মানুষের চামড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ময়লার ঝুড়ি, চেয়ারের কাভার, লেগিংস, মুখোশ!
মাথার খুলি দিয়ে তৈরি হয়েছে বাটি! স্তন দিয়ে বেল্ট! মনে হয় কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের কাজ? নাহ। সিরিয়াল কিলারের কাজ।
১০, ৭০, ১০০, ১৭৫, ২২০, ৩০০ এগুলো নিছক সংখ্যা নয় সিরিয়াল কিলারদের কাছে, এগুলো এক একটা মৃত মানুষের অস্তিত্ব। যাদেরকে তারা খুন করেছে শুধু মাত্র নিজের মানসিক শান্তির জন্য।
“শয়তানকে সাথে নিয়ে আমি জন্মগ্রহণ করেছি”—কথাটা যে বলেছে তার নাম হারমান ওয়েবস্টার মাজেট। মাজেটকে মনে করা হয় আমেরিকার শুরুর দিকের সিরিয়াল কিলারদের পথ প্রদর্শক। সে ২৭ জনকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও তার খুনের সংখ্যা ২০০-এর অধিক বলেই ধারণা করা হয়…
ভালো লাগে নাই।একটা কারন হয়ত বইটা কেনার আগে আমি ফিকশান ভাবছিলাম,কিন্তু পড়তে গিয়ে দেখি নন ফিকশান। পৃথিবীর বেশিরভাগ ক্রমিক খুনিদের ব্যাপারে তথ্য আছে বইটায়। একটু গল্পের ছোয়া দিয়ে ক্রমিক খুনিদের পরিচয় দিলে বইটা ইন্টারেস্টিং হইত
❝𝕿𝖍𝖎𝖘 𝖎𝖘 𝖙𝖗𝖚𝖊: 𝖙𝖍𝖊 𝖜𝖔𝖗𝖑𝖉 𝖎𝖘 𝖇𝖊𝖙𝖙𝖊𝖗 𝖔𝖋𝖋 𝖜𝖎𝖙𝖍 𝖘𝖔𝖒𝖊 𝖕𝖊𝖔𝖕𝖑𝖊 𝖌𝖔𝖓𝖊. 𝕺𝖚𝖗 𝖑𝖎𝖛𝖊𝖘 𝖆𝖗𝖊 𝖓𝖔𝖙 𝖆𝖑𝖑 𝖎𝖓𝖙𝖊𝖗𝖈𝖔𝖓𝖓𝖊𝖈𝖙𝖊𝖉. 𝕿𝖍𝖆𝖙 𝖙𝖍𝖊𝖔𝖗𝖞 𝖎𝖘 𝖈𝖗𝖔𝖈𝖐. 𝕾𝖔𝖒𝖊 𝖕𝖊𝖔𝖕𝖑𝖊 𝖙𝖗𝖚𝖑𝖞 𝖉𝖔 𝖓𝖔𝖙 𝖓𝖊𝖊𝖉 𝖙𝖔 𝖇𝖊 𝖍𝖊𝖗𝖊.❞ - Pᴀᴛʀɪᴄᴋ Bᴀᴛᴇᴍᴀɴ, Aᴍᴇʀɪᴄᴀɴ Psʏᴄʜᴏ "আর্ট" শব্দটি ল্যাটিন শব্দ "আরস" অর্থাৎ শিল্প, নৈপুণ্য বা দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত। শিল্পের মধ্যে অনেক কিছুই পড়ে। চিত্র, কারুকাজ, সংস্কৃতি ইত্যাদি। কিন্তু খুন শিল্প বলতে কি কিছু শুনেছেন? নিখুঁত ভাবে হত্যা কিংবা একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্নে হত্যা করাকে মাঝে মাঝে আমরা বলি অমুক খুনি খুনকে একেবারে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যাই হোক শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া খুনি যখন একটা নির্দিষ্ট ঢংয়ে একের পর এক হত্যা করে যায় তখন সেই খুনিকে আমরা 〞সিরিয়াল কিলার বা ক্রমিক খুনি〝 বলে থাকি। সিরিয়াল কিলার হবার পেছনে সাধারণত শৈশবের কোন বাজে ঘটনা, রাগ, উত্তেজনা যা একজন ব্যক্তির সাধারণ জীবনে, মনস্তাতাত্বিক দিক থেকে তাকে হিংস্র করে থাকে এসব কারণকে চিহ্নিত করা হয়। আবার অনেক সিরিয়াল কিলারই আছেন, মানসিক তৃপ্তি পেতে পর্যায়ক্রমে খুন করে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এইসব খুনিদের সাধারণ টার্গেট হয় নারী, শিশু অথবা পতিতা। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বহু ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার ছিলেন যাদের হত্যাযজ্ঞে শিউরে উঠেছিল মানুষ। তাদের কাউকে ধরা গেছে আবার কেউ রয়ে গেছেন লোকচক্ষুর আড়ালে। এমন অনেক সিরিয়াল কিলার এর জবানবন্দিতে জানা গেছে তাদের এমন ভয়ানক হয়ে ওঠার পেছনের গল্প। আবার কেউ কেউ ধরা পরেও সম্মুখ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন মুক্তি পেলে আরও হত্যা করবেন। নারী কিংবা পুরুষ যে কেউই হতে পারেন এমন নিষ্ঠুর খুনি। এমনই ৫১জন পুরুষ এবং ১৪জন দুর্ধর্ষ খুনিদের নিয়ে সাজানো হয়েছে মনোয়ারুল ইসলামের নন ফিকশন বই "ক্রমিক খুনি"। ক্রমিক খুনিরা যে শুধু নির্দিষ্ট একটা ঢংয়ে তাদের খুন করে তাই নয়। এ ধরনের খুনিরা মস্তিস্কবিকৃত হয় বলেই তারা শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হয় না। ভিক্টিমের মরদেহ নিয়ে মেতে ওঠে অন্য এক পৈশাচিক আনন্দে। জন ওয়েইন গেসি নামক এক আমেরিকান ক্রমিক খুনি পুরুষ যৌনকর্মী এবং কিশোরদের তার শিকারে পরিণত করতেন। তার খুনের ধরনের নাম ছিল "handcuff trick". ক্লাউন সেজে শিকার ধরতেন বলে "The Killer Clown" নামে পরিচিত ছিলেন। শিকারকে হত্যার আগে নির্যাতন ও ধর্ষণ করতেন। এমনকি হত্যার পর তাদের হাড় সংগ্রহ করতেন। জেফরি ডাহমার নামক আরেক আমেরিকান ক্রখু হত্যার পর মৃতদেহের সাথে সহবাস করতেন। ডাহমারকে গ্রেফতার করার পর তার বাসা থেকে ভয়ানক সব জিনিস উদ্ধার হয়, যেমন: অ্যাসিডে ভেজানো লাশ, অত্যাচারিত ব্যক্তিদের পোলারয়েড ছবি ইত্যাদি। এমনকি হত্যার পরে তাদের মাংস ভক্ষণ করতেন। এছাড়াও মোমবাতির বেদীতে সাতটি খুলি রাখার কারণ জানতে চাওয়ায় সে বলেছিলেন "Ⲣ𝓵ⲁⲥⲉ 𝓯ⲟꞅ ⲙⲉⲇⲓⲧⲁⲧⲓⲟⲛ." "দ্য বিস্ট" খ্যাত কলম্বিয়ান খুনি লুইস গারাভিতো ১৩৮ জন শিশু, কিশোর-কিশোরীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। কিশোর বয়সে মদ্যপ পিতার নির্যাতনই তার খুনি হয়ে ওঠার পিছে মদদ জুগিয়েছে। এজন্য লুইসের শিকার বেশিরভাগই ছিল ৬-১৬ বয়সী অনাথ, গৃহহীন পরিবারের সন্তান। ক্রখুদের মধ্যে যদি সব থেকে কুখ্যাত কারো নামের কথা বলতে হয় তবে "জ্যাক দ্য রিপার" এর নামই আসে। জ্যাক এমনই এক ক্রখু যার সন্ধান মেলেনি আজও। ১৮৮৮-১৮৯১ এর আশেপাশে সাড়া জাগানো এই ক্রখুয়ের নৃশংসতার সাক্ষী হয়েছেন অনেকেই কিন্তু এই সিরিয়াল কিলারদের লেজেন্ডকে চোখের দেখা কেউ দেখেনি। জ্যাক দ্য রিপারের টার্গেট ছিল পতিতা। শিকারকে হত্যা করার পর তাদের গলা কেটে, পেট ফেড়ে নাড়ীভুঁড়ি কেটে ফেলেছিলেন। অনেকেই নিজেকে "জ্যাক দ্য রিপার" বলে দাবি করলেও তাদের প্রমাণ খুব জোরালো ছিল না। ফলে শত বছর পরেও "জ্যাক দ্য রিপার" এক অমীমাংসত রহস্যের নাম। ক্রখু কি শুধুই ইউরোপ আমেরিকায় আছে? সাদা চামড়ার লোকেরাই কি এমন অদ্ভুত এবং গা শিউরে ওঠা হত্যাযজ্ঞ ঘটাতে পারে? উত্তর, না। এরকম ভয়ানক ও দুর্ধর্ষ ক্রখু আছে আমাদের উপমহাদেশেও। উপমহাদেশে সিরিয়াল কিলিংকে একেবারে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া একদল খুনির কথা জানেনা এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। বুঝতেই পারছেন কাদের কথা বলছি। হ্যাঁ, বলছি "ঠগি" দের কথা। ১৩ থেকে ১৯শতক পর্যন্ত এই খুনে ডাকাত দল লাখ লাখ অসহায় মানুষের নাম মুছে দিয়েছে পৃথিবী থেকে। এক টুকরো হলুদ রুমালের মাঝে একটা পয়সা বেঁধে তৈরি মারণফাঁদে কত মানুষ শেষ হয়েছে তার হিসেব নেই। এদেরই একজন "বাহরাম"। বাহরামের খুনের সংখ্যা এতো বেশি ছিল যে তাকে নিয়ে প্রচলন হয়েছিল- যে পথ দিয়ে বাহরাম যেত, সেই পথে মানুষের চিহ্নও অবশিষ্ট থাকত না। ইতিহাসের এই কুখ্যাত খুনে ডাকাতদল নিয়ে রচিত হয়েছে বেশ কিছু বই (ঠগী- শ্রীপান্থ, ঠগির জবানবন্দী- ফিলিপ মিডোয টেলর)। লাহোরের ক্রখু "জাভেদ ইকবাদ মুঘল" কে ভারতীয় উপমহাদেশের ভয়নাক খুনি হিসেবে অ্যাখ্যা দেয়া হয়। অমায়িক ও মিষ্টিভাষী জাভেদের পিছে লুকিয়ে ছিল এক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি, তা প্রথম ধরা পরে ১৯৯৮ সালে। শিকারকে ধর্ষণ এবং পরে শ্বাসরোধ বা ছুরির আঘাতে হত্যা করতেন। এরপর অ্যাসিড ভর্তি ড্রামে রেখে দিতেন। সিরিয়াল কিলিংয়ে পিছিয়ে নেই বাঙালীও। এমনই একজন বাঙালী ক্রখু ছিলেন "রসু খাঁ"। তার আবার ছিল এক অদ্ভুত ইচ্ছা। ১০১ জন নারীকে হত্যা করে হয়ে যাবেন সন্ন্যাসী। কেন তার এই অদ্ভুত ইচ্ছা হলো তা আপনি বই পড়লেই জানতে পারবেন। ভারতের পুনে শহরের "রমন রাঘব" আরেকজন ক্রখু। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার রাঘব কেন হয়ে গেলেন ভারতের সিরিয়াল কিলিংয়ের ত্রাস? এছাড়াও ক্রখুর তালিকায় আছে পল জন নোলস, এড গেইন, গ্যারি রিজওয়ে, জন জর্জ হেই, পুলিশ কর্মকর্তা মিখাইল পপকভ, আমেরিকান নরখাকদ অ্যালবার্ট ফিশ সহ প্রমুখ। এবার আসি কয়েকজন নারী ক্রখুর কথায়। এলিজাবেথ বাথরি, হাঙ্গেরিয়ান এই ক্রখু যৌবন লাভের আশায় মেয়েদের হত্যা করতেন। নরওয়েবাসী ছয় ফুটধারী "বেল গানেস" হত্যা করেছেন ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে। এবং অবাক করা তথ্য এই যে শিকারের বেশিরভাগই ছিলেন তার স্বামী্ হবু স্বামী ও তাদের সন্তান। ইতিহাসের অন্যতম ক্রখু হিসেবে পরিচিত অ্যামেলিয়া ডায়ার খুন করেছেন ১০০ এর অধিক শিশু। এছাড়াও আছেন ক্লেমেন্টিন বার্নাবেট, তামারা স্যামসোনোভা, ইলসে কখ, ভেরা রেনসি সহ প্রমুখ। এইসব মস্তিস্কবিকৃত খু*নিরা যেমন খুন কর���েন অদ্ভুত সব কারণে, নৃশংস সব পন্থায় তেমনি খুনের পর মৃতদেহ নিয়েও করতেন বিকৃত সব উল্লাস। যেমন, মৃতদেহের চামড়া দিয়ে বানাতেন ময়লার ঝুড়ি, কাভার, লেগিংস কিংবা মুখোশ। মাথার খুলি দিয়ে বাটি, আবার স্তনের বেল্ট, রক্ত দিয়ে তৈরি করতেন কেক। আটক হওয়�� খুনিদের মুখে খুব কমই অনুশোচনার বাণী শোনা যেত। বরং তারা তাদের এই কর্মকে নিয়ে অহংবোধ করতেন। আর্থ নেলসন নামক ক্রখু তার নারী হ*ত্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, ❞𝓘 𝓸𝓷𝓵𝔂 𝓭𝓸 𝓶𝔂 𝓵𝓪𝓭𝔂𝓴𝓲𝓵𝓵𝓲𝓷𝓰𝓼 𝓸𝓷 𝓢𝓪𝓽𝓾𝓻𝓭𝓪𝔂 𝓷𝓲𝓰𝓱𝓽𝓼.❞ ইতিহাসের নামকরা ও সমালোচিত ক্রখুদের নিয়ে রচিত হয়েছে নানা রকম বই, তৈরি হয়েছে সিনেমা। যার কিছু কিছু লেখক বইতে উল্লেখ করেছেন।
পাঠ প্রতিক্রিয়া: সিরিয়াল কিলিং নিয়ে খুব বেশি বই না পড়লেও মুভি দেখেছি বেশ কয়টা। মনোয়ারুল ইসলাম-এর "ক্রমিক খুনি" বইতে লেখক ইতিহাসের কুখ্যাত কিছু ক্রখু সম্পর্কে স্বল্প বিস্তরে লিখেছেন। ১২০পৃষ্ঠার বইতে তিনি এনেছেন ৫১জন পুরুষ ও ১৪জন নারী ক্রখুর সম্পর্কে তথ্য। বইটা পড়ার সময় বারবার আমার মনে হচ্ছিল নৃশংস খুনিদের কবলে পরা নিরীহ ব্যক্তিদের কথা। কী ভয়ানক বর্বরতার শিকার হয়েছিলেন তারা! নানা সময়ের কুখ্যাত সব খুনি সম্পর্কে জানতে বইটি আপনি পড়তেই পারেন। তবে যদি নির্দিষ্ট কোন ক্রখু সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে চান এবং সেই আশায় বইটি পড়া শুরু করেন তবে আপনি হতাশ হবেন। কারণ এখানে শুধু তাদের সম্পর্কে স্বল্পদৈর্ঘ্য একটি ধারনা দেয়া হয়েছে। তবে ভালো লেগেছে প্রতিটা খুনির সম্পর্কে একটা ধারনা দেয়ার পরে তাদের জীবন নিয়ে রচিত বই, ডকুমেন্টারি এবং নির্মিত মুভির নাম লেখক উল্লেখ করে দিয়েছেন। সেসব একটু নাড়াচাড়া করলেই আপনি আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন। বইটি ক্রখু সিরিজের প্রথম বই সেটা লেখক ভূমিকাতে উল্লেখ করেছেন। সামনে আরও বই আসবে। আমি আশা করবো সেখানে বিশেষভাবে কুখ্যাত কিছু ক্রখু নিয়ে লেখক বিস্তারিত লিখবেন। যেমন "জ্যাক দ্য রিপার" নিয়ে একটু পূর্ণাঙ্গ বই আশা করি। বইটি পড়ে আমার ভালো লেগেছে। তবে আরেকটু বিস্তারিত থাকলে একের ভিতর পাঁচ এরকম অনুভুব হতো। শতাব্দী থেকে শতাব্দী জুড়ে ভয়ানক সব খুনির সম্পর্কে জানতে পড়ে ফেলা যায় বইটি।
প্রচ্ছদ ও প্রোডাকশন: বইয়ের প্রচ্ছদটা ভালো হয়েছে। আকারে সরু বইটির প্রোডাকশনও ভালো হয়েছে।
আমরা জানি, যে সকল সংখ্যাকে ক্রম অনুসারে সাজানো যায় তাদের ক্রমিক সংখ্যা বলে। যেমন : ১ , ২ , ৩ ..... ইত্যাদি । সুতরাং , ক্রমিক হলো ধারাবাহিকতা অর্থাৎ ১,২,৩,....... এভাবে। আর খুনি হলো হত্যাকারী। অতএব, ধারাবাহিকভাবে যারা হত্যাকার্য চালায় তাদেরকেই ক্রমিক খুনি বলা হয়।
তবে এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে, যে হত্যাকারী ১ বা ২ জনকে খুন করে তাদের শুধু ‘খুনি' বলা হয়। এবং যে খুনিরা ৩ বা ততোধিক খুন করে বা মানুষ হত্যা করে তাদেরকে ‘ক্রমিক খুনি' বলা হয়।
সাধারণত ক্রমিক খুনিরা তাদের মনের তৃপ্তি মেটাতে খুনগুলো করে থাকে। তারা হত্যাগুলো করেন এক মাসের বেশি সময় ধরে এবং দুটো খুনের মধ্যমর্তী সময় বেশ দীর্ঘ হয়। কিছু কিছু জায়গায় আবার কর্তৃপক্ষ হত্যার সংখ্যা দুই বা চার হিসেবে ধরেন।
✰ আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বলেছে, ক্রমিক খুনিরা ক্রোমের বশবর্তী হয়ে রোমাঞ্চকর অনুভূতি খোঁজে আর্থিক লাভ কিংবা মনোযোগ আকর্ষনের জন্য খুন করে।
➤ ফ্ল্যাপ হতে : —
কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে দেহটাকে করা হয়েছে নয় টুকরা। শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে তৈরি করা হবে সাবান। গাঢ় জমাটবাধা রক্তের সঙ্গে মেশান হচ্ছে ময়দা, ডিম, চকলেট, চিনি ও দুধ- তৈরি করা হবে সুস্বাদু টি-কেক!...
═══════════════════════════
মানুষের চামড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ময়লার ঝুড়ি, চেয়ারের কাভার, লেগিংস, মুখোশ!
মাথার খুলি দিয়ে তৈরি হয়েছে বাটি! স্তন দিয়ে বেল্ট! মনে হয় কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের কাজ? নাহ।সিরিয়াল কিলারের কাজ।
১০, ৭০, ১০০, ১৭৫, ২২০, ৩০০ এগুলো নিছক সংখ্যা নয় সিরিয়াল কিলারদের কাছে, এগুলো এক একটা মৃত মানুষের অস্তিত্ব।যাদেরকে তারা খুন করেছে শুধু মাত্র নিজের মানসিক শান্তির জন্য।
“শয়তানকে সাথে নিয়ে আমি জন্মগ্রহণ করেছি”- কথাটা যে বলেছে তার নাম হারমান ওয়েবস্টার মাজেট। মাজেটকে মনে করা হয় আমেরিকার শুরুর দিকের সিরিয়াল কিলারদের পথ প্রদর্শক। সে ২৭ জনকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও তার খুনের সংখ্যা ২০০-এর অধিক বলেই ধারণা করা হয়…।
➤ পাঠ - প্রতিক্রিয়া : —
ক্রমিক খুনি বইটি দুটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। এর প্রথমাংশে কুখ্যাত পুরুষ সিরিয়াল কিলার বা ক্রমিক খুনিদের কথা উল্লেখ আছে। সর্বমোট ৫১ জন পুরুষ সিরিয়াল কিলারের কথা উল্লেখ রয়েছে বইটিতে । আবার বইটির শেষাংশে নারী সিরিয়াল কিলারদের কথা উল্লেখ আছে। এখানে ১৪ জন নারী সিরিয়াল কিলারের বর্ণনা দেয়া রয়েছে। এখানে নারী সিরিয়াল কিলারদের সংখ্যা কম হলেও তাদের খুনের নৃশংসতা পুরুষদের তুলনায় বেশি ।
বইটিতে খুনিদের জীবনী নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত আলোচনাতেই আমি আমার অনেক অজানা বিষয় জানতে পাই। বইয়ে যে কয়েকজন ক্রমিক খুনির বর্ণনা রয়েছে, তাদের সম্পর্কে একটু হলেও ধারণা জন্মেছে আমার।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, গোটা কয়েক সিরিয়াল কিলার বাদে অধিকাংশই ছোট থেকে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে, অনেক অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে, অনেক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে। এছাড়াও একটি লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে, প্রায় প্রতিটি সিরিয়াল কিলারের মূল টার্গেট ছিল, অল্পবয়স্ক ছেলে-মেয়ে এবং নারীদের নৃশংসভাবে খুন কারা৷
বইটির লেখক খুনীদের ছবিসহ তাদের জীবনী বর্ণনা করেছেন বইটিতে। বিষয়টি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। এছাড়া বইয়ে উল্লেখিত কয়েকজন সিরিয়াল কিলারকে নিয়ে বই এবং মুভি বের হয়েছে ইতিমধ্যে। এই বই,ও মুভি সিরিজগুলোর নাম তিনি বইয়ে সুন্দর ভাবে উল্লেখ করেছেন। এ বিষটিও ভালো লাগার মতো।
➤ প্রচ্ছদ : —
বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সজল ভাই। সজল ভাইয়ের প্রচ্ছদ গুলো ব্যাক্তিগত ভাবে অনেক ভালো লাগে। তেমনি ক্রমিক খুনি বইয়ের প্রচ্ছদটাও আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।
➤ মলাট » বাঁধাই » পৃষ্ঠা —
বইয়ের মলাট, বাধাঁই খুবই ভালো লেগেছে আমার কাছে। তাছাড়া বইয়ের পৃষ্ঠাগুলোও ছিল খুবই সফ্ট। যা বই পড়ার সময় আলাদা একটি ফিল নিয়ে এসেছিল মনের মধ্যে।
➤ বানান ও সম্পাদনা : —
বানানে তেমন কোনো ভুল আমার চোখে ধরা পরেনি । তবে দু - এক জায়গায় একটি শব্দের ভিতর থেকে অক্ষর হারিয়ে গিয়েছে। তাছাড়া আর অন্য কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। বইয়ের সম্পাদনাও অনেক ভালো ছিল। যা বইটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লেই দেখতে পাবেন। সম্পাদককেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
➤ লেখককে নিয়ে কিছু কথা : —
লেখক মনোয়ারুল ইসলাম ভাই আমার পছন্দের তালিকায় থাকা লেখকদের মধ্যে একজন। বর্তমান সময়ের লেখদের মধ্যে তিনি অনেক ভালো লেখেন৷ তার লেখা বেশ কয়েকটি বই আমার লিস্টে আছে। সময় করে পড়ে নিব, ইনশাআল্লাহ। লেখকের ক্রমিক খুনি দিয়েই তার লেখা বই পড়া শুরু হলো আমার। বইটা পড়েই তার লেখার মাধ��র্য আমাকে মুগ্ধ করে দিল। বইগুলি লিখতে অনেক কষ্ট করেন তিনি। লেখকের সামনের বইগুলোর জন্য শুভকামনা। এবং লেখকের জন্য সবসময় দোয়া,ভালোবাসা ও শুভকামনা।
➤ খুচরা আলাপ : —
⚠️ বলে রাখা ভালো, বইটি কোনো ভাবেই অপরাধকর্মকে উৎসাহ করা হয়নি। বইটিতে ক্রমিক হত্যাকারীদের আচরণ বোঝাতে ও সামান্য কিছু ধারনা দেওয়া আছে এবং তাতে সাধারণ মানুষ যেন সচেতন হতে পারে। তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং দুর্বল চিত্তের মানুষজনকে বইটি থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়⚠️
সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে আমার ভাবনা চিন্তা অনেক আগে থেকেই। তাদের সম্পর্কে জানার আগ্রহ আমার প্রচুর। ক্রমিক খুনি বইটি থেকে সামান্য হলেও আমি তাদের সম্পর্কে ধারণা নিতে পেরেছি।
যদি কারো সিরিয়াল কিলারের নিয়ে জানার আগ্রহ থাকে তাহলে বইটি পড়তে পারেন।
✰ এই বইটির নাম মূলত “ইতিহাসের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের কথকতা "। বইটি সিরিজ আকারে বের হবে। সিরিজের প্রথম পর্বটিই হলো “ক্রমিক খুনি "।পরবর্তী পর্বগুলো লেখক ধীরে ধীরে পাঠকদের কাছে নিয়ে আসবেন।
আমরা যারা থ্রিলার ফিকশন বই পড়ি তাদের অধিকাংশই নিশ্চয়ই সিরিয়াল কিলিং নিয়ে ফিকশন বই পড়ে বেশ মজা পাই। তবে বই গুলোয় সিরিয়াল কিলার গুলো লেখকের কল্পনার বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবেও এমন সব সিরিয়াল কিলার ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের আশেপাশে, যাদেরকে চেনার কোনো উপায় নেই।
লেখক মনোয়ারুল ইসলাম 'ক্রমিক খুনি' বইটিতে তেমনি কিছু সিরিয়াল কিলারের পরিচয় তুলে ধরেছেন, যারা পৃথিবী ব্যাপি বিভৎস সব খুন, ধর্ষনে মেতে উঠেছিলো, যারা কি না করতো বিকৃত নানান আচরণ, এসব আচরণের অধিকাংশর ক্ষেত্রেই কারণ ছিলো তাদের শৈশব কৈশোরে নানান সব বিরূপ পরিবেশে বেড়ে উঠা, যা প্রভাব ফেলেছিলো তাদের মনে। তাদেরকে বানিয়ে দিয়েছিলো মানুষ হত্যা করার মেশিনে।
বইটাকে পৃথিবী ব্যাপি আলোচিত নানান বয়সের সব সিরিয়াল কিলারের সংক্ষিপ্ত বয়ো ডাটা বা প্রোফাইলিং বলতে পারেন। যা পড়ে আরাম পেয়েছি, এসব সিরিয়াল কিলারের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা, শৈশব কৈশোরে বেড়ে উঠা, তাদের খুন করার কারণ, এবং পরবর্তীতে তাদের পরিণতি নিয়ে লেখক প্রতিটা সিরিয়াল কিলারকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছেন, যার অনেকের সম্পর্কে পড়েছিলাম জানতাম আবার অনেককে চিনতামও না।
বইটিতে বাংলাদেশ, ভারত সহ পৃথিবীর নানান দেশের সিরিয়াল কিলারদের পরিচয় লেখক তুলে ধরেছেন, অবশ্য সবথেকে বেশি সম্ভবত সিরিয়াল কিলারের বর্ণনা এসেছে আমেরিকার নাগরিকের। এসব এক একজন সিরিয়াল কিলারদের খুনের সংখ্যা দেখে চমকে উঠেছি, সবথেকে বেশি চমকে গেছি অনেক দেশের বিচার ব্যবস্থা দেখে, বিশেষ করে কলাম্বিয়া, ব্রাজিল, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর বিচার ব্যবস্থায় যখন জানতে পেরেছি মৃত্যুদন্ডের বিধান নেই তখন আরো বেশি অবাক হয়েছি।
বইটিতে পৃথিবী ব্যাপি আলোচিত প্রায় ৫১জন পুরুষ ও ১৪জন নারী সিরিয়াল কিলারের প্রোফাইল লেখক তুলে এনেছেন। এবং কি এদের অনেক সিরিয়াল কিলার নিয়ে তৈরি হওয়া নানান সব ডকুমেন্টারি, সিনেমা লেখা বইয়ের রেফারেন্সও অনেক ক্ষেত্রে উপস্থাপন করেছেন। সাথে সংযোজন করে দিয়েছেন সিরিয়াল কিলারদের সম্ভাব্য বা বাস্তব ছবি।
তবে বইটির প্রথমদিকের প্রোফাইলিং আমার কাছে অগোছালো লেগেছে, মনে হয়েছে লেখকের হাতে যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত থাকার পরও লেখক তা গুছিয়ে উপস্থাপন করতে পারেননি, শেষের দিকের প্রোফাইলিংয়ে অবশ্য তেমন সমস্যা লাগেনি।
সবমিলিয়ে বইটা ইনফরমেটিভ, পৃথিবীতে বাস্তবে বিচরণ করা নানান সব সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে যদি জানতে চান তবে বইটি সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
বইটি পড়লাম। কালেকশন ভালো হলেও খুনিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কম। মোটামুটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেয়া হয়েছে। অনেক নাম বাদ পড়েছে বলে মনে হলো। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হলো যে, অধিকাংশ খুনিরাই সমকামী ও মানুষিক অস্থিরতার মধ্যে মানুষ হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতা, বিকৃত মানসিকতা মানুষদের কত নিকৃষ্ট বানাতে পারে, এই বই তা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ডেক্সটার দেখে মনে হয়েছিলো, হয়তো দুই একজন ক্রমিক খুনি থাকতে পারে যারা অন্তত ভালো কোন উদ্দেশ্য রাখে। কিন্তু সম্পূর্ণ বইটিতে এমন একটি নামও পেলাম না। আসলে ভালো উদ্দেশ্যে খুন করে এমন খুনি পাওয়া সম্ভব না।