রাজা সলোমন তখন মৃত্যুশয্যায়। তার স্ত্রী আর পুত্রদের একটা বিশেষ কারণে ডেকেছেন তিনি। "বলো পুত্ররা,কি এমন এক বস্তু,যা একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না?" পুত্ররা মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। কিন্তু কেউ উত্তর খুজে পায় না। "টাকা?" রাজপুত্রদের মধ্যে বোকা-সোকা একজন বলে বসলো। সলোমন কিছু না বলে হাসলেন। "সম্মান?"আরেক রাজপুত্র বললো। সলোমন এবারও কিছু বললেন না। তিনি রাজপুত্রদের মধ্যে যোগ্য কাউকে খুজছেন৷ যে উত্তরটা দিতে পারবে,সে একটা বিশেষ গুপ্তবার্তার ধারক হবে। কিন্তু রাজকুমারদের কারো মাথায় এই বুদ্ধিটুকু নেই। তিনি যখন হতাশ হয়ে পড়ছিলেন,তখন এক রাজপুত্র বলে উঠলো," সময়।" "কি বললে তুমি পুত্র আমার?" "সময়,মহারাজ। একবার চলে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না।" সলোমন অবশেষে একটা দম ফেললেন। তার যোগ্য উত্তরসূরী তিনি পেয়ে গেছেন। কিন্তু কি সেই গোপন কথা? এই গল্পটা সবাই জানে কিন্তু একজন ব্যাক্তি গল্পটা মানতে পারেন না-ড.মাতান ভিলানী। তিনি সময় ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর৷ কারণ, তিনি এর মধ্য দিয়ে ইহুদি জাতির ভাগ্য আক্ষরিক অর্থেই বদলে দিতে চান। কিন্তু সত্যিই কি সময় ফিরিয়ে আনা যায়? জশুয়া আভিসাই হাইম অবশ্য এত কিছু নিয়ে মাথায় ঘামায় না। একজন পেশাদার মোসাদ এজেন্ট হিসেবে তার কাজ শুধু মিশন নিয়ে ভাবা। ড.মাতান ভিলানী তাকে একটা মিশনে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করেছেন। এই মুহুর্তে তার ভাবনা শুধু মিশন অবজেক্টিভ নিয়ে। মিশন একটাই: যিশু বড় হবার আগেই......তাকে হত্যা করা।
ভেবেছিলাম একটু জটিল কাহিনী হয়ত ৪ তারকা এটার জন্য যথেষ্ট কিন্তু বইটা শেষ করার পর মনে হলো ৫ তারকা না দিলে হয়ত অন্যায় হয়ে যাবে। বাংলা ভাষায় এমন বই এখন পর্যন্ত দ্বিতীয়টা পাওয়া যাবেনা। অল্টারনেট হিস্ট্রি, বিবলিকাল টার্ম, কন্সপিরেসি থিওরি, টাইম ট্রাভেল কি নেই এখানে। লেখক এতগুলো টাইমলাইম নিয়ে লিখেও ক্লাইম্যাক্সে গোজামিল দেননি। এক কথায় নতুন লেখক হিসেবে আর প্লট হিসেবে দুর্দান্ত লেগেছে।
বাংলা সাহিত্যে অনবদ্য একটি কাজ ও খুবই আন্ডাররেটেড। বিবলিক্যাল ফিকশন, অল্টারনেট হিস্ট্রি, কন্সপিরেসি আর সায়েন্স ফিকশনের এক অসাধারণ কম্বো এই বইটি। বইটি নিয়ে আরো প্রচারনা দরকার এবং লেখকেরও আরো নতুন নতুন এত জোশ বই আনা দরকার। এপিওথেসিসও অনেক জোশ লেগেছিল। A Well deserved 5★.
" কী এমন বস্তু যা একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না?" এই বিখ্যাত প্রশ্নের উত্তরটা আমরা প্রায় সবাই জানি। তবে কেউ কেউ হয়তো তা মানে না। তেমনি একজন হলেন ড. মাতান ভিলানী। সময় ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর এক বিজ্ঞানী। ধরুন আপনি একটা টাইম মেশিনের মালিক হয়ে গেলেন। তাহলে কি করবেন? আমি তো ভাই ভবিষ্যতে গিয়ে দেখে আসবো কয়টা বউ নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতেছি। তবে এ ভিলানী সাহেব তো আর আমার মত সহজ সরল নন। তিনি ঠিক করলেন সময়কে জয় করে অতীতে গিয়ে পাল্টে দিবেন ইতিহাস। খুন করবেন পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক মানবকে!
মোসাদ স্পেশাল এজেন্ট জশুয়া। প্রস্তুত নিজের আখেরি মিশনের জন্য। টার্গেট নিয়ে তার কোন মাথা ব্যথা নেই। লক্ষ একটাই মিশন শেষ করে কাঙ্খিত অবসর। তবে পাঠক টার্গেট নিয়ে এজেন্ট জশুয়ার মাথা ব্যথা না থাকলেও আমাদের কিন্তু মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা। কারণ টার্গেট আর কেউ নন "যিশু"!
★পাঠপ্রতিক্রিয়া★ পৃথিবীর সব থেকে বিস্তৃত জিনিস হলো সময়। যার কোন সীমানা নেই। প্রতি সেকেন্ডে যার পরিধি বেড়েই চলছে। আর সময় নিয়ে যখন কোন গল্প বা উপন্যাস লেখা হবে তখন তার পরিধিও যে অনেক বিস্তৃত হবে সেটা অনুমেয়। বর্তমান থেকে অতীত, অতীত থেকে ভবিষ্যৎ সর্বত্রই তার সীমানা। আর এই গল্পটাও তাই। প্রচুর টাইমলাইন, প্রথম দিকে একটু বিরক্ত চলে আসতেছিলো। বাট যখন একটার সাথে আরেকটার সুতো মিলতে ছিলো তখন আর সে বিরক্তি টিকে থাকে না। লেখক যেভাবে আমাদের জানা ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাসগুলোকে নিজের মত করে উপস্থাপন করেছেন তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। সুমেরীয় সভ্যতার উত্থান, নূহ নবীর মহাপ্লাবন, ইত্যাদি বিষয়গুলো যেভাবে কল্পনা করেছেন সেভাবে মনে হয় না সাত জনমেও আমি ভাবতে পারবো। লেখকের আগের বইটা পড়া ছিলো বলে তার কল্পনাশক্তি নিয়ে তেমন একটা অবাক হইনি তবে নাড়া দিয়েছিল আসলেই। আর আমার মতে এটাই লেখকের সফলতা।
তবে বর্ণনা ভঙ্গি দূর্বল মনে হয়েছে আমার কাছে।যেকোনো গল্পের জন্য যা অনেক ইম্পর্ট্যান্ট একটা বিষয়। আশা করি লেখক আগামী বইগুলোতে এ বিষয়ে আরো যত্নবান হবেন। আর বেশকিছু জায়গায় টাইমলাইন হাইলাইটস করা হয়নি। নরমাল লাইনের সাথে মিলে গেছে। যার জন্য অসুবিধা হয়েছে বেশ কয়েকবার। প্রতি টাইমলাইনের জন্য আলাদা পেইজ ব্যবহার করলে ভালো হতো তবে এতে পেইজ বেড়ে যেতো অনেক। তাই নেক্সট সংস্করণে টাইমলাইন গুলো ভালো ভাবে হাইলাইটস করে দিলে পাঠকদের সুবিধা হবে।
শেষ একটা প্রশ্ন করি আচ্ছা আপনি কি জানেন আপনার "নিয়তি" কি?
এক অসাধারণ এবং গতানুগতিক ধারার মৌলিক থ্রিলার থেকে বেশ ভিন্ন এক থ্রিলার শেষ করলাম। বইটা শেষ করে রীতিমত থমকে আছি–এত কমপ্লেক্স প্লট, এত সুন্দর করে টাইমলাইনের ব্যাখা এবং সুমেরীয় মিথলজির প্রয়োগ সত্যি আমায় অভিভূত করেছে। আতাউর রহমান সিহাবের "প্রত্যাবর্তন” কে হিস্টোরিকাল ফ্যান্টাসি, সাথে অলটারনেট হিস্টোরি তথা বাইবেলে উল্লেখিত চরিত্র, স্থান, ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে লেখা ফিকশন বলা যাবে। টাইম ট্রাভেল, সুমেরিয় মিথকে বিজ্ঞানসম্মত উপস্থাপন এবং প্যারাডক্সের মাধ্যমে চমকপ্রদ এণ্ডিং–সবকিছুর মিশেল ছিল যেন বইয়ে। শুরুর দিকে বেশ জটিল লাগছিল–খ্রিষ্টের জন্মের সময়, বর্তমান, ২০৭৮ সালসহ আরও অনেক টাইমলাইন সমান্তরালে আগাচ্ছিল। ৫/৬ টা টাইমলাইন নন-লিনিয়ার প্যার্টানে এমনভাবে এগিয়ে যায় যে বইয়ের অর্ধেক শেষ করেও বুঝিনি কাহিনী কোনদিকে যাচ্ছে। তবে শেষে সব সুতো এক হয়, বিজ্ঞান, মিথ, ধর্মীয় বিষয়াবলির মিশ্রণে সমাপ্তি পাই। সবচেয়ে ভালো লেগেছে ঐতিহাসিক ব্যাখাগুলো, গল্পের উপস্থাপন এবং পারিপার্শ্বিকের বর্ণনা জীবন্ত ছিল। বইটা অনেক চিন্তার খোরাক যোগাবে, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ ইসরায়েল এবং ইসলাম ধর্মমতে শেষ জামানা নিয়ে খানিকটা ভাবার ফুরসত মিলবে। যেহেতু এটা একটা ফিকশন, তাই ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক দিকগুলি গল্পের অংশ ভাবাটাই শ্রেয়। যীশু চরিত্রকে আমার মতে বইটায় নেগেটিভলি তুলে ধরা হয়নি, ধর্মীয় আঘাত লাগবে এমন গুরুতর জিনিস লেখক এড়িয়ে গেছেন। শেষে বলা যায়, প্রচুর গবেষণা করে লেখা হয়েছে বইটা, আমার বেশ ভালো লেগেছে। বাস্তবিক অর্থেই প্লটটা জটিল, তবুও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মনে হয়েছে আমার কাছে বইটা।
অসাধারণ একটা বই। টাইম ট্রাভেল, biblical fiction নিয়ে অনেক সুন্দর একটা বই। এত এত টাইমলাইন রয়েছে যে মাঝে মাঝে আমার পিছে দেখতে হয়েছে। এই বই নিয়ে লেখার কোন ক্ষমতা আমার নেই। লেখক কিভাবে এত টাইমলাইন মাথায় রেখে সুন্দর ভাবে বইটা শেষ করেছে সেটাই ভাবছি এখন।
বিস্তৃত প্লট নিয়ে লেখা এই বইয়ের মূল চরিত্র বইয়ের কভার দেখলেই বোঝা যায়— যিশু! যদিও এই ঘটনা শুরু হয়েছে স্মরণকালের অনেক আগে। এরপর রাজা সলোমন থেকে শুরু করে যিশু হয়ে এই ঘটনা চলে ভবিষ্যতের টাইমলাইনে। এরপর একেএকে মিলে যায় সবগুলো ঘটনা। জট ছাড়ানো যায় বিশাল এক চক্রান্তের। উদঘাটিত হয় ২ হাজার বছর ধরে চলতে থ���কা গোপন রহস্যের!
এই বইয়ের কাহিনি লেখক ইতিহাস এবং ফিকশনের ব্লেন্ডের মাধ্যমে করেছেন। শেষে এসে যা পরিপূর্ণতা পায় ঠিকঠাক। তাই কাহিনিতে লেখক ফুলমার্ক।
তবে অনেকগুলো টাইমলাইন থাকায়, সাথে অনেকগুলো চরিত্র, যেগুলো একটার সাথে আরেকটা মিলে থাকে সময়-সময়— লেখক টাইমলাইনের ব্যাপারটা আরও সচেতনভাবে বইয়ে করতে পারতেন। পড়ে শেষ করার পরেও এখন রিভাইস দেওয়া লাগছে। যদিও অনেকেই বলতে পারেন, চর���ত্র বেশি, টাইমলাইন বেশি, রিভাইস দেওয়াই লাগবে। আমি স্বীকার করি, তাই বলে লেখকের গাফিলতি নজর এড়ানো যায় না। দুয়েক পৃষ্ঠা পরপর টাইমলাইন পরিবর্তিত হয়েছে। মাঝেমধ্যে আরও কম! এরজন্য পড়তেও বিরক্ত লেগেছে।
ইতিহাস নিয়ে এখনও ঘাটাঘাটি করা হয়নি। তবে প্রথমদিকে একটু ঘেঁটেছিলাম— ঠিকঠাকই লেগেছে। পুরোপুরি ঠিক পাওয়া যাবে না, কারণ, ফিকশনও জড়িত এর সাথে।
সবচেয়ে খারাপ লেগেছে লেখকের লেখার স্টাইল। কাহিনি পড়েছি মনে হয়েছে প্রথম এবং শেষদিকে। মাঝের বৃহৎ এক অংশ পুরোপুরি বোরিং লেগেছে। বারবার মনে হচ্ছিল, ইতিহাস বই পড়ছি।
যাকে নিয়ে বই, সেই যিশুকে স্পেস দেওয়া হয়নি ঠিকঠাক। মনে হলো, যিশুর কোনো কারিশমা ছিল না!
Time travel, alternate history, biblical fiction- all three in one book. The most praiseworthy job that the writer did here is- there ain't any plot hole. Though there have have been a lot of timelines (in one universe; no multiverse or alternate timeline is not present in this book). I think this is really praiseworthy as linking the whole plot altogether when time travel and multiple years' arcs are going on is a really tough thing to make. I personally liked Rana a lot, that's kinda sad. I liked Joshuah too. Alek seemed quite irritating to me at first, won't tell what happened later xD. Anyway, that was overall a fun read. Full of information, history, twists, actions, politics, wars, emotions, cult culture, biblical references.... I'd suggest this one. Yeap.
গল্পের টাইমলাইন বেশি চেইঞ্জ হলে আমি খেয় ধরে রাখতে পারিনা। কিন্তু বই টার ভিতর একধরনের নিষিদ্ধ জানার আগ্রহের ব্যাপার আছে। তাই দাতে দাত চেপে এগোচ্ছি। নাম গুলো ও একটা কারণ মনোযোগ না ধরে রাখতে পারার। জোসেফ,জোসেস নাম গুলোর জন্য আর ও কষ্ট হচ্ছে।
শেষ করলাম, পড়তে পড়তে শেষ ই করে ফেললাম। কিন্তু মনের কোণে যে ভাল লাগা থাকার কথা তা নাই। কারণ দুইটা :
১/ আমার মতন মানুষের জন্য কমপ্লেক্স হয়ে গেছে অনেক। ২/ অতিরিক্ত টাইমলাইন পরিবর্তন।ক্যারেক্টার গুলো গুলিয়ে ফেলেছি।
তবে এই টাইপের বই আমার শেষ করা হয়ে উঠেনা বা অনেক স্কিপ করি আমি। তবে লেখনীর জোরে এবার আর এমন হয়নি। পড়ে শেষ করতে পেরেছি।
বই টা পড়ে আমার এমন অনুভূতি হবে এটাও বোধয় আগে থেকেই ফিক্সড করা ছিল 😂
বইটাতে এত বেশি টাইমলাইন আর ক্যারেকটার, আপনার মনে হতে পারে অনেক প্লটহোল পাবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে হতাশ হতে হবে। লেখনশৈলী এত চমৎকার, বিশ্বাসই হবে না কোনো বাংলাদেশি লেখকের মৌলিক কাজ। লেখকের প্রথম বই ছিল বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিবলিকাল ফিকশন। এবং আগেরবারের মত এবারও (আরো বেশি পরিমাণে) আব্রাহামিক ধর্ম নিয়ে বিস্তর ঘাঁটাঘাঁটি। তবে বাইবেলের সুদর্শন ঈশ্বরপুত্র যীশু না, ইতিহাসের বেঁটেখাটো সাধারণ চেহারার কাঠুরেপুত্র যীশুকে পাবেন এই বইয়ে। তাঁর নেতা হয়ে ওঠা এবং সেই সাথে বর্তমান (কিংবা ভবিষ্যৎ) ইসরাইল, মোসাদ এবং তাদের মিশনের যোগসূত্র। পাবেন মানবসভ্যতার প্রাচীনতম সিক্রেট (ফ্যান্টাসি)। সেই সিক্রেটের সাথে যুগে যুগে যোগ্যদের সম্পর্ক। এবং অবশ্যই, পাবেন একটি চয়েজ - what you want to be. বইটা শেষ করে মাথার ঝিমঝিম ছাড়াতে দুয়েক কাপ আদা চা-ও খেতে পারেন, সেটাও আপনার চয়েজ। তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত - এটা এখনও অবধি বাংলার মৌলিক থ্রিলার/ফ্যান্টাসি ইত্যাদি জনরার শ্রেষ্ঠ সংযোজন। শুধু কন্সপিরেসি থিওরি বলে উড়িয়ে দেবার আগে একবার অন্তত ভাবনার খোরাক পাবেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটু সময়ের আগের লেখার কারণে হয়তো লেখকের তেমন নাম ডাক নেই। তার সাথে আব্রাহামিক ধর্মের ছোঁয়া। তবে ফিকশন মাথায় রেখে পড়লে আপনাকে শতভাগ সন্তুষ্ট করবে বইটা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
P.R: 3.75/5 এই ঘরানার বই লিখতে প্রয়োজন সাহস, বিস্তর রিসার্চ, আর অধ্যবসায়। বইটি পড়া শেষে নিঃসন্দেহে বলতে পারবো যে এই তিনটি বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান ছিল। বিবলিকাল ফিকশন/থ্রিলার, কন্সপিরেসি থিওরি, টাইম ট্র্যাভেল, অল্টারনেট হিস্ট্রি- সবকিছুর এক "near perfect" মিলন বলা যেতে পারে। লেখক আমাদের জানা-অজানা ইতিহাস ও ধর্মীয় বিশ্বাসগুলোকে বেশ সাবধানতার সাথে পরিচালিত করেছেন।
* এতগুলো টাইমলাইন একসাথে ছিল যে শুরুর দিকে খেই হারিয়ে ফেলছিলাম। মোটামোটি অর্ধেকের পর গিয়ে হারানো খেই ধরা দেয়। ** বইটি যদি কেউ টান-টান উত্তেজনাপূর্ণ থ্রিলার বই মনে করে পড়া শুরু করেন তাহলে হয়তো আশাহত হবেন। It's more of alternate history & time-travel. হিস্ট্রিকাল ফিকশন/থ্রিলার আর টাইম-ট্রাভেল নিয়ে আগ্রহ থাকলে নির্দ্বিধায় পড়তে পারেন। অতএব, বলা যায় গতানুগতিক হিস্ট্রিকাল থ্রিলারের বাহিরে গিয়ে এক ভিন্ন ধাঁচের থ্রিলার হিসেবে আমার এক সুপাঠ্য যাত্রা ছিল প্রত্যাবর্তন- এর সাথে। ভবিষ্যতে লেখকের আরও বই পড়ার আশায় রইলাম।
প্লট দেখে বইটা নিয়েছিলাম। শুরুতে খুব বিরক্তি লাগছিল, একটার পর একটা টাইমলাইন। অনেকগুলো চরিত্র। গল্পের কাহিনী বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু একটা সময় বিরক্ত কেটে যেতে শুর করে। কারণ গল্পের সুতোগুলো মিলে যাচ্ছিল। নিঃসন্দেহ আমার পড়া সবচেয়ে ইউনিক বইগুলোর একটা। যার জন্য রিভিউ লেখা। মোসাদ এজেন্ট জশুয়া আর যিশুকে খুন করতে তার যাত্রা। তার সাথে আনুনাকি, গুপ্তসংস্থা, ধর্মীয় আর ঐতিহাসিক কিছু ঘটনাকে লেখক চমৎকার করে সাজিয়েছেন। গল্পের ওভারল্যাপগুলো বেশ সুন্দর ছিল। এই বছর আমার পড়া বইগুলোর মধ্যে উপরের দিকে থাকবে বইটি।
'প্রত্যাবর্তন' বইটা নিয়ে অনেক কিছু লেখার আশায় বসে ছিলাম কিন্তু এতদিন পরে এসে সেসব খুঁটিনাটি আর কিছুই মনে নাই। ২০২৫ সালে আমার টার্গেট হইলো। যে বই নিয়ে লিখতে চাইবো সেইটা ধাপাধাপ লিখে ফেলবো। নাইলে এই যে এইটা নিয়ে ডিটেইল না লিখতে পারার আক্ষেপ এইটার আবারও 'প্রত্যাবর্তন' ঘটবে।
সিম্পলি বাংলা ভাষায় এরকম দুর্দান্ত প্লট আর এক্সিকিউশনের মৌলিক খুবই রেয়ার। মাথা ঠাণ্ডা রেখে পড়লে যেকোনো থ্রিলার লাভারদেরই এই বই বেশ ভালো লাগার কথা। বই আর ৩-৪ দিন সময় হাতে থাকলে চুপচাপ এই বই নিয়ে বসে পড়ুন। সেরা একটা টাইম ক���টবে।
গল্পটা শুরু হয় সুমেরীয় সভ্যতার রাজপুত্র এনকি ও তার ভাই এনলিলের তর্ক থেকে যেখানে এনলিল চাচ্ছে পৃথিবী ধ্বংস করতে, তার মতে পৃথিবীতে মানুষদের কোনো প্রয়োজন নেই। এনকি উপায় না দেখে রাজপুত্র আতরাহাসিকে আনারস আকৃতির বস্তু দিলেন যার মাধ্যমে অনেক বছর পর কেউ একজন এনকির ঘুম ভাঙাবে , মুক্ত হবে মানবজাতি।
গল্পটি বিভিন্ন টাইমলাইন ও চরিত্রে ভরপুর। তবে মূল চরিত্রে অবস্থান করছে তিনজন যারা একটি চক্রে ঘুরছে। খ্রিস্টপূর্ব ৯৪৩ অব্দে রাজা সলোমনের আগমন হতে দেখা যায় যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যবিলন শহর ধ্বংস করা, সাথে এক শিশুকে হত্যা করা কিন্তু সে ব্যর্থ হয় শিশুটিকে হত্যা করতে। সে জানে কি বিপদ বয়ে আনবে এই শিশু। খ্রিষ্টাব্দ ৩৭ এ এক বৃদ্ধ তার নাতিকে রাজা সলোমনের গল্প শোনাচ্ছিলেন , গল্পটি ছিল সলোমনের গুপ্ত বিষয়ের উত্তরাধিকার খোঁজা নিয়ে যা সে পেয়ে যায়।
খ্রিষ্টপূর্ব ১৩ অব্দে খিবরাতের ইহুদি বসতি , গুপ্তসংঘের সদস্য বারুখ কামারকে তার বন্ধু ধোঁকা দিয়ে এক নারীর কাছে নিয়ে যায়। আবার ৪ অব্দে গালিলিতে মরিয়ম ও জোসেফের ঘরে জন্ম নেয় এক শিশু যার নাম রাখা হলো যিশু যে সাধারণ কেউ ছিল না। সে সময়ে ইহুদিরা বিদ্রোহ করে বসে রোমানদের বিরুদ্ধে যার ফলে রোমানরা ইহুদির উপর হামলা চালায়। ২০১৯ সালে ফিলিস্তিনের বাসিন্দা জিস ও তার সহযোগী নাসের আল নিদাল গ্ৰুপের হয়ে কাজ করতে থাকে যাদের মূল উদ্দেশ্য ইজরায়েল পুলিশদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিশন অপারেট করা। বিভিন্ন মিশন অপারেট করা একজন গল্পে বিশাল ভূমিকা পালন করে।
৯১৩ অব্দে সলোমনের পুত্র মেনেলিক তার দুই যমজ পুত্রকে তার পিতার দেওয়া গুপ্ত বিষয়ের কথা বলে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া গুপ্ত মেশিনের অধিকারী হন তারা দু'জন যা মূলত একটি টাইম মেশিন। লোভ সামলাতে না পেরে তারা এটি ব্যবহার করতে শুরু করে। ব্যবিলনের গুপ্ত রহস্য জানতে তারা খ্রিষ্টপূর্ব ৯৪৭ অব্দের ব্যবিলনে পৌঁছায়। তাদের বিভিন্ন সময়ে বিচরণ করার ফলস্বরুপ হিসেবে অনেক কিছুর হিসাব এলোমেলো হয়ে যায়।
আরেকদিকে ইজরায়েলের অধ্যাপক ও প্রাক্তন মেজর ড. মাতান ভিলানি টাইম মেশিন আবিষ্কার করে যার মাধ্যমে সে একজনকে অতীতে পাঠাতে চায় কিন্তু ভুলে মানুষটি ভবিষ্যতে চলে যায়। ভিলানি ও তার সহযোগীদের উদ্দেশ্য ছিল অতীতের একজনকে হত্যা করা। বিভিন্ন টাইমলাইনে উল্লেখিত ঘটনাগুলোর কোনো মিল না থাকলেও , প্রতিটি অংশ মূল গল্পের সাথে জড়িত।
গল্পটি মূলত আলো ও আঁধারের মানুষের লড়াইকে ঘিরে , সাথে আছে গুপ্তসংঘ সহ অতীত ও ভবিষ্যতে যাওয়ার জন্য টাইম মেশিনের উল্লেখ।বইটি পড়তে বসার সময় আমাকে খাতা কলম নিয়ে বসতে হয়েছে। যারা ডার্ক ওয়েব সিরিজ দেখেছে তারা অনেকটা রিলেট করতে পারবে বইটির সাথে। যে দাদা সেই আবার বাবা আবার সে নিজেই পুত্র। লেখক যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন বইটির উপর তা বোঝা যায়। ভিন্ন স্বাদের কিছু পড়লাম তবে অনেক কিছু মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে। লেখক শেষে সারসংক্ষেপ দিতে পারলে আরো ভালো হতো।