়, শেষে অ্যানাকন্ডা বেরিয়ে আসে। তাতে জড়িয়ে পড়ে ঋতু'র বন্ধু তথা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের ছাত্র মৃদুল। ছায়ারা ঘন হয়ে ওঠে তাদের চারপাশে। কেউ হয় মিত্র, আর কেউ হয় ভয়ংকরতম শত্রু। তারপর?
এ এক আনপুটডাউনেবল সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার— যাতে মিশে গেছে ইতিহাস, কাল্ট, ডার্ক ওয়েব, দুর্নীতি। কিন্তু এত অন্ধকারের মুখোমুখি হয়েও এই কাহিনি শেষ অবধি সততা, সাহস, বুদ্ধি, আর পরিকল্পনার জয় দেখিয়েছে। তবে হ্যাঁ, লেখক এও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে খেলা শেষ হয়নি।
বইটির ছাপা অত্যন্ত ভালো। সুলতান আযম সজলের প্রচ্ছদের চেয়েও ভেতরে আশিস ভট্টাচার্যের অলংকরণ আমাকে অনেক বেশি মুগ্ধ ও প্রভাবিত করেছে। এভাবেই বুক-ই-কার্ট বাকি বইগুলোকেও আমাদের সামনে পরিবেশন করে চলুক— এটুকুই চাওয়া। প্রফেসর জ্যাক এবং তাঁর এই তরুণ সঙ্গীদের পরবর্তী আখ্যানের জন্য এখন থেকেই মানসিক প্রস্তুতি শুরু করে দিলাম। ইতিমধ্যে আপনারা যদি মনস্তত্ত্ব আধারিত রহস্যের অনুরাগী হন, তাহলে এই বইটিকে কোনোমতেই উপেক্ষা করবেন না।
মানসিক রোগী শুনেই মনে হয়েছিল যে হাসপাতালে বসে ইনভেস্টিগেশন চালাবে, কাকতালীয় ভাবে প্রফেসর গিয়েই মুহিবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে, যেটা ডাক্তাররা পারেনি। কিন্তু শুরুতেই দেখা গেল হাসপাতালের ভিতরে আর বাইরে ইনফরমেশন গ্যাপ ছিল। যার ফলে মৃত্যু ঝুঁকি মাথায় নিয়ে নতুনভাবে কাজ করতে হয়। তবে একদম শেষে গিয়ে রূপলালের মুখে ব্যাখ্যা শুনতে গিয়ে একদম মনোযোগ দিতে পারিনি, অতিরিক্ত মনে হয়েছে।গল্পের শুরুতে ঋতুর বাসায় বাবার সাথে কথোপকথন, এরপর মৃদুলের আসা, তার সাথে সংলাপ - এগুলো পড়তে প্রথমে কিছুটা অতিরিক্ত লাগছিল। কিন্তু তাদের ক্যারেক্টার বিল্ডাপের জন্য হয়তো প্রয়োজন ছিল।
গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র প্রফেসর জাকারিয়া। তার ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে হলে শব্দজাল পড়তে হবে আগে। তবে আমার মনে হয় কেউ যদি শব্দজাল না পড়েও এটা পড়তে চায় পুরো গল্পে সমস্যা হওয়ার কথা না। শুধুমাত্র প্রফেসর জাকারিয়া কিছুটা রহস্যময় থাকবে। শব্দজাল পড়া আছে বলে কিছু রহস্যের ব্যাখ্যা জানি, কিন্তু সেই ব্যাখ্যা এই গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র ঋতুও জানেনা। কাজেই পাঠকের সমস্যা হওয়ার কথা না। তবে প্রফেসর জাকারিয়ার জীবনের কিছু অতীত রহস্যের ইঙ্গিতও আছে। সেটা পাঠক বা ঋতু কেউই জানেনা।
গল্পটা পড়া শুরু করার পর থেকেই একদম আটকে গিয়েছিলাম ভিতরে। খুব সুন্দরভাবে সাজানো গোছানো ইনভেস্টিগেটিভ সাইকোলজির উপর একটা বই। ঠিক প্রফেসর জ্যাক যেরকম ইনভেস্টিগেশনের জন্য গুছিয়ে কাজে নেমেছে সেরকম। তবে একশন সিনও কম নেই। মুহিবের বিখণ্ডিত স্মৃতি থেকে রহস্যের চাবিকাঠি বের করে আনা কিংবা বিখণ্ডিত ঘটনাগুলোকে জোড়া লাগানো যেটাই চিন্তা করি নামকরণটা যথার্থ। শেষ পর্যন্ত পড়ে মনে হয়েছে লেখক কী এই গল্পের কিছু অংশ বাকি রেখে দিলেন পরের বইয়ের জন্য? নাকি তৃতীয় বইটা দ্বিতীয় বইয়ের মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে?
নেগেটিভ এর মধ্যে যেগুলো চোখে পড়েছে সেগুলো সম্ভবত প্রোডাকশনের, প্রফেসর<>আফসার ওলোটপালোট ছিল কিছু অংশে। বানান ভুল/ প্রিন্টিং মিস্টেক কম থাকলেও চোখে পড়েছে। বইটার বাঁধাই, কাগজ, ছাপা, খুব সুন্দর। শুধু একটা জায়গায় আমার ব্যক্তিগত পছন্দ - কালো ক্লথ বাইন্ডিং এর উপর ছাপা কাগজ না বসিয়ে শুধু কালো কাপড় রাখলে জিনিসটার মধ্যে অনেক বেশি আভিজাত্য থাকতো।
প্রচ্ছদঃ প্রচ্ছদ নিয়ে আমি সাধারণত কিছু বলিনা। অত কিছু চিন্তাও করিনা। দেখতে খুব দৃষ্টিকটু লাগলে তখন চিন্তা করি এত খারাপ কেন লাগলো। এর মূল কারণ আমার সিম্পল প্রচ্ছদ পছন্দ। আজকাল কেন যেন প্রচ্ছদ দেখে মনে হয় বেশি ডিজাইন, কালার, বিভিন্ন ধরনের ফন্টের ব্যবহার। এগুলোর অনেক ব্যবহার হলেও বেশিরভাগ জায়গায় কম্বিনেশনটা আমার পছন্দ হয়না। যদিও গল্প পড়লে বোঝা যায় প্রচ্ছদের ডিজাইন মিনিংফুল।
এই প্রচ্ছদটা প্রথম দেখাতেই সুন্দর লেগে যায়। ফন্ট থেকে শুরু করে সব। ডিজাইন দেখে নিজের মনের মত একটা মিনিং বের হয়ে যায় শুরুতে। ফ্রন্টে উপরে জঙ্গল, নিচে একটা হাতের মধ্যে খণ্ড- বিখণ্ড হওয়া তাসের মত কিছু, তার নিচে কালো চশমা, তার সামনে আবার গাড়ি। কিন্তু সবচেয়ে ভালো লেগেছে গল্পটা যত এগিয়েছে প্রচ্ছদটা তত পরিষ্কার দেখতে পেয়েছি। প্রচ্ছদকার অসাধারণ কাজ করেছেন। গল্পের সাথে সাথে প্রচ্ছদেও রহস্য আর টুইস্ট ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারটা অসাধারণ।
মুহিব আর লাবণীর সম্পর্ক বহুদিনের। একদিন দুজনে গাজীপুরে বেড়াতে গিয়ে ঝগ��়া করে আলাদা হয়ে গেলো। সেদিন থেকেই লাবণীর আর কোন খোঁজ নেই। সবাই লাবণীর ব্যাপারে হাল ছেড়ে দিলেও মুহিব তল্লাশি চালিয়েই রাখলো। এক বছর পর একদিন মুহিবকে নগ্ন এবং মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হলো ভাওয়াল গড়ের জঙ্গল থেকে। কোন এক ভয়ানক ট্রমার কারনে তার স্মৃতিশক্তি খন্ড বিখন্ড হয়ে গেছে।
দুই বছর পর, মুহিব এখন একটা অ্যাসাইলামে ভর্তি। এমন সময় অবসরপ্রাপ্ত বিখ্যাত সাইকোলজির অধ্যাপক জাকারিয়া আহমেদ ওরফে ডক্টর জ্যাক সিদ্ধান্ত নিলেন মুহিবের কেস রিওপেন করার। সঙ্গে যোগ দিলো সদ্য সাইকোলজি থেকে পাশ করা ঋতু আর তার সাংবাদিক বন্ধু মৃদুল। আস্তে আস্তে রহস্য ঘনাতে লাগলো, যেখানে ছড়িয়ে রয়েছে কুখ্যাত গুপ্তসঙ্ঘ, ডার্ক ওয়েব, প্রাচীন নারকীয় কদাচার এবং অবশ্যই মানব মনের গহীন অন্ধকার।।
বই প্রসঙ্গে আসি। প্রথমেই বলি, এর আগে রবিন জামান খানের লেখা আমার পড়া হয়নি, এমনকি সপ্তরিপু বা ব্ল্যাক বুদ্ধও না। এই বইয়ের কাহিনী এবং লেখনী দুটোই প্রচুর গ্রিপিং, আমার মতো দুই পাতা উল্টিয়ে ব্লক খেয়ে যাওয়া মানুষ দুই সিটিং দিয়ে ৩৬৮ পৃষ্ঠার বই শেষ করেছি সুতরাং বুঝতেই পারছেন কাহিনীর গতি কি পরিমাণ আকর্ষণীয় ছিল 😎 কাহিনীর প্রোটাগনিস্ট ঋতুর চরিত্রটা ভালো ছিল, ভালো ছিল প্রফেসর জাকারিয়ার চরিত্রটাও। স্বল্প পরিসরে মুহিব, ডাক্তার যতিন চরিত্রগুলোও ভালো লেগেছে। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হলেও থ্রিলার এলিমেন্ট প্রচুর কাজেই বোর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এবার আসি কি কি ভালো লাগেনি সেই প্রসঙ্গে। সাইকোলজির কোন বই পড়তে গেলে সবার আগে যার কথা মনে আসে, তিনি মিসির আলী। এখন মিসির আলী যা ডিডাকশন করেন, তার ব্যাখ্যা উনি নিজেই দেন। কিন্তু প্রফেসর জ্যাক সর্বজ্ঞের মতো সব ঠিকঠাক বলে চলেন কিন্তু কীভাবে তিনি তার সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন তা বলেন না। ব্যাপারটা বিরক্তিকর। আরো বিরক্তিকর বারবার তার ঘোলাটে চশমার উল্লেখ। "ঘোলাটে চশমার আড়ালে তার মনে কি চলেছে বোঝা না গেলেও" এই কথাটা গোটা উপন্যাসে অন্তত দশ বার রিপিট করা হয়েছে, এটা যে কি পরিমান পীড়াদায়ক তা পাঠকমাত্রেই টের পাবেন।
দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ডিটেইংলিং। ঋতুর বাবার সাথে কথোপকথন, ঋতুর বয়ফ্রেন্ড সদরুল (যার চরিত্র জাস্ট একটা দৃশ্যেই আছে), মোটু মোস্তুর জাপানপ্রীতি এগুলো পড়তে পড়তে ক্লান্তি এসে গেছে কারন রহস্যে এরা কোন ভূমিকাই রাখেনি। ডিটেইল লিখলে দৃশ্যেরা চোখের সামনে ফুটে উঠে ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত ডিটেইল বর্ণনাও বিরক্তির উর্দ্রেক করে।
তৃতীয়ত, এটা কীভাবে সম্ভব যে হাসপাতালের ডাক্তারেরা জানে না মুহিবের অসুস্থতার একদম প্রাইমারি অবস্থা, অথচ প্রফেসর জ্যাক আবার তা ঠিকই জানেন! এত বড় ইনফরমেশন গ্যাপ কি আদৌ সম্ভব?
এর বাইরেও কিছু জিনিস ক্রিঞ্জ লেগেছে, সেগুলো আমার ব্যক্তিগত মতামত। তবে বই হিসাবে নিঃসন্দেহে ভালো বলাই যায়। কাহিনীর নানা ডাইমেনশন, শেষের টানটান উত্তেজনা সব মিলিয়ে জমজমাট বই। এই সিরিজের নেক্সট বইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
“Perhaps the greatest faculty our minds possess is the ability to cope with pain.” ― Patrick Rothfuss, The Name of the Wind - ❛বিখন্ডিত❜ - ঋতু, ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের মেধাবী ছাত্রী যে কিনা সদ্য পড়াশোনা শেষ করে তার মনের মতো একটি চাকরি খুঁজছে। সেই চাকরি খোঁজার এক পর্যায়ে সাইকোলজি বিভাগের রিটায়ার্ড প্রফেসর জাকারিয়ার কাছ থেকে সে ডাক পায় ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য। উত্তরার এক রেস্টুরেন্টে বসে সেই চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় ঋতু জানতে পারে অদ্ভুত এক কেসের কথা। - মৃদুল, এক স্বনামধন্য পত্রিকায় চাকরির জন্য প্রায় এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলো। কিন্তু এত প্রস্তুতি নেওয়ার পরেও সেই চাকরি না হওয়ায় বেশ হতাশায় ভুগছিলো সে। কিন্তু এক দুপুরে তার বন্ধু ঋতুর কল পেয়ে সেও জড়িয়ে পরে প্রফেসর জাকারিয়ার কেসের সাথে। - মুহিব, তার জীবনের বিশেষ এক ঘটনার পরে অর্ধ উন্মাদ হয়ে দেশের এক বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার এই মানসিক ভারসম্যহীনতার কেস নিয়েই কাজ করা শুরু করে প্রফেসর জাকারিয়া, ঋতু আর মৃদুল। প্রথমদিকে বেশ সোজাসাপ্টা মানসিক ভারসম্যহীনতার কেস মনে হলেও ধীরে তারা কেসের গভীরে যাওয়া শুরু করলে তাদের চারদিক থেকে বিপদ ধেঁয়ে আসতে থাকে। - এখন মুহিবের মানসিক ভারসম্যহীনতার মূল রহস্য আসলে কী? এই কেসে কাজ শুরুর পরে প্রফেসর জাকারিয়া আর তার টিমের উপরে কেন বারবার বাধা-বিপত্তি আসতে চলেছে? সব বাধা-বিপত্তি পার করে প্রফেসর জাকারিয়া, ঋতু আর মৃদুল কী পারবে এই কেসের রহস্য উদঘাটন করতে? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক রবিন জামান খানের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার "প্রফেসর জ্যাক" সিরিজের দ্বিতীয় বই ❛বিখন্ডিত❜। - ❛বিখন্ডিত❜ বইটি লেখক রবিন জামান খানের "প্রফেসর জ্যাক" সিরিজের দ্বিতীয় বই। সিরিজের প্রথম বই ❛শব্দজাল❜ পড়া থাকায় এই সিরিজের প্রধান চরিত্র সম্পর্কে আগেই ধারণা ছিল। এই বইয়ের মূল কাহিনি শুরু হবার পর থেকেই রহস্যের সুতো ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা গল্পে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে। প্রচ্ছদে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বলা হলেও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের সাথে সাসপেন্স থ্রিলার হিসেবেও নির্দ্বিধায় চালিয়ে দেওয়া যায় বইটিকে। বইয়ের মূল প্লটটি বেশ ইন্টারেস্টিং, এর ভেতরে কিছু ঘটনা খুব একটা লজিক্যাল মনে না হলেও ওভারঅল প্লটটা ভালোই লাগলো লেখনশৈলীর কারনে। বিশেষ করে ময়মনসিংহের ভাওয়াল অঞ্চলের বর্ণনা এবং এ সম্পর্কিত একটি ইতিহাসও বেশ উপভোগ করেছি পড়ার সময়ে। – ❛বিখন্ডিত❜ বইয়ের চরিত্রগুলোর ভেতরে এবারের পর্বে প্রফেসর জাকারিয়ার চরিত্রায়ণ আগেরবারের চেয়ে আরো ডিটেইলে দেখানো হয়েছে। তবে তার মতো রাশভারী চরিত্রের মুখ থেকে কয়েকটি সস্তা রসিকতা বেমানান লাগলো। অন্যান্য চরিত্রগুলোর ভেতরে ঋতু, মৃদুল আর মুহিব ফোকাসে থাকলেও ঋতু সংশ্লিষ্ট একটি চরিত্রকে গল্পের প্রথমদিকের পরে আর পাওয়া যায়নি, যা বেশ অবাক করার মতো। গল্পে প্রফেসরের "ঘোলাটে কাঁচের চশমা" এর বেশ ভালো ভূমিকা রয়েছে, যার কারণে চশমাটির কথা গল্পে প্রচুর পরিমাণে এসেছে। অনেকের কাছে ব্যপারটা হয়তো বিরক্তির উদ্রেক ঘটাতে পারে। এই পর্বের ধামাকাপূর্ণ সমাপ্তির পরেও শেষ দিকে আরেকটি সিক্যুয়ালের আভাস বেশ ভালোভাবেই দেওয়া হয়েছে বইতে। - ❛বিখন্ডিত❜ বইয়ের প্রোডাকশনের দিক থেকে বাহ্যিকভাবে বেশ ভালো প্রোডাকশন হয়েছে বইটার। প্রচ্ছদের ডাস্ট কভার, পেইজ এবং ছাপার মান সন্তোষজনক ছিলো। তবে বইতে বানান ভুল শুরু হয়েছিলো একদম বাক্য থেকেই, যা পড়ার সময়ে মাঝে মধ্যেই বেশ ভুগিয়েছে আমাকে। গল্পের ভেতরে অনেক জায়গায় দুই লাইনের মাঝে বিরাম চিহ্নের অভাব এবং চরিত্রগুলোর নাম সম্পর্কিত কিছু ভুলও চোখে পড়লো যা বইতে থাকা উচিত ছিল না। বইয়ের প্রচ্ছদ মোটামুটি লাগলো, তবে ❛শব্দজাল❜- এর প্রথম এডিশনের চেয়ে এই প্রচ্ছদটি উন্নতমানের বলা যায়। বইয়ের দামের তুলনায় সিরিজের প্রথম বইয়ের মতো এই বইয়েরও সম্পাদনা ও প্রুফ রিডিং আরো ভালোভাবে করা যেত বলে মনে হলো। যাই হোক, আশা করি সংশিষ্ট প্রকাশনী ব্যাপারগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। – এক কথায়, পারফেক্ট সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার না হলেও সিরিজের প্রথম বই ❛শব্দজাল❜ এর তুলনায় বেটার সিক্যুয়াল বলা যায় ❛বিখন্ডিত❜ কে। তাই যাদের সিরিজের প্রথম বই ❛শব্দজাল❜ ভালো লেগেছে তারা এই বইটিও পড়ে দেখতে পারেন।
বইয়ের নাম : বিখন্ডিত লেখক : রবিন জামান খান। জনরা : সাইকোলজিক্যাল থৃলার, প্রকাশনা : নালন্দা প্রকাশনী প্রচ্ছদ : সজল চৌধুরী। প���রকাশ কাল : অক্টোবর ২০২১ মূল্য : ৫৫০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩৬৬ পেজ।
কাহিনী সংক্ষেপ ::
আজ হয়ত কাহিনী সংক্ষেপ বেশি আলোচনা করবো না। তবুও হালকা করে একটু বলি। শুরু টা একদম সাদামাটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে ঋতু ইন্টারভিউ দিতে যায় প্রফেসর জাকারিয়া এর কাছে৷ প্রথম দিনই তাকে এসাইনমেন্ট দেয়া হয় একটি পুরানো কেস রি-ওপেন করতে চায় প্রফেসর। কেসটি হলো গাজীপুর থেকে কয়েক বছর আগে নিজের বাগদত্তা কে হারিয়ে উম্মাদ হয়ে যায় মুহিব। এবং পাগোল মুহিব কে একটি হাসপাতালে এ রাখা হয়। কেস খুড়তে গিয়ে বের হয়ে আসে আরো অনেক গুলো খুন আর গুম৷ সেই সাথে গাজীপুরের ভাওয়াল জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া আরো কয়েকটি তরুনী৷ কি হচ্ছে গাজীপুরে? তার কেসের সাথে কাকতালীয় ভাবে জড়িয়ে পরে মৃদুল নামের ঋতুর এক বন্ধু। শুরু হয় কেস তারপর বের হয়ে আসতে থাকে বীভৎস রহস্য। প্রফেসরকে মুহিব এর খন্ড বিখন্ড স্মৃতি থেকে বের করে আনতে হবে সেই লুকানো শতবর্ষের পুরানো হিংস্র রহস্য ।
পাঠ প্রতিক্রিয়া :: শুরুতেই যেমন বলেছি কাহিনি সংক্ষেপ আলোচনা করবো কারন কাহিনি স্বাভাবিক ভাবে শুরু হয়ে জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠেছে, তাই হয়ত গুছিয়ে লিখতে পারব না৷ বিখন্ডিত - রুবিন জামান খান এর রচিত প্রফেসর জাকারিয়া সিরিজের দ্বিতীয় সাইকোলজিক্যাল থৃলার। এর আগের বই ছিলো শব্দজাল৷ সে যাই হোক এবারের বই শুরু হয়েছে নতুন ভাবে শব্দজালের চে ভিন্ন আঙ্গিকে, বিখন্ডিত। এখানে নতুন চরিত্র ঋতু মৃদুল ( আমি না, আমি মিদুল, চরিত্রের নামের সাথে নিজের নামের হালকা মিল দেখে বেশ ভালোই লেগেছে পড়ার সময় নিজেই কল্পনা করেছি, হাহাহাহা ) কে নিয়ে প্রফেসর এগিয়েছেন৷ তার কেসটা দারুন ছিলো৷ প্রফেসর এর বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা না করলেই নয়৷ ঋতুর হাত দিয়ে প্রফেসর এগিয়েছেন। এছারা এই বই এর চুম্বকীয় অংশ ছিলো জমিদার বাড়ির ইতিহাস। সাইকোলজিক্যাল থৃলার এর মাঝে দারুন ভাবে জমিদার বাড়ির গল্প এনেছেন লেখক। বরাবরের মতোই ইতিহাস টেনেছে আমাকে। সেই সাথে কাল্ট ডার্ক ওয়েব আর বীভৎস সেই খেলার বিষয় গুলো, সব গুলোকে একত্রে দারুণ ভাবে মিশিয়ে এনেছেন বইতে, সেটা সত্যি জোস ছিলো৷
লেখার স্টাইল ছিলো বেশ সফট৷ তাছারা গল্পটাও বেশ টেনেছে৷। বইটা পড়ার সময় আমার মনে হয়েছে লেখকের ঐ সিরিজ মানে সময় সিরিজের তুলনায় প্রফেসর জ্যাক সিরিজ বেশি জনপ্রিয়তা পাবে। আর এই জনপ্রিয়তার মূলে থাকবে লেখা আর প্রফেসর নিজে । বই যতই হাইপ উঠুক কিনবা হাইপ না উঠুক যদি লেখা ভালো না হয় তাহলে বই বেশি দিন টিকবেনা। আর লেখক রবিন জামান খানের বই তে সেটাই সবার আগে পাবেন আপনি।
আমি দীর্ঘদিন রিডার্স ব্লককে আছি, সেই সাথে তেমন কোন বই পড়ছিনা, একাডেমিক কাজে অন্য সব কাজে বিজি থেকেও কিভাবে কিভাবেই জানি বইটা শেষ হয়ে গেলো। এবং শেষের প্রতিক্রিয়া অসাধারণ।
মন্দ লাগার বিষয়টা হলো শেষ দিকে একটু সাদামাটা হয়েছে৷ গল্পে একজনকে মিস করেছি যদিও সে আমাদের সাথে পরোক্ষভাবে ছিলো৷
গঠনগত দিক থেকে নালন্দার বই বেশ ভালোই। পেজ এর মান ভালো ছাপা ভালো, বাধাঁইও ভালো। প্রথমে হার্ডকভারটা বেশ শক্ত, আর উপরের জ্যাকেটও বেশ ভালো। তাই গঠনগত দিকে অভিযোগ নেই। তবে বানান ভুল, এটা থেকে দেশীয় প্রকাশনী গুলো কখনো বের হয়ে আসতে পারবেনা। বেশ কিছু বানান ভুল আমার চোখে পরেছে, তারপর বিরামচিহ্ন এর ব্যবহার এর ভুল, কমা ইনভাইটেট কমা ব্যবহার এ ভুল অহরহ। আমি শুধু গল্প উপন্যাস নয় চাকুরীর গাইড একাডেমিক গাইড বই পুস্তককে অহরহ পাই বানান ভুল প্রিন্ট জনিত কারনে ভুল৷ আমাদের দেশীয় প্রকাশনীগুলো এই বিষয়ে একেবারে উদাস। আরো অনেক কথাই মনে আসে প্রকাশনীর সম্পর্কে সেসব আমাদের বন্ধুদের আড্ডাতেই সীমাবদ্ধ থাকে।
প্রচ্ছদ বেশ ম্যাচুয়েড মানানসই। প্রচ্ছদে কাহিনির একাংশ ফুটে উঠেছে দেখে বেশ ভালো লাগলো। আসলে সজল চৌধুরীর কাজ বলে কথা।
যাই হোক শব্দজালের পর বিখন্ডিত বেশ ভালো লেগেছে আশাকরি নেক্সট বই ধূম্রজাল আরো সুন্দর হবে। প্রফেসর এর আরো নতুন কিছু জিনিস দেখতে পাবো ধূম্রজালে সেই অপেক্ষায়। এবং প্রফেসর জ্যাক সিরিজের জন্য শুভকামনা।
এটা জ্যাক সিরিজ এর দ্বিতীয় বই ,যদিও প্রথম বই না পড়লেও দ্বিতীয় বই এর কাহিনী বুজতে সমস্যা হবে না খুব একটা। বইয়ের প্লটটা শুরু হয় একটু অদ্ভুতভাবে। গাজীপুর ঘুরতে যায় দুইটি ছেলে মেয়ে ,এরমধ্যে মেয়েটি উধাও হয়ে যায় ।মেয়েটিকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে ছেলেটি ,একটা সময় গিয়ে ছেলেটিকে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় গাজীপুর এর জঙ্গলে।একজন মানুষিক ভারসাম্যহীন ছেলে আর একজন হারিয়ে যাওয়া মেয়ে।মাঝে অনেক গুলো রহস্য ।কোথায় হারিয়ে গেল মেয়েটি? ছেলেটিই বা কেন পাগল হয়ে গেল?
এই কেস টিই আবার রিওপেন করেন প্রফেসর জ্যাক ।আর তার সাথে সহযোগী হিসেবে কাজ করে সদ্য পাশ করা সাইকোলজির ছাত্রী ঋতু আর মৃদুল।তারা খুঁজে বের করার চেষ্টা করে গাজীপুর থেকে একের পর এক উধাও হয়ে যাওয়া মেয়েদের পিছনের রহস্য। আর খুঁজতে গিয়ে আস্তে আস্তে উঠে আসে অনেক নারকীয় ঘটনা।
বইটা উপভোগ্য যথেষ্ট ,কিন্তু শেষের টুইস্ট গুলা অনুমেয়।শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সাসপেন্স ধরে রেখেছে ।যদিও কিছু কিছু জায়াগায় ডিটেলিং অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে ,মানে দরকার ছিল না এমন মনে হয়েছে।আমার কাছে ঐতিহাসিক পার্ট গুলা বেশি দারুন লেগেছে ।কিন্তু বিরক্ত লেগেছে বার বার একই বাক্য ব্যবহার "ঘোলাটে চশমার আড়ালে তার মনে কি চলছে বুজা না গেলেও" এতবার এই বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে বিরক্ত লাগতেছিল পড়তে।বইটা যথেষ্ট স্বাস্থ্যবান হলেও বিরক্ত লাগবে না আশা করি।
Definitely better than Shobdojal. There were some interesting characters and proper character building. And the story was really fast paced. There were some unpredictable twists and turns which will keep you hooked to the book.
Now editing is one of the weak part of the book, especially towards the end. There were some unnecessary characters. Weak dialogues which does not match with the character's personality. And I was sick of the ''cloudy opaque glass' sentence. Wich was used numerous times through out the book. Most of all there were a lot of telling, instead of showing. PR- 3.75/5
গাজীপুরের বনে হঠাৎ একটা মেয়ে উধাও হয়ে গেল। সেই মেয়েটার প্রেমিক তার খোজে বনে বনে ঘুরে পুরো এক বছর কাটিয়ে দিল। এক বছর বাদে তাকে উদ্ধার করা হল সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায়। স্মৃতিভ্রম হয়ে বদ্ধ পাগল সে। এই পাগল ছেলেটার সূত্র ধরেই ঘটনায় প্রবেশ করলেন প্রফেসর জ্যাক। এবারে তার সঙ্গী সাইকোলজির ছাত্রী ঋতু এবং তার সাংবাদিক বন্ধু মৃদুল। অনুসন্ধানে তারা পেল প্রতিবছরই এই এলাকায় তরুণী মেয়েরা নিখোঁজ হয়। এরপর আর কখনোই খুজে পাওয়া যায়না তাদের। কোথায় যায় কি হয় তাদের সাথে কেউ জানেনা। অতীতে যারাই জানার চেষ্টা করেছে তাদেরকেই সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কারা আছে এসবের পেছনে? কেনই বা মেয়েদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? এক বিভৎস গল্প অপেক্ষা করছে আপনার জন্য!
প্রফেসর জ্যাক সিরিজের দ্বিতীয় বই এটা। প্রথম বই "শব্দজাল" এর প্লট ছিল অসাধারণ। কিন্তু শেষটা পড়ে বেশ বিরক্তই হয়েছিলাম বলা চলে। এবারে এতোটা হতাশ করেননি লেখক। পুরো গল্পেই জমিয়ে রেখেছেন, শেষটা জানার আগ্রহ থেকে গিয়েছে। লেখকের স্টোরি টেলিং অনবদ্য। খারাপ লাগার মধ্যে, প্রফেসর জ্যাককে কিছু জায়গায় বেশ দুর্বল লাগছিল। বানান ভুলও চোখে পড়ার মতো। এছাড়া কয়েক জায়গায় মনে হয়েছে অযথা টেনে গল্প বড় করেছেন। বইটা অসাধারণ নয় তবে উপভোগ্য।
লেখক রবিন জামানের ভক্ত আমি অনেক দিন ধরেই৷ প্রফেসর জ্যাক সিরিজের প্রথম বই "শব্দজাল" বইটা পড়ার পর থেকেই এর পরবর্তী বইটি পড়ার জন্যে মুখিয়ে ছিলাম। শীতের আগমনী বার্তায় অবগাহন করতে করতে দুইদিন আগের এক অলস বিকালে পড়তে বসেছিলাম বইটা৷ বইটা পড়ার পর অনুভূতি সংক্ষেপে জানাচ্ছিঃ
প্রথমত গল্পের শুরুটা আর দশটা থ্রিলার গল্পের মতই শুরু হয়৷ স্লো পেসিং হলেও ধীরে ধীরে বুঁদ হয়ে যাই লেখায়৷ একটা পর্যায়ে তো বই শেষ না করে উঠা দায় হয়ে যায়৷ ৩৫০ এর অধিক পেজের হওয়ায় দুইদিন নিয়েই শেষ করি৷ সব মিলিয়ে মুগ্ধতার মাত্রা শব্দজাল ছাড়িয়ে গিয়েছে এটা নিঃসন্দেহে বলা চলে।
গল্পের গাঁথুনি, প্রেক্ষাপটের বিস্তৃতি, পরিণতি সব কিছুই ভালো ছিল। তবে গল্পের মাঝামাঝি থাকাবস্থায় পরিণতি নিয়ে যে উত্তেজনা কাজ করছিল কেন যেন মনে হয়েছিল এর চেয়েও ভালো হতে পারতো পরিণতিটা৷কিছু জায়গায় অতিকথন, কিছু চরিত্রের দীর্ঘায়ন ও ব্যাপ্তি আমার কাছে কিছুটা বিরক্তিকর লেগেছিল৷ তবে সবকিছু ছাপিয়ে লেখকের সাসপেন্স ধরে রেখে যৌক্তিক ও অতিমানবীয় কিছু না দেখানোর কারণে বইটি "অলমোস্ট পার্ফেক্ট" ক্যাটাগরিতে অবশ্যই স্থান পাবে৷
লেখক হিসেবে রবিন জামান খান অতি পরিচিত৷ প্লট বা প্রেক্ষাপট নিয়ে ব্রিফ দিলাম না কেননা আমি চাই পাঠক একদম শূন্য ধারনা নিয়ে পড়তে বসে মুগ্ধ হোক৷ বিস্তারিত অনেক কিছুই লিখতে পারতাম তবে সামারী করলে যা হয় তা বর্ণনা করলাম প্রতিক্রিয়ায়৷
প্রফেসর, প্রফেসরের নতুন এসিস্ট্যান্ট ঋতু আর ঋতুর সাংবাদিক বন্ধু মৃদুল, মুহিব-লাবণির অন্তর্ধান রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ে ভীষণ এক বিপদে।
কাহিনী যেখানে ঘটলো ওইটা আবার আইইউটি থেকে অত দূরে না। -_- যাইহোক, বিখন্ডিতর একশনগুলা অতটা ভালো লাগেনাই। প্লটে বিদেশি থ্রিলারের এলিমেন্ট জোড়াতালি দিয়ে বাংলাদেশি কন্টেক্সটে বসানো হয়েছে। ক্লু ক্লাক্স ক্ল্যান এইসব চর্বিতচর্বণ আর কত! শব্দজাল বেশি ভালো ছিল।
বানান ভুলের ছড়াছড়িও অসম্ভব বিরক্তির উদ্রেক করে। এত সুন্দর প্রচ্ছদ আর প্রোডাকশন অথচ ভিতরে এত অযত্নের ছাপ৷
ঘটনার শুরুটা একদম সাধারণ। আট দশটা বাঙালি পরিবারে যেমনটি ঘটে তেমনটিই। মুহিব ও লাবনী, ছোট থেকে একসাথে বড় হওয়া এই দুজন নারী পুরুষের মধ্যে ভালোবাসা জন্ম নেয় স্বাভাবিকভাবেই। খানিকটা আপত্তি দুজনের পরিবারের মধ্যে থাকলেও তারা দুজন মিলে সেটিও সমাধান করে নেয়। পারিবারিকভাবে দুজনের এনগেজমেন্টও হয়। কিন্তু হাসিখুশি এবং পরিপূর্ণ এই যুগলের জীবনে নেমে আসে হঠাৎ এক বিপর্যয়। একদিন মুহিব লাবনীকে নিয়ে গাজীপুরের এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হলে, মুহিব লাবনীকে সেখানে রেখেই ঢাকায় চলে আসে এবং এরপর লাবনীকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। গাজীপুরের ভাওয়াল বন যেন গিলে ফেলেছে তার প্রেমিকাকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রথমেই পুলিশের সন্দেহের আওতায় আসে মুহিব। কিন্তু লাবনীকে খুজে বের করার জন্য মুহিবের ব্যাকুলতা দেখে সবাই মুহিবকে নির্দোষ তো মেনেই নেয়, সাথে লাবনীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসারও সাক্ষী হয়। কিন্তু লাবনীকে কোথাও পাওয়া যায় না। ৬ মাস পর যখন পুলিশের পাশাপাশি লাবনীর নিজের পরিবারও ব্যাপারটা মেনে নেয়, তখনও হণ্য হয়ে লাবনীকে খুঁজতে থাকে মুহিব। নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির পোস্টার, ফেসবুক পোস্ট, খোঁজ দিতে পারলে মোটা অঙ্কের টাকা - কিছুই বাদ রাখে না সে। কিন্তু লাবনী যেনো হাওয়ার মিলিয়ে গেছে। এই খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে, এক বছর পর মুহিব এক রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাকে দুই দিন পর গাজীপুরের কাছে হাইওয়ে থেকে উদ্ধার করা হয় নগ্ন ও অজ্ঞান অবস্থায়। এবং জ্ঞান ফেরার পর থেকেই তাকে আবিষ্কার করা হয় বদ্ধ উন্মাদ হিসেবে। এরপর দুই বছর কেটে যায়, কিন্তু এই কেসের কোনো কূলকিনারা হয় না। ঠিক এমন সময় প্রফেসর জ্যাক ওরফে জাকারিয়া আহমেদ এই কেসটি রি ওপেন করেন। এবং তার সাথে থাকে তার সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট, ঢাকা ইউনভার্সিটির সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা মেধাবী ছাত্রী, ঋতু এবং রিতুর সাংবাদিক বন্ধু মৃদুল। ধীরে ধীরে তারা এই কেসের গভীরে প্রবেশ করতে থাকে। আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ একটা মিসিং কেস মনে হলেও আস্তে আস্তে কেসটি মোড় ঘুরিয়ে হয়ে উঠে ভয়ংকর এবং হিংস্র। তারা জড়িয়ে যেতে থাকে এমন এক চোরাবালিতে যা সমাধানের জন্য তাদের মুখোমুখি হতে হয় একজন উন্মাদের তৈরি করা এক কুৎসিত এবং বীভৎস সাম্রাজ্যের। এই সাম্রাজ্যের কাজকর্ম এতটাই নিকৃষ্ট ও হিংস্র যা একজন যুবকের স্মৃতিকে করে দিয়েছে বিখণ্ডিত, সেই যুবক এখন অর্ধ উন্মাদ। প্রফেসর জ্যাক এবং তার দলকে দাড়াতে হয় মানবমনের সবচেয়ে অন্ধকার, জটিল এবং হিংস্র মনস্তত্ত্বের সামনে।
◽পাঠ প্রতিক্রিয়া
বইটি প্রফেসর জ্যাক সিরিজের দ্বিতীয় বই। কিন্তু আমার এই সিরিজের পড়া প্রথম বই। সাইকোলজিকাল থ্রিলার, এই জনরাটি নিয়ে বাংলা সাহিত্যে যে খুব বেশি লেখা হয়েছে, তা কিন্তু না। এক্ষেত্রে রবিন জামান খানের এই বইটি যে নতুন একটি মাত্রা যোগ করে তা বলার অ���েক্ষা রাখে না। সাইকোলজিকাল থ্রিলার জনরার বইগুলোর স্টোরি বিল্ড আপ সাধারণত একটু স্লো হয়। অন্যান্য থ্রিলারের মত এই জনরার বইয়ের পাতায় পাতায় থ্রিল কিংবা টানটান উত্তেজনা থাকে না কিন্তু বইয়ের পরতে পরতে ঠিকই থাকে টার্ন এবং টুইস্ট। যেহেতু এসব বইয়ের বিল্ড আপ স্লো হয় তাই প্লট টুইস্ট গুলো আরো বেশি ইন্টারেস্টিং লাগে। আর এই বইয়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে লেখক বেশ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। সাধারণ একটি মিসিং কেস থেকে ধীরে ধীরে এত গভীর একটি প্লট তৈরি করা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। বইটি খুব উপভোগ করেছি। আর বইয়ের শেষে লেখকের রেখে যাওয়া ক্লিফহ্যাঙ্গার এই সিরিজের পরবর্তী বইগুলোর জন্য আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় অনেক। এখন কত যে অপেক্ষা করতে হবে সেটা ভেবেই খারাপ লাগছে। কিন্তু অপেক্ষার ফল মিষ্টি হবে এই বিষয়ে বিশ্বাস আছে।
◽লেখনশৈলি
সহজ, সাবলীল এবং আকর্ষনীয় লেখনী। লেখকের লেখার গতিময়তার জন্য পাতার পর পাতা উল্টে গেছি মন্ত্রমুগ্ধের মত। প্রতিটি চ্যাপ্টার লেখক এমন জায়গায় শেষ করেছেন যে পরের অংশ পড়ার জন্য আগ্রহ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
◽চরিত্রায়ন
বইটিতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং মূল চরিত্র হলেন প্রফেসর জ্যাক। তার ভাবভঙ্গি, আচরণ, কথা বলার স্টাইল, উপস্থিত বুদ্ধি, তার নিজেকে রহস্যময় করে তোলা, ঘোলাটে চশমা, তার চোখ এসব কারণে এই চরিত্রটি যেনো ঘটনার পুরোটা সময় স্পট লাইটে ছিলেন। এছাড়া তার অতীতের কোনো ট্রমার বোঝা তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন যা আশা করি সিরিজের পরবর্তী বইগুলোতে উঠে আসবে। এছাড়া ঋতু, মৃদুল, মুহিব কেও লেখক বেশ দক্ষতার সাথেই ফুটিয়ে তুলেছেন। মোটা মস্তুর চরিত্রটিও বেশ ইন্টারেস্টিং। কিন্তু আমার আপত্তি সদরুলের চরিত্র নিয়ে। প্রথম দুই চ্যাপ্টার পরেই এই চরিত্রের আর কোনো হদিস পাওয়া যায় না। গল্পে হয়তো তার প্রয়োজনীয়তা কম ছিল, কিন্তু তার প্রেমিকা এত বড় একটি ট্রমা দিয়ে যাওয়ার পরেও তার কোনো আগমন ঘটলো না, এমনকি তার কোনো মোবাইল কলও ঋতুর কাছে আসলো না, এই বিষয়ে একটি বড়সড় কিন্তু থেকেই যায়।
◽প্রচ্ছদ
আমার সাধারণত সিম্পল প্রচ্ছদ ভালো লাগে যা বইয়ের মূল বিষয়ক একটু হলেও তুলে ধরবে। সেক্ষেত্রে এই প্রচ্ছদটি একদম পারফেক্ট। প্রথম দর্শনে প্রচ্ছদে কিছু বুঝা না গেলেও বইয়ের মূল কাহিনীতে ঢুকে যাওয়ার পর এই প্রচ্ছদটি অর্থবহ মনে হয়। ভাঙ্গা কাচ দিয়ে মুহিবের বিখন্ডিত স্মৃতি, প্রফেসরের ঘোলাটে চশমা, প্রফেসরের গাড়ি এবং সেটিকে ফলো করতে থাকা কালো এলিয়ন গাড়ি ( ধারণা করছি ), ব্যাকগ্রাউন্ডে গাজীপুরের ভাওয়াল বন - সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি প্রচ্ছদ।
◽বানান এবং সম্পাদনা
এত চমৎকার একটি বইয়ের এই দিকটি বেশ দুর্বল লেগেছে আমার। বইটিতে অনেকগুলো বানান ভুল পেয়েছি। তার উপর নামও উল্টে পাল্টে গেছে অনেক জায়গায়। এই বিষয় গুলো একটু বিরক্তিকর লেগেছে।
◽প্রোডাকশন কোয়ালিটি, বাইন্ডিং এবং অন্যান্য
বইয়ের প্রোডাকশন নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। এত মোটা একটি বই! কিন্তু পেজের ভাঁজ খোলা যাচ্ছে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই। উপরের ডাস্ট কাভারটিও বেশ আকর্ষণীয়। কিন্তু ভেতরের কাভারটি একদম জৌলুশহীন এবং ফ্যাকাসে। এটি আরেকটু ভালো করতে পারলে এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকতো না।
চমৎকার সুখপাঠ্য একটি সাইকোলজিকাল থ্রিলার। যে কোনো থ্রিলারপ্রেমী বেশ উপভোগ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। লেখকের এই সিরিজের পরবর্তী বইগুলোর জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করবো!
বিখন্ডিত জ্যাক সিরিজের দ্বিতীয় বই । কাহিনীর শুরু হয় এক মেয়ের অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে। গাজীপুরে দুইটি ছেলে মেয়ে ঘুরতে গিয়ে মেয়েটি হঠাৎ উধাও হয়ে যায় আর তার সন্ধানে শেষে আইনি সংস্থা, পরিবার হাল ছেড়ে দিলেও অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যায় ছেলেটি।এক সময় ছেলেটিকে সেই গাজীপুরেই আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং সে মানসিক ভারসাম্য হারায়। কেসটা ওখানেই ক্লোজ হয়ে যায়।
বেশ কয়েক বছর পর এই কেসটা আবার রিওপেন করে প্রফেসর জ্যাক। সাথে সহযোগী হিসেবে থাকে ঋতু আর মৃদুল। তারা কেসের যত গভীরে যেতে থাকে ততই অবাক হতে থাকে। জানতে পারে গাজীপুরে সেই এরিয়াতে আরও অনেক মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে। এই রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে উঠে আসে নারকীয় আর ঘৃণ্য সব কাহিনী যার সাথে জড়িয়ে আছে এক পুরোনো ইতিহাস ।
পুরো উপন্যাস জুড়ে সাসপেন্স কাজ করেছে। শেষ দিকের গল্পের মোড় গুলো অনুমান করা গেছে আগেই। কিন্তু পড়তে কোন জায়গায় বোরিং লাগেনি। বইটা আসলেই উপভোগ্য।
লেখকের লিখনশৈলী নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তার সাথে প্রথম পরিচয় হয় শব্দজালে।দুইটা সিরিজই মন জয় করে নিয়েছে।
রেটিং: 9.5/10 (শেষে প্রফেসর জ্যাক কে একটু বিশেষ ভাবে নায়ক বানানোর চেষ্টা আর অপ্রয়োজনীয় ভাবে গল্প বড় করা শেষের দিকে এইটুকুর জন্য .5 কম দিতে হইছে :( )
➠বইয়ের নাম : বিখণ্ডিত ➠লেখক : Robin Zaman Khan ➠প্রকাশকাল : ২০২১ ➠প্রকাশনী : Nalonda ➠প্রচ্ছদশিল্পী : Sultan Azam Sazal ➠পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩৬৮ ➠মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা ➠জনরা : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার
◑ কাহিনী সংক্ষেপ:
গল্পটা মুহিব ও লাবণি নামের দুই তরুণ-তরুণীর অসমাপ্ত প্রেম কাহিনীর আর তাদের করুণ পরিণতির।যার শুরুটা হয়েছিল অনেক বছর আগে।
মুহিবদের দূর-সম্পর্কের আত্মীয় এবং প্রতিবেশীর মেয়ে লাবণির সাথে মুহিবের একেবারে ছোটবেলা থেকে প্রেম ছিল। তাদের দুই পরিবারের ভেতরে সেটা নিয়ে একটা সময় অনেক ঝামেলা হয়েছে, অনেক গন্ডগোল হয়েছে। কিন্তু মুহিব আর লাবণির দৃঢ়তার সামনে সবকিছুই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তারপর একটা সময় এসে দুই পরিবারই তাদের সম্পর্ককে মেনে নেয় এবং পারিবারিকভাবে তাদের অ্যানঙ্গেজমেন্টও হয়। যখন ঘটনাটা ঘটে তখন মুহিব সদ্য অনার্স শেষ করেছে আর লাবণি পড়ছিল তৃতীয় বর্ষে এমন সময় এমন একটা ঘটনা ঘটে যে এই দুজন মানুষ তো বটেই দুই পরিবারও পুরোপুরি উলটে-পালটে যায়।
মুহিব আর লাবণি একদিন গিয়েছিল গাজীপুরে বেড়াতে।সেখানে ভাওয়াল বনে বেড়াতে গেলে লাবণির সাথে মুহিবের ঝগড়া হয়,তার পরিপ্রেক্ষিতে সে লাবণিকে সেখানে একা রেখে এক বন্ধুর বাসায় চলে যায়।পরদিন মুহিব বাড়িতে এসে জানতে পারে লাবণি রাতে বাড়িতে ফিরেনি।ততক্ষনে সুই পরিবার থানা-পুলিশ,হাসপাতেলে খোঁজ করা শুরু করে দিলেও লাবণির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।ব্যাপারটা নিয়ে নিউজ চ্যানেল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্যন্ত গরম হয়ে ওঠে। এক দিন এক সপ্তাহ এক মাস তারপর ছয় মাস যাওয়ার পর পুলিশ-সাংবাদিক তো বটেই এমনকি একটা পর্যায়ে তার পরিবার এমনকি বাবা-মাও হাল ছেড়ে দিয়ে ভেবে নেয় তাদের মেয়ে আর কোনোদিনই ফিরে আসবে না।কিন্তু দায়বদ্ধতা থেকেই হোক আর ভালোবাসা থেকে মুহিব তখনো খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছিল।লাবণির হারিয়ে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরেও ওর সন্ধান চালানোর পাগলামিতে বিরক্ত হয়ে পরিবারের লোকজন বকাঝকা করলে মুহিব রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।তার ঠিক তিন দিন পর তাকে গাজীপুরের ভাওয়াল বনের যেখানে লাবণি হারিয়ে গিয়েছিল সেই জায়গার কাছেই হাইওয়ে থেকে উদ্ধার করা হয় সম্পূর্ণ নগ্ন এবং অজ্ঞান অবস্থায়। জ্ঞান ফেরার পর সে কিছুই পরিষ্কার বলতে পারেনি, সেইসাথে অসংলগ্ন আচরণ করতে শুরু করে।ডাক্তার তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ঘোষণা করে এবং এরপর থেকে সে মানসিক হাসপাতালেই আছে। তার আসলে কী হয়েছিল তা কখনোই জানা যায়নি এবং লাবণির আসলে কি হয়েছিল তাও আর জানা যায়নি,মেয়েটা যেনো স্রেফ উধাও হয়ে গেল!!!
গত ২ বছর যাবত আনসলভড থাকা কেসটা আবার রিওপেন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, জাকারিয়া আহমেদ,সংক্ষেপে প্রফেসর জ্যাক।শব্দজাল বইটা যারা পড়েছেন এই রহস্যময় চরিত্রটার সা��ে তারা সকলেই পরিচিত।শব্দজালে আন্তর্জাতিক অপরাধী আলবার্ট ফাত্তাহের কেসের পর প্রফেসর মূলত কাজ করতে চাচ্ছে পুরোনো সুরাহা না হওয়া এসব কেস নিয়ে।যাকে বলে ইনভেস্টিগেটিভ সাইকোলজি। প্রফেসর জানতে চাচ্ছিলেন,কি হয়েছিল আসলে লাবণির,আর কিই বা হয়েছিল মুহিবের সাথে যার ফলে তার মানসিক অবস্থার এতোটা বিপর্যয় হয়েছে।তার কাছে এটা শুধুমাত্র নিজের বাগদত্তাকে হারিয়ে উন্মাদ হয়ে যাওয়া একটা ছেলের কোনো সাধারণ কেস লাগছিল না। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা ঋতুকে নিয়োগ দিলেন প্রফেসর তার সহকারী হিসেবে। শুরুটা ছিলো খুবই সাধারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা ঋতুর জন্যে খানিকটা উত্তেজনারও। হাজার হলেও প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ। কিন্তু শুরুটা আর দশটা সাধারণ ইন্টারভিউয়ের মতো হলেও দ্রুতই সেটা রূপ নিলো ভিন্ন কিছুতে। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে এরকম এক প্রেম কাহিনী ধরিয়ে দেয়াতে শুরুতে খানিকটা বিরক্তই লাগছিলো ঋতুর। কিন্তু সাধারণ কেসটা ঘটনার ঘনঘটায় এতোটাই দ্রুত এমন ভয়ঙ্কর এক রূপ নিলো যে তাল রাখতে রীতিমতো হিমশিম খেতে শুরু করলো সে। একদিকে তার নিয়োগকর্তা রহস্যময় প্রফেসর, অন্যদিকে ততোধিক রহস্যময় এক কেস, বাধ্য হয়ে সে সাহায্য চাইলো সাংবাদিক বন্ধু মৃদুলের কাছে। ঋতু আর মৃদুল জড়িয়ে যেতে শুরু করলো এমন এক বিভৎস রহস্যের জালে যেটা সমাধানের জন্য তাদেরকে ডুব দিতে হবে অর্ধ উন্মাদ একজন মানুষের হারানো স্মৃতির অতলে, যেখানে লুকানো আছে শতবর্ষের পুরনো এক হিংস্র রহস্যের চাবিকাঠি। বিখণ্ডিত পাঠককে নিয়ে যাবে মানব মনের অতলে,যেখানে বিরাজমান শুধুই হিংস্রতা আর অন্ধকার।পাঠককে স্বাগত প্রফেসর জ্যাকের কালো চশমার জগতে!!!
◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া:
বইটা কিছুদিন আগে পড়া শেষ হলেও ব্যস্ততার কারণে রিভিউ দিতে পারিনি।বইটা আসলে এককথায় অসাধারণ।“বিখণ্ডিত” সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার প্রফেসর জ্যাক সিরিজের ২য় বই।সিরিজের ১ম বই শব্দজালে প্রফেসর জাকারিয়া পুরো কেসটাই ইন্টারোগেশন এর মাধ্যমে সলভ করেন,সিরিজের ১ম বই হিসেবে ক্যারেক্টার বিল্ড আপের কারণে অনেকের কাছে স্লো লাগলেও আমার কাছে তেমন লাগেনি।সেক্ষেত্রে বিখণ্ডিত বলতে গেলে য়ামার কাছে একদম রোলারকোস্টার রাইড।বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা থেকে একদম শেষ পর্যন্ত আগ্রহ জাগানিয়া বর্ণনা ছিল।লেখক যেমনটা বইয়ের ভূমিকায় বলেছেন,এটার গল্প ইনভেস্টিগেটিভ সাকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবে সাজাবেন,যার কিছু নির্দিষ্ট প্যাটার্ন থাকে।এগুলো গতানুগতিক থ্রিলারের মতো দ্রুত গতির হয় না।স্লো বিল্ড আপ,গল্পের পরতে পরতে সাজানো যথাযথ টার্ন সেই সাথে টুইস্ট!!!লেখক স্লো বিল্ড আপ বললেও বইটার কাহিনী খুব দ্রুত এগিইয়ে গিয়েছে বলে আমি মনে করি।সাধারণ একটা কেস থেকে কোথাকার জল গড়িয়ে কোথায় চলে যাচ্ছে সেটা বোঝার আগেই আবার ভিন্ন কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।মানুষের মনের অতল গভীরে যে পশুত্ব,হিংস্রতা আছে তা উপলব্ধি করার পাশাপাশি পরিস্থিতির শিকারে একজন সাদাসিধে মানুষ কিভাবে যে পশুর থেকেও ঘৃণ্যতম আচরণ করতে পারে তা সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে গল্পে।বইয়ের এন্ডিংটাও ছিল বেশ তৃপ্তিদায়ক।সিরিজের পরবর্তী বইগুলোতে যে আমরা প্রফেসরের সাথে তার একটা শক্তিশালী টিমেরও দেখা পাব,যার ফলে গল্পগুলো যে আরো দূর্দান্ত হবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রেখে না।
◑ চরিত্রায়ন:
বইয়ের প্রধান চরিত্র প্রফেসর জাকারিয়া আহমেদকে শব্দজালের তুলনায় এই বইয়ে আরো শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।শব্দজালের মতো এই বইয়েও চরিত্রটা ঠিক পরিষ্কার না,তবে এটা বোঝা যায় প্রফেসর জাকারিয়ার অতীতে কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটে গিয়েছে যার বোঝা তিনি আজও বয়ে বেড়ান।আশা করি এই চরিত্রের ব্যাকস্টোরি নিয়ে যে প্রিকুয়েলটা আসবে সেখানে বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে। বইয়ের প্রথম দিকে সদরুল নামের একটা চরিত্র যে কিনা ঋতুর বয়ফ্রেন্ড,সম্পূর্ণ বইয়ে তার উপস্থিতি আর একটি বারের জন্য নেই,এই জিনিসটা অনেকটা অস্বাভাবিক লাগল।যদি ব্যস্ততার কারণে দেখা নাই হয় অন্তত ফোনালাপ হতে পারত।আর যেহেতু প্রফেসরের কাছে ইন্টারভিউর জন্য গিয়েছিল,সেই ইন্টারভিউ কেমন হলো সেটা জানার জন্য হলেও একটা কথোপকথন থাকতে পারত।যদিও আশা করা যায় পরবর্তী বইয়ে এই চরিত্রে দেখা মিলবে তবে এই বইয়ে একবারের পর সদরুলের অনুপস্থিতিটা ঠিক যায় না বর্তমান জীবনব্যবস্থার সাথে! আরেকটি চরিত্র যাকে নিয়ে কথা না বললেই নয় সে হলো মিস্টার মোস্তু,যে কিনা বিশ্বের প্রথম এবং অন্যতম ভার্চুয়াল ডিটেকটিভ।পাশাপাশি এই চরিত্রের বিলাসী জীবন এবং জাপানপ্রীতি চরিত্রটিকে আকর্ষনীয় করে তুলেছে।আকর্ষনীয় হওয়ার পাশাপাশি এই চরিত্রটাকে অনেকটা ঘোলাটে রাখা হয়েছে,একটা রহস্যময়তা আছে।প্রফেসরের সাথে কথোপকথন থেকে এটা পরিস্কার সিরিজের পরবর্তী বইগুলোতেও মোস্তুর উপস্থিতি তো পাওয়া যাবেই বরং আরো জোড়ালো ভূমিকা পালন করবে।লেখকের সাথে কথা বলে জানলাম সিরিজের পাশাপাশি মোস্তুকে নিয়ে লেখকের আর বর পরিকল্পনা আছে!!! পাশাপাশি গল্পের প্রতিটা চরিত্রকে অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।পাঠক যেনো প্রতিটা চরিত্রকে,তাদের অবস্থানকে ভালোভাবে ফিল করতে পারে তাই তাদের ব্যক্তিত্ব,বাচনভঙ্গি থেকে শুরু করে প্রায় সকল খুঁটিনাটি বিষয় খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
◑ লেখক সমন্ধে কিছু কথা:
লেখক রবিন জামান খান ভাইয়ার লেখার সাথে আমার পরিচয় ঘটে লেখকের সময়ের উপখ্যান সিরিজের ৩য় বই ❝মগরাজ❞ এর মাধ্যমে।তখন থেকেই তার লেখার ভক্ত হয়ে গেছি।রবিন ভাইয়াকে সবাই চিনে মূলত ❝হিস্টোরিকাল থ্রিলার❞ লেখক হিসেবে।রবিন জামান খান মানেই এক বইয়ে একই সাথে দুই টাইমলাইন একই সাথে চলতে থাকে পরে একপর্যায়ে এসে মিলিত হয়।সেখান থেকে বেড়িয়ে অনেকটা এক্সপেরিমেন্টাল হিসেবে তিনি লেখেন ❝প্রফেসর জ্যাক সিরিজ❞ ১ম বই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ❝শব্দজাল❞।দুই বাংলায় শব্দজালের জনপ্রিয়তার পর লিখে ফেলেন এই সিরিজের ২য় বই ❝বিখণ্ডিত❞।ইতিহাসের পাশাপাশি মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আগ্রহ থেকেই মূলত তিনি শব্দজাল লেখেন।এক্ষেত্রেও লেখক সফল হয়েছেন।বাংলাদেশে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার তেমন পরিচিত কোনো জনরা না,সেই হিসেবে এই জনরায় লেখকের এই জনপ্রিয়তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।একে একে এই সিরিজের আরো ৫টি বই এবং একটি প্রিকুয়েল আসবে।তাই লেখকের জন্য ভালোবাসার পাশপাশি অনেক শুভকামনা।আশাকরি খুব শীঘ্রই সিরিজের পরবর্তী বই আসবে।
◑ প্রচ্ছদ:
বইয়ের এই অসাধারণ প্রচ্ছদটি করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রচ্ছদশিল্পী আমাদের সবার প্রিয় সজল চৌধুরী ভাই।অবশ্য বইয়ের কাহিনীর সাথে প্রচ্ছদটা প্রথমে মেলাতে পারিনি,পরে সজল ভাই ব্যাপারটা ক্লিয়ার করল।প্রচ্ছদে জঙ্গলের সামনে একটি মেয়ের হাতে ভাঙা কাচের টুকরা আর তারমধ্যে একজন ছেলের খণ্ডিত অবয়ব।এখানে মূলত লাবণিকে হারিয়ে মুহিবের উন্মাদ হয়ে যাওয়াটাকে বোঝানো হয়েছে।পাশাপাশি প্রফেসরের কফি কালারের ঘোলাটে চশমা ও দুইটি গাড়ির ছবি রয়েছে বইয়ে।
তবে আমি মনে করি বইয়ের ব্যাককভারে KKK এর মডিফাইড সিম্বল না দিয়ে মুহিবের অঙ্কন করা চিত্রটা দিলে বেশি ভালো হতো।কারণ ব্যাককভারের সিম্বলটা বইয়ের বর্ণনায় বোঝা গেলেও মুহিবের অঙ্কন করা চিত্রটা বুঝতে আমার মনে হয় অনেকেরই সমস্যা হবে।এটা বাদ দিলে সব মিলিয়ে দারুণ একটা প্রচ্ছদ করার জন্য সজল ভাইয়ে অনেক অনেক ভালোবাসা ও ধন্যবাদ!
◑ বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি,বাইন্ডিং এবং অন্যান্য:
শুরুতেই আসি বইয়ের প্রোডাকশন নিয়ে,আসলে এই নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই,নালন্দা প্রকাশনী বরাবরের মতোই প্রোডাকশন দিয়েছে।৩৬৮ পৃষ্টার একটা বই বলতে গেলে আরামে খুলে পড়া যায়,যাকে বলে একদম স্মুথ বাইন্ডিং।বইয়ে ব্যবহৃত ক্রিম কালারের কাগজও যথেষ্ট উন্নতমানের।এই নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তবে বইয়ের দামটা যথেষ্ট বেশি লাগছে,অবশ্য শুধু এই বই না নালন্দার সববইয়েরই এই এক অবস্থা।তাই দামটা আরেকটু কম হলে সকলস্তরের পাঠকদের জন্য সুবিধা হতো,যেহেতু এসব বইয়ের পাঠকদের মধ্যে বেশিরভাগই স্টুডেন্ট,তাই আমি মনে করি এই বিষয়টা নিয়ে আরেকটু ভাবা উচিৎ ।পাশাপাশি নালন্দার বইয়ের যে দাম সেই অনুযায়ী তারা তাদের বইয়ের জেল কভারটাকে আরো উন্নত করতে পারত,এই জিনিসটা ভালো লাগলো না।মানে ব্যাপারটা অনেকটা ❝উপরে ফিটফাট,ভিতরে সদরঘাট❞ ঠেকেছে।উপরের ডাস্ট কভারটা খুললে বইটা আর দেখার মতো থাকে না!!!
◑ বানান ও সম্পাদনা:
বইটার সম্পাদনা বেশ ভালো হলেও বইটায় অনেকগুলো বানান ভূল রয়েছে এবং বার বার সেগুলোর পুনরাবৃত্তি হয়েছে।যেমনঃ পুলিশ ব্যুরো অব স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন সংক্ষেপে পিবিএসআই-কে দুই-একবার বাদে বেশিরভাগ সময় পিবিআইএস বলে উল্লেখ করা হয়েছে।আবার ক্লু ক্লাক্স ক্ল্যান-কে বেশিরভাগ জায়গায় কু ক্লাক্স ক্ল্যান বলে উল্লেখ করা আছে।তারপর সন্দীপ রুপলাল তার ভাইকে পরিচয় করিয়ে দেয় সুদীপ নামে৷ অথচ পরবর্তীতে গিয়ে দেখি সেটা প্রদীপ হয়ে গেছে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু ভুল বানান চোখে পড়েছে।এগুলো আসলে বিরক্তির উদ্রেক ঘটায়!!!
◑ পছন্দের কিছু অংশ:
✪ আমি বিশ্বাস করি মানুষের স্মৃতি হচ্ছে তার সব। আজকে আমি যে-মানুষটা আপনার সামনে বসে আছি একেবারে ছোটবেলা থেকে আমার সমস্ত স্মৃতির সমন্বয়ই আসলে আজকের আমি। সেটা আমার ব্যক্তিত্ব হোক আমার মেধা কিংবা নলেজ হোক আজকের আমাকে ডিফাইন করছে আমার স্মৃতি। পুরো বিশ্ব ব্যবস্থা সমাজ সংস্কৃতি সবই গড়ে উঠছে মূলত এর ওপরে ভর করেই। একজন ব্যক্তি বিশেষের ক্ষুদ্রতম সমস্যা হোক কিংবা বিশ্ব মাতানো কোনো বড় সমস্যা হোক সবকিছুর মূলেই থাকে মানুষের মেমোরি।
✪ বাঙালির কমন সমস্যা, বিদেশের মাটিতে একবার পা পড়লে দেশকে আর দেশ মনে হয় না। মনে হয় ডাস্টবিন। কিন্তু দেশটা যে মা, আর বিদেশ হলো শাশুড়ি, এদেরকে সেটা কে বোঝাবে।দানব আসলে ওত পেতে আছে আমাদের ভেতরে।
✪ আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে বসবাস করে এক একটা করে ভয়ংকর আর কুৎসিত দানব। আমাদের সবার ভেতরেই আছে সেই দানব। দরকার শুধু সঠিক সময়, সঠিক পরিচর্যা।
◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০
◑ পরিশিষ্ট:
এখানে একটা বিষয় বলতে চাই,কোনো বইয়ের রিভিউ লেখার ক্ষেত্রে ফ্ল্যাপ দেওয়ার পাশাপাশি বইয়ের কাহিনী সংক্ষেপ দেই আমি।সেই “কাহিনী সংক্ষেপ”-এ চেষ্টা করি স্পয়লার ছাড়া বইয়ের টোটাল প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে।কিন্তু এই বইয়ের রিভিউ লেখার সময় খেয়াল করলাম আমি আমি যদি সম্পূর্ণ বইয়ের কাহিনিটাকে স্প্যলার ছাড়া সংক্ষেপে লিখতে যাই সেক্ষেত্রেও কোনো না কোনো ক্লু দিয়ে ফেলছি।তাই ঠিক করলাম যেখান থেকে এত কিছুর সূত্রপাত সেটাকেই বর্ণনা করব।কিন্তু সেক্ষেত্রেও দেখলাম এই ঘটনাটা প্রফেসরের কথায় ঋতু প্রথমেই বিস্তারিত ভাবে বিশ্লেষণ করেছে।তাই ঘটনাটা একত্রে এক জায়গায় থাকায় আমার নিজস্বভাবে বর্ণনা করার আর জায়গা পেলাম না।তাই “কাহিনী সংক্ষেপ" এর প্রায় ৭০% ঋতুর ব্যাখ্যা করা ঘটনাকে আরেকটু মডিফাই করে লেখা। অবশেষে বলতে চাই দারুণ একটা বই পড়লাম।২০২১ সালে আমার পড়া টপ ৫ বইয়ের একটা বিখণ্ডিত।যারা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পড়তে চান বা নতুন কিছু উপভোগ করতে চাচ্ছেন বা দ্রুতগতির সম্পন্ন কিছু চাচ্ছেন তারা বইটি নির্দিধায় পড়তে পারেন।নিশ্চয়তা দিতে পারি বইটা পড়লে খারাপ লাগবে না!!!
আমরা আসলে নিজ নিজ স্মৃতির সমন্বয় ছাড়া কিছু নই। খন্ড খন্ড মেমোরির সিড়ি বেয়ে সামনে এগোয় সবার জীবন।
কিন্তু কী হতে পারে যদি কারো স্মৃতিই হয়ে যায় বিখন্ডিত? প্রেমিকার সাথে মান-অভিমানের কারণে মুহিব রাগ করে লাবণীকে গাজিপুরের এক জায়গায় একা রেখেই চলে আসে।
এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের মাশুল মুহিবকে দিতে হয় চিরতরে লাবণীর নিখোজ হয়ে যাওয়া এবং নিজ স্মৃতির বিখন্ডিত অবস্থায় মেন্টাল ফ্যাসিলিটিতে দিন যাপন করে।
এন্টার প্রফেসর জ্যাক। শব্দজাল যারা পড়েছেন তাঁরা ভালোই জানেন জাকারিয়া আহমেদকে। অবশ্য সেই ভালো জানাটাও রহস্যমন্ডিত। সাইকোলজির অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর এবং একই সাথে বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সাথে ফিরে এসেছে তাঁর ঘোলাটে সানগ্লাসও যা জাকারিয়ার প্রায় সার্বক্ষণিক সঙ্গী।
ঋতু ইনভেস্টিগেটিভ সাইকোলজীতে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করা মেয়ে। শিল্পী বাবা এবং আধপাগল প্রেমিককে নিয়ে তাঁর জীবন। প্রফেসর জাকারিয়া আহমেদের কাছে চাকরি করতে যান তাঁর ডিজার্টেশনের সাথে জব ডেস্ক্রিপশনের সামহোয়াট মিল পেয়ে।
আখ্যানে ইনভেস্টিগেটিভ সাইকোলজীর কারণে এ বইয়ের প্রথমার্ধ একটু ধীরে এগিয়েছে। মুহিবের অসহায়ত্বের সাথে প্রফেসরের সেশনগুলোর ডিলিং পড়তে গিয়ে মন খারাপ হয়ে গেছে আমার। ঐ অংশগুলো আসলেই বিষন্নতায় ভর্তি।
কিন্তু মুহিব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর উপর একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে। কিন্তু কেন? ঐ এলাকা থেকে লাবণীর অন্তর্ধানের রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে প্রফেসর জ্যাককে মুহিবের বিখন্ডিত স্মৃতিগুলো খন্ড খন্ড আকারে জিগ শাও পাজলের মতো জোড়া লাগাতে হবে।
এদিকে ঋতু, সাংবাদিক বন্ধু মৃদুল এবং জাকারিয়া আহমেদ কেঁচো খুড়তে গিয়ে অ্যানাকোন্ডার দেখা পেয়ে যান। এমন এক মর্মান্তিক এবং নারকীয় এক ইতিহাসের সাথে তাদের পরিচয় হয় যা বিস্ময়করভাবে বর্তমানেও হয়তো কার্যকর আছে।
প্রফেসর জাকারিয়া আহমেদের উপর রচিত সিরিজের দ্বিতীয় বই 'বিখন্ডিত'। তবে বিখন্ডিত বুঝতে কেউ 'শব্দজাল' না পড়লেও সমস্যা নেই। লেখক রবিন জামান খান সেভাবেই লিখেছেন উপন্যাসটি। তবে 'শব্দজাল' পড়া থাকলে ভালো। ইনভেস্টিগেটিভ সাইকোলজীর চর্চার সাথে সাথে প্রফেসর জ্যাকের সামনে চলে আসে ভয়ানক এক চ্যালেঞ্জ।
প্রফেসর জ্যাক যেন মিসির আলী এবং ব্রুস ওয়েইনের এক অদ্ভুত কম্বিনেশন। ট্রমাযুক্ত অতীতের কারণে কোন কিছুতেই সহজে টলানো সম্ভব নয় প্রফেসরকে। তবে এ উপন্যাসে তিনিও খানিকটা টলে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়ে যান।
রবিন জামান খান থ্রিলার লেখকদের মাঝে আমার অন্যতম প্রিয় একজন। তাঁর 'সপ্তরিপু' পাঠ এক স্মৃতিময় অভিযানের মতোই ছিলো এবং আছে আমার জন্য। 'বিখন্ডিত' যখন দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে গতি পায় তখন আর পিছ ফিরে দেখতে হয় নি।
রবিন জামান খান বরাবরের মতোই সহজাত এবং টানটান লেখা লিখেন। তবে আমার এ বইয়ের অপেক্ষাকৃত কম ভালো লাগা দিকও আছে। যেমন : ইনভেস্টিগেটিভ সাইকোলজীর বর্ণনা আরো একটু দেয়া যেত মন�� হয়। বিশেষ করে মেমোরি থিওরির ক্ষেত্রে। তাছাড়া "প্রফেসর তাঁর আঙ্গুল / পাইপ পিস্তলের মতো তাঁর দিকে তাক করে বললেন।" বা "তিনি মাছি তাড়ানোর মতো করে হাত নাড়লেন।" এই দুই ধরণের বাক্য একটু বেশি রিপিটেডলি এসেছে।
আরেকটা বিষয় খানিকটা খাপছাড়া লেগেছে। কোন নির্দিষ্ট ধর্ম-সংস্কৃতির ব্যক্তি মা-বাবা-ভাই-বোনকে যেভাবে সম্বোধন করে স্মৃতিচারণ করে থাকেন সেভাবে না করে আরেক রকম করে সম্বোধন করলেন। স্পয়লার হবে তাই কথা বাড়াচ্ছি না। যারা পড়েছেন এবং লেখক বুঝতে পারবেন।
সব মিলিয়ে 'বিখন্ডিত' ৩৫০+ পৃষ্ঠার বই হলেও পেইজ টার্নার। রবিন জামান খানের কৃতিত্ব এখানেই।
তাছাড়া প্রফেসর জ্যাকের খেল মনে হয় এখনো শুরু হয়েছে মাত্র। তাঁর অরিজিন স্টোরি জানার ইচ্ছা আছে আমার। একটা চরিত্রকে দারুন এক প্রেজেন্সের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন লেখক। আগামীতে প্রফেসর জ্যাকের আরো দেখা পাওয়ার আগ্রহ জন্ম নিয়েছে আমার মধ্যে।
বই রিভিউ
নাম : বিখন্ডিত লেখক : রবিন জামান খান প্রথম প্রকাশ : অক্টোবর ২০২১ দ্বিতীয় মুদ্রণ : ফেব্রুয়ারি ২০২২ প্রকাশনা : নালন্দা প্রচ্ছদ : সজল চৌধুরী জনরা : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
কয়েক পাতা ভালো লাগে তো কয়েক পাতা লেজেগোবরে। কাহিনীর প্রবাহমানতায় একটু ফ্ল আছে। প্রায় বেশির ভাগ্য জিনিস ই আগে থেকে প্রেডিক্ট করা যাচ্ছিল। আরেকটু গোছানো হইতে পারত। তবে একেবারেই খারাপ তা না । এখানে প্রফেসর জ্যাক এর আরেকটা এডভেঞ্চার এর কাহিনী আছে। শেষটা দেখে মনে হয়েছে আরো আছে কাহিনী, সামনের কিস্তিতে আসবে। দেখি সেটা কেমন হয়
দেশের প্রথম সারির স্বনামধন্য এক পত্রিকা অফিসে মৃদুল সহ সবাই বসে আছে স্তম্বিত হয়ে। কারণ সম্পাদকের হাতে মৃদুলের দেয়া অনুসন্ধান রিপোর্ট পড়ার পর সবার এই বর্তমান অবস্থা। যেই ছেলে গত সপ্তাহে এই পত্রিকা অফিসে ইন্টারভিউ দিয়ে ব্যার্থ হয় সেই ছেলে কিভাবে এমন রিপোর্ট তৈরি করতে পারে! যে কাজ করতে একজন সাংবাদিকের সারা সাংবাদিক জীবন চলে যায় সেই কাজ এই ছেলে কিভাবে একসপ্তাহয় করে ফেলে! মৃদুলের প্রস্তাবে সম্পাদক রাজি। তিনি জানেন এই খবর প্রকাশ হলে তার নিজের সাথে সাথে তার অফিস এবং গোট দেশ টলে উঠতে পারে, তবু তিনি এই সত্য প্রকাশ করবেন। কিন্তু শর্ত হচ্ছে এই ঘটনার সম্পূর্ণ কাহিনি তাকে জানতে হবে।
তাই আমরা মৃদুলের মাধ্যমে থেকেই এই ‘বিখন্ডিত’ গল্পটা জানতে পারি।
মৃদুলের বান্ধবী ঋতু সবে মাত্র সাইকোলজি বিভাগ থেকে পাশ করে বেরিয়েছে। এরই মধ্যে তার কাছে একটি চারকির অফার আসে। চারকির অফার করেন প্রফেসর জাকারিয়া। চাকররির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে ঋতু প্রথম দিনেই প্রফেসসের সাথে ইনভেস্টিগেটে নেমে পড়ে। এখনো কিন্তু ঋতুর চাকরি পাঁকা হয়নি! বর্তমান কাজের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে তার চাকরি। ঋতুর কাজ হচ্ছে মানুষিক ভাবে অসুস্থ এক ছেলের উপর ইনভেস্টিগেট করা। ঋতু জানতে পারে যে ছেলেটি লাবনী নামে এক মেয়ের সাথে প্রেম করতো, এবং একপর্যায়ে তাদের বিয়ে হবারও কথা ছিলো। একদিন তারা ঘুরতে বের হয়ে কোনো এক কারণে তাদের মধ্যে রাগারাগি হয়, এবং ছেলেটি মেয়েটিকে ঐ জায়গায় একা রেখে চলে আসে। আর লাবণী তারপর থেকেই গায়েব হয়ে যায়। লাবনীকে আর কখনো কেউ দেখেনি, এবং সেই থেকে মুহিব নামের ছেলেটিও উন্মাদ হয়ে যায়।
প্রফেসর, ঋতু এবং সাংবাদিক মৃদুলের কাজ হচ্ছে এই মুহিব নামের ছেলেটির মাথার ভিতরে থাকা ‘বিখন্ডিত’ হয়ে যাওয়া স্মৃতি উদ্ধার করা। তারা জানতে চায় আসলে তার সাথে কি এমন হয়েছিল যে এমন সুস্থ স্বাভাবিক একটি ছেলে এমন উন্মাদ হয়ে যাবে? আর লাবনীরই বা কি হলো যার খোঁজ গোটা প্রশানও বের করতে পারলো না!
প্রফেসরের গোলাটে ঐ চশমার আড়ালে ঋতু সবসময় দৃঢ় এক মানুষকে উপলব্ধি করতো। যে কিনা বাহ্যিক ভাবে বৃদ্ধ হলেও এখনও পরিনত এক যুবককেও হারমানাতে পারেন সবদিক থেকেই। যে কিনা কোনো পরিস্থিতিতেই ভেঙে পড়েন না। চরমতম মুহূর্তেও তার চেরার এতুটুন পরিবর্তন হয় না। প্রফেসরের অসাধারণ সব ক্ষমতা আবিষ্কার করে ঋতু তার এই প্রথম কেসে। প্রফেসর আসলে ঠিকই বলেছেন, বাহির থেকে সাদামাটা কেস মনে হলেও আসলে ঠিক তার উল্টো।
রহস্য উদঘাটন করতে করতে একটা পর্যায় তারা তিনজন এমন এক ইতিহাসের সামনে গিয়ে পড়ে যা আসলে পাঠককে অন্য এক অনুভূতি দিবে। আমি বইটা যত পড়েছি শেষের দিকে এসে তত মুখ কুঁচকেছি। আর অবাক হয়েছি। মানুষ আসলেই হিংস্র পশুর থেকেও বেশি হিংস্র। সবশেষে তারা এমন এক কাহিনি, ঘটনা, গল্প আবিষ্কার করেন যা কিনা গোটা দেশকে টলিয়ে দিতে পারে। আর সেই কেস ফাইল বা এটম বোমা ধরা আছে সম্পাদকের হাতে।
****
লেখক রবিন জামান খানের প্রফেসর জ্যাক সিরিজের দ্বিতীয় বই এই ‘বিখন্ডিত’। প্রথম বই হচ্ছে ‘শব্দজাল’। যেকেউ এই বইটা পড়তে পারবেন। কিন্তু কিছুদূর গিয়েই বারবার আপনি কৌতুহলী হয়ে উঠবেন প্রফেসর সম্পর্কে। কারণ এই বইতে ঋতু সবসময় প্রফেসরের এ চোখের গোলা চশমার মাঝে হাবুডুবু খেয়েছেন। তাই আপনিও খাবেন। এটা ছাড়াও প্রফেসরের আরো বেশ কিছু কাজ আপনাকে কৌতুহলী করবে তাকে জানার জন্য। আর তাই শব্দজাল বইটা আপনার জন্য আবশ্যক। ঐ বইতে প্রফেসরকে তার পাঠকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন লেখক। এবং তার ক্ষমতা সম্পর্কেও।
গোটা বইতে প্রফেসর ঋতু আর তার বন্ধু মৃদুলকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন। তাদের দিয়ে সব করালেও ‘সবকিছু’ করাননি। আর ঐ সবকিছুইতেই ছিলো প্রফেসরের খেল। শব্দজালের মত প্রফেসরে কথার মায়া জাদু এই বইতে তেমন একটা পাইনি, তবে সেটা তিনি তার কাজ দিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন। গল্পটা আরো ছোট হতে পারতো, তবে আমার মনে হয়েছে যেমন আছে তেমনই ঠিক আছে। কারণ এতো বড় কাহিনি আপনি একটানা পড়তে গেলে হয়তো কিছুটা হিমশিম খাবেন। আমি তো গল্পের অহেতুক আলাপন অংশে চিন্তা করেছি গল্পের কাহিনি নিয়ে। তাছাড়াও সকলের মকে কাহিনি ছাড়াও যে মাঝে মাঝে গল্পের চরিত্রদের আলাপ আলোচনা আছে সেটা আসলে সেই সব চরিত্রদের সামাজিক, মানুষিক, এবং চারিত্রিক ভাবে দৃঢ়ভাবে পাঠকের সামনে প্রতিষ্ঠত করেছে। এতে করে আমার কাছে প্রতিটি চরিত্রকে বাস্তব মনে হয়েছে।
লেখক অসাধারণ কাজ করেছেন এই বইতে৷ তিনি আমাদের চিরচেনা আবহাওয়া, পরিবেশ, দৃশ্য নিয়েই কাজ করেছেন, যার ফলে গল্প পড়ার সময় মনে হচ্ছিল আমি নিজেও যেনো সেখানে আছি, কারণ আমিও জায়গাগুলো চিনি। আরেকটা কাজ লেখকের অতি প্রসংশা যোগ্য, সেটা হচ্ছে বর্ণনা। এতোটা চমৎকার দৃশ্যের বর্ণনা তিনি করেছেন যে পড়তে পড়তে দৃশ্য গুলো আপনার চোখের সামনে চলে আসবে।
এছাড়াও একটি বিষয় আমার কাছে সিনেমাটিক লেগেছে, সেটা হচ্ছে মুহিবের স্মৃতি ফিরে আশার দৃশ্যটি। লেখক যদি ঐ দৃশ্যটার আগে মুহিবের চিকিৎসার আরো দৃশ্য বা কৌশল বর্ণনা করতেন তাহলে ভালো হতো। কারণ মানুষিকভাবে অসুস্থ মানুষ হঠাৎ করেই একদম স্বাভাবিক হতে পারে না। শারীরিক ভাবে এতোটা ফিট থাকতে পারে না। এটা ছাড়া সব ঠিক ছিলো।
আর প্রকাশনী ‘নালন্দা’ প্রকাশনীর প্রোডাকশন একদম অসাধারণ ছিলো।
মানসিক রোগী শুনেই মনে হয়েছিল যে হাসপাতালে বসে ইনভেস্টিগেশন চালাবে, কাকতালীয় ভাবে প্রফেসর গিয়েই মুহিবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে, যেটা ডাক্তাররা পারেনি। কিন্তু শুরুতেই দেখা গেল হাসপাতালের ভিতরে আর বাইরে ইনফরমেশন গ্যাপ ছিল। যার ফলে মৃত্যু ঝুঁকি মাথায় নিয়ে নতুনভাবে কাজ করতে হয়। তবে একদম শেষে গিয়ে রূপলালের মুখে ব্যাখ্যা শুনতে গিয়ে একদম মনোযোগ দিতে পারিনি, অতিরিক্ত মনে হয়েছে।গল্পের শুরুতে ঋতুর বাসায় বাবার সাথে কথোপকথন, এরপর মৃদুলের আসা, তার সাথে সংলাপ - এগুলো পড়তে প্রথমে কিছুটা অতিরিক্ত লাগছিল। কিন্তু তাদের ক্যারেক্টার বিল্ডাপের জন্য হয়তো প্রয়োজন ছিল।
গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র প্রফেসর জাকারিয়া। তার ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে হলে শব্দজাল পড়তে হবে আগে। তবে আমার মনে হয় কেউ যদি শব্দজাল না পড়েও এটা পড়তে চায় পুরো গল্পে সমস্যা হওয়ার কথা না। শুধুমাত্র প্রফেসর জাকারিয়া কিছুটা রহস্যময় থাকবে। শব্দজাল পড়া আছে বলে কিছু রহস্যের ব্যাখ্যা জানি, কিন্তু সেই ব্যাখ্যা এই গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র ঋতুও জানেনা। কাজেই পাঠকের সমস্যা হওয়ার কথা না। তবে প্রফেসর জাকারিয়ার জীবনের কিছু অতীত রহস্যের ইঙ্গিতও আছে। সেটা পাঠক বা ঋতু কেউই জানেনা।
গল্পটা পড়া শুরু করার পর থেকেই একদম আটকে গিয়েছিলাম ভিতরে। খুব সুন্দরভাবে সাজানো গোছানো ইনভেস্টিগেটিভ সাইকোলজির উপর একটা বই। ঠিক প্রফেসর জ্যাক যেরকম ইনভেস্টিগেশনের জন্য গুছিয়ে কাজে নেমেছে সেরকম। তবে একশন সিনও কম নেই। মুহিবের বিখণ্ডিত স্মৃতি থেকে রহস্যের চাবিকাঠি বের করে আনা কিংবা বিখণ্ডিত ঘটনাগুলোকে জোড়া লাগানো যেটাই চিন্তা করি নামকরণটা যথার্থ। শেষ পর্যন্ত পড়ে মনে হয়েছে লেখক কী এই গল্পের কিছু অংশ বাকি রেখে দিলেন পরের বইয়ের জন্য? নাকি তৃতীয় বইটা দ্বিতীয় বইয়ের মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে?
নেগেটিভ এর মধ্যে যেগুলো চোখে পড়েছে সেগুলো সম্ভবত প্রোডাকশনের, প্রফেসর<>আফসার ওলোটপালোট ছিল কিছু অংশে। বানান ভুল/ প্রিন্টিং মিস্টেক কম থাকলেও চোখে পড়েছে। বইটার বাঁধাই, কাগজ, ছাপা, খুব সুন্দর। শুধু একটা জায়গায় আমার ব্যক্তিগত পছন্দ - কালো ক্লথ বাইন্ডিং এর উপর ছাপা কাগজ না বসিয়ে শুধু কালো কাপড় রাখলে জিনিসটার মধ্যে অনেক বেশি আভিজাত্য থাকতো।
প্রচ্ছদঃ প্রচ্ছদ নিয়ে আমি সাধারণত কিছু বলিনা। অত কিছু চিন্তাও করিনা। দেখতে খুব দৃষ্টিকটু লাগলে তখন চিন্তা করি এত খারাপ কেন লাগলো। এর মূল কারণ আমার সিম্পল প্রচ্ছদ পছন্দ। আজকাল কেন যেন প্রচ্ছদ দেখে মনে হয় বেশি ডিজাইন, কালার, বিভিন্ন ধরনের ফন্টের ব্যবহার। এগুলোর অনেক ব্যবহার হলেও বেশিরভাগ জায়গায় কম্বিনেশনটা আমার পছন্দ হয়না। যদিও গল্প পড়লে বোঝা যায় প্রচ্ছদের ডিজাইন মিনিংফুল।
এই প্রচ্ছদটা প্রথম দেখাতেই সুন্দর লেগে যায়। ফন্ট থেকে শুরু করে সব। ডিজাইন দেখে নিজের মনের মত একটা মিনিং বের হয়ে যায় শুরুতে। ফ্রন্টে উপরে জঙ্গল, নিচে একটা হাতের মধ্যে খণ্ড- বিখণ্ড হওয়া তাসের মত কিছু, তার নিচে কালো চশমা, তার সামনে আবার গাড়ি। কিন্তু সবচেয়ে ভালো লেগেছে গল্পটা যত এগিয়েছে প্রচ্ছদটা তত পরিষ্কার দেখতে পেয়েছি। প্রচ্ছদকার অসাধারণ কাজ করেছেন। গল্পের সাথে সাথে প্রচ্ছদেও রহস্য আর টুইস্ট ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারটা অসাধারণ।
কাহিনীর প্লট নিয়ে বলতে হয় প্লট চমৎকার। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবে এই প্লট চমৎকার মানিয়ে যায়। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী আর তার ভারসাম্যহীনতার পেছনে এক অমীমাংসিত রহস্য। কিন্তু লেখক এই চমৎকার প্লট নিয়েও কাহিনী টা তেমন জমাতে পারেন নি। কয়েক টা পয়েন্ট এ বিস্তারিত বলবো।
🖍️. কথোপকথন ছিল অতিরিক্ত দীর্ঘ, মানে একজন দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলে যাচ্ছেন। কাহিনীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই বিষয় টা খুব ই বিরক্তিকর লেগেছে।
🖍️ গাজীপুরের ঘটনার ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার জন্য যখন ঋতু আর মৃদুল পুলিশ ইন্সপেক্টর এর কাছে যাই , সেখানে জানতে পরে সে মৃত কিন্তু তার এক নিকট বন্ধু ও থাকে পুলিশ সে তাদের কে সাংবাদিক এর ব্যাপারে জানায়। আবার যখন সাংবাদিক এর খোঁজে গিয়ে জানতে পারে সেও মৃত এবং সেখানেও সাংবাদিক এর একজন কাছের বন্ধু থাকে যার কাছ থেকে তার প্রেমিকার ব্যাপারে জানতে পারে। এই যে দুই জায়গায় ই কাছের বন্ধু থাকার কাকতলীয় ব্যাপার টা একটা থ্রিলার বইয়ে মেনে নিতে কষ্ট হয় আমার।
🖍️আমি আশা করিনি রহস্যের সমাধান হবে পুরোটা গল্প শুনে। এই জায়গায় এসে কাহিনীতে ধ্বস নেমে গেছে। থ্রিলার বইয়ে এমন টা হয়তো কেউ ই আশা করেনা। তারপর ও যতটুকু ক্লাইম্যাক্স বাকি ছিল মুহিব কে নিয়ে ফাঁদ পাতার কথা আসতেই সব শেষ। 😑 এরপরে টিপিক্যাল গোয়েন্দা কাহিনীর মত পূর্বে অনুমেয় জানা কাহিনী হয়ে গেছে সব।
🖍️মুহিব বাঙ্গালী ছেলে। প্রফেসর তার জন্য দুপুরের খাবার হিসেবে তার পছন্দের হট ডগ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিয়ে যায়। আমার জানা নাই কোনো বাঙ্গালী দুপুর বেলা সাধারণ বাংলা খাবার বাদে এগুলো খেতে ভালোবাসে। ( এটা আমার ব্যাক্তিগত অভিমত , কাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত না)
আমার মনে হয়েছে লেখক বইটা শেষ করার জন্য বেশ তাড়াহুড়া করেছেন। শুরুতে একটা ভালো প্লট, সাসপেন্স নিয়ে আগালেও শেষ মুহূর্তের ক্লাইম্যাক্স যেটা একটা থ্রিলার বইয়ের ভিত্তি , সেটা পাঠক কে দিতে পারেন নি। আমার জন্য প্রফেসর জ্যাক সিরিজ এখানেই শেষ।
- এ বছরে আমার পড়া বইগুলোর মধ্যে ২য় সেরা একটা বই!🔥 শব্দজাল পড়ার পর কখনো ভাবিনাই যে বিখন্ডিত এর মতো ঢাউস এই বই যে কখনো ধরা হবে! মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক!...শব্দজাল পড়তে যত সময় লাগছে বিখন্ডিত পড়তে ঠিক ততটুকু সময় বা স্পেসিফিকলি বলতে তারচেয়েও কম লাগছে! যদিও কাহিনী ধীরে ধীরে এগিয়েছিল কিন্ত প্রফেসর মানুষটার কারণে কোনো বোরিং ফিলই হয়নি!... সাইকোলজির অনেক টার্ম এটাতে এসেছে এবং বোধ করি পরবর্তীতেও সিকুয়েলের বইগুলোতে আরো বিস্তারিত জানতে পারবো!.. শেষের টুইস্ট গুলার কোনো তুলনা হয় না!...যতটুকু প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করি তার চেয়ে দ্বিগুণ বেশি প্রত্যাশা পূরণ করেছে বইটি🖤
- আশা করি, রবিন ভাই 'ধুম্রজাল' বই আগামী বইমেলাতেই আমরা পাবো😍
শব্দজালের পর লেখক বড় পরিসরে নিয়ে এসেছেন বিখন্ডিত। দেখতে প্রথমে কিডনাপিং এর কেস হলেও আস্তে আস্তে যে রহস্য এর গভীরে ঢুকে যাচ্ছিলেন প্রফেসর জ্যাক তা পড়ে নিঃসন্দেহে আপনার ভালো লাগবে। এইবার প্রফেসর একা নন, সাথে আছে উনার টিম। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এর সাথে সাসপেন্স থ্রিলারের ও এলিমেন্টে ভরপুর বইটি। যে অঞ্চল নিয়ে ঘটনাটি ঘটছে সেখানের ইতিহাস টা অনেক ইন্টারেস্টিং ছিলো। বলতে গেলে নতুন প্লট বইটি। ইউরোপীয় অঞ্চলের অনেক ইতিহাস ও আছে বইয়ে। বইটা যথেষ্ট উপভোগ্য, কিন্তু শেষের টুইস্ট অনুমেয়৷ মুহিব এর চরিত্রটাও অনেক ভালো লেগেছে।
নেগেটিভ দিকগুলোঃ বইয়ের কিছু জায়গায় বর্ণনা একটু বেশিই লেগেছে। যেগুলো রহস্য উন্মচনে প্রয়োজনই মনে হয় নি। তাছাড়া প্রশংসনীয় দিক হচ্ছে বানান ভুলের দিকে বিখন্ডিত বই শব্দজালকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।