নবাগত লেখক দীপ মাহান্তী'র প্রথম প্রকাশিত বইটি পড়ার সুযোগ হল সম্প্রতি। সূচিপত্র-বর্জিত এই বইয়ে আছে তিনটি রহস্য-কাহিনি। তারা হল~ ১) ছোটোগল্প 'সোমদার উত্থান'; ২) বড়োগল্প 'অদ্বিতীয় সোমদা'; ৩) উপন্যাস 'চক্রব্যূহে সোমদা'। সোমদা কে? না, তিনি একেবারেই ফেলুদা বা অন্য নানা নাগরিক গোয়েন্দার মতো পরিশীলিত এবং সর্ববিদ্যাবিশারদ ব্যাচেলর নন। বরং এই মানুষটি জঙ্গলমহলের এক গ্রাম থেকে মেধা ও শ্রমের সমন্বয়ে উঠে আসা একজন— যাঁর শখের গোয়েন্দাগিরির প্রেরণা পর্যবেক্ষণ এবং পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা সম্বন্ধে জ্ঞান। কাহিনি যার বয়ানে লিপিবদ্ধ হয়েছে সেই ঋকও স্মরণজিৎ-অনুরাগী এক সাদামাটা কিশোর— যে এই তিনটি গল্পের মধ্য দিয়েই অনেকখানি বড়ো হয়ে উঠেছে বয়সে ও দুনিয়াদারিতে। 'বিলডুংসরোমান' জাতীয় কাঠামোয় না আঁটালেও মুখ্য দুটি চরিত্রের এই বেড়ে ওঠার ধাপটি যেভাবে কাহিনির ভাঁজে-ভাঁজে দেখানো হয়েছে, তা আমার খুব ভালো লেগেছে। সেই সঙ্গে এও মনে হয়েছে যে শৌখিন হু-ডান-ইট-এর বদলে গল্পগুলো অন্যরকম আর গভীরতর হয়ে উঠেছে এই সচেতন উপস্থাপনার ফলেই। এই বইয়ের প্রথম গল্প থেকেই আমরা রহস্যভেদী সোমদত্ত'র পাশাপাশি আরেকটি চরিত্রকে খুব কাছ থেকে দেখার ও চেনার সুযোগ পাই। সে হল স্বয়ং পুরুলিয়া জেলা! টুরিস্ট-গাইড হিসেবে লেখা পুরুলিয়া নয়, বরং দারিদ্র্য আর প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য, ব্যস্ত শহর আর মাওবাদী বিপদ— সব মিলিয়ে এই গল্প থেকেই পুরুলিয়া তার পলাশ, সোনাঝুরি, প্রখর রৌদ্র এবং মাটি নিয়ে আমাদের টেনে নেয় তার বুকে। কলকাতা-সর্বস্ব বইপত্রের জগতে এ যে কতখানি স্বাগত জানানোর মতো উদ্যোগ, তা লিখে বোঝানো যাবে না। প্লাস, এই গল্পের রহস্যটি ছিল দুর্দান্ত। দ্বিতীয় কাহিনি আমাদের নিয়ে যায় এই জেলার আর এক বাস্তব দিকে, যেখানে চাষের জমি চলে যায় পাথর-খাদানের গর্ভে, আর সেখান থেকেই শুরু হয় লোভ ও মৃত্যুর এক অদ্ভুত খেলা। রহস্য হিসেবে এর সমাধান কিঞ্চিৎ সহজেই অনুমেয় হলেও গল্পটিতে গৌণ চরিত্রদেরও একেবারে পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য আকারে পরিবেশনের চেষ্টাটা আমার ভারি ভালো লেগেছে। এই বইয়ের শেষ কাহিনিটি পড়ে রীতিমতো চমকে উঠতে হয়। অপরাধ, মনস্তত্ত্ব, রাজনীতি, লোভ, অস্ত্র, বিষ... সবকিছুর এক জটিল জাল এই কাহিনিটি। প্রাচীন পাপের ছায়া কীভাবে নানা সময়ের পাথর, গাছ আর মানুষকে এক সূত্রে বেঁধে ফেলতে পারে, তার অত্যুৎকৃষ্ট নিদর্শন এই লেখাটি। যার শুরু হয়েছিল চন্দনগাছ কেটে ফেলার তদন্ত দিয়ে, তা শেষে গিয়ে যেখানে পৌঁছোয় তা কি সত্যিই শেষ... নাকি নতুন কিছুর শুরু? সোমদত্তের মতো আপাত পাথুরে কিন্তু আদতে অত্যন্ত সংবেদনশীল রহস্যভেদীকে গোয়েন্দা হিসেবে দেখতে পাওয়া একটা প্রিভিলেজ বলেই মনে করি। সেজন্যই এই রহস্য উপন্যাসে দুই কিশোর-কিশোরীর ভারি নরম আর সহজ প্রেমের কথা পড়তে বিরক্ত লাগে না। বরং মনে হয়, অপরাধের অন্তরেও যে কত অশ্রুবাদল ঝরে আর কত রক্তগোলাপ ফোটে— তার খতিয়ান না পেলে আর রহস্যকাহিনি কীসের? বইটির ছাপা ও বাঁধাই চমৎকার। বানান-ভুল বা টাইপো খুব একটা পাইনি। তবে শেষের গল্পটির সঙ্গে একটি ম্যাপ এবং সবক'টি কাহিনিতেই কিছু অলংকরণ থাকলে আরও ভালো হত। তরুণ লেখককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ভরসা রাখি যে বইটি পাঠকের আনুকূল্য পাবে, যাতে তিনি আগামী দিনে ঋক ও মিঠি'র সঙ্গে সোমদা-কেও ফিরিয়ে আনতে উৎসাহী হন। অলমিতি।
#bookish_subhajit #পাঠক_প্রতিক্রিয়া #শুভর_আলোচনায় বই- ত্রিশঙ্কু রহস্য এবং সোমদা লেখক- দীপ মাহান্তী প্রকাশনা- প্ল্যাটফর্ম দাম- ২৫০/- পাতা- ২২৪ টি প্রচ্ছদ- কৃষ্ণেন্দু মন্ডল প্রকাশ- অক্টোবর ২০২১ বাইন্ডিং- পেপার ব্যাক
🧐 প্রচ্ছদ- কৃষ্ণেন্দু মন্ডল দাদার কাজ নিয়ে কিছু বলতে যাওয়াই বৃথা। কারণ তার হাতে একটা অন্য রকম জাদু আছে, স্বয়ং মা সরস্বতী যেন তার হাতে বিরাজমান। প্রতিটি কাজ ওনার অসম্ভব সুন্দর। এই বই এর প্রচ্ছদ এর ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। অসম্ভব সুন্দর একটি প্রচ্ছদ এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কালার কম্বিনেশন ও মারাত্মক। আর বই এর বিষয়বস্তু এর সাথে সরাসরি সম্পর্ক যুক্ত একটি প্রচ্ছদ । রেটিং- (১০/১০)
🧐 পাতার মান ও বাঁধন- প্ল্যাটফর্ম প্রকাশনা এর কাজ এর নিদর্শন আমি পর্বে তিনটি বই এ পেয়েছি, প্রত্যেক ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা অসম্ভব সুন্দর। এই বই ক্ষেত্রেও তাই। অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং পরিপাটি ভাবে প্রকাশক কাজটি করেছেন। বাঁধন অত্যন্ত সুন্দর এবং মজবুত। আর পাতার মান ও বেশ ভালো এবং উন্নত। এর জন্য অবশ্যই অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ প্রাপ্তি প্ল্যাটফর্ম প্রকাশন এর কর্ণধার তন্ময় দা কে। রেটিং- (১০/১০)
🧐 নামকরণ- বইটির নাম ত্রিশঙ্কু রহস্য এবং সোমদা। এখানে আদতেই তিনটি রহস্য এর সমাধান আছে এবং সমাধানকারী রুপে আছে সোমদা। তাই আমার মতে নামকরণ টি একেবারেই যথার্থ এবং উপযুক্ত। রেটিং- (১০/১০)
🧐 প্রুফ সংশোধন- বইটির প্রুফ সংশোধন করেছেন সৌরভ মাহান্তী। বেশ ভালো এবং যত্ন সহকারে করেছেন। বানান ভুল তেমন নেই। তবে প্রিন্ট মিসটেক এর জন্য হয়তো বেশ কিছু জায়গায় শব্দ জুড়ে গেছে, " " এই কোটেশন গুলি মিসিং আছে বেশ কিছু জায়গায়, অর্থাৎ একদিকে থাকলেও অপর দিকে নেই। রেটিং- (০৯/১০)
🧐 বইটি কারা পড়তে পারবেন আর কারা পারবেন না- এই বইটি সকল বয়সের পাঠকরাই পড়তে পারবেন। এর জন্য প্রাপ্ত বয়স্ক বা মনষ্ক হওয়ার প্রয়োজন নেই। আর যারা রহস্য গল্পের ভক্ত তারা তাদের জন্য ই তো এই বই । রহস্য প্রেমীরা এক টানে শেষ করে ফেলবেন এই বই।
🧐 বিষয়বস্তু-- প্রথমেই বলে রাখি এই বই আছে সোমদা এর রহস্য উন্মোচন এর কথা। এই বই এর কোন সূচিপত্র না থাকলে এখানে আদতে তিনটি রহস্য এর গল্প আছে। ১. সোমদার উত্থান ২. অদ্বিতীয় সোমদা ৩. চক্রব্যূহে সোমদা এর মধ্যে প্রথমটি ছোট গল্প, এবং পরেরটি বড় গল্প ও শেষেরটি উপন্যাস। আর এই তিনটেরই নায়ক সোমদা। আর চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী গোয়েন্দা থাকলে সহকারী তো থাকবেই, তাই এখানেও আছে ঋক। গল্প গুলির বিষয়বস্তু নিয়ে বলার পর চরিত্র গুলি নিয়ে সামান্য আলোচনা করবো। প্রথম গল্পে আমারা দেখতে পাই সোমদা ও গল্প কথক বা গোয়েন্দা সহকারী ঋক এর একটি ছোট্ট অভিযান। ২০০৭ সালে পুরুলিয়া জেলায় মাওবাদী দের রমরমার প্রেক্ষাপটে লেখা এই গল্পটি। আর তার সাথেই এই গল্পের মাধ্যমে উঠে এসেছে মাওবাদী গোষ্ঠির সাথে এক নিরিহ মানুষের জড়িয়ে পড়ার কথা, শুধু মাত্র পেটের টানের জন্য মানুষ যে নিজের জীবনের ঝুকি নিতেও পারে তার জলজ্ব্যান্ত নিদর্শন এই গল্প। আর এর মাঝেই জট পাকিয়েছে রহস্য। এখানে আমরা পায় দশরথ হেমব্রম ও ফনীর কথা, আর তার সাথে নৃশংস হত্যার কথা। দ্বিতীয় গল্প অদ্বিতীয় সোমদা। এই গল্পে আমরা সকলে দেখতে পাই এক অদ্ভুত প্রেম ও রহস্য এর মিশ্রণ। আবার এও ঠিক যে প্রেমের থেকে বড় রহস্য হয়তো আর হয়না। এখানে আমারা পুরুলিয়া জেলার পাথুরে জায়গায় গড়ে ওঠা খনির মধ্যেকার রহস্য যেমন পাই তেমনি পায় জমিদার বাড়ির ছেলের খুন হওয়ার রহস্য। সেই জমিদার পুত্র খুন হয়েছেন ডিনামাইট এর বিষ্ফোরণ এর কারনে। আর সেই বিষ্ফোরণ হওয়ার আগে গ্রিলের আঘাতের শব্দ পান স্বয়ং জমিদার। এর এখানেই রহস্য আরও জটিল হতে থাকে। এদিকে মাধবপুর গ্রামকে কেন্দ্র করে প্রেমের রহস্য ও জট পাকায় ধিরে ধিরে। আর এই সব কিছু মিলে মিশে একটি অসাধারণ বাস্তবমুখী লেখা হয়ে উঠেছে এই গল্প। তৃতীয় গল্প বা উপন্যাস চক্রব্যূহে সোমদা। এই গল্প আদতে একটা অসাধারন মিশ্রণ। এখানে আমরা পাবো অপরাধ, বিষ, বন্ধুত্ব, মনস্তত্ত্ব, রাজনীতি, লোভ , হিংসা এর একটা ককটেল। আর এই সব কিছু মিলেই এই উপন্যাস হয়ে উঠেছে অনন্য। এখানে আমার দেখতে পায় চন্দন গাছ চুরির ঘটনা। আমরা সকলে বসবাস করি সমাজ নামক এক বৃত্তের মধ্যে আর এই উপন্যাস ও সেই বৃত্তের কিছু চেনা অচেনা দিকের গল্প বলে। এখানে আমারা যেমন পাবো প্রফুল্ল বাবুর কথা, তেমনই পাবো বিপিন দত্ত , শ্যামল দেওঘরি এবং দেবব্রত ব্যানার্জী এর কথা। এদের একে ওপরের সম্পর্কের কথা। আর তার সাথেই পাবো এদের সাথে সোমদার যোগাযোগ এর কথা। যা বাধ্য করবে পাঠকে উপন্যাস এর শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে। সম্পর্কের টানাপোড়েন এর মধ্যে দিয়ে এই গল্পের রহস্যের আনাগোনা। এই উপন্যাস এর শুরু চন্দন গাছ চুরি দিয়ে হলেও শেষ কিন্তু অন্য জায়গায়, যেখানে শুধুই আছে সম্পর্কের জটিলতা, আছে বিচ্ছেদের বেদনা, আছে না পাওয়ার দুঃখ , কিন্তু সেগুলো কী ? এটা জানতেই তো পড়তে হবে এই বই।
সোমদা। আসলে এই সোমদা কে? সে কোন প্রফেশনাল গোয়েন্দা নয়, সে একদমই একজন শখের গোয়েন্দা, নিজের মগজাস্ত্রে শান দিতেই রহস্য সমাধান করেন। একটি বেশ ভালো বেতনের চাকরিও করেন। সে একদমই আমাদের গ্রাম বাংলায় বিশেষ করে লালমাটির দেশে বেড়ে ওঠা একজন সাধারন মানুষ। অত্যন্ত ক্ষুরধার বুদ্ধি সম্পন্ন এবং অত্যন্ত বিচক্ষন একজন মানুষ। যে তার অবজারভেশন এবং যুক্তি দিয়ে কেশ এর অনেকটা অংশ সমাধান করার ক্ষমতা রাখে, আর সেই বৈশিষ্ট্য ই পাঠকে তার দিকে আকর্ষিত হতে বাধ্য করে। ঋক কে? ঋক হলো ফেলুদার তোপসে বা শার্লক এর ওয়ালটন। অর্থাৎ সোমদার সহকারী । আদতে সে সোমদার ভাই। এই বই চলা কলীন সে অনেকটাই বড় হয়েছে। তবে সেও অত্যন্ত ক্ষুরধার বুদ্ধি সম্পন্ন একজন। তার সথে আমাদের গল্প গুলির কথক। মিঠি হলো ওই ঋক এর তিনি। এর থেকে বেশি না জানায় ভালো।
🧐 ভালো লেগেছে- ১. লেখকের লেখনী অসম্ভব সুন্দর। এর সাথে লেখক পুরুলিয়া এর একটা অত্যন্ত সুন্দর এবং স্পষ্ট ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন আমাদের সামনে। অসম্ভব সুন্দর বর্ণনা ও ডিটেলিং। যা পাঠককে অন্য একটা স্বাদ দেবে। তিনি পুরুলিয়ার এক চরম তম দিক কে তুলে ধরছেন লেখায়। ২. শরদিন্দু বাবুর লেখায় তেমন একটা মিশ্রন এর মাধ্যমে রহস্য ফুটে উঠতো এখানেও ঠিক তেমনটাই হয়েছে। লেখার মধ্যে একটা অসম্ভব টান আছে, যা যে কোনো পাঠক কে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে। ৩. চরিত্র সৃষ্টি মারাত্মক রকমের সুন্দর। ৪. প্রতিটি গল্পের রহস্য বেশ ভালো লেগেছে। তার সাথে সমাধান পদ্ধতি ও অসাধারণ।
🧐 ভালো লাগেনি- ১. লেখক শেষ এ লিখেছেন ঋক ও মিঠি ফিরবে, কিন্তু সোমদা? এখানে বড্ড বাজে লেগেছে। কারণ সোমদা না থাকলে ঋক আর মিঠি থাকারও প্রয়োজন নেই বলেই মনে হয়। এত তারাতারি সিরিজ শেষ হবে না এটাই আশা করি।
লেখক এবং প্রকাশক উভয়ের কাছেই অনুরোধ সেমদা আসুক তারাতারি।
🧐 কেন পড়বেন বইটা- আরে ধুর মশাই এত কিছু বলার পরও যদি বইটা না পড়েন তাহলে একটা বিরাট বড় জিনিস হাতছাড়া করবেন। কারণ টা ও না হয় নিজে পড়েই দেখে নিন।
🌷🌷 অভার অল রেটিং- (৯.৫/১০)🌷🌷 হাফ নম্বর কেটে রাখলুম , যদি সোমদা এবার ফেরে তখন না হয় হাফ নম্বর আবার দিয়ে দেবো 😁😁😁 ধন্যবাদ 🙏 সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন 🙏
#বই - ত্রিশঙ্কু রহস্য ও সোমদা #লেখক - দীপ মাহান্তী
⭕ দাম ও পৃষ্ঠা সংখ্যা নতুন এডিশনে জানা যাবে। আমার জানা নেই।
🍀 মোট তিনটি গল্প 🔸 সোমদার উত্থান 🔸 অদ্বিতীয় সোমদা 🔸 চক্রবূহে সোমদা
🍀 প্রথম গল্পের উদ্দেশ্য সোমদাকে পাঠকের সাথে পরিচিত করা। ধরা যাক সেটা T20.
🍀 ভালো খেলছে এবার একে সাদা বলেই খেলাও কিন্তু বড় ফরম্যাটে, ODI। এটা দ্বিতীয় গল্প।
🍀 শেষটা টেস্ট ক্রিকেট, লাল বলের খেলা, উপন্যাস। এবং আমার বাকি রিভিউ ও এটার ওপর নির্ভর করেই করা।
🍀 উপন্যাসের কনফ্লিক্ট বন্ধুত্ব, বিশ্বঘাতকতা ও প্রেম। এগুলো খুব কমন মনে হলেও এর ব্যবহার দুরন্ত এবং গল্পটাও বেশ নতুন ও ফ্রেশ।
🍀 কলেজ জীবনের কিছু সময় বাদ দিলে, যেহেতু আশৈশব আমি শহরে বড়ো হয়েছি, তাই পুরুলিয়ার বর্ণনা আমার ভালো লেগেছে। কিছুটা মুক্ত বাতাস মনে হয়েছে। এবং সুকৌশলে জুড়ে দেওয়া হয়েছে রাজনীতি ও ১৯৯৪ এর পুরুলিয়া অস্ত্রবর্ষনের ঘটনা। যারা খুব ছোট, তাদের এটা নিয়ে গুগল করার সাজেশন দিলাম।
🍀 গল্পে সোমদা ও তার সহকারীর প্রেমিকা আছে। অর্থাৎ, লেখক চেয়েছিলেন, ফেলুদা বা ওরকম চরিত্রের সাথে আলাদা করতে। এবং সোমদা ও ঋক দুজনেই অন্য কাজ করে। পুরোপুরি গোয়েন্দা নয়।
🍀 যেকোনো গোয়েন্দা গল্পে, এমনকি পুলিশ স্টোরিতেও ভিকটিম প্রোফাইল খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বইতেও সেটা প্রোফাইল নিয়ে স্পেশাল নজর দেওয়া হয়েছে।
🍀 তদন্ত যখন শেষ বলে মনে হচ্ছে তখনই শেষ তিন পেজে নতুন নাটকীয়তা আসে। সেটা আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
🍀 রেটিং ⭐⭐⭐⭐⭐/⭐⭐⭐⭐⭐
⭕ বইমেলার চলছে বিভিন্ন জেলায়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বইমেলার পোস্ট দেখছি। কেউ সংগ্রহ করলে, এই পোস্টে কমেন্টে করবেন। আমার ভালো লাগবে।
Trishonku rahasya o somda by deep mahanti is a mesmerizing book. All description of the land of purulia is visually appealing.Every characters is well established.Every story has its specific appealing and unique. Kichu boi koto ta bhalo bole bojano jai na eta thik sei rokom.