দীর্ঘ দিনের প্রণয়ের পর এক দুপুরে শুভ পরিণয় হয়েই গেল অনিম শিমুলের। ভালোবাসা যেন ঘরের দেয়ালে-দেয়ালে লেপ্টে আছে৷ সেই ভালোবাসায় দিনরাত পুঁড়ছে কেউ। মনের গহীনে লুকিয়ে রেখেছে শিমুলের জন্য একসমুদ্র ভালোবাসা। কখনো সেই ভালেবাসার দাবি নিয়ে হাজির হয়নি তার কাছে। আপন দহনে দগ্ধ হয়েও ভালোবাসার মানুষটার সুখের প্রার্থনা করেছে প্রতিনিয়ত। শত প্রার্থনায়ও সুখ বেশিদিন টেকেনি শিমুলের দুয়ারে। নিজের সবটুকু উজাড় করে ভালোবাসা সত্ত্বেও নিজের করে ধরে রাখতে পারেনি অনিমকে, আগলে রাখতে পারেনি নিজের সংসারকে। এক অমাবস্যার রাতে রক্তাক্ত হয়ে ছেড়ে এলো নিজের সংসার আর ভালোবাসাকে। সেই কঠিন সময়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ালো আড়ালে ভালোবেসে যাওয়া সেই তৃতীয় ব্যক্তি।
আড়ালেই কি রয়ে যাবে তার ভালোবাসা? নাকি শিমুল আবারও ফিরে যাবে তার সংসার আর ভালোবাসার কাছে? কি পরিণাম হবে এই ত্রিভুজ ভালোবাসার গল্পে?
অনিম আর শিমুল, চার বছরের প্রেম অতঃপর বিয়ে। অনিমের পরিবার বলতে কেউ নেই। বন্ধু মুহিবের পরিবারই তাকে ছেলের মতন জানে। বিয়ের পর মুহিব তাদের কক্সবাজার যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। কক্সবাজার যাওয়ার তৃতীয় দিনের মাথায় অনিমের ব্যবহার হুট করে পরিবর্তন হতে শুরু করে। যে ছেলে গত চার বছর শিমুলের জন্য পাগলপ্রায় ছিল, যার জোড়াজুড়িতেই বিয়ের প্ল্যান আগানো হয়েছিল, বিয়ের এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই সেই ছেলেটা চোখের সামনে পাল্টাতে শুরু করে।
⚠️স্পয়লার এলার্ট⚠️
বইয়ের গল্পটা কয়েক বছর আগে ফেসবুকে পড়েছিলাম। তাই সাসপেন্স ব্যাপারটা ছিল না আমার মধ্যে। কিছু জিনিস বিরক্ত লেগেছে। তার মধ্যে অন্যতম ছিল যখন অনিমের পরকীয়ার ব্যাপারটা খোলাসা হবার পর যে দুইটা মানুষ জানত মুহিব শিমুলকে পছন্দ করত - তারা মুহিবের কাছে গিয়ে বলা শুরু করেছিল "কেন অনিমের হাতে শিমুলকে তুলে দিলে?" ব্যাপারটা এই কারণে বিরক্তিকর লাগল যে দুইজনের সম্পর্কের মাঝখানে বন্ধু কেন কাউকে তুলে দিবে? ভাব প্রকাশের ভঙ্গীমাটুকু পছন্দ হয়নি। এমনকি মুহিব নিজেও এমন ভাবা শুরু করেছিল 🙄 যেন শিমুল একটা খেলনা! যাই হোক, অনিম চরিত্রটা আরও বিরক্তিকর। তার কথাবার্তার বহর দেখে অসহ্য লেগেছিল। তবে ইদানীং পরকীয়াকে যেভাবে গ্লোরিফাই করা শুরু করেছে তা হয়নি এই বইটিতে - সেটাই স্বস্তিকর।
This entire review has been hidden because of spoilers.